আন্তর্জাতিক

ট্যাটু কি সত্যিই কোথাও নিষিদ্ধ? জেনে নিন বিশ্বজুড়ে ট্যাটু সংস্কৃতির আইনি ও সামাজিক বাস্তবতা
বিশ্বজুড়ে ট্যাটু সংস্কৃতির আইনি বাস্তবতা

নিউজ ডেস্ক

April 29, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ট্যাটু বা উল্কি আঁকা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি জনপ্রিয় ফ্যাশন। তবে বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার আগে আপনার শরীরের এই শিল্পকর্মটি কোনো দেশে আপনার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে কি না, তা জানা জরুরি। সাধারণভাবে ‘ট্যাটু করা সরাসরি নিষিদ্ধ’ এমন কোনো দেশ না থাকলেও, বেশ কিছু দেশে এর ওপর ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিধিনিষেধ রয়েছে।

১. থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা: বুদ্ধের ট্যাটুতে সতর্কতা

শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডে ট্যাটু নিষিদ্ধ নয়। তবে যেহেতু এই দেশগুলোর সিংহভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, তাই শরীরে গৌতম বুদ্ধের ছবি ট্যাটু করাকে তারা চরম অবমাননাকর মনে করে। ২০১৪ সালে ব্রিটিশ পর্যটক নাওমি কোলম্যানকে শরীরে বুদ্ধের ট্যাটু থাকার কারণে শ্রীলঙ্কা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আইনত ট্যাটু নিষিদ্ধ না হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে আপনি বড় আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

২. ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য: আইন বনাম ধর্মীয় বাধা

ইরান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্যাটু করা আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে ইরানে ফুটবলার আশকান দেজাগাহ যখন ট্যাটু প্রদর্শনের জন্য সমালোচিত হন, তখন বিষয়টি বিশ্ব গণমাধ্যমে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে (সৌদি আরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া) ট্যাটু আইনত বৈধ হলেও সামাজিকভাবে একে ভালো নজরে দেখা হয় না। বিশেষ করে অশ্লীল ছবি বা পবিত্র কোনো ধর্মগ্রন্থের আয়াত ট্যাটু করানো সেখানে বিপজ্জনক হতে পারে।

৩. উত্তর কোরিয়া: রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন

কিম জং উনের দেশে ট্যাটু করানো যায়, তবে সেখানে আপনার পছন্দ নয়, বরং রাষ্ট্রের পছন্দই শেষ কথা। কিম পরিবার বা সাম্যবাদী দলের গুণকীর্তনমূলক ট্যাটু করাতে কোনো বাধা নেই। তবে ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ প্রতীকের ট্যাটু করাতে গেলে আপনাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

৪. জাপান: সামাজিক বয়কটের ভয়

জাপানে ট্যাটু করা বৈধ। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে জাপানি অপরাধী চক্র ‘ইয়াকুজা’র সদস্যরা সারা শরীরে ট্যাটু করায়, সাধারণ জাপানিরা একে ভয়ের চোখে দেখে। এ কারণে জাপানের অনেক পাবলিক বাথ (অন্সন), জিম বা পুলে ট্যাটু থাকলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং একটি সামাজিক রীতি।

৫. দক্ষিণ কোরিয়া: কেবল ডাক্তাররাই শিল্পী

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনটি বেশ অদ্ভুত। সেখানে ট্যাটু করা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু ট্যাটু আর্টিস্ট হওয়া কঠিন। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনায় সেখানে কেবল সনদপ্রাপ্ত ডাক্তারদেরই ট্যাটু করার অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণ আর্ট স্টুডিওতে ট্যাটু করানো সেখানে অনেক সময় ‘অবৈধ চিকিৎসা সেবা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

৬. অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস: বয়সের কড়াকড়ি

উন্নত দেশগুলোতে মূলত বয়সের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া বা নেদারল্যান্ডসে ১৮ বছরের নিচে কারো ট্যাটু করাতে চাইলে বাবা-মায়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ১৮ বছর হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো বিধিনিষেধ নেই।

৭. চীন ও জার্মানি: রাজনৈতিক প্রতীকে নিষেধাজ্ঞা

জার্মানি বা ফ্রান্সে নাৎসিদের কোনো প্রতীক (যেমন: স্বস্তিকা) ট্যাটু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। চীনেও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বা ধর্মীয় কোনো ট্যাটু করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ কাজ করে।


উপসংহার: ট্যাটু করানোর আগে সেই দেশের স্থানীয় সংস্কৃতি ও আইন সম্পর্কে অবগত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্যাটু আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও, তা যেন অন্য কারো ধর্মীয় বা জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানে—সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, ডয়চে ভেলে (DW), কোরা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশিকা। তারিখ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রুস লি

নিউজ ডেস্ক

April 29, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মার্শাল আর্ট শব্দটি শুনলেই বিশ্বজুড়ে যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন ব্রুস লি (Bruce Lee)। তিনি কেবল একজন অভিনেতা বা ফাইটার ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, লেখক এবং আধুনিক ফিটনেস বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক। মাত্র ৩২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি বিশ্বকে যা দিয়ে গেছেন, তা আজও কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস।

১. জন্ম ও শৈশব: হংকং থেকে আমেরিকার যাত্রা

ব্রুস লির জন্ম ২৭ নভেম্বর ১৯৪০ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে, ড্রাগন বছরে এবং ড্রাগন ঘন্টায়। তার বাবা ছিলেন একজন অপেরা শিল্পী। জন্মের কয়েক মাস পর তারা হংকংয়ে ফিরে যান। হংকংয়ের রাস্তায় বেড়ে ওঠার সময় তিনি প্রায়ই মারামারি বা গ্যাং ফাইটে জড়িয়ে পড়তেন। এই বিশৃঙ্খল জীবন থেকে নিজেকে বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষা শিখতে তিনি কিংবদন্তি ওস্তাদ আইপি ম্যান (Ip Man)-এর কাছে ‘উইং চুন’ (Wing Chun) শেখা শুরু করেন।

১৮ বছর বয়সে ব্রুস লি পুনরায় আমেরিকা ফিরে আসেন এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে (Philosophy) পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে তিনি কেবল মার্শাল আর্ট শেখানোই শুরু করেননি, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে যুদ্ধের কৌশলকে মিলিয়ে এক অনন্য দর্শন তৈরি করেন।

২. ‘জিত কুনে দো’ (Jeet Kune Do): প্রথা ভাঙার দর্শন

ব্রুস লি প্রচলিত মার্শাল আর্টের কঠিন এবং অকেজো নিয়মগুলো পছন্দ করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, লড়াই হওয়া উচিত পানির মতো—সহজ এবং অভিযোজনযোগ্য। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার নিজস্ব শৈলী ‘জিত কুনে দো’। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল:

“Be water, my friend. Empty your mind, be formless, shapeless — like water.”

তিনি বিশ্বাস করতেন, যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচ নেই। পরিস্থিতির সাথে নিজেকে বদলে ফেলাই হলো প্রকৃত যোদ্ধার পরিচয়।

৩. কিংবদন্তি হয়ে ওঠা: হলিউড এবং হংকং

হলিউডে ‘দ্য গ্রিন হর্নেট’ সিরিয়ালে কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন এশিয়ানদের জন্য সেখানে মূল চরিত্রে সুযোগ কম। এরপর তিনি হংকং ফিরে গিয়ে ‘দ্য বিগ বস’, ‘ফিস্ট অফ ফিউরি’ এবং ‘দ্য ওয়ে অফ দ্য ড্রাগন’ সিনেমাগুলো করেন। তার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতা এবং অ্যাকশন স্টাইল সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার শেষ এবং সবচেয়ে সফল সিনেমা ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ মুক্তির মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

৪. রহস্যময় মৃত্যু: ‘সেরিব্রাল এডিমা’ না অন্য কিছু?

২০ জুলাই ১৯৭৩ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে ব্রুস লির মৃত্যু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, তার মৃত্যুর কারণ ছিল ‘সেরিব্রাল এডিমা’ (মস্তিষ্কে অতিরিক্ত পানি জমে ফুলে যাওয়া)। তবে তার মৃত্যু নিয়ে আজও অনেক রহস্য রয়েছে। কেউ মনে করেন অতিরিক্ত পরিশ্রম, কেউ বলেন ড্রাগ রিয়েকশন, আবার অনেক ভক্ত মনে করেন এটি ছিল কোনো ষড়যন্ত্র। তবে তার আকস্মিক বিদায় মার্শাল আর্টের ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।

৫. ব্রুস লির দর্শনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: নিউরোপ্লাস্টিসিটি

ব্রুস লির একটি বিখ্যাত স্লোগান ছিল—“He was right”। ব্রুস লি বিশ্বাস করতেন, জীবন বদলাতে শুধু পরিকল্পনা নয়, দরকার প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের ধারাবাহিকতা। আধুনিক নিউরোসায়েন্স একে বলে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity)

  • মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন: বিজ্ঞান বলে, আমরা যখন প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ (যেমন পাঞ্চিং প্র্যাকটিস বা পড়াশোনা) করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে নতুন ‘নিউরাল পাথওয়ে’ তৈরি হয়।
  • দক্ষতা অর্জন: ব্রুস লি বলেছিলেন, “আমি সেই ব্যক্তিকে ভয় পাই না যে ১০ হাজার কিক একবার অনুশীলন করেছে, আমি তাকে ভয় পাই যে একটি কিক ১০ হাজার বার অনুশীলন করেছে।” এটিই নিউরোসায়েন্সের ভাষায় ‘মাসল মেমোরি’ এবং নিউরাল কানেকশন মজবুত করার শ্রেষ্ঠ উপায়।

৬. ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে ব্রুস লির প্রাসঙ্গিকতা

আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে এবং স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন হচ্ছে, তখন ব্রুস লির ‘গতিশীল থাকা’ (In Motion) দর্শন অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত জীবনে কর্মতৎপরতা এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা—উভয়ই ব্রুস লির সততার দর্শনের সাথে মিলে যায়।

উপসংহার

ব্রুস লি খুব অল্প সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি প্রমান করে গেছেন যে আপনার জীবনের মান নির্ভর করে আপনি প্রতিদিন বাস্তবে কী কাজ করছেন তার ওপর। তিনি আজ কেবল একজন মার্শাল আর্টিস্ট নন, বরং সফলতার একটি বৈজ্ঞানিক ফর্মুলা।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ভণ্ড নবীর বংশধর

নিউজ ডেস্ক

April 28, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed

বিভাগ: ইতিহাস / আন্তর্জাতিক

উৎস: ঐতিহাসিক নথি ও আরব বিশ্ব বিশ্লেষণ

আরব মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশিতে মিশে আছে এক হাজার বছরের এক মহাকাব্যিক উত্থানের গল্প। যে গোত্রটি ইসলামের ইতিহাসের শুরুতে ভণ্ড নবী মুসাইলামার কারণে ইতিহাসের পাতা থেকে প্রায় মুছে গিয়েছিল, সেই ‘বনু হানিফা’ গোত্রই এক শতাব্দী পর আরবের ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠবে—তা ছিল অকল্পনীয়।

১. ইয়ামামার যুদ্ধ এবং বনু হানিফার পতন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিদ্রোহ দেখা দেয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ভণ্ড নবী মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের নেতৃত্বাধীন বনু হানিফা গোত্র। ৬৩২ সালের ডিসেম্বরে ইয়ামামার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) মুসাইলামাকে পরাজিত করেন। এই পরাজয় বনু হানিফা গোত্রকে এতটাই কোণঠাসা করে দেয় যে, পরবর্তী এক হাজার বছর তাদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব ছিল না।

২. এক হাজার বছর পর পুনরুত্থান: মুহাম্মদ বিন সৌদ

১৬৮৭ সালে জন্ম নেওয়া মুহাম্মদ বিন সৌদ দিরিয়াহর আমির হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিহাসের মোড় ঘুরতে শুরু করে। ১৭২৭ সালে তিনি যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন আরব ভূমি ছিল উসমানীয় সালতানাতের অধীনে। তবে দুর্গম নাজদ অঞ্চলের দিরিয়াহ ছিল তুলনামূলক স্বাধীন।

৩. দুই ‘মুহাম্মদ’-এর ঐতিহাসিক জোট: ১৭৪৪ সালের দিরিয়াহ চুক্তি

সৌদি রাজবংশের প্রকৃত ক্ষমতার যাত্রা শুরু হয় ১৭৪৪ সালে এক ঐতিহাসিক জোটের মাধ্যমে। তৎকালীন ধর্মীয় সংস্কারক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব উসমানীয় শাসকদের হাত থেকে বাঁচতে দিরিয়াহতে আশ্রয় নেন।

আমির মুহাম্মদ বিন সৌদ তাকে শুধু আশ্রয়ই দিলেন না, বরং একটি অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন যা ‘দিরিয়াহ চুক্তি’ নামে পরিচিত। চুক্তির শর্ত ছিল পরিষ্কার:

  • প্রশাসনিক ও সামরিক নেতৃত্ব: থাকবে সৌদি রাজবংশের হাতে।
  • ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন: পরিচালিত হবে ওয়াহাবি ধারার ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী।

এই দুই পরিবারের বন্ধনকে আরও মজবুত করতে মুহাম্মদ বিন সৌদ তাঁর পুত্রের সঙ্গে আবদুল ওয়াহাবের কন্যার বিয়ে দেন। তৈরি হয় এক অবিনাশী ‘ধর্মীয়-সামরিক’ জোট।

৪. প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের ভিত্তি

দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই নতুন শাসনব্যবস্থাই ছিল ‘প্রথম সৌদি রাষ্ট্র’। উসমানীয়দের হানাফি ও সুফি ঘরানার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা আরবের মরুভূমিতে এক কড়া ধর্মীয় শাসনের প্রবর্তন করে। এই জোটই আধুনিক সৌদি আরবের সেই ভিত্তিপ্রস্তর, যা আজও রিয়াদ থেকে মক্কা-মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিডিএস ডিজিটাল অ্যানালাইসিস

সৌদি আরবের ইতিহাস কেবল তেলের নয়, বরং এটি একটি গোত্রীয় পুনরুত্থান এবং আদর্শিক জোটের ইতিহাস। বনু হানিফা গোত্রের এই ফিরে আসা প্রমাণ করে যে, সঠিক কৌশল এবং আদর্শের মিল থাকলে ধুলোয় মিশে যাওয়া জাতিও বিশ্ব শাসন করতে পারে। আজকের রিয়াদ থেকে যে রাজবংশ বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে, তার শেকড় প্রোথিত আছে সেই ১৭৪৪ সালের দিরিয়াহর ছোট্ট একটি মাটির কুঁড়েঘরে হওয়া চুক্তিতে।


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন সেই ১৭৪৪ সালের ‘ধর্মীয়-রাজনৈতিক’ জোটই সৌদি আরবের বর্তমান স্থিতিশীলতার প্রধান কারণ? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

গাদ্দাফি

নিউজ ডেস্ক

April 27, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: আন্তর্জাতিক / বিশেষ প্রতিবেদন

উৎস: (উইকিলিকস ও জিও-পলিটিক্যাল আর্কাইভ অবলম্বনে)

ইতিহাস বিজয়ীরা লেখে, কিন্তু সত্য লুকিয়ে থাকে ফাঁস হওয়া নথিতে। ২০১১ সালের ২রা এপ্রিল হিলারি ক্লিনটনের উপদেষ্টা সিডনি ব্লুমেনথালের সেই ই-মেইলটি আজ যেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘ক্রাইম ডকুমেন্ট’। সেখানে পরিষ্কার লেখা ছিল—লিবিয়া আক্রমণের মূল কারণ লিবিয়ার গণতন্ত্র বা বাকস্বাধীনতা ছিল না, বরং ছিল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ভল্টে থাকা ১৪৩ টন সোনা

১. ‘গোল্ড দিনার’ ও ডলারের একাধিপত্যে আঘাত

গাদ্দাফি স্বপ্ন দেখতেন ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আফ্রিকা’র। তিনি চেয়েছিলেন আফ্রিকান দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রা ‘গোল্ড দিনার’ চালু করতে, যাতে তেল-গ্যাস কেনাবেচায় মার্কিন ডলারের মুখাপেক্ষী হতে না হয়। এটি ছিল নব্য উপনিবেশবাদের মূলে কুঠারাঘাত। আজও আফ্রিকার ১৪টি দেশের জিডিপির সিংহভাগ অর্থ ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়—গাদ্দাফি এই ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক দাসত্বের শিকল ভাঙতে চেয়েছিলেন বলেই তিনি পশ্চিমাদের এক নম্বর টার্গেটে পরিণত হন।

২. বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য: যখন পানি ছিল ফ্রি!

গাদ্দাফির সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রজেক্ট ছিল ‘গ্রেট ম্যান-মেড রিভার’ (GMR)। সাহারা মরুভূমির নিচ থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন ৬৫ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি সরবরাহ করতেন। লিবিয়ার নাগরিকদের পানির জন্য কোনো বিল দিতে হতো না। পশ্চিমা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর ‘পানির ব্যবসা’র জন্য এটি ছিল এক বিরাট হুমকি।

৩. লিবিয়ার সেই সমৃদ্ধি বনাম বর্তমান ধ্বংসস্তূপ

  • নবদম্পতিকে অনুদান: ঘর গোছানোর জন্য দেওয়া হতো ৫০ হাজার ডলার।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: লিবিয়ার শিক্ষার হার ছিল আফ্রিকার সর্বোচ্চ এবং চিকিৎসা ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি।
  • ডিজিটাল মুক্তি: ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ‘র‍্যাসকম’ (RASCOM) স্যাটেলাইট বানিয়ে পুরো আফ্রিকাকে ইউরোপের স্যাটেলাইট ভাড়ার বোঝা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন গাদ্দাফি।

৪. সাদ্দাম থেকে বাশার আল-আসাদ: একই গল্পের পুনরাবৃত্তি

সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করা হলো ‘গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের’ মিথ্যা অজুহাতে, যা পরে মার্কিন সিনেট রিপোর্টেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের চেষ্টা করা হলো কারণ তিনি কাতার থেকে ইউরোপ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন বসাতে ‘না’ বলেছিলেন। ২০২৬-এর এই সময়ে এসে যখন আমরা খামেনিকে হত্যার খবর শুনি, তখন সেই একই পুরনো ‘পরমাণু বোমা’র ধুয়া তোলা হয়। আসলে সত্য হলো সম্পদ দখল আর ডলারের সাম্রাজ্য রক্ষা করা।


পাশ্চাত্যের প্রক্সি ওয়ার ও টার্গেট লিস্ট (এক নজরে)

নেতা / দেশঅজুহাত (ফ্রন্ট পেজ)আসল কারণ (লুকানো সত্য)
সাদ্দাম হোসেন (ইরাক)গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র (WMD)।তেলের নিয়ন্ত্রণ ও ডলার বর্জন।
মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া)মানবাধিকার লঙ্ঘন।১৪৩ টন সোনা ও ‘গোল্ড দিনার’।
বাশার আল-আসাদ (সিরিয়া)শিয়া-সুন্নি সংঘাত।কাতার-ইউরোপ গ্যাস পাইপলাইন।
ইরান (বর্তমান)পারমাণবিক বোমা।আঞ্চলিক আধিপত্য ও খনিজ সম্পদ।

বিডিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যানালাইসিস (Editorial Insight)

ধর্ম, মানবাধিকার বা পরমাণু বোমা—এগুলো স্রেফ ফ্রন্ট পেজ স্টোরি। ভেতরের আসল সত্য হলো পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ আর ডলারের একাধিপত্য। আজ আমরা যখন সাম্প্রদায়িক ফতোয়া বা ছোটখাটো ধর্মীয় ইস্যুতে বিভেদ তৈরি করছি, ঠিক সেই সুযোগেই বড় বড় শক্তিগুলো লাশের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি আসলেই বড় সত্যগুলো দেখতে পাচ্ছি, নাকি ‘ফতোয়া’র বেড়াজালে আসল অপরাধীদের আড়াল করে দিচ্ছি?


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: লিবিয়া বা ইরাকের বর্তমান অবস্থা দেখে কি আপনার মনে হয় তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ সেখানে শান্তি এনেছে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ