ইসলাম ও জীবন

মানবজীবনের 'ম্যানুয়াল' ও পবিত্র কোরআন আরবিতে নাযিলের নেপথ্য কারণ — একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
কোরআন কেন আরবিতে নাযিল হলো

নিউজ ডেস্ক

March 22, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা, ২৩ মার্চ ২০২৬: আমাদের চারপাশের প্রতিটি আধুনিক যন্ত্রের সাথে যেমন একটি ‘ইউজার ম্যানুয়াল’ বা ব্যবহার-বিধি থাকে, ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য পাঠিয়েছেন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান—পবিত্র আল-কোরআন। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কোরআন কেন আরবি ভাষাতেই নাযিল হলো? ১৯০০ সালের সেই ধ্রুপদী ব্যাখ্যা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক চিন্তাধারায় এই প্রশ্নের উত্তর এখন আরও স্পষ্ট।

পবিত্র কোরআন কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এটি মানুষের জন্য আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ ‘সিস্টেম’ বা গাইডলাইন, যা সঠিকভাবে অনুসরণ করলেই জীবন হবে সার্থক।

কোরআন: মানুষের জন্য ঐশ্বরিক ‘ম্যানুয়াল’

আপনি যখন একটি নতুন ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা গাড়ি কেনেন, সেটির সাথে একটি বই থাকে যেখানে যন্ত্রটি ব্যবহারের নিয়মাবলী বিস্তারিত থাকে। ঠিক একইভাবে, মানুষকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর তারা কীভাবে চলবে, কী করবে আর কী বর্জন করবে—তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে কোরআনে। ১৯০০ সালের সেই সীমিত জ্ঞানচর্চার যুগে মানুষ একে কেবল সওয়াবের জন্য পড়ত, কিন্তু ২০২৬ সালের এই স্মার্ট বাংলাদেশে মানুষ একে দেখছে জীবনের ‘ব্লুপ্রিন্ট’ হিসেবে।

আরবি ভাষায় নাযিল হওয়ার যৌক্তিক কারণ

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন পাঠিয়েছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে। মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আল্লাহ মনোনীত একজন মানুষ এবং তাঁর মাতৃভাষা ছিল আরবি।

  • বোধগম্যতা ও প্রচার: আল্লাহ যদি কোরআনকে তৎকালীন অন্য কোনো ভাষা যেমন সংস্কৃত বা ল্যাটিন ভাষায় পাঠাতেন, তবে মুহাম্মদ (সা.) নিজে এবং তাঁর চারপাশের মানুষ কিছুই বুঝতে পারতেন না। নবী যদি নিজেই না বুঝতেন, তবে তিনি অন্যদের শেখাতেন কীভাবে?
  • ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম হলো, তিনি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলো (যাবুর, তাওরাত, ইঞ্জিল) সেই সেই নবীদের নিজ নিজ ভাষায় পাঠিয়েছেন। যাতে তাঁরা নিজ কওম বা জাতিকে আল্লাহর বিধানগুলো স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন।

২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও ডিজিটাল অ্যানালাইসিস

গুগল অ্যানালাইসিস এবং ২০২৬ সালের ল্যাঙ্গুয়েজ ডাটা অনুযায়ী, আরবি ভাষা তার ব্যকরণগত গভীরতা এবং শব্দের সূক্ষ্মতার জন্য বিশ্বজুড়ে অনন্য। ১৯০০ সালের সেই প্রাচীন পুঁথি পাঠের যুগ থেকে ২০২৬ সালের এই এআই (AI) চালিত অনুবাদের যুগেও কোরআনের মূল আরবির আবেদন অপরিবর্তিত। এটি একটি নিখুঁত ‘পাইপলাইন’, যার মাধ্যমে আল্লাহর বার্তা কোনো বিকৃতি ছাড়াই ১৪০০ বছর ধরে সংরক্ষিত আছে।


উপসংহার: সাফল্যের প্রকৃত পাইপলাইন হলো সঠিক নির্দেশনা মেনে চলা। গাধার মতো অন্ধভাবে পথ না চলে, জীবনের ‘ম্যানুয়াল’ তথা কোরআনের বিধানগুলো মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পথে অনুসরণ করাই হলো ২০২৬ সালের প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা। কোরআন আরবিতে নাযিল হওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল যেন এর প্রথম শিক্ষক (রাসূল সা.) এবং তাঁর জাতি এটি সহজে বুঝতে পারে এবং পরবর্তীতে সারাবিশ্বে তা ছড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্র: আল-কুরআন (সূরা ইউসুফ, আয়াত ২), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ গবেষণা পত্র ২০২৬, মদিনা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অফ থিওলজি, প্রথম আলো ইসলাম ও জীবন পাতা এবং ২০২৬ সালের গুগল রিলিজিয়ন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ইনসাইট।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আস্তিক বনাম নাস্তিক

নিউজ ডেস্ক

April 19, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সুখ এবং মানসিক প্রশান্তি কেবল বস্তুগত প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং মানুষের চিন্তন প্রক্রিয়া ও বিশ্বাসের গভীরতা এখানে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ বলছে, মোটের ওপর আস্তিকদের তুলনায় নাস্তিকদের মধ্যে হতাশা, বিষণ্নতা ও একাকীত্ববোধ বেশি প্রকট হতে পারে। এই সুখবোধের তারতম্য মূলত আসে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বা বিশ্বাসগত পার্থক্য থেকে।

১. যুক্তি বনাম সমর্পণ: মানসিক চাপের ভিন্নতা

নাস্তিকরা সাধারণত তাদের চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যুক্তি ও বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে। তারা অলৌকিকতা বা ধর্মীয় মিথের উর্ধ্বে থেকে বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করে। কোনো কিছু বিনা প্রমাণে বিশ্বাস করা তাদের জন্য কঠিন। অন্যদিকে, আস্তিকরা একটি উচ্চতর শক্তিতে (ঈশ্বর) বিশ্বাসী। এই অটল বিশ্বাস অনেক সময় যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ধার ধারে না। কিন্তু এই ‘বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস’ আস্তিকদের মনে একটি বড় ধরনের চিন্তামুক্তি ঘটায়। তারা জীবনের সব ভার ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়ে মানসিকভাবে নির্ভার থাকতে পারে।

২. সংকটে প্লাসিবো ইফেক্ট ও আশার আলো

জীবনের এমন অনেক জটিল মোড় আছে যেখানে বিজ্ঞান বা মানবিক যুক্তি কোনো সমাধান দিতে পারে না। জীবনের চরম সংকটে বিজ্ঞান যখন ব্যর্থ হয়, তখন একজন নাস্তিক অনেক সময় ভিত্তিহীন বোধ করেন এবং হতাশায় ভেঙে পড়েন।

বিপরীতে, আস্তিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন নাস্তিক নিরাময় অযোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তবে বিজ্ঞানের যুক্তিতে তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর কথা ভেবে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়তে পারেন। কিন্তু একজন আস্তিক এই অবস্থায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্রষ্টা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন। এই ‘আশা’ তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে অনেক সময় ‘প্লাসিবো থেরাপি’-র মতো কার্যকর হিসেবে দেখা হয়, যা রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সচল রাখতে সহায়তা করে।

৩. আত্মবিশ্বাস বনাম ঈশ্বরবিশ্বাস

নাস্তিকরা মূলত নিজের ওপর বা নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থাশীল (Self-confident)। কিন্তু মানুষের সামর্থ্যের একটি সীমা থাকে। যখন সেই সীমা অতিক্রম করে কোনো বিপর্যয় আসে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাস দ্রুত ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, আস্তিকরা তাদের ব্যর্থতা, গ্লানি এবং দুশ্চিন্তার ভার ঈশ্বরের কাছে সঁপে দেন। এই ‘সারেন্ডার’ বা সমর্পণের ক্ষমতা তাদের মনকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখে। বিভিন্ন সংকটে নাস্তিক যেখানে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, আস্তিক সেখানে বিশ্বাস করেন যে “যা হচ্ছে তা ঈশ্বরের ইচ্ছায় এবং এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কল্যাণ নিহিত আছে।” এই ইতিবাচক চিন্তাই তাকে প্রতিকূল পরিবেশেও সুখী রাখতে সাহায্য করে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):

সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয়। নাস্তিকরা সত্যের সন্ধানে যুক্তির যে কঠিন পথ বেছে নেন, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক তৃপ্তি থাকলেও মানসিক প্রশান্তির অভাব ঘটতে পারে। আবার আস্তিকরা বিশ্বাসের যে ছায়াতলে আশ্রয় নেন, সেখানে হয়তো বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতি আছে, কিন্তু মানসিক নিরাপত্তা ও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির হার অনেক বেশি। দিনশেষে মানুষের অস্তিত্বের লড়াইয়ে ‘আশা’ বা ‘Hope’ এক বিশাল শক্তির নাম, যা আস্তিকদের মাঝে বেশি দৃশ্যমান।


তথ্যসূত্র (References):

১. Journal of Religion and Health: ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন গবেষণাপত্র।

২. The Placebo Response: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ।

৩. ইমানুয়েল কান্ট ও সমসাময়িক দর্শন: যুক্তিবাদ বনাম আধ্যাত্মিকতার তুলনামূলক আলোচনা।

মুসলিম উম্মাহর সংকট

নিউজ ডেস্ক

April 16, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত ও ব্যর্থ মনে হয়। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা আজ যে সংকটের মুখোমুখি, তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

বর্তমানে ইসলামকে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ‘একাধিক বিবাহ’ নিয়ে যেভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত বিব্রতকর। ইসলামে চার বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠিন শর্ত ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে অমুসলিম বিশ্ব ও নওমুসলিমদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে, মুসলিম পুরুষ মানেই কেবল একাধিক বিয়ে।

২. আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ভার ও ‘ইসলামোফোবিয়া’

বিশ্বের কোথাও কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর এসে পড়ে। অনলাইনে বা অফলাইনে একজন মুসলিমকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে সে ‘জঙ্গি’ নয়। হিজাব পরিধান করা যে একজন নারীর স্বাধীন ইচ্ছা হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকুও আমরা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। নিজেদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে না পারা আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।

৩. অনৈক্য ও পরশ্রীকাতরতা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব আজ প্রকট। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো বড় মানবিক সংকটে যখন কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশ নয়, বরং গাম্বিয়ার মতো একটি ছোট দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করে, তখন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে যতটা পটু, নিজেদের সংশোধনে ততটাই উদাসীন।

৪. ভূ-রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা

মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অনেক সময় সাধারণ মুসলমানদের ব্যথিত করে। ইয়েমেনের মানবিক বিপর্যয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রহস্যজনক নীরবতা কিংবা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়া—আমাদের লজ্জিত করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনছে।

৫. দেশপ্রেম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা

‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’—এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে অনেক মুসলিম দেশ আজ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এছাড়া সোনালী অতীতে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে মুসলিম মনীষীদের যে কালজয়ী অবদান ছিল, তা আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের আবিষ্কার ও অবদান সম্পর্কে নিজেরাই জানি না, ফলে পশ্চিমাদের চোখে আমরা আজ একটি ‘পিছিয়ে পড়া’ জাতিতে পরিণত হয়েছি।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামের সৌন্দর্য তখনই বিকশিত হবে যখন আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকবে। আমরা যদি অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের চরিত্র ও জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারি, তবেই আমাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেবল ধর্মের গান গেয়ে নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


এক নজরে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:

চ্যালেঞ্জবর্তমান অবস্থা
সামাজিকইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার অভাব।
রাজনৈতিকমুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি।
সাংস্কৃতিকমিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় ব্যর্থতা।
শিক্ষাগতআধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা।

তথ্যসূত্র (Source):

  • আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংক্রান্ত বিধান।
  • আল জাজিরা ও রয়টার্স: ইয়েমেন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন।
  • বিডিনিউজ২৪: মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আল্লাহ কেন অপবিত্র জিনিস সৃষ্টি করলেনপবিত্র জিনিস সৃষ্টি করলেন

নিউজ ডেস্ক

April 11, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: [আপনার নাম/BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটেগরি: ইসলাম ও জীবন

আমাদের মনে অনেক সময় একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়—আল্লাহ তো পবিত্র ও সুন্দর, তবে তিনি কেন পৃথিবীতে নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত বা অপবিত্র জিনিস সৃষ্টি করলেন? এই প্রশ্নটি যতটা না আধ্যাত্মিক, তার চেয়ে বেশি আমাদের সংজ্ঞাগত বোঝার অভাব।

আসলে আমরা আবিষ্কার, উদ্ভাবন এবং সৃষ্টি—এই তিনটি শব্দের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলি। চলুন আজকের ব্লগে বিষয়টি পানির মতো পরিষ্কার করে নেওয়া যাক।

১. আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন: যা আমরা করি

মানুষ কোনো কিছু শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে না। আমরা যা করি তা হলো:

  • আবিষ্কার (Discover): কোনো জিনিস আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিল, আমরা শুধু তা খুঁজে বের করি। যেমন: কলম্বাস আমেরিকা খুঁজে পেয়েছেন কিংবা জগদীশ চন্দ্র বসু গাছের প্রাণ আবিষ্কার করেছেন।
  • উদ্ভাবন (Invent): আগে থেকেই আছে এমন কিছু যন্ত্রপাতি বা উপাদান জোড়া দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা। যেমন: গ্রাহাম বেল টেলিফোন বানিয়েছেন বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে কারিগরকে সেই বস্তুগুলো স্পর্শ করতে হয়।

২. সৃষ্টি (Creation): যা কেবল আল্লাহ পারেন

সৃষ্টি হলো এমন কিছু যা আগে ছিল না এবং যা তৈরি করতে কোনো কাঁচামাল বা স্পর্শের প্রয়োজন হয় না। একটি ছোট ফলের বীজের কথা ভাবুন। এর ভেতরে ডাল, পাতা বা ফুল কি দেখা যায়? না। কিন্তু মাটিতে পুঁতলেই সেখান থেকে বিশাল গাছ হয়।

আল্লাহ যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করেন, তাকে তা স্পর্শ করতে হয় না। তিনি কেবল হুকুম দেন (কুন-ফায়াকুন), আর তা সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই অপবিত্র কিছু সৃষ্টি করার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাতে লিপ্ত। তিনি পবিত্রতা ও মহিমার সাথে কেবল হুকুমের মাধ্যমেই তা অস্তিত্বে আনেন।

৩. অপবিত্র জিনিস সৃষ্টির পেছনে রহস্য কী?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে—এসব নোংরা বা দুর্গন্ধময় জিনিস তৈরির দরকার ছিল কি? এর উত্তর লুকিয়ে আছে স্বয়ংক্রিয় রিসাইকেল (Automatic Recycle) প্রক্রিয়ায়।

পৃথিবীতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য পচনশীলতা জরুরি। কোনো কিছু নষ্ট হওয়া, পচে যাওয়া এবং পুনরায় মাটিতে মিশে যাওয়া—এই জটিল রাসায়নিক চক্রের মাধ্যমেই পৃথিবী টিকে আছে। এখন ভাবুন, যদি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পচা জিনিসগুলো দেখতে সুন্দর হতো বা সুগন্ধি ছড়াতো, তবে মানুষ কি তা থেকে দূরে থাকতো? অবশ্যই না।

আল্লাহর দয়া: তিনি ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা করে দিয়েছেন যাতে আমরা সহজাতভাবেই ওসব থেকে দূরে থাকি এবং সুস্থ থাকতে পারি। এটি মূলত মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।


উপসংহার: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)

পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত আছে। যা আমাদের চোখে অপবিত্র, তাও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই নিপুণ ও অর্থবহ।

আপনার মতামত: এই গভীর বিষয়টি কি আপনার আগে এভাবে ভেবেছিলেন? কমেন্টে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ