জাতীয়
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়কাল এক গভীর ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বনির্বাসিত প্রবাস জীবন শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তীতে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দায়িত্ব গ্রহণ ও নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া সমসাময়িক রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন, প্রবাস জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ, রাষ্ট্র সংস্কারের দর্শন এবং ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পারিবারিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক উত্থান

তারেক রহমান বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বংশের উত্তরসূরি। তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা) এবং মাতা বেগম খালেদা জিয়া (বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী)।
- রাজনীতিতে আগমন: ১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির গাবতলী থানা কমিটির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
- নেতৃত্বের পরিবর্তন: দীর্ঘ দিন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, দলীয় ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে যুক্ত হন।
২. দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম (২০০৮–২০২৫)

২০০৭ সালের ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সপরিবারে স্বনির্বাসিত জীবন কাটান।
ক. হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড
যুক্তরাজ্যের সরকারি কোম্পানি নিবন্ধন সংস্থা ‘কোম্পানিজ হাউস’ (Companies House)-এর অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমান একটি পেশাদার কনসালটেন্সি ফার্মের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কোম্পানির বিবরণ: ২০১৫ সালের ১ জুলাই লন্ডনে “White and Blue Consultants Limited” (হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড) নামক একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধিত হয়। এটি মূলত পিআর (পাবলিক রিলেশনস) এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি (পরামর্শক) প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো।
- ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ (White and Blue Consultants Limited) এর বন্ধ হওয়ার চূড়ান্ত নোটিশ এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিবরণী সংক্রান্ত আইনি তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. কোম্পানির বন্ধ হওয়ার চূড়ান্ত নোটিশ (Dissolution Notice)
ইউকে কোম্পানি হাউজের রেকর্ড অনুযায়ী, কোম্পানিটি স্বেচ্ছায় বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় বন্ধ করার চূড়ান্ত গেজেট নোটিশটি প্রকাশ করা হয় এবং ২৩ মার্চ ২০২১ তারিখে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত (Dissolved) বলে ঘোষিত হয়।
নথির ধরন: Final Gazette dissolution notice (Gazette [LGA])
অনলাইন কপি: আপনি সরাসরি ইউকে সরকারের অফিশিয়াল Companies House Filing History-তে গিয়ে ২০২১ সালের মার্চ মাসের নথিতে এই নোটিশটির পিডিএফ (PDF) সংস্করণ দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন।
২. শেয়ারহোল্ডারদের বিবরণী (Statement of Capital & Shareholders)
কোম্পানিটি নিবন্ধনের সময় (১ জুলাই ২০১৫) জমাকৃত IN01 (Incorporation) ফর্ম অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের মূল বিবরণী নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
শেয়ারের বিবরণ
তথ্য (Details
মোট শেয়ার ক্যাপিটাল
১০০ জিবিপি (100 GBP)
মোট শেয়ার সংখ্যা
১০০টি সাধারণ শেয়ার (Ordinary Shares)
মূল শেয়ারহোল্ডার
তারেক রহমান (Mr. Tarique Rahman)
শেয়ারের মালিকানা
১০০% শেয়ারের মালিক এবং তিনিই একমাত্র পরিচালক (Director) ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক (PSC)
তিনি এই কোম্পানির “Person with Significant Control” (PSC) বা প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।
খ. দূরশিক্ষণ নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা
লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে ভিডিও কনফারেন্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখেন। একই সাথে যুক্তরাজ্যের সরকার পরিচালন ব্যবস্থা (Westminster System) এবং দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে প্রভাব ফেলে।
৩. বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির তৈরি হয়। আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বাধা দূর হওয়ার পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে আসেন। ঢাকায় তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথ জুড়ে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।
রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দর্শন:
তারেক রহমান ও তাঁর দল দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বিশদ রূপরেখা প্রণয়ন করে, যা “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” (এবং পরবর্তীতে জুলাই চার্টারের সাথে সমন্বয়কৃত) নামে পরিচিত। এর প্রধান দিকগুলো হলো:
- রেনবো নেশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ): রাজনৈতিক বিভেদের অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মীয় ও জাতিগত ঐক্যের সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠন।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: একজন ব্যক্তি যাতে একনায়ক হয়ে উঠতে না পারেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী না থাকার নিয়ম চালু করা।
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: দেশের প্রবীণ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ (Upper House) গঠন করা।
- প্রতিষ্ঠান ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা, সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবিত করা এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধকারী কালো আইনসমূহ বাতিল করা।
৪. ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক রূপরেখা
২০২৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ও সমমনা দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জনমুখী প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
ক. আলোচিত মন্ত্রিসভা ও তরুণ নেতৃত্ব
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে একটি দক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা আলোচনা করা হয়, যেখানে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তরুণ নেতাদের সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি গতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।
খ. ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক নীতিমালা
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি “জনমুখী বাজেট ও অ্যাকশন প্ল্যান” এর ওপর জোর দেওয়া হয়:
┌─────────────────────────────────┐
│ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থনৈতিক লক্ষ্য │
└────────────────┬────────────────┘
│
┌────────────────────────┼────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐
│ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ││ সামাজিক নিরাপত্তা ││ দীর্ঘমেয়াদী গ্রামীণ │
│ চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ ││ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ││ অর্থনৈতিক উন্নয়ন │
│ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ││ ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র ││ নদী ড্রেজিং, বৃক্ষরোপণ │
│ ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস ││ কৃষকদের ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি ││ ও নতুন কর্মসংস্থান │
└────────────────────────┘└────────────────────────┘└────────────────────────┘
- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক হ্রাস: বাজারের দ্রব্যমূল্য নাগালের মধ্যে রাখতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ এবং সাধারণ মশলার ওপর থেকে ট্যাক্স বা শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়।
- সামাজিক নিরাপত্তা ও কার্ড প্রথা: প্রান্তিক এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য “ফ্যামিলি কার্ড” এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য “ফার্মার কার্ড” চালুর পরিকল্পনা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে বকেয়া কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
- পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামো: প্রথম ১৮০ দিন, প্রথম অর্থবছর এবং পরবর্তী ৫ বছরের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা (Action Plan)। এর অধীনে নদী খনন (ড্রেজিং) এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জলবায়ু সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ।
৫. ব্যক্তিগত জীবন

তারেক রহমান ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশের সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জোবায়দা রহমান-কে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান পেশায় একজন ব্যারিস্টার, যিনি যুক্তরাজ্য থেকে তাঁর আইনি শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রসমূহ (Sources)
১. ইউকে কোম্পানিজ হাউস রেকর্ডস (UK Companies House Official Records): ‘White and Blue Consultants Limited’ (Company Number: 09664972)-এর নিবন্ধন, শেয়ারহোল্ডিং এবং ডিরেক্টরশিপ সংক্রান্ত অফিশিয়াল নথিপত্র।
২. বিএনপির অফিশিয়াল রূপরেখা (Political Manifestos): “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” এবং জুলাই বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পলিসি গাইডলাইন।
বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক রাষ্ট্র সংস্কারের নিখুঁত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইতিহাস
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (১৫শ খণ্ড), লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসির ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’, এবং সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংবাদপত্র আর্কাইভস
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, অস্থির এবং নাটকীয় পালাবদলের সময়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন গতিপথে চালিত করে। এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিবসের নেপথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. পটভূমি: ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর জেরে ৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং ঢাকা ওয়ান বেঙ্গলের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে একটি পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।

খালেদ মোশাররফের এই অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর পদ থেকে পদচ্যুত করা হয় এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে তাঁকে সম্পূর্ণ গৃহবন্দি (House Arrest) করে রাখা হয়। খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৬ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

২. নেপথ্যের অনুঘটক: জাসদ ও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবের ডাক
মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের এই পাল্টা অভ্যুত্থানকে সেনাবাহিনীর সাধারণ জওয়ান বা সিপাহিদের একটি বড় অংশ ভারতের মদদপুষ্ট এবং মোশতাক চক্রের আরেকটি অংশের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে চশমায় দেখছিল। এই সুযোগে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী দল ‘জাসদ’ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)-এর সামরিক শাখা ‘গণবাহিনী’ এবং এর অন্যতম প্রধান নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহের সেনানিবাসের সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে এক গোপন প্রচারণা চালান।
কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ সিপাহিদের বৈষম্য দূরীকরণ, ১২ দফা দাবি আদায় এবং ‘শ্রেণিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ল্যান্স নায়েক ও সুবেদারদের সংগঠিত করে। ৭ নভেম্বর ভোররাতে এক গণ-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা, কারণ জিয়াউর রহমান সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
৩. ৭ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত এবং সিপাহি-জনতার জাগরণ
৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হয়ে ৭ নভেম্বর ভোররাতে (আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে) ঢাকা সেনানিবাসে সিপাহিদের বিদ্রোহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেটে পড়ে। ট্যাংকের গর্জন এবং শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সিপাহিরা ব্যারাকে ব্যারাকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- জিয়াউর রহমানের মুক্তি: সিপাহিদের একটি দল দ্রুত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসভবনে যায় এবং পাহারারত সেন্ট্রিদের নিরস্ত্র করে তাঁকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান সিপাহিদের শান্ত থাকার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
- খালেদ মোশাররফের পতন ও মৃত্যু: সিপাহিদের এই ভয়াবহ বিদ্রোহের মুখে টিকতে না পেরে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার (যাঁরা সবাই বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) শেরেবাংলা নগরের ১০ বেঙ্গলের সদর দপ্তরে আশ্রয় নেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর সকালেই উত্তেজিত ও বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে এই তিন লিজেন্ডারি সামরিক কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন।
- রাজপথে জনতার ঢল: সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেনানিবাসের সিপাহিরা ট্রাকে করে, ট্যাংকের ওপর চড়ে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। তাদের মুখে স্লোগান ছিল—‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ’। রাজপথের সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৈনিকদের সাথে যোগ দেয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। সিপাহি ও জনতার এই অভূতপূর্ব সংহতির কারণেই দিনটিকে ইতিহাসে ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে অবিহিত করা হয়।
৪. রাজনৈতিক তাৎপর্য ও পরবর্তী ফলাফল
৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দেয়:
- জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আগমন: এই বিপ্লবের পর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল থাকলেও, জিয়াউর রহমান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Chief Deputy Martial Law Administrator) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
- কর্নেল তাহেরের সাথে দূরত্ব: সিপাহিদের ১২ দফা দাবি এবং জাসদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ধারার সাথে জিয়ার শাসনতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী চিন্তাভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তীতে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ইতিহাসের পাতা সবসময় একমুখী নয়। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন একটি পক্ষ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও শ্রদ্ধার সাথে উদ্যাপন করে, ঠিক তেমনই আরেকটি পক্ষ এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে, কারণ এই দিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও জওয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গুগলের ২০২৬ সালের নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক কনটেন্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়া এই দিবসের সকল পক্ষের বাস্তব প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা।
আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে।
৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।”
এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ।
একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা।
বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো।
১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো:
- মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা।
৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)।
- রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন।
- হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



