ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন
পর্যালোচনা ও সম্পাদনা: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্প্রতি পদত্যাগের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের শূন্য পদটি পূরণে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করার পর বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে কাকে নির্বাচন করা হবে—তা এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সংসদীয় সেশন চলাকালীন জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, দলীয় বলয়ের বাইরে অরাজনৈতিক ব্যক্তিতে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে; বরং বিএনপির সর্বোচ্চ নীতীনিরূপক পর্ষদ ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটির’ জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের মধ্য থেকেই চূড়ান্ত রাষ্ট্রপতি মনোনীত হতে যাচ্ছেন।
আলোচনার শীর্ষ প্রার্থীরা: ব্যাকগ্রাউন্ড ও স্ট্র্যাটেজিক এনালাইসিস
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ রাষ্ট্রপতি পদের শীর্ষ প্রাবল্য বিশ্লেষণ │
├──────────────────────────┬─────────────────────────────┬────────────────────────────────┤
│ প্রার্থী │ পদবী/ভূমিকা │ মূল রাজনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি │
├──────────────────────────┼─────────────────────────────┼────────────────────────────────┤
│ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর │ মহাসচিব ও মন্ত্রী (LGRD) │ সর্বজনগ্রাহ্য ভাবমূর্তি, কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা │
│ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন │ প্রবীণতম জ্যেষ্ঠ সদস্য (স্থায়ী) │ সংসদীয় অভিজ্ঞতা, বিশ্বমানের স্কলারশীপ │
│ ড. আবদুল মঈন খান │ স্থায়ী কমিটির সদস্য │ আন্তর্জাতিক ডিপ্লোমেসি ও ক্লিন ইমেজ │
│ নজরুল ইসলাম খান │ প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা │ শ্রমিক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (ILO)│
└──────────────────────────┴─────────────────────────────┴────────────────────────────────┘
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনীতিবিদ এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব। বর্তমানে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমিতে গঠিত সরকারে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার মার্জিত ভাষা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য দলমত নির্বিশেষে সমাদৃত।
১. পারিবারিক ও শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড
- জন্ম ও পরিবার: তিনি ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বাংলাদেশের ২য় জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সাবেক আইনমন্ত্রী।
- শিক্ষা: তিনি ঢাকার নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।
২. পেশাগত জীবন ও শিক্ষকতা
রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার আগে তিনি মূলত শিক্ষাকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন:
- অর্থনীতির প্রভাষক: ১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে সুনামের সাথে অধ্যাপনা করেন।
- সরকারি কর্মকর্তা: ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
৩. ছাত্র রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
- ছাত্র রাজনীতি: ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (ইপিএসইউ) এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অন্যতম সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
৪. রাজনৈতিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পর্যায়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন:
- তৃণমূল জনপ্রতিনিধি: ১৯৮৮ সালে তিনি কোনো দলীয় ব্যানার ছাড়াই ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি হন।
- সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী (২০০১-২০০৬): ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত তৎকালীন সরকারে তিনি প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বিএনপির মহাসচিব (২০১১-বর্তমান): ২০০৯ সালে বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি দলের ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হন এবং ২০১৬ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির ৮ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, যা তিনি এখনো পালন করছেন।
- সংগ্রাম ও কারাবরণ: গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি অন্তত ১০ বার কারাবরণ করেন।
- বর্তমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব (২০২৬): সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির এই বর্ষীয়ান ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তার জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া এবং সরকারি স্থানীয় সরকার বিভাগ-এর পোর্টাল দেখতে পারেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠতম সদস্য। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তার ব্যাকগ্রাউন্ড, কর্মজীবন এবং রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. পারিবারিক ও শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড
- জন্ম ও পরিবার: তিনি ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খন্দকার আশরাফ আলী এবং মাতা হোসনে আরা হাসনা হেনা।
- উচ্চশিক্ষা: তিনি ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব (Geology) বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং ১৯৭০ সালে লন্ডনের খ্যাতনামা ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি এমএসসি এবং ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি লাভ করেন।
২. পেশাগত জীবন ও শিক্ষাবিদ ভূমিকা
জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক: ১৯৭৫ সালে দেশে ফিরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি এই বিভাগের অধ্যাপক হন এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিভাগীয় চেয়ারম্যান (Chairman) হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
- গবেষক ও লেখক: ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান এবং দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তার বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একাধিক বইয়ের রচয়িতা।
৩. ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ড. মোশাররফ লন্ডনে উচ্চশিক্ষারত ছিলেন। সেখানে প্রবাসীদের সংগঠিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন, তহবিল সংগ্রহ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে তিনি অত্যন্ত অগ্রণী ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
৪. রাজনৈতিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন:
- সংসদ সদস্য (৫ বার): তিনি কুমিল্লা-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- সফল মন্ত্রী (বিভিন্ন মেয়াদে): ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০Role মেয়াদে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ভাবমূর্তি (WHO): স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৩ সালে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ৫৬তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে তামাকবিরোধী আইন প্রণয়ন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করে।
- সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনা (২০২৬): ২০২৬ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে প্রবীণতম ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি বা চেয়ার হিসেবে অধিবেশন পরিচালনা করেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দলমত নির্বিশেষে একজন অত্যন্ত মার্জিত, সুশিক্ষিত ও ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তার বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া-এর মূল নিবন্ধটি পড়তে পারেন। [
ড. আবদুল মঈন খান

ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ট সদস্য। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, উচ্চশিক্ষা এবং মৃদুভাষী সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে দলমত নির্বিশেষে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সম্প্রতি দেশের পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম অন্যতম প্রধান প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, শিক্ষাজীবন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. পারিবারিক ও শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড
- জন্ম ও পরিবার: তিনি ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদী জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবদুল মোমেন খান ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা (সচিব) এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান সরকারের অত্যন্ত সফল খাদ্যমন্ত্রী। বাবার হাত ধরেই মূলত মঈন খানের রাজনীতিতে আগমন ঘটে।
- উচ্চশিক্ষা: তিনি ঢাকার বিখ্যাত নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখানের নামকরা ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স (University of Sussex) থেকে পদার্থবিজ্ঞান (Physics) বিষয়ে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পিএইচডি (D.Phil) ডিগ্রি অর্জন করেন।
২. পেশাগত জীবন ও শিক্ষাবিদ ভূমিকা
রাজনীতিতে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত হওয়ার আগে ড. মঈন খান একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা ও বিজ্ঞান চর্চায় অবদান রাখেন।
৩. রাজনৈতিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
তিনি নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো পালন করেছেন:
- সফল মন্ত্রী (বিভিন্ন মেয়াদে): ১৯৯৩-১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০২ মেয়াদে তথ্যমন্ত্রী এবং ২০০২-২০০৬ মেয়াদে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নে নবগঠিত বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
- বিএনপির কূটনৈতিক উইং পরিচালনা: ড. মঈন খান বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকদের সাথে দলের নীতি ও আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছেন।
- দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য: ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র সদস্য মনোনীত হন। গত দেড় দশকে বিএনপির রাজপথের আন্দোলন এবং দলের বৈরী পরিস্থিতিতে তিনি সবসময় সামনের সারিতে থেকে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ড. আবদুল মঈন খানকে বিএনপির একজন অত্যন্ত সৎ ও প্রজ্ঞাবান ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্রপতি পদের পাশাপাশি নতুন সরকারের সংসদীয় স্পিকার হিসেবেও তার নাম দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন।
নজরুল ইসলাম খান

নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃণমূল ও শ্রমিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা একজন অত্যন্ত ত্যাগী, বিশ্বস্ত এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য। বর্তমানে দেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিএনপির পক্ষ থেকে পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদের তালিকায় তার নামটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও আদি নিবাস
- জন্ম ও পরিবার: নজরুল ইসলাম খান জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনধারা: তিনি দলের ভেতর ও বাইরে অত্যন্ত সহজ-সরল, সাদামাটা জীবনযাপন এবং সুদৃঢ় দেশপ্রেমের জন্য ‘সাদামাটা ক্লিন ইমেজ’-এর নেতা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
২. শ্রমিক রাজনীতি ও অধিকার আদায়ে ভূমিকা
অন্যান্য অনেক শীর্ষ নেতার মতো তিনি উচ্চ প্রশাসনিক বা পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে আসেননি, বরং তার উত্থান সরাসরি মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে:
- শ্রমিক দল গঠন: তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গ সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে শ্রমিকবান্ধব শিল্প পরিবেশ ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ে তার অবদান অনস্বীকার্য।
- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব (ILO): আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে তিনি বাংলাদেশের শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকারের পক্ষে অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
৩. বিএনপির রাজনীতি ও সর্বোচ্চ বিশ্বস্ততা
তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই দলের আদর্শের সাথে যুক্ত। দলের প্রতিটি দুঃসময়ে তার ভূমিকা ছিল অনন্য:
- স্থায়ী কমিটির সদস্য: দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র সদস্য মনোনীত করা হয়।
- নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান (২০২৬): ২০২৬ সালের ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানতম দায়িত্ব পালন করেন। দেশজুড়ে দলীয় প্রার্থীদের সমন্বয় ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- সংস্কারের প্রবক্তা: বিএনপির বহুল আলোচিত রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা প্রণয়নে তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।
৪. বর্তমান রাষ্ট্রীয় ভূমিকা (২০২৬)
২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম প্রধান সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি কাজ করছেন:
- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা: তিনি বর্তমানে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং একই সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা রাখছেন।
- কূটনৈতিক সমন্বয়: দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন বিদেশী কূটনীতিকদের আগমন এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তদারকির পুরো ব্যবস্থাটি তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন।
নজরুল ইসলাম খানকে বিএনপির রাজনীতির অন্যতম ‘সংকটের কাণ্ডারি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সাথে গভীর সংযোগের কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। তার জীবনী সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন।
অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বনাম দলীয় বলয়ের সমীকরণ
যদিও রাজনৈতিক মহলে প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. নাসিমুল গনি (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) এবং নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ্-র নাম আলোচনায় ভেসে উঠেছে; তবে দলীয় দায়িত্বশীল সূত্রসমূহ নিশ্চিত করেছে যে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একজন পোড় খাওয়া ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি পছন্দ করছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক পথরেখা
সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের অভিভাবক বেছে নেওয়ার আইনি ধাপগুলো নিম্নরূপ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ধাপসমূহ │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ১. দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামে (স্থায়ী কমিটি) আলোচনা ও মতামত সংগ্রহ │
│ ─────────────────────────────────────────────────────────────────────── │
│ ২. প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই │
│ ─────────────────────────────────────────────────────────────────────── │
│ ৩. নির্বাচন কমিশন (EC) কর্তৃক তফসিল ঘোষণা ও মনোনয়নপত্র দাখিল │
│ ─────────────────────────────────────────────────────────────────────── │
│ ৪. সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের খোলা/গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
- চূড়ান্ত সংকেত: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট করেছেন যে, স্থায়ী কমিটির মতামত এবং সংসদীয় দলের সম্মতি নিয়ে মূল প্রার্থীর নাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই চূড়ান্ত করে ঘোষণা করবেন।
- সংসদে ভোটাভুটি: যেহেতু বিএনপি একক দল হিসেবে ১৩তম জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় রয়েছে, তাই দলের মনোনীত প্রার্থীই কার্যত জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন।
পরিশেষ: পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সর্বজনগ্রাহ্য রাষ্ট্রনৈতিক ব্যক্তিত্ব অথবা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিশ্বমানের একাডেমিক অভিজ্ঞতা—এই দুজনের মধ্য থেকেই কেউ একজন হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সেপ্টেম্বর সেশনেই মিলবে বঙ্গভবনের নতুন অধ্যায়ের চূড়ান্ত উত্তর।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ।
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
- আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি।
২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন।

- আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া।
৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল।
- আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে।
নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা।
আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে।
৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।”
এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ।
একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা।
বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো।
১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো:
- মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা।
৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)।
- রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন।
- হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



