অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ইকোনমিক রিপোর্ট
প্রতিনিধি/বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল প্রকল্প হলো পদ্মা বহুমুখী সেতু এবং এর সাথে যুক্ত পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (PBRLP)। এটি কেবল নদীর এপার-ওপারকে যুক্ত করেনি, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে যুক্ত করে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক রূপান্তর এনেছে।
১. উচ্চ বাজেট: কেন এই বিপুল ব্যয়?

পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০,৭৭০ কোটি টাকা (৩.০৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি)। প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় ব্যয়ের বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- নকশায় যুগান্তকারী পরিবর্তন: শুরুতে শুধু একক স্তরের সড়ক সেতুর পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে এটিকে দ্বিতল বিশিষ্ট (উপরে ৪ লেনের সড়ক এবং নিচে সিঙ্গেল ট্র্যাকিং রেল) বহুমুখী সেতুতে রূপান্তর করা হয়।
- বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নদীশাসন: খরস্রোতা প্রমত্তা পদ্মার দিক পরিবর্তন ও তীব্র ভাঙন সামলাতে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার শুধু নদীশাসন ও তীর প্রতিরক্ষায় খরচ করা হয়েছে।
- ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও বিলম্ব: বিশ্বব্যাংক সংক্রান্ত জটিলতা ও কোভিডের কারণে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় ঠিকাদারি খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার হারের পার্থক্যে বাজেট বৃদ্ধি পায়।
২. কারিগরি প্রকৌশল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময়
বিশ্বজুড়ে পদ্মা সেতু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অনন্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়:
- গভীরতম পাইলিং (১২৭ মিটার): নদীর তলদেশের নরম মাটির দরুন মাটির নিচে সর্বোচ্চ ১২৭ থেকে ১২৮ মিটার (প্রায় ৪১৭ ফুট) পর্যন্ত স্টিলের টিউবুলার পাইল ঢুকানো হয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো সেতুর জন্য গভীরতম পাইলিংয়ের রেকর্ড।
- ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং: রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সামলাতে পিলার ও স্প্যানের মাঝে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’ বসানো হয়েছে।
- ইউটিলিটি সংযোগ: সেতুর নিচের ডেকে রেললাইনের সাথে ৭৬০ মিমি ব্যাসের উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাস পাইপলাইন, ফাইবার অপটিক cables এবং ৪০০ কেভির পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইন যুক্ত রয়েছে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ পদ্মা সেতুর কারিগরি প্রোফাইল │
├─────────────────────────┬───────────────────────────────────────────────┤
│ মূল সেতুর দৈর্ঘ্য │ ৬.১৫ কিমি (ভায়াডাক্টসহ মোট ৯.৮৩ কিমি) │
│ কাঠামো │ দ্বিতল (Upper: ৪-লেন সড়ক, Lower: রেললাইন) │
│ পিলার ও স্প্যান │ ৪২টি পিলার, ৪১টি ট্রাস স্প্যান (১৫০ মিটার প্রতিটি)│
│ সর্বোচ্চ পাইলিং গভীরতা │ ১২৭-১২৮ মিটার (বিশ্ব রেকর্ড) │
└─────────────────────────┴───────────────────────────────────────────────┘
৩. পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (PBRLP)

ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটারের নতুন রেলপথ নির্মাণ বাংলাদেশের রেলের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যয়বহুল (প্রায় ৩৯,২৪৭ কোটি টাকা) প্রকল্প।
- ব্যালাস্টলেস বা পাথরবিহীন ট্র্যাক: দেশে প্রথমবারের মতো সেতুর উপর ও ভায়াডাক্টে ঝাঁকুনিমুক্ত ও শব্দহীন পাথরবিহীন রেললাইন (Ballastless Track) ব্যবহার করা হয়েছে।
- ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটারের গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে ব্রডগেজ ট্র্যাক তৈরি করা হয়েছে।
- স্টেশন নেটওয়ার্ক (২০টি স্টেশন): ঢাকা (কমলাপুর) থেকে যশোর পর্যন্ত বিস্তৃত রুটটিতে ১৪টি নতুন ও ৬টি আধুনিকায়িত জংশন রয়েছে।
ঢাকা-যশোর রুটের প্রধান স্টেশনসমূহ:
ঢাকা (কমলাপুর) ➔ গেন্ডারিয়া ➔ কেরানীগঞ্জ ➔ নিমতলা ➔ শ্রীনগর ➔ মাওয়া ➔ জাজিরা ➔ পদ্মা (শিবচর) ➔ ভাঙ্গা জংশন ➔ কাশিয়ানী ➔ নড়াইল ➔ সিঙ্গিয়া জংশন (যশোর)।
স্টেশন সুবিধা: শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য লিফট/র্যাম্প, মেটাল শেডসহ সেম-লেভেল প্ল্যাটফর্ম, এসসি ওয়েটিং লাউঞ্জ, ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কম্পিউটার-ভিত্তিক ‘রিলে ইন্টারলকড’ সিগন্যালিং সিস্টেম।
৪. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার সফল মডেল
┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐
│ জিডিপিতে বৈপ্লবিক বৃদ্ধি │ ──► │ পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস│ ──► │ টোল আয়ে স্বাবলম্বী │
│ জাতীয়: +১.২৩% │ │ ১০+ ঘণ্টা সময় সাশ্রয়, │ │ ৩,৪২৯+ কোটি টাকা রাজস্ব │
│ আঞ্চলিক: +২.৫০% │ │ কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত│ │ ১৬ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ │
└─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘
- টোল রাজস্ব আদায়: উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩,৪২৯ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে। অর্জিত টাকা থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (BBA) ইতোমধ্যে সরকার দেওয়া ঋণের ১৬টি কিস্তিতে ২,৫১৬ কোটি টাকা সফলভাবে পরিশোধ করেছে।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: পরিবহন সময় ১০ ঘণ্টার বেশি কমে যাওয়ায় যশোর-বরিশালের কৃষি ও মৎস্য পণ্য দ্রুত ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এই রুটে নতুন ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারিদ্র্যের হার প্রায় ১.০০% কমেছে।
৫. সহজে অনলাইনে টিকিট কাটার নির্দেশিকা
পদ্মা সেতু রুটের ট্রেনের টিকিট এখন ঘরে বসেই কাটতে পারেন:
- প্লাটফর্ম লগ-ইন:
eticket.railway.gov.bdওয়েবসাইটে ঢুকুন অথবা ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন। - স্টেশন নির্বাচন: ‘From’ এ Dhaka এবং ‘To’ এ আপনার গন্তব্য (যেমন: Bhanga, Jessore, Benapole) নির্বাচন করে যাত্রার তারিখ ও আসন শ্রেণী দিন।
- পেমেন্ট ও ই-টিকিট: বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংক কার্ড দিয়ে মূল্য পরিশোধ করলে ই-টিকিট ইমেইলে ও স্ক্রিনে চলে আসবে। (কাউন্টার থেকে কাটতে চাইলে যাত্রীর NID সংগে থাকা বাধ্যতামূলক। অগ্রিম টিকিট ১০ দিন আগে পাওয়া যায়)।
সারসংক্ষেপ: কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও উচ্চ বাজেটের কারণে শুরুতে সমালোচনা হলেও—পদ্মা সেতু এবং এর রেল নেটওয়ার্ক আজ দৈনিক কোটি কোটি টাকার রাজস্ব এনে দিচ্ছে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে নিজের বিনিয়োগের শতভাগ সার্থকতা প্রমাণ করছে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash) সিকিউরিটি গাইডলাইন, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ)
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে অনলাইন শপিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিনব সব সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণা। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন লোভনীয় অফার বা চতুর ফিশিংয়ের ফাঁদে পড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। গুগলের ২০২৬ সালের সর্বশেষ ইউজার সেফটি ও সিকিউরিটি গাইডলাইন অনুযায়ী, অনলাইন শপিং ও বিকাশ ব্যবহার করার সময় জালিয়াতি চক্রকে ধরার ৭টি পাকা ও প্রমাণিত উপায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. অস্বাভাবিক মূল্যছাড় এবং “অবাস্তব” অফার (Too Good to be True)
প্রতারক চক্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো লোভ। বাজারে যে প্রোডাক্টটির আসল দাম ৫,০০০ টাকা, কোনো পেজ বা ওয়েবসাইটে যদি সেটি মাত্র ১,৫০০ টাকায় ‘অফারের’ নামে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেখেন, তবে শুরুতেই সতর্ক হন। আইফোন, প্রিমিয়াম গ্যাজেট বা ব্র্যন্ডেড পোশাকের ক্ষেত্রে এই ধরনের অবাস্তব ছাড় মূলত ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলার প্রথম ধাপ।

২. শুধু ‘অ্যাডভান্স ফুল পেমেন্ট’ বা অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া
বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) বা কন্ডিশনাল ডেলিভারির সুবিধা দেয়। কিন্তু কোনো নতুন বা স্বল্প পরিচিত পেজ যদি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার আগেই বিকাশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা বা অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম পরিশোধ করার জন্য অনবরত চাপ দিতে থাকে, তবে বুঝতে হবে এখানে বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে। নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান কাস্টমারকে পেমেন্টের জন্য বারবার তাগাদা দেয় না।
৩. ভুয়া বিকাশ কল এবং পিন/ওটিপি (PIN/OTP) চাওয়া
বিকাশ প্রতারণার অন্যতম সাধারণ পদ্ধতি হলো গ্রাহককে ফোন করে বলা যে, “আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি, আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে গেছে” অথবা “ভুল করে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে, ওটিপি (OTP) কোডটি বলুন।” মনে রাখবেন, বিকাশের কোনো কর্মকর্তা বা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি কখনোই আপনার ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কিংবা ৪ বা ৫ ডিজিটের গোপন পিন (PIN) নম্বর জানতে চাইবে না। কেউ এটি চাইলেই নিশ্চিতভাবে সে একজন প্রতারক।

৪. ভুয়া এসএমএস (Fake SMS) ও স্পুফিং লিংকের ব্যবহার
অনেক সময় প্রতারকেরা হুবহু বিকাশের মেসেজ ফরম্যাট নকল করে আপনার ফোনে বার্তা পাঠায়, যাতে লেখা থাকে “You have received TK. 5,000″। এই মেসেজগুলো কিন্তু আপনার আসল বিকাশ অ্যাপের ব্যালেন্স বাড়ায় না। এছাড়া ‘বিকাশ বোনাস’ বা ‘সরকারি অনুদান’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ফিশিং লিংক পাঠানো হয়। কোনো লিংকে ক্লিক করে আপনার বিকাশ নম্বর এবং পিন সাবমিট করার আগে অবশ্যই ওয়েবসাইটের ইউআরএল (URL) চেক করুন। বিকাশের আসল ওয়েবসাইট লিংক সবসময় https://www.bkash.com/ দিয়ে শুরু হয়।
৫. ফেসবুক পেজের লাইক, কমেন্ট ও রিভিউ সেকশন হাইড বা অফ থাকা
অনলাইন শপিং পেজটি আসল নাকি নকল তা চেনার একটি সহজ উপায় হলো তাদের রিভিউ সেকশন। প্রতারক চক্রের পেজগুলোতে সাধারণত কাস্টমার রিভিউ অপশন বন্ধ থাকে এবং পোস্টের কমেন্ট সেকশন হাইড (Hide) বা লিমিটেড করা থাকে, যাতে প্রতারিত হওয়া অন্য ভুক্তভোগীরা সেখানে নেতিবাচক মন্তব্য করতে না পারেন। এছাড়া পেজের ‘Page Transparency’ অপশনে গিয়ে পেজটি কবে তৈরি হয়েছে এবং এর আগে কতবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তা দেখে এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা যায়।
৬. ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে (Personal Number) ‘সেন্ড মানি’ করার তাগিদ
যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রফেশনাল অনলাইন শপের নিজস্ব ‘বিকাশ মার্চেন্ট’ (Merchant Account) অ্যাকাউন্ট থাকে, যেখানে গ্রাহক ‘মেক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন। কিন্তু বিক্রেতা যদি কোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট না দেখিয়ে আপনাকে বারবার পার্সোনাল নম্বরে ‘সেন্ড মানি’ বা ‘ক্যাশ ইন’ করতে বলে, তবে সাবধান হোন। পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হলেও সেই টাকা ট্র্যাক করা বা রিফান্ড পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
৭. লাইভ চ্যাটে ফেসবুক আইডির সত্যতা এবং ট্র্যাকিং আইডি না দেওয়া
পণ্য অর্ডার করার পর যদি তারা কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের (যেমন- সুন্দরবন, স্টিডফাস্ট, পাথao) মেমো বা ট্র্যাকিং আইডি দিতে টালবাহানা করে অথবা বারবার কুরিয়ারে বুকিং দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত ‘প্রসেসিং ফি’ দাবি করে, তবে ধরে নেবেন আপনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জালিয়াতি চক্র সাধারণত টাকা পাওয়ার পরপরই গ্রাহকের ফেসবুক আইডি বা ফোন নম্বর ব্লক করে দেয়।
প্রতারিত হলে তাৎক্ষণিক করণীয় ও আইনি প্রতিকার:
১. বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭: যদি ভুলবশত কোনো প্রতারককে টাকা পাঠিয়ে দেন বা ওটিপি শেয়ার করে ফেলেন, তবে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে সরাসরি বিকাশের হটলাইন নম্বর ১৬২৪৭-এ কল করে আপনার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে লক করুন এবং যে নম্বরে টাকা গেছে সেটি রিপোর্ট করুন।
২. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP): অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে মেমো, চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং পেমেন্ট প্রুফসহ ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
৩. সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন: বিকাশ বা অনলাইন শপিং জালিয়াতির শিকার হলে নিকটস্থ থানায় জিডি (GD) করুন এবং ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজে বা সরাসরি হ্যালো সিটি (Hello CT) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সাইবার ক্রাইম টিম এই ধরনের অপরাধীদের আইপি ও লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা।
আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে।
৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।”
এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ।
একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা।
বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো।
১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো:
- মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা।
৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)।
- রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন।
- হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



