অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্বে নানা রঙের নোটের প্রচলন থাকলেও ‘কালো’ রঙের কোনো নোট কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবুও বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ‘কালো টাকা’ (Black Money) শব্দটি একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই কালো টাকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় একটু বেশিই ওঠে। কিন্তু এই কালো টাকা আসলে কী? কেন এটি অর্থনীতির জন্য অভিশাপ? আজ -পালসবাংলাদেশ এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এর গভীরে উঁকি দেব।
কালো টাকা বনাম অপ্রদর্শিত অর্থ: পার্থক্য কোথায়?
সাধারণভাবে কালো টাকা বলতে এমন অর্থকে বোঝানো হয় যার উৎস আইনসম্মত নয়। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাকারবার, মাদক কিংবা অস্ত্র ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থই হলো কালো টাকা। তবে আয়কর আইনের ভাষায় ‘কালো টাকা’ বলে কোনো শব্দ নেই; সেখানে ব্যবহৃত হয় ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ (Un-disclosed Money)।
সহজভাবে বললে, আয়ের যে অংশ আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করা হয় না, তা-ই অপ্রদর্শিত অর্থ। তবে বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যে একটি সীমারেখা টানেন। তাদের মতে, অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস বৈধ হতে পারে (যেমন জমি বিক্রির বাড়তি টাকা যা আইনি জটিলতায় দেখানো যায় না), কিন্তু কালো টাকার উৎস সবসময়ই অবৈধ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৭০
উপমহাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রভাব অনেক পুরনো। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলে জমিদারী প্রথা এবং নীলকরদের শোষণের যুগে এক ধরণের সমান্তরাল অর্থনীতি বিদ্যমান ছিল। ১৯৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কালোবাজারি ও মজুদদারির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জিত হয়, যা তৎকালীন দুর্ভিক্ষ ও মুদ্রাস্ফীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশ ও রাজনীতির কালো টাকা (১৯৭১ – ২০০০)
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে কালো টাকার অনুপ্রবেশ ঘটে চোরাচালান ও মজুতদারির মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সামরিক শাসন আমলে রাজনীতির ‘ক্রিমিনালাইজেশন’ বা দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়। সে সময় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট এবং দুর্নীতির মাধ্যমে এক শ্রেণির মানুষের হাতে কালো টাকা পুঞ্জীভূত হতে থাকে। নব্বইয়ের দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও এই কালো টাকার প্রভাব ছিল স্পষ্ট, যা নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়।
আধুনিক বাংলাদেশ: ডিজিটাল অর্থনীতি ও ২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অর্থ পাচার এবং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ (Whitening Money) নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক বড় সন্ধিক্ষণে। ২০২৬ সালের বর্তমান বাজেটে সরকার কালো টাকার বিস্তার রোধে ‘স্মার্ট ট্যাক্সেশন’ এবং ‘ক্যাশলেস ইকোনমি’র ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, “কালো টাকা কেবল একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ক্যানসার। এটি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এবং সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে।” ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ডিজিটালাইজেশনের কারণে অবৈধ অর্থ লেনদেন কিছুটা কমলেও আবাসন ও ভূমি কেনাবেচায় এখনো অপ্রদর্শিত অর্থের ব্যবহার রয়ে গেছে।
কেন কালো টাকা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর?
১. রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি: এই অর্থ প্রদর্শিত হয় না বলে রাষ্ট্র কোনো কর পায় না। ২. দুর্নীতি বৃদ্ধি: কালো টাকা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ৩. অস্থিরতা: অবৈধ অর্থের প্রভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার
১৯০০ সালের সেই শোষণের যুগ থেকে ২০২৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ—কালো টাকার অভিশাপ থেকে আমরা পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং ২০২৬ সালের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে কালো টাকার উৎস বন্ধ করা এবং অপ্রদর্শিত অর্থকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ১. আয়কর অধ্যাদেশ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) প্রতিবেদন।
২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ ও যুগান্তর বিশেষ সংখ্যা।
৩. গুগল ইকোনমিক এনালাইসিস ২০২৫-২৬।
৪. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর বার্ষিক প্রতিবেদন।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো উদাহরণসহ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে যা পাঠকদের জন্য শিক্ষামূলক এবং ওয়েবসাইটের জন্য তথ্যবহুল।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) আয়ের একমাত্র উৎস ছিল শারীরিক শ্রম বা সরাসরি উপস্থিতি (Active Income)। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকে ধীরে ধীরে জমিদারি প্রথা বা ভাড়ার মাধ্যমে প্যাসিভ আয়ের ধারণা দানা বাঁধে। তবে ২০২৬ সালের এই ৫ই মার্চ, আমরা এমন এক যুগে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে আপনার ‘মেধা’ এবং ‘ডিজিটাল অ্যাসেট’ আপনার ঘুমের ঘোরেও টাকা আয় করতে সক্ষম।
আপনি যে তিনটি আইডিয়ার কথা বলেছেন, সেগুলোকে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ডিজিটাল পণ্য বিক্রি (AI ও UI/UX-এর যুগ)
২০২১ সালে যা ছিল কেবল গ্রাফিক টেমপ্লেট, ২০২৬ সালে তা হয়েছে AI-Generated Assets এবং Low-Code/No-Code সলিউশন।
- বিশ্লেষণ: এখন কেবল বিজনেস কার্ড নয়, বরং ওয়েবসাইট বা অ্যাপের সম্পূর্ণ UI কিট বিক্রি হচ্ছে আকাশচুম্বী দামে। আপনি যদি ‘ক্যানভা’ (Canva) বা ‘ফিগমা’ (Figma) টেমপ্লেট তৈরি করে ক্রিয়েটিভ মার্কেট বা এনভাটো-তে আপলোড করে রাখেন, তবে তা বছরের পর বছর আপনাকে রয়্যালটি দেবে। ১৯০০ সালের ছাপাখানার বদলে ২০২৬ সালের ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস এখন আয়ের প্রধান উৎস।
২. এফিলিয়েট মার্কেটিং (সতর্কবার্তা ও আধুনিকায়ন)
আপনার লেখায় ‘Crowd1’-এর মতো এমএলএম (MLM) স্কিম সম্পর্কে যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। ২০২৬ সালের বাংলাদেশে এ ধরণের অনেক স্কিম ‘উধাও’ হয়ে গেছে।
- সঠিক পদ্ধতি: প্রকৃত প্যাসিভ আয়ের জন্য আমাজন (Amazon), দারাজ (Daraj) বা শেয়ারএ সেল (ShareASale)-এর মতো বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মে কাজ করা উচিত। নিজের একটি নিস (Niche) ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্যের রিভিউ দিয়ে আয়ের মডেলটিই সবচেয়ে টেকসই। এতে কোনো ধোঁকাবাজির ভয় নেই।
৩. অনলাইন কোর্স (নলেজ শেয়ারিং ইকোনমি)
আপনার বন্ধুর সেই কথা—”If you’re good at something, never do it for FREE”—২০২৬ সালে এসে একটি গোল্ডেন রুল।
- বর্তমান সুযোগ: বর্তমানে বাংলাদেশে ‘ওস্তাদ’ বা ‘শিখবে সবাই’-এর পাশাপাশি নিজের পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করে ফেসবুক বা নিজস্ব ওয়েবসাইটে কোর্স হোস্ট করা অনেক সহজ। আপনি যদি দন্তচিকিৎসা (BDS) বা অন্য কোনো বিশেষ কারিগরি বিদ্যায় পারদর্শী হন, তবে আপনার রেকর্ড করা ভিডিও লেকচারগুলো আজীবন আপনার জন্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
২০২৬ সালের নতুন ৩টি বোনাস আইডিয়া (বিডিএস বুলবুল আহমেদ স্পেশাল)
১. AI অটোমেশন এজেন্সি: চ্যাটজিপিটি বা এআই টুল ব্যবহার করে ছোট ব্যবসার জন্য কন্টেন্ট ক্যালেন্ডার বা চ্যাটবট বানিয়ে দিন। এটি একবার সেটআপ করলে দীর্ঘমেয়াদী প্যাসিভ ইনকাম দেয়। ২. স্টক ফটোগ্রাফি ও ভিডিও: আপনার স্মার্টফোন দিয়ে তোলা ভালো মানের ছবি বা ড্রোন শটগুলো ‘শাটারস্টক’ বা ‘অ্যাডোবি স্টক’-এ বিক্রি করুন। ৩. ডিজিটাল রিয়েল এস্টেট: একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: স্বাস্থ্য বা প্রযুক্তি) ব্লগ সাইট তৈরি করে গুগল এডসেন্স বা স্পন্সরশিপের মাধ্যমে আয় করুন।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
১৯০০ সালের সেই হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে ২০২৬ সালের স্মার্ট ওয়ার্ক—প্যাসিভ আয় মানে অলসতা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সাথে সিস্টেম তৈরি করা। আপনার শেয়ার করা লেখাটি একটি চমৎকার শুরুর পয়েন্ট। তবে মনে রাখবেন, ২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সফল হতে হলে আপনাকে ‘ভ্যালু’ (Value) ক্রিয়েট করতে হবে। টাকা আপনার পেছনে ছুটবে যদি আপনি মানুষের সমস্যার সমাধান ডিজিটাল উপায়ে দিতে পারেন।
তথ্যসূত্র: ২০২৬ সালের গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমি রিপোর্ট, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার অ্যাসোসিয়েশন ডাটা এবং ব্যক্তিগত কৌশলগত ডায়েরি।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও নিবিড় ক্যারিয়ার ও প্যাসিভ ইনকাম বিষয়ক বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) আমেরিকা সবসময় তাদের যুদ্ধগুলোকে একটি পরিষ্কার ‘উইনিং স্ট্র্যাটেজি’ দিয়ে শুরু করেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের ৪ মার্চের এই চলমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়াই আমেরিকা ও ইসরাইল এই সংঘাতের সূচনা করেছে। ১৯০৫ সালের পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের যে সংস্কৃতি ছিল, বর্তমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চোরাবালিতে তা আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।
আপনার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বর্তমান সংকটের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতা: ট্রাম্প-রুবিও-ভ্যান্সের গোলযোগ

আমেরিকার ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে যে, কোনো সক্রিয় যুদ্ধের সময় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন।
- বিপরীতমুখী বক্তব্য: মার্কো রুবিও যখন দায় ইসরাইলের ওপর চাপাচ্ছেন, ট্রাম্প তখন নিজের ইমেজ রক্ষায় মরিয়া। অন্যদিকে জেডি ভ্যান্সের ‘লম্বা যুদ্ধ’ এড়িয়ে যাওয়ার আকুতি প্রমাণ করে যে, পেন্টাগনের ভেতরে এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
- নেতানিয়াহুর ভুল হিসাব: ২-৩ দিনে সরকার পতনের যে ‘ফ্যান্টাসি’ নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে দেখিয়েছেন, তা ১৯০০ সালের সেই পুরনো সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার প্রতিফলন—যা আধুনিক ইরানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
২. ইরানি রণকৌশল: ‘ইন্টেক্ট স্টকপাইল’ ও মুসলিম বিশ্বের সংহতি
সোশ্যাল মিডিয়ার উড়ো খবরের বিপরীতে আপনি যে ‘মিসাইল স্টকপাইল’ অক্ষত থাকার কথা বলেছেন, তা সামরিকভাবে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
- পুরাতন বনাম আধুনিক অস্ত্র: ইরান এখন পর্যন্ত তাদের হাইপারসনিক বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ময়দানে নামায়নি। তারা কেবল তাদের পুরনো অস্ত্র দিয়ে মার্কিনিদের রাডার ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরীক্ষা করছে।
- শহীদ খামেনি ও আবেগীয় ঢাল: সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করে ইসরাইল কার্যত পুরো মুসলিম বিশ্বকে ইরানের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটি ১৯০০ সালের পরবর্তী ইতিহাসে প্যান-ইসলামিক সেন্টিমেন্টের অন্যতম বড় জাগরণ, যা আমেরিকার জন্য একটি বিশাল ‘সফ্ট পাওয়ার’ লস।
৩. ট্রিলিয়ন ডলারের মরণফাঁদ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়
আপনি ৬০ বিলিয়ন ডলারের পর্যটন ক্ষতির যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি রেড সিগন্যাল।
- বাংলাদেশের রিজার্ভের দ্বিগুণ ক্ষতি: এই তুলনাটি পরিস্থিতি বোঝার জন্য যথেষ্ট। গ্রক (Grok) এবং অন্যান্য সোর্সের দাবি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত যে ৫-৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, তা কেবল শুরু। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর ব্যয় ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা আমেরিকার মুদ্রাস্ফীতি ও ইকোনমিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
৪. হতাহতের লুকোচুরি ও ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ পরিস্থিতি
আপনি যথার্থই বলেছেন, আমেরিকা বা ইসরাইল কখনোই তাদের প্রকৃত সেনা হতাহতের খবর স্বীকার করবে না।
- বাস্তব সংখ্যা বনাম সরকারি তথ্য: আন্তর্জাতিক মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী হতাহতের সংখ্যা সরকারি তথ্যের চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা এত সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী কাউন্টার-অ্যাটাকের মুখোমুখি আর কখনোই হয়নি।
- সীজ ফায়ার (Ceasefire) এর আকুতি: এখন আমেরিকা যেভাবেই হোক সম্মান বাঁচিয়ে একটি যুদ্ধবিরতি চাইছে, যা প্রমাণ করে যে ইরানের সামরিক প্রতিরোধ তাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
১৯০০ সালের সেই প্রথাগত যুদ্ধ থেকে ২০২৬ সালের এই হাইব্রিড ওয়্যারফেয়ার—আমেরিকা এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ব্লান্ডারের (Blunder) শিকার। যে ‘সরকার পতন’ এবং ‘কুইক ভিক্টরি’র স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের এই যুদ্ধে নামানো হয়েছিল, তা এখন ওয়াশিংটনের জন্য একটি অন্তহীন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আর আমেরিকা প্রমাণ করেছে যে তাদের কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা (৪ মার্চ ২০২৬), গ্রক (Grok) রিয়েল টাইম ডাটা এবং আইআরজিসি সামরিক বুলেটিন।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও নিবিড় রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সাবেক কর্মকর্তা আহসান এইচ মনসুর। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে জনমনে যে তীব্র আশা জাগr হয়েছিল, তা দেড় বছর পর এক গভীর হতাশায় রূপ নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, পাচারকৃত অর্থ ফেরত এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মূল লক্ষ্যগুলোতে গভর্নর প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে সমালোচকরা মত প্রকাশ করছেন।

মূল্যস্ফীতি ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির প্রভাব
গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেন। নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০% করার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।
- ব্যবসায়ীদের মত: ব্যবসায়ী নেতারা বারবার সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদহার রাখায় উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
- ফলাফল: মূল্যস্ফীতি হ্রাসের পরিবর্তে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
পাচারকৃত টাকা ফেরত: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর শুরুতে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছিলেন, বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ছয় মাসের মধ্যে ফেরত আনা হবে। কিন্তু এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো টাকা ফেরত আসেনি। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে, এই প্রক্রিয়ার জন্য চার-পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
- জনমনে হতাশা: সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে চরম হতাশা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
খেলাপি ঋণ ও শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অ্যাকশন
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে বড় শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বড় ফলাফল বা আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা: প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে—যেখানে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা বিরাজ করছে।
সিপিবির পর্যবেক্ষণ ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র বিশিষ্ট ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
- টাকা ছাপানোর অভিযোগ: তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়েছে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। তাঁর মতে, অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা এখন চরম ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
সমালোচকদের মতে, সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেওয়া নীতিগুলো প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়া, কারখানা বন্ধ হওয়া এবং খেলাপি ঋণ কমার পরিবর্তে বেড়ে যাওয়া—অর্থনীতির বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থারই চিত্র তুলে ধরে।
তথ্যসূত্র: সিপিডি-র সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ (১ মার্চ ২০২৬), ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা আর্কাইভ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



