ইসলাম ও জীবন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইসলামী শরীয়তে পুরুষের সাজসজ্জা এবং অলঙ্কার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। আত্মপরিচয় রক্ষা এবং লিঙ্গভেদে পোশাক ও অলঙ্কারের স্বকীয়তা বজায় রাখা ইসলামের মৌলিক নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক যুগে বিভিন্ন ধাতব বস্তুর অলঙ্কার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও শরীয়াহর মূলনীতিগুলো জানা প্রতিটি মুসলিম পুরুষের জন্য অপরিহার্য।
ধাতব বস্তু ব্যবহারের শরীয়াহর হুকুম
ইসলামী ফিকাহ ও হাদিসের আলোকে ধাতব বস্তুকে ব্যবহারের দিক থেকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. স্বর্ণ ও রূপার ব্যবহার
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় হারাম। চাই তা অলঙ্কার হিসেবে হোক, কিংবা ঘড়ি বা কলমের অংশ হিসেবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বর্ণ ব্যবহারের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন।
- নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি: হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) একদিন ডান হাতে রেশম এবং বাম হাতে সোনা নিয়ে বললেন— “এ দু’টি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।” (সুনানে আবু দাউদ)।
তবে কিছু বিশেষ মানবিক ও জরুরি প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষে রূপা ও স্বর্ণের অনুমতির বিধান রয়েছে:
- রূপার আংটি: একজন পুরুষ চাইলে একটি রূপার আংটি পরিধান করতে পারেন। তবে শর্ত হলো—আংটির ওজন এক মিছকাল (৪.৩৭ গ্রাম) এর কম হতে হবে।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে: যদি কারও দাঁত নষ্ট হয়ে যায় বা পড়ে যায়, তবে তিনি সোনা বা রূপা দিয়ে তা বাঁধাই বা ফিলিং করতে পারবেন। একইভাবে নাক বা আঙুলের অগ্রভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কৃত্রিমভাবে তা সোনা-রূপা দিয়ে তৈরি করে নেওয়ার অনুমতি আছে।
- অস্ত্রের কারুকাজ: যুদ্ধাস্ত্র যেমন তলোয়ার বা চুরির বাট বা খাপের ওপর অনুবর্তী হিসেবে সামান্য পরিমাণ সোনা-রূপার নকশা করা জায়েয।
২. সোনা-রূপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতু (লোহা, তামা, স্টিল, ব্রোঞ্জ)
স্বর্ণ ও রূপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীয়াহর বিধান ভিন্নতর:
- ব্যবহারিক সামগ্রী: পুরুষ সোনা-রূপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তু অলঙ্কার ব্যতীত অন্য সকল ব্যবহারিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে। যেমন—ধাতব পাত্রে খানা-পিনা করা, অযু বা গোসলের কাজে ব্যবহার করা।
- অলঙ্কার হিসেবে নিষেধাজ্ঞা: লোহা, তামা, পিত্তল বা স্টিলের চেইন, ব্রেসলেট বা আংটি অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করা পুরুষের জন্য জায়েয নেই। এর প্রধান দুটি কারণ হলো:
- মহিলাদের সাথে সাদৃশ্য: অলঙ্কার মূলত মহিলাদের বৈশিষ্ট্য। পুরুষ যদি অলঙ্কার পরিধান করে, তবে সে মহিলাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী মহিলাদের এবং মহিলাদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের ওপর লানত করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ)।
- পৌত্তলিকতা পরিহার: অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ ধাতুর আংটি বা চেইন পরাকে বিশেষ কোনো শক্তির উৎস মনে করা হয়, যা বিশ্বাসের পরিপন্থী হতে পারে।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী পুরুষের আভিজাত্য অলঙ্কারে নয়, বরং তার চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মধ্যে নিহিত। আধুনিক ফ্যাশনের নামে মহিলাদের সদৃশ অলঙ্কার বা স্বর্ণের ব্যবহার কেবল ধর্মীয়ভাবেই নিষিদ্ধ নয়, বরং এটি পুরুষের স্বকীয়তাকেও ক্ষুণ্ণ করে। তাই একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে ধাতব বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীয়াহর এই সীমাগুলো মেনে চলা নৈতিক দায়িত্ব।
সূত্র: ১. সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪০৫৯ (স্বর্ণ ও রেশম সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা) এবং হাদিস নং ৪০৯৭ (সাদৃশ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ)। ২. সুনানে নাসায়ী: হাদিস নং ৫১৪৪ এবং মুসনাদে আহমদ: হাদিস নং ৮৩০৯। ৩. আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু: ড. ওয়াহবা আল-জুহাইলি (ধাতব ও অলঙ্কার ব্যবহারের অধ্যায়)। ৪. ফাতাওয়ায়ে শামি: কিতাবুল কারাহিইয়্যাহ (অলঙ্কার ব্যবহারের ফিকহী মাসআলাসমূহ)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সুখ এবং মানসিক প্রশান্তি কেবল বস্তুগত প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং মানুষের চিন্তন প্রক্রিয়া ও বিশ্বাসের গভীরতা এখানে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ বলছে, মোটের ওপর আস্তিকদের তুলনায় নাস্তিকদের মধ্যে হতাশা, বিষণ্নতা ও একাকীত্ববোধ বেশি প্রকট হতে পারে। এই সুখবোধের তারতম্য মূলত আসে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বা বিশ্বাসগত পার্থক্য থেকে।
১. যুক্তি বনাম সমর্পণ: মানসিক চাপের ভিন্নতা

নাস্তিকরা সাধারণত তাদের চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যুক্তি ও বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে। তারা অলৌকিকতা বা ধর্মীয় মিথের উর্ধ্বে থেকে বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করে। কোনো কিছু বিনা প্রমাণে বিশ্বাস করা তাদের জন্য কঠিন। অন্যদিকে, আস্তিকরা একটি উচ্চতর শক্তিতে (ঈশ্বর) বিশ্বাসী। এই অটল বিশ্বাস অনেক সময় যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ধার ধারে না। কিন্তু এই ‘বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস’ আস্তিকদের মনে একটি বড় ধরনের চিন্তামুক্তি ঘটায়। তারা জীবনের সব ভার ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়ে মানসিকভাবে নির্ভার থাকতে পারে।
২. সংকটে প্লাসিবো ইফেক্ট ও আশার আলো

জীবনের এমন অনেক জটিল মোড় আছে যেখানে বিজ্ঞান বা মানবিক যুক্তি কোনো সমাধান দিতে পারে না। জীবনের চরম সংকটে বিজ্ঞান যখন ব্যর্থ হয়, তখন একজন নাস্তিক অনেক সময় ভিত্তিহীন বোধ করেন এবং হতাশায় ভেঙে পড়েন।
বিপরীতে, আস্তিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন নাস্তিক নিরাময় অযোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তবে বিজ্ঞানের যুক্তিতে তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর কথা ভেবে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়তে পারেন। কিন্তু একজন আস্তিক এই অবস্থায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্রষ্টা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন। এই ‘আশা’ তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে অনেক সময় ‘প্লাসিবো থেরাপি’-র মতো কার্যকর হিসেবে দেখা হয়, যা রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সচল রাখতে সহায়তা করে।
৩. আত্মবিশ্বাস বনাম ঈশ্বরবিশ্বাস

নাস্তিকরা মূলত নিজের ওপর বা নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থাশীল (Self-confident)। কিন্তু মানুষের সামর্থ্যের একটি সীমা থাকে। যখন সেই সীমা অতিক্রম করে কোনো বিপর্যয় আসে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাস দ্রুত ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, আস্তিকরা তাদের ব্যর্থতা, গ্লানি এবং দুশ্চিন্তার ভার ঈশ্বরের কাছে সঁপে দেন। এই ‘সারেন্ডার’ বা সমর্পণের ক্ষমতা তাদের মনকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখে। বিভিন্ন সংকটে নাস্তিক যেখানে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, আস্তিক সেখানে বিশ্বাস করেন যে “যা হচ্ছে তা ঈশ্বরের ইচ্ছায় এবং এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কল্যাণ নিহিত আছে।” এই ইতিবাচক চিন্তাই তাকে প্রতিকূল পরিবেশেও সুখী রাখতে সাহায্য করে।

বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):
সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয়। নাস্তিকরা সত্যের সন্ধানে যুক্তির যে কঠিন পথ বেছে নেন, সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক তৃপ্তি থাকলেও মানসিক প্রশান্তির অভাব ঘটতে পারে। আবার আস্তিকরা বিশ্বাসের যে ছায়াতলে আশ্রয় নেন, সেখানে হয়তো বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতি আছে, কিন্তু মানসিক নিরাপত্তা ও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির হার অনেক বেশি। দিনশেষে মানুষের অস্তিত্বের লড়াইয়ে ‘আশা’ বা ‘Hope’ এক বিশাল শক্তির নাম, যা আস্তিকদের মাঝে বেশি দৃশ্যমান।
তথ্যসূত্র (References):
১. Journal of Religion and Health: ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন গবেষণাপত্র।
২. The Placebo Response: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ।
৩. ইমানুয়েল কান্ট ও সমসাময়িক দর্শন: যুক্তিবাদ বনাম আধ্যাত্মিকতার তুলনামূলক আলোচনা।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত ও ব্যর্থ মনে হয়। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা আজ যে সংকটের মুখোমুখি, তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

বর্তমানে ইসলামকে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ‘একাধিক বিবাহ’ নিয়ে যেভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত বিব্রতকর। ইসলামে চার বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠিন শর্ত ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে অমুসলিম বিশ্ব ও নওমুসলিমদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে, মুসলিম পুরুষ মানেই কেবল একাধিক বিয়ে।
২. আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ভার ও ‘ইসলামোফোবিয়া’

বিশ্বের কোথাও কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর এসে পড়ে। অনলাইনে বা অফলাইনে একজন মুসলিমকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে সে ‘জঙ্গি’ নয়। হিজাব পরিধান করা যে একজন নারীর স্বাধীন ইচ্ছা হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকুও আমরা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। নিজেদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে না পারা আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।
৩. অনৈক্য ও পরশ্রীকাতরতা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব আজ প্রকট। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো বড় মানবিক সংকটে যখন কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশ নয়, বরং গাম্বিয়ার মতো একটি ছোট দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করে, তখন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে যতটা পটু, নিজেদের সংশোধনে ততটাই উদাসীন।
৪. ভূ-রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা

মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অনেক সময় সাধারণ মুসলমানদের ব্যথিত করে। ইয়েমেনের মানবিক বিপর্যয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রহস্যজনক নীরবতা কিংবা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়া—আমাদের লজ্জিত করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনছে।
৫. দেশপ্রেম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা

‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’—এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে অনেক মুসলিম দেশ আজ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এছাড়া সোনালী অতীতে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে মুসলিম মনীষীদের যে কালজয়ী অবদান ছিল, তা আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের আবিষ্কার ও অবদান সম্পর্কে নিজেরাই জানি না, ফলে পশ্চিমাদের চোখে আমরা আজ একটি ‘পিছিয়ে পড়া’ জাতিতে পরিণত হয়েছি।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামের সৌন্দর্য তখনই বিকশিত হবে যখন আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকবে। আমরা যদি অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের চরিত্র ও জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারি, তবেই আমাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেবল ধর্মের গান গেয়ে নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
এক নজরে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:
| চ্যালেঞ্জ | বর্তমান অবস্থা |
| সামাজিক | ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার অভাব। |
| রাজনৈতিক | মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি। |
| সাংস্কৃতিক | মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় ব্যর্থতা। |
| শিক্ষাগত | আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা। |
তথ্যসূত্র (Source):
- আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংক্রান্ত বিধান।
- আল জাজিরা ও রয়টার্স: ইয়েমেন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন।
- বিডিনিউজ২৪: মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [আপনার নাম/BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: ইসলাম ও জীবন
আমাদের মনে অনেক সময় একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়—আল্লাহ তো পবিত্র ও সুন্দর, তবে তিনি কেন পৃথিবীতে নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত বা অপবিত্র জিনিস সৃষ্টি করলেন? এই প্রশ্নটি যতটা না আধ্যাত্মিক, তার চেয়ে বেশি আমাদের সংজ্ঞাগত বোঝার অভাব।
আসলে আমরা আবিষ্কার, উদ্ভাবন এবং সৃষ্টি—এই তিনটি শব্দের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলি। চলুন আজকের ব্লগে বিষয়টি পানির মতো পরিষ্কার করে নেওয়া যাক।
১. আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন: যা আমরা করি

মানুষ কোনো কিছু শূন্য থেকে তৈরি করতে পারে না। আমরা যা করি তা হলো:
- আবিষ্কার (Discover): কোনো জিনিস আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিল, আমরা শুধু তা খুঁজে বের করি। যেমন: কলম্বাস আমেরিকা খুঁজে পেয়েছেন কিংবা জগদীশ চন্দ্র বসু গাছের প্রাণ আবিষ্কার করেছেন।
- উদ্ভাবন (Invent): আগে থেকেই আছে এমন কিছু যন্ত্রপাতি বা উপাদান জোড়া দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা। যেমন: গ্রাহাম বেল টেলিফোন বানিয়েছেন বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে কারিগরকে সেই বস্তুগুলো স্পর্শ করতে হয়।
২. সৃষ্টি (Creation): যা কেবল আল্লাহ পারেন

সৃষ্টি হলো এমন কিছু যা আগে ছিল না এবং যা তৈরি করতে কোনো কাঁচামাল বা স্পর্শের প্রয়োজন হয় না। একটি ছোট ফলের বীজের কথা ভাবুন। এর ভেতরে ডাল, পাতা বা ফুল কি দেখা যায়? না। কিন্তু মাটিতে পুঁতলেই সেখান থেকে বিশাল গাছ হয়।
আল্লাহ যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করেন, তাকে তা স্পর্শ করতে হয় না। তিনি কেবল হুকুম দেন (কুন-ফায়াকুন), আর তা সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই অপবিত্র কিছু সৃষ্টি করার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাতে লিপ্ত। তিনি পবিত্রতা ও মহিমার সাথে কেবল হুকুমের মাধ্যমেই তা অস্তিত্বে আনেন।
৩. অপবিত্র জিনিস সৃষ্টির পেছনে রহস্য কী?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে—এসব নোংরা বা দুর্গন্ধময় জিনিস তৈরির দরকার ছিল কি? এর উত্তর লুকিয়ে আছে স্বয়ংক্রিয় রিসাইকেল (Automatic Recycle) প্রক্রিয়ায়।
পৃথিবীতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য পচনশীলতা জরুরি। কোনো কিছু নষ্ট হওয়া, পচে যাওয়া এবং পুনরায় মাটিতে মিশে যাওয়া—এই জটিল রাসায়নিক চক্রের মাধ্যমেই পৃথিবী টিকে আছে। এখন ভাবুন, যদি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পচা জিনিসগুলো দেখতে সুন্দর হতো বা সুগন্ধি ছড়াতো, তবে মানুষ কি তা থেকে দূরে থাকতো? অবশ্যই না।
আল্লাহর দয়া: তিনি ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা করে দিয়েছেন যাতে আমরা সহজাতভাবেই ওসব থেকে দূরে থাকি এবং সুস্থ থাকতে পারি। এটি মূলত মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।
উপসংহার: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)
পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত আছে। যা আমাদের চোখে অপবিত্র, তাও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই নিপুণ ও অর্থবহ।
আপনার মতামত: এই গভীর বিষয়টি কি আপনার আগে এভাবে ভেবেছিলেন? কমেন্টে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



