টেক

আভিজাত্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়—আইফোনের আকাশচুম্বী দামের নেপথ্যে
আইফোন

নিউজ ডেস্ক

March 5, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) যখন প্রথম টেলিফোন বা ক্যামেরা আবিষ্কৃত হয়েছিল, সেগুলো ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অ্যাপল ঠিক সেই ‘প্রিমিয়াম’ কৌশলটিই আইফোনের ক্ষেত্রে বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের বর্তমান বাজারে একটি আইফোনের দাম কেন অন্য ফোনের চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি, তার কারণগুলো নিম্নরূপ:

১. নিজস্ব হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার (The Ecosystem)

অন্যান্য স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো যেখানে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার ব্যবহার করে, অ্যাপল সেখানে তাদের নিজস্ব iOS তৈরি করে।

  • বিশ্লেষণ: আইফোনের প্রতিটি চিপ (A-series Bionic Chip) এবং সফটওয়্যারের মধ্যে যে সমন্বয় থাকে, তা তৈরিতে বিলিয়ন ডলার গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খরচ হয়। এই অপ্টিমাইজেশনের কারণেই একটি ৫ বছর পুরনো আইফোনও এখনো স্মুথলি চলে, যা এর দামের যৌক্তিকতা তৈরি করে।

২. গবেষণা ও উদ্ভাবন (R&D)

অ্যাপল কেবল নতুন ফোন বানায় না, তারা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে যা পরবর্তীতে পুরো ইন্ডাস্ট্রি অনুসরণ করে।

  • উদাহরণ: ফেস আইডি, লিডার (LiDAR) স্ক্যানার বা সিনেমাটিক মোড ক্যামেরার মতো ফিচারগুলো নিখুঁত করতে হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেন। ১৯০০ সালের সেই সূক্ষ্ম কারিগরির মতো অ্যাপলও তাদের পণ্যের নিখুঁত ফিনিশিং নিশ্চিত করতে বিশাল বিনিয়োগ করে।

৩. গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা (Privacy is a Product)

২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে ‘ডেটা’ বা তথ্যই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অ্যাপল তাদের বিপণন কৌশলে নিরাপত্তাকে প্রধান পণ্য হিসেবে বিক্রি করে।

  • মূল্যমান: অ্যাপল তাদের ব্যবহারকারীদের তথ্য অন্য কোনো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে না এবং তাদের এনক্রিপশন ব্যবস্থা ভাঙা প্রায় অসম্ভব। এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেতে গ্রাহকরা বাড়তি টাকা দিতে দ্বিধা করেন না।

৪. রিসেল ভ্যালু (High Resale Value)

আইফোন হলো সেই বিরল প্রযুক্তি পণ্য যার দাম খুব দ্রুত কমে না।

  • অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: আপনি যদি আজ একটি আইফোন ১ লাখ টাকায় কেনেন, দুই বছর পর সেটি অনায়াসেই ৬০-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে যা অনেক সময় অর্ধেক দামেও সম্ভব হয় না। এই উচ্চ ‘রিসেল ভ্যালু’ গ্রাহককে শুরুতে বেশি টাকা ইনভেস্ট করতে উৎসাহিত করে।

৫. ব্র্যান্ড ভ্যালু ও সাইকোলজিক্যাল মার্কেটিং

স্টিভ জবস আইফোনকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে এটি একটি ‘লাইফস্টাইল’ ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

  • আভিজাত্য: আইফোনের লোগো বা এর ডিজাইন মানুষের অবচেতনে এক ধরণের আভিজাত্যের অনুভূতি দেয়। ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ আভিজাত্যের প্রতীকগুলোর মতো আইফোনও এখন একটি ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’, যার জন্য মানুষ প্রিমিয়াম দিতে প্রস্তুত।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের সেই এনালগ যোগাযোগ থেকে ২০২৬ সালের এআই-নির্ভর আইফোন—প্রযুক্তির এই বিবর্তনে অ্যাপল সবসময়ই নিজেদের ‘বিলাসবহুল’ কাতারে রেখেছে। বাংলাদেশে উচ্চ আমদানিশুল্ক ও করের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এখানে আইফোনের দাম আরও কিছুটা বেশি মনে হয়। সহজ কথায়, আপনি যখন একটি আইফোন কেনেন, আপনি কেবল একটি ফোন কিনছেন না; আপনি কিনছেন নিরাপত্তা, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং একটি নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা।


তথ্যসূত্র: অ্যাপল অ্যানুয়াল ইনভেস্টর রিপোর্ট ২০২৫, গ্লোবাল টেক প্রাইসিং ইনডেক্স ২০২৬ এবং ব্যক্তিগত গ্যাজেট বিশ্লেষণ।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও নিবিড় প্রযুক্তি ও বাজার সংস্কারের বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

কিবোর্ড

নিউজ ডেস্ক

April 10, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬

আমরা প্রতিদিন টাইপ করি, চ্যাট করি কিংবা অফিসের কাজ করি—সবকিছুতেই কিবোর্ডের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কিবোর্ডের অক্ষরগুলো কেন সহজ A-B-C-D ক্রমে না থেকে Q-W-E-R-T-Y এভাবে এলোমেলোভাবে সাজানো থাকে? এর পেছনে কি কেবলই কোনো ঐতিহাসিক ভুল, নাকি সুক্ষ্ম কোনো বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে?

আজকের এই বিশেষ ফিচারে আমরা কিবোর্ডের এই ‘এলোমেলো’ রহস্যের ব্যবচ্ছেদ করব।

১. বর্ণানুক্রমিক কিবোর্ড এবং প্রাথমিক বিপর্যয়

শুনলে অবাক হবেন, শুরুর দিকে কিবোর্ড কিন্তু বর্ণানুক্রমেই (A, B, C, D…) সাজানো ছিল। ১৮৬৮ সালে যখন প্রথম টাইপরাইটার আবিষ্কৃত হয়, তখন এর লেআউট ছিল একদম সাধারণ। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সময় দেখা দিল এক বিশাল সমস্যা।

টাইপরাইটার ছিল একটি মেকানিক্যাল ডিভাইস। মানুষ যখন বর্ণানুক্রমে থাকা অক্ষরগুলোতে খুব দ্রুত টাইপ করার চেষ্টা করত, তখন টাইপরাইটারের মেকানিক্যাল ‘হাত’ বা টাইপ-বারগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে জ্যাম হয়ে যেত। এই জ্যাম ছাড়ানো ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর।

২. ক্রিস্টোফার শোলস এবং QWERTY-র উদ্ভাবন

এই যান্ত্রিক জ্যামিং সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে আসেন টাইপরাইটারের জনক ক্রিস্টোফার লাথাম শোলস। তিনি একটি কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি ইংরেজি ভাষায় সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয় এমন অক্ষরগুলোকে কিবোর্ডের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেন।

  • উদ্দেশ্য: যাতে টাইপ করার গতি কিছুটা কমে যায় এবং মেকানিক্যাল জ্যাম না ঘটে।
  • ফলাফল: জন্ম নিল আজকের এই QWERTY লেআউট। কিবোর্ডের উপরের সারির প্রথম ৬টি অক্ষর মিলিয়েই এর নাম রাখা হয়েছে।

৩. আরগনোমিক্স (Ergonomics) এবং আঙুলের আরাম

অনেকেই মনে করেন অক্ষরগুলো এলোমেলো হওয়ায় টাইপ করতে অসুবিধা হয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিবোর্ডের এই সজ্জাটি আমাদের আঙুলের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক বা আরগনোমিক।

ইংরেজি শব্দগুলো লেখার সময় আমরা সাধারণত ভাওয়েল (Vowel) এবং কনসোনেন্ট (Consonant)-এর যে কম্বিনেশন ব্যবহার করি, তা এই কিবোর্ডে খুব সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা আছে। এতে কোনো এক হাতের আঙুলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং দীর্ঘক্ষণ টাইপ করলেও আঙুল ব্যথা হয় না।

৪. মেকানিক্যাল জ্যাম নেই, তবুও কেন পরিবর্তন হচ্ছে না?

বর্তমানে আমরা ডিজিটাল কিবোর্ড বা টাচস্ক্রিন ব্যবহার করি, যেখানে জ্যাম হওয়ার কোনো ভয় নেই। তবুও কেন আমরা সেই ১৮৭৩ সালের পুরোনো লেআউট ব্যবহার করছি?

এর উত্তর হলো “Muscle Memory”। বিগত ১০০ বছরে পুরো পৃথিবী এই QWERTY লেআউটে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ডিভোর‍্যাক (Dvorak) বা কোলম্যাক (Colemak)-এর মতো আরও অনেক ফাস্ট লেআউট এলেও তারা জনপ্রিয় হতে পারেনি। কারণ মানুষ নতুন করে টাইপিং শিখতে চায় না।

৫. মজার একটি তথ্য: “TYPEWRITER” শব্দটি!

আপনি কি জানেন? “TYPEWRITER” শব্দটি লিখতে যে অক্ষরগুলো প্রয়োজন, তার সবগুলোই কিবোর্ডের সবচেয়ে উপরের সারিতে (Top Row) রাখা হয়েছে। এটি করা হয়েছিল যাতে সেলসম্যানরা ক্রেতাদের ডেমো দেওয়ার সময় খুব দ্রুত শব্দটি লিখে মুগ্ধ করতে পারেন!


শেষ কথা

কিবোর্ডের অক্ষরগুলো এলোমেলো মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে যান্ত্রিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রযুক্তির বিবর্তন ঘটলেও এই লেআউটটি সম্ভবত আরও অনেক বছর আমাদের সাথে থেকে যাবে।

আপনার মন্তব্য জানান: আপনি কি মনে করেন বর্ণানুক্রমে (ABCDE) কিবোর্ড থাকলে আপনার টাইপিং স্পিড আরও বেশি হতো? নিচে কমেন্ট করে আপনার মতামত দিন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

New wars in the AI ​​era

নিউজ ডেস্ক

April 10, 2026

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

(সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু স্থল বা আকাশসীমায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন প্রবেশ করেছে এআই (AI) এবং ডেটা সেন্টারের অন্দরমহলে। সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গুগল ম্যাপসের থার্মাল ও নাইট ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মরুভূমিতে লুকানো মার্কিন এআই জায়ান্ট ওপেনএআই-এর ৩০ বিলিয়ন ডলারের গোপন ‘স্টারগেট’ ডেটা সেন্টারের অবস্থান শনাক্ত করার দাবি করেছে।

১. আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি: ‘দৃষ্টির বাইরে কিছুই নেই’

আইআরজিসি তাদের ভিডিওতে দেখিয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে যা কেবল বালির সমুদ্র, থার্মাল ইমেজারিতে সেখানে বিশাল সার্ভার ফার্ম ও কুলিং সিস্টেমের উত্তাপ স্পষ্ট। তাদের ঘোষণা—“গুগল যতই লুকিয়ে রাখুক, আমাদের দৃষ্টির বাইরে কিছুই থাকবে না।” ইরান সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে, আমেরিকা যদি ইরানের বেসামরিক স্থাপনা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানে, তবে তারা এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের এআই প্রজেক্টটি ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।

২. কেন এই পাল্টা আঘাত?

বিগত ৫০ বছর ধরে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সম্প্রতি তাদের মেধাবী নেতা ও সেনাপতিদের হত্যার প্রেক্ষাপটে ইরান এই প্রতিরোধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে এই পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। যখন একটি দেশের অর্থনীতি ও জনগণের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেই দেশের আত্মরক্ষার জন্য এ ধরণের ‘হাই-স্টেক’ লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা ছাড়া উপায় থাকে না।

৩. এআই সাম্রাজ্যবাদ বনাম সার্বভৌমত্ব

ইরানের এই অবস্থানকে অনেকে ‘এআই যুগের নতুন সাম্রাজ্যবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে দেখছেন। যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে আঘাত হানার মাধ্যমেই ইরান তাদের শক্তির জানান দিচ্ছে। এটি কেবল একটি যুদ্ধ নয়, বরং এটি সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক চরম উদাহরণ।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইরান আজ যে প্রতিরোধের ভাষা বলছে, তা মূলত দীর্ঘদিনের চেপে রাখা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে ইরান প্রমাণ করেছে যে, কেবল দামি অস্ত্র থাকলেই নিরাপদ থাকা যায় না; আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ও থার্মাল ইমেজিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো গোপন ‘প্রাসাদ’ এখন লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যখন প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীর দিকে এগোচ্ছি, তখন এই ধরণের সামরিক সংঘাত মানবতার জন্য এক বড় ঝুঁকি। তবে ইতিহাস সবসময়ই বিজয়ীর পক্ষে কথা বলে—কে সঠিক, তা সময়ের হাতেই তোলা থাক।


বর্তমান সংঘাতের মূল ফ্যাক্টর (এপ্রিল ২০২৬)

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত বিবরণ
লক্ষ্যবস্তুওপেনএআই-এর ‘স্টারগেট’ এআই ডেটা সেন্টার (৩০ বিলিয়ন ডলার)।
প্রযুক্তিথার্মাল ইমেজারি ও নাইট ভিশন নজরদারি।
ইরানের যুক্তিআত্মরক্ষা ও মার্কিন আগ্রাসনের পাল্টা জবাব।
আশঙ্কাবিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা।
বার্তা“তোমরা ঘরবাড়ি পোড়ালে, আমরা প্রাসাদে আগুন দেব।”

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

প্রাণীদের ডিজিটাল আইডি

নিউজ ডেস্ক

April 7, 2026

শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)

ঢাকা, ৭ এপ্রিল ২০২৬: আমরা যখন একে অপরের পরিচয় জানতে এনআইডি কার্ড বা ফেস আইডি ব্যবহার করি, প্রকৃতি তখন তার সন্তানদের জন্য তৈরি করে রেখেছে একদম ভিন্ন এক ‘ডিজিটাল সিস্টেম’। কুকুর, শেয়াল বা বিড়াল পরিবার—তাদের পরিচয় কিন্তু মুখে নয়, বরং লুকিয়ে আছে লেজের নিচের এক বিশেষ গ্রন্থিতে! ডা. আব্দুর রহমানের ভাষায়, এটিই হলো তাদের নিজস্ব ‘ডিজিটাল আইডি কার্ড’

১. অ্যানাল গ্ল্যান্ড: প্রকৃতির নিজস্ব ডেটা সেন্টার

শেয়াল, নেকড়ে, কুকুর কিংবা গেঁদো—এই পুরো ক্যানিড (Canid) পরিবারের সদস্যদের পায়ুপথের পাশে থাকে বিশেষ এক গ্রন্থি, যাকে বলা হয় Anal Gland। এটি থেকে এক প্রকার রাসায়নিক তরল নিঃসৃত হয়, যার গন্ধ প্রতিটি প্রাণীর জন্য ইউনিক বা স্বতন্ত্র।

  • প্যাকেজ ডিল: এই গন্ধের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সেই প্রাণীর নাম, ঠিকানা, লিঙ্গ, বংশপরিচয় এমনকি সে বর্তমানে কতটা সুস্থ বা রাগী—তার সব তথ্য।

২. কুকুর কেন একে অপরের পেছন শুকতে যায়?

আমরা অনেক সময় কুকুরদের এই আচরণ দেখে হাসি বা বিরক্ত হই। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় এটি কোনো অসভ্যতা নয়, বরং এটি একটি ‘বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন’

  • স্ক্যানিং প্রসেস: আমরা যেমন কিউআর কোড স্ক্যান করি, কুকুররা ঠিক একইভাবে একে অপরের গন্ধ শুঁকে নিশ্চিত হয় যে সামনের জন বন্ধু না কি শত্রু।
  • ডিজিটাল সিগনেচার: প্রতিটি কুকুরের গন্ধ আলাদা হওয়ার কারণে তারা মুহূর্তের মধ্যেই বুঝে ফেলে— “এই এলাকায় নতুন কে এলো?” অথবা “পুরানো সেই বন্ধুটি আবার ফিরেছে কি না।”

৩. বিড়াল পরিবারেও কি একই সিস্টেম?

হ্যাঁ! শুধু কুকুর নয়, বিড়াল পরিবারের সদস্যরাও এই একই পদ্ধতিতে চলে। বিড়ালের ক্ষেত্রেও এই গ্রন্থি থেকে বের হওয়া কেমিক্যাল তাদের টেরিটোরি বা এলাকা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। তারা যখন কোনো দেয়ালে বা গাছে গা ঘষে, তখন তারা মূলত সেখানে তাদের ‘ডিজিটাল সিগনেচার’ রেখে যায়।

৪. মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বনাম প্রাণীর স্মেল প্রিন্ট

মানুষের পরিচয় যেমন আঙুলের ছাপে (Fingerprint) বা চোখের মনিতে (Iris), প্রাণীদের পরিচয় তেমনি তাদের গন্ধে। আমরা বলি, “চেহারা মিলছে না, আইডি দেখান।” আর ওরা মনে মনে বলে, “এক সেকেন্ড দাঁড়াও… QR কোডটা একটু শুঁকে দেখি!” 🤣🤣


বিডিএস বুলবুল-এর পর্যবেক্ষণ: প্রকৃতির ইঞ্জিনিয়ারিং আসলেই বিস্ময়কর। ২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুগেও আমরা যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে বায়োমেট্রিক সিস্টেম বানাচ্ছি, বন্যপ্রাণীরা তখন লক্ষ বছর ধরে লেজের নিচে বসানো এক বিশেষ ‘সেন্সর’ দিয়েই দিব্যি একে অপরকে চিনে নিচ্ছে। প্রকৃতির এই ‘লো-টেক কিন্তু হাই-ইফেক্টিভ’ সিস্টেম আমাদের শিখিয়ে দেয়—পরিচয় আসলে চেহারায় নয়, বরং অস্তিত্বের গভীরে।


দ্রুত ফ্যাক্ট চেক (Scientific Sources):

  1. The Role of Anal Sacs in Canines: ভেটেরিনারি বিজ্ঞান অনুযায়ী, এই গ্রন্থিটি লুব্রিকেশন ছাড়াও ফেরোমোন (Pheromones) নিঃসরণ করে যা সামাজিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
  2. Olfactory Communication in Foxes: শেয়াল তাদের এলাকা চিহ্নিত করতে এবং প্রজনন মৌসুমে সঙ্গী খুঁজতে এই গন্ধ ব্যবহার করে।
  3. Animal Behavior Studies: স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১০০,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী, যা তাদের এই ‘স্মেল-আইডি’ বুঝতে সাহায্য করে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ