বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন: রাষ্ট্র গঠনে অবদান বনাম ক্ষমতার অন্দরমহলের বিতর্ক ও রসালাপ
বেগম খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক

June 12, 2026

শেয়ার করুন

রাজনীতি ও জাতীয় কূটনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন যেমন গৌরবময় ও অর্জনে ভরা, তেমনি তা তীব্র সমালোচনা, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক রসালাপে ভরপুর। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথের আপসহীন নেতৃত্ব থেকে শুরু করে গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক অনন্য ইতিহাস রয়েছে তাঁর।

১২ জুন ২০২৬ তারিখে এসে যখন তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায়কে মূল্যায়ন করা হয়, তখন তাঁর নেওয়া দেশের কাঠামোগত ইতিবাচক নীতিগুলোর পাশাপাশি তাঁর আমলের তীব্র রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও অন্দরমহলের নানা বিতর্কিত অধ্যায়ও সমানভাবে সামনে চলে আসে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্রথম অংশ: রাষ্ট্র গঠনে অবদানের খতিয়ান (ইতিবাচক দিকসমূহ)

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক অবদান রয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন সূচকে বড় ভূমিকা রেখেছে:

১. নারী শিক্ষার বিপ্লব ও উপবৃত্তি প্রবর্তন:

নব্বইয়ের দশকে গ্রামীণ নারীদের স্কুলমুখী করতে এবং বাল্যবিয়ে রোধে তাঁর সরকার দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং বিশেষ উপবৃত্তি (Stipend) চালু করে। এই একটিমাত্র পলিসি বাংলাদেশের নারী শিক্ষার হারে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল।

২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যমুনা সেতু:

উত্তরবঙ্গের সাথে সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়া ‘যমুনা বহুমুখী সেতু’ (বঙ্গবন্ধু সেতু)-র সিংহভাগ অর্থায়ন ও নির্মাণ কাজ তাঁর সরকারের (১৯৯১-৯৬) আমলেই বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

৩. মুক্তবাজার অর্থনীতি ও মিডিয়ার আধুনিকায়ন:

তাঁর আমলেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং তথ্য-প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সূচনা ঘটে। বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও এবং মোবাইল ফোন কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল।

৪. কৃষি খাতের সংস্কার ও সামাজিক বনায়ন:

কৃষকদের জন্য সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, সেচ কাজে শুল্ক ছাড় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ‘সামাজিক বনায়ন’ কর্মসূচিকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিল তাঁর সরকার।

দ্বিতীয় অংশ: ক্ষমতার অন্দরমহলের ব্যর্থতা, সমালোচনা ও রসালাপ

ইতিহাসের পাতায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান যেমন সত্য, ঠিক তেমনি তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কার কিছু সিদ্ধান্ত, বক্তব্য এবং ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ তীব্র সমালোচনা ও রসালো ট্রোলের খোরাক জুগিয়েছে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে এবং রাজনৈতিক রসালাপে তাঁর জীবনের সেই অধ্যায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সংসদীয় বক্তব্য ও ২১ আগস্টের ‘ভ্যানিটি ব্যাগ’ তত্ত্ব:

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সমালোচনা ছিল সংসদে দাঁড়িয়ে বা জনসভায় দেওয়া কিছু বক্তব্য, যা গোয়েন্দা তথ্যের চেয়ে লোককাহিনির মতো শোনাত। বিশেষ করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পর সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে—”শেখ হাসিনা নিজেই তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ট্রাকে করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।” একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন অবাস্তব ও কৌতুকপূর্ণ বক্তব্য তৎকালীন সময়ে দেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে তীব্র প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল এবং আজও তা ট্রোলের প্রধান উৎস।

২. সংসদ আর সংসারের ‘তালগোল’:

নব্বইয়ের দশকে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ গৃহবধূ থেকে হুট করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি দেশের শাসনভার আর পারিবারিক অনুভূতির মধ্যে ‘তালগোল’ পাকিয়ে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের মেয়াদে তাঁর দুই সন্তানের, বিশেষ করে তারেক রহমানের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক সমান্তরাল প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও সমালোচনার কারণ হিসেবে দেখা হয়।

৩. “ঈদের পর আন্দোলন” এবং ঐতিহাসিক ডেডলাইন:

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার “ইনশাল্লাহ, ঈদের পর কঠোর আন্দোলন শুরু হবে”—এই বক্তব্যটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায় একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর রোজা এবং কোরবানি ঈদের পর আন্দোলনের এই ধারাবাহিক ‘ডেডলাইন’ বা আলটিমেটাম সাধারণ মানুষ এবং ট্রোল পেজগুলোর কাছে এক পরম জনপ্রিয় ও মজাদার রসালাপে রূপ নিয়েছে।

৪. অনমনীয় জেদ ও ‘ননদ-ভাবি’র চিরস্থায়ী যুদ্ধ:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার সম্পর্ককে আমজনতা প্রায়শই বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন ‘ননদ-ভাবি’র ঝগড়ার সাথে তুলনা করে রসাস্বাদন করে থাকে। তবে এই অনমনীয় জেদ কখনো কখনো সব ধরনের রাজনৈতিক সৌজন্যতাকে ধূলিসাৎ করেছে। ২০১৫ সালে বেগম জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সমবেদনা জানাতে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে যান, তখন ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়। রাজনীতিতে এই “আপসহীন” জেদ সাধারণ মানুষের কাছে চরম রাজনৈতিক অনাচারের এক অনন্য নজির হিসেবে সমালোচিত।

৫. জামায়াত প্রীতি ও ‘মৌলবাদ’ দূরীকরণের তত্ত্ব:

২০০১ সালের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠন এবং তাদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া খালেদা জিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক সমালোচনা। ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলা হয়ে থাকে যে, জামায়াতের নেতাদের সাথে এমন সখ্যতার মাধ্যমে তিনি হয়তো তাদের ‘উদারপন্থী’ বানাতে চেয়েছিলেন এবং বাঙালি নারীকে নিকাবের বাইরে এনে এক অদ্ভুত ‘নারীবাদ’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন! কিন্তু বাস্তবে এই জোট দেশে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটিয়েছিল বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজপথের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর অবদান যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই, তেমনি ক্ষমতার মসনদে বসে অন্দরমহলের দুর্নীতি ও কৌতুকপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য তাঁর ভাবমূর্তিকে বহুলাংশে ম্লান করেছে। ভালো আর মন্দের এই দোলাচলেই নির্মিত হয়েছে তাঁর বর্ণাঢ্য এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক জীবন।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. বাংলাদেশ পলিটিক্যাল হিস্ট্রি ও পলিসি রিভিউ: ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারি উন্নয়ন গ্যাজেট ও জাতীয় সংসদ কার্যবিবরণী আর্কাইভ।

২. আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীক্ষা: দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা।

দেশের রাজনীতি, ইতিহাস এবং সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির এমন সব তথ্যবহুল ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইতিহাস
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (১৫শ খণ্ড), লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসির ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’, এবং সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংবাদপত্র আর্কাইভস 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, অস্থির এবং নাটকীয় পালাবদলের সময়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন গতিপথে চালিত করে। এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিবসের নেপথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি: ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর জেরে ৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং ঢাকা ওয়ান বেঙ্গলের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে একটি পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। 

খালেদ মোশাররফের এই অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর পদ থেকে পদচ্যুত করা হয় এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে তাঁকে সম্পূর্ণ গৃহবন্দি (House Arrest) করে রাখা হয়। খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৬ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। 

২. নেপথ্যের অনুঘটক: জাসদ ও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবের ডাক
মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের এই পাল্টা অভ্যুত্থানকে সেনাবাহিনীর সাধারণ জওয়ান বা সিপাহিদের একটি বড় অংশ ভারতের মদদপুষ্ট এবং মোশতাক চক্রের আরেকটি অংশের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে চশমায় দেখছিল। এই সুযোগে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী দল ‘জাসদ’ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)-এর সামরিক শাখা ‘গণবাহিনী’ এবং এর অন্যতম প্রধান নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহের সেনানিবাসের সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে এক গোপন প্রচারণা চালান। 

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ সিপাহিদের বৈষম্য দূরীকরণ, ১২ দফা দাবি আদায় এবং ‘শ্রেণিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ল্যান্স নায়েক ও সুবেদারদের সংগঠিত করে। ৭ নভেম্বর ভোররাতে এক গণ-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা, কারণ জিয়াউর রহমান সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। 

৩. ৭ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত এবং সিপাহি-জনতার জাগরণ
৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হয়ে ৭ নভেম্বর ভোররাতে (আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে) ঢাকা সেনানিবাসে সিপাহিদের বিদ্রোহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেটে পড়ে। ট্যাংকের গর্জন এবং শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সিপাহিরা ব্যারাকে ব্যারাকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। 

  • জিয়াউর রহমানের মুক্তি: সিপাহিদের একটি দল দ্রুত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসভবনে যায় এবং পাহারারত সেন্ট্রিদের নিরস্ত্র করে তাঁকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান সিপাহিদের শান্ত থাকার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। 
  • খালেদ মোশাররফের পতন ও মৃত্যু: সিপাহিদের এই ভয়াবহ বিদ্রোহের মুখে টিকতে না পেরে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার (যাঁরা সবাই বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) শেরেবাংলা নগরের ১০ বেঙ্গলের সদর দপ্তরে আশ্রয় নেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর সকালেই উত্তেজিত ও বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে এই তিন লিজেন্ডারি সামরিক কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। 
  • রাজপথে জনতার ঢল: সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেনানিবাসের সিপাহিরা ট্রাকে করে, ট্যাংকের ওপর চড়ে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। তাদের মুখে স্লোগান ছিল—‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ’। রাজপথের সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৈনিকদের সাথে যোগ দেয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। সিপাহি ও জনতার এই অভূতপূর্ব সংহতির কারণেই দিনটিকে ইতিহাসে ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে অবিহিত করা হয়। 

৪. রাজনৈতিক তাৎপর্য ও পরবর্তী ফলাফল
৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দেয়: 

  • জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আগমন: এই বিপ্লবের পর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল থাকলেও, জিয়াউর রহমান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Chief Deputy Martial Law Administrator) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। 
  • কর্নেল তাহেরের সাথে দূরত্ব: সিপাহিদের ১২ দফা দাবি এবং জাসদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ধারার সাথে জিয়ার শাসনতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী চিন্তাভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তীতে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 


ইতিহাসের পাতা সবসময় একমুখী নয়। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন একটি পক্ষ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও শ্রদ্ধার সাথে উদ্‌যাপন করে, ঠিক তেমনই আরেকটি পক্ষ এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে, কারণ এই দিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও জওয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গুগলের ২০২৬ সালের নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক কনটেন্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়া এই দিবসের সকল পক্ষের বাস্তব প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সংবিধান দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা। 

আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়। 

পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। 

২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 

কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে। 

৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। 

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়। 

৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।” 

এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ। 


একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আজকের ডলার রেট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা। 

বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো: 

  • মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। 
  • ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। 
  • মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। 

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন: 

  • Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা। 
  • Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা। 
  • Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা। 
  • Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা। 

৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)। 

  • রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন। 
  • হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ