অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ফিচার ডেস্ক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের মানচিত্রে আইসল্যান্ডকে নিয়ে আমাদের সাধারণ ধারণার সঙ্গে বাস্তবের আকাশ-পাতাল তফাত। অনেকে মনে করেন অ্যান্টার্কটিকার মতো আইসল্যান্ডও সম্ভবত সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। কিন্তু ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক তথ্যানুসারে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। প্রকৃতপক্ষে, আইসল্যান্ডের চেয়ে গ্রিনল্যান্ড অনেক বেশি বরফাচ্ছন্ন।

১. নাম বনাম বাস্তবতা: আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড

আইসল্যান্ডের মাত্র ১১ শতাংশ এলাকা সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা স্থায়ীভাবে বরফের নিচে। অর্থাৎ, আইসল্যান্ডে শীতকালে তুষারপাত হলেও এটি কোনোভাবেই ‘বরফের দেশ’ নয়। বরং এর আগ্নেয়গিরি ও উষ্ণ প্রস্রবণের কারণে একে ‘আগুন ও বরফের ভূমি’ বলা হয়।
২. বিপুল আয়তন, অতি ক্ষুদ্র জনসংখ্যা

আইসল্যান্ডের আয়তন প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ। তবে বিস্ময়কর তথ্য হলো, এত বড় একটি দেশে জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে তিন লাখ। তুলনামূলকভাবে দেখা যায়:
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলা মেহেরপুরের জনসংখ্যাও আইসল্যান্ডের দ্বিগুণ।
- বাংলাদেশের দ্বীপ জেলা ভোলার জনসংখ্যা আইসল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ৩-৪ গুণ বেশি। জনসংখ্যার এই স্বল্পতা দেশটিকে মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রাখতে সাহায্য করেছে।
৩. অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি
আইসল্যান্ডের উন্নয়নের পেছনে তিনটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে:
- মৎস্য সম্পদ (৪০%): দেশটির জিডিপির সিংহভাগ আসে সমুদ্রের মাছ শিকার থেকে। তারা কৃত্রিম চাষের চেয়ে প্রাকৃতিক সামুদ্রিক মাছ রপ্তানিতে বিশ্বসেরা।
- অ্যালুমিনিয়াম শিল্প (৩৮%): সস্তা ভূ-তাপীয় বিদ্যুতের (Geothermal Energy) কারণে তারা অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে অত্যন্ত শক্তিশালী।
- পর্যটন (১০%): আগ্নেয়গিরি, নর্দার্ন লাইটস এবং চমৎকার ল্যান্ডস্কেপ দেখতে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক দেশটিতে ভিড় করেন।
৪. কেন তারা এত উন্নত?
অল্প জনসংখ্যা এবং অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারই আইসল্যান্ডকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এছাড়া দেশটির শিক্ষার হার প্রায় ১০০% এবং তারা বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। আধুনিক প্রযুক্তি আর উন্নত জীবনযাত্রার সমন্বয়ে আইসল্যান্ড আজ বিশ্বের জন্য একটি রোল মডেল।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): আইসল্যান্ড প্রমাণ করেছে যে কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধিই একটি দেশের বোঝা নয়, বরং জনসংখ্যা ও সম্পদের সুষম বণ্টনই উন্নয়নের চাবিকাঠি। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য আইসল্যান্ডের সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও মৎস্য শিল্পের আধুনিকায়ন থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি
- প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া, প্রতারণা চেনার উপায় এবং সরকারি খরচের নির্দেশিকা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার বৈধ প্রক্রিয়া (Step-by-Step)
একটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
- পাসপোর্ট তৈরি: সর্বনিম্ন ১ বছর মেয়াদসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করুন।
- বিএমইটি (BMET) রেজিস্ট্রেশন: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে বা নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) গিয়ে BMET রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এর মাধ্যমে আপনি একটি ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডি পাবেন।
- বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন: শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির (RL) মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া করুন। বৈধ এজেন্সির তালিকা BMET-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
- ভিসা যাচাইকরণ (Visa Verification): এজেন্সি আপনাকে ভিসার কপি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস (Embassy) বা বিএমইটি-এর মাধ্যমে ভিসার সত্যতা শতভাগ যাচাই করে নিন।
- মেডিকেল টেস্ট: সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার (যেমন: GAMCA বা GCC অনুমোদিত কেন্দ্র) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং ‘Fit’ সার্টিফিকেট নিন।
- প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ট্রেনিং: বিএমইটি-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) ৩ দিনের বাধ্যতামূলক পিডিও ট্রেনিংয়ে অংশ নিন। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মকানুন ও ভাষা শেখানো হয়।
- স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স: সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিএমইটি থেকে বাধ্যতামূলক Emigration Clearance (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহ করুন। এটি ছাড়া বিমানবোর্ড করা বা ইমিগ্রেশন পার হওয়া অসম্ভব।
ভিসা প্রতারণা চেনার উপায়
দালাল বা ভুয়ো এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হোন:

- অস্বাভাবিক কম সময়ে ভিসা: “১ সপ্তাহে বা ৩ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিশ্চিত ভিসা” — এমন লোভনীয় ও অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দিলে বুঝবেন এটি প্রতারণা।
- ভিসার ক্যাটাগরি গোপন করা: ফ্রি ভিসা (Free Visa) বা সাপ্লাই ভিসা (Supply Visa)-র কথা বললে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইনিভাবে ‘ফ্রি ভিসা’ বলতে কিছু নেই। সবসময় সুনির্দিষ্ট কোম্পানি এবং পদের (যেমন: ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার) ভিসা দেখে নেবেন।
- অফিশিয়াল রসিদ না দেওয়া: টাকা লেনদেনের সময় যদি এজেন্সি কোনো অফিশিয়াল প্যাডে লিখিত রসিদ (Receipt) দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেখানে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- চুক্তিপত্র ছাড়া টাকা দাবি: কোনো কাজের অফার লেটার (Offer Letter) বা কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র (Employment Contract) দেখানোর আগেই বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দাবি করা প্রতারণার প্রধান লক্ষণ।
- ভিসা কপিতে ভুল বা অসংগতি: ভিসার কপিতে স্পনসর বা কোম্পানির নাম, আরবী লেখার ভুল বা দূতাবাসের সিল জেনুইন কি না তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।
সরকারি খরচ ও আর্থিক সহায়তার নির্দেশিকা
সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় (Migration Cost) নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে দেশ ও কাজের ক্যাটাগরি ভেদে এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ খরচে কিছুটা তারতম্য হয়।
বাধ্যতামূলক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি (আনুমানিক):
- BMET রেজিস্ট্রেশন ফি: ৩০০-৪০০ টাকা।
- PDO ট্রেনিং ফি: ৪০০-৫০০ টাকা।
- স্মার্ট কার্ড/ইমিগ্রেশন ফি: ৩,৫০০-৩,৮৫ টাকা।
- প্রবাসী কল্যাণ তহবিল ফি: ৩,৫০০ টাকা (স্মার্ট কার্ডের সাথেই অন্তর্ভুক্ত থাকে)।
- মেডিকেল ফি: দেশভেদে ৮,৫০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা।
- ইনস্যুরেন্স (বাধ্যতামূলক প্রিমিয়াম): ১,০০০ টাকা।
আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা:
আপনার যদি বিদেশে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকে, তবে সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে খুব স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ” নিতে পারেন। এর জন্য আপনার বৈধ ভিসা, স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন এবং কাজের চুক্তিপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
২০২৭ এ ইটালি যাবার প্রসেস কি কি তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল
ইতালির ২০২৬-২০২৮ সালের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা স্পন্সর আইনের অধীনে ২০২৭ সালের কোটায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশী কর্মী নিয়োগের অফিশিয়াল সময়সূচি ও নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। এই তিন বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিরাও ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ভিসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে ২০২৭ সালের কোটার জন্য প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation) প্রক্রিয়া শুরুর একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিচে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল সর্বশেষ নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
২০২৭ সালের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি (Timeline)
ইতালির স্পন্সর বা কাজের ভিসার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন পোর্টালে ইতালিতে অবস্থানরত মালিক বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।
- প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation): ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘Ali Portal’-এ মালিকরা কর্মীদের তথ্য আগে থেকে পূরণ করে ড্রাফট আকারে সাজিয়ে রাখতে পারবেন।
- ক্লিক ডে (Click Days) ২০২৭: আগে আসলে আগে পাবেন (First-come, first-served) ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফরম সাবমিট করার নির্দিষ্ট দিনগুলোকে ক্লিক ডে বলে। ২০২৭ সালের অফিশিয়াল ক্লিক ডে-সমূহ:
- ১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি বা এগ্রিকালচারাল সিজনাল (Seasonal) কাজের আবেদন।
- ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পর্যটন বা ট্যুরিজম খাতের সিজনাল কাজের আবেদন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: অমৌসুমি বা নন-সিজনাল (Non-seasonal) দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজের আবেদন।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: ডোমেস্টিক বা ফ্যামিলি কেয়ার (কেয়ারগিভার ও গৃহকর্মী) কাজের আবেদন।
প্রধান কাজের খাত ও ভিসা ক্যাটাগরি
২০২৭ সালের মোট কোটাকে প্রধানত তিনটি ধারায় ভাগ করা হয়েছে:
- নন-সিজনাল বা দীর্ঘমেয়াদী কাজ (৭৬,২০০টি কোটা): এর মধ্যে লজিস্টিকস, পণ্য পরিবহন (ড্রাইভিং), কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ১৪,০০০টি কোটা কেয়ারগিভার ও ফ্যামিলি কেয়ার খাতের জন্য সংরক্ষিত।
- সিজনাল বা মৌসুমি কাজ (৮৯,০০০টি কোটা): কৃষি এবং নির্দিষ্ট কিছু পর্যটন খাতের জন্য সাধারণত এই ভিসা সর্বোচ্চ ৯ মাসের হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় রূপান্তর করার সুযোগ থাকে।
৩. বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল আইনি ধাপসমূহ

- ধাপ ১ (মালিকের আবেদন): ইতালির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পোর্টালে আপলোড করে নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-তে সফলভাবে সাবমিট করবেন। [
- ধাপ ২ (নুলা ওস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট): তথ্য যাচাইয়ের পর ইতালির ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কর্মীর নামে একটি ই-ওয়ার্ক পারমিট বা ‘Nulla Osta’ (নুলা ওস্তা) ইস্যু করা হবে।
- ধাপ ৩ (ভিসা আবেদন): মালিকের পাঠানো জেনুইন নুলা ওস্তা হাতে পাওয়ার পর, বাংলাদেশে ইতালির অফিশিয়াল আউটসোর্সিং পার্টনার VFS Global Portal এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিসহ সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে ভিসা আবেদন জমা দিতে হবে।
- ধাপ ৪ (প্রশিক্ষণ উদ্যোগ): বাংলাদেশ সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশেই ইতালীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতার ওপর বিশেষ সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা দক্ষ কর্মীদের সহজে বৈধ উপায়ে ভিসা পেতে বড় ভূমিকা রাখবে।
৪. ভিসা প্রতারণা থেকে বাঁচার বিশেষ সতর্কবার্তা
ইতালি যাওয়ার নামে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দালাল চক্রের প্রতারণা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষ অবৈধ পথে লাটভিয়া বা অন্যান্য দেশের জঙ্গল ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।
- ভুয়া কোটার গুজব: বাজারে “ইতালি মাত্র ১% বাংলাদেশি নেবে, আজই টাকা দিন” — এমন যেকোনো গুজবে কান দেবেন না। ২০২৭ কোটায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো বৈষম্যমূলক ১% লিমিট অফিশিয়ালি দেওয়া হয়নি।
- অগ্রিম টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন: কোনো দালাল বা সংস্থাকে নুলা ওস্তা (Nulla Osta) ছাড়া এবং নুলা ওস্তাটি ইতালির অফিশিয়াল পোর্টাল বা দূতাবাসের মাধ্যমে শতভাগ যাচাই না করে কোনো প্রকার অগ্রিম অর্থ বা পাসপোর্ট জমা দেবেন না।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
নিরাপদ ও সুসংগঠিত অভিবাসন দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে না বুঝে অবৈধ পথে বা ভুয়া ভিসায় গিয়ে বিপদে পড়ার চেয়ে বিএমইটির সরকারি নির্দেশিকা মেনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে বিদেশে যাওয়া আবশ্যক।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): জাতীয় অর্থনীতি, সরকারি চাকরি বিজ্ঞপ্তি ও পে স্কেল গাইড
- প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): অর্থ বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়), হিসাবমহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CGA) ও আইবাস++ (iBAS++) প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬’ বা ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা হয়েছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে প্রকাশিত এই নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (retrospectively) কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতনের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইন ‘আইবাস++’ (iBAS++) সিস্টেমে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন (Pay Fixation)-এর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
১. মূল বেতন ও গ্রেডভিত্তিক নতুন কাঠামো
নতুন কাঠামোতেও ২০টি গ্রেডই বহাল রয়েছে। তবে জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিম্ন আয়ের ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ১৪২% বৃদ্ধি করে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে। ১ম গ্রেডের বেতন সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
| গ্রেড | পূর্বের মূল বেতন (টাকা) | নতুন মূল বেতন ২০২৬ (টাকা) | বৃদ্ধির হার (প্রায়) |
| গ্রেড-১ | ৭৮,০০০ (নির্ধারিত) | ১,৫৬,০০০ (নির্ধারিত) | ১০০% |
| গ্রেড-৫ | ৪৩,০০০ | ৮৬,০০০ | ১০০% |
| গ্রেড-৯ | ২২,০০০ | ৪৪,০০০ | ১০০% |
| গ্রেড-১০ | ১৬,০০০ | ২৫,০০০ | ৫৬.২৫% |
| গ্রেড-১৫ | ৯,৭০০ | ২২,৮০০ | ১৩৫% |
| গ্রেড-২০ | ৮,২৫০ | ২০,০০০ | ১৪২% |
২. বেতন বাস্তবায়নের ৩টি পর্যায় (Phases of Implementation)

অর্থনৈতিক প্রাক্কলন ও বাজেট ব্যবস্থাপনা অক্ষুণ্ন রাখতে নতুন বর্ধিত মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট ৩টি ধাপে প্রদান করা হবে:
[১ম ধাপ: ১ জুলাই '২৬ - ৩১ ডিসেম্বর '২৬] ➔ [২য় ধাপ: ১ জানুয়ারি '২৭ - ৩০ জুন '২৭] ➔ [৩য় ধাপ: ১ জুলাই '২৭ থেকে ১০০% বাস্তবায়ন]
- ১ম পর্যায় (১ জুলাই ২০২৬ – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬): ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য পার্থক্যের ৫০% যোগ হবে।
- ২য় পর্যায় (১ জানুয়ারি ২০২৭ – ৩০ জুন ২০২৭): ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পার্থক্যের ৭০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পার্থক্যের ৭৫% বর্ধিত বেতন পাবেন।
- ৩য় পর্যায় (১ জুলাই ২০২৭ থেকে): সকল গ্রেডের কর্মচারী ১০০% বা সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন পাবেন।
- ভাতা কার্যকরের সময়সীমা: নতুন হারে শতাংশভিত্তিক অন্যান্য ভাতাসমূহ (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ইত্যাদি) ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর পূর্ব পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতেই ভাতা সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
৩. আবাসন (বাড়ি ভাড়া) ও চিকিৎসা ভাতার হার (১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর)

ক) চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance)
- সাধারণ কর্মচারী: মাসিক ৩,০০০ টাকা।
- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ/পেনশনভোগী: মাসিক ৬,০০০ টাকা।
খ) এলাকাভিত্তিক বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance)
| গ্রেড বিন্যাস | ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন | অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা সদর | উপজেলা ও অন্যান্য এলাকা |
| গ্রেড ২০ থেকে ১৬ | মূল বেতনের ৬০% | মূল বেতনের ৫০% | মূল বেতনের ৪৫% |
| গ্রেড ১৫ থেকে ১০ | মূল বেতনের ৫০% | মূল বেতনের ৪০% | মূল বেতনের ৩৫% |
| গ্রেড ৯ থেকে ৫ | মূল বেতনের ৪৫% | মূল বেতনের ৩৫% | মূল বেতনের ৩০% |
| গ্রেড ৪ থেকে ১ | মূল বেতনের ৪০% | মূল বেতনের ৩০% | মূল বেতনের ২৫% |
৪. পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা
- নিট পেনশন বৃদ্ধি: অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য নিট পেনশন ৫৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাসিক নিট পেনশন ৯,০০০ টাকা বা তার কম হলে ১০০% এবং ধাপে ধাপে তদূর্ধ্বদের জন্য সর্বনিম্ন ৫৫% বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এক গ্রেড, এক পেনশন: সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘এক গ্রেড, এক পেনশন’ নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
- বিশেষ চাহিদাভিত্তিক সন্তান ভাতা: প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৫. আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন নির্দেশিকা
আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন (Pay Fixation) বা নতুন বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. পে ফিক্সেশনের প্রাক-প্রস্তুতি
অনলাইনে বসার আগে নিচের তথ্য ও কাগজপত্র সাথে রাখুন:
- ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর (১৩ ডিজিটের এনআইডি হলে শুরুতে জন্মসাল যোগ করতে হবে)।
- আইবাস++ সিস্টেমে নিবন্ধিত এবং সচল মোবাইল নম্বর (যাতে ওটিপি যাবে)।
- সর্বশেষ বা পূর্ববর্তী বছরের পে ফিক্সেশনের ট্র্যাকিং নম্বর।
- বর্তমান পদের যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ মূল বেতনের (Basic Pay) তথ্য।
২. ধাপে ধাপে অনলাইন পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: পোর্টালে প্রবেশ
যেকোনো নিরাপদ ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে আইবাস++ এর অফিশিয়াল পে ফিক্সেশন লিংকে প্রবেশ করুন: ibas.finance.gov.bd/fixation
ধাপ ২: নির্দেশনা ও সম্মতি প্রদান
পোর্টালে প্রবেশের পর স্ক্রিনে অনলাইন বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাবলি দেখতে পাবেন। এটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিচে থাকা “আমি পড়েছি এবং সম্মত হলাম” (I have read and agreed) বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে “পরবর্তী” (Next) বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ধরন নির্বাচন
নতুন বেতন স্কেলের ফিক্সেশনের জন্য অপশনগুলো থেকে “নতুন নিয়োগ/বেতন স্কেল” (New Appointment / Pay Scale) অথবা “বেতন নির্ধারণ” (Pay Fixation) অপশনটি নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: লগইন ও পরিচয় যাচাই
- আপনার ১৭ ডিজিটের NID নম্বর এবং পূর্বের পে ফিক্সেশন ট্র্যাকিং নম্বরটি নির্দিষ্ট বক্সে লিখুন।
- স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা (Captcha) কোডটি সঠিকভাবে এন্ট্রি করে “Log In” বা “Verify” বাটনে ক্লিক করুন।
- আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ৪ বা ৬ ডিজিটের একটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) যাবে। ওটিপি-টি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৫: তথ্য যাচাই ও নতুন স্কেল নির্ধারণ
- লগইন সম্পন্ন হলে আপনার নাম, পদবি, বর্তমান অফিস এবং পূর্বের মূল বেতনের বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে চলে আসবে।
- তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনের ড্রপডাউন মেনু থেকে নতুন বেতন কাঠামো (জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬) নির্বাচন করুন এবং কার্যকরের তারিখ হিসেবে “০১/০৭/২০২৬” সিলেক্ট করুন।
- সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কাঠামো এবং চলতি ধাপ (Phase) অনুযায়ী আপনার জন্য নির্ধারিত নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন (Basic Pay) হিসাব করে প্রদর্শন করবে।
ধাপ ৬: চূড়ান্ত দাখিল ও প্রিন্ট
- স্ক্রিনে প্রদর্শিত হিসাবকৃত নতুন মূল বেতন এবং ভাতার বিবরণ পুনরায় ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।
- সবকিছু ঠিক থাকলে “Save” বা “Submit” বাটনে ক্লিক করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
- ফিক্সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্ক্রিনে একটি ট্র্যাকিং নম্বরসহ চূড়ান্ত পে ফিক্সেশন ফরম দৃশ্যমান হবে। ভবিষ্যত রেফারেন্সের জন্য এই পে ফিক্সেশন কপিটি অবশ্যই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন।
৩. জরুরি নির্দেশনাবলি ও করণীয়
- তথ্য অসংগতি দেখা দিলে: স্ক্রিনে প্রদর্শিত আপনার নাম, পদবি বা পূর্বের মূল বেতনের তথ্যে কোনো ভুল বা অমিল থাকলে নিজে জোরপূর্বক সাবমিট করবেন না। অবিলম্বে আপনার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বা ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer) এর সাথে যোগাযোগ করে ডাটাবেজ সংশোধন করিয়ে নিন।
- মোবাইল নম্বর পরিবর্তন: যদি আপনার পূর্বের মোবাইল নম্বরটি বর্তমানে সচল না থাকে, তবে আইবাস++ এ লগইন করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে (DAO/UAO) গিয়ে মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তন বা রিসেট করে নিতে হবে।
- ধাপভিত্তিক হিসাব: নতুন বেতন কাঠামোটি ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে বিধায় ফিক্সেশন কপিতে চলতি অর্থবছরের ১ম ধাপের জন্য যে পরিমাণ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা-ই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এর মাধ্যমে জমা হবে।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রতিফলন ঘটেছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের সার্বিক বাজেট ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, তেমনি উচ্চমূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান রক্ষা সহজতর হবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): বিজ্ঞানের ইতিহাস, দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব
- প্রকাশের তারিখ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): Stanford Encyclopedia of Philosophy, Nobel Prize Archives, এবং Isaac Newton’s Theological Manuscripts.
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের ধর্মীয়, ঈশ্বরসংক্রান্ত ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস নিয়ে ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞান লেখক এবং গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা চলমান। অনেক বিজ্ঞানী তাঁদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ডায়েরি বা ব্যক্তিগত চিঠিপত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন, যা পরবর্তীতে তাঁদের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস কেবল “আস্তিক” বা “নাস্তিক”—এই দুটি সরলরেখায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা প্রথাগত ঈশ্বরে বিশ্বাস (Theism/Deism), সর্বেশ্বরবাদ (Pantheism/Spinoza’s God), এবং সংশয়বাদ (Agnosticism)-এর মতো বহুমাত্রিক দর্শনে বিভক্ত ছিল।
১. প্রথাগত ঈশ্বরে বিশ্বাসী ও প্রজ্ঞাবান দেউইস্ট (Theist / Deist)
সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের একটি বিশাল অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে মহাবিশ্বের সুনির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম ও সুশৃঙ্খল নকশার পেছনে একজন স্রষ্টা বা প্রজ্ঞাবান সত্তা বিদ্যমান:
স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton)

- স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton):স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনের এই দিকটি সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। আমরা তাকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে জানলেও, ঐতিহাসিক তথ্য ও তাঁর নিজস্ব পাণ্ডুলিপি প্রমাণ করে যে তিনি বিজ্ঞানের চেয়ে ধর্মতত্ত্ব, বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী এবং অ্যালকেমি (Alchemy) চর্চায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। নিউটন এবং তাঁর এই ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- বিপুল পরিমাণ ধর্মীয় লেখা: নিউটন জীবদ্দশায় যত পৃষ্ঠা লিখেছেন, তার সিংহভাগই ছিল ধর্মতত্ত্ব ও বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর। আনুমানিক হিসাবে, তিনি বিজ্ঞানের চেয়ে ধর্ম বিষয়ে প্রায় কয়েক গুণ বেশি (প্রায় ৩০ লক্ষ শব্দ) লিখে গেছেন।
- ধর্মকে বিজ্ঞানের পরিপূরক ভাবা: নিউটনের কাছে বিজ্ঞান এবং ধর্ম আলাদা কোনো বিষয় ছিল না। তিনি মনে করতেন, মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়মগুলো (যেমন অভিকর্ষ বা গতির সূত্র) আবিষ্কার করার অর্থ হলো ঈশ্বরের তৈরি করা নকশাকে আরও ভালোভাবে অনুধাবন করা।
- মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খলতা (Order of the Universe): আপনার উল্লেখ করা Principia গ্রন্থের উক্তিটি নিউটনের মূল দর্শনকে প্রকাশ করে। তিনি মনে করতেন, গ্রহগুলোর নিখুঁত কক্ষপথ এবং মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে না; এর পেছনে একজন ‘মহাজাগতিক স্থপতি’ (Divine Architect) রয়েছেন।
- পৃথিবীর ধ্বংসের সময় গণনা: বাইবেলের বুক অব ড্যানিয়েল (Book of Daniel) এবং বুক অব রেভেলেশন (Book of Revelation) গভীরভাবে অধ্যয়ন করে নিউটন একটি হিসাব করেছিলেন। তাঁর গণনা অনুযায়ী, ২০৬০ সালের আগে এই পৃথিবী ধ্বংস বা বড় কোনো পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে না। অবশ্য তিনি এটি ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে নয়, বরং উগ্র ভবিষ্যৎবাণীকারীদের ভুল প্রমাণ করার জন্য হিসাব করেছিলেন।
- নিউটনের এই গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসই তাকে প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে অনুপ্রাণিত করেছিল। বিজ্ঞান জগতের আরেক মহানায়ক আলবার্ট আইনস্টাইনও নিউটনের এই চিন্তাধারার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।
গ্যালিলিও গ্যালিলি ও জোহানেস কেপলার:

- গ্যালিলিও গ্যালিলি ও জোহানেস কেপলার:গ্যালিলিও গ্যালিলি এবং জোহানেস কেপলার—উভয়েই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তারা দুজনেই বিজ্ঞান চর্চাকে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।
- এই দুই মহান বিজ্ঞানীর আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- গ্যালিলিও গ্যালিলি এবং ঈশ্বরের ‘দুই গ্রন্থ’ দর্শন
- গ্যালিলিও চার্চের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ালেও (সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের কারণে), তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস কখনো হারাননি।
- প্রকৃতি ও বাইবেল: গ্যালিলিও একটি বিখ্যাত তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বর মানুষের জন্য দুটি বই লিখেছেন—একটি হলো পবিত্র বাইবেল (The Book of Scripture) এবং অন্যটি হলো প্রকৃতি (The Book of Nature)। তিনি বলতেন, বাইবেল লেখা হয়েছে রূপক ভাষায় যাতে সাধারণ মানুষ নৈতিক পথ খুঁজে পায়, আর প্রকৃতি লেখা হয়েছে গণিতের ভাষায়। দুটিই যেহেতু একই ঈশ্বরের সৃষ্টি, তাই সত্যিকারের বিজ্ঞান এবং সত্যিকারের ধর্ম কখনো একে অপরের বিরোধী হতে পারে না।
- একটি বিখ্যাত উক্তি: গ্যালিলিও লিখেছিলেন, “আমি এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য নই যে, যে ঈশ্বর আমাদের ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছেন, তিনি আমাদের এগুলোর ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলেছেন।”
- জোহানেস কেপলার এবং ‘ঈশ্বরের চিন্তা’
- কেপলার প্রথমে ধর্মতত্ত্ব (Theology) নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং যাজক হতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে আসেন, তবে তার উদ্দেশ্য ছিল আধ্যাত্মিক।
- মহাজাগতিক জ্যামিতি: কেপলার বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর একজন মহান জ্যামিতিক কারিগর। তিনি যখন গ্রহের গতি সম্পর্কিত তিনটি বিখ্যাত সূত্র আবিষ্কার করেন, তখন তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে লিখেছিলেন যে, তিনি মূলত “ঈশ্বরের চিন্তাকে তাঁর পেছনে পেছনে পুনরায় ভাবছেন” (Thinking God’s thoughts after Him)।
- উপাসনা হিসেবে বিজ্ঞান: কেপলার বিজ্ঞান চর্চাকে ঈশ্বরের এক ধরণের উপাসনা বা আরাধনা মনে করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মহাবিশ্বের গাণিতিক সামঞ্জস্য আবিষ্কার করার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের বুদ্ধিমত্তার সরাসরি প্রমাণ পায়।
- এই দুই বিজ্ঞানীর জীবন ও দর্শন প্রমাণ করে যে, সপ্তদশ শতকের বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের সূচনা নাস্তিকতা থেকে হয়নি, বরং সৃষ্টিজগতের সুশৃঙ্খল নিয়মগুলোর পেছনে একজন বুদ্ধিমান সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজার গভীর আগ্রহ থেকে হয়েছিল।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ:

- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক এবং ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ-এর বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যকার গভীর সম্পর্কের দর্শনের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। পদার্থের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণু জগত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তারা দুজনেই প্রকৃতির এমন এক সুশৃঙ্খল নকশা ও রহস্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা তাদের মহাবিশ্বের পেছনে একটি উচ্চতর চেতনার অস্তিত্ব বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল।
- এই দুই নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানীর চিন্তাধারাকে সংক্ষেপে এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়:
- ১. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক (Max Planck): বিজ্ঞান ও ধর্মের পরিপূরকতা
- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক বিশ্বাস করতেন যে বিজ্ঞান ও ধর্ম একে অপরের শত্রু নয়, বরং তারা একই সত্যকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার দুটি মাধ্যম।
- যুক্তি ও বিশ্বাস: তাঁর মতে, বিজ্ঞান মানুষকে বস্তুগত জগতের কার্যকারণ বুঝতে সাহায্য করে (যার প্রতীক হলো ‘যুক্তি’), আর ধর্ম মানুষকে জীবনের নৈতিক দিক ও মূল্যবোধ শেখায় (যার প্রতীক হলো ‘বিশ্বাস’)।
- একটি বিখ্যাত দর্শন: ১৯৩৭ সালে তাঁর এক বিখ্যাত বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, “উভয় বিজ্ঞান এবং ধর্মের জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্বই সমস্ত চিন্তার সূচনা।” তিনি মনে করতেন, পদার্থের গভীরে এমন কোনো স্বাধীন শক্তি নেই, বরং সমস্ত ম্যাটার বা পদার্থের পেছনে একটি সচেতন ও বুদ্ধিমান মনের (Conscious and Intelligent Mind) অস্তিত্ব রয়েছে।
- ২. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ (Werner Heisenberg): পাত্রের তলায় ঈশ্বরের অপেক্ষা
- হাইজেনবার্গের এই উক্তিটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও গভীর ভাবার্থপূর্ণ একটি উক্তি। এর পেছনের মূল ভাবটি হলো:
- অল্প বিদ্যার ফাঁদ: একজন মানুষ যখন বিজ্ঞান পড়া শুরু করে এবং প্রকৃতির ওপরের স্তরের কিছু নিয়ম (যেমন অভিকর্ষ বা রাসায়নিক বিক্রিয়া) শেখে, তখন তার মনে হতে পারে সবকিছুই যান্ত্রিক এবং এর জন্য কোনো সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই। এটিই হলো বিজ্ঞানের পাত্র থেকে নেওয়া “প্রথম ঢোক”, যা মানুষকে সাময়িকভাবে নাস্তিক বা অহংকারী করে তুলতে পারে।
- গভীর সত্যের সন্ধান: কিন্তু সেই মানুষটিই যখন বিজ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করে—যেমনটা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব (Uncertainty Principle) বা মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করতে গেলে হয়—তখন সে দেখে যে প্রকৃতির নিয়মগুলো কত নিখুঁত, গাণিতিক এবং রহস্যময়। বিজ্ঞানের সেই চূড়ান্ত গভীরতাই হলো “পাত্রের তলা”, যেখানে পৌঁছালে মানুষ প্রকৃতির এই মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তার সামনে নত হতে বাধ্য হয়।
- কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের এই দুই পথপ্রদর্শকের চিন্তাভাবনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিজ্ঞান যত আধুনিক ও সূক্ষ্ম হয়েছে, বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে মহাবিশ্বের পেছনের মূল চালিকাশক্তিকে জানার আধ্যাত্মিক আগ্রহ ততটাই তীব্র হয়েছে।
২. স্পিনোজার ঈশ্বর ও সার্বজনীন সুশৃঙ্খলা (Pantheism)
অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ঈশ্বর বা মানুষের রূপ দেওয়া স্রষ্টায় বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু প্রকৃতির সুনির্দিষ্ট সৌন্দর্য ও ভৌত নিয়মকে ঈশ্বর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন:

[প্রথাগত ব্যক্তিগত ঈশ্বর প্রত্যাখ্যান] ➔ [মহাজাগতিক সুশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ] ➔ [প্রকৃতির নিয়মকেই ঈশ্বর মানা (Pantheism)]
- আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein): আইনস্টাইন স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি কোনো ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না যিনি মানুষের বিচার করেন। তিনি বলতেন, “আমি স্পিনোজার ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, যিনি বিদ্যমান সকল বস্তুর সুশৃঙ্খল সামঞ্জস্যের মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করেন।” তিনি মহাবিশ্বের গাণিতিক নিখুঁত ভাবকে এক ধরণের আধ্যাত্মিক বিস্ময় (Cosmic Religious Feeling) বলে মনে করতেন।
৩. সংশয়বাদী ও বিবর্তনীয় দৃষ্টিভঙ্গি (Agnostic / Skeptic)
কিছু বিজ্ঞানী প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরাসরি নাস্তিক হওয়ার চেয়ে নিজেদের সংশয়বাদী (Agnostic) বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন:
| বিজ্ঞানী ও ক্ষেত্র | বিশ্বাসের ধরন | প্রধান বক্তব্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ |
| চার্লস ডারউইন (বিবর্তনবাদ) | সংশয়বাদী (Agnostic) | জীবনের শেষভাগে তিনি জানান যে তিনি কখনোই চরম নাস্তিক ছিলেন না; বরং মহাবিশ্বের উৎপত্তি মানুষের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ বোঝা অসম্ভব বলে নিজেকে ‘Agnostic’ মনে করতেন। |
| নিকোলা টেসলা (তড়িৎ প্রকৌশল) | বৈদিক ও বিশ্বজনীন চেতনা | টেসলা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অনুশাসন না মানলেও বৈদিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং পুরো মহাবিশ্বকে শক্তি, কম্পন ও স্পন্দনের এক মহান উৎস মনে করতেন। |
| মাদাম কুরি (তেজস্ক্রিয়তা) | ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী | ব্যক্তিগত জীবনে পারিবারিক বিয়োগান্তক ঘটনার পর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম থেকে দূরে সরে আসেন এবং বিজ্ঞান ও মানবসেবায় জীবন উৎসর্গ করেন। |
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, আধুনিক বিজ্ঞানের জন্ম ও বিকাশ ঘটেছে এমন বহু ভাবুকের হাত ধরে, যারা ঈশ্বর বা মহাজাগতিক চেতনায় গভীর আস্থাশীল ছিলেন। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস নিয়ে কট্টর কোনো একপেশে সিদ্ধান্ত টানার সুযোগ নেই; বরং সত্য অনুসন্ধান ও প্রকৃতিকে গভীরভাবে জানার ভালোবাসাই তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসে পৌঁছে দিয়েছিল।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



