প্রযুক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি কাজের ধরন, যেখানে একজন ব্যক্তি বা পেশাজীবী কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকে। ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত একক প্রকল্পের ভিত্তিতে কাজ করেন এবং এক বা একাধিক ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করে থাকেন। তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের সময় এবং কাজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের মূল ধারণা
ফ্রিল্যান্সিং বলতে, কাজের ধরন যা কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ না হয়ে, নির্দিষ্ট সময়ে বা প্রকল্প ভিত্তিক কাজ করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এর মানে হলো, ফ্রিল্যান্সাররা কোনো অফিসের পরিবেশে কাজ না করে, তারা একাধিক ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করতে পারেন এবং তাদের কাজের জন্য উপযুক্ত মূল্য পান।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের বৈশিষ্ট্য:
- স্বাধীনতা: ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের সময়, স্থান এবং প্রকল্প বাছাইয়ের স্বাধীনতা রাখেন। একে বলা হয় “ফ্লেক্সিবিলিটি”।
- ক্লায়েন্ট ভিত্তিক কাজ: ফ্রিল্যান্সাররা সরাসরি ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেন।
- অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ: বর্তমান যুগে ফ্রিল্যান্সিং কাজ প্রায় সব সময় অনলাইনে হয়, যেখানে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন: Upwork, Fiverr, এ ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজ তুলে ধরেন এবং ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে কাজ পান।
- পেমেন্ট মডেল: ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের জন্য এককালীন পরিশোধ বা ঘণ্টাভিত্তিক/প্রকল্পভিত্তিক পেমেন্ট পান।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন ধরন
- লেখালেখি: ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, কন্টেন্ট রাইটিং, টেকনিক্যাল রাইটিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং ইত্যাদি।
- গ্রাফিক ডিজাইন: লোগো ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন ইত্যাদি।
- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট: ওয়েবসাইট তৈরি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ইকমার্স ওয়েবসাইট, সিপিএম/এসইও সহ অন্যান্য ডিজিটাল কাজ।
- ভিডিও এডিটিং ও অ্যানিমেশন: ভিডিও তৈরি, সম্পাদনা, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।
- অনুবাদ: ভাষা থেকে ভাষায় অনুবাদ, টেক্সট বা কনটেন্টের ট্রান্সলেশন ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা:
- অধিক আয়: দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সাররা অনেক বেশি আয় করতে পারেন। অধিকতর অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সাররা ভালো প্রজেক্টে কাজ করে বেশি পেমেন্ট পেতে পারেন।
- সামাজিক ও পেশাগত নেটওয়ার্কিং: ফ্রিল্যান্সিং অনেক নতুন মানুষ, ক্লায়েন্ট এবং কাজের সুযোগ নিয়ে আসে যা পেশাগত নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।
- ঘরের কাজ: ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আপনি ঘরেই বসে কাজ করতে পারেন। এটি আপনার কাজের সময়সূচীকে আরও সহজ করে দেয়।
- বিশ্বব্যাপী সুযোগ: আপনি যে দেশে থাকুন না কেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের চ্যালেঞ্জসমূহ:
- অস্থিতিশীল আয়ের উৎস: ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে অনেক অস্থিতিশীলতা থাকে, কিছু মাসে অনেক কাজ পাওয়া যেতে পারে, আবার কিছু মাসে কম কাজ হতে পারে।
- নিজের দায়িত্ব নেওয়া: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সমস্ত দিক নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব থাকে, যেমন নিজে নিজে ট্যাক্স ফাইল করা, সময় ব্যবস্থাপনা, ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি।
- বেশি পরিশ্রম: ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন হতে পারে, কারণ ক্লায়েন্টের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং প্রত্যাশা পূরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
কীভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য প্রথমে নিজের দক্ষতাকে একটি পেশাদারী স্তরে নিয়ে আসা জরুরি। এর জন্য অনলাইন কোর্স, টিউটোরিয়াল, এবং প্র্যাকটিস করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন করে আপনার দক্ষতা এবং কাজের নমুনা প্রদর্শন করতে হবে।
- রেজিস্ট্রেশন করুন: Upwork, Fiverr, এবং সহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজের জন্য সাইন আপ করুন।
- পোর্টফোলিও তৈরি করুন: আপনার সেরা কাজগুলো পোর্টফোলিও হিসেবে উপস্থাপন করুন। এটি ক্লায়েন্টদের কাছে আপনার দক্ষতা প্রদর্শন করতে সাহায্য করবে।
- নেটওয়ার্কিং করুন: ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে ক্রমাগত কাজ করুন এবং নতুন ক্লায়েন্টদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন।
সূত্র:
- Upwork – ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
- Fiverr – বিভিন্ন সেবা ও প্রকল্পের জন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
- Freelancer – ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজের সুযোগ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রযুক্তি ডেস্ক | ০৭ মে ২০২৬
আধুনিক কর্মজীবনে ম্যাকবুক বা আইম্যাক কেবল একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস নয়, বরং পেশাদারদের সৃজনশীলতার প্রধান হাতিয়ার। তবে অ্যাপল ডিভাইসের মাদারবোর্ড বা স্ক্রিন ড্যামেজ হলে অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টারের আকাশচুম্বী খরচ গ্রাহকদের জন্য প্রায়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে সিঙ্গাপুরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে Mac Infinity। তাদের সাশ্রয়ী ‘চিপ-লেভেল’ রিপেয়ার এবং ‘জিরো ডাটা লস’ পলিসি প্রতিষ্ঠানটিকে সাধারণ সার্ভিস সেন্টারের তুলনায় কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছে।

১. অথরাইজড সেন্টার বনাম Mac Infinity: কেন তারা অনন্য?
সাধারণত অ্যাপল অথরাইজড সেন্টারগুলো কোনো ছোট সমস্যা হলেও পুরো মাদারবোর্ড বা প্যানেল পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। কিন্তু Mac Infinity–এর বিশেষত্ব হলো:

- চিপ-লেভেল রিপেয়ার: তারা পুরো মাদারবোর্ড পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত চিপ বা সার্কিট মেরামত করতে সক্ষম। এতে গ্রাহকের খরচ ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত সাশ্রয় হয়।
- ডাটা সুরক্ষা: অনেক সময় অফিসিয়াল স্টোর মেরামতের আগে সব ডাটা মুছে ফেলে (Data Wipe), কিন্তু Mac Infinity গ্রাহকের ডাটা অক্ষুণ্ণ রেখে ডিভাইস মেরামতের সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দেয়।
- সুপার ফাস্ট ডেলিভারি: ব্যাটারি বা স্ক্রিন পরিবর্তনের মতো সাধারণ কাজগুলো তারা মাত্র ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করে।
২. ই-বর্জ্য হ্রাস ও পরিবেশগত অবদান

Mac Infinity কেবল ব্যবসায়িক মুনাফায় সীমাবদ্ধ নয়, তারা টেকসই পরিবেশ গঠনেও কাজ করছে। গত ১৪ বছরে মেরামতযোগ্য ডিভাইসগুলো পুনরায় সচল করার মাধ্যমে তারা এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ টন ই-বর্জ্য (E-waste) তৈরি হওয়া থেকে পরিবেশকে রক্ষা করেছে। সার্কুলার ইকোনমি বা চক্রাকার অর্থনীতির এই মডেলে তারা পুরনো অ্যাপল ডিভাইস রিসাইকেল করতেও সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে।
৩. অভিজ্ঞতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টির ১৪ বছর
গত ১৪ বছরে ৮৫,০০০-এর বেশি ডিভাইস সাফল্যের সাথে মেরামত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গুগল এবং ইয়েলপ-এর মতো প্ল্যাটফর্মে তাদের অসংখ্য ৫-স্টার রেটিং সেবার মানের সাক্ষ্য দেয়। বর্তমানে তাদের টিমে কাজ করছেন অভিজ্ঞ অ্যাপল সার্টিফাইড টেকনিশিয়ানরা, যারা অত্যন্ত জটিল হার্ডওয়্যার সমস্যার নিখুঁত সমাধান দিতে সক্ষম।
৪. মে ২০২৬-এর বিশেষ প্রমোশনাল অফার!
বর্তমানে তাদের Millenia Walk এবং Paya Lebar Square শাখায় বিশেষ কিছু প্রমোশন চলছে:
- iMac M1/M3 স্ক্রিন প্রোমো: আইম্যাকের স্ক্রিন ফ্লিকারিং সমস্যার সমাধানে মাত্র ৬৫০ SGD-তে অরিজিনাল এলসিডি প্যানেল রিপ্লেসমেন্ট।
- শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ছাড়: শিক্ষা খাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্ট।
- ফ্রি ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিং: কোনো চার্জ ছাড়াই ডিভাইসের সমস্যা চেক এবং প্রতিটি মেরামতের সাথে ফ্রি ইন্টারনাল ডাস্ট ক্লিনিং সুবিধা।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ টিপস
ম্যাকবুকে গাণিতিক অসীম বা Infinity (∞) সিম্বলটি টাইপ করতে কিবোর্ডের Option + 5 বাটন দুটি একসাথে প্রেস করুন। আর হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত জটিল সমস্যার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন নিচের ঠিকানায়।
যোগাযোগের ঠিকানা:
📍 Millenia Walk (Main Outlet): 9 Raffles Blvd, #01-81, Singapore 039596.
📍 Paya Lebar Square: 60 Paya Lebar Rd, #05-21, Singapore 409051.
📞 WhatsApp: +65 9237 1529 / +65 9169 1257
🌐 Website: www.macinfinity.sg
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল গ্রোথ পার্টনার
ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিজনেজ ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে প্রযুক্তির জয়জয়কার, অন্যদিকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন নতুন করিডোর তৈরি হওয়ায় ব্যবসার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিনিয়োগের জন্য বর্তমানে কোন খাতগুলো সবচেয়ে লাভজনক, তা নিয়ে একটি বিশেষ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডিজিটাল কন্টেন্ট পাবলিশিং ও এসইও (SEO)

ইন্টারনেট এখন মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ওয়েবসাইট ও ইউটিউবের মাধ্যমে কন্টেন্ট পাবলিশ করে প্যাসিভ ইনকাম করা সবচেয়ে লাভজনক। বিশেষ করে গুগলের নতুন এআই সার্চ অ্যালগরিদম অনুযায়ী মানসম্মত এসইও (Search Engine Optimization) সেবার চাহিদা আকাশচুম্বী। বড় বড় ব্র্যান্ড এখন তাদের অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে অভিজ্ঞ এসইও কনসালট্যান্টদের ওপর নির্ভর করছে।
২. পেট্রো-ইউয়ান ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময়

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের পাশাপাশি পেট্রো-ইউয়ানের উত্থান এক নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে অনেক দেশ ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউয়ান ব্যবহার শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন, ডিজিটাল কারেন্সি এক্সচেঞ্জ এবং এই মুদ্রাসমূহের ওপর ভিত্তি করে ফিনটেক সেবা প্রদান বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি ক্ষেত্র।
৩. জ্বালানি ও লজিস্টিকস ব্যবসা

হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চলমান অস্থিরতা এবং বিকল্প শিপিং রুটের প্রয়োজনীয়তা লজিস্টিকস ব্যবসায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। নিজস্ব শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এবং বিকল্প জ্বালানি (রিনিউয়েবল এনার্জি) সরবরাহ ব্যবসায় এখন বড় বিনিয়োগকারীরা ঝুকছেন।
৪. এআই-বেজড টেকনোলজি ও অটোমেশন

বর্তমানে যেকোনো ব্যবসার অপারেশনাল খরচ কমাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। যারা এআই টুলস ডেভেলপমেন্ট, এআই চালিত চ্যাটবট বা ব্যবসায়িক অটোমেশন সেবা দিচ্ছে, তাদের প্রফিট মার্জিন গত এক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫. ই-কমার্স ও হাইপার-লোকাল ডেলিভারি

মানুষ এখন আরও দ্রুত পণ্য হাতে পেতে চায়। ফলে এলাকাভিত্তিক বা হাইপার-লোকাল ডেলিভারি সিস্টেমসহ ই-কমার্স ব্যবসা বর্তমানে সেরা অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রোসারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ১০-২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার মডেলটি ব্যাপকভাবে সফল হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিনিয়োগ পরামর্শ: যেকোনো ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের আগে অবশ্যই স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি যাচাই করে নিন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক স্যাংশনের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রযুক্তি প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা: বর্তমান যুগ স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আর হাই-ডেফিনিশন পর্দার যুগ। প্রযুক্তির এই বিশালত্বের ভিড়ে আমরা ‘ক্যালকুলেটর’ নামক ক্ষুদ্র যন্ত্রটির গুরুত্বের কথা প্রায় ভুলেই গেছি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, পকেটে থাকা সামান্য একটি চিপ কীভাবে চোখের পলকে বিশাল অংকের গুণ বা ভাগ করে ফেলে? আজ আমরা উন্মোচন করব ক্যালকুলেটরের ভেতরের সেই বিস্ময়কর ইলেকট্রনিক মহাযজ্ঞ।

১. মানুষের ভাষা বনাম মেশিনের ভাষা: বাইনারি রহস্য
মানুষের হাতে ১০টি আঙুল থাকায় আমরা ‘ডেসিমাল’ বা ১০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতিতে (০-৯) অভ্যস্ত। কিন্তু ক্যালকুলেটর একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা কেবল বিদ্যুতের উপস্থিতি (On) এবং অনুপস্থিতি (Off) বোঝে। সম্প্রতি জনপ্রিয় বিজ্ঞানভিত্তিক টক-শো ‘টেক জংশন ২০২৬’-এ বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেছেন যে, ক্যালকুলেটর মূলত একটি ‘বাইনারি ক্যালকুলেটিং মেশিন’। এর সার্কিটগুলো শুধু ০ এবং ১-এর সংকেত বোঝে। আমরা যখন কিপ্যাডে কোনো সংখ্যা চাপি, ক্যালকুলেটর সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে বাইনারি কোডে রূপান্তর করে নেয়।
২. যোগের মাধ্যমেই সব হিসেব!

শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে, ক্যালকুলেটর মূলত কেবল যোগ করতে জানে। এর ভেতরের গাণিতিক বিন্যাস এমনভাবে তৈরি যে:
- বিয়োগ: ১০ থেকে ৫ বিয়োগ করতে বললে ক্যালকুলেটর ১০-এর সাথে (-৫) যোগ করে।
- গুণ: কোনো সংখ্যাকে গুণ করতে বললে এটি নির্ধারিত সংখ্যাটিকে বারবার যোগ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৩. লজিক গেট: ক্যালকুলেটরের ‘মগজ’

এই সব যোগ-বিয়োগের পেছনে মূল কারিগর হলো অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতির লজিক গেট (Logic Gate)। এই গেটগুলো আসলে হাজার হাজার ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি এক ধরণের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সুইচ। গত বছরের ‘সায়েন্স ডেইলি’-র একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, একটি সাধারণ পকেট ক্যালকুলেটরেও কয়েক হাজার ট্রানজিস্টর থাকে যা আলোর গতিতে ডেটা প্রসেস করে। আপনি যখন সমান (=) চিহ্ন চাপেন, এই লজিক গেটগুলো বাইনারি ফলাফলকে পুনরায় ডেসিমালে রূপান্তর করে আমাদের সামনে পেশ করে।
৪. সেভেন-সেগমেন্ট ডিসপ্লে: সংখ্যা দেখার জাদু
হিসেব শেষ হওয়ার পর সংখ্যাগুলো স্ক্রিনে দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয় সেভেন-সেগমেন্ট এল ই ডি (7-Segment Display)। প্রতিটি ডিজিট দেখানোর জন্য সাতটি ছোট ছোট আলোর বার থাকে। বাইনারি ফলাফল অনুযায়ী নির্দিষ্ট বারগুলো জ্বলে উঠে আমাদের পরিচিত ডেসিমাল সংখ্যা (০-৯) তৈরি করে। এটি এমন এক নিখুঁত প্রযুক্তি যা গত কয়েক দশকেও অপরিবর্তিত থেকেছে।
৫. ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ
অ্যাবাকাস থেকে শুরু করে বিশাল আকারের মেকানিক্যাল মেশিন, আর আজকের সোলার চালিত স্লিম ক্যালকুলেটর—এই বিবর্তন কয়েকশ বছরের। যদিও স্মার্টফোনে এখন সব অ্যাপ পাওয়া যায়, তবুও প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীদের কাছে ডেডিকেটেড ক্যালকুলেটরের নির্ভুলতা আজও অতুলনীয়।
উপসংহার:
একটি ক্ষুদ্র ক্যালকুলেটর আমাদের শেখায় যে, মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোকেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লজিক বা অংশের (যেমন ০ ও ১) মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তাই ক্যালকুলেটর ভাঙার প্রয়োজন নেই, এর ভেতরের অদৃশ্য লজিকই আমাদের আধুনিক পৃথিবীর বড় বড় হিসেব নিকেশের মেরুদণ্ড।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স: ১. HowStuffWorks – Logic Circuits and Binary System Report. ২. সায়েন্স ডেইলি (Science Daily) – বিবর্তন ও ট্রানজিস্টর প্রযুক্তি আর্কাইভ। ৩. টেক জংশন ২০২৬ (টিভি টক-শো) – ‘অদৃশ্য প্রযুক্তির কার্যকারিতা’ পর্ব। ৪. গুগল টেকনিক্যাল লজিক অ্যানালাইসিস ডেটাবেস।
বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com



