Uncategorized
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
অনেকেই জানেন না, হাসনাত আবদুল্লাহ কেবল একজন অ্যাকটিভিস্ট বা রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর নন—তিনি ছিলেন এক সময়ের চমৎকার লেখক ও চিন্তক।
তার লেখায় ছিলো গভীরতা, বিশ্লেষণ আর প্রশ্ন তোলার সাহস।
সে সময় তার পোস্টে মন্তব্য করতেন খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
আমি দেখতাম, ভাবতাম—কী শক্ত চিন্তা! কোথায় যেন ঈর্ষাও হতো।
কিন্তু একটাই প্রশ্ন ঘুরে ফিরতো মনে—
“এই চিন্তাধারা কি শুধু অনলাইনেই আটকে থাকবে, নাকি বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনবে?”
একা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা
একদিন দেখি, রেজিস্টার বিল্ডিং-এর সামনে হাসনাত একা দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে—
লাল ফিতার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানাচ্ছে।
আমার সেই প্রশ্নের উত্তর যেন নিজের চোখেই দেখে ফেলি।
এই ছেলেটি কেবল লিখে থেমে থাকে না,
তার চিন্তা ও কর্ম একসঙ্গে চলে।
ঢাবিতে খুব কম শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের সময় ব্যয় করে এভাবে দাঁড়িয়ে যায়।
কেউ দেখে না, কেউ জানেও না—তবে ওদের হাত ধরেই সমাজে অদৃশ্য আন্দোলন শুরু হয়।
জুলাইয়ের পর হাসনাতকে নতুন করে চেনা
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময়, দেশের ইতিহাস বদলে দেওয়া আন্দোলনে,
হাসনাতের নাম উঠে আসে সামনে।
এই প্রজন্মের যে কয়জন তরুণ সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে বিপ্লবের স্পিরিট ধরে রেখেছে—
হাসনাত নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে সবার আগে থাকবে।
স্বাভাবিকভাবে দালাল মিডিয়া, ক্ষমতাবানদের চোখ গিয়ে পড়ে তার উপর।
কারণ তার মধ্যে নেই কোনো দ্বিচারিতা।
নেই মুখে এক, মনে আরেক—যা আমাদের রাজনীতিতে প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
চিন্তক না, চিন্তার বাস্তব রূপ
আমরা এমন অনেক তরুণ দেখি, যারা হাজারো বই পড়ে, হাজারো স্ট্যাটাস দেয়—
কিন্তু আন্দোলনের মাঠে, নিপীড়নের মুখে, সাধারণ মানুষের পাশে কখনো দাঁড়ায় না।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাদের মতো নয়।
তার চিন্তা, তার লেখা, তার পদক্ষেপ—সবকিছু বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে।
তাকে দেখলে বোঝা যায়, বিপ্লব কেবল স্লোগানে নয়, জীবনচর্চায় ঘটে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: হারানো না, রক্ষা করার আহ্বান
পৃথিবী এখন তরুণদের যুগে প্রবেশ করেছে।
একজন জাস্টিন ট্রুডো হতে পারেন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।
তেমনি, বাংলাদেশেও এমন সম্ভাবনাময় তরুণরা প্রতিটি দলের মধ্যেই আছে।
তাদের প্রয়োজন সাপোর্ট, স্পেস ও নিরাপত্তা।
তাদের হারিয়ে গেলে, দেশ হারায় ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
হাসনাত আবদুল্লাহদের যদি হারিয়ে ফেলি, তাহলে বাংলাদেশ শুধু একজনকে নয়—একটি দিকনির্দেশনাকেই হারিয়ে ফেলবে।
সারাংশ
- হাসনাত আবদুল্লাহ চিন্তার চেয়ে বাস্তব জীবনে বেশি শক্তিশালী
- আন্দোলনের মাঠে একা দাঁড়ানোর সাহস তার আছে
- তিনি এই প্রজন্মের আত্মত্যাগী তরুণদের প্রতীক
- বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এমন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে
- প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
- আরও বিশ্বসংবাদ জানতে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯০০ সালের ধীরগতির জীবন থেকে ২০২৬ সালের অতি-ব্যস্ত যান্ত্রিক যুগে মানুষের ধৈর্য্যশক্তি ক্রমান্বয়ে কমছে। বর্তমান সময়ে ‘অ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট’ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি একটি শিল্প। কেন আমাদের মাথা গরম হয় এবং কীভাবে এখান থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও কিছু কার্যকর সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো।
১. পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করুন (Contextual Awareness)

যেকোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর বদলে পরিস্থিতিটি বোঝার চেষ্টা করুন। ১৯০০-এর দশকে প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস বলেছিলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো একটি চিন্তার পরিবর্তে অন্যটি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা।” ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে একে বলা হয় ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’। অর্থাৎ, সমস্যাটিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে একটি পরিস্থিতি হিসেবে বিচার করা।
২. যুক্তিতর্ক ও সবার মতামতের গুরুত্ব (Democratic Reasoning)
যুক্তি-তর্ক একতরফা না করে সবার কথা জানা এবং শোনা বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের মেধা দিয়ে বিচার না করে পরিবেশের সম্মিলিত মতামতকে গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন, ২০২৬ সালের এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশে পরমতসহিষ্ণুতাই হলো শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক চর্চা।
৩. আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞানের পরিধি (Spiritual and Intellectual Growth)
মেডিটেশন এবং প্রার্থনা মস্তিস্কের প্রাক-ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে শান্ত রাখে, যা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। জ্ঞানের পরিধি বাড়ালে মানুষের মধ্যে বিনয় আসে। আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, “অহংকার হলো জ্ঞানের বিপরীত অনুপাত।” জ্ঞান যত বাড়বে, অযথা তর্কে জড়ানোর প্রবণতা তত কমবে।
৪. বুলি ও কালির সংযম (The Power of Expression)
“মুখের বুলি আর কলমের কালি একবার বের হলে আর ফিরে না”—এই কথাটি চিরন্তন সত্য। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে একটি ভুল ফেসবুক কমেন্ট বা একটি রাগান্বিত বার্তা আপনার সারাজীবনের ক্যারিয়ার ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই কথা বলার আগে ‘১০ সেকেন্ড বিরতি’র সূত্রটি প্রয়োগ করুন।
৫. এক্সট্রা টিপস: আধুনিক সমাধান
- ডিজিটাল ডিটক্স: প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকুন। সোশ্যাল মিডিয়ার টক্সিক পরিবেশ মাথা গরমের অন্যতম কারণ।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি: অনিদ্রা মেজাজ খিটখিটে করে। দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি এবং ৭ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
- শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত শরীরচর্চা ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসরণ করে, যা প্রাকৃতিকভাবেই মনকে শান্ত রাখে।
তথ্যসূত্র (References):
১. American Psychological Association (APA): Strategies for Controlling Your Anger (2025 Edition). ২. Harvard Medical School: Understanding the Stress Response and Emotional Regulation. ৩. Daniel Goleman – Emotional Intelligence: কেন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা আইকিউ-এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। ৪. Journal of Psychosomatic Research (2026): আধুনিক জীবনযাত্রা ও কর্টিসল হরমোনের প্রভাব। ৫. The Meditations – Marcus Aurelius: ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রাচীন দর্শন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: পৃথিবীর ইতিহাস যেমন মহানায়ক ও বিজ্ঞানীদের গল্পে সমৃদ্ধ, তেমনি কিছু মানুষের নিষ্ঠুরতা আর ক্ষমতার লালসা মানবসভ্যতাকে বারবার কলঙ্কিত করেছে। ১৯০০ সালের বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রাচীন যুগের ধ্বংসলীলা—ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু নাম রয়েছে যারা কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বিশ্বশান্তির কথা বলি, তখন অতীতের এই ১০ ‘দানবীয়’ চরিত্রের কর্মকাণ্ড আমাদের শিহরিত করে তোলে।
১. অ্যাডলফ হিটলার (জার্মানি): উগ্রবাদের চূড়ান্ত রূপ
তালিকায় সবার উপরে নাৎসি নেতা হিটলার। তাঁর ‘আর্য’ শ্রেষ্ঠত্ববাদ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়েছিল। তাঁর নির্দেশে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে ‘হলোকাস্ট’-এর মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সব মিলিয়ে তাঁর কারণে কয়েক কোটি মানুষ প্রাণ হারায়।
২. মাও সেতুং (চীন): আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাণহানি
আধুনিক চীনের জনক বলা হলেও তাঁর ‘গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড’ এবং ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ ছিল চরম রক্তক্ষয়ী। তাঁর ভুল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ফলে প্রায় ৪ থেকে ৭ কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষ ও অত্যাচারে প্রাণ হারায়, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ মৃত্যুসংখ্যা।
৩. জোসেফ স্টালিন (সোভিয়েত ইউনিয়ন): ভয়ের রাজত্ব
সোভিয়েত ইউনিয়নের এই একনায়ক নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ‘গ্রেট পার্জ’ শুরু করেছিলেন। তাঁর সাইবেরিয়ার বন্দিশিবির (গুলাগ) ছিল তিলে তিলে মৃত্যুর অপর নাম। প্রায় ২ কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়।
৪. চেঙ্গিস খান (মঙ্গোল সাম্রাজ্য): ইতিহাসের সফল কিন্তু নিষ্ঠুর যোদ্ধা
মঙ্গোল সাম্রাজ্য বিস্তারের সময় তিনি একেকটি শহর মাটির সাথে মিশিয়ে দিতেন। ধারণা করা হয়, তাঁর অভিযানে তৎকালীন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০% (৪ কোটি মানুষ) নিহত হয়েছিল। ১৯০০ বছর আগের সেই ধ্বংসলীলা আজও আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি।
৫. লিওপোল্ড দ্বিতীয় (বেলজিয়াম): রবারের লোভে রক্তগঙ্গা
কঙ্গো ফ্রি স্টেটের মালিক হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালান। রবার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে মানুষের হাত-পা কেটে ফেলা হতো। তাঁর শোষণে কঙ্গোর প্রায় ১ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
৬. পোল পট (কম্বোডিয়া): মেধা শূন্য করার কারিগর
খমের রুজ বাহিনীর নেতা পোল পট মাত্র ৪ বছরে কম্বোডিয়ার প্রায় ২৫% জনসংখ্যা (২০ লক্ষ মানুষ) হত্যা করেন। তিনি মূলত শিক্ষিত সমাজকে সমূলে নির্মূল করে এক আদিম কৃষি সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন।
৭. ইদি আমিন (উগান্ডা): উগান্ডার কসাই
‘বুচার অব উগান্ডা’ নামে পরিচিত এই সামরিক শাসক ছিলেন অত্যন্ত খামখেয়ালি। ৮ বছরে ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে তিনি তাঁর শত্রুদের দেহাবশেষ কুমিরকে খাওয়াতেন বলে কুখ্যাতি রয়েছে।
৮. ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার (রোমানিয়া): শূলে চড়ানোর রাজা
কাউন্ট ড্রাকুলা চরিত্রের অনুপ্রেরণা ছিলেন এই ভ্লাদ। তিনি মানুষকে জীবন্ত অবস্থায় ভোঁতা কাঠের শূলে গেঁথে কষ্ট দিয়ে মারতে পছন্দ করতেন। একবার ২০ হাজার মানুষের শূলে গাঁথা দেহের বন তৈরি করে তিনি শত্রুদের ভয় দেখিয়েছিলেন।
৯. আইভান দ্য টেরিবল (রাশিয়া): নিজের রক্তেও হাত রাঙানো
রাশিয়ার প্রথম জার আইভান ছিলেন চরম মানসিক অস্থিরতার শিকার। তিনি এতটাই হিংস্র ছিলেন যে রাগের মাথায় নিজের সন্তানকেও হত্যা করেছিলেন। ‘নোভগোরড গণহত্যায়’ তিনি হাজার হাজার মানুষকে অমানুষিক নির্যাতনে হত্যা করেন।
১০. আতিল দ্য হুন (হুন সাম্রাজ্য): ঈশ্বরের চাবুক
রোমান সাম্রাজ্যের কাছে তিনি ছিলেন ‘Scourge of God’। তিনি ইউরোপের বিশাল অংশ দখল করার সময় যেখানেই যেতেন, সেখানে কেবল ধ্বংস আর মৃত্যু পড়ে থাকত।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর বিশেষ মন্তব্য
ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং একনায়কতন্ত্র সবসময়ই মানবজাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ শাসন থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের ভূ-রাজনীতি—ক্ষমতার অপব্যবহার সবসময়ই সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। এই ১০ জন কুখ্যাত ব্যক্তির জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব গড়ে তোলা উচিত।
তথ্যসূত্র ও গবেষণা:
- Historical Archives of Nazi Germany & WWII
- Encyclopedia Britannica (Biographies of World Dictators)
- Historical Analysis of the Mongol Empire (1206-1368)
- United Nations Human Rights Reports (Retrospective)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিষয়ঃ
Uncategorized
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
অনেক মানুষ সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারেন না, এর মূল কারণ হলো—তাদের আয়ের উৎস। সাধারণত, আয় তিন ধরনের হয়: একটিভ ইনকাম, প্যাসিভ ইনকাম, এবং পোর্টফোলিও ইনকাম।
১. একটিভ ইনকাম
একটিভ ইনকাম হলো এমন আয়, যা আপনি সরাসরি সময় ও পরিশ্রম দিয়ে উপার্জন করেন। যেমন:
- চাকরি
- ব্যবসা
- দোকান পরিচালনা ইত্যাদি
এটি অধিকাংশ মানুষের পরিচিত ও সহজতর পথ। তবে একটিভ ইনকামের বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে—আপনি যতক্ষণ কাজ করবেন, ততক্ষণই আয় হবে। কাজ বন্ধ মানেই আয় বন্ধ। একজন মানুষ দিনে সর্বোচ্চ ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে পারে, আর সে অনুযায়ী আয় সীমিত।
এজন্য, একটিভ ইনকামের মাধ্যমে বড় ধন-সম্পদ গড়া কঠিন।
২. প্যাসিভ ইনকাম
প্যাসিভ ইনকাম হলো এমন আয়, যা আপনি কাজ না করেও পেতে পারেন। অর্থাৎ, আপনি ঘুমালেও, ছুটিতে থাকলেও—আয় চলতে থাকে।
উদাহরণ:
- বাড়ি ভাড়া
- বই বিক্রি
- ইউটিউব/ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম চ্যানেল
- অনলাইন কোর্স
- ওয়েবসাইট
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- সিপিএ মার্কেটিং
প্যাসিভ ইনকাম সহজে শুরু হয় না। শুরুতে সময়, পরিশ্রম ও কখনো বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। তবে একবার শুরু হলে, এটি নিয়মিত এবং স্থায়ী আয় প্রদান করে।
এই কারণে যারা শুধুমাত্র একটিভ ইনকামের উপর নির্ভর করেন, তারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েন।
৩. পোর্টফোলিও ইনকাম
পোর্টফোলিও ইনকাম হলো বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়। এতে সরাসরি সময় দিতে হয় না, বরং সঠিক জায়গায় টাকা বিনিয়োগ করলেই আয় আসে।
উদাহরণ:
- শেয়ার বাজার
- মিউচুয়াল ফান্ড
- রিয়েল এস্টেট
- নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ
- ক্রিপ্টোকারেন্সি
ধনী মানুষরা সাধারণত এই ধরনের ইনকামে মনোযোগ দেন, কারণ এটি মূলধন বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্পদ গড়তে সাহায্য করে।
২০-৮০ নিয়মে আটকে যাচ্ছেন না তো?
বিশ্বে ২০% মানুষ মোট সম্পদের ৮০% নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি ৮০% মানুষ সারা জীবন খেটে-খুটে চললেও তেমন কিছু অর্জন করতে পারে না।
এই ৮০% মানুষ সাধারণত একটিভ ইনকামে আটকে থাকে এবং প্যাসিভ বা পোর্টফোলিও ইনকামের সুযোগ নেয় না।
আপনি যদি সেই ২০% ধনী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হতে চান, তবে কী করতে হবে?
আপনিও যদি সেই ২০% ধনী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হতে চান, তাহলে এখনই একটিভ ইনকাম থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে প্যাসিভ ইনকাম ও পোর্টফোলিও ইনকাম গড়ার পথে হাঁটুন।
উপসংহার:
যে প্রফেশনেই থাকুন না কেন, শুধুমাত্র একটিভ ইনকামে নির্ভর করলে ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই:
- আপনার খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করুন
- সেই সঞ্চয় বিনিয়োগ করুন
- ধীরে ধীরে প্যাসিভ ইনকাম ও পোর্টফোলিও ইনকাম গড়ে তুলুন
এই অভ্যাসগুলো আপনাকে ধীরে ধীরে আর্থিক স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাবে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

