ব্যাবসা

জ্যাক মা-এর ব্যবসায়িক দর্শন: আত্মীয়-বন্ধুদের কাছে প্রডাক্ট বিক্রির মানসিকতা
জ্যাক মা

নিউজ ডেস্ক

July 1, 2025

শেয়ার করুন

আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা একবার বলেছিলেন, “যখন নিজের কাছের মানুষ, আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবদের কাছে কোনো প্রডাক্ট বিক্রি করতে যাবেন, তখন তারা ভাববে আপনি তাদের সাথে ব্যাবসা করছেন। তাদের মাধ্যমে টাকা আয় করছেন। যত কম টাকাতেই আপনি বিক্রি করেন না কেন, খুব কম মানুষই সেটা প্রশংসা করবে।”

এটি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন যা সাধারণত অনেক উদ্যোক্তার প্রাথমিক ধারণার বিপরীত। প্রায়ই আমরা মনে করি যে আমাদের আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবরা আমাদের প্রডাক্ট কিনে আমাদের সাহায্য করবে, কিন্তু বাস্তবে তা অনেক সময় ভিন্ন হয়। অধিকাংশ মানুষ, বিশেষ করে কাছের মানুষ, তাদের চিন্তা করে যে আপনি তাদের থেকে কীভাবে উপকার পাচ্ছেন, তারা কখনো ভাববে না যে আপনার পণ্য বা সেবা কেনার মাধ্যমে তাদের কত টাকা সাশ্রয় হবে।

মানুষের মানসিকতা: টাকা আয়ের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ

যে মানুষগুলো আপনার কাছ থেকে কিছু কিনবে, তারা অনেক সময়ই আপনার সময়, খরচ, এবং প্রযোজনীয় প্রয়াসের প্রতি কোনো মনোযোগ দেবেন না। তারা বরং এই বিষয়টি ভাববে যে, “ও আসলে আমার কাছ থেকে কত টাকা আয় করলো?” এমনকি কিছু মানুষ অন্যদের কাছে ধোঁকা খেতে দ্বিধা করবে, তবে আপনার কাছ থেকে কিছু কিনতে তাদের কোনো বাধা থাকবে না।

অপরিচিত মানুষদের বিশ্বাস

জ্যাক মা আরো বলেছিলেন, “আপনি যখন ব্যবসা শুরু করবেন, তখন দেখবেন, প্রথম যে মানুষগুলো আপনাকে বিশ্বাস করবে তারা হলেন আপনার অপরিচিত মানুষ।” এই বাস্তবতা অনেক উদ্যোক্তার জন্য অবাক করার মতো হতে পারে, কারণ তারা আশা করে যে তাদের পরিবার বা বন্ধু প্রথমে সমর্থন দেবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় অপরিচিতরা তাদের পণ্য বা সেবা থেকে বেশি উপকার পেতে পারে এবং তারা তাদের পণ্য বা সেবায় আস্থা রাখতে পারে।

ব্যবসা ও সম্পর্কের মধ্যে সীমানা

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, যখন আপনি বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়দের কাছে কিছু বিক্রি করেন, তখন তাদের মধ্যে অনেকেই আপনার সাথে সম্পর্কের কারণে মূল্যায়ন না করে, সেই পণ্য বা সেবার বাস্তব উপকারিতা এবং মূল্য বিবেচনা করবে না। তারা শুধুমাত্র আপনার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে, যা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনেক সময় ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed 

আরও বিশ্বসংবাদ জানতে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শীর্ষ ধনী

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা

র‍্যাঙ্কনামদেশমোট সম্পদ (USD)আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি)
ইলোন মাস্ক (Elon Musk)যুক্তরাষ্ট্র~$৮৩৯ বিলিয়নটেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X
ল্যারি পেজ (Larry Page)যুক্তরাষ্ট্র~$২৫৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)যুক্তরাষ্ট্র~$২৩৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
জেফ বেজোস (Jeff Bezos)যুক্তরাষ্ট্র~$২২৪ বিলিয়নআমাজন (Amazon)
মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)যুক্তরাষ্ট্র~$২২২ বিলিয়নমেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook)
ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)যুক্তরাষ্ট্র~$১৯০ বিলিয়নওরাকল (Oracle)
বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault)ফ্রান্স~$১৭১ বিলিয়নএলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর)
জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)যুক্তরাষ্ট্র~$১৫৪ বিলিয়নএনভিডিয়া (Nvidia)
ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)যুক্তরাষ্ট্র~$১৪৯ বিলিয়নবার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
১০আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)স্পেন~$১৪৮ বিলিয়নইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara)

শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়

১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
  • বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।

২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
  • বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
  • বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
  • বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।

৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
  • বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।

৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
  • বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
  • বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।

১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
  • বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।

২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ

  1. টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
  2. ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
  3. জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সুদের কারবারি

নিউজ ডেস্ক

July 23, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন | পালস বাংলাদেশ ডেস্ক

ঢাকা: বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে “পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুদখোর” বা সুদের কারবারি হিসেবে কোনো একক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করা যায় না; বরং আধুনিক অর্থব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বড় সুদের কারবার পরিচালনা করে। একই সাথে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণনীতি, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বাস্তবতা এবং পুঁজিবাদের বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে বৈশ্বিকভাবে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।

নিচে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের প্রভাব, ইসলামী ব্যাংকিং বিতর্ক এবং উদীয়মান বিকল্প অর্থনৈতিক মডেলগুলোর একটি বিস্তৃত ও অনুসন্ধানমূলক খতিয়ান তুলে ধরা হলো:

১. প্রাতিষ্ঠানিক দিক: সবচেয়ে বড় সুদের কারবারি কারা?

ব্যক্তিগতভাবে কোনো একক ব্যক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুদের ব্যবসা পরিচালনা করে না। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে এটি সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে:

  • বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ: বৈশ্বিক ব্যাংকিং জায়ান্ট যেমন—আমেরিকার JPMorgan Chase কিংবা চীনের ICBC (Industrial and Commercial Bank of China)-এর মতো বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান উৎস হলো ঋণ প্রদান এবং তার বিপরীতে সুদ আদায় করা। ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদধারী এই ব্যাংকগুলোই মূলত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুদের কারবারি।
  • আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা: বিশ্বব্যাংক (World Bank) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বিভিন্ন অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় এবং তার ওপর সুদের হার নির্ধারণ করে।

২. রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক: বাংলাদেশে প্রচলিত একটি বয়ান

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্বে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক-কে সমালোচকরা অনেক সময় নেতিবাচকভাবে “সুদখোর” বলে সম্বোধন করে থাকেন। তবে এর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব চিত্র রয়েছে:

  • ক্ষুদ্রঋণ ও সার্ভিস চার্জ: গ্রামীণ ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সুদ বা সার্ভিস চার্জ ধার্য করে, তা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক খরচ সচল রাখার জন্য নেওয়া হয়।
  • মালিকানার সত্যতা: ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেও এর কোনো শেয়ার বা ব্যক্তিগত মালিকানা তার ছিল না; এটি মূলত একটি অলাভজনক ও সামাজিক ব্যবসা মডেল যেখানে গ্রাহক বা ঋণগ্রহীতারাই ব্যাংকের আংশিক মালিক।
  • সার্বজনীন অর্থনৈতিক বাস্তবতা: আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যে কেউ যখন ব্যাংকে টাকা রাখছেন (ডিপোজিট) কিংবা ক্রেডিট কার্ড, হোম লোন বা ব্যবসায়িক ঋণ নিচ্ছেন, তখন পরোক্ষভাবে সমাজের প্রায় প্রতিটি মানুষই এই সুদী অর্থব্যবস্থার সাথে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছেন।

তাই “সবচেয়ে বড় সুদখোর” শব্দবন্ধটি কোনো একক ব্যক্তির পরিচয় নয়, বরং এটি বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার একটি কাঠামো।

৩. আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ এবং সুদের নীতি: উন্নয়নশীল দেশে প্রভাব

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যে ঋণ দেয়, তা কেবল সাধারণ সুদের ব্যবসাই নয়; এর সাথে জড়িয়ে থাকে কঠোর “কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি” (Structural Adjustment Programs – SAP)। এর জোড়া প্রভাব রয়েছে:

ক) ইতিবাচক প্রভাব

  • জরুরি আর্থিক সংকট দূর: বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র রিজার্ভ সংকট বা দেউলিয়া হওয়া থেকে সাময়িকভাবে দেশকে রক্ষা করে।
  • অবকাঠামো উন্নয়ন: রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো বড় প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করে।
  • আর্থিক খাতের সংস্কার: ব্যাংকিং খাত, ট্যাক্স আদায় এবং সুশাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনতে বাধ্য করে।

খ) নেতিবাচক প্রভাব (ঋণের ফাঁদ)

  • ভর্তুকি প্রত্যাহার ও মূল্যস্ফীতি: আইএমএফ-এর শর্তের কারণে সরকারকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষিতে ভর্তুকি কমাতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতি তীব্রভাবে বাড়ে।
  • মুদ্রার অবমূল্যায়ন: স্থানীয় মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে কমিয়ে দেওয়ার শর্ত থাকে। এর ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়।
  • সার্বভৌমত্বে আঘাত ও ব্যয় সংকোচন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেট কমাতে বাধ্য করায় দরিদ্র মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। গ্রিস, শ্রীলঙ্কা বা আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলো এই ঋণের শর্তের বেড়াজালে পড়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে।

৪. ইসলামী ব্যাংকিং বা সুদবিহীন অর্থব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে

ইসলামী ব্যাংকিং মূলত শরিয়াহ বা ইসলামিক আইনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। এর মূল নীতি হলো সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং অর্থের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ উপার্জন না করে সম্পদ বা সেবার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা করা।

এখানে ব্যাংক কেবল ঋণদাতা নয়, বরং গ্রাহকের ব্যবসায়িক অংশীদার। এটি প্রধানত ৩টি মৌলিক পদ্ধতিতে কাজ করে:

Plaintext

[ইসলামী ব্যাংক] 
   ├── ১. মুদারাবা / মুশারাকা ──> লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (Profit & Loss Sharing)
   ├── ২. মুরাবাহা ──────────────> লাভসহ পণ্য বিক্রয় (Cost-Plus Sale)
   └── ৩. ইজারা ────────────────> ভাড়া বা লিজিং (Leasing)
  • ১. লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি (Profit and Loss Sharing):
    • মুদারাবা (Mudaraba): ব্যাংক টাকা দেয় (পুঁজি) এবং গ্রাহক তার মেধা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ব্যবসার লাভ পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে ভাগ হয়।
    • মুশারাকা (Musharaka): ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ই যৌথভাবে পুঁজি বিনিয়োগ করেন এবং যৌথভাবে লাভ বা ক্ষতি সমান বা নির্ধারিত অনুপাতে ভাগ করে নেন।
  • ২. মুরাবাহা (Murabaha – খরচ ও লাভসহ বিক্রয়): ব্যাংক সরাসরি নগদ টাকা ঋণ না দিয়ে গ্রাহকের কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি নিজে কিনে নেয়। এরপর নিজস্ব প্রফিট মার্জিন যোগ করে কিস্তিতে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। লাভ নেওয়া হয় পণ্যের ওপর, টাকার ওপর নয়।
  • ৩. ইজারা (Ijara – লিজ বা ভাড়া): ব্যাংক কোনো সম্পত্তি বা যন্ত্রপাতি কিনে তা গ্রাহককে নির্দিষ্ট মেয়াদে ব্যবহার করতে দেয় এবং তার বিনিময়ে ‘ভাড়া’ আদায় করে।
  • ৪. সুকুক (Sukuk – ইসলামী বন্ড): এটি কোনো বাস্তব সম্পদ বা প্রজেক্টের (যেমন—সেতু বা হাইওয়ে) আংশিক মালিকানার সার্টিফিকেট। প্রজেক্টের প্রকৃত আয় বা ভাড়া সুকুক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

৫. ইসলামী ব্যাংকিং বিতর্ক: অরিজিনাল ব্যবস্থা নাকি পরিভাষার পরিবর্তন?

ইসলামী ব্যাংকিং কি সত্যিই শতভাগ সুদবিহীন, নাকি এটি সাধারণ ব্যাংকিংয়ের একটি চতুর রূপান্তর—এটি আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম বড় ও চলমান বিতর্ক।

বিতর্কের সারসংক্ষেপ: আর্থিক ফলাফলের (Financial Outcome) দিক থেকে উভয় ক্ষেত্রে অর্থ ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। তবে আইনি ও ধর্মীয় চুক্তিগত কাঠামোর (Legal & Shari’ah Process) দিক থেকে দুটি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

৬. পুঁজিবাদের বিকল্প উদীয়মান অর্থনৈতিক মডেলসমূহ

প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু নতুন বিকল্প অর্থনৈতিক ও আর্থিক মডেল নিয়ে কাজ হচ্ছে:

  • ১. বিকেন্দ্রীভূত অর্থব্যবস্থা বা ডিফাই (Decentralized Finance – DeFi): ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও ‘স্মার্ট কন্ট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে কোনো মধ্যস্থতাকারী ব্যাংক ছাড়াই সরাসরি মানুষে-মানুষে লেনদেন। এখানে সুদের বদলে ‘লিকুইডিটি পুল রিওয়ার্ড’ বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে লাভ ভাগ হয়।
  • ২. ডোনাট ইকোনমিক্স (Doughnut Economics): অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেট রার্থ প্রবর্তিত এই মডেলের লক্ষ্য কেবল জিডিপি (GDP) বাড়ানো নয়; বরং জলবায়ু রক্ষা করে সমাজের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।
  • ৩. সাধারণ কল্যাণের অর্থনীতি (Economy for the Common Good – ECG): ইউরোপে জনপ্রিয় এই মডেলে কোম্পানির সফলতা কেবল আর্থিক মুনাফা দিয়ে মাপা হয় না। মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখলে সরকার কর ছাড় দেয়।
  • ৪. ইসলামিক নৈতিক অর্থনীতি (Islamic Moral Economy): বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে ‘সুকুক’ এবং ‘জিডিপি-লিঙ্কড বন্ড’-এর মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং যাকাত ও ওয়াকফভিত্তিক সমাজকেন্দ্রিক অর্থায়ন।
  • ৫. পোস্ট-গ্রোথ বা ডিগ্রোথ মডেল (Degrowth Movement): অতিরিক্ত উৎপাদন ও কৃত্রিম চাহিদা বন্ধ করে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তোলার অর্থনৈতিক ভাবনা।

তথ্যসূত্র (Sources)

১. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক (World Bank): বৈশ্বিক আর্থিক ঋণ কাঠামো ও স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন।

২. ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (IsDB) ও AAOIFI: ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নীতিমালা, মুরাবাহা, সুকুক ও শরিয়াহ স্ট্যান্ডার্ড নির্দেশিকা।

৩. অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রসেস (Kate Raworth – Doughnut Economics): আধুনিক বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল ও ডোনাট ইকোনমিক্স গবেষণা।

৪. জিমেইল/ব্যাংকিং ডেটা সার্ভিসেস (JPMorgan Chase & ICBC Financial Reports): বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ সম্পদ বিবরণী।

মোবাইল

নিউজ ডেস্ক

July 23, 2026

শেয়ার করুন

আধুনিক জীবনযাত্রায় স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের ডিজিটাল মাধ্যম নয়, বরং বিনোদন, পেশাগত কাজ এবং দৈনিক হিসাব-নিকাশের মূল চাবিকাঠি। আপনার মূল্যবান স্মার্টফোনের সুরক্ষায়, ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে এবং ডিভাইসের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সঠিক এক্সেসরিজ বেছে নেওয়ার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডটকম (Rokomari.com)-এর মোবাইল এক্সেসরিজ ক্যাটাগরিতে পাওয়া যাচ্ছে ১০০% অরিজিনাল, আধুনিক ও টেকসই গ্যাজেটের সমৃদ্ধ কালেকশন।

আমাদের বিশেষ প্রোডাক্ট ক্যাটাগরিসমূহ

স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে রকমারিতে সাজানো রয়েছে প্রয়োজনভিত্তিক এক্সেসরিজের বিশাল সম্ভার:

  • পাওয়ার ও চার্জিং সলিউশন (Power & Fast Chargers):অরিজিনাল টাইপ-সি (Type-C), লাইটনিং (Lightning) ও ওয়ারলেস চার্জার। সঙ্গে ভ্রমণের সময় নিশ্চিন্তে পাওয়ার ব্যাকআপ পেতে রয়েছে ৫,০০০mAh থেকে শুরু করে ৬০,০০০mAh পর্যন্ত হাই-ক্যাপাসিটির পাওয়ার ব্যাংক।
  • টেকসই ক্যাবল ও কনভার্টার (Cables & Adapters):দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার ও ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টেড ব্রেডেড ক্যাবল, OTG কনভার্টার, অডিও জ্যাক অ্যাডাপ্টার এবং ৩.৫মিমি থেকে টাইপ-সি রূপান্তরকারী কানেক্টর।
  • ডিভাইস সুরক্ষা (Phone Cases & Screen Protectors):স্মার্টফোনের স্ক্রিনকে যেকোনো আঘাত ও স্ক্র্যাচ থেকে মুক্ত রাখতে শॉकপ্রুফ ব্যাক কাভার, স্পেশাল গরিলা/টেম্পার্ড গ্লাস (Tempered Glass) এবং ক্যামেরা লেন্স প্রোটেক্টর।
  • হোল্ডার, ট্রাইপড ও মাউন্ট (Stands & Mounts):ভিডিও কনফারেন্সিং বা কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য অ্যাডজাস্টেবল টেবিল স্ট্যান্ড, ট্রাইপড, ব্লুটুথ সেলফি স্টিকে সমৃদ্ধ কালেকশন। পাশাপাশি বাইকার ও ড্রাইভারদের জন্য ড্রাইভিং ফ্রেন্ডলি মোবাইল মাউন্ট।
  • গেমিং ও মেইনটেন্যান্স গ্যাজেটস:মোবাইল গেমারদের জন্য রয়েছে গেমিং ফিঙ্গার স্লিপ, কুলিং ফ্যান এবং মোবাইল সার্ভিসিং ও মেইনটেন্যান্স টুলস।

বিশ্বমানের সেরা ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডস

গুণগত মান নিশ্চিত করতে রকমারি সবসময় অফিশিয়াল ও ট্রাস্টেড ব্র্যান্ডের গ্যাজেট সরবরাহ করে:

ব্র্যান্ড নামবিশেষত্ব ও প্রোডাক্ট লাইন
Baseus & Ankerপ্রিমিয়াম কোয়ালিটি ফাস্ট চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক ও টেকসই ক্যাবল
Ugreen & Ventionবিশ্বমানের অ্যাডাপ্টার, অডিও গ্যাজেট ও হাই-স্পিড টাইপ-সি ক্যাবল
Oraimo & Remaxবাজেটবান্ধব চার্জার, পাওয়া ব্যাংক ও ডেইলি ইউজ মোবাইল এক্সেসরিজ
GEEOO & HOCOসাশ্রয়ী মূল্যে স্টাইলিশ ও ইউনিক স্মার্টফোন এক্সেসরিজ

কেন রকমারি থেকে মোবাইল এক্সেসরিজ কিনবেন?

১. ১০০% অরিজিনাল ও অথেন্টিক প্রোডাক্ট: ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টিসহ সম্পূর্ণ আসল গ্যাজেটের নিশ্চয়তা।

২. ক্যাশ অন ডেলিভারি (Cash on Delivery): সারা বাংলাদেশে ঘরে বসে পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধের সুবিধা।

৩. আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট ও অফার: বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে নিয়মিত সেরা মূল্যছাড় ও প্রোমো কোড ব্যবহার করার সুযোগ।

৪. সহজ রিটার্ন পলিসি: কোনো প্রডাক্টে সমস্যা থাকলে দ্রুত ও ঝামেলাহীন রিটার্ন ও রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা।

তথ্যসূত্র (Sources)

১. রকমারি অফিশিয়াল মোবাইল এক্সেসরিজ পেজ: Rokomari Mobile Accessories Category

২. রকমারি ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট হাব: Rokomari Electronics Shop

৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ