ইতিহাস

কেন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হচ্ছে না?
শান্তি চুক্তি

নিউজ ডেস্ক

May 27, 2026

শেয়ার করুন

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো—পাহাড়ি আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও সশস্ত্র সংঘাত, অবৈধ অস্ত্রের সর্বগ্রাসী রূপ, ভূমি মালিকানা নির্ধারণে জটিলতা এবং স্থায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে না পারা।

যদিও এই চুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তবুও স্থায়ী শান্তির জন্য চুক্তির মূল শর্তগুলো এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার মূল কারণসমূহ

বাস্তব পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রধান বাধাগুলোকে ৪টি বড় ভাগে চিহ্নিত করা যায়:

১. পাহাড়ি সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও খুনোখুনি

চুক্তি সম্পাদনের পর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।

  • প্রতিপক্ষ তৈরি: চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই এর বিরোধিতা করে গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF)।
  • উপাঞ্চলে উপদল: বর্তমানে মূল জনসংহতি সমিতি (JSS) এবং ইউপিডিএফ—উভয় সংগঠনই দুটি করে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
  • সশস্ত্র সংঘাত: এই চার-পাঁচটি গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে প্রতিনিয়ত পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত। পাহাড় এখন অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং নিত্যদিনের খুনোখুনিতে সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে।

২. ভূমি মালিকানা ও জরিপ ব্যবস্থার জটিলতা

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল উপজাতীয়দের ভূমির মালিকানা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং এর জন্য একটি বিশেষ ভূমি জরিপ ব্যবস্থা পরিচালনা করা। কিন্তু বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ, নথিপত্রের অভাব এবং সমন্বিত ভূমিনীতি না থাকার কারণে এই জরিপ ও ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজটি থমকে আছে।

৩. নিরাপত্তা ও অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার সংকট

চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে, স্থায়ী সেনানিবাস বহাল রেখে পর্যায়ক্রমে সব অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। তবে:

  • পাহাড়ে নতুন নতুন বেশ কিছু সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
  • এই সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রও পার্বত্য অঞ্চল থেকে সামরিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ বা অস্থায়ী ক্যাম্প পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে পারছে না।

৪. অবিশ্বাস ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব

স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং বাঙালিদের মধ্যে এখনো এক ধরণের অবিশ্বাসের দেয়াল রয়ে গেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হলেও পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সামাজিক বিচারকাজ পুরোপুরি স্থানীয় নিয়ন্ত্রণে না আসায় অসন্তোষ রয়ে গেছে।

চুক্তির ইতিবাচক অর্জন ও ভবিষ্যৎ সমাধানের পথ

এত সব সংকটের মধ্যেও পার্বত্য শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ের সার্বিক চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।

  • অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে।
  • পর্যটন বিপ্লব: পর্যটন খাত ব্যাপকভাবে বিকশিত হওয়ায় স্থানীয় পাহাড়ি এবং বাঙালি—উভয়েই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
  • শিক্ষার প্রসার: পাহাড়ে শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে চাকমা জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও চাকরিতে, এমনকি সেনাবাহিনী ও পুলিশেও নিজেদের মজবুত অবস্থান তৈরি করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাতের বিস্তারিত ঐতিহাসিক টাইমলাইন

পার্বত্য চট্টগ্রাম (CHT) সংঘাত ছিল মূলত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (জুম্ম জনগোষ্ঠী) অধিকার রক্ষার একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগ্রাম। নিচে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সূচনা, সশস্ত্র বিদ্রোহের বিস্তার এবং অবশেষে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলোর বিস্তারিত টাইমলাইন দেওয়া হলো:

১. ঔপনিবেশিক আমল ও সংকটের সূত্রপাত (১৮৬০–১৯৪৭)

  • ১৮৬০: ব্রিটিশ প্রশাসন পার্বত্য চট্টগ্রামকে চট্টগ্রামের সমতল রেগুলেটরি ডিস্ট্রিক্ট থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সমতলের মানুষের অবাধ প্রবেশ থেকে পাহাড়ের আদিবাসীদের সংস্কৃতি রক্ষা করা।
  • ১৯০০ (পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল): ব্রিটিশরা ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধিমালা প্রণয়ন করে। এই আইনের মাধ্যমে অঞ্চলটিকে প্রথাবদ্ধ রাজা বা চিফদের (সার্কেল চিফ) অধীনে সীমিত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয় এবং বহিরাগতদের জন্য পাহাড়ে জমি কেনা বা স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

২. দেশভাগ ও পরবর্তী অরক্ষিত পরিস্থিতি (১৯৪৭–১৯৭১)

  • ১৯৪৭: ভারত বিভাগের সময় পার্বত্য অঞ্চলের জনসংখ্যা ৯৭% অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, বাউন্ডারি কমিশন (র‌্যাডক্লিফ লাইন) এই অঞ্চলটিকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে।
  • ১৯৬২ (কাপ্তাই বাঁধ বিপর্যয়): পাকিস্তান সরকার পাহাড়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করে। এর ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের পানিতে পাহাড়ের ৪০% চাষযোগ্য জমি তলিয়ে যায় এবং প্রায় ১ লাখ আদিবাসী বাস্তুচ্যুত হয়। প্রায় ৪০,০০০ চাকমা শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়, যা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পাহাড়িদের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
  • ১৯৬৪: পাকিস্তান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের “বর্জনীয় এলাকা” (Excluded Area) স্ট্যাটাস বাতিল করে। এর ফলে সমতলের অ-উপজাতীয় মানুষদের পাহাড়ে স্থানান্তরের আইনি পথ উন্মুক্ত হয়।

৩. সশস্ত্র বিদ্রোহের উত্থান (১৯৭২–১৯৭৯)

  • ১৯৭২ (ফেব্রুয়ারি): বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, পাহাড়ি নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম. এন. লারমা)-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করেন। তাঁরা পার্বত্য অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন এবং ১৯০০ সালের ম্যানুয়াল বহাল রাখাসহ ৪ দফা দাবি পেশ করেন। তবে একক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়।
  • ১৯৭২ (মার্চ): এম. এন. লারমা পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি যৌথ রাজনৈতিক দল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) গঠন করেন।
  • ১৯৭৩: পিসিজেএসএস তাদের সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী (Shanti Bahini) গঠন করে এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ শুরু করে।
  • ১৯৭৬: শান্তিবাহিনী একটি সামরিক কনভয়ের ওপর প্রথম বড় ধরনের সশস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে রাজনৈতিক সংকটটি একটি সক্রিয় সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।

৪. সামরিকায়ন ও জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তন (১৯৯–১৯৮৯)

  • ১৯৭৯–১৯৮৫ (রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বসতি স্থাপন): তৎকালীন সরকার সমতলের প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ ভূমিহীন বাঙালি পরিবারকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত করে। এর ফলে পাহাড়ের আদিবাসী ও বাঙালি জনসংখ্যার ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়।
  • ১৯৮০ (কলমপাটি হত্যাকাণ্ড): কাউখালীতে একটি বড় ধরনের জাতিগত সহিংসতা ঘটে, যা পাহাড় জুড়ে পাল্টা সামরিক অভিযান ও সংঘাতের চক্র শুরু করে। এই দশকের মধ্যে হাজার হাজার পাহাড়ি শরণার্থী ভারতের ত্রিপুরার ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
  • ১৯৮৩: আদর্শিক দ্বন্দ্বে পিসিজেএসএস-এর অভ্যন্তরে ভাঙন ধরে। এম. এন. লারমা প্রতিদ্বন্দ্বী উপদলের হাতে নিহত হন এবং তাঁর ভাই জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেন।

৫. শান্তি আলোচনার পথ (১৯৮৯–১৯৯৬)

  • ১৯৮৯: সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে সরকার স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন পাস করে তিনটি পৃথক জেলা পরিষদ (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) গঠন করে। তবে পিসিজেএসএস এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে, কারণ এতে সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন বা ভূমির অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না।
  • ১৯৯২: পিসিজেএসএস একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যার ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়। বিদ্রোহীদের সাথে আলোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
  • ১৯৬: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সন্তু লারমার সাথে সরাসরি শান্তি আলোচনার গতি ত্বরান্বিত করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠন করে।

৬. ঐতিহাসিক ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তি

  • ১৯৯৭ (২ ডিসেম্বর): ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পিসিজেএসএস-এর মধ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
                        [ ১৯৯৭ পার্বত্য শান্তি চুক্তি ]
                                      |
       +------------------------------+------------------------------+
       |                              |                              |
[ রাজনৈতিক স্বীকৃতি ]           [ প্রশাসনিক রূপান্তর ]          [ সামরিক ক্যাম্প প্রত্যাহার ]
পার্বত্য অঞ্চলকে উপজাতি        তিন জেলার সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক    স্থায়ী সেনানিবাস বহাল রেখে
অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি   পরিষদ গঠন, যার প্রধান হবেন     সব অস্থায়ী সেনা ও আনসার
ও প্রথাবদ্ধ আইনের সুরক্ষা।      একজন উপজাতীয় প্রতিনিধি।        ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার।

এই চুক্তির মাধ্যমে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করে সাধারণ জীবনে ফিরে আসে। এছাড়া চুক্তিতে বাস্তুচ্যুত পাহাড়িদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি ল্যান্ড কমিশন গঠন এবং পাহাড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করা হয়।

সমাধানের উপায়:

পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য ছোট ছোট জনজাতিগুলো যত বেশি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে, দেশের মূল ধারার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সাথে তাদের সম্পৃক্ততা তত বাড়বে। পাহাড়ি-বাঙালি বিভেদ কমিয়ে এই মূলধারার সম্পৃক্ততাই পারে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান এনে দিতে।

১৯৯৭ পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

১. অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন

পাহাড়ের শান্তি চুক্তি-পরবর্তী পর্যটনের সবচেয়ে দৃশ্যমান এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এর অর্থনীতিতে। পর্যটকদের ব্যাপক আগমন এই অঞ্চলের জুম-ভিত্তিক কৃষি অর্থনীতিকে একটি উদীয়মান সেবা-ভিত্তিক (Service-oriented) বাণিজ্য কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে।

অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ

পর্যটন শিল্পকে সহজতর করার জন্য পরবর্তী সরকারগুলো ভৌত অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে। থানচি-আলিকদম সড়ক (বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচলের রাস্তা) এর মতো রুক্ষ পাহাড়ি পথগুলো তৈরি হওয়ায় দুর্গম উপত্যকাগুলো জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়েছে। এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত আদা, হলুদ এবং বিভিন্ন মৌসুমী ফল পরিবহনের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তারা সরাসরি সমতলের বড় বাজারের সুবিধা পাচ্ছে।

জীবিকার বহুমুখীকরণ

পর্যটন শিল্প পাহাড়ের জুম চাষের ওপর ঐতিহ্যগত নির্ভশীলতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। একটি সমৃদ্ধ আতিথেয়তা খাত (Hospitality Sector) গড়ে ওঠায় স্থানীয় মানুষের জন্য সরাসরি এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে:

  • হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা: সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি এবং কাপ্তাইয়ের মতো জনপ্রিয় স্পটগুলোতে অসংখ্য ইকো-রিসোর্ট, হোটেল এবং রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে।
  • পরিবহন খাত: স্থানীয় বোট অপারেটর, জিপ বা চান্দের গাড়ির চালক এবং গাইডদের কাজের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • হস্তশিল্প অর্থনীতি: পর্যটকদের চাহিদার কারণে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতের কাপড় (থামি), বাঁশ ও বেতের তৈরি হস্তশিল্পের বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন ঘটেছে।

২. সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব: সম্পৃক্ততা বনাম প্রান্তিককরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের সামাজিক ফলাফল বেশ জটিল। এটি একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এনেছে, অন্যদিকে আদিবাসী সংস্কৃতির বাণিজ্যিকীকরণ ও প্রান্তিককরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

                  শান্তি চুক্তি পরবর্তী পার্বত্য পর্যটন
                                   |
         +-------------------------+-------------------------+
         |                                                   |
 [ ইতিবাচক প্রভাব ]                                  [ নেতিবাচক চ্যালেঞ্জ ]
 - অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন                         - ভূমির মালিকানা ও বাস্তুচ্যুতি
 - জীবিকার বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান                    - আদিবাসী সংস্কৃতির বাণিজ্যিকীকরণ
 - জাতীয় পর্যায়ে পাহাড়ি ঐতিহ্যের প্রচার                 - পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয়

সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও গৌরব

ইতিবাচক দিক থেকে, পর্যটন শিল্প পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর (যেমন- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা এবং ম্রো) সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব (যেমন- বিজু বা সাংগ্রাই), জুমের খাবার এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী মাচা-ঘর সমতলের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে, যা দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমাতে সাহায্য করছে।

সাংস্কৃতিক বাণিজ্যিকীকরণের চ্যালেঞ্জ

বিপরীতপক্ষে, অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত গড়ে ওঠা পর্যটনের কারণে আদিবাসী সংস্কৃতির ‘পণ্যায়ন’ (Commodification) নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক সময় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে পর্যটকদের জন্য কেবলই একটি ‘প্রদর্শনী’ বা ছবি তোলার উপাদানে পরিণত করা হয়, যা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের নিজস্ব গোপনীয়তা এবং সংস্কৃতির মৌলিকত্বকে ক্ষুণ্ণ করে।

ভূমি বিরোধ ও জনসংখ্যাগত চাপ

পর্যটন শিল্পের বিকাশের সাথে জড়িয়ে আছে পাহাড়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়—ভূমির মালিকানা। বিলাসবহুল রিসোর্ট, বাণিজ্যিক হোটেল এবং বিনোদন পার্ক নির্মাণের জন্য পাহাড়ি জমি অধিগ্রহণের ফলে কোনো কোনো এলাকায় আদিবাসী পরিবারগুলো তাদের পৈত্রিক ভূমি থেকে উচ্ছেদের সম্মুখীন হয়েছে। যেহেতু ভূমি বিরোধই ছিল পার্বত্য সংঘাতের মূল কারণ, তাই পর্যটনের নামে অনিয়ন্ত্রিত জমি দখল স্থানীয় পাহাড়ি এবং সমতলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করার ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. পরিবেশগত বিপর্যয় এবং বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি

অসংযমী ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ের যে আদিম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে, তা এখন পরিবেশগত ধ্বংসের মুখোমুখি।

  • বন উজাড় ও পাহাড় কাটা: রাস্তাঘাট ও রিসোর্ট বানানোর জন্য অবাধে গাছ কাটা এবং পাহাড় কাটার ফলে বর্ষাকালে মাটি ধস (Landslide) এবং ক্ষয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
  • তীব্র পানি সংকট: সাজেক ভ্যালির মতো জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এখন সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোর অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের ফলে স্থানীয় প্রাকৃতিক ঝরনা বা ‘ছড়া’ শুকিয়ে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে আদিবাসী গ্রামবাসীদের।
  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট: বগা লেক বা খাগড়াছড়ির ঝরনাগুলোর আশেপাশে প্লাস্টিক দূষণ এবং অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও পানির বিশুদ্ধতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

উপসংহার: টেকসই ইকো-ট্যুরিজমের পথ

১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তি-পরবর্তী পর্যটন শিল্প পার্বত্য চট্টগ্রামে অপরিবর্তনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আধুনিক অবকাঠামো নিয়ে এসেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি সফলভাবে একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক ধারার সাথে যুক্ত করেছে।

তবে এই পর্যটনকে পাহাড়ের মানুষের জন্য প্রকৃত আশীর্বাদ করে তুলতে হলে রাষ্ট্র এবং বেসরকারি অংশীজনদের অবশ্যই একটি কঠোর কমিউনিটি-ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম মডেল (Community-based Eco-tourism) অনুসরণ করতে হবে। ভবিষ্যতের নীতিমালায় আদিবাসীদের ভূমির অধিকার রক্ষা করা, পর্যটনের আয়ের একটি সিংহভাগ স্থানীয়দের কল্যাণে ব্যয় করা এবং পরিবেশগত আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। পাহাড়ের প্রকৃত শান্তি ও উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন পর্যটন প্রকৃতির পবিত্রতা এবং পাহাড়ের মূল অধিবাসীদের মর্যাদা—উভয়কেই সম্মান করবে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

রবীন্দ্রনাথ

নিউজ ডেস্ক

October 12, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): ইতিহাস, বাঙালি সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আন্দোলন
  • প্রকাশের তারিখ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): ১৯৬৫ সালের যুদ্ধভিত্তিক ঐতিহাসিক দলিল, খাজা শাহাবুদ্দীনের বেতার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঘোষণা, এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রামাণ্য ইতিহাস।

বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই এবং রাজনৈতিক মুক্তির ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অবিচ্ছেদ্য প্রেরণার নাম। বিশেষ করে পাকিস্তান আমলে (১৯৪৭-১৯৭১) যখনই বাঙালির জাতিসত্তা, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসনের “কালো মেঘ” ঘনিয়ে এসেছে, তখনই রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সেই লড়াইয়ে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতার মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। তারা বাঙালি সংস্কৃতিকে “ইসলাম-বিরোধী” বা “ভারতীয় সংস্কৃতি” হিসেবে তকমা দিয়ে তা মুছে ফেলার চেষ্টা করে। এই কৃত্রিম সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রসাহিত্য ও রবীন্দ্রসংগীত বাঙালির জন্য আত্মপরিচয় রক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করেছিল।

২. রবীন্দ্রসংগীতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বুদ্ধিজীবীদের লড়াই

১৯৬১ সালে বিশ্বকবির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে পাকিস্তানি সরকার নানা বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বাঙালি তাদের সংস্কৃতির ওপর সরাসরি চরম আঘাত হিসেবে গণ্য করে।

  • এর প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব বাংলার কবি, লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
  • ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন ও রবীন্দ্রসংগীতের চর্চাকে আন্দোলনের রূপ দেয়।
  • এই লড়াইটি কেবল গান গাওয়ার অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ সংগ্রাম।

৩. রাজনৈতিক আন্দোলনে রবীন্দ্রচেতনা

রাজনৈতিক শোষণের কালো মেঘ যখনই পূর্ব বাংলার আকাশকে গ্রাস করতে চেয়েছিল, তখনই রবীন্দ্রসংগীত বাঙালির মুক্তিকামী চেতনাকে উজ্জীবিত করেছে।

  • ছয় দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি জনসভায় রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা ছিল নিয়মিত ঘটনা।
  • জাতীয় সংগীতের রূপরেখা: ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথের “আমার সোনার বাংলা” গানটি গেয়ে বাঙালি তাদের স্বাধীন সত্তার জানান দেয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্থান পায়।

৪. অন্ধত্ব ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে আলোকবর্তিকা

রবীন্দ্রনাথের দর্শন তার ভাল দিক কি কি ?

রবীন্দ্রনাথের দর্শন ছিল মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। পাকিস্তানি শাসকেরা যখন ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বাঙালিদের বিভক্ত করতে চেয়েছিল, তখন রবীন্দ্র রচনাবলী বাঙালিকে শিখিয়েছে কীভাবে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে উদার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন করতে হয়।

সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই ও রাজনৈতিক মুক্তি অর্জনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন ও তার সৃষ্টির ইতিবাচক বা ভালো দিকগুলো ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। বাঙালির চেতনা গঠনে তার চিন্তাধারার প্রধান ভালো দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • অসাম্প্রদায়িক চেতনা: রবীন্দ্রনাথের পুরো দর্শনই ছিল মানুষের জয়গানে মুখর। তিনি ধর্ম, বর্ণ বা জাতির সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। পাকিস্তানি শাসকেরা যখন ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, তখন তাঁর এই অসাম্প্রদায়িক চিন্তা বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাহায্য করেছে।
  • মানবিক মূল্যবোধ ও উদারতা: তাঁর সাহিত্য ও কবিতা মানুষকে কূপমণ্ডূকতা, অন্ধত্ব এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে উদার হতে অনুপ্রাণিত করে। এটি সমাজের গোঁড়ামি দূর করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
  • ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অহংকার: রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছেন। তাঁর সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্মের কারণেই বাঙালি নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করার সাহস এবং শক্তি পেয়েছিল।
  • প্রতিরোধের মানসিকতা: তাঁর গান ও কবিতা (যেমন: “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে” বা “সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান”) যেকোনো অন্যায়, শোষণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এবং প্রতিবাদ করার সাহস জোগায়।
  • প্রকৃতি ও স্বদেশের প্রতি নিখাদ প্রেম: তাঁর প্রতিটি দেশাত্মবোধক গান মানুষের মনে দেশের মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতা তৈরি করে, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষের জন্য চরম আত্মত্যাগের মূল অনুপ্রেরণা ছিল।

রবীন্দ্রনাথের নেতিবাচক প্রচার ও সমালোচনার দিকগুলো

রবীন্দ্রনাথের চিন্তা, সাহিত্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদে তাঁর প্রভাবের কোনো বস্তুগত বা নৈতিক “খারাপ দিক” ছিল না। তবে, পাকিস্তান আমলের শাসকগোষ্ঠী ও কট্টরপন্থী মহল রবীন্দ্রচর্চাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল এবং রবীন্দ্রচেতনার অতি-ব্যবহার নিয়ে পরবর্তী সময়ে কিছু সমাজতাত্ত্বিক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সেই নেতিবাচক প্রচার ও সমালোচনার দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • পাকিস্তান সরকারের চোখে “ভারতের সাংস্কৃতিক আধিপত্য”: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং তৎকালীন কট্টরপন্থী বুদ্ধিজীবীরা রবীন্দ্রনাথকে একজন “অমুসলিম এবং ভারতীয় কবি” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, রবীন্দ্রচর্চার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা তাদের ইসলামী সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং ভারতের সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে মেনে নিচ্ছে।
  • বাঙালি সংস্কৃতির বুর্জোয়া বা উচ্চবিত্ত রূপায়ণ: সমাজতাত্ত্বিক ও বামপন্থী সমালোচকদের একাংশের মতে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন মূলত জোড়াসাঁকোর জমিদার পরিবারের জমিদারি আমেজ এবং উচ্চবিত্ত (বুর্জোয়া) শ্রেণির জীবনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। ফলে পাকিস্তানি আমলে রবীন্দ্রচর্চাকে যখন বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান প্রতীক করা হয়, তখন তা সাধারণ খেটে খাওয়া গ্রামীণ মানুষের সংস্কৃতির চেয়ে শহুরে উচ্চ-মধ্যবিত্তের সংস্কৃতিকেই বেশি প্রতিনিধিত্ব করেছিল।
  • অন্যান্য দেশীয় উপাদান উপেক্ষিত হওয়ার বিতর্ক: স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, বাঙালির সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াইয়ে রবীন্দ্রনাথের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে বাংলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতি (যেমন: লালন, হাসন রাজা বা গ্রামীণ লোকগান) এবং কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ও গণমুখী চেতনা সাময়িকভাবে কিছুটা কম গুরুত্ব পেয়েছিল।

সংক্ষেপে, রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় কোনো ত্রুটি ছিল না; বরং তাঁর সৃষ্টিকে তৎকালীন পাকিস্তানি রাজনীতি যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছিল এবং পরবর্তীকালে রবীন্দ্রচর্চাকে যেভাবে শ্রেণি-স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, সমালোচনাগুলো মূলত সেই চর্চাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।

পাকিস্তান আমলে খাজা শাহাবুদ্দিনের রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধের যুক্তিগুলো

১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্য ও বেতার মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন জাতীয় পরিষদে বেতার ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন । এই সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের কট্টরপন্থী তল্পিবাহকদের প্রধান যুক্তিগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ।

তাদের উত্থাপিত প্রধান যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • “পাকিস্তানের আদর্শের” পরিপন্থী: খাজা শাহাবুদ্দিনের মূল আনুষ্ঠানিক যুক্তি ছিল যে, রবীন্দ্রনাথের গান ও সৃষ্টি “পাকিস্তানি আদর্শের” (Ideology of Pakistan) সাথে খাপ খায় না । তিনি দাবি করেছিলেন, রেডিও-টেলিভিশনে এমন কোনো কিছু প্রচার করা যাবে না যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাবাদর্শ ও সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে।
  • রবীন্দ্রনাথ আমাদের সংস্কৃতির অংশ নন: জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে খাজা শাহাবুদ্দিন সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির কেউ নন” । তাঁর যুক্তি ছিল, যেহেতু রবীন্দ্রনাথ একজন অমুসলিম এবং তাঁর জীবন ও কর্মের মূল ভিত্তি ছিল অবিভক্ত ভারত (বিশেষ করে হিন্দু সংস্কৃতি-ঘেঁষা), তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানের জাতীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তাকে গণ্য করা যায় না ।
  • “মুসলিম তমদ্দুন” বা ইসলামী সংস্কৃতির অবমাননা: সরকারের পক্ষ থেকে এবং তাদের সমর্থক কট্টরপন্থী বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রবীন্দ্রসংগীতের ভাষা, সুর ও ধারণা পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম ঐতিহ্য বা “মুসলিম তমদ্দুনকে” অবজ্ঞা করে । তাদের মতে, রবীন্দ্রচর্চা বজায় রাখার অর্থ হলো পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
  • ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও রাজনৈতিক প্রচার: ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর এই রবীন্দ্র-বিরোধী মনোভাব আরও চরম আকার ধারণ করে । পাকিস্তানি শাসকদের যুক্তি ছিল, পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রসংগীতের জনপ্রিয়তা আসলে ভারতের মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যেরই অংশ। তারা দাবি করেছিল, রবীন্দ্রচর্চাকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে

বাঙালির প্রতিক্রিয়া:
খাজা শাহাবুদ্দিনের এই সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক যুক্তিগুলোকে বাঙালি বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন । তৎকালীন পূর্ব বাংলার শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেন এবং ছায়ানটের মতো সংগঠনগুলোর মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীতকে পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতীক বানিয়ে তোলেন

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী

নিউজ ডেস্ক

October 11, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): বিজ্ঞানের ইতিহাস, দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব
  • প্রকাশের তারিখ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): Stanford Encyclopedia of Philosophy, Nobel Prize Archives, এবং Isaac Newton’s Theological Manuscripts.

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের ধর্মীয়, ঈশ্বরসংক্রান্ত ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস নিয়ে ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞান লেখক এবং গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা চলমান। অনেক বিজ্ঞানী তাঁদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ডায়েরি বা ব্যক্তিগত চিঠিপত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন, যা পরবর্তীতে তাঁদের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস কেবল “আস্তিক” বা “নাস্তিক”—এই দুটি সরলরেখায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা প্রথাগত ঈশ্বরে বিশ্বাস (Theism/Deism), সর্বেশ্বরবাদ (Pantheism/Spinoza’s God), এবং সংশয়বাদ (Agnosticism)-এর মতো বহুমাত্রিক দর্শনে বিভক্ত ছিল।

১. প্রথাগত ঈশ্বরে বিশ্বাসী ও প্রজ্ঞাবান দেউইস্ট (Theist / Deist)

সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের একটি বিশাল অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম ও সুশৃঙ্খল নকশার পেছনে একজন স্রষ্টা বা প্রজ্ঞাবান সত্তা বিদ্যমান:

স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton)

  • স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton):স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনের এই দিকটি সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। আমরা তাকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে জানলেও, ঐতিহাসিক তথ্য ও তাঁর নিজস্ব পাণ্ডুলিপি প্রমাণ করে যে তিনি বিজ্ঞানের চেয়ে ধর্মতত্ত্ব, বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী এবং অ্যালকেমি (Alchemy) চর্চায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। নিউটন এবং তাঁর এই ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
  • বিপুল পরিমাণ ধর্মীয় লেখা: নিউটন জীবদ্দশায় যত পৃষ্ঠা লিখেছেন, তার সিংহভাগই ছিল ধর্মতত্ত্ব ও বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর। আনুমানিক হিসাবে, তিনি বিজ্ঞানের চেয়ে ধর্ম বিষয়ে প্রায় কয়েক গুণ বেশি (প্রায় ৩০ লক্ষ শব্দ) লিখে গেছেন।
  • ধর্মকে বিজ্ঞানের পরিপূরক ভাবা: নিউটনের কাছে বিজ্ঞান এবং ধর্ম আলাদা কোনো বিষয় ছিল না। তিনি মনে করতেন, মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়মগুলো (যেমন অভিকর্ষ বা গতির সূত্র) আবিষ্কার করার অর্থ হলো ঈশ্বরের তৈরি করা নকশাকে আরও ভালোভাবে অনুধাবন করা।
  • মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খলতা (Order of the Universe): আপনার উল্লেখ করা Principia গ্রন্থের উক্তিটি নিউটনের মূল দর্শনকে প্রকাশ করে। তিনি মনে করতেন, গ্রহগুলোর নিখুঁত কক্ষপথ এবং মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে না; এর পেছনে একজন ‘মহাজাগতিক স্থপতি’ (Divine Architect) রয়েছেন।
  • পৃথিবীর ধ্বংসের সময় গণনা: বাইবেলের বুক অব ড্যানিয়েল (Book of Daniel) এবং বুক অব রেভেলেশন (Book of Revelation) গভীরভাবে অধ্যয়ন করে নিউটন একটি হিসাব করেছিলেন। তাঁর গণনা অনুযায়ী, ২০৬০ সালের আগে এই পৃথিবী ধ্বংস বা বড় কোনো পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে না। অবশ্য তিনি এটি ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে নয়, বরং উগ্র ভবিষ্যৎবাণীকারীদের ভুল প্রমাণ করার জন্য হিসাব করেছিলেন।
  • নিউটনের এই গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসই তাকে প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে অনুপ্রাণিত করেছিল। বিজ্ঞান জগতের আরেক মহানায়ক আলবার্ট আইনস্টাইনও নিউটনের এই চিন্তাধারার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।

গ্যালিলিও গ্যালিলি ও জোহানেস কেপলার:

  • গ্যালিলিও গ্যালিলি ও জোহানেস কেপলার:গ্যালিলিও গ্যালিলি এবং জোহানেস কেপলার—উভয়েই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তারা দুজনেই বিজ্ঞান চর্চাকে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।
  • এই দুই মহান বিজ্ঞানীর আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
  • গ্যালিলিও গ্যালিলি এবং ঈশ্বরের ‘দুই গ্রন্থ’ দর্শন
  • গ্যালিলিও চার্চের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ালেও (সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের কারণে), তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস কখনো হারাননি।
  • প্রকৃতি ও বাইবেল: গ্যালিলিও একটি বিখ্যাত তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বর মানুষের জন্য দুটি বই লিখেছেন—একটি হলো পবিত্র বাইবেল (The Book of Scripture) এবং অন্যটি হলো প্রকৃতি (The Book of Nature)। তিনি বলতেন, বাইবেল লেখা হয়েছে রূপক ভাষায় যাতে সাধারণ মানুষ নৈতিক পথ খুঁজে পায়, আর প্রকৃতি লেখা হয়েছে গণিতের ভাষায়। দুটিই যেহেতু একই ঈশ্বরের সৃষ্টি, তাই সত্যিকারের বিজ্ঞান এবং সত্যিকারের ধর্ম কখনো একে অপরের বিরোধী হতে পারে না।
  • একটি বিখ্যাত উক্তি: গ্যালিলিও লিখেছিলেন, “আমি এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য নই যে, যে ঈশ্বর আমাদের ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছেন, তিনি আমাদের এগুলোর ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলেছেন।”
  • জোহানেস কেপলার এবং ‘ঈশ্বরের চিন্তা’
  • কেপলার প্রথমে ধর্মতত্ত্ব (Theology) নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং যাজক হতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে আসেন, তবে তার উদ্দেশ্য ছিল আধ্যাত্মিক।
  • মহাজাগতিক জ্যামিতি: কেপলার বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর একজন মহান জ্যামিতিক কারিগর। তিনি যখন গ্রহের গতি সম্পর্কিত তিনটি বিখ্যাত সূত্র আবিষ্কার করেন, তখন তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে লিখেছিলেন যে, তিনি মূলত “ঈশ্বরের চিন্তাকে তাঁর পেছনে পেছনে পুনরায় ভাবছেন” (Thinking God’s thoughts after Him)।
  • উপাসনা হিসেবে বিজ্ঞান: কেপলার বিজ্ঞান চর্চাকে ঈশ্বরের এক ধরণের উপাসনা বা আরাধনা মনে করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মহাবিশ্বের গাণিতিক সামঞ্জস্য আবিষ্কার করার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের বুদ্ধিমত্তার সরাসরি প্রমাণ পায়।
  • এই দুই বিজ্ঞানীর জীবন ও দর্শন প্রমাণ করে যে, সপ্তদশ শতকের বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের সূচনা নাস্তিকতা থেকে হয়নি, বরং সৃষ্টিজগতের সুশৃঙ্খল নিয়মগুলোর পেছনে একজন বুদ্ধিমান সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজার গভীর আগ্রহ থেকে হয়েছিল।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ:

  • ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক এবং ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ-এর বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যকার গভীর সম্পর্কের দর্শনের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। পদার্থের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণু জগত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তারা দুজনেই প্রকৃতির এমন এক সুশৃঙ্খল নকশা ও রহস্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা তাদের মহাবিশ্বের পেছনে একটি উচ্চতর চেতনার অস্তিত্ব বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল।
  • এই দুই নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানীর চিন্তাধারাকে সংক্ষেপে এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়:
  • ১. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক (Max Planck): বিজ্ঞান ও ধর্মের পরিপূরকতা
  • ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক বিশ্বাস করতেন যে বিজ্ঞান ও ধর্ম একে অপরের শত্রু নয়, বরং তারা একই সত্যকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার দুটি মাধ্যম।
  • যুক্তি ও বিশ্বাস: তাঁর মতে, বিজ্ঞান মানুষকে বস্তুগত জগতের কার্যকারণ বুঝতে সাহায্য করে (যার প্রতীক হলো ‘যুক্তি’), আর ধর্ম মানুষকে জীবনের নৈতিক দিক ও মূল্যবোধ শেখায় (যার প্রতীক হলো ‘বিশ্বাস’)।
  • একটি বিখ্যাত দর্শন: ১৯৩৭ সালে তাঁর এক বিখ্যাত বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, “উভয় বিজ্ঞান এবং ধর্মের জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্বই সমস্ত চিন্তার সূচনা।” তিনি মনে করতেন, পদার্থের গভীরে এমন কোনো স্বাধীন শক্তি নেই, বরং সমস্ত ম্যাটার বা পদার্থের পেছনে একটি সচেতন ও বুদ্ধিমান মনের (Conscious and Intelligent Mind) অস্তিত্ব রয়েছে।
  • ২. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ (Werner Heisenberg): পাত্রের তলায় ঈশ্বরের অপেক্ষা
  • হাইজেনবার্গের এই উক্তিটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও গভীর ভাবার্থপূর্ণ একটি উক্তি। এর পেছনের মূল ভাবটি হলো:
  • অল্প বিদ্যার ফাঁদ: একজন মানুষ যখন বিজ্ঞান পড়া শুরু করে এবং প্রকৃতির ওপরের স্তরের কিছু নিয়ম (যেমন অভিকর্ষ বা রাসায়নিক বিক্রিয়া) শেখে, তখন তার মনে হতে পারে সবকিছুই যান্ত্রিক এবং এর জন্য কোনো সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই। এটিই হলো বিজ্ঞানের পাত্র থেকে নেওয়া “প্রথম ঢোক”, যা মানুষকে সাময়িকভাবে নাস্তিক বা অহংকারী করে তুলতে পারে।
  • গভীর সত্যের সন্ধান: কিন্তু সেই মানুষটিই যখন বিজ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করে—যেমনটা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব (Uncertainty Principle) বা মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করতে গেলে হয়—তখন সে দেখে যে প্রকৃতির নিয়মগুলো কত নিখুঁত, গাণিতিক এবং রহস্যময়। বিজ্ঞানের সেই চূড়ান্ত গভীরতাই হলো “পাত্রের তলা”, যেখানে পৌঁছালে মানুষ প্রকৃতির এই মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তার সামনে নত হতে বাধ্য হয়।
  • কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের এই দুই পথপ্রদর্শকের চিন্তাভাবনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিজ্ঞান যত আধুনিক ও সূক্ষ্ম হয়েছে, বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে মহাবিশ্বের পেছনের মূল চালিকাশক্তিকে জানার আধ্যাত্মিক আগ্রহ ততটাই তীব্র হয়েছে।

২. স্পিনোজার ঈশ্বর ও সার্বজনীন সুশৃঙ্খলা (Pantheism)

অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ঈশ্বর বা মানুষের রূপ দেওয়া স্রষ্টায় বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু প্রকৃতির সুনির্দিষ্ট সৌন্দর্য ও ভৌত নিয়মকে ঈশ্বর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন:

[প্রথাগত ব্যক্তিগত ঈশ্বর প্রত্যাখ্যান] ➔ [মহাজাগতিক সুশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ] ➔ [প্রকৃতির নিয়মকেই ঈশ্বর মানা (Pantheism)]
  • আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein): আইনস্টাইন স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি কোনো ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না যিনি মানুষের বিচার করেন। তিনি বলতেন, “আমি স্পিনোজার ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, যিনি বিদ্যমান সকল বস্তুর সুশৃঙ্খল সামঞ্জস্যের মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করেন।” তিনি মহাবিশ্বের গাণিতিক নিখুঁত ভাবকে এক ধরণের আধ্যাত্মিক বিস্ময় (Cosmic Religious Feeling) বলে মনে করতেন।

৩. সংশয়বাদী ও বিবর্তনীয় দৃষ্টিভঙ্গি (Agnostic / Skeptic)

কিছু বিজ্ঞানী প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরাসরি নাস্তিক হওয়ার চেয়ে নিজেদের সংশয়বাদী (Agnostic) বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন:

বিজ্ঞানী ও ক্ষেত্রবিশ্বাসের ধরনপ্রধান বক্তব্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ
চার্লস ডারউইন (বিবর্তনবাদ)সংশয়বাদী (Agnostic)জীবনের শেষভাগে তিনি জানান যে তিনি কখনোই চরম নাস্তিক ছিলেন না; বরং মহাবিশ্বের উৎপত্তি মানুষের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ বোঝা অসম্ভব বলে নিজেকে ‘Agnostic’ মনে করতেন।
নিকোলা টেসলা (তড়িৎ প্রকৌশল)বৈদিক ও বিশ্বজনীন চেতনাটেসলা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অনুশাসন না মানলেও বৈদিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং পুরো মহাবিশ্বকে শক্তি, কম্পন ও স্পন্দনের এক মহান উৎস মনে করতেন।
মাদাম কুরি (তেজস্ক্রিয়তা)ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীব্যক্তিগত জীবনে পারিবারিক বিয়োগান্তক ঘটনার পর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম থেকে দূরে সরে আসেন এবং বিজ্ঞান ও মানবসেবায় জীবন উৎসর্গ করেন।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, আধুনিক বিজ্ঞানের জন্ম ও বিকাশ ঘটেছে এমন বহু ভাবুকের হাত ধরে, যারা ঈশ্বর বা মহাজাগতিক চেতনায় গভীর আস্থাশীল ছিলেন। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস নিয়ে কট্টর কোনো একপেশে সিদ্ধান্ত টানার সুযোগ নেই; বরং সত্য অনুসন্ধান ও প্রকৃতিকে গভীরভাবে জানার ভালোবাসাই তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসে পৌঁছে দিয়েছিল।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক

October 11, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): সুশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সামাজিক বিশ্লেষণ
  • প্রকাশেশনের তারিখ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD), পলিটিক্যাল সায়েন্স রিভিউ, এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ডাইনামিকস ডাটা।

রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সরাসরি রাজনীতির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই একজন সচেতন নাগরিকের জন্য রাজনীতি থেকে দূরে থাকা বা নির্লিপ্ত থাকা কার্যত নিজের জীবনযাত্রার নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে সঁপে দেওয়ার শামিল।

১. একজন সচেতন নাগরিকের কেন রাজনীতি করা বা সচেতন হওয়া উচিত?

রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই সচেতন নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি:

[নাগরিক সচেতনতা ও ভূমিকা] ➔ [সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ] ➔ [দুর্নীতি প্রতিরোধ] ➔ [মৌলিক অধিকার সুরক্ষা]
  1. দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব: আপনার প্রাত্যহিক জীবনের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিত্যপণ্যের বাজারদর, কর কাঠামো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবকিছুই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল।
  2. গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা শক্তিশালীকরণ: শিক্ষিত ও সৎ মানুষের নিষ্ক্রিয়তা মূলত অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করে। সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে।
  3. অধিকার আদায় ও অনিয়ম প্রতিরোধ: নিজের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনিক অনিয়ম রুখে দাঁড়াতে রাজনৈতিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

২. মানুষ কিছুটা বিত্তবান হলেই কেন রাজনীতিবিদ হতে চায়?

সমাজে অর্থ ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক বহুকাল ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে। বিত্তবান ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসার পেছনে কিছু বাস্তব ও বৈচিত্র্যময় কারণ কাজ করে:

প্রধান দিকনেপথ্য কারণ ও বাস্তব রূপরেখা
সামাজিক ক্ষমতা ও মর্যাদাঅর্থ মানুষকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিলেও সরাসরি প্রশাসনিক নীতি-নির্ধারণী ক্ষমতা দেয় না। বিত্তবানরা সমাজে শীর্ষ মর্যাদা ও ক্ষমতা পেতে রাজনৈতিক পদে আসেন।
সম্পদ সুরক্ষা ও ব্যবসার বিস্তাররাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজের ব্যবসা প্রসারিত করা, সরকারি ঠিকাদারি, বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়া এবং অর্জিত সম্পদ সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়।
আইন ও নীতিতে প্রভাবনিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুকূলে কর নীতি ও আইন গঠনে ভূমিকা রাখতে ধনী ব্যক্তিরা আইনসভায় ঢুকতে চান।
ব্যয়বহুল নির্বাচনী ব্যবস্থাবর্তমান যুগে নির্বাচন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ যোগ্য প্রার্থীর চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও অর্থবিত্তসম্পন্ন প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে অগ্রাধিকার দেয়।
আইনি ‘রক্ষাকবচ’রাজনৈতিক পরিচয় বা পদবী অনেক সময় বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটাতে এবং আইনি চাপ থেকে সুরক্ষা পেতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

৩. রাজনীতিতে সচেতন হতে কি কোনো রাজনৈতিক দল পছন্দ করা অত্যাবশ্যক?

একদমই নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশ বা রাজনীতি নিয়ে সচেতন থাকার জন্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেবেল লাগানো বা কোনো দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রকাশ করা মোটেও প্রয়োজনীয় নয়।

প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিচার

পদ্ধতি ১

অন্ধভাবে দলীয় প্রতীক না দেখে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অতীত ভূমিকা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড দেখে ভোট প্রদান করা।

ইস্যু-ভিত্তিক সমর্থন ও সমালোচনা

পদ্ধতি ২

যেকোনো দলের ভালো নীতিকে (যেমন: পরিবেশ সুরক্ষা বা স্বাস্থ্য সংস্কার) সমর্থন করা এবং ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা করা।

সুশীল সমাজ ও নাগরিক আন্দোলন

পদ্ধতি ৩

দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে সামাজিক সংগঠন বা মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।

স্বাধীন বা ফ্লোটিং ভোটারের ভূমিকা

পদ্ধতি ৪

কোনো দলের ক্যাডার বা অন্ধ সমর্থক না হয়ে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ রাখা। আধুনিক গণতন্ত্রে এই ‘ফ্লোটিং ভোটাররাই’ যেকোনো নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

রাজনীতি কোনো নির্দিষ্ট দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের সাথে যুক্ত। কোনো দলের দাসত্ব না করেও কেবল সচেতন, নিরপেক্ষ ও সৎ নাগরিক হিসেবে নিজের ভোটাধিকার এবং গঠনমূলক মতামত প্রকাশ করাই হলো একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ