ইতিহাস

নবাবজাদি পরিবানু কে ছিলেন? পুরান ঢাকার পরিবাগ নামকরণের নেপথ্য ইতিহাস ও অবদান
নবাবজাদি পরিবানু

নিউজ ডেস্ক

May 31, 2026

শেয়ার করুন

পুরান ঢাকার নবাব পরিবারের ইতিহাস মানেই শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণে নারীদের এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। আর এই মহীয়সী নারীদের তালিকায় অন্যতম একটি নাম হলো নবাবজাদি পরিবানু। ঢাকার বিখ্যাত ‘পরিবাক’ এলাকাটির নামকরণ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

১. জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

নবাবজাদি পরিবানু ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন।

  • পিতা: ঢাকার বিখ্যাত নবাব খাজা আহসান উল্লাহ।
  • মাতা: কামরুন্নেসা বেগম।

তিনি কোনো প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে না গেলেও, तत्कालीन পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী গৃহশিক্ষক ও গৃহপরিচারিকার নিকট থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করেন।

২. দৃঢ় মনোবল ও জমিদারির কাজকর্ম

পরিবানু কেবল গৃহকোণে আবদ্ধ বিদুষী নারীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ় মনোবলের অধিকারী।

  • ঘোড়সওয়ারি: তৎকালীন সময়ে একজন মুসলিম সম্ভ্রান্ত নারী হয়েও তিনি চমৎকারভাবে ঘোড়ায় চড়া শিখেছিলেন।
  • উত্তরাধিকারী হওয়ার পরিকল্পনা: তাঁর মেধা ও যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে পিতা নবাব আহসান উল্লাহ তাঁকে জমিদারির নানাবিধ কাজকর্ম শেখান। এমনকি এক পর্যায়ে পরিবানুকে তাঁর জমিদারির মূল উত্তরাধিকারী করার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নবাব বাহাদুরের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি।

৩. ‘পরিবাক’ নামকরণের নেপথ্য ইতিহাস

১৯০০ সালে নবাব পরিবারের খাজা ভোলা মিয়ার পুত্র খাজা বদরুদ্দিনের সাথে পরিবানুর বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং বিয়ের পর তিনি ঢাকার দিলখুশায় বসবাস শুরু করেন। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নেয় আজকের ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা ‘পরিবাক’।

  • شاہবাগ বাগানবাড়ির নিয়ন্ত্রণ: ১৯১৯ সালে পরিবানু ৬০ বিঘা জমিসহ ঢাকার শাহবাগ বাগানবাড়ির দক্ষিণাংশ তৎকালীন নবাব হাবিবুল্লাহর কাছ থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
  • নারীদের জন্য উন্মুক্ত উদ্যান: বাগানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর, তিনি ঢাকার সম্ভ্রান্ত মহিলাদের বিনোদন ও বেড়ানোর জন্য প্রতি শনিবার সেটি উন্মুক্ত রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করেন।
  • পরিবাক নামের উৎপত্তি: পরিবানুর নাম এবং তাঁর এই সুন্দর বাগানবাড়ির ঐতিহ্য থেকেই পরবর্তীকালে পুরো এলাকাটি জনমুখে ‘পরিবাক’ নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

৪. নারী শিক্ষায় অবদান: কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল

ঢাকায় নারী শিক্ষার প্রসারে নবাবজাদি পরিবানুর অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯২৪ সালে ঢাকার নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ‘কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই স্কুলটির প্রতিষ্ঠা এবং এর সার্বিক উন্নয়নে নবাবজাদি পরিবানু এবং তাঁর অপর বোনেরা মিলে তৎকালীন সময়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন, যা নারী শিক্ষার ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক।

৫. এক নজরে নবাবজাদি পরিবানুর জীবন ও কর্ম ম্যাট্রিক্স

ঢাকার নবাব পরিবারের অন্যতম বিদুষী ও দূরদর্শী নারী নবাবজাদি পরিবানু-র জীবন ও সমাজসেবামূলক কাজের বিবরণ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো :

পরিমাপক (Criteria) নবাবজাদি পরিবানুর জীবন ও কর্মের বিবরণ
জন্ম ও বংশ পরিচয়১ জুলাই ১৮৮৪ সালে পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলে জন্ম । পিতা: নবাব খাজা আহসান উল্লাহ এবং মাতা: কামরুন্নেসা বেগম
ব্যতিক্রমী শিক্ষা ও দক্ষতাগৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শেখেন । অনন্য দক্ষতার কারণে ঘোড়সওয়ারী এবং জমিদারির কাজও শিখেছিলেন
বিবাহ ও পারিবারিক জীবন১৯০০ সালে নবাব পরিবারের খাজা ভোলা মিয়ার পুত্র খাজা বদরুদ্দিনের সাথে বিয়ে হয় । তিনি দিলকুশায় বসবাস করতেন
‘পরিববাগ’ এলাকার রূপকার১৯১৯ সালে শাহবাগ বাগানবাড়ির ৬০ বিঘা জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন । সম্ভ্রান্ত নারীদের বিনোদনের জন্য প্রতি শনিবার বাগানটি উন্মুক্ত রাখতেন, যা থেকে এলাকাটি পরবর্তীতে পরিপাগ নামে পরিচিত হয়
শিক্ষা বিস্তারে অবদান১৯২৪ সালে ঢাকার টিকাটুলিতে নারীদের শিক্ষার জন্য নিজের মায়ের নামে কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন । এই স্কুলের উন্নয়নে তিনি ও তাঁর বোনেরা মিলে তৎকালীন সময়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন
মৃত্যু১৯৫৮ সালে এই বিদুষী নারী মৃত্যুবরণ করেন

ম্যাট্রিক্সের মূল সারসংক্ষেপ

নবাবজাদি পরিবানু ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রদূত এবং সেকালের একজন প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব । তাঁর প্রতিষ্ঠিত কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুলটি ১৯৪৭ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয় এবং এটি আজও পুরান ঢাকার অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নারী শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে

৬. জীবনাবসান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

এই মহীয়সী ও বিদুষী নারী ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর তাঁকে ঢাকার বেগমবাজারের নবাব পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। ঢাকার ইতিহাস ও নারীর ক্ষমতায়নের এই নীরব রূপকারের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ

একজন ইতিহাস ও কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে আমি মনে করি, ঢাকার স্থানীয় ইতিহাস (Local History) নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের জন্য নবাবজাদি পরিবানুর মতো চরিত্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণের পেছনে যে কত রোমাঞ্চকর এবং গৌরবময় ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তার এক অনন্য প্রমাণ হলো ‘পরিবাক’। ১৯২৪ সালে তাঁর ও তাঁর বোনেদের দেওয়া লক্ষাধিক টাকার অনুদানই আজকের কামরুন্নেসা গার্লস স্কুলের ভিত্তি, যা তৎকালীন মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছিল। এই ধরণের ঐতিহাসিক কন্টেন্টগুলো ইন্টারনেটে সঠিক তথ্যসহ ডিজিটাল আর্কাইভ হিসেবে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed

ইতিহাস ও কন্টেন্ট অ্যানালিস্ট

আমার কাজের পোর্টফোলিও ও ডিজিটাল গ্রোথ স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: bdsbulbulahmed.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা

নিউজ ডেস্ক

June 8, 2026

শেয়ার করুন

রাজনৈতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশ-ইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও স্থানীয়রা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। সম্প্রতি নীলফামারী, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে জোর করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেলে রাখার অমানবিক চিত্র উঠে এসেছে।

সীমান্তের এই সংকট ও সর্বশেষ পরিস্থিতির বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা: এই ধরনের বেআইনি ও বলপূর্বক পুশ-ইন বন্ধে বিজিবি কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে。 বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় কঠোর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হচ্ছে। [

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শিশুদের দুর্ভোগ: নীলফামারীর বড়বাড়ী সীমান্তে ভারতীয় পরিচয়পত্রধারী ১০ জন নাগরিক (৫ পুরুষ, ২ নারী ও ৩ শিশু) খোলা আকাশের নিচে ৬১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন。 কোনোরকম নিরাপদ আশ্রয় ছাড়া রোদ ও বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে জমে থাকা পানিতে তাদের দিন কাটছে。

বিজিবির অবস্থান: ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তা কঠোরভাবে প্রতিহত করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, ভারত তাদের নিজ নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়。

ব্যাপক অনুপ্রবেশের চেষ্টা: শুধু নীলফামারী নয়, একই সময়ে পঞ্চগড়, দিনাজপুর (হিলি ও বিরামপুর), কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা দিয়েও ভারতীয় নাগরিকদের পুশ-ইনের একাধিক অপচেষ্টা চালানো হয়েছে。 বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়。

নো-ম্যানস ল্যান্ডে চরম মানবিক বিপর্যয়

নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়া মানুষদের নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নো-ম্যানস ল্যান্ডে তৈরি হওয়া মানবিক বিপর্যয় নিরসনে আইনি কাঠামো ও করণীয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও পুশ-ব্যাক নীতি

  • নন-রিফোলমেন্ট নীতি: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো (Push-back) নিষিদ্ধ, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
  • রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব: আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের নিজ দেশের নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য দেশে ঠেলে দিতে পারে না।
  • দ্বিপাক্ষিক চুক্তি: দুই দেশের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী, নো-ম্যানস ল্যান্ডে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জমায়েত বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উভয় পক্ষ যৌথ পতাকা বৈঠক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে বাধ্য।

মানবিক বিপর্যয় রোধে জরুরি করণীয়

  • তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা: নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে পড়া শিশু ও নারীদের জীবন বাঁচাতে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর মানবিক দায়িত্ব।
  • মানবাধিকার সংস্থার মধ্যস্থতা: রেড ক্রস (ICRC), জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রবেশ করে আটকে পড়াদের নাগরিকত্ব যাচাই ও সুরক্ষায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।
  • কূটনৈতিক সমাধান: সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি পরিচয় নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া প্রধান সমাধান।

বিজিবি-বিএসএফের অনড় অবস্থান ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

সীমান্তে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) একতরফা ও জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জিরো টলারেন্স নীতি ও অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে ব্যাপক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন রাজ্য সরকারের কঠোর অনুপ্রবেশবিরোধী ঘোষণার পর থেকে বিএসএফের এই পুশ-ইনের তৎপরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিজিবি-বিএসএফের অনড় অবস্থান ও এর ফলে সৃষ্ট দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. বিজিবির জিরো টলারেন্স ও প্রতিরোধ

  • কঠোর প্রতিরোধ: লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও এবং মেহেরপুরসহ অন্তত ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি।
  • উত্তেজনা ও বাদানুবাদ: পুশ-ইন ঠেকাতে গিয়ে বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ এবং মুখোমুখি অবস্থান বা স্ট্যান্ডঅফ তৈরির ঘটনা ঘটেছে।
  • জনসাধারণের সম্পৃক্ততা: অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি স্থানীয় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ দেয়াল ও কঠোর নজরদারি গড়ে তুলেছে।

২. নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও বাংলাদেশের কড়া অবস্থান

  • ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন: সীমান্তে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
  • বিজিবির প্রধান এজেন্ডা: এই সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জোরপূর্বক পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ভারতের কাছে কড়া জবাব ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
  • আকাশসীমা লঙ্ঘন: পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটের মতো সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড়িয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও বিজিবি এই বৈঠকে কড়া অবস্থান নিয়েছে।

৩. আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন ও ভারতের নীতি

  • আইন বহির্ভূত পদক্ষেপ: দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে এবং বৈধ ইমিগ্রেশন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্তে রাতের আঁধারে জোর করে লোক ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
  • মানবাধিকার সংকট: বিএসএফ কর্তৃক নারী ও শিশুদের বন্দুকের মুখে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ফেলে রাখার মতো অমানবিক আচরণ দুই দেশের সীমান্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি করেছে।

সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং নয়াদিল্লিতে চলমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আরও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অফিশিয়াল বিজিবি ওয়েবসাইট অথবা ডেইলি স্টার বাংলা-র মতো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর সর্বশেষ সীমান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুসরণ করতে পারেন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এই ধরণের ‘পুশ-ইন’ এর ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের পর সীমান্তে কড়াকড়ি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের বিশেষ বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ধরণের একপেশে বা অবৈধ অনুপ্রবেশকে মুখ বুজে মেনে নিচ্ছে না। তবে এই সীমান্ত নীতির লড়াইয়ে যাতে কোনো শিশুর প্রাণহানি বা চরম মানবিক বিপর্যয় না ঘটে, সেজন্য নতুন দিল্লিতে চলমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি পরিচয় নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই প্রধান সমাধান।

সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং চলমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আরও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অফিশিয়াল বিজিবি ওয়েবসাইট অথবা আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলো অনুসরণ করুন

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও মানবিক চিত্র: দৈনিক ইত্তেফাক (Daily Ittefaq Online Media Coverages) – “ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা”

২. বিজিবির সীমান্ত প্রোটোকল ও ফ্ল্যাগ মিটিং: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB Official Press Release) এবং স্থানীয় জেনুইন ক্রাইম রিপোর্টিং সোর্স।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ

নিউজ ডেস্ক

June 8, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে এক চরম বিপজ্জনক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রকার লুকোছাপা না করে, সম্পূর্ণ আগাম বার্তা দিয়ে ইসরায়েলের বুক লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। লেবাননের বৈরুতের দাহিয়ায় হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে ইসরায়েলের লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও মার্কিন গ্রিন সিগন্যালে চালানো হামলার কঠোর জবাব দিতেই তেহরান এই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের এই হামলার পর ইসরায়েলও বসে থাকেনি; মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অনুরোধ উপেক্ষা করে গভীর রাতে তারাও ইরানের একাধিক শহরে পাল্টা বিমান ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

ইরানের আগাম বার্তা ও ইসরায়েলে নজিরবিহীন মিসাইল বৃষ্টি

যুদ্ধের শুরুটা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশলে। হামলার মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা আগে ইরানের মজলিশের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, “তারা শক্তির ভাষা ছাড়া কিছু বোঝে না। আমাদের ফোর্স সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” অর্থাৎ, তেহরান এবার আগাম বার্তা দিয়েই ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে.

লেবাননে ইসরায়েলের লাগাতার বোমা হামলা ও আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান এই অপারেশন পরিচালনা করে। হামলার সাথে সাথেই লেবাননের আকাশ জুড়ে ইরানি মিসাইলের আলো দেখা যায় এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের আকাশে সেই মিসাইল ইন্টারসেপ্ট (প্রতিরোধ) করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আল-জাজিরা সহ ইরানি ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এই নজিরবিহীন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে.

হামলার পর পুরো ইসরায়েল জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। তেল আবিব সহ প্রধান প্রধান শহরগুলোতে সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, নাগরিকরা বাঙ্কারে আশ্রয় নেয় এবং দেশটিতে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়. ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ। ইসরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক উভয় লক্ষ্যবস্তুতেই অভিযান চলবে।” মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ও মোহসিন রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননকে চিবিয়ে খাওয়ার সুযোগ তারা ইসরায়েলকে দেবে না.

ইসরায়েলের পাল্টা আঘাত এবং ট্রাম্পের ‘আধা-সম্মতি’ বিতর্ক

ইরানের এই বিধ্বংসী হামলার পর ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রী বেন-গাভির হুঙ্কার দিয়ে বলেন—“আজ রাতে অবশ্যই তেহরান জ্বলবে।” একই সাথে ইসরায়েলি মিডিয়া ‘নিউজ টুয়েলভ’ একজন সিনিয়র অফিসিয়ালের বরাতে জানায়, ইসরায়েল সর্বশক্তি দিয়ে এর রেসপন্ড করবে.

এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজে ইরানকে উদ্দেশ্য করে ফুল স্কেল যুদ্ধ থামানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে বলেন, “তোমরা তোমাদের মিসাইল ছুড়েছ, এটাই যথেষ্ট। এখন টেবিলে ফিরে এসো এবং একটা ডিল করো।” এরপর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে জরুরি ফোনকল হয়. সংবাদ মাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা না করতে বললেও নেতানিয়াহু তাতে “আধা-সম্মতি” দিয়েছিলেন. কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ইসরায়েল সেই অনুরোধের তোয়াক্কা না করেই ইরানে হামলা চালায়।

আইডিএফ (IDF) জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তেহরান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সিএনএন (CNN) ও আইআরজিসি-র সূত্র মতে, ইসরায়েলি ফাইটার জেট থেকে ইরানের ওপর “এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল” ব্যবহার করা হয়েছে. টাইমস অব ইসরায়েল এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে নিশ্চিত করেছে যে, এই রাতের হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নেয়নি এবং একে “তুলনামূলকভাবে সীমিত” হামলা বলে বর্ণনা করা হয়েছে.

পরবর্তীতে ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মুখ রক্ষার্থে ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুর সামনে ইউএস-ইরান ডিল মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সিদ্ধান্ত আমিই নিই, নেতানিয়াহু নয়।” তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, যেখানে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নেতানিয়াহু একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন.

লোহিত সাগর ও বাবে আল-মান্দাব প্রণালী বন্ধ: বৈশ্বিক অর্থনীতির সমাপ্তি?

ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলার পরপরই প্রতিরোধ অক্ষের অন্য শরিকরা তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে:

১. হুতিদের মিসাইল হামলা: দীর্ঘ বিরতির পর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মধ্য ইসরায়েলের জেরুজালেম, তেল আবিব ও মোদিইন এলাকায় শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালায়। আইডিএফ তা ইন্টারসেপ্ট করার দাবি করলেও হতাহতের প্রকৃত খবর গোপন রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে. ২. ১০% তেল সরবরাহ বন্ধ: ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একজোট হয়ে ঘোষণা করেছে—“লোহিত সাগর বন্ধ করা হলো, শত্রুদের জাহাজ প্রবেশ করা মাত্র সমুদ্রে দাফন করা হবে।” হুতিরা কৌশলগত “বাবে আল-মান্দাব” প্রণালী সবার জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় বিশ্বের প্রায় ১০% তেলের সরবরাহ লাইন একঝটকায় বন্ধ হয়ে গেছে. ৩. ইরানের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী বেলায়েতি বলেছেন, ইসরায়েল যদি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে, তবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাকি সামুদ্রিক করিডোরগুলোও বন্ধ করে দিতে পারে.

তেহরান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মারান্ডি এক্সে (X) এক মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, “ইরানের ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারে (বিশেষ করে এনার্জি সেক্টর) হামলা হলে, দখলকৃত ফিলিস্তিন (ইসরায়েল) কিংবা পারস্য উপসাগরের স্বৈরাচারী আরব পরিবার-শাসিত দেশগুলোতে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো টিকে থাকবে না। আর তার মানেই হবে—বৈশ্বিক অর্থনীতির সম্পূর্ণ সমাপ্তি।”

সর্বশেষ যুদ্ধক্ষেত্রের লাইভ আপডেট (Live Updates):

  • ইরানে হামলা চলমান: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কারমানশাহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা এখনও চলমান রয়েছে.
  • টানা যুদ্ধের প্রস্তুতি: ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই সংঘর্ষ যে কোনো মুহূর্তে একটি আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে.
  • আকাশপথ ফাঁকা: ইরানের কঠিন প্রতিশোধের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আকাশপথ ক্রমশ বাণিজ্যিক বিমানের জন্য ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে.
  • ইসরায়েলি হাসপাতালে ভিড়: হিব্রু চ্যানেলের তথ্যমতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর লাগাতার মিসাইল হামলায় আহতদের কারণে সাফাদ ও নাহারিয়ার হাসপাতালগুলোতে গত রাত থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে.
  • দখলদার ক্যাম্প ধ্বংস: ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের অধিকৃত ইয়াফা এলাকায় একটি ছোট সামরিক ক্যাম্প মিসাইল দিয়ে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে.

এই প্রতিবেদনের যাবতীয় তথ্যের নির্ভরযোগ্য সূত্রসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

১. ইরানের মিসাইল হামলা ও ইসরায়েলে রেড অ্যালার্ট: আল-জাজিরা (Al Jazeera), ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘নিউজ টুয়েলভ’ (News 12)। ২. ইসরায়েলের পাল্টা হামলা ও মিসাইল প্রযুক্তি: সিএনএন (CNN) এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)। ৩. আমেরিকার ভূমিকা ও ট্রাম্পের বক্তব্য: টাইমস অব ইসরায়েল (Times of Israel), ফক্স নিউজ (Fox News) এবং ফিনান্সিয়াল টাইমস (Financial Times)। ৪. ইয়েমেনের হুতিদের হামলা ও বাবে আল-মান্দাব প্রণালী বন্ধ: সিএনএন (CNN) এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম রিপোর্ট। ৫. ইসরায়েলি হাসপাতালের লাইভ আপডেট: ইসরায়েলের স্থানীয় হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম ও আইডিএফ (IDF) অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

ড. ইউনূস

নিউজ ডেস্ক

June 8, 2026

শেয়ার করুন

রাজনৈতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬

২০২৪ সালের আগস্টে এক নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির টেবিলে একটি প্রশ্ন জোরালোভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে—“ড. ইউনূস সরকার প্রধান হওয়ায় আমেরিকার কি কোনো বিশেষ স্বার্থ রয়েছে?”

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এবং ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, এই পরিবর্তনের পেছনে পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-কৌশলগত পরিকল্পনা কাজ করেছে। অন্যদিকে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের মতে, এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের ফসল। তবে পরাশক্তিগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, যেকোনো বড় পরিবর্তনের পেছনেই ভূ-রাজনৈতিক মোড়লদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ জড়িত থাকে।

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (IPS) ও বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ

দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (Indo-Pacific Strategy)। এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে কাউন্টার বা নিয়ন্ত্রণ করা।

১. সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও সেনা ঘাঁটি বিতর্ক

শেখ হাসিনা সরকার পতনের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আমেরিকা বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি সামরিক বা নৌ-ঘাঁটি তৈরি করতে চায়। তৎকালীন সরকার দাবি করেছিল, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণেই পশ্চিমা বিশ্ব তাদের ওপর নাখোশ ছিল। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (US State Department) একাধিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, তবুও ভূ-রাজনীতির গবেষকরা মনে করেন—সরাসরি সেনা ঘাঁটি না হলেও, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত জলসীমায় একটি পশ্চিমা-বান্ধব সরকারের উপস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।

২. ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য (চীন ও ভারত ফ্যাক্টর)

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে চীন ও ভারতের যে একচেটিয়া অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব তৈরি হয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর সেখানে এক ধরণের নতুন ভারসাম্য বা ‘কৌশলগত পুনর্বিন্যাস’ তৈরি হয়েছে। আমেরিকা চায় এমন একটি সরকার ব্যবস্থা, যা বেইজিং বা দিল্লির একক প্রভাবে পরিচালিত না হয়ে ওয়াশিংটনের স্বার্থের প্রতিও সংবেদনশীল থাকবে।

বৈশ্বিক ‘রেজিম চেঞ্জ’ (Regime Change) ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বা ঘুরপথে সরকার পরিবর্তনের ঘটনাকে প্রায়শই “Regime Change” বা হাইব্রিড যুদ্ধকৌশল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ইরানের সাম্প্রতিক উদাহরণগুলো উল্লেখযোগ্য:

  • পাকিস্তানের উদাহরণ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যখন আমেরিকার প্রকাশ্য বিরোধিতা শুরু করেন, তখন একটি ‘গোপন চিঠি’ বা সাইফারকে কেন্দ্র করে তাঁর পতন ঘটে। পরবর্তীতে আমেরিকার সাথে ঐতিহ্যগতভাবে ভালো সম্পর্ক রাখা শেহবাজ শরিফ সরকার ক্ষমতায় আসে।
  • ইরানের সমীকরণ: ইরানের কট্টরপন্থী ও আমেরিকা-বিরোধী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর, দেশটির শাসনক্ষমতায় আসেন তুলনামূলকভাবে পশ্চিমা ভাবধারাপন্থী ও নমনীয় নীতিতে বিশ্বাসী নতুন রাষ্ট্রপ্রধান।
  • বাংলাদেশের মিল: সমালোচকদের মতে, পাকিস্তান ও ইরানের মতোই বাংলাদেশেও একটি দীর্ঘমেয়াদী একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটার পর যে নতুন নেতৃত্ব এসেছে, তা পশ্চিমা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন: বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ) জন্য বাংলাদেশে নীতিগত অনুপ্রবেশের পথ অনেক সহজ করে দিয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতি ও দীর্ঘমেয়াদী ভূ-কৌশলগত চক্রান্ত

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আরেকটি সংবেদনশীল তত্ত্ব হলো—বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং ভারতের কিছু অংশ নিয়ে একটি পৃথক অঞ্চল বা অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কুকি-চিন (Kuki-Chin) ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জাতিগত অস্থিতিশীলতাকে অনেক বিশ্লেষক পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং ভূ-রাজনৈতিক মোড়লদের স্বার্থের সাথে মিলিয়ে দেখেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বব্যাপী যে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা পশ্চিমা দেশগুলোকে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে পারে বলে মনে করেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ।

আমাদের চূড়ান্ত বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রই চিরস্থায়ী বন্ধু বা চিরস্থায়ী শত্রু নয়; সেখানে একমাত্র সত্য হলো “জাতীয় স্বার্থ”। ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং নোবেলজয়ী হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বে তাঁর অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই ভাবমূর্তি বাংলাদেশের জন্য বড় শক্তি।

তবে মুদ্রার ওপিঠে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে টিকে থাকার জন্য পরাশক্তিগুলোর বিরোধিতা ও সমঝোতার ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পশ্চিমা স্বার্থ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডার ‘গুটি’ (Pawn) না হয়ে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

(এই কন্টেন্টের প্রতিটি তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও ভেরিফাইড সংবাদমাধ্যম থেকে নেওয়া হয়েছে) ১. ড. ইউনূস সরকারের শপথ ও গণঅভ্যুত্থান: রয়টার্স (Reuters) এবং বিবিসি নিউজ (BBC News) – “Bangladesh’s interim government leader Muhammad Yunus takes oath”. ২. সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির দাবি ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের খণ্ডন: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট (U.S. Department of State Official Press Briefings) এবং ভয়েস অব আমেরিকা (VOA Bangla) – “US has no plans for military base in St. Martin’s Island”. ৩. আমেরিকার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ: ইউএসএআইডি (USAID) এবং দ্য ডিপ্লোম্যাট (The Diplomat Journal) – “US-Bangladesh Relations and the Indo-Pacific Strategy”. ৪. পাকিস্তানের সাইফার ও ইমরান খানের পতন: আল জাজিরা (Al Jazeera) – “The Pakistan Cipher case and Imran Khan’s ouster”. ৫. ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ও পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক: বিবিসি নিউজ (BBC News) – “Masoud Pezeshkian: Iran’s new president takes office with reformist goals”.

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ