ধর্মীয় অনুষ্ঠান
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদন — সনাতন ধর্মে ‘ॐ’ (ওঁ বা ওম) কেবল একটি পবিত্র প্রতীক বা মন্ত্র নয়; এটি মহাবিশ্বের আদি স্পন্দন বা পরম ধ্বনি। যেকোনো বৈদিক মন্ত্র, নিত্য পূজা কিংবা শুভ কাজের সূচনায় এই আদি ধ্বনির উচ্চারণ অপরিহার্য। তবে কেবল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নয়, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের (Neuroscience) গবেষণাতেও এই ধ্বনির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। নিচে ওঁ শব্দের গূঢ় তাৎপর্য, সঠিক উচ্চারণ পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং অনিদ্রা দূর করার কার্যকরী স্লিপ থেরাপি গাইড তুলে ধরা হলো।
১. ‘ॐ’ শব্দের অর্থ ও মহাজাগতিক তাৎপর্য

‘ॐ’ শব্দটি মূলত তিনটি মৌলিক ধ্বনির সমাহারে গঠিত: অ (A), উ (U), এবং ম (M)। এই তিনটি অক্ষর দার্শনিক ও মহাজাগতিক উভয় দৃষ্টি থেকেই গভীর অর্থ বহন করে:
- সৃষ্টিচক্র ও পরম ঈশ্বর:
- অ (A): সৃষ্টির সূচনা বা ব্রহ্মার প্রতীক (জাগ্রত অবস্থা / Conscious State)।
- উ (U): সৃষ্টির স্থিতি বা বিষ্ণুর প্রতীক (স্বপ্নাবস্থা / Dreaming State)।
- ম (M): সৃষ্টির লয় বা শিবের প্রতীক (সুষুপ্তি বা গভীর নিদ্রার অবস্থা / Deep Sleep State)।
- চতুর্থ অবস্থা (তুৰীয় বা Turiya): ‘অ-উ-ম’ উচ্চারণের শেষভাগে যে নীরবতা (Silence) তৈরি হয়, তা হলো তুৰীয় বা মোক্ষ অবস্থা—যেখানে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়।
- আদি অনুনাদ: পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরো মহাবিশ্ব এক অখণ্ড কম্পনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ‘ওম’ হলো সেই আদি স্পন্দন, যা মানবদেহের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে মহাজাগতিক তরঙ্গের সাথে যুক্ত করে।
২. ‘ॐ’ শব্দ কীভাবে সঠিক নিয়মে উচ্চারণ করতে হয়?
ওঁ উচ্চারণ কেবল মুখে শব্দ করা নয়; এটি উদর, বক্ষ ও মস্তিষ্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়া।
উচ্চারণের সঠিক ধাপসমূহ (অনুপাত ২:২:১)
[ গভীর শ্বাস গ্রহণ ] ──► [ 'অ' (পেটে কম্পন) ] ──► [ 'উ' (বুকে কম্পন) ] ──► [ 'ম' (মস্তিষ্কে গুঞ্জন) ] ──► [ নীরবতা / তুৰীয় ]
- প্রস্তুতি ও আসন: মেরুদণ্ড সোজা রেখে কোনো শান্ত স্থানে পদ্মাসন, সুখাসন বা আরামদায়ক আসনে বসুন। চোখ বন্ধ করে শরীর শিথিল করুন।
- দীর্ঘ শ্বাস: নাক দিয়ে ফুসফুস ভরে একটি গভীর ও দীর্ঘ শ্বাস নিন।
- ‘অ’ (A) ধ্বনি: মুখ পুরো হা করে শরীরের গভীর থেকে অর্থাৎ নাভিমূল (উদরে) বল প্রয়োগ করে ‘আ’ বা ‘অ’ ধ্বনি শুরু করুন। এতে তলপেটে কম্পন সৃষ্টি হবে।
- ‘উ’ (U) ধ্বনি: এরপর মুখ আংশিক বন্ধ করে ঠোঁট গোল করে ‘উ’ ধ্বনি নির্গত করুন। এতে কম্পনটি বক্ষস্থল ও কণ্ঠনালীতে স্থানান্তরিত হবে।
- ‘ম’ (M) ধ্বনি: সর্বশেষে ঠোঁট দুটি পুরোপুরি বন্ধ করে নাক দিয়ে ‘ম্ঁঁ…’ করে ভ্রমরের মতো অনুনাসিক গুঞ্জন তৈরি করুন। এই সময় কম্পনটি মাথার খুলি ও মস্তিষ্কে অনুভূত হবে।
- নীরবতা পর্যবেক্ষণ: জপ শেষ হওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড সম্পূর্ণ নীরব থাকুন এবং দেহের ভেতরের অনুনাদ ও প্রশান্তি অনুভব করুন।
৩. ‘ॐ’ উচ্চারণের আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (Scientific Insights)

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং fMRI গবেষণায় দেখা গেছে, ওম ধ্বনি উচ্চারণের সময় উৎপন্ন কম্পন মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের তরঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে:
[ 'ম্ঁঁ...' অনুনাসিক গুঞ্জন ও কম্পন ]
│
┌───────────────────────┼───────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ভেগাস নার্ভ উদ্দীপনা ] [ লিম্বিক সিস্টেম শান্ত ] [ আলফা ও থিটা তরঙ্গ ]
│ │ │
▼ ▼ ▼
(হার্ট রেট ও স্ট্রেস হ্রাস) (ভয় ও উদ্বেগ লাঘব) (গভীর প্রশান্তি ও মনোযোগ)
১. ভেগাস নার্ভের উদ্দীপনা (Vagus Nerve Stimulation)
‘ম্ঁঁ…’ গুঞ্জনের সময় কণ্ঠনালী, ল্যারিঙ্কস এবং মাথার খুলিতে তীব্র কম্পন তৈরি হয়, যা সরাসরি শরীরের সবচেয়ে দীর্ঘ স্নায়ু ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে। এর ফলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা রক্তচাপ ও স্ট্রেস হরমোন (Cortisol) কমিয়ে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করে।
২. লিম্বিক সিস্টেমের শান্ত অবস্থা (Limbic System Deactivation)
ভারতের National Institute of Mental Health and Neurosciences (NIMHANS)-এর fMRI গবেষণায় দেখা গেছে, ওম উচ্চারণের সময় মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের (বিশেষ করে অ্যামিগডালা) সক্রিয়তা কমে যায়। অ্যামিগডালা ভয়, রাগ ও নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে; ফলে এটি শান্ত হলে মানুষ মানসিক চাপমুক্ত হয়।
৩. ব্রেইন ওয়েভ কোহেরেন্স (Brainwave Coherence)
নিয়মিত ১০-১৫ মিনিট ওম জপ করলে মস্তিষ্কে Alpha (গভীর শিথিলতা) এবং Theta (সৃজনশীলতা ও ধ্যানস্থ অবস্থা) তরঙ্গের মাত্রা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ক্লান্তি ও বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী Beta তরঙ্গকে কমিয়ে আনে।
৪. সাইমেটিক্স ও নাইট্রিক অক্সাইড বৃদ্ধি
পদার্থবিজ্ঞানের ‘Cymatics’ তত্ত্ব অনুযায়ী, ওম ধ্বনি ৪৩২ হার্টজ (432 Hz) ফ্রিকোয়েন্সির কাছাকাছি তরঙ্গ তৈরি করে। ৭০০% পানি দ্বারা গঠিত মানবদেহের কোষে এই তরঙ্গ সুশৃঙ্খল প্যাটার্ন তৈরি করে। এছাড়া নাক বন্ধ করে দীর্ঘ গুঞ্জনের ফলে সাইনাসে প্রাকৃতিকভাবে ১৫ গুণ বেশি নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) উৎপন্ন হয়, যা অনাক্রম্যতা ও রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
৪. অনিদ্রা (Insomnia) দূর করতে ‘ওম স্লিপ থেরাপি’
ঘুমের সমস্যা বা দুশ্চিন্তাজনিত অনিদ্রা কাটাতে Sound Healing Therapy-র অংশ হিসেবে নিচে বর্ণিত ‘OM Sleep Therapy’ অত্যন্ত কার্যকরী।
স্লিপ থেরাপির ধাপভিত্তিক নিয়মাবলী
| সময় ও ধাপ | করণীয় পদ্ধতি | বৈজ্ঞানিক ও থেরাপিউটিক প্রতিক্রিয়া |
| ১. পরিবেশ প্রস্তুত | ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় পিঠ সোজা করে বসুন বা সরাসরি শুয়ে পড়ুন। | শরীরকে ঘুমানোর উপযুক্ত সংকেত দেয়। |
| ২. ছন্দময় শ্বাস (4-6 Ratio) | ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন এবং ৬ সেকেন্ড ধরে ধীর গতিতে ছাড়ুন (৫ বার)। | হার্ট রেট কমায় এবং মস্তিষ্ককে নিরাপদ অনুভব করায়। |
| ৩. গুঞ্জন প্রাধান্য (১:১:২) | সংক্ষিপ্ত ‘আ-ও’ বলে দীর্ঘ সময় ধরে ঠোঁট বন্ধ রেখে ‘ম্ঁঁঁ…’ অনুনাসিক ধ্বনি দিন। | ভেগাস নার্ভ ম্যাসাজ হয় এবং মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) নিঃসৃত হয়। |
| ৪. জপ সংখ্যা | শোবার আগে অন্তত ১১ থেকে ২১ বার এই পদ্ধতি রিপিট করুন। | ব্রেইন ওয়েভ আলফা ও থিটা লেভেলে নেমে আসে। |
| ৫. নিস্তব্ধতা | জপ শেষে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থেকে ভেতরের নিস্তব্ধতা অনুভব করুন। | অতিচিন্তা (Overthinking) বন্ধ করে দ্রুত ঘুমে আচ্ছন্ন করে। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিদ্ধান্ত
‘ॐ’ কেবল একটি সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; এটি ধ্বনিবিজ্ঞান, শারীরবিদ্যা এবং মানসিক ভারসাম্যের এক অপূর্ব বৈজ্ঞানিক সমন্বয়। দৈনন্দিন ক্লান্তি কাটাতে কিংবা মনের গভীর প্রশান্তি অর্জনে প্রতিদিন কিছু সময় সঠিক নিয়মে ওম উচ্চারণ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
১. বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা গবেষণা (Medical & Neuroscience Sources)
- fMRI ও লিম্বিক সিস্টেম নিষ্ক্রিয়তা:
- গবেষণা: “Neurohemodynamic correlates of ‘OM’ chanting: A functional magnetic resonance imaging study” (NIMHANS, India).
- প্রকাশনা: International Journal of Yoga (IJOY) / PubMed.
- ফলাফল: fMRI স্ক্যানে দেখা গেছে ‘ওম’ জপ করার সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) সহ লিম্বিক সিস্টেমের রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যা স্ট্রেস ও ডিপ্রেশন কমাতে থেরাপিউটিক ভূমিকা রাখে।
- ভেগাস নার্ভ স্টিমুলেশন ও হার্ট রেট:
- গবেষণা: “Effects of OM chanting on autonomic nervous system and brain wave activity”.
- প্রকাশনা: Indian Journal of Physiology and Pharmacology.
- ফলাফল: গুঞ্জনের সময় (Chanting) উৎপন্ন কম্পন ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে কর্টিসল (Cortisol) হরমোন কমায়।
- নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) বৃদ্ধি:
- গবেষণা: “Nasal Nitric Oxide is Increased by Humming” (Karolinska Institute, Sweden).
- প্রকাশনা: American Journal of Respiratory and Critical Care Medicine.
- ফলাফল: মুখ বন্ধ করে গুঞ্জন বা অনুনাসিক শব্দ (Humming/‘ম’ ধ্বনি) করলে সাইনাসে সাধারণ শ্বাসের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়, যা রক্তচাপ কমায় ও রক্তনালী শিথিল করে।
২. সনাতন আধ্যাত্মিক ও বৈদিক শাস্ত্রীয় সূত্র (Vedic & Philosophical Sources)
- মাণ্ডূক্য উপনিষদ (Mandukya Upanishad):
- উপনিষদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী—“ওমিত্যেতদক্ষরমীদং সর্বম্”। অর্থাৎ, ‘ওম’ হলো সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক। এতে ‘অ’, ‘উ’, ‘ম’ এবং চতুর্থ মাত্রা ‘তুৰীয়’ (নীরবতা)-র বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে।
- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (Shrimad Bhagavad Gita):
- অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৩: “ওমিত্যেকাক্ষরং ব্রহ্ম ব্যাহরন্মামনুস্মরন্…” (পরম ব্রহ্মের একাক্ষর প্রতীক হলো ‘ওম’)।
- পাতঞ্জল যোগসূত্র (Patanjali Yoga Sutras):
- সূত্র ১.২৭: “তস্য বাচকঃ প্রণবঃ” (ঈশ্বর বা পরমেশ্বরের বাচক বা প্রকাশক ধ্বনি হলো প্রণব বা ‘ওম’)।
৩. পদার্থবিজ্ঞান ও সাইমেটিক্স (Physics & Cymatics)
- সাইমেটিক্স (Cymatics Study – Ernst Chladni & Hans Jenny):
- শব্দ তরঙ্গ যখন তরল বা বালুর ওপর আপতিত হয়, তখন তা জ্যামিতিক প্যাটার্ন তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওম ধ্বনির ৪৩২ হার্টজ (432 Hz) ফ্রিকোয়েন্সি প্রাকৃতিক সুরেলা অনুনাদ (Harmonic Resonance) সৃষ্টি করে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্যারিয়ার গাইড
- প্রকাশের তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): Upwork Industry Report, Coursera Skills Index, বাংলাদেশ আইটি অ্যান্ড ফ্রিল্যান্সার অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ প্রথাগত চাকরির ধরাবাঁধা নিয়ম থেকে বেরিয়ে মুক্তপেশা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুকছে। এটি কেবল একটি সাময়িক ট্রেন্ড নয়, বরং দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, তরুণদের স্বনির্ভর হওয়ার মানসিকতা এবং প্রযুক্তির বিকাশের এক বিশাল রূপান্তর।
যুবসমাজের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহী হওয়ার প্রধান কারণসমূহ
১. প্রথাগত চাকরির সংকট ও বেকারত্ব: প্রতি বছর লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট শিক্ষাজীবন শেষ করলেও মানসম্মত কর্মসংস্থানের তীব্র অভাব রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি ও ভালো মানের করপোরেট চাকরির জটিল ভর্তি প্রক্রিয়া ও নেতিবাচক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং সেরা মাধ্যম।
২. বৈদেশিক মুদ্রায় আয় ও আর্থিক স্বাধীনতা: সরাসরি ইউএস ডলারে (USD) আয় করার সুযোগ থাকায় মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই।
৩. কাজের সময় ও স্থানের স্বাধীনতা: ৯টা-৫টা অফিসের বাধ্যবাধকতা এবং শহরের যানজট এড়িয়ে ঘরে বসে বা পছন্দমতো স্থানে কাজ করার মানসিক স্বস্তি তরুণদের আকর্ষণ করছে।
৪. ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও অনলাইন লার্নিং: ৪জি/৫জি কানেক্টিভিটি এবং ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে খুব সহজেই আন্তর্জাতিক মানের স্কিল শেখা সম্ভব হচ্ছে।
৫. উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা: নিজস্ব মেধা খাটিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সফল ফ্রিল্যান্সাররা পরবর্তীতে নিজস্ব আইটি এজেন্সী তৈরি করে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
২০২৬ সালের শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন স্কিলসমূহ

বৈশ্বিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যাপক প্রসারের ফলে সাধারণ বা মান্ধাতাধাঁচের কাজের চাহিদা কমেছে এবং অ্যাডভান্সড টেকনিক্যাল স্কিলগুলোর কদর বেড়েছে:
| ক্যাটাগরি | শীর্ষ স্কিলসমূহ | কাজের ধরণ ও গুরুত্ব |
| আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) | Prompt Engineering, AI Video/Image Gen, AI Integration | এআই থেকে নির্ভুল কাজ বের করা ও বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মে এআই ইন্টিগ্রেট করা। |
| প্রোগ্রামিং ও ওয়েব | Full-Stack, No-Code (Webflow/Bubble), Mobile App Dev | জটিল ওয়েবসাইট অবকাঠামো তৈরি ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। |
| ডেটা ও সিকিউরিটি | Data Analytics (Python/SQL), Cybersecurity | ডাটা ভিউজুয়ালাইজেশন ও প্রজেক্ট-ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ। |
| ক্রিয়েটিভ ও ডিজাইন | UI/UX Design, Short-Form Video Editing | ব্যবহার বান্ধব অ্যাপ/ওয়েবসাইট ডিজাইন ও এআই-এনহ্যান্সড ভিডিও এডিটিং। |
| ডিজিটাল মার্কেটিং | SEO, Performance Marketing / Paid Ads, Copywriting | সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করানো, কনভার্সন বাড়ানো ও সাইকোলজিক্যাল সেলস কপি রাইটিং। |
ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

- আয়ের অনিশ্চয়তা: ফ্রিল্যান্সিংয়ে নির্দিষ্ট ফিক্সড স্যালারি না থাকায় কাজের ওঠানামার সাথে আয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানসিক চাপ: আন্তর্জাতিক টাইমজোন (যেমন: ইউএস বা ইউরো টাইম) মেনে কাজ করায় ঘুমের সাইকেল বিঘ্নিত হয়, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
- আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে: সরাসরি পেপ্যাল (PayPal) না থাকার কারণে উপার্জন দেশে আনা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রায়শই কঠিন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সফলতার মূল চাবিকাঠি
প্রযুক্তিগত দক্ষতার (Hard Skills) পাশাপাশি প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা (Communication), সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা (Critical Thinking) এবং নতুন প্রযুক্তির সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মতো মানবিক মেধা (Human Power Skills) থাকা অপরিহার্য।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতি ও দর্শন
- প্রকাশের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, বিবিসি (BBC), দ্য সেন্ট্রাল তিব্বতান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CTA) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আর্কাইভ।
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (GPA-5) না পেলে কিংবা দেশের শীর্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে জীবন বুঝি সেখানেই থমকে যায়। কিন্তু এই চেনা ধারণার বাইরে গিয়ে জিপিএ-৩.৫৭ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন এক বাঙালি তরুণ। তিনি আর কেউ নন, নরসিংদীর মনোহরদীর ছেলে ড. আল ইমরান (Al Emran)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে প্রথমে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

আজকের এই কন্টেন্টে আমরা জানবো কীভাবে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি মুছে একজন সাধারণ ছাত্র থেকে তিনি আজকের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন।
১. শৈশবের স্বপ্ন এবং শুরুর ধাক্কা
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আল ইমরানের। বাবা ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই জোছনা রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ইমরান ভাবতেন, মানুষ কীভাবে চাঁদে গেল? আমিও কি কোনোদিন পারবো?
কিন্তু তার এই বড় স্বপ্নের পথে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৪ সালে খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাত্র জিপিএ ৩.৫৭ পেয়ে এসএসসি এবং ২০০৬ সালে জিপিএ ৪.৪ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। রেজাল্ট কম থাকার কারণে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে (BUET) ভর্তি পরীক্ষাই দিতে পারেননি তিনি।
২. অনার্সে এসে নিজেকে বদলে ফেলা
বুয়েটে পরীক্ষা দিতে না পেরে ইমরান ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। তবে সেখানেও এক বছর পড়ার পর নিজের মূল ভালো লাগার জায়গা খুঁজে পেতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন ইমরান। যে ছেলেটি স্কুল-কলেজে সাধারণ মানের ছাত্র ছিলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন! অনার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৬৯ এবং মাস্টার্সে ৩.৯৭।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিল, কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখেছিল
মাস্টার্স শেষ করার পর আল ইমরানের তীব্র ইচ্ছা ছিল নিজের বিভাগেই (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার। এজন্য তিনি একাধিকবার আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়নি।
এই প্রত্যাখ্যান ইমরানকে মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত করেছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। দেশে সুযোগ না পেয়ে তিনি চোখ ফেরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির চেয়ে গবেষণার বাস্তব যোগ্যতা অনেক বেশি শক্তিশালী।
৪. পিএইচডি এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি
২০১৭ সালে ইমরান পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। Auburn University থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস (University of Arkansas) থেকে স্পেস অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স-এ সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল স্যাটেলাইট ডাটা, মেশিন লার্নিং এবং ল্যাবরেটরি এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহ (Mars) ও প্লুটোর (Pluto) পৃষ্ঠের গঠন উন্মোচন করা। তার এই অসাধারণ গবেষণাপত্রগুলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।
৫. নাসার দরজা জয় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ড. আল ইমরান বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে (JPL) পোস্টডক্টরাল ফেলো (Planetary Astronomer) হিসেবে যোগ দেন। যে তরুণকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি তখন নাসায় বসে বুধ, মঙ্গল, ইউরোপা এবং শনির উপগ্রহের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন!

সর্বশেষ ২০২৬ সালের আপডেট:
নাসায় ৩ বছর সফলভাবে কাজ করার পর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ড. আল ইমরান আরও একধাপ এগিয়ে যান। তিনি বর্তমানে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ Aerospace Systems Engineer III এবং Planetary Scientist হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি চাঁদের মাটিতে স্পেস রিসোর্স বা খনিজ সম্পদের অবস্থান মূল্যায়ন করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লুনার মিশনে (Lunar Mission) কাজ করছেন।
ড. আল ইমরানের জীবন থেকে আমাদের কী শেখার আছে?

ড. আল ইমরানের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্পটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য কয়েকটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা দেয়:
- জিপিএ বা ভর্তি পরীক্ষা জীবনের শেষ কথা নয়: স্কুল-কলেজের রেজাল্ট খারাপ মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
- প্রত্যাখ্যানই নতুন পথের জন্ম দেয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে শিক্ষক হিসেবে না নেওয়ায় সেদিন হয়তো তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানই আজ তাকে নাসা ও ব্লু অরিজিনের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
- দক্ষতা ও গবেষণার শক্তি: সার্টিফিকেট বা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করা এবং একাগ্রচিত্তে নিজের লক্ষ্যে লেগে থাকাটাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।
উপসংহার
ড. আল ইমরান প্রমাণ করেছেন যে, সততা, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে নরসিংদীর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্ব কাঁপানো মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব। তার এই গল্প আমাদের প্রতিটি হতাশ তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ: নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় ও তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
স্থান: ঢাকা
ঢাকা: তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বৈশ্বিক প্রবাস জীবনের বিস্তারে দূর থেকে ভিডিও কল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহ (Online Marriage) সম্পাদনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) করে বিয়ে সম্পন্ন করা ইসলামী শরীয়াহ এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী কতটা বৈধ?

ইসলামী ফিকহ বিশারদ ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি ভিডিও কলে ইজাব-কবুল করে বিয়ে করা অধিকাংশ আলেমের মতে বৈধ নয়। তবে ইসলামী শরীয়াহতে এর একটি সম্পূর্ণ সুন্নাহসম্মত ও শতভাগ বৈধ বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে, যাকে ‘ওকালতি’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ পদ্ধতি বলা হয়।
১. ভিডিও কলে সরাসরি বিয়ে বৈধ না হওয়ার কারণ (জমহুর ওলামাদের মত)
ইসলামী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য ‘ইত্তিহাদুল মজলিস’ বা উভয় পক্ষ এবং সাক্ষীদের একই স্থানে বা মজলিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। ভিডিও কলে সরাসরি বিয়ে না হওয়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক ও শরঈ কারণসমূহ:
- মজলিস ভিন্ন হওয়া: বর ও কনে দুটি ভিন্ন স্থানে থাকেন, যা একই মজলিসে উপস্থিত থাকার শর্তটি সরাসরি লঙ্ঘন করে।
- ডিজিটাল প্রপঞ্চ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: এআই প্রসেসিং, ভয়েস চেঞ্জিং প্রযুক্তি বা ডিপফেক (Deepfake)-এর মতো প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঝুঁকি থেকে যায়।
- সাক্ষীদের সশরীরে অনুপস্থিতি: বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর সামনে সরাসরি ইজাব-কবুল হতে হয়, যা স্ক্রিনের ওপার থেকে নিশ্চিত করা কঠিন।
(উল্লেখ্য, কয়েকজন আধুনিক আলেম পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে শিথিলতার কথা বললেও সিংহভাগ ফতোয়া বোর্ড এবং আলেম সতর্কতাস্বরূপ এটিকে অবৈধ বলেছেন)।
২. প্রবাসীদের বিয়ের সঠিক ও বৈধ পদ্ধতি: ওকালতি (Proxy Marriage)

কোনো পাত্র বা পাত্রী বিদেশে বা দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করলে, সরাসরি ভিডিও কলে বিয়ে না করে ‘ওয়াকিল’ বা প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করাই শরীয়াহসম্মত নিয়ম।
ধাপসমূহ:
১. উকিল নিযুক্তকরণ: দূরে থাকা পাত্র (বা পাত্রী) তার পরিচিত কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে (যেমন: ভাই, বন্ধু বা আত্মীয়) ফোন বা ভিডিও কলে স্পষ্ট ভাষায় বলবেন—“আমি তোমাকে অমুক কনের সাথে আমার বিয়ের জন্য আমার ‘উকিল’ বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম।”
২. মজলিসে ইজাব-কবুল: নিযুক্ত উকিল বিয়ের মূল মজলিসে কাজি, কনের ওলি (অভিভাবক) এবং অন্তত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীর সামনে সশরীরে উপস্থিত হবেন।
৩. আকদ সম্পাদন: কনের পক্ষ থেকে বিয়ে দেওয়া হলে, প্রবাসীর নিযুক্ত উকিল সবার সামনে বলবেন—“আমি আমার মক্কেল (বরের নাম)-এর পক্ষে এই বিয়ে কবুল করলাম।”
[প্রবাসে থাকা পাত্র] ──► প্রতিনিধি (উকিল) নিয়োগ ──► বিয়ের মূল মজলিস ──► কাজি ও সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুল ──► বৈধ বিয়ে
এই প্রক্রিয়ায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সময় দূরে থাকা পাত্র-পাত্রী চাইলে ভিডিও কলে যুক্ত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখতে পারেন, এতে শরীয়াতে কোনো বাধা নেই।
৩. দূর থেকে বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামা ও আইনি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী (মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯৭৪) বিয়ের পর কাজি অফিসে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। তবে অনলাইনে সম্পূর্ণ “অনলাইন-অনলি” বা ইন্টারনেটে ডিজিটালি সই করে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ নেই। সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে বালাম বইয়ে স্বাক্ষর করতে হয়।
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ওকালতনামা: প্রবাসে থাকা পাত্র বা পাত্রী সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে মনোনীত প্রতিনিধির নামে একটি লিগ্যাল “ওকালতনামা” বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করিয়ে দেশে পাঠাবেন।
- নথিপত্র ও বয়সের প্রমাণ: বর (ন্যূনতম ২১ বছর) ও কনের (ন্যূনতম ১৮ বছর) জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)/পাসপোর্ট ও ছবি কাজি অফিসে জমা দিতে হবে।
- রেজিস্ট্রেশন ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট: নিযুক্ত উকিল এবং সাক্ষীরা কাজি অফিসে গিয়ে বালাম বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। কাজি সাহেব তথ্যগুলো সিভিল রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে (CRVS) আপলোড করার পর বর-কনে কিউআর (QR) কোড সম্বলিত ডিজিটাল কাবিননামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।
৪. বিয়ের ক্ষেত্রে ওলি (কনের অভিভাবক)-এর প্রয়োজনীয়তা
ইসলামে কনের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ওলি’ (Wali) বা অভিভাবকত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক স্তম্ভ।
- ওলির ক্রম: কনের প্রধান ওলি হলেন তার পিতা। পিতা না থাকলে দাদা, আপন ভাই, সৎ ভাই, ও চাচা পর্যায়ক্রমে ওলি হবেন।
- ওলি ছাড়া বিয়ের বিধান:
- জমহুর ওলামা (শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী): ওলি ছাড়া বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল বা অসিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ওলি (অভিভাবক) ছাড়া কোনো বিবাহ সংঘটিত হয় না” (আবু দাউদ)।
- হানাফী মাযহাব: কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমতি নারী ওলি ছাড়া উপযুক্ত (কুফু) পাত্রের সাথে দুজন সাক্ষীর সামনে বিয়ে করলে তা সহীহ হয়ে যাবে। তবে ওলির অনুমতি ছাড়া বিয়ে করাকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে অনুচিত মনে করা হয়।
অতএব, দূরে থেকে বিয়ে সম্পন্ন করতে চাইলে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রত্যয়িত ওকালতনামা এবং বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজি ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করাই ধর্মীয় ও আইনি উভয় দিক থেকেই নিরাপদ সমাধান।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



