অনন্য
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
গবেষণা ও বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মানুষের আবিষ্কৃত সবচেয়ে শক্তিশালী এবং জটিল ইনডোর গেম কোনটি? উত্তরটি নিঃসন্দেহে দাবা। এটি কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি যুদ্ধকৌশল, গণিত এবং দর্শনের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আজ ২০২৬ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা দাবার চাল দেই, তখন এর পেছনে লুকিয়ে থাকা ১,৫০০ বছরের পুরনো রোমাঞ্চকর ইতিহাস আমাদের বিস্মিত করে।
১. লঙ্কাপুরী থেকে আর্য ভারত: দাবার আদি উৎস
দাবা খেলার জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশ ঐতিহাসিক একমত যে, এর আদি রূপ ‘চতুরঙ্গ’ প্রাচীন ভারতেই জন্ম নিয়েছে।
- মন্দোদরীর কৌশল: হিন্দু মহাকাব্য অনুযায়ী, লঙ্কেশ্বরী মন্দোদরী রাবণকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে দাবার ছক উদ্ভাবন করেছিলেন।
- চতুরঙ্গ কী? গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় (৬ষ্ঠ শতাব্দী) দাবার নাম ছিল চতুরঙ্গ। সংস্কৃত এই শব্দের অর্থ ‘চারটি অঙ্গ’—রথ, হাতি, ঘোড়া এবং পদাতিক বাহিনী। মূলত প্রাচীন ভারতের সেনাশক্তিকে এই বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হতো।
২. নাম পরিবর্তনের বৈশ্বিক সফর: চতুরঙ্গ থেকে শতরঞ্জ ও দাবা
দাবা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত জয় করে আজকের এই অবস্থানে এসেছে।
- পারস্য ও আরব: সিল্ক রুটের বণিকদের মাধ্যমে এই খেলা পারস্যে (বর্তমান ইরান) পৌঁছায়। পারসিকরা ‘চতুরঙ্গ’ উচ্চারণ করতে গিয়ে ‘শতরঞ্জ’ বলা শুরু করে। মজার ব্যাপার হলো, পারসিক ‘শাহ’ (রাজা) এবং ‘শাহ-মাত’ (রাজার মৃত্যু) থেকেই আধুনিক ইংরেজি শব্দ ‘Checkmate’ এসেছে।
- চীন ও জাপান: এটি সুদূর চীনে গিয়ে ‘জিয়ানকি’ (Xiangqi) এবং জাপানে ‘সোগি’ (Shogi) নামে নতুন রূপ ধারণ করে।
- আধুনিক দাবা: ১৫শ শতাব্দীতে ইউরোপে আধুনিক দাবার নিয়মাবলি চূড়ান্ত হয়। ১৮৮৬ সালে উইলহেম স্টেইনজকে (Wilhelm Steinitz) আধুনিক দাবার জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৩. দাবার গাণিতিক বিস্ময়: সেশের চতুর দাবি
দাবার আবিস্কার নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পটি হলো ব্রাহ্মণ শিক্ষক ‘সেশ’ এবং রাজা সিরাহ-র গল্প। রাজা যখন সেশকে ইচ্ছামতো পুরস্কার দিতে চাইলেন, সেশ কেবল ৬৪টি ঘরে জ্যামিতিক হারে (Geometric Progression) গম চাইলেন।
- গণিতটি ছিল এমন: ১, ২, ৪, ৮, ১৬… এভাবে ২-এর ঘাত অনুযায়ী।
- ফলাফল: ৬৪তম ঘর শেষে গমের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮,৪৪৬,৭৪৪,০৭৩,৭০৯,৫৫১,৬১৫ টি।
- বাস্তবতা: এই পরিমাণ গম উৎপাদনের জন্য বর্তমান পৃথিবীর মোট আবাদি জমির চেয়েও কয়েক হাজার গুণ বেশি জমির প্রয়োজন হতো। দাবার একটি বোর্ড যে মহাবিশ্বের বিশালতাকে ধারণ করতে পারে, এটি তারই প্রমাণ।
৪. ২০২৬-এর স্মার্ট টেকনোলজি ও দাবা
আজকের দিনে আমরা আর কাঠের বোর্ডে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্টফোনের AMOLED ডিসপ্লেতে দাবার প্রতিটি পিক্সেল যখন পিওর ব্ল্যাকের সাথে কন্ট্রাস্ট তৈরি করে, তখন সেই ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স অসাধারণ হয়। ২০২৪-২৫ সালের এআই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালে এখন মানুষ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রতিপক্ষের সাথে সেকেন্ডের ব্যবধানে চ্যালেঞ্জ করতে পারছে। গুগলের ডিপমাইন্ডের মতো এআই এখন মানুষের চালের ধরন বিশ্লেষণ করে দিচ্ছে।
কেন দাবা খেলা আপনার মস্তিষ্কের জন্য জরুরি?
১. আইকিউ বৃদ্ধি: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের উভয় গোলার্ধ সক্রিয় থাকে। ২. স্মৃতিশক্তি: দাবার চাল মনে রাখা আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। ৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ: জীবনের কঠিন মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ায় দাবার কৌশল।
তথ্যসূত্র ও সহায়ক লিংক
- উইকিপিডিয়া: চতুরঙ্গ ও দাবার ইতিহাস।
- ব্রিটিশ মিউজিয়াম: প্রাচীন পারস্য ও দাবার বিবর্তন।
- ম্যাথ ওয়ার্ল্ড (Wolfram): দাবার গমের দানা ও জ্যামিতিক ধারার গাণিতিক বিশ্লেষণ।
- ২০২৬ টেক রিভিউ: স্মার্টফোনে গেমিং ও ডিসপ্লে প্রযুক্তির উন্নতি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
শাহরুখ খানকে বলিউডের “বাদশা” বা “কিং খান” বলা হয় তাঁর অসাধারণ অভিনয়জীবন, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর তাঁর বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে।

১. বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা
- গ্লোবাল আইকন: কেবল ভারত বা এশিয়ায় নয়; মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাতেও তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: খ্যাতনামা মার্কিন মিডিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাঁকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুভি স্টার” হিসেবে অভিহিত করেছিল।
২. বক্স অফিস রেকর্ড ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
- আইকনিক রোমান্টিক রাজত্ব: ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায় এবং কাভি খুশি কাভি গাম-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি একক অধিপত্য বিস্তার করেন।
- ঐতিহাসিক ব্যাক-টু-ব্যাক হিটস: চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে তিনি পরপর দুটি ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি আয়ের ব্লকবাস্টার (পাঠান ও জওয়ান) উপহার দিয়ে নিজের বক্স অফিস শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করেন।
৩. চলচ্চিত্রের বাইরে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
- রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট: তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ও সফল ভিএফএক্স (VFX) স্টুডিও এবং প্রোডাকশন হাউসের মালিক।
- আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লিগ আইপিএলের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী।
৪. শূন্য থেকে শীর্ষের গল্প
বলিউডে কোনো পারিবারিক পরিচিতি বা ‘গডফাদার’ ছাড়া, দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে কেবল নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে পৌঁছানোর গল্পটি কোটি মানুষের কাছে এক পরম অনুপ্রেরণা।
২০২৬ সালের মেগা প্রজেক্ট: ‘কিং’ (King)
শাহরুখ খানের সবচেয়ে বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’ (King) নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মূল তথ্যসমূহ:
- মুক্তির তারিখ: ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস উৎসব)।
- পরিচালনা ও প্রযোজনা: পরিচালনা করছেন বিখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ আনন্দ। প্রযোজনায় রয়েছে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স।
- কাস্টিং চমক: বড় পর্দায় এই প্রথম শাহরুখ খানের সাথে দেখা যাবে তাঁর মেয়ে সুহানা খান-কে। এছাড়া প্রধান খলনায়কের ভূমিকায় রয়েছেন অভিষেক বচ্চন এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন।
- চরিত্র ও লুক: হলিউড ক্লাসিক ‘লিয়ন: দ্য প্রফেশনাল’-এর আদলে তৈরি এই অ্যাকশন-থ্রিলারে শাহরুখকে এক ঝানু আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন বা অ্যাসাসিনের চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে তাঁর লুকে থাকবে হালকা পাকা চুল-দাড়ির স্টাইলিশ সংমিশ্রণ।
বাজেট, মিউজিক ডিল ও সম্ভাব্য পারিশ্রমিক
১. বাজেট (₹৩৫০ কোটি – ₹৪৫০ কোটি)
- স্কেল ও ভিএফএক্স: আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউটর ও ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, ৬টি বিশাল অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও হাই-এন্ড ভিএফএক্স-এর কারণে সিনেমাটির আনুমানিক বাজেট ₹৩৫০ কোটি থেকে ₹৪৫০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
- পরিচালকের বক্তব্য: ৪৫০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কিছু মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ালে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়িয়ে দেন; তবে এটি যে শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্ট তা নিশ্চিত।
২. রেকর্ড মিউজিক ডিল (₹৫০ কোটি)
- অডিও বা মিউজিক রাইটস বিক্রির জন্য জি মিউজিক (Zee Music)-এর সাথে রেকর্ড ₹৫০ কোটি টাকার চুক্তি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
- সিনেমাটির গান কম্পোজ করছেন শচীন-জিগার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM)-এর দায়িত্বে আছেন রকস্টার মিউজিক ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রবিচন্দের।
৩. তারকাদের আনুমানিক পারিশ্রমিক (এক নজরে)
| তারকার নাম | চলচ্চিত্রে ভূমিকা | আনুমানিক পারিশ্রমিক (রুপি) |
| শাহরুখ খান | প্রধান লিড (ডন/মেন্টর) | ₹১৫০ কোটি – ₹২৫০ কোটি (প্রফিট শেয়ারিং) |
| দীপিকা পাড়ুকোন | বিশেষ চরিত্র | ₹১৫ কোটি – ₹২০ কোটি |
| অভিষেক বচ্চন | প্রধান খলনায়ক (Villain) | ₹১০ কোটি |
| অনিল কাপুর | গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র | ₹৮ কোটি |
| সুহানা খান | সমান্তরাল লিড/শিষ্য | ₹১ কোটি |
| অন্যান্য (জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি) | সহকারী চরিত্র | ₹২ কোটি – ₹৫ কোটি |
(দ্রষ্টব্য: পারিশ্রমিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো ভারতীয় ট্রেড অ্যানালিস্টদের সূত্রে প্রাপ্ত, যা প্রযোজনা সংস্থা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়ে থাকে)।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
১৯০১ সালে সর্বপ্রথম আলফ্রেড নোবেলের উইলের ওপর ভিত্তি করে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। মানবজাতির কল্যাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচটি ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথমবার এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ও বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সুইডিশ বিজ্ঞানী এবং ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তাঁর একটি উইলে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি তাঁর মোট সম্পত্তির একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৯৪%) এই পুরস্কার তহবিলের জন্য রেখে যান। উদ্দেশ্য ছিল—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য এবং শান্তিতে যারা মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বর ১৯০১ তারিখে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১৯০১ সালের প্রথম নোবেল বিজয়ীদের তালিকা
- পদার্থবিজ্ঞান: উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন (জার্মানি)

উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন (Wilhelm Conrad Röntgen) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী। ১৮৯৫ সালে তাঁর যুগান্তকারী এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর এই আবিষ্কার এবং জীবন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কারের ঘটনা
- সাল: ১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর।
- ঘটনা: জার্মানির ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ল্যাবরেটরিতে একটি ক্যাথোড রশ্মি টিউব (Cathode-ray tube) নিয়ে পরীক্ষা করার সময় তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করেন, কালো কাগজে ঢাকা টিউবটির পাশে থাকা একটি ফ্লুরোসেন্ট পর্দা জ্বলজ্বল করছে।
- নামকরণ: তিনি বুঝতে পারেন টিউব থেকে এক ধরণের অজানা অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে, যা কাগজ ভেদ করে চলে যাচ্ছে। এই রশ্মির প্রকৃতি তখন অজানা থাকায় গণিতের অজানা রাশির প্রতীক হিসেবে তিনি এর নাম দেন ‘X-ray’ বা এক্স-রশ্মি (অনেক দেশে একে ‘রন্টজেন রশ্মি’ও বলা হয়)।
২. প্রথম মানব এক্স-রে
রন্টজেন তাঁর এই আবিষ্কারের পর প্রথম মানবদেহের এক্স-রে ছবি তোলেন। সেটি ছিল তাঁর স্ত্রী আনা বার্থা রন্টজেন-এর হাতের ছবি। ছবিতে তাঁর স্ত্রীর হাতের হাড় এবং আঙুলে পরা বিয়ের আংটিটি স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল। এই ছবি দেখে তাঁর স্ত্রী অবাক হয়ে বলেছিলেন, “আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে ফেলেছি!”
৩. নিঃস্বার্থ বিজ্ঞানী
রন্টজেন তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কোনো প্যাটেন্ট (Patent) বা স্বত্ব নেননি। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর এই আবিষ্কার যেন মানবজাতির কল্যাণে বিনামূল্যে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং শিল্পকারখানায় এর ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তাঁর এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত অর্থও তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজের জন্য দান করে দিয়েছিলেন।
- রসায়ন: ইয়াকুবুস হেনরিকুস ভান্ট হফ (নেদারল্যান্ডস)

ইয়াকুবুস হেনরিকুস ভান্ট হফ (Jacobus Henricus van ‘t Hoff) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ডাচ রসায়নবিদ এবং আধুনিক ভৌত রসায়নের (Physical Chemistry) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯০১ সালে তরল পদার্থের রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং অসমোটিক চাপ সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর প্রধান অবদান এবং বিজ্ঞান জগতে তাঁর প্রভাবের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. নোবেল পাওয়ার মূল কারণ (রাসায়নিক গতিবিদ্যা ও অসমোটিক চাপ)
- রাসায়নিক গতিবিদ্যা (Chemical Dynamics): ভান্ট হফ দেখান কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বা বেগ নির্ধারিত হয় এবং কীভাবে তাপমাত্রা ও চাপ এই গতিকে প্রভাবিত করে। তাঁর তৈরি করা সমীকরণগুলো বিক্রিয়ার হার বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে।
- অসমোটিক চাপ (Osmotic Pressure): তিনি প্রমাণ করেন যে, কোনো তরল দ্রবণে দ্রবীভূত কণাগুলো (যেমন পানিতে চিনি) ঠিক গ্যাসের কণার মতোই আচরণ করে। তিনি গ্যাসের আদর্শ সমীকরণকে (\(PV=nRT\)) দ্রবণের ক্ষেত্রেও সফলভাবে প্রয়োগ করেন, যা রসায়নে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।
২. স্টেরিওকেমিস্ট্রি বা ত্রিমাত্রিক রসায়নের জনক
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অনেক আগেই, ১৮৭৪ সালে তিনি রসায়নে এক বিপ্লবী তত্ত্ব দেন। তিনি প্রথম প্রস্তাব করেন যে, কার্বন পরমাণুর চারটি যোজ্যতা বা বন্ড ত্রিমাত্রিক মহাকাশে একটি চতুস্তলক (Tetrahedron) আকৃতিতে বিন্যস্ত থাকে।
- গুরুত্ব: তাঁর এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই রসায়নের একটি সম্পূর্ণ নতুন শাখা ‘স্টেরিওকেমিস্ট্রি’ (Stereochemistry) গড়ে ওঠে। এটি ছাড়া আজকের আধুনিক ওষুধ বা মেডিসিন তৈরি করা অসম্ভব হতো।
৩. ভ্যান্ট হফ ফ্যাক্টর (\(i\))
রসায়নে তাঁর নামানুসারে ‘ভ্যান্ট হফ ফ্যাক্টর’ (van ‘t Hoff factor) ব্যবহার করা হয়। কোনো দ্রাবকে (যেমন পানিতে) কোনো লবণ বা যৌগ যোগ করলে তা কতটুকু ভেঙে যায় বা যুক্ত হয়, তা পরিমাপ করার জন্য এই ফ্যাক্টরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান: এমিল ফন বেহরিং (জার্মানি)

এমিল ফন বেহরিং (Emil von Behring) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও ব্যাকটেরিয়াবিদ। ১৯০১ সালে ডিপথেরিয়া রোগের প্রতিষেধক হিসেবে সিরাম থেরাপি (Serum Therapy) আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তৎকালীন সময়ে শিশুদের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক এক ব্যাধি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করায় তাঁকে “শিশুদের রক্ষাকর্তা” (Savior of Children) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর প্রধান অবদান এবং জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ডিপথেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সিরাম থেরাপি
- পটভূমি: উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ‘ডিপথেরিয়া’ (Diphtheria) ছিল শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার শিশু শ্বাসকষ্টে মারা যেত।
- আবিষ্কার: এমিল ফন বেহরিং এবং তাঁর সহকর্মীরা (যার মধ্যে জাপানি বিজ্ঞানী কিতাসাতো শিবাসাবুরো অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) আবিষ্কার করেন যে, ডিপথেরিয়া আক্রান্ত পশুর (যেমন ঘোড়া) রক্তে এক ধরণের প্রতিরক্ষামূলক উপাদান তৈরি হয়। তিনি এই উপাদানটির নাম দেন ‘অ্যান্টিটক্সিন’ (Antitoxin)।
- প্রয়োগ: এই অ্যান্টিটক্সিন সমৃদ্ধ সিরাম যখন আক্রান্ত কোনো শিশুর শরীরে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হতো, তখন তা ডিপথেরিয়ার মারাত্মক বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দিত। ১৮৯২ সালে প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এই সিরামের উৎপাদন শুরু হয় এবং এটি রাতারাতি ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনে।
২. নোবেল পুরস্কার অর্জন (১৯০১)
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলেই ১৯০১ সালে প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলটি তাঁর হাতে ওঠে। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, “শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সিরাম থেরাপি নিয়ে তাঁর কাজ চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে, যার মাধ্যমে রোগ ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পেয়েছে মানবজাতি।”
৩. ধনুষ্টংকার বা টিটেনাসের প্রতিষেধক
ডিপথেরিয়ার পাশাপাশি এমিল ফন বেহরিং ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস (Tetanus) রোগের অ্যান্টিটক্সিন তৈরিতেও সফল হয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের টিটেনাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে তাঁর তৈরি এই প্রতিষেধক লাখ লাখ প্রাণ রক্ষা করেছিল।
- সাহিত্য: সুলি প্রুদোম (ফ্রান্স)

সুলি প্রুদোম (Sully Prudhomme) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফরাসি কবি এবং প্রাবন্ধিক। ১৯০১ সালে তাঁর কাব্যিক রচনার বিশেষ গুণ, উচ্চ আদর্শ এবং হৃদয়ের গভীর অনুভূতির অনন্য প্রকাশের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং নোবেল জয়ের পটভূমি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার মূল কারণ
নোবেল কমিটি ১৯০১ সালে সুলি প্রুদোমকে পুরস্কৃত করার সময় তাঁর লেখার তিনটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছিল:
- উচ্চ আদর্শবাদ (High Idealism): তাঁর কবিতা কেবল বিনোদনের জন্য ছিল না, বরং এতে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ এবং আদর্শের প্রতিফলন ঘটত।
- শৈল্পিক নিখুঁততা (Artistic Perfection): তাঁর শব্দ চয়ন এবং কবিতার ছন্দ ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত ও নিখুঁত।
- হৃদয় ও বুদ্ধির সমন্বয়: তিনি তাঁর কবিতায় একদিকে যেমন গভীর মানবিক অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন, অন্যদিকে দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
২. পারনাসিয়ান আন্দোলন (Parnassian Movement)
সুলি প্রুদোম ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘পারনাসিয়ান’ সাহিত্য আন্দোলনের একজন প্রধান কবি ছিলেন। এই আন্দোলনের মূল মন্ত্র ছিল “শিল্পের জন্য শিল্প” (Art for art’s sake)। রোমান্টিক যুগের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার বিপরীতে গিয়ে তাঁরা কবিতায় নিখুঁত গঠন, সংযম এবং ধ্রুপদী সৌন্দর্যের ওপর জোর দিতেন।
৩. বিখ্যাত কবিতা ও সৃষ্টিকর্ম
- ‘লা ভাস’ (La Vase Brisé – ভাঙা ফুলদানি): এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রোমান্টিক কবিতা। একটি ভাঙা ফুলদানির উপমার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ের ভেতরের গোপন কষ্ট এবং ভাঙনের গল্প অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- দার্শনিক কাব্য: পরবর্তী জীবনে তিনি বিজ্ঞান এবং দর্শনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তাঁর ‘লা জাস্টিস’ (La Justice – ন্যায়বিচার) এবং ‘লে হ্যুরো’ (Les Bonheurs – সুখ) কাব্যগ্রন্থে মানুষের অস্তিত্ব ও মহাবিশ্ব নিয়ে গভীর দার্শনিক চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে।
৪. ঐতিহাসিক বিতর্ক
১৯০১ সালে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুলি প্রুদোমকে মনোনীত করা হলে সাহিত্য বিশ্বে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমসাময়িক অনেক লেখক এবং সমালোচক মনে করেছিলেন যে, রাশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় (যিনি ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ ও ‘আনা কারেনিনা’ লিখেছেন) এই পুরস্কারের জন্য বেশি যোগ্য ছিলেন। এমনকি সুইডেনের ৪২ জন বিশিষ্ট লেখক সুলি প্রুদোম নোবেল পাওয়ার পর টলস্টয়ের কাছে একটি দুঃখপ্রকাশ পত্রও পাঠিয়েছিলেন। তবে প্রুদোম তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থের একটি বড় অংশ তরুণ ফরাসি কবিদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনে দান করে উদারতার পরিচয় দেন।
- শান্তি: জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (সুইজারল্যান্ড) এবং ফ্রেদেরিক প্যাসি (ফ্রান্স)
জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো এবং ফ্রেদেরিক প্যাসি ১৯০১ সালে যৌথভাবে ইতিহাসের প্রথম নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন。 মানবজাতির কল্যাণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিকতা বজায় রাখার জন্য এই দুই ব্যক্তিত্বের অবদান ছিল অতুলনীয়।
তাঁদের ব্যক্তিগত অবদান এবং নোবেল জয়ের ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো:
১. জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (Jean Henri Dunant) – সুইজারল্যান্ড
জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (যাঁকে হেনরি ডুনান্ট নামেও ডাকা হয়) ছিলেন একজন সুইস ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তাঁকে মূলত রেড ক্রস-এর জনক বলা হয়।
- সলফেরিনোর যুদ্ধ (১৮৫৯): ব্যবসায়িক কাজে ইতালি যাওয়ার পথে দ্যুনো ‘সলফেরিনোর যুদ্ধ’ প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে প্রায় ৪০,০০০ সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছিল। এই ভয়াবহতা দেখে তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আহত সৈনিকদের জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সেবা করার উদ্যোগ নেন।
- রেড ক্রস প্রতিষ্ঠা (১৮৬৩): এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘এ মেমোরি অব সলফেরিনো’ নামে একটি বই লেখেন। এর ওপর ভিত্তি করেই ১৮৬৩ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি’ (ICRC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জেনেভা কনভেনশন (১৮৬৪): যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের অধিকার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর প্রচেষ্টায় প্রথম ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
২. ফ্রেদেরিক প্যাসি (Frédéric Passy) – ফ্রান্স
ফ্রেদেরিক প্যাসি ছিলেন একজন ফরাসি অর্থনীতিবিদ এবং শান্তিকামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা।
- লিগ অব পিস প্রতিষ্ঠা: তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৮৬৭ সালে ফ্রান্সে ‘লিগ অব পিস’ (Ligue internationale et permanente de la paix) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU): ১৮৮৯ সালে তিনি ব্রিটিশ শান্তিকামী র্যান্ডাল ক্রেমারের সাথে যৌথভাবে ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন’ (IPU) গঠন করেন। এটি ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রথম বড় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা আন্তর্জাতিক বিরোধগুলো যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে কাজ করত।
কেন তাঁরা যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছিলেন?
নোবেল কমিটি ১৯০১ সালে প্রথম শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সময় দুই ধরণের অবদানকে সমান গুরুত্ব দিয়েছিল:
- জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো: যুদ্ধের ময়দানে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং মানবিক নিয়ম নীতি তৈরির জন্য।
- ফ্রেদেরিক প্যাসি: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- অর্থনীতিতে নোবেল: ১৯০১ সালে অর্থনীতিতে কোনো নোবেল পুরস্কার ছিল না। ১৯৬৮ সালে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব সুইডেন এই বিভাগটি চালু করে এবং ১৯৬৯ সালে প্রথম অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া হয়।
- পুরস্কারের স্থান: শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের ওসলো থেকে এবং বাকি পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় সুইডেনের স্টকহোম থেকে।
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৩) — সাহিত্যে নোবেল
- ইতিহাস গড়া অর্জন: তিনি কেবল প্রথম বাঙালিই নন, বরং সমগ্র এশিয়ার মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
- মূল অবদান: তাঁর অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings)-এর ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। নোবেল কমিটি তাঁর লেখাকে “অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাজা এবং সুন্দর কবিতা” হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
- আরেকটি অনন্য কীর্তি: তিনি বিশ্বের একমাত্র কবি, যাঁর লেখা গান দুটি ভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়—বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ভারতের ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’।
২. অমর্ত্য সেন (১৯৯৮) — অর্থনীতিতে নোবেল
- নতুন ধারার অর্থনীতি: তিনি প্রচলিত অর্থনীতির বাইরে গিয়ে ‘কল্যাণ অর্থনীতি’ (Welfare Economics) এবং দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- মূল দর্শন: তিনি দেখিয়েছিলেন যে, দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের অভাবে হয় না, বরং খাদ্য বণ্টনের অসমতা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাবের কারণে ঘটে। তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৩. ড. মুহাম্মদ ইউনূস (২০০৬) — শান্তিতে নোবেল
- দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- মূল অবদান: ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ম বদলে দিয়ে জামানত ছাড়াই দরিদ্র মানুষকে, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনের এক নতুন মডেল তৈরি করেন। (বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন)।
অনলাইনে আয়
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডট কম (Rokomari.com)-এর একটি বিশেষায়িত উদ্যোগ হলো ‘রকমারি কিডস জোন’। নবজাতক থেকে শুরু করে কিশোর বয়সের শিশুদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর ফিডিং আইটেম এবং বিশেষ করে শিশুদের মেধা ও বুদ্ধি বিকাশের উপযোগী শিক্ষণীয় খেলনার এক বিশাল সম্ভার নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ক্যাটাগরি।
প্রধান ক্যাটাগরি ও পণ্যসমূহ
১. শিক্ষণীয় ও বিনোদনমূলক খেলনা (Kids Toys & Games)

- অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স (BigganBaksho): বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে আনন্দময় উপায়ে হাতে-কলমে শেখানোর জনপ্রিয় সায়েন্স কিট।
- লার্নিং ও পাজল: টেক্সচার্ড উডেন পাজল, ট্যাংগ্রাম ম্যাগনেট, বিল্ডিং ব্লকস এবং প্রিস্কুল প্র্যাকটিস বুক।
- ডল ও অ্যাকশন ফিগার: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পুতুল, বারবি (Barbie), স্মার্ট রোবট এবং হট হুইলসের (Hot Wheels) ডাই-কাস্ট কার।
- বোর্ড গেম ও অ্যাক্টিভিটি: দাবা, লুডু, মাইন্ড ট্রেইনিং গেম ও ক্রাফটিং কিট।
২. নবজাতক ও শিশুর যত্ন (Baby Care & Bathing)
- ত্বক ও শরীরের যত্ন: বেবি লোশন, শ্যাম্পু, পাউডার, ডাইপার রাশ ক্রিম এবং ওয়েট ওয়াইপস। (ব্র্যান্ড: Kodomo, Johnson’s, Boots, Cetaphil, Meril)
- গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: বেবি বাথ গেম, সেফটি বাথ টব, অর্গানিক সোফ ও সফট টাওয়েল।
৩. ফিডিং ও ডাইপারিং (Feeding & Diapering)
- ফিডিং এসেনশিয়ালস: বিপিএ-ফ্রি প্লাস্টিক ও গ্লাস ফিডার, বোতল নিপল, মিল্ক পাউডার কনটেইনার ও টিদার (Teethers)। (ব্র্যান্ড: Philips Avent, Pur, Farlin, Tommee Tippee)
- ডাইপার ও পটি ট্রেইনিং: বিভিন্ন সাইজের ডাইপার প্যান্টস, চেঞ্জিং মেট এবং পটি ট্রেইনিং সিট। (ব্র্যান্ড: Savlon Twinkle, MamyPoko, Supermom)
রকমারি কিডস জোনের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডসমূহ

- আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড: LEGO, Fisher-Price, Barbie, Hot Wheels, Philips Avent, Pigeon, Tommee Tippee, Intex.
- দেশি ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড: অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স, প্লেটাইম টয়েজ, কিডস জোন কালেকশন, মেধা ও বিকাশ সিরিজ।
শিশুদের বয়সভিত্তিক শিক্ষণীয় খেলনা ও বিজ্ঞানবাক্স গাইড
শিশুর সঠিক মেধা বিকাশ ও কৌতূহল বাড়াতে বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত খেলনা নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। রকমারি কিডস জোনের বয়সভিত্তিক সেরা আইটেমগুলোর গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ বয়সভিত্তিক শিক্ষণীয় খেলনা গাইড │
├──────────────┬──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ বয়সসীমা │ উপযুক্ত খেলনা ও লার্নিং কিট │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ১ - ৩ বছর │ ট্যাংগ্রাম ম্যাগনেট, উডেন পাজল, ব্লকিং স্ট্যাকার, │
│ (টডলার) │ ফ্ল্যাশ কার্ড ও এলসিডি রাইটিং ট্যাবলেট। │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ৪ - ৬ বছর │ বিজ্ঞানবাক্স (ব্রেন বুস্টার), ফোকাস চ্যালেঞ্জ, LEGO, │
│ (প্রিস্কুল) │ মাইন্ড ট্রেইনিং মেমোরি গেম ও সুডোকু। │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ৭ - ১০ বছর │ বিজ্ঞানবাক্স (আলোর ঝলক, চুম্বকের চমক, অদ্ভুত মাপজোখ) │
│ (প্রাথমিক) │ ও স্মার্ট সার্কিট কোডিং কিট। │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ১১+ বছর │ বিজ্ঞানবাক্স (তড়িৎ তাণ্ডব, রসায়ন রহস্য, মহাকাশের জগৎ) │
│ (মাধ্যমিক) │ এবং স্পেস টেলিস্কোপ বা মাইক্রোস্কোপ সেট।
কেন রকমারি কিডস জোন থেকে কেনাকাটা করবেন?

১. ১০০% অরিজিনাল ব্র্যান্ড প্রোডাক্ট: শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
২. হাতে-কলমে মেধা বিকাশ: বিজ্ঞানবাক্স ও বিভিন্ন মাইন্ড গেমসের মাধ্যমে শিশুদের স্ক্রিন-টাইম (মোবাইল আসক্তি) কমিয়ে সৃজনশীল চিন্তাধারা বৃদ্ধি করা যায়।
৩. এক ছাদের নিচে সব সমাধান: নবজাতকের স্কিনকেয়ার থেকে শুরু করে ১০-১২ বছরের শিশুর পড়াশোনা ও খেলনা—সব একই প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য।
অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স (OnnoRokom BigganBaksho) বাংলাদেশের প্রথম হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার কিট, যা শিশুদের বিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র ও পরীক্ষা আনন্দের সাথে শেখাতে সাহায্য করে।
নিচে রকমারিতে উপলব্ধ অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সের জনপ্রিয় বক্সগুলোর নিয়মিত বাজারমূল্য (Regular Price) এবং সেগুলোর ভেতরের উপকরণ ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বিজ্ঞানবাক্সের জনপ্রিয় বক্স, দাম ও উপকরণ
১. আলোর ঝলক (Alor Jholok)
- মূল্য: ৳ ৯২৫
- উপযুক্ত বয়স: ৭ বছর বা তার বেশি
- প্রধান উপকরণসমূহ: পেরিস্কোপ বক্স, কাচের আয়না (Glass Mirrors), টর্চলাইট, নিউটনের বর্ণ চাকতি, ক্যালিডোস্কোপ তৈরির উপকরণ, কনকেভ ও কনভেক্স লেন্স, লেজার লাইট ও গাইডবুক।
- যেসব পরীক্ষা করা যায়: আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ক্যালিডোস্কোপ তৈরি, পেরিস্কোপের মাধ্যমে না দেখেও দেখা ইত্যাদি ২৫টি+ পরীক্ষা।
২. চুম্বকের চমক (Chumboker Chamok)
- মূল্য: ৳ ৯৯০
- উপযুক্ত বয়স: ৭ বছর বা তার বেশি
- প্রধান উপকরণসমূহ: বার ম্যাগনেট (দণ্ড চুম্বক), রিং ম্যাগনেট, নিওডিমিয়াম ম্যাগনেট (শক্তিশালী চুম্বক), সুইচ, আইরুন ফিলিংস (লোহার গুঁড়ো), কম্পাস, ম্যাগনেটিক মেজ গেমের জিনিসপত্র ও থিম বই।
- যেসব পরীক্ষা করা যায়: চুম্বকের আকর্ষণ-বিকর্ষণ, চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি, চুম্বক দিয়ে কম্পাস বানানো, ফ্লোটিং ম্যাগনেটসহ ২৬টি পরীক্ষা।
৩. তড়িৎ তাণ্ডব (Torith Tandob)
- মূল্য: ৳ ৯৭৫
- উপযুক্ত বয়স: ৮ বছর বা তার বেশি
- প্রধান উপকরণসমূহ: ব্যাটারি হোল্ডার, ব্যাটারি, ছোট মোটর, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, এলইড (LED) লাইট, বাজার (Buzzer), পরিবাহী ও অপরিবাহী তার, সুইচ, ডিসি স্পিকার ও গাইডবুক।
- যেসব পরীক্ষা করা যায়: সিম্পল সার্কিট, সিরিজ ও প্যারালাল সার্কিট, তাড়িতচৌম্বক তৈরি, মেমরি গেম সহ ২০টির বেশি ইলেকট্রিক পরীক্ষা।
৪. রসায়ন রহস্য (Rashayon Rohosho)
- মূল্য: ৳ ৯৯৫
- উপযুক্ত বয়স: ৯ বছর বা তার বেশি
- প্রধান উপকরণসমূহ: টেস্টটিউব, টেস্টটিউব হোল্ডার, মেজারিং চামচ ও কাপ, ড্রপার, ফিল্টার পেপার, ফুড কালার, বেকিং সোডা, সাইট্রিক এসিড, কপার সালফেট (তুঁতে), পিএইচ (pH) পেপার এবং সেফটি গগলস।
- যেসব পরীক্ষা করা যায়: কেমিক্যাল ভলকানো, এসিড-ক্ষার পরীক্ষা, ফোমি লাভা, অদৃশ্য কালি দিয়ে লেখা, রঙের রাসায়নিক পরিবর্তনসহ ২০টির বেশি পরীক্ষা।
৫. অদ্ভুত মাপজোখ (Odbhut Mapjokh)
- মূল্য: ৳ ৯৮০
- উপযুক্ত বয়স: ৭ বছর বা তার বেশি (৮ম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমের উপযোগী)
- প্রধান উপকরণসমূহ: ডিজিটাল মাল্টিমিটার, এলডিআর (LDR)/সাউন্ড/আইআর সেন্সর মডিউল, ওয়্যারলেস মডিউল, মেজারিং টেপ, থার্মোমিটার ও ওজন মাপার স্কেল।
- যেসব পরীক্ষা করা যায়: আলো, শব্দ, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ, কারেন্ট ও রেজিস্ট্যান্স পরিমাপের ৫০টিরও বেশি এক্সপেরিমেন্ট।
৬. বিজ্ঞানবাক্স – পঞ্চম শ্রেণী (Class 5 Edition)
- মূল্য: ৳ ২,৯৯০
- উপযুক্ত বয়স: ১০-১১ বছর (পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী)
- প্রধান উপকরণসমূহ: সোলার সেল, জেনারেটর, উইন্ডমিল মডিউল, বাজার মডিউল, এলইডি মডিউল, কার্বন, চারকোলসহ মোট ৬০টি উপকরণের এক বিশাল সেট।
- বিশেষত্ব: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইয়ের সব অধ্যায়ের ২৮টি পরীক্ষা হাতে-কলমে করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি।
৭. ছোটদের ছোট সংস্করণ ও ব্রেইন কিট
- মজার পেরিস্কোপ (Mojar Periscope): ৳ ২৯৫ (ছোটদের জন্য আলো রিফ্লেকশনের প্রাইমারি কিট)
- ট্যাংগ্রাম ম্যাগনেট (Tangram Magnet): ৳ ৪৮০ (শেপ ও লজিক মেকিং গেম)
- ফোকাস চ্যালেঞ্জ (Focus Challenge): ৳ ৮৮০ (মনোযোগ বৃদ্ধি করার কিট)
বিজ্ঞানবাক্সের বিশেষ সুবিধা
১. ছবিসহ মাল্টিকালার ম্যানুয়াল: প্রতিটি বাক্সে বিস্তারিত বিবরণ ও ছবি সহ নির্দেশিকা বই দেওয়া থাকে, যাতে বাচ্চারা একা একাই পরীক্ষাগুলো করতে পারে।
২. ভিডিও টিউটোরিয়াল: কিটের ভেতরে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে বা বিজ্ঞানবাক্সের মোবাইল অ্যাপ/ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিটি পরীক্ষার ভিডিও গাইড দেখা যায়।
(নোট: রকমারিতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন বা ছাড়ের সময় এই দামগুলোতে আরও ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।)



