অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্বে নানা রঙের নোটের প্রচলন থাকলেও ‘কালো’ রঙের কোনো নোট কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবুও বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ‘কালো টাকা’ (Black Money) শব্দটি একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই কালো টাকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় একটু বেশিই ওঠে। কিন্তু এই কালো টাকা আসলে কী? কেন এটি অর্থনীতির জন্য অভিশাপ? আজ -পালসবাংলাদেশ এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এর গভীরে উঁকি দেব।
কালো টাকা বনাম অপ্রদর্শিত অর্থ: পার্থক্য কোথায়?
সাধারণভাবে কালো টাকা বলতে এমন অর্থকে বোঝানো হয় যার উৎস আইনসম্মত নয়। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাকারবার, মাদক কিংবা অস্ত্র ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থই হলো কালো টাকা। তবে আয়কর আইনের ভাষায় ‘কালো টাকা’ বলে কোনো শব্দ নেই; সেখানে ব্যবহৃত হয় ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ (Un-disclosed Money)।
সহজভাবে বললে, আয়ের যে অংশ আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করা হয় না, তা-ই অপ্রদর্শিত অর্থ। তবে বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যে একটি সীমারেখা টানেন। তাদের মতে, অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস বৈধ হতে পারে (যেমন জমি বিক্রির বাড়তি টাকা যা আইনি জটিলতায় দেখানো যায় না), কিন্তু কালো টাকার উৎস সবসময়ই অবৈধ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৭০
উপমহাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রভাব অনেক পুরনো। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলে জমিদারী প্রথা এবং নীলকরদের শোষণের যুগে এক ধরণের সমান্তরাল অর্থনীতি বিদ্যমান ছিল। ১৯৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কালোবাজারি ও মজুদদারির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জিত হয়, যা তৎকালীন দুর্ভিক্ষ ও মুদ্রাস্ফীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশ ও রাজনীতির কালো টাকা (১৯৭১ – ২০০০)
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে কালো টাকার অনুপ্রবেশ ঘটে চোরাচালান ও মজুতদারির মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সামরিক শাসন আমলে রাজনীতির ‘ক্রিমিনালাইজেশন’ বা দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়। সে সময় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট এবং দুর্নীতির মাধ্যমে এক শ্রেণির মানুষের হাতে কালো টাকা পুঞ্জীভূত হতে থাকে। নব্বইয়ের দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও এই কালো টাকার প্রভাব ছিল স্পষ্ট, যা নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়।
আধুনিক বাংলাদেশ: ডিজিটাল অর্থনীতি ও ২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অর্থ পাচার এবং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ (Whitening Money) নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক বড় সন্ধিক্ষণে। ২০২৬ সালের বর্তমান বাজেটে সরকার কালো টাকার বিস্তার রোধে ‘স্মার্ট ট্যাক্সেশন’ এবং ‘ক্যাশলেস ইকোনমি’র ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, “কালো টাকা কেবল একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ক্যানসার। এটি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এবং সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে।” ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ডিজিটালাইজেশনের কারণে অবৈধ অর্থ লেনদেন কিছুটা কমলেও আবাসন ও ভূমি কেনাবেচায় এখনো অপ্রদর্শিত অর্থের ব্যবহার রয়ে গেছে।
কেন কালো টাকা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর?
১. রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি: এই অর্থ প্রদর্শিত হয় না বলে রাষ্ট্র কোনো কর পায় না। ২. দুর্নীতি বৃদ্ধি: কালো টাকা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ৩. অস্থিরতা: অবৈধ অর্থের প্রভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার
১৯০০ সালের সেই শোষণের যুগ থেকে ২০২৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ—কালো টাকার অভিশাপ থেকে আমরা পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং ২০২৬ সালের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে কালো টাকার উৎস বন্ধ করা এবং অপ্রদর্শিত অর্থকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ১. আয়কর অধ্যাদেশ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) প্রতিবেদন।
২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ ও যুগান্তর বিশেষ সংখ্যা।
৩. গুগল ইকোনমিক এনালাইসিস ২০২৫-২৬।
৪. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর বার্ষিক প্রতিবেদন।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো উদাহরণসহ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে যা পাঠকদের জন্য শিক্ষামূলক এবং ওয়েবসাইটের জন্য তথ্যবহুল।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঢাকা: ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর। সম্প্রতি ড. ইউনূস সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় শিবির থেকেই ‘দেশ বিক্রির’ অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা কী বলছে?
ট্যারিফ যুদ্ধ ও বাংলাদেশের কৌশলী অবস্থান

২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% ট্যারিফ আরোপ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মেরুদণ্ড (যা জিডিপির প্রায় ১০%) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের সরকার এক চুক্তির মাধ্যমে এই শুল্ক কমিয়ে ১৯%-এ নামিয়ে আনে।
- মিথ্যা প্রোপাগান্ডা: সমালোচকেরা বলছেন মাত্র ১% শুল্ক কমানো হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, ৩৭% থেকে ধাপে ধাপে ১৮% কমানো হয়েছে।
- জিরো ট্যারিফ সুবিধা: চুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে পোশাক বানানো হয়, তবে সেই পোশাক আমদানিতে আমেরিকা কোনো ট্যারিফ নেবে না। এই ‘জিরো ট্যারিফ’ সুবিধা ভারতীয় টেক্সটাইল খাতের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৬,৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড়: আতঙ্ক নাকি প্রতীকী?

সমালোচকদের মূল অস্ত্র হলো ৬,৭১০টি মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের শুল্ক ছাড়। কিন্তু তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে এই তালিকার মাত্র ২,০১৬টি পণ্য আমদানি হয়েছিল যার মূল্য ছিল মাত্র ৬.৫ কোটি ডলার। বিনিময়ে বাংলাদেশ তার বিলিয়ন ডলারের পোশাক খাতকে রক্ষা করেছে। এটি মূলত একটি ‘প্রতীকী’ ছাড় ছিল যা বড় ত্যাগের বিনিময়ে বড় অর্জনের পথ প্রশস্ত করেছে।
বোয়িং বনাম এয়ারবাস বিতর্ক

১৪টি বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো: ১. বাংলাদেশ বিমানের বর্তমান বহর মূলত বোয়িং-নির্ভর। নতুন করে এয়ারবাস অন্তর্ভুক্ত করলে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেত। ২. এমনকি বিগত সরকারও ২০২৩ সালে এয়ারবাস কেনাকে ‘আর্থিকভাবে লাভজনক নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সুতরাং, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তটি ছিল কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক।
ভারতের সাথে তুলনা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণ

একই সময়ে ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করতে বাধ্য হয়েছে এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারতের কৌশলগত অবস্থানও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে হয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের এই চুক্তি অনেক বেশি কৌশলী। তুলা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়া মূলত বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইনকে ডাইভার্সিফাই করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
রাজনৈতিক স্বার্থের চশমা

আওয়ামী লীগ এই চুক্তিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখে ড. ইউনূসকে কোণঠাসা করতে চায়। অন্যদিকে, বিএনপি ড. ইউনূসের ইমেজ ক্ষুণ্ন করে নিজেদের রাজনৈতিক পথ সুগম করতে চায়। এই দুই বিপরীতমুখী দলের অভিন্ন লক্ষ্য এখন ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক সংস্কারকে বিতর্কিত করা।
উপসংহার
চুক্তিটি শতভাগ ত্রুটিমুক্ত না হলেও, এটি ছিল এক চরম সংকটকালীন ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি’। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে বাঁচিয়ে রাখা এবং একক বাজার বা দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য এটি ছিল ড. ইউনূস সরকারের একটি সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিজনেজ ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে প্রযুক্তির জয়জয়কার, অন্যদিকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন নতুন করিডোর তৈরি হওয়ায় ব্যবসার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিনিয়োগের জন্য বর্তমানে কোন খাতগুলো সবচেয়ে লাভজনক, তা নিয়ে একটি বিশেষ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডিজিটাল কন্টেন্ট পাবলিশিং ও এসইও (SEO)

ইন্টারনেট এখন মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ওয়েবসাইট ও ইউটিউবের মাধ্যমে কন্টেন্ট পাবলিশ করে প্যাসিভ ইনকাম করা সবচেয়ে লাভজনক। বিশেষ করে গুগলের নতুন এআই সার্চ অ্যালগরিদম অনুযায়ী মানসম্মত এসইও (Search Engine Optimization) সেবার চাহিদা আকাশচুম্বী। বড় বড় ব্র্যান্ড এখন তাদের অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে অভিজ্ঞ এসইও কনসালট্যান্টদের ওপর নির্ভর করছে।
২. পেট্রো-ইউয়ান ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময়

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের পাশাপাশি পেট্রো-ইউয়ানের উত্থান এক নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে অনেক দেশ ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউয়ান ব্যবহার শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন, ডিজিটাল কারেন্সি এক্সচেঞ্জ এবং এই মুদ্রাসমূহের ওপর ভিত্তি করে ফিনটেক সেবা প্রদান বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি ক্ষেত্র।
৩. জ্বালানি ও লজিস্টিকস ব্যবসা

হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চলমান অস্থিরতা এবং বিকল্প শিপিং রুটের প্রয়োজনীয়তা লজিস্টিকস ব্যবসায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। নিজস্ব শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এবং বিকল্প জ্বালানি (রিনিউয়েবল এনার্জি) সরবরাহ ব্যবসায় এখন বড় বিনিয়োগকারীরা ঝুকছেন।
৪. এআই-বেজড টেকনোলজি ও অটোমেশন

বর্তমানে যেকোনো ব্যবসার অপারেশনাল খরচ কমাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। যারা এআই টুলস ডেভেলপমেন্ট, এআই চালিত চ্যাটবট বা ব্যবসায়িক অটোমেশন সেবা দিচ্ছে, তাদের প্রফিট মার্জিন গত এক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫. ই-কমার্স ও হাইপার-লোকাল ডেলিভারি

মানুষ এখন আরও দ্রুত পণ্য হাতে পেতে চায়। ফলে এলাকাভিত্তিক বা হাইপার-লোকাল ডেলিভারি সিস্টেমসহ ই-কমার্স ব্যবসা বর্তমানে সেরা অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রোসারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ১০-২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার মডেলটি ব্যাপকভাবে সফল হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিনিয়োগ পরামর্শ: যেকোনো ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের আগে অবশ্যই স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি যাচাই করে নিন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক স্যাংশনের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণী প্রতিবেদন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা/ওয়াশিংটন/বেইজিং: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় সময় হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরি ও ইরানি মিসাইলের মুখোমুখি অবস্থান, অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনের পক্ষ থেকে মার্কিন স্যাংশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ প্রদান—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই প্রতিবেদনে আমরা এই সংকটের প্রতিটি চরিত্র, তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং আগামীর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করব।
১. হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব অর্থনীতির ‘কণ্ঠনালি’

হরমুজ প্রণালি কেবল একটি জলপথ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন করা হয়।
- ইতিহাস: ঐতিহাসিকভাবে এই প্রণালিটি পারস্য সাম্রাজ্যের অধীনে থাকলেও আধুনিক যুগে এটি ইরান ও ওমানের জলসীমানায় বিভক্ত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান এই প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে আসছে।
- বর্তমান সংকট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ইরান ঘোষণা করেছে যে, ৮০ নটিকেলের ভেতর যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে তারা টার্গেট করবে।
২. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বমঞ্চে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।
- ইতিহাস: আবাসন ব্যবসায়ী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও পরবর্তী সময়ে বর্তমান মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্পের রাজনীতি বরাবরই কঠোর অবস্থান ও অর্থনৈতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল।
- প্রজেক্ট ফ্রিডম: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই প্রকল্পে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’ হবে।
- আর্থিক সমীকরণ: ট্রাম্প এই যুদ্ধ কন্টিনিউ করতে দুবাইয়ের কাছে ৬০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৩. ইরান ও তার অনড় অবস্থান: ইসমাইল বাকেই ও বর্তমান নেতৃত্ব

ইরান এবার কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক কূটনীতিতে বিশ্বাসী।
- ইসমাইল বাকেই: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই সোমবার (৪ মে, যা আগে থেকে নির্ধারিত প্রেক্ষাপটে আলোচিত) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালির একমাত্র রক্ষক।
- ইতিহাস: ১৯৫৩ সালে সিআইএ সমর্থিত ক্যু এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে সংহত করেছে।
- ১৪ দফার প্রস্তাব: ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ১৪ দফার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পরমাণু কর্মসূচি এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
৪. চীনের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ: জি জিনপিং ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থান ওয়াশিংটনের ‘একক পরাশক্তি’ ইমেজে বড় আঘাত হেনেছে।
- ইতিহাস: মাও জে দং-এর বিপ্লব থেকে শুরু করে আজকের জি জিনপিং-এর ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI), চীন সর্বদা তাদের প্রভাব বলয় বিস্তারে কাজ করেছে।
- স্যাংশনের অবমাননা: গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমেরিকা ইরানের তেল বহনকারী চীনা জাহাজ এবং Hengli Petrochemical (Dalian) সহ চীনা রিফাইনারিগুলোর ওপর বড় ধরনের স্যাংশন আরোপ করে।
- অ্যান্টি-ফরেন স্যাংশন ল: বেইজিং প্রথমবারের মতো তাদের ‘ব্লকিং রুলস’ ব্যবহার করে আমেরিকার স্যাংশনকে আইনিভাবে তোয়াক্কা না করার নির্দেশ দিয়েছে। আল-জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, চীন তাদের কোম্পানিগুলোকে স্বাভাবিক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
৫. ডলারের পতন ও পেট্রো-ইউয়ানের উত্থান

বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ঘটছে মুদ্রাবাজারে।
- পেট্রো-ইউয়ান: চীন ও ইরান তাদের তেলের লেনদেনে মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহার শুরু করেছে।
- ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: এটি সরাসরি ডলারের আধিপত্যে চাপ সৃষ্টি করছে। ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি একটি ঐতিহাসিক মোড়, যা ভবিষ্যতে অনেক দেশকে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস যোগাবে।
৬. আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও ইরাক
সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোস্যাল মিডিয়ায় জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। পাকিস্তান এখানে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে এবং ইরানের আটক করা শিপ ‘Toska’ ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রেখেছে।
৭. ভারতের তামিলনাড়ু নির্বাচন ও থালাপতি বিজয়
একই সময়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন এসেছে ভারতের তামিলনাড়ুতে।
- থালাপতি বিজয় (টিভিকে): অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় ১০৭টি আসনে জয়ী হয়ে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
- ইতিহাস: তামিলনাড়ুর রাজনীতি বরাবরই সিনেমার তারকাদের দ্বারা প্রভাবিত (যেমন এমজিআর, জয়ললিতা)। বিজয় সেই ধারার নতুন এবং সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরাধিকারী।
উপসংহার: আমরা কি এক নতুন মাল্টি-পোলার বিশ্বের দিকে যাচ্ছি?
২০২৬ সালের এই সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়। এটি প্রমাণ করছে যে আমেরিকা আর বিশ্বের একমাত্র একক সুপার পাওয়ার নয়। চীনের আইনি অবস্থান, ইরানের সামরিক প্রতিরোধ এবং পেট্রো-ইউয়ানের ব্যবহার বিশ্বব্যবস্থাকে ‘ইউনি-পোলার’ থেকে ‘মাল্টি-পোলার’ ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
পত্রিকা ও টকশো রেফারেন্স:
- আল জাজিরা আন্তর্জাতিক সংস্করণ – ২৭ এপ্রিল ২০২৬।
- ব্লুমবার্গ গ্লোবাল ইকোনমি এনালাইসিস – ২৮ এপ্রিল ২০২৬।
- নিউজ টকশো ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’: ফক্স নিউজ – ২৯ এপ্রিল ২০২৬।
- ইউএস হোম ট্রেজারি বিজ্ঞপ্তি – ২৪ এপ্রিল ২০২৬।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



