অপরাধ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ওয়ান-ইলেভেন (১/১১)।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে এটিকে ওয়ান ইলেভেন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।
১১ জানুয়ারী ২০০৭ এ সেনাবাহিনী সমর্থিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। এইদিনটিকে ওয়ান-ইলেভেন বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো প্রধান দু’টি দলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় দেশ যখন স্থবির হয়ে পড়ে তখন ওয়ান-ইলেভেন আসে।
রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ সাধারণ জনগন প্রথমে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা স্বস্তি পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনী প্রথম বারের মতো সংবিধান স্থগিত করে সেনা শাসন জারি না করে দেশের সুশীল ব্যক্তিদের দিয়ে অরাজনৈতিক সরকার গঠন করে দেয়। স্বচ্ছ রাজনীতিবিদরা মনে করেছিলেন, ওয়ান-ইলেভেন দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং সংস্কারের নামে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে পারষ্পরিক অনাস্থা, সন্দেহ, অবিশ্বাসের জন্ম হয়। যার রেশ এখনও কাটেনি।
ওয়ান-ইলেভেনের ফখরুদ্দিন -মইন ইউ সরকার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছিলো। নেতাদের বিভক্ত করার পাশাপাশি ওয়ান-ইলেভেনের সরকার দলের নেতাদের মধ্যে পারষ্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি করেছিলো। সে সময় দুই দলের নেতাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে নির্যাতন থেকে বাঁচতে নিজ নিজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেন নেতারা। শুধু তাই নয়, কারাবন্দি নেতারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি যে সব বিষোদগার করতেন তা আবার সংবাদ মাধ্যমে চলে আসতো।
(বাংলাদেশে এক-এগারোর পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পটভূমিতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান রাজনীতিতে আরও সংহত হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।)
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে দলীয় সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের সরকার। তাদের ভাষায় রাজনীতি ক্লিন বা পরিষ্কার রাখার জন্যই ছিল সে চেষ্টা। এ জন্য দল দুইটির কিছু সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবও দেয়া হয়। তথাকথিত রাজনৈতিক সংস্কার চেষ্টা ব্যর্থ হবার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং দলের ভেতরে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অবস্থান আরও সংহত হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর দল দুইটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের ভেতরে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করে। শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় এর মাধ্যমে।
ওয়ান-ইলেভেনের সমাপ্তি ঘটে ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় যাওয়ার কারণে সংস্কারপন্থী নামে পরিচিত নেতারা আওয়ামী লীগের খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ক্ষমতাবঞ্চিত বিএনপির মধ্যে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে দলটির ব্যাপক ক্ষতি করেছে।এখনও খালেদা জিয়া পন্থী ও সংস্কারপন্থী বিভেদ অটুট রয়েছে। সে কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ কোন কর্মসূচিতেই সফলতা দেখাতে পারেনি দলটি। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ নেতাদের দিয়ে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়ায়। এতে করে তাদের প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব, অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগে দলের মধ্যে দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা নেতাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারি ও তৃণমূলের নেতারা সামনে চলে আসে।
(২০০৬ সালের ২৯শে অক্টোবর প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।)
(প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনাব ফখরউদ্দিন আহমেদকে শপথ বাক্য পাঠ করান।)
ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) ঘটনা প্রবাহঃ
দিনভরই চারদিকে ছিল নানা গুজব, গুঞ্জন। সার্বিক পরিস্থিতি ছিল থমথমে। এই অবস্থায় বিকেল চারটার দিকে আওয়ামী লীগের তত্কালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফর উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল যোগ দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠকে ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার ডগলাস ফসকেট, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইনোওয়ে মাসাইয়েকি, ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফান ফ্রোইন ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনাটা ডেজালিয়েন। বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক শেষে অনেকটা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তারা। কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসা থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি চলে যান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসায়।আওয়ামী লীগ নেতারা বের হওয়ার আধাঘণ্টা পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির তত্কালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। বৈঠক শেষে তারাও মুখ খোলেননি। সোজা চলে যান গুলশানের হাওয়া ভবনে। সেখানে তারা বৈঠক করেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এর আগে দুপুর পৌনে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান দু’টি দলের বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দুপুর বারোটায় বৈঠক করেন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে। এতে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের পরপরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে চারটায় উপদেষ্টা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়। দু’-একজন ছাড়া উপদেষ্টাদের প্রায় সবাই বঙ্গভবনে গিয়ে বৈঠক বাতিলের খবরে ফিরে আসেন।বঙ্গভবনের বৈঠক শেষে বিমান বাহিনী প্রধান, নৌ বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাব, বিডিআরসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনাসদরে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ।রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে পুনরায় ডাকা হয় উপদেষ্টাদের। কোনো বৈঠক ছাড়াই উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অবহিত করা হয়। এসময় উপদেষ্টাদের সবাইকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে উপদেষ্টারাও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ডক্টর ফকরুদ্দিন আহমদকে। তিনি নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।এসব নাটকীয় ঘটনা ও টানটান উত্তেজনা-উদ্বেগের মধ্যেই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন এবং বিপদের সম্মুখীন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন’। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়— বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে। একইসঙ্গে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সকল মহানগর এবং জেলা শহরে কারফিউ বলবত্ থাকার ঘোষণাও দেয়া হয়।এরপর নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রাত সাড়ে এগারোটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ভাষণে তিনি বলেন, একইসঙ্গে দু’টি দায়িত্ব নেয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। এই অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথকে সুগম করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাতে সরকারের তথ্য অধিদফতর থেকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে রাজনৈতিক সংবাদ ও সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় টিভি চ্যানেলের খবর ও টকশো।
সূত্রঃ -উইকিপিডিয়া
–ওয়ান ইলেভেনের অজানা কথা Dhakapress24.
১১ সেপ্টেম্বরের হামলা (যা নাইন/ইলেভেন নামেও পরিচিত) ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের উপর আল কায়েদার একইসাথে চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা।
আক্রমনের ২,৯৯৭ জন নিহত এবং ৬,০০০ এর অধিক মানুষ আহত হয়, এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ।
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সকালে ১৯ জন ছিনতাইকারী চারটি বাণিজ্যিক বিমানের (দুটি বোয়িং ৭৫৭ ও দুটি বোয়িং ৭৬৭) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বিমান চারটি ম্যাসাচুসেট্স অঙ্গরাজ্যের বস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিওয়ার্কের নিওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লাউডেন কাউন্টি ও ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির ওয়াশিংটন ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ল্যাক্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সান ফ্রান্সিস্কোর এসএফও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল।ছিনতাইয়ের জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রমকারী বৃহৎ বিমানগুলো বাছাই করা হয়েছিল, কারণ সেগুলো জ্বালানিতে পূর্ণ থাকে।
- (উপরের সারি:ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর দ্যা টুইন টাওয়ার জ্বলছে
- ২য় সারি, বাম হতে ডান: পেন্টাগনের ধ্বসে পড়া অংশ;
ফ্লাইট ১৭৫ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে; - ৩য় সারি, বাম হতে ডান:ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তুপের মাঝে
একজন অগ্নিনির্বাপণ কর্মী সহায়তার অনুরোধ জানাচ্ছেন;
গ্রাউন্ড জিরো; থেকে ফ্লাইট ৯৩ এর একটি ইঞ্জিন উদ্ধারকৃত হয় - নিচের সারি:ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার বিরতিহীন তিনটি ফ্রেমে ধারণকৃত
এএ৭৭ এর পেন্টাগনের উপর আঘাত হানার দৃশ্য)
ওসামা বিন লাদেন এই হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে ধারণা করা হয় এবং শুরুতে তিনি তার জড়িত থাকার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালেও পরে তিনি তার মিথ্যা বক্তব্যকে অমূলক বলে উল্লেখ করেন। আল জাজিরা ২০০১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে বিন লাদেনের এক বক্তব্য প্রচার করে, যেখানে তিনি বলেন, “আমি জোড় দিয়ে বলছি যে আমি এই কাজ করিনি, মনে হয় কেউ তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছেন।” ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে একটি ভিডিওটেপ উদ্ধার করেন। ভিডিওতে দেখা যায় বিন লাদেন খালেদ আল-হারবির সাথে কথা বলছেন এবং এই হামলার সম্পর্কে তার জানার বিষয়টি স্বীকার করছেন।
(৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন খালিদ শেখ মোহাম্মদ বা সংক্ষেপে কেএসএম।)
২০০২ সালে আল জাজিরার সাংবাদিক ইয়োরসি ফুয়োদা, এই জঙ্গি নেতা খালিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। খালিদ সে সাক্ষাৎকারে জানান, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়ার কোথাও আমেরিকার বিমান উড়িয়ে দেওযার স্বপ্ন ছিল তার। সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ওসামা বিন লাদেনর সঙ্গে দেখা হলে খালিদ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পান।
হামলা চালাতে আল কায়দা সৈন্য, অর্থ ও আনুষাঙ্গিক সাহায্য দেবে বলে খালিদকে জানান লাদেন। সেই সঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে লাদেনের পছন্দ হয় নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন শহর দু’টিকে।
হামলার মাধ্যমে লাদেন ও খালিদের ইচ্ছা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা। সেই সঙ্গে হামলার মাধ্যমে বিশ্বে আল কায়দার সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে প্রকাশ করারও সুযোগ পায় তারা।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ঘটনা:
মঙ্গলবার, সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিট। নিউইয়র্কের আকাশে সেদিন ঝকঝকে রোদ। ১১০ তলা উঁচু ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারের আশি তলায় আছড়ে পড়ে ছিনতাইকৃত কুড়ি হাজার গ্যালন জ্বালানী বোঝাই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমান। বিমানটি যেখানে টাওয়ারটিকে আঘাত করে সেখানে মুহূর্তেই বিশাল অগ্নিকুণ্ডময় গর্ত সৃষ্টি হয়। চোখের পলকে মৃত্যু হয় ওই ফ্লোরগুলোতে থাকা প্রত্যেকর।
টেলিভিশন ক্যামেরাগুলো তখন ঘটনার সরাসরি ছবি সরবরাহ করে যাচ্ছিলো। উত্তর ও দক্ষিণ – দুটি টাওয়ার থেকেই মানুষদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছিলো। এমন সময় প্রথম হামলার ঠিক আঠারো মিনিট বাদে অন্য একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান এসে হাজির হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রবল বেগে সাউথ টাওয়ারের ৬০তম তলায় আঘাত করল। পুরো টাওয়ারটিকে যেন দুভাগ করে ফেললো বিমানটি। প্রথম বিমানটি অতর্কিত হামলা করায় সেটির বেশি ফুটেজ পাওয়া যায় নি, তবে দ্বিতীয় বিমানটি যখন আঘাত করে তখন অনেকেরই ক্যামেরা তাক করা ছিলো টুইন টাওয়ারের দিকে; তারা প্রথম আক্রমণের ভয়াবহতা রেকর্ড করছিলেন তখন মূলত। দ্বিতীয় আঘাতটি ছিলো আরো ভয়াবহ। রাস্তার পাশাপাশি পাশের দালানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছিলো জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। প্রথম আক্রমণে অনেকে ভেবেছিলেন বিমানের পাইলট হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় হামলার পর আসল উদ্দেশ্য সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো। কারো বুঝতে বাকি রইলো না যে, আমেরিকা আন্ডার অ্যাটাক!
কারা করেছিলো আক্রমণ?
মার্কিন তদন্ত বলছে, আত্মঘাতী হামলাকারীরা ছিলো সৌদিসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশের নাগরিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ছিল এই আক্রমণের পৃষ্ঠপোষক। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন তখন পলাতক।
এত বড় একটি পরিকল্পিত হামলার পেছনে আল-কায়েদার প্রধান কারণ ছিলো তিনটি –
১। ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার বাড়াবাড়ি রকমের সমর্থন।
২। পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ।
৩। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখা।
হামলাকারীদের কেউ কেউ হামলার এক বছর আগে থেকেই আমেরিকায় বসবাস করে আসছিলো। তারা আমেরিকাতেই বিভিন্ন বেসরকারি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক বছর যাবত বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো বলে জানা যায়। বাকিরা হামলার মাসখানেক আগে আমেরিকায় আসে ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করে।
ঘটনার দিন জঙ্গিদের ১৯ জনের দলটি তিন ভাগ হয়ে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের তিনটি বিমান বন্দরের খুব সকালের ফ্লাইট ধরার জন্য রওনা দেয়। যে বিমানগুলো ক্যালিফোর্নিয়াগামী, সেগুলোকেই তারা ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেয়, কারণ তারা জানত, দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে যাওয়া বিমানগুলো থাকবে জ্বালানী ভরতি। নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গিরা সহজেই তাদের সঙ্গে ছুঁড়ি ও বক্স-কাটার নিয়ে বিমানে উঠতে সফল হয়। বিমান চারটি টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিরা ভয় দেখিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানকে তারা পরিণত করে লক্ষ্যভেদী মিসাইলে।
পেন্টাগন আক্রমণ:
আমেরিকান প্রশাসনের নিরাপত্তা বিভাগের সদয়র দফতর হচ্ছে পেন্টাগন। এটি ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলীতে অবস্থিত। টুইন টাওয়ারের ঘটনায় যখন সারা বিশ্বের চোখ নিউ ইয়র্কে নিবদ্ধ তখনই সবার অগোচরে পেন্টাগনের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলো জঙ্গি হামলার তিন নম্বর বিমান – আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭। ঠিক সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে পেন্টাগনের পশ্চিম পার্শ্বে আঘাত হানে বিমানটি। বোয়িং ৭৫৭ মডেলের বিমানটির জেট ফুয়েল মুহূর্তেই কংক্রিটের দৈত্যাকার দালানটিকে একখণ্ড নরকে পরিণত করে। পেন্টাগনের বিশাল একটি অংশ ধ্বসে পড়ে। বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। পেন্টাগনে মারা যান ১২৫ জন, আহতের সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একদম কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হেনে জঙ্গিরা জানান দেয়, তাদের শক্তি কতটুকু! বিশ্ব মোড়লদের সিংহাসন যেন খানিক সময়ের জন্য হলেও কেঁপে ওঠে।
পেন্টাগনে হামলার মিনিট ১৫ বাদে টুইন টাওয়ারের আতঙ্ক মারাত্মক রূপ ধারণ করে। প্রচণ্ড ধূলি ও ধোঁয়ায় আকাশ ভরে দিয়ে ধ্বসে পড়ে এর সাউথ টাওয়ার। জ্বলন্ত জেট ফুয়েলের সামনে সব প্রতিরোধই যেনো ছিলো অসহায়। সকাল সাড়ে দশটায় টুইন টাওয়ারের উত্তরের টাওয়ারটিও ধ্বসে যায়। ভবন দুইটি ধ্বসে যাওয়ার সময় তাতে থাকা ১৭ হাজার ৪০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে বের করে আনা সক্ষম হয়, যার মধ্যে ৬ জন নিজেদের অক্ষত রাখতে সমর্থ হন।
ফ্লাইট ৯৩
ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ নামে ক্যালিফোর্নিয়াগামী অন্য একটি বিমান নিউ জার্সির নেওয়ারক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের ৪০ মিনিটের মাথায় ছিনতাই হয়। বিমানটি টেক অফে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় বিমানের যাত্রীরা ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলো। তাই তারা যখন দেখতে পেলো তাদের বিমানটিও ছিনতাই হয়েছে, বুঝতে আর বাকি রইলো না কোন উদ্দেশ্য চরিতার্থের বলি হতে যাচ্ছে তারা।
বিমানের যাত্রীরাও বসে থাকেননি। চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সবাই মিলে চার ছিনতাইকারীকে আক্রমণ করেন। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মাধ্যমে বিমানের ককপিটে হামলা চালিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণকারী জঙ্গিকে বিপাকে ফেলে দেন। যে বিমানটি হামলা করার কথা ছিলো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে, সেটি গিয়ে আছড়ে পড়ল পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা মাঠে। বিমানের ৪৪ আরোহীর সবাই প্রাণ হারালেন। কিন্তু তাতে কি! ছিনতাইয়ের পর তারা তো জানতেনই তাদের জীবন সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। অসহায়ের মতো না মরে তারা জঙ্গিদের উদ্দেশ্যের বলি না হয়ে বীরের মতো জীবন দিলেন !
হামলার পরিকল্পনা:
নিখুঁত পরিকল্পনায় হামলার ছক কষেছিল আল কায়দা ও তার মিত্ররা। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপন বৈঠক করা হয়। মূল পরিকল্পনা সাজাতে বৈঠক হয় মালয়েশিয়ায়। হামলাকারীরা মার্কিন ফ্লাইটগুলোর পর্যাপ্ত খোঁজখবর নিতে থাকেন। এছাড়া জার্মানির হামবুর্গে আল কায়দার একটি সমন্বয়কারী দল ছিল। এই হামলার টাকা এসেছে দুবাই থেকে। আত্মঘাতী হামলাকারীদের সংগ্রহ করা হয়েছিল সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সবকিছুর পর্যবেক্ষণে ছিলেন আফগানিস্তান থেকে আলকায়দা নেতারা। সর্বোপরি ওসামা বিন লাদেন।
জার্মানির, হার্মবুগ থেকে চারজন প্রধান জঙ্গি বৈমানিক ও পরিকল্পনাকারী ছিলো এই হামলায়। তাদের বলা হতো হামবুর্গ সেল। হামলা পরিচালনায় এরাই ছিল মূল নেতৃত্বে। হার্মবুগ সেলের প্রধান হাইজ্যাকারের নাম মোহাম্মদ আতা। তিনি ও তার হামবুর্গ গ্রুপের অন্য সদস্যরা আফগানিস্তানে আসেন ১৯৯৯ সালে।
বিন লাদেন ও তার সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ আতেফ প্রথম সাক্ষাতেই বুঝতে পারেন অপরেশন পরিচালনার জন্য আতার নেতৃত্বে পশ্চিমা জিহাদি গ্রুপটি তাদের আফগান জিহাদিদের চেয়ে বেশি চতুর ও প্রশিক্ষিত। তাই মোহাম্মদ আতাকে প্রধান করে পুরো অপারেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনামাফিক হাইজাক্যাররা হামলার আগ থেকে ছোট ছোট গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করে রেকি করে ও বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেয়। আতা যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে হামলার বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে নিয়মিত তার সহযোগী ও কামান্ডারদের সাথে ইমেইলে আপডেট পাঠাত ও যোগাযোগ রাখত।
আতা সাংকেতিক ভাষায় বার্তাগুলো তার ‘গার্লফ্রেন্ড জেনি’কে উদ্দেশ্যে করে লিখত। যেমন— একটি ইমেইল বার্তায় বলা হয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সেমিস্টার শুরু হবে। প্রাইভেট শিক্ষার জন্য চারটি পরীক্ষা ও ১৯টি সনদপত্র। লাগবে এখানে ‘১৯টি সনদ’ বলতে ‘১৯ জন আল কায়দা হাইজাক্যার’ ও ‘চারটি পরীক্ষা’ বলতে ‘চারটি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু’র কথা বলা হয়েছে।
২৯ অগাস্ট ২০০১ সালে আতা (atta) আরেকটি ইমেলই বার্তায় বলেন, দু’টি লাঠি, একটি ড্যাশ ও একটি কেক লাঠি ঝুলানো। অর্থ্যাৎ দুই সপ্তাহের মধ্যে হামলাটি ঘটবে। দুটি লাঠি মানে ১১। পরের অংশটিতে ৯ বুঝানো হয়েছে। এখানে ১১-৯ বা ৯-১১ দু’ভাবেই হামলার সম্ভাবনার কথা বিন লাদেন জানানো হয়েছে।
বিমান হাইজ্যাক ও আক্রমণ:
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মহ আতা ও তার সহযোগী আক্রমণকারীরা আমেরিকার চারটি অভ্যন্তরীণ বিমান হাইজ্যাক করে। অস্ত্রের মুখে তারা বিমান ক্রু ও যাত্রীদের নিষ্ক্রিয় করে রাখে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বোস্টন থেকে উড়ে আসা ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১’ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ভবনটিতে প্রথম হামলে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ভেবেছিল, এটি ছোটখাট কম্পিউটারচালিত খেলনা বিমান। কিন্তু ১৭ মিনিট পরে বোস্টন থেকে উড়া আসা দ্বিতীয় বিমান ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫’ যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারটিতে হামলে পড়ে, তখন আর কারোরই সন্দেহের অবকাশ ছিল না এটি সন্ত্রসী হামলা। তখন টাওয়ার দু’টির ভেতরে আটকা পড়া কেউ কেউ দুঃসহ মৃত্যু থেকে বাঁচতে লাফ টাওয়ার থেকে লাফও দিয়েছিলেন।
এদিকে, ডালাস এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে আসা তৃতীয় বিমান ‘আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭’ হামলে পড়ে হয় পেন্টাগণের দক্ষিণ-পশ্চিমে, সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। আর চতুর্থ বিমান ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩’ নিউজার্সি থেকে উড়েছিল। ১০টা ৩ মিনিটে এটি পেনসিলভ্যানিয়ার স্নেকসভাইলে বিধ্বস্ত হয়।
মোট কত লোকের প্রাণহানি হয়?
৯/১১ হামলায় সর্বমোট ২৯৯৬ জন মানুষ প্রাণ হারান। এদের মধ্যে হামলাকারী বিমানগুলোতে থাকা ১৯ জঙ্গিও ছিলো। জঙ্গিরাও জানতো সফল হলেও তাদের কেউ আর বেঁচে ফিরবে না। নিউ ইয়র্ক বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রেই কেবল ২,৭৬৩ জন মানুষ মারা যান। এদের মধ্যে ৩৪৩ জন ছিলেন দমকল বাহিনীর কর্মী ও চিকিৎসক এবং ২৩ জন নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কর্মকর্তা ও ৩৭ জন বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৭১ জন পুলিশ কর্মকর্তা। টাওয়ারে আটকে পড়াদের বের করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
(ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার দুটির শূন্য স্থানে আলোর স্মারক স্তম্ভ)
(নিউইয়র্কে ৯/১১র মেমোরিয়াল)
সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ। উইকিপিডিয়া, বিবিসি বাংলা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি একাধারে রণাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীর, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঠিক তেমনই এক জীবন্ত রূপকথা।
তারেক রহমানের এই একটি মনোনয়ন বাংলাদেশের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন মেজর হাফিজকে বলা হয় ‘অলরাউন্ডার অফ দ্য সেঞ্চুরি’? চলুন জেনে নিই তাঁর জীবনের ৫টি রোমাঞ্চকর তথ্য।
১. বঞ্চিত এক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, মেজর হাফিজ ছিলেন যশোর সেনানিবাসের সেই অকুতোভয় বাঙালি অফিসার, যিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল আর সাহসিকতা দেখে সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তিনি সর্বোচ্চ খেতাব পাননি, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ হয়েই আছেন।
২. পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি অধিনায়ক ও ‘দ্রুততম মানব’

আপনি কি জানেন, ফুটবল মাঠেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা?
- তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইতিহাসের একমাত্র বাঙালি।
- ষাটের দশকে ট্র্যাকে তিনি ছিলেন দেশের ‘দ্রুততম মানব’ (Fastest Man)।
- অ্যাথলেটিক্স, হকি আর ফুটবল—তিন জায়গাতেই তাঁর সমান শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই আছে।
৩. যখন তিনি ম্যারাডোনার ‘বিচারক’ হলেন!
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব। ১৯৯৪ সালে যখন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়ান, তখন ফিফা যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মেজর হাফিজ। ফিফাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী।
৪. ৭ বারের এমপি ও বর্তমান স্পিকার
রাজনীতির মাঠেও তিনি ক্লীন ইমেজের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজনীতিতে এসে ভোলার লালমোহন-তজুমদ্দিন আসন থেকে টানা ৭ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসানো সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
৫. আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি?
সামরিক ডিসিপ্লিন, ফুটবল মাঠের গতি আর রাজনীতির প্রজ্ঞা—এই তিনের সংমিশ্রণ মেজর হাফিজকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম আসার সম্ভাবনা প্রবল।
গুগল এনালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র (Sources):
- বিএফএফ ও ফিফা আর্কাইভ: ম্যারাডোনা ডোপ টেস্ট ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (১৯৯৪) মেম্বার লিস্ট।
- মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্তদের অফিশিয়াল গেজেট।
- সংসদ সচিবালয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন ও নির্বাচনী ইতিহাস।
- বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিকস ২০২৬: বর্তমান সরকারের সংস্কার ও সংসদীয় নেতৃত্ব বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।
১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব
ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।
৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?
রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্কের সমীকরণটি আধুনিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম জটিল ও রহস্যময় অধ্যায়। ১৯৫০-এর দশকে যে ইরান ছিল ইসরায়েলের কৌশলগত মিত্র, আজ সেই ইরান ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই বৈরিতার মূল কারণ কি কেবল ধর্মীয় আদর্শ, নাকি এর পেছনে রয়েছে টিকে থাকার গভীর রাজনৈতিক প্রকৌশল?
১. ঐতিহাসিক বাঁকবদল: মিত্র থেকে শত্রু
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইরান ছিল ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র। তৎকালীন শাহের শাসনামলে ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর জন্য তারা গোপন সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখত। এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল থেকে গোপনে অস্ত্র কেনার ইতিহাস রয়েছে ইরানের। তবে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সম্পর্কের খোলনলচে বদলে যায়। তেহরানে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসকে প্যালেস্টাইনের দূতাবাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দেয় তাদের নতুন রাজনৈতিক এজেন্ডা।
২. দ্বন্দ্বে আদর্শ বনাম বাস্তব রাজনীতি

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনো সাধারণ সীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও কেন এই চরম শত্রুতা?
- পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ইসরায়েলের মূল ভয় হলো ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা। নেতানিয়াহুর ভাষায় ইরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা নিয়মিত ইরানি বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করছে।
- অস্তিত্বের সংকট: ইরান ইসরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ এবং আমেরিকাকে ‘গ্রেট শয়তান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই বয়ানটি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অভ্যন্তরীণভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ‘অ্যান্টি-জায়নিস্ট’ আবেগ জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩. ছায়াযুদ্ধ (Proxy War): টিকে থাকার কৌশল
সরাসরি যুদ্ধের সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা—দুইয়ের অভাবেই ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে।
- ইরানের প্রক্সি: লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করা ইরানের কৌশল।
- ইসরায়েলের মোসাদ: মোসাদের নিখুঁত গোয়েন্দা সক্ষমতা ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জেনারেল ও বিজ্ঞানীদের হত্যা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
৪. মৌলবাদ ও ক্ষমতার টিকে থাকা
রাজনীতিবিদদের জন্য ‘কাল্পনিক শত্রু’ তৈরি করা একটি চিরাচরিত কৌশল। যেমনটা বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী দলগুলো করে থাকে, ইরানও তেমনি ইসরায়েল বিরোধিতাকে পুঁজি করে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপকে আড়াল করছে। অন্যদিকে, উগ্রপন্থী ইহুদিদের জন্য ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ বা নিরাপত্তার ইস্যুটি তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব কেবল দুটি রাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়, এটি ক্ষমতার টিকে থাকার লড়াই। ইরান জানে সরাসরি যুদ্ধ করলে তারা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ও মার্কিন সমর্থিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে পারবে না। একইভাবে ইসরায়েলও জানে, ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ই যেন উভয় রাষ্ট্রের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’। যতদিন পর্যন্ত এই শত্রুতা তাদের নিজ নিজ দেশে জনমত গঠন ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, ততদিন সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে এই উত্তেজনাকর শীতল যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক রেকর্ডসমূহ। ২. আধুনিক ভূ-রাজনীতি ও প্রক্সি যুদ্ধের কৌশল বিষয়ক গবেষণাপত্র। ৩. ইরান-কনট্রা চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।



