ইতিহাস

আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.): মক্কার ইমামের ভুল ধরা ও সৌদি সংবিধান সংশোধনের আসল ইতিহাস
আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী

নিউজ ডেস্ক

May 17, 2026

শেয়ার করুন

১৯৪৭ সালে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কার হারাম শরীফের ইমাম সাহেবের খুতবায় সুক্ষ্ম ইলমি ভুল ধরেছিলেন বাংলাদেশের সিলেটের কানাইঘাটের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.)। হাদিসশাস্ত্র ও আরবি ব্যাকরণে তাঁর এই অসাধারণ পাণ্ডিত্য দেখে তৎকালীন আরবের বিখ্যাত আলেমরা পুরোপুরি তাক লাগিয়ে যান। এমনকি তৎকালীন সৌদি আরবের বাদশাহ স্বয়ং তাঁর দেশের রাষ্ট্রীয় সংবিধান আল্লামা বায়মপুরীর সামনে পেশ করে কোনো ভুল আছে কি না তা যাচাই করতে বলেন এবং আল্লামা বায়মপুরী (রহ.) সেই সংবিধানে অন্তত ১৪টি বিষয় সংশোধনযোগ্য বলে চিহ্নিত করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি শুধু সিলেট অঞ্চল নয়, বরং গোটা উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের ইলমি শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল।

নিচে এই ক্ষণজন্মা হাদিস বিশারদ, রাজনীতিক ও মহান সংস্কারকের জন্ম, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং ঐতিহাসিক অবদান বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) ১৩২৭ হিজরি মোতাবেক ১৯০৭ সালের মহররম মাসে এক জুমার দিনে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বায়মপুর গ্রামের (বর্তমান কানাইঘাট পৌরসভার অন্তর্গত) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

  • পিতা: কারী আলিম বিন কারী দানিশ মিয়া।
  • মাতা: হাফেজা সুফিয়া বেগম।

তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবেই তাঁর পিতা মারা যাওয়ায় মায়ের একক তত্ত্বাবধানে তিনি লালিত-পালিত হন। মাত্র সাত বছর বয়সে মায়ের কাছে পবিত্র কোরআন শরীফ শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়, যার পাশাপাশি তিনি বাংলা ও উর্দু ভাষাও আয়ত্ত করেন।

শিক্ষাজীবন এবং দেওবন্দের গৌরবোজ্জ্বল রেকর্ড

কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদরাসা (বর্তমান দারুল উলুম কানাইঘাট) থেকে মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রাথমিক ও পরবর্তীতে মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর কিছুদিন শিক্ষকতা করলেও উচ্চশিক্ষার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় তিনি ভারতে পাড়ি জমান।

  • ভারতে প্রথম পর্ব: রামপুর আলিয়া মাদরাসায় ৫ বছর এবং মিরাঠ আলিয়া মাদরাসায় ২ বছর পড়াশোনা করেন। এই ৭ বছরে তিনি হাদিস, তাফসির, ফেকাহ, আকাইদ ও দর্শন শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি দরসে নেজামির কঠিন কিতাব ‘কাফিয়া’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইযাহুল মাতালিব রচনা করে মেধার পরিচয় দেন।
  • দারুল উলূম দেওবন্দের রেকর্ড: ১৯৩৬ সালে তিনি বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপীঠ দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন। দেওবন্দে দেড় বছর অত্যন্ত সুখ্যাতির সঙ্গে হাদিসের ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি (দাওরায়ে হাদিস) গ্রহণ করেন। মেধা তালিকায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং কয়েকটি বিষয়ে মোট নম্বরের চেয়েও বেশি নম্বর পেয়ে রেকর্ড গড়েন। তাঁর বোখারি শরিফের পরীক্ষার খাতা দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘকাল বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছিল।

কর্মজীবন ও সিলেটের ‘দ্বিতীয় দারুল উলূম দেওবন্দ’

দেওবন্দের শিক্ষা সমাপ্ত করে দেশে ফেরার সময় তাঁর উস্তাদ সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) বলেছিলেন—“আব ইলম সিলেট কি তরফ জা রহা হায়” (এখন জ্ঞানবত্তা সিলেটের দিকে যাচ্ছে)।

  • শিক্ষকতা: প্রথমে ভারতের বদরপুর ও রামপুর আলিয়া মাদরাসায় এবং পরে দেশে ফিরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসায় শাইখুল হাদিস হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে সিলেটের গাছবাড়ী জামিউল উলুম কামিলা মাদরাসায় শাইখুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর একক যোগ্যতায় তৎকালীন সময়ে গাছবাড়ী মাদরাসাকে ‘দ্বিতীয় দারুল উলূম দেওবন্দ’ বলা হতো।
  • দারুল উলূম কানাইঘাট: ১৯৫৩ সালে তিনি নিজ জন্মস্থান কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদরাসায় যোগ দিয়ে এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘দারুল উলূম কানাইঘাট’। ১৯৫৪ সালে এখানে তিনিই প্রথম দাওরায়ে হাদিসের (টাইটেল) ক্লাস চালু করেন এবং আমৃত্যু এখানে হাদিসের খিদমত করেন।
  • দেওবন্দের শায়খুল হাদিসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: ১৯৫৭ সালে দেওবন্দের শায়খুল হাদিস মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর দেওবন্দের শূন্য পদে যে ৩ জন বৈশ্বিক আলেমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, আল্লামা বায়মপুরী ছিলেন তাদের অন্যতম। কিন্তু মাতৃভূমির খিদমত ছেড়ে তিনি দেওবন্দে যেতে রাজি হননি।
  • শিক্ষা বোর্ড গঠন: পূর্ব সিলেটের সব মাদরাসাকে এক প্লাটফর্মে আনতে ১৯৫৩ সালে তিনি ‘পূর্ব সিলেট আযাদ দীনি আরবী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড’ গঠন করেন। বর্তমানে এই বোর্ডের অধীনে প্রায় ১৭৫টি মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবন ও সংসদের ঐতিহাসিক ভূমিকা

রাজনীতিতে তিনি ছিলেন তাঁর উস্তাদ মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী এবং জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সারির নেতা।

  • এমএনএ (MNA) নির্বাচিত: ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ (পার্লামেন্ট) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘চেয়ার’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
  • সংসদে ঐতিহাসিক অবদান:
    • রাষ্ট্রের নামকরণে পাকিস্তান প্রজাতন্ত্রের পরিবর্তে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান’ লেখায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
    • “কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন করা যাবে না”—এই মূল নীতিটি তিনিই পাকিস্তানের সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।
    • তাঁর তীব্র দাবির মুখে আইয়ূব সরকার একটি অর্ডিন্যান্স থেকে ইসলামবিরোধী ধারা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
    • পূর্ব পাকিস্তানে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তিনিই সর্বপ্রথম পার্লামেন্টে তুলে ধরেন।

অমর রচনাবলী

দ্বীনি খিদমতের পাশাপাশি লেখালেখিতেও তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয়। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১. ফাতহুল কারীম ফি সিয়াসাতিন্নাবিয়ীল আমীন: রাজনীতি বিষয়ে আরবিতে লেখা একটি ঐতিহাসিক অমর গ্রন্থ (যা পরবর্তীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ‘ইসলামের রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার’ নামে অনূদিত হয়)। ২. আল-فুরক্বান বাইনাল হক্বে ওয়াল বাতিল ফি ইলমিত তাসাউফে ওয়াল ইহসান (তাসাউফ সংক্রান্ত কিতাব)। ৩. আল ফুরক্বান বাইনা আউলিয়াইর রহমান ও আউলিয়াইশ শাইতান। ৪. সত্যের আলো (দুই খণ্ডে)। ৫. ইসলামে ভোট ও ভোটের অধিকার। ৬. ইজহারে হক্ব এবং সেমাউল কোরআন

আধ্যাত্মিক জীবন ও ইন্তেকালের কারামাত

তিনি হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) এবং উস্তাদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক ফয়েজ হাসিল করেন। পরবর্তীতে মাওলানা ইয়াকুব বদরপুরী (রহ.)-এর কাছে বায়াত হয়ে খেলাফত লাভ করেন।

  • ইন্তেকাল: ১৩৯০ হিজরীর ১০ জিলহজ মোতাবেক ১৯৭১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঈদুল আজহার রাতে এই মহান অলিয়ে কামেল ইন্তেকাল করেন। কানাইঘাট দারুল উলুম মাদরাসার সামনেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
  • কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার কারামাত: দাফনের পর টানা কয়েকদিন এবং পরবর্তীতে তিন মাস পর আবারও তাঁর কবর থেকে অলৌকিক সুগন্ধি বের হতে থাকে। এমনকি ইন্তেকালের দীর্ঘ ৪০ বছর পর, ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে আবারও তাঁর কবর থেকে তীব্র সুগন্ধি বের হতে শুরু করলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ তা দেখার জন্য ভিড় জমান।

তাঁর স্মৃতি ও অবদানের সম্মানার্থে বর্তমান কানাইঘাট উপজেলা সদরে সুরমা নদীর উপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী সেতু রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)

১. মূল গ্রন্থ: ফাতহুল কারীম ফি সিয়াসাতিন্নাবিয়ীল আমীন (অনুবাদ: ইসলামের রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। ২. জীবনী ও স্মারকগ্রন্থ: আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) স্মারকগ্রন্থ, উলামা পরিষদ বাংলাদেশ। ৩. সংসদীয় রেকর্ড: পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (National Assembly of Pakistan) ১৯৬২-১৯৬৫ এর সংসদীয় কার্যবিবরণী ও প্রস্তাবনাসমূহ। ২. প্রাতিষ্ঠানিক আর্কাইভ: দারুল উলূম দেওবন্দ (ভারত) এবং দারুল উলূম কানাইঘাট (সিলেট) এর শিক্ষা সমাপনী রেকর্ড ও শতবর্ষী স্মারক। ৫. সরকারি তথ্য বাতায়ন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কানাইঘাট উপজেলা পোর্টাল (প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব অনুচ্ছেদ)।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সালমান শাহ

নিউজ ডেস্ক

August 15, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: অপরাধ ও বিচার / চলচ্চিত্র অঙ্গন

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ০১:১৫ (বিএসটি)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ আদালত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘ ৩০ বছর পর হত্যা মামলায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ভোররাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন-কে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

পরবর্তীতে তাঁকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর বর্তমানে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছে সিআইডি।

১. মামলার চার্ট ও মূল আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ (পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হত্যা) ধারায় দায়ের করা এই হত্যা মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

                        [ সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের ভূমিকা ]
                                            │
         ┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
         ▼                                  ▼                                  ▼
[ মূল পরিকল্পনাকারী (Masterminds) ]      [ পেশাদার আঘাতকারী চক্র ]         [ আলামত লোপাট ও সহায়তা ]
• সামিরা হক (স্ত্রী)                • আশরাফুল হক ডন (৪ নম্বর আসামি)  • লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি/মধ্যস্থ)
• আজিজ মোহাম্মদ ভাই (ব্যবসায়ী)      • ডেভিড, জাভেদ ও ফারুক           • রাবেয়া সুলতানা রুবি (বিউটি পার্লার)
                                    • রেজভি আহমেদ ফরহাদ               • আব্দুস ছাত্তার ও সাজু

প্রধান প্রধান চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ:

  1. ১২ লাখ টাকার কিলিং কন্ট্রাক্ট: রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ও অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সামিরা হক যৌথভাবে ডন ও তার সহযোগীদের ১২ লাখ টাকার চুক্তি দিয়েছিলেন।
  2. আক্রোশ ও হোটেল সোনারগাঁও-এর ঘটনা: সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের পাশাপাশি মৃত্যুর কিছুদিন আগে সোনারগাঁও হোটেলের এক পার্টিতে সামিরাকে আড়ালে নেওয়ার চেষ্টা করলে সালমান প্রকাশ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে চড় মারেন। এর জেরেই তীব্র আক্রোশ তৈরি হয়।
  3. ক্লোরোফর্ম ও বিষাক্ত ইনজেকশন: ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ তারিখে সালমান শাহর বাসায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে খুনিরা প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে তাঁকে অচেতন করে এবং পরবর্তীতে বিশেষ বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
  4. আত্মহত্যার নাটক ও ফ্যানের সাথে ঝুলানো: মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সিলিং ফ্যানে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয় এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও পরিবারকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

২. আসামিদের অপরাধভিত্তিক ভূমিকার তুলনামূলক তালিকা

আসামি / পক্ষএজাহার অনুযায়ী ভূমিকাবর্তমান আইনি অবস্থা
আশরাফুল হক ডনশারীরিক শক্তি প্রয়োগ, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও আলামত নষ্টগ্রেফতার (৯ আগস্ট ২০২৬), জামিন না মঞ্জুর ও সিআইডি হেফাজতে
সামিরা হক ও আজিজ ভাইপ্রধান পরিকল্পনাকারী, চুক্তি প্রদান ও অনৈতিক আক্রোশদেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সিআইডির রেড অ্যালার্ট ও পলাতক
লতিফা হক লুসিজামাতার প্রতি পারিবারিক আক্রোশ থেকে পেশাদার খুনিদের সাথে চুক্তি মধ্যস্থতাপলাতক, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি
রাবেয়া সুলতানা রুবিহত্যা সংঘটনে সহায়তা, ঘরের ভেতর থেকে আলামত দ্রুত সরিয়ে ফেলাঅভিযুক্ত আসামি (সাবেক লাইভ ভিডিওতে খুনের দাবি করেছিলেন)
রেজভি, ডেভিড ও ফারুকজোরপূর্বক চেপে ধরা, বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ ও পাহারা দেওয়া১৬৪ ধারায় পূর্বে স্বীকারোক্তি ও আসামি

৩. সিআইডি (CID)-র বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া ও সময়রেখা

                            [ সিআইডির বর্তমান পদক্ষেপসমূহ ]
                                           │
         ┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
         ▼                                 ▼                                 ▼
[ ডনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ]          [ সীমান্তে রেড অ্যালার্ট ]             [ ৩০ আগস্টের ডেডলাইন ]
• জামিন নামঞ্জুরের পর ডনকে          • সামিরা ও আজিজ ভাইসহ বাকি          • আদালতের নির্দেশে আগামী ৩০ আগস্টের
  মুখোমুখি করে তথ্য যাচাই।           ১০ জনের দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা।     মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট পেশ।

৪. লন্ডন থেকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর ক্ষোভ ও দাবি

অভিনেতা ডন গ্রেফতারের খবরে লন্ডন থেকে গভীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী:

  • “প্রকৃতির নিয়মে ডন ধরা পড়েছে”: নীলা চৌধুরী বলেন, “সালমানকে আত্মহত্যা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডন আমার ছেলের মৃত্যুর পর তার নামে অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করেছিল, আজ স্রষ্টার বিচারে সে ধরা পড়েছে।”
  • সরকারের প্রতি আলটিমেটাম: ১৫ আগস্ট লন্ডনে ভক্তদের মানববন্ধনে যুক্ত হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ডন গ্রেফতার কেবল শুরু; সামিরা হক বা আজিজ মোহাম্মদ ভাই যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। তাঁরা পালালে তার পুরো দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে।
  • ৩০ আগস্ট নিরপেক্ষ চার্জশিটের দাবি: তিনি আকুতি জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে তিনি একমাত্র বিচারের আশায় বেঁচে আছেন। সিআইডি যেন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পেশ করে।

শেষ কথা:

১৯৯৭ সালের সিআইডি রিপোর্ট, ২০১৪ সালের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ২০২০ সালের পিবিআই রিপোর্ট—তিনটি সংস্থাই পূর্বে যেটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলে দাবি করেছিল, আদালত তা বাতিল করে মামলাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা মামলা’ (৩০২ ধারা) হিসেবে চালুর নির্দেশ দেওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ৩০ আগস্ট সিআইডি আদালতে কী রিপোর্ট পেশ করে, সেদিকেই এখন পুরো দেশের নজর।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শাহরুখ খান

নিউজ ডেস্ক

August 15, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বিনোদন / বিশেষ ফিচার

সম্পাদকীয় প্যানেল: কালচার ও এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ০১:০২ (বিএসটি)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ ফিচার: শূন্য হাতে শূন্য থেকে শুরু করে আজ বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম ধনীতম তারকা—শাহরুখ খান শুধু একটি নাম নন, একটি বৈশ্বিক অনুভূতি। তবে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় তাঁর পপুলারিটি ও গ্রহণযোগ্যতা যেন এক ভিন্ন মাত্রায় বিরাজ করে।

আজ আমরা আলোচনা করব কলকাতায় তাঁর অতিরিক্ত চাহিদার কারণ, তাঁর সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প, মোট সম্পত্তি এবং আগামী ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬ মুক্তি প্রতীক্ষিত মেগা প্রজেক্ট ‘কিং’ নিয়ে।

১. কলকাতায় অন্যান্য তারকার চেয়ে শাহরুখ কেন এত বেশি প্রিয়?

বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সাথে শাহরুখ খানের সম্পর্ক কেবল একজন হিন্দি সিনেমার নায়কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

                                [ কলকাতায় শাহরুখের রাজত্ব ]
                                              │
         ┌────────────────────────────────────┼────────────────────────────────────┐
         ▼                                    ▼                                    ▼
 [ KKR ও ফুটবলের শহর ]                  [ সাংস্কৃতিক দূত ]                    [ আবেগীয় বন্ধন ]
• কেকেআর-এর মাধ্যমে 'ঘরের ছেলে'       • পশ্চিমবঙ্গের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর       • বাংলায় কথা বলার আন্তরিক প্রচেষ্টা
• ইডেন গার্ডেন্সে তাঁর উপস্থিতি        • কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) মুখ   • দেবদাস চরিত্রে বাঙালি হৃদয়ে স্থান
  • আইপিএল ও কেকেআর (KKR): ২০০৮ সালে Kolkata Knight Riders-এর মালিকানা নেওয়ার পর থেকে শাহরুখ নিজেকে কলকাতার ব্র্যান্ডের সাথে একাত্ম করে ফেলেছেন।
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত মুখ: পশ্চিমবঙ্গের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এবং প্রতিবছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (KIFF) তাঁর উপস্থিতি বাঙালিদের কাছে পরম ভালোবাসার।
  • শ্রদ্ধা ও বিনয়: মঞ্চে প্রবীণ বাঙালি শিল্পীদের (যেমন অমিতাভ বচ্চন, রাখী গুলজার বা শর্মিলা ঠাকুর) পা ছুঁয়ে প্রণাম করা এবং ভাঙা ভাঙা বাংলায় ভালোবাসা ব্যক্ত করা তাঁকে সাধারণ মানুষের আপন করে তুলেছে।

২. শূন্য থেকে আন্তর্জাতিক বাদশা: অনুপ্রেরণামূলক জীবনসংগ্রাম

  • স্বজন হারানোর ট্র্যাজেডি: মাত্র ১৫ বছর বয়সে ক্যানসারে বাবাকে হারান এবং এর কিছুকাল পর মা লতিফ ফাতেমাকেও হারান।
  • ১,৫০০ টাকা নিয়ে মুম্বাই আগমন: পকেটে মাত্র ১৫০০ টাকা নিয়ে ভাগ্য অন্বেষণে মুম্বাই এসে পৌঁছান শাহরুখ। বন্ধুরা ও মুম্বাইয়ের সৈকতই ছিল তাঁর রাতের আশ্রয়।
  • অ্যান্টি-হিরো ঝুঁকি: নব্বইয়ের দশকে অন্য নায়কেরা যখন চকোলেট বয় ইমেজ ধরে রাখতে ব্যস্ত, শাহরুখ তখন ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’-এর মতো অ্যান্টি-হিরো চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্ব মাতান।

৩. একনজরে ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমা ও বক্স অফিস রেকর্ড

সিনেমাধরণ / ক্যাটাগরিবৈশ্বিক কালেকশনরোমাঞ্চকর অজানা তথ্য
দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (DDLJ)সর্বকালের সেরা ব্লকবাস্টার~৬১ কোটি রুপি (১৯৯৫)শাহরুখ প্রথমে ছবিতে রোমান্টিক হিরো হতে চাননি, ডিরেক্টর জোর করে মানিয়েছিলেন।
দেবদাসসাহিত্যনির্ভর ধ্রুপদী~১৬৮ কোটি রুপি (২০০২)মদ্যপ দেবদাসের দৃশ্য নিখুঁত করতে শাহরুখ সেটে আসলেও সত্যি সামান্য মদ খেতেন।
স্বদেশসমালোচক-প্রশংসিতআন্তর্জাতিক ব্যবসা সফলএটিই প্রথম ভারতীয় ছবি যা আমেরিকার NASA সদর দপ্তরের ভেতরে শুট করা হয়।
জওয়ানমেগা অ্যাকশন হিট১,১৬০ কোটি রুপি (২০২৩)শাহরুখের ন্যাড়া মাথার লুকটি স্ক্রিপ্টে ছিল না, অন-দ্য-স্পট মাথায় এসে শুট করা হয়।

৪. মন্নত ও সম্পদ সাম্রাজ্য: ২০২৬ সালের চিত্র

২০০ কোটি রুপি মূল্যের বিখ্যাত সমুদ্রমুখী প্রাসাদ ‘মন্নত’-এর অধিপতি শাহরুখ খান বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম ধনী তারকা।

                       [ ২০২৬ Hurun India Rich List অনুযায়ী ]
                                         │
        ┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
        ▼                                ▼                                ▼
   [ মোট সম্পদ ]                   [ উপার্জনের উৎস ]                  [ সন্তান ও লাক্সারি ]
• $১.৩ - $১.৪ বিলিয়ন             • প্রযোজনা (Red Chillies)        • সুহানা: Mercedes S-Class
  (প্রায় ১২,৪৯০ কোটি রুপি)        • KKR ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সিনেমা      • আরিয়ান: Mercedes AMG, BMW 7

ধর্মনিরপেক্ষ পারিবারিক পরিবেশ:

গৌরী খানের (বিবাহপূর্ব গৌরী ছিব্বর) সাথে ১৯৯১ সালে ঐতিহ্যবাহী বৈদিক হিন্দু মতে বিয়ে হয়। বিয়ের পরও গৌরী নিজের ধর্ম ত্যাগ করেননি। মন্নতে যেমন পবিত্র কোরআন স্থান পায়, তেমনই দুর্গা পূজা ও গণেশ চতুর্থী সমান মর্যাদায় পালিত হয়।

৫. ২০২৬-এর মেগা ধামাকা: ‘কিং’ (King)

চলতি ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত বলিউড সিনেমা হলো সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’

  • মুক্তির তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬ (ক্রিসমাস রিলিজ)।
  • বাজেট: প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি।
  • কাস্ট: শাহরুখ খান (গ্যাংস্টার ডন), সুহানা খান (শিষ্য), অভিষেক বচ্চন (মূল ভিলেন)। দীপিকা পাড়ুকোন ও রানী মুখার্জি ক্যামিও চরিত্রে থাকছেন।
  • বিশেষ আকর্ষণ: রিয়েল লাইফ বাবা-মেয়ে পর্দায় হাজির হচ্ছেন গুরু-শিষ্যের আন্ডারওয়ার্ল্ড চরিত্রে। ইউরোপের শুটিংয়ে প্রায় ৫০ কোটি রুপি খরচ করে আন্তর্জাতিক স্কেলের স্টান্ট অ্যাকশন করা হয়েছে।

শেষ কথা:

বলিউড থেকে বিশ্বমঞ্চ, আর কলকাতা থেকে সমগ্র বিশ্ব—শাহরুখ খানের প্রভাব কেবল তাঁর সিনেমা দিয়ে মাপা যায় না; বরং তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও পারিবারিক উদারতা তাঁকে এক চিরন্তন কিংবদন্তিতে রূপ দিয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বাঙালি বিজ্ঞানী

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রতিবেদক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ

বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানচিত্রে বাঙালি বিজ্ঞানীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বখ্যাত নামগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশে এমন কিছু উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী রয়েছেন, যাদের প্রাকৃতিক দূরদর্শিতা ও ল্যাবরেটরির আবিষ্কার বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে।

বিজ্ঞান চর্চাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এমন ৫ জন কৃতী ব্যক্তিত্বের বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ‘হরি ধান’-এর আসল উদ্ভাবক: কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালী (১৯২২ – ২০১৭)

পূর্বে অনেকের ধারণায় “ড. হরিপদ সরকার” নামে বিভ্রান্তি থাকলেও, অতি ফলনশীল ‘হরি ধান’-এর আসল উদ্ভাবক কোনো ডিগ্রিধারী ডক্টর ছিলেন না। তিনি ছিলেন ঝিনাইদহের সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের এক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন সাধারণ কৃষক।

আবিষ্কারের নেপথ্য ও বৈশিষ্ট্য:

  • প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection): ১৯৯২-১৯৯৬ সালের দিকে বিআর-১১ (BR-11) ধানের জমিতে একটি ব্যতিক্রমী ও শক্তিশালী ধানের গোছা লক্ষ্য করেন তিনি। সেই গোছার বীজ আলাদা করে সংরক্ষণ ও বপন করে তিনি এই নতুন জাতের বিকাশ ঘটান।
  • কম খরচে উচ্চ ফলন: এই ধানে সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগে এবং বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২২ মণ ফলন পাওয়া যায়।
  • জাতীয় স্বীকৃতি: তাঁর এই অবদান এখন ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়।

২. বৈজ্ঞানিক গবেষণার জনক’: ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা (১৯০০ – ১৯৭৭)

জৈব রসায়নবিদ, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (BCSIR) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. কুদরাত-এ-খুদা দেশের স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে শিল্পায়নের পথ দেখিয়েছিলেন।

যুগান্তকারী অবদানসমূহ:

  • পারটেক্স (Partex) ও বিকল্প জ্বালানি: পাটকাঠি থেকে শক্ত বোর্ড (Partex) এবং পাট থেকে বায়ো-ফুয়েল বা বিকল্প পেট্রোল তৈরির সফল সূত্র আবিষ্কার করেন।
  • তেলাকুচা থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ: দেশীয় ঔষধি গাছ ‘তেলাকুচা’ থেকে ১২টি আলাদা রাসায়নিক যৌগ পৃথক করেন।
  • কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭৪): স্বাধীন বাংলাদেশের ১ম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ১ম থেকে ৮ ১ম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ঐতিহাসিক সুপারিশ করেন।

৩. ‘পাটের জাদুকর’: ড. মোবারক আহমদ খান (জন্ম: ১৯৫৮)

বিজেএমসি (BJMC)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমদ খান পাট ও পলিমার কেমিস্ট্রির ওপর গবেষণা করে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ সমাধানের পথ দেখিয়েছেন।

                  [ ড. মোবারক আহমদ খানের প্রধান উদ্ভাবন ]
                                     │
     ┌───────────────────────────────┼───────────────────────────────┐
     ▼                               ▼                               ▼
 [ সোনালী ব্যাগ ]               [ জুটিন (Jutin) ]            [ পাটের হেলমেট ও টাইলস ]
• পলিথিনের পচনশীল বিকল্প        • পারটেক্সের মতোই মজবুত        • মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য
• মাটিতে ৩-৪ মাসে মিশে যায়      হালকা ও মরিচারোধী টিন          হালকা ও বুলেটপ্রুফ কভার

৪. ‘সনো ফিল্টার’ ও আর্সেনিক মুক্তি: ড. আবুল হুসাম

কুষ্টিয়ার সন্তান অধ্যাপক ড. আবুল হুসাম ভূগর্ভস্থ পানির বিষাক্ত আর্সেনিক দূর করার জন্য ‘সনো ফিল্টার’ (SONO Filter) উদ্ভাবন করেন।

  • বৈশ্বিক প্রভাব: অত্যন্ত কম খরচে তৈরি এই ফিল্টারটি লাখ লাখ মানুষকে আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানি থেকে রক্ষা করেছে।
  • আন্তর্জাতিক সম্মাননা: এই উদ্ভাবনের জন্য ২০০৭ সালে জাতীয় প্রকৌশল একাডেমি তাঁকে বিশ্বখ্যাত ‘গ্রেঞ্জার চ্যালেঞ্জ প্রাইজ’ ($1 Million) প্রদান করে।

৫. পেঁপে ও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন: ড. মাকসুদুল আলম (১৯৫৪ – ২০১৪)

ফরিদপুরের সন্তান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অণুজীব বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জীবনরহস্য উন্মোচনে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

  • ঐতিহাসিক সাফল্য: তিনি পরপর পেঁপে, রাবার এবং বাংলাদেশের প্রাণ ‘তোষা ও সাদা পাট’-এর জেনোম সিকোয়েন্স (Genome Sequence) সফলভাবে আবিষ্কার করেন।
  • কৃষি খাতে প্রভাব: এর ফলে রোগপ্রতিরোধী এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার মতো পাটের নতুন জাত উদ্ভাবনের পথ উন্মুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  1. বিসিএসআইআর অফিশিয়াল পেপার্স: ড. কুদরাত-এ-খুদার পেটেন্ট ও গবেষণা আর্কাইভ
  2. কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS): কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালীর উদ্ভাবন ও হরি ধানের ব্যাকগ্রাউন্ড
  3. ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং (USA): ড. আবুল হুসামের সনো ফিল্টার ও গ্রেঞ্জার প্রাইজ রিকগনিশন
  4. বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (BJMC): ড. মোবারক আহমদ খানের সোনালী ব্যাগ প্রজেক্ট ফাইল

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ