অর্থনীতি

লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু
লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 10, 2026

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১০ মার্চ, ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এক বিশাল মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সংকটের চিরস্থায়ী সমাধান এবং শিল্পায়নে এক নতুন গতির সঞ্চার হলো।

মঙ্গলবার সকালে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB) নিশ্চিত করেছে যে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সফলতার মাধ্যমে সারাদেশ এখন থেকে শতভাগ লোডশেডিংমুক্ত থাকবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ

লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ বাস্তবায়নে পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে। কয়লা বা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই ইউনিটটি চালু হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুরের এই বিদ্যুৎ কেবল বাতি জ্বালাতেই কাজে লাগবে না, বরং এটি বড় বড় শিল্পকারখানা ও ইকোনমিক জোনে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ করবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হবেন।

তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুতের প্রভাব

সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ কোনো কাল্পনিক লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত বাস্তবতা। গ্রামের প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে শহরের ফ্রিল্যান্সার—সবাই এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। বিশেষ করে সেচ কাজে এবং ডিজিটাল আউটসোর্সিং খাতে এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটটিও বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম কমারও একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই ঐতিহাসিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেবল জীবনযাত্রার মান উন্নত করে না, এটি মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা সুনিশ্চিত করে। বিদ্যুৎ যখন প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়, তখন সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রূপপুর প্রকল্প আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার এক নতুন সূর্য।”

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দুই বাংলা কি এক হতে পারে

নিউজ ডেস্ক

April 25, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ কলাম: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: ভূ-রাজনীতি ও সমাজ

সাংস্কৃতিক বা ভাষাগত মিল থাকলেও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের একত্রিত হওয়া কি আদতে সম্ভব? প্রশ্নটি দীর্ঘদিনের হলেও এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের বেদনাদায়ক ইতিহাস, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণে।

১. দেশভাগের ক্ষত এবং দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রভাব

১৯৪৭ সালের দেশভাগ কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা ছিল না, এটি ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিটেমাটি হারানোর দীর্ঘশ্বাস। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে হওয়া দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ বাধ্য হয়েছিলেন এপার বাংলায় (পশ্চিমবঙ্গ) আশ্রয় নিতে। সেই সময়কার অত্যাচার, উচ্ছেদ এবং জীবন হারানোর স্মৃতি আজও সেসব পরিবারের উত্তরসূরিদের মনে এক অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

২. ধর্ম নিরপেক্ষতা বনাম ধর্মীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ গর্বের সাথে নিজেদের ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দেন, যেখানে সংবিধান ধর্ম নিরপেক্ষতাকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম এবং সেখানে মাঝে মাঝে কট্টরপন্থী সংগঠনের উত্থান (যেমন নববর্ষকে ‘অইসলামিক’ বলা বা সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞার চেষ্টা) দুই ভূখণ্ডের মানুষের চিন্তাধারায় বড় ব্যবধান তৈরি করেছে। যারা একসময় ধর্মের নামে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের কাছে বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সত্ত্বেও সেই পুরনো ভীতি দূর হওয়া সহজ নয়।

৩. সাংস্কৃতিক সংকট ও বাঙালি জাতিসত্তা

অনেকেই মনে করেন বাঙালি হিসেবে দুই বাংলা এক হওয়া উচিত। কিন্তু এখানে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দেয়—’বাঙালি সংস্কৃতি’ কি বজায় থাকবে? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে আরবীয় বা কট্টর ইসলামিক সংস্কৃতির প্রভাব বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। পহেলা বৈশাখ বা মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো মৌলিক বাঙালি উৎসবগুলোর ওপর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার চেষ্টা প্রমাণ করে যে, দুই বাংলার সাংস্কৃতিক অবস্থান এখন এক বিন্দুতে নেই।

৪. অর্থনৈতিক বোঝা ও ভারতের অবস্থান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভৌগোলিক অন্তর্ভুক্তি বা ‘গ্রেটার বেঙ্গল’ এর কথা আসেও, তবে ভারত কখনোই বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যার অর্থনৈতিক বোঝা নিতে চাইবে না। ভারত বর্তমানে একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি, আর এই ধরনের অন্তর্ভুক্তি কেবল জটিলতা ও অস্থিরতাই বাড়াবে।

৫. সাহিত্যের সেতুবন্ধন: মনের মিল কি সম্ভব?

সীমানা দিয়ে ভূখণ্ড ভাগ করা গেলেও ভাষা ও সাহিত্যকে ভাগ করা কঠিন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা জীবনানন্দের চর্চা দুই বাংলার মানুষকে এক জায়গায় আনে। কিন্তু এই ‘মনের মিল’ কখনোই রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে একত্রিত হওয়ার পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।


বিশ্লেষণাত্মক সারণী: দুই বাংলার বর্তমান পার্থক্য

বিষয়পশ্চিমবঙ্গ (ভারত)বাংলাদেশ
রাষ্ট্রীয় আদর্শধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্ররাষ্ট্রধর্ম ইসলাম (সংবিধানে কিছুটা পরিবর্তনশীল)
পরিচয়ভারতীয় বাঙালি (আগে ভারতীয়, পরে বাঙালি)বাংলাদেশী (বাঙালি ও জাতীয়তা ভিত্তিক)
শরণার্থী ইতিহাসপূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু পরিবারদের আশ্রয়স্থলঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু জনসংখ্যা
সংস্কৃতিবৈচিত্র্যময় ও অসাম্প্রদায়িকনিজস্ব স্বকীয়তা রক্ষায় কট্টরপন্থীদের সাথে লড়াইরত

উপসংহার

ইতিহাস যা হয়েছে তা আর পরিবর্তন করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। দুই বাংলার মানুষ নিজ নিজ জায়গায় ভালো থাকুক এবং একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য বজায় রাখুক—এটাই কাম্য। রাজনৈতিক একত্রীকরণ নয়, বরং সাহিত্য ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষ হৃদয়ে এক হতে পারে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বাংলাদেশের ১৫ বছরের উন্নয়ন

নিউজ ডেস্ক

April 25, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন: [BDS Bulbul Ahmed]

বিভাগ: অর্থনীতি ও উন্নয়ন

বাংলাদেশের গত ১৫ বছরের ইতিহাস মানেই হলো পরিবর্তনের এক মহাকাব্য। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ যে অবকাঠামোগত এবং ডিজিটাল বিপ্লব দেখেছে, তা আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আজ আমরা কথা বলব সেই সব মেগা প্রজেক্ট এবং সংস্কার নিয়ে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

১. স্বপ্নের পদ্মা সেতু: আত্মমর্যাদার এক অনন্য নাম

পদ্মা সেতু কেবল একটি কংক্রিটের কাঠামো নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক। বিশ্বব্যাংক যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তখন নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

  • প্রভাব: এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে সরাসরি ঢাকার সাথে যুক্ত করে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • বর্তমান আপডেট (২০২৬): পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ এখন পূর্ণাঙ্গভাবে সচল, যা মোংলা ও পায়রা বন্দরের পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

সম্পর্কিত খবর: [রেলপথে ঢাকা-ভাঙ্গা যাতায়াত এখন কত দ্রুত? জানুন আমাদের বিস্তারিত গাইডে।] (এখানে আপনার সাইটের অন্য লিঙ্কের ইন্টারনাল লিঙ্ক দিন)

২. মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: যানজটমুক্ত আধুনিক ঢাকা

ঢাকার অসহ্য যানজট থেকে মুক্তি পেতে মেট্রোরেল (MRT Line-6) ছিল গেম চেঞ্জার। উত্তরা থেকে মতিঝিল এখন মাত্র কয়েক মিনিটের পথ।

  • ডিজিটাল বিপ্লব: র‍্যাপিড পাস ব্যবহারের মাধ্যমে টিকিট কাটার ঝামেলামুক্ত যাতায়াত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর বাস্তব প্রতিফলন।
  • এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে দ্রুত গতির এই উড়াল সড়ক ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তকে এক সুতায় বেঁধেছে।

৩. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা

দেশের শিল্পায়নকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জরুরি। পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৬ সালের বর্তমান অধিবেশনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার কৃষি খাতে সারের ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে রূপপুর প্রকল্পের উৎপাদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

৪. ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ

২০০৯ সালে ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আজ ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং এবং ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে বাস্তবতা পেয়েছে।

  • সাফল্য: ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে শুরু করে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ) সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং ভোগান্তি কমিয়ে দিয়েছে।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: বছরের প্রথম দিনে কোটি কোটি বই বিতরণ এবং গ্রামীণ ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ বিশ্বজুড়ে মডেল হিসেবে স্বীকৃত।

৫. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বিতর্ক (২০২৬)

উন্নয়ন চললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই মেগা প্রজেক্টগুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • বিএনপির অবস্থান: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে স্বাগত জানালেও অতীতের ‘দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের’ কঠোর সমালোচনা করছে।
  • জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি: আজ ২৫ এপ্রিল ২০২৬-এর সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোতে নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও ইনসাফেও থাকা উচিত।

আগে-পরের খবরের যোগসূত্র (Timeline Table)

সালইভেন্ট / প্রজেক্টপ্রভাব / বর্তমান অবস্থা
২০১২পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়ন ঘোষণাআত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে যাত্রা।
২০২২মেট্রোরেল উদ্বোধনযাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
২০২৪৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানরাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সংস্কারের শুরু।
২০২৬মেগা প্রজেক্টের অডিটস্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নতুন কমিশন।

কেন এই নিবন্ধটি আপনার পড়া জরুরি?

বিগত ১৫ বছরের উন্নয়ন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেছে ঠিকই, তবে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং ঋণের বোঝা কমানো। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এই মেগা প্রজেক্টগুলোর যথাযথ ব্যবহারই এখন বড় পরীক্ষা।

পরবর্তী আকর্ষণ: আপনি কি জানেন বর্তমান সরকার কেন সরকারি প্লট ও ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বর্জন করেছে? বিস্তারিত জানতে আমাদের [সংসদীয় সংস্কার] সেকশনটি ভিজিট করুন।


তথ্যসূত্র (Sources):

১. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা (২০২৩-২৪): জিডিপি ও দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত ডাটা।

২. বিআরটিএ ও সেতু কর্তৃপক্ষ: ভাড়ার তালিকা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট রিপোর্ট।

৩. আলজাজিরা ও বিবিসি: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও মেগা প্রজেক্টের প্রভাব বিশ্লেষণ।

৪. পালসবাংলাদেশ বিশেষ প্রতিবেদন (২৫ এপ্রিল ২০২৬): জাতীয় নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Jet fuel crisis

নিউজ ডেস্ক

April 24, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬

উৎস: পালসবাংলাদেশ

ইউরোপের রানওয়েগুলোতে এখন নিস্তব্ধতার হাতছানি। আধুনিক সভ্যতার ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘জেট ফুয়েল’ বা বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে মহাদেশটিতে। গোয়েন্দা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের হাতে আর মাত্র ৬ সপ্তাহের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। এই সংকট কেবল সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে চলা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ বা ক্রুড অয়েলের এক বিশাল আধিপত্যবাদী লড়াইয়ের ফলাফল।

১. ক্রুড অয়েল কেন সভ্যতার মেরুদণ্ড? ক্রুড অয়েল থেকে কেবল তেল নয়, বরং আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি উপাদান পাওয়া যায়। ফ্রাকশনাল ডিস্টিলেশন বা আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় ক্রুড অয়েলের প্রতিটি হাইড্রোকার্বন শৃঙ্খলকে আলাদা করা হয়। ১ লিটার ক্রুড অয়েল থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম পেট্রোল, ৩০০ গ্রাম ডিজেল, ২০০ গ্রাম জেট ফুয়েল ও কেরোসিন এবং বাকি অংশ থেকে বিটুমিন, এলপিজি গ্যাস এমনকি প্লাস্টিক ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল তৈরি হয়।crude oil distillation process diagram, AI generated

২. রিফাইনারি প্যারাডক্স: আমেরিকার কৌশলগত ফাঁদ আমেরিকার তেল শোধনাগারগুলো মূলত ‘লাইট সুইট ক্রুড’ শোধনের জন্য তৈরি। তবে জেট ফুয়েল এবং উন্নত মানের ডিজেল তৈরির জন্য ‘হেভি ক্রুড’ বা ভারী তেলের প্রয়োজন বেশি। ভেনেজুয়েলার ‘অরিনোকো বেল্ট’-এ বিশ্বের বৃহত্তম ভারী তেলের মজুদ রয়েছে। আমেরিকার রিফাইনারিগুলো সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার তেল তাদের জন্য অনিবার্য। এই কারণেই ডেমোক্রেসির দোহাই দিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের মতো ঘটনাগুলো সরাসরি জ্বালানি দখলের লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ।

৩. ইরান কেন প্রধান টার্গেট? ইরান কেবল তেল সমৃদ্ধ দেশই নয়, তারা তাদের নিজস্ব রিফাইনারি প্রযুক্তিতেও বেশ উন্নত। ইরান যদি স্বাধীনভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তবে বৈশ্বিক বাজারে ডলারের আধিপত্য (Petrodollar) হুমকির মুখে পড়বে। আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে তাদের তেল উৎপাদন কেন্দ্র এবং সরবরাহ লাইন (যেমন হরমুজ প্রণালি) পঙ্গু করে দিয়ে মূলত বিশ্ববাজারের ‘সাপ্লাই চেইন’ নিজেদের মুঠোয় রাখতে চাইছে।

বিডিএস সম্পাদকীয় মন্তব্য: তেলের সম্পদ সীমিত কিন্তু চাহিদা অসীম। আমেরিকা যখনই জ্বালানি সংকটে পড়ে, তখন তারা কখনো ‘গণতন্ত্র’ আবার কখনো ‘মৌলবাদ দমনের’ দোহাই দিয়ে সম্পদশালী দেশগুলোর ওপর চড়াও হয়। ইউরোপের বর্তমান হাহাকার প্রমাণ করে যে, অতি-নির্ভরশীলতা যেকোনো উন্নত মহাদেশকে সংকটে ফেলতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ