ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতা ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬
ইসলাম একটি গতিশীল এবং বৈশ্বিক ধর্ম। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিমের মূল আকিদা বা বিশ্বাস এক হলেও, ভৌগোলিক বিস্তার, ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আইনি ব্যাখ্যার (Jurisprudence) ভিন্নতার কারণে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভিন্ন শাখা, উপ-শাখা এবং মাযহাবের সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামের একটি বিখ্যাত হাদিস অনুযায়ী, মুসলিম উম্মাহ ভবিষ্যতে ৭৩টি দলে বা ফিরকায় বিভক্ত হবে, যার মধ্যে কেবল একটি দল সঠিক বা নাজাতপ্রাপ্ত (ফিরকায়ে নাজিয়াহ) হবে।

বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর প্রধান বিভাজন এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে হানাফি মাযহাবের একচ্ছত্র প্রভাব ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ইসলামের প্রধান শাখা ও উপ-শাখাসমূহ
সমগ্র বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যা মূলত দুটি প্রধান এবং একটি ছোট স্বতন্ত্র শাখায় বিভক্ত:
ক. সুন্নি ইসলাম (Sunni Islam):
বিশ্বের মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ সুন্নি শাখার অনুসারী। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর গণতান্ত্রিক বা পরামর্শভিত্তিক (শুরা) খলিফা নির্বাচনের নীতিতে তারা বিশ্বাসী। সুন্নিরা মূলত দুটি প্রেক্ষাপটে বিভক্ত:
- ফেকহ বা মাযহাব (আইনগত স্কুল): হানাফি, শাফিঈ, মালিকি এবং হাম্বলি—এই চারটি প্রধান মাযহাবে তারা বিভক্ত।
- আকিদাগত ধারা: ঐতিহ্যবাহী আশআরি ও মাতুরিদি আকিদা; সরাসরি কুরআন-হাদিসপন্থী সালাফি/আহলে হাদিস এবং উপমহাদেশীয় দেওবন্দি ও বেরেলভি ধারা।
খ. শিয়া ইসলাম (Shia Islam):
মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ১০ থেকে ১৩ শতাংশ শিয়া শাখার অন্তর্গত। তারা বিশ্বাস করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পর তাঁর জামাতা হযরত আলী (রা.) এবং তাঁর বংশধরেরাই (ইমামগণ) মুসলিম সমাজের প্রকৃত ঐশ্বরিক নেতা। এরা প্রধানত তিনটি উপ-শাখায় বিভক্ত:
- ইসনা আশারিয়া (Twelvers): শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দল (৮৫%)। ইরান, ইরাক ও আজারবাইজানে এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- ইসমাইলি (Ismailis): আগা খান হলেন এই ধারার একটি বড় অংশের বর্তমান ইমাম।
- জায়েদি (Zaidis): এরা মূলত ইয়েমেনে বসবাস করে এবং আকিদাগতভাবে সুন্নিদের খুব কাছাকাছি।
গ. স্বতন্ত্র শাখা ও আধ্যাত্মিক ধারা:
- ইবাদি (Ibadi): ওমানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম এই ধারার অনুসারী, যা সুন্নি বা শিয়া কোনো দলেই পড়ে না।
- সুফিবাদ (Sufism): এটি কোনো আলাদা ফিরকা নয়, বরং এটি ইসলামের আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক ধারা (যেমন: চিশতিয়া, কাদেরিয়া, নকশবন্দিয়া), যা সুন্নি বা শিয়া উভয় দরের মুসলিমরাই চর্চা করতে পারেন।
২. সুন্নি ইসলামের চার মাযহাব: ব্যবহারিক পার্থক্যের তুলনা

সুন্নিদের চার মাযহাব কোনো ভিন্ন ধর্ম নয়, বরং এগুলো ইসলামের মূল বিশ্বাসকে অক্ষুণ্ণ রেখে দৈনন্দিন ইবাদত ও আইনি খুঁটিনাটি ব্যাখ্যার ৪টি পদ্ধতি। হাদিস পৌঁছানোর ভিন্নতা, হাদিস গ্রহণের শর্ত এবং যুক্তি (কিয়াস) বা স্থানীয় প্রথার ব্যবহারের কারণে এদের মধ্যে কিছু ব্যবহারিক পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
| মাসয়ালা বা বিষয় | হানাফি মাযহাব | শাফিঈ, মালিকি ও হাম্বলি মাযহাব |
| রফু ইয়াদাইন (হাত তোলা) | রুকুতে যাওয়া বা ওঠার সময় হাত তোলা হয় না। কেবল নামাজের শুরুতে তোলা হয়। | রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে ওঠার পর হাত তোলা সুন্নাত। |
| বিসমিল্লাহ জোরে পড়া | নামাজে সূরা ফাতেহার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ মনে মনে পড়া হয়। | শাফিঈ মাযহাবে জাহরি (জোরে পড়ার) নামাজে বিসমিল্লাহ জোরে পড়া হয়। |
| সমুদ্রের খাবার | মাছ ছাড়া সমুদ্রের অন্য কোনো জলজ প্রাণী (যেমন: কাঁকড়া, স্কুইড) খাওয়া জায়েজ নয়। | সমুদ্রের সব ধরণের জীব, জলজ প্রাণী ও মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ। |
| ওজু ভঙ্গের কারণ | শরীর থেকে রক্ত বা পুঁঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে ওজু ভেঙে যায়। | শাফিঈ মাযহাবে রক্তে ওজু ভাঙে না, তবে নিজের স্ত্রী বা কোনো নারীকে স্পর্শ করলে ওজু ভেঙে যায়। |
| নামাজে হাত বাঁধার স্থান | পুরুষদের জন্য নাভির নিচে হাত বাঁধতে হয়। | বুকের ওপর বা নাভির ওপরে হাত বাঁধতে হয় (মালিকি মাযহাবে অনেকে হাত ছেড়েও নামাজ পড়েন)। |
চার ইমামের পারস্পরিক শ্রদ্ধা: এই চারজন ইমাম (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল) একে অপরের শিক্ষক বা ছাত্র ছিলেন এবং গভীর শ্রদ্ধাবোধ পোষণ করতেন। তাঁদের সবারই মূল কথা ছিল—“যদি কোনো সহীহ হাদিস পাও, তবে সেটিই আমার মাযহাব।”
৩. বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: হানাফি মাযহাবের আধিপত্য ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য

বাংলাদেশসহ সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ৯০% বা তার বেশি সুন্নি মুসলিম হানাফি মাযহাব অনুসরণ করেন। উপমহাদেশে হানাফি ফেকহের এই একচ্ছত্র প্রভাবের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে:
- মুসলিম শাসকদের রাজকীয় সমর্থন: সুলতানি ও মোঘল আমলের শাসকেরা মধ্য এশিয়া থেকে এসেছিলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে হানাফি ছিলেন এবং হানাফি ফেকহকেই আদালতের রাষ্ট্রীয় আইন করেছিলেন (যেমন: সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে রচিত ফাতাওয়া-এ-আলমগীরী)।
- সুফি সাধকদের অবদান: খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র.), হযরত শাহ জালাল (র.)-এর মতো মহান সুফি সাধকেরা হানাফি ধারার অনুসারী ছিলেন। ফলে তাঁদের মাধ্যমে যারা ইসলাম গ্রহণ করেন, তারা প্রাকৃতিকভাবেই হানাফি মাযহাব আপন করে নেন।
- উদারতা ও সহজবোধ্যতা: ইমাম আবু হানিফা (র.) আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের সুবিধাকে (কিয়াস) গুরুত্ব দেওয়ায় অমুসলিম প্রধান এই অঞ্চলে নতুন মুসলিমদের জন্য এটি সহজ ও মানানসই ছিল।
- মাদ্রাসা শিক্ষার প্রভাব: উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষার প্রধান দুই ধারা—দেওবন্দি (কওমি) এবং বেরেলভি—উভয়ই হানাফি মাযহাবের কঠোর অনুসারী।
বাংলাদেশে বর্তমান ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও ফিকহী পরিবর্তন:
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হানাফি মাযহাব প্রধান হলেও, আধুনিক বাংলাদেশে বেশ কিছু বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
১. শিয়া সম্প্রদায়: মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ১% থেকে ২% শিয়া (জাফরি/ইসনা আশারিয়া)। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসাইনী দালান ইমামবারা-কে কেন্দ্র করে তারা মহরমে পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল নির্বিঘ্নে পালন করেন।
২. আহলে হাদিস / সালাফি ধারা: কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব না মেনে সরাসরি কুরআন ও সহীহ হাদিস অনুসরণের এই ধারার ব্যাপক উত্থান ঘটেছে (বিশেষ করে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গে)।
৩. প্রবাসী ও বিশ্বায়নের প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটিয়ে অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরে হানাফি মাযহাবের পাশাপাশি শাফিঈ বা হাম্বলি মাযহাবের কিছু আমল (যেমন: নামাজে জোরে আমিন বলা বা রফু ইয়াদাইন) ব্যক্তিগত জীবনে চর্চা করছেন।
৪. তরুণ প্রজন্মের ফিকহী বৈচিত্র্য: ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম মদিনা বা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারদের লেকচার শুনে অন্ধ অনুকরণ না করে, দলিলের ভিত্তিতে অন্য মাযহাবের শক্তিশালী মাসয়ালাগুলোকেও ব্যক্তিগত জীবনে গ্রহণ করছেন।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন
ইসলামের বিভিন্ন মাযহাব ও উপ-শাখা মূলত একই বৃক্ষের ভিন্ন ভিন্ন শাখা। বাংলাদেশে হানাফি মাযহাবের ঐতিহাসিক ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ধর্মীয় সহনশীলতার কারণে শিয়া, সালাফি কিংবা অন্যান্য মাযহাবের আমলগত বৈচিত্র্য এখন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। মূল বিশ্বাসের একতাই মুসলিম উম্মাহর আসল শক্তি, আর এই বৈচিত্র্য আসলে ইসলামের আইনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতারই বহিঃপ্রকাশ।
নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)
১. ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আল-আজহার আল-শরিফ আর্কাইভ: ইসলামের ইতিহাস, সুন্নি চার মাযহাবের ফিকহী উৎস এবং উপমহাদেশের ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক দলিল।
২. “ফাতাওয়া-এ-আলমগীরী” ও মোঘল জুডিশিয়াল রেকর্ডস: ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফি আইনের প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার ইতিহাস।
ইসলামের ইতিহাস, ফিকহ শাস্ত্রের গভীর ব্যাখ্যা এবং সমসাময়িক ধর্মীয় তত্ত্বের এমন তথ্যবহুল ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদন — আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। ১৯৬০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের আবহে শুরু হওয়া একটি সামরিক গবেষণা প্রকল্প থেকে আজকের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হাই-স্পিড ৫জি নেটওয়ার্ক—ইন্টারনেটের এই রূপান্তর মানব ইতিহাসের অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের উৎপত্তি, বিকাশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তির বর্তমান চিত্র এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ইতিহাস
ইন্টারনেটের উদ্ভব কোনো একক বিজ্ঞানীর হাত ধরে হয়নি; বরং এটি বহু দশক ধরে বিজ্ঞানের ধারাবাহিক গবেষণার ফল।
[ কোল্ড ওয়ার / ARPANET (১৯৬৯) ] ──► [ TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪) ] ──► [ WWW ও পাবলিক ইন্টারনেট (১৯৯১) ]
ক. আর্পানেট (ARPANET): বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক
- উৎপত্তি: ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ ‘Advanced Research Projects Agency’ (ARPA) স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পারমাণবিক হামলায় অক্ষত থাকতে পারে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ARPANET তৈরি করে।
- প্রথম বার্তা (২৯ অক্টোবর, ১৯৬৯): আর্পানেটের মাধ্যমে প্রথম বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বার্তাটি ছিল “LOGIN”, তবে “LO” লেখার পরই সিস্টেম ক্র্যাশ করে। এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক বার্তা।
- প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching): পল বারান ও লিওনার্ড ক্লেইনরক উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন রুটে গন্তব্যে পাঠানো শুরু হয়।
খ. ইন্টারনেটের জনক ও WWW-এর উন্মোচন
- TCP/IP প্রোটোকল (১৯৭৪): ভিন্টন সার্ফ (Vint Cerf) ও বব কান (Bob Kahn) আবিষ্কার করেন TCP/IP প্রোটোকল, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে একত্রিত করার ভাষা জোগায়। তাদের ‘ইন্টারনেটের জনক’ বলা হয়।
- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (১৯৮৯-১৯৯১): স্যার টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) উদ্ভাবন করেন WWW (World Wide Web) এবং HTML ল্যাঙ্গুয়েজ। ১৯৯১ সালে ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করা হয়।
২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে রূপান্তর শুরু হয় ধাপে ধাপে:
| সময়কাল | প্রযুক্তির ধরন | বিবরণ ও মাইলফলক |
| ১৯৯২ – ১৯৯৪ | অফলাইন ইমেইল (UUCP) | ‘ড্রিক আইসিটি’ প্রথম অফলাইন ইমেইল চালু করে। মেসেজ জমা রেখে দিনে কয়েকবার বিদেশের সার্ভারে ডায়াল-আপ করা হতো। |
| ৬ জুন, ১৯৯৬ | অনলাইন ইন্টারনেট | ISN (Information Services Network)-এর মাধ্যমে দেশে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু হয় (bangla.net)। ভি-স্যাটভিত্তিক ৬ কেবিপিএস গতির ডায়াল-আপ কানেকশনে মিনিটে খরচ হতো ৩ টাকা। |
| ২০০৬ (মে) | সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 4) | বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার যুগে প্রবেশ করে। |
৩. বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল ও ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা (২০২৬ হালনাগাদ)

বর্তমানে দেশের ক্রমবর্ধমান ডেটা চাহিদা মেটাতে এবং একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে:
[ বাংলাদেশের মোট ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ]
│
┌─────────────────────────────────────┼─────────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ SEA-ME-WE 6 (সরকারি) ] [ BPCS Consortium (বেসরকারি) ] [ বাঘা-১ (Bagha-1) ]
(অতিরিক্ত ১৩.২ Tbps যুক্ত) (কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর রুটে ৫১ Tbps) (ব্যাকআপ ও সাইবার নিরাপত্তা)
- তৃতীয় সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE 6): সরকারি প্রতিষ্ঠান BSCCL-এর অধীনে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত এই ক্যাবলটি কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের সাথে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশে ১৩.২ টিবিপিএস (Tbps) নতুন ব্যান্ডউইথ যুক্ত করবে।
- প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS Consortium): নোኪያ (Nokia)-র ইকুইপমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি কনসোর্টিয়াম সিঙ্গাপুরের সাথে সরাসরি নিজস্ব ক্যাবল বসাচ্ছে। এর ফলে দেশে ৫১ টিবিপিএস (Tbps) সক্ষমতা বাড়বে এবং লেটেন্সি কমে মাত্র ৩৩ মিলি-সেকেন্ডে নামবে।
- বাঘা-১ (Bagha-1): সিডিনেট (CdNet) ও মার্কিন USTDA-এর অর্থায়নে অতিরিক্ত সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ চলছে, যা দেশের সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ নিশ্চিত করবে।
৪. বাংলাদেশে ৫জি (5G) প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে:
- বাণিজ্যিক কভারেজ: গ্রামীণফোন ও রবি বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৪৪০টিরও বেশি নির্দিষ্ট লোকেশনে (বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও বাণিজ্যিক এলাকা) ৫জি সেবা সচল করেছে। টেলিটকও তাদের অবকাঠামো প্রস্তুত করছে।
- নতুন স্পেকট্রাম পরিকল্পনা: বিটিআরসি (BTRC) ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ কভারেজের জন্য ৩.৫ গিগাহার্টজ (GHz) ব্যান্ডের নতুন তরঙ্গ বরাদ্দের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে।
৫জি বিস্তারের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ
| চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্র | বর্তমান চিত্র ও বাধা |
| ৫জি হ্যান্ডসেটের অভাব | স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত ফোনের মাত্র ৪.৭৪% ৫জি সমর্থিত। এখনও ৬১% ফিচার ফোন এবং ৩৪% ৪জি হ্যান্ডসেট ব্যবহার হচ্ছে। |
| শিল্প খাতের ইকোসিস্টেম | স্মার্ট পোর্ট, কৃষি ও অটোমেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে ৫জি-র পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার গড়ে উঠতে আরও সময়ের প্রয়োজন। |
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
নতুন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ সচল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ৫০,০০০ জিবিপিএস (Gbps) ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের খরচ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত শক্ত হবে।
১. আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের ইতিহাস ও আর্পানেট (ARPANET)
- আর্পানেট ও প্রথম বার্তার ইতিহাস:
- উৎস: US Defense Advanced Research Projects Agency (DARPA) ও UCLA Computer Science Department Archive।
- তথ্য: ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (UCLA)-র অধ্যাপক লিওনার্ড ক্লেইনরক (Leonard Kleinrock) ও তার দল প্রথম “LOGIN” বার্তাটি পাঠাতে গিয়ে “LO” লেখার পর সিস্টেম ক্র্যাশ করে।
- TCP/IP ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW):
- উৎস: Internet Hall of Fame এবং CERN (European Organization for Nuclear Research)।
- তথ্য: ১৯৭৪ সালে ভিন্টন সার্ফ ও বব কান কর্তৃক TCP/IP প্রোটোকল আবিষ্কার এবং ১৯৮৯-১৯৯১ সালে স্যার টিম বার্নার্স-লি কর্তৃক WWW আবিষ্কারের মাধ্যমে পাবলিক ইন্টারনেট উন্মুক্ত হয়।
🇧🇩 ২. বাংলাদেশে ইন্টারনেটের আগমন ও বিবর্তন
- প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট ও ISN (১৯৯৬):
- উৎস: বাংলাদেশ টেলিকম বা রেজিস্টার্ড আইএসপি আর্কাইভ এবং তৎকালীন সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রযুক্তি আর্কাইভ।
- তথ্য: ১৯৯৬ সালের ৬ জুন ‘ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক’ (ISN)-এর মাধ্যমে
bangla.netডোমেইনে ভি-স্যাট (VSAT) প্রযুক্তিতে ডায়াল-আপ ৬ কেবিপিএস ইন্টারনেটের প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়।
- প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল SEA-ME-WE 4 (২০০৬):
- উৎস: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (BSCCL) প্রেস রিলিজ।
- তথ্য: ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফাইবার অপটিক ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন চালু করে।
📡 ৩. বাংলাদেশে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও ৫জি প্রযুক্তি (২০২৬)
- SEA-ME-WE 6 ও বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল (BPCS):
- উৎস: BSCCL অফিসিয়াল রিপোর্ট এবং BTRC (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) বিজ্ঞাপিত নীতিমালা ও নোটিফিকেশন।
- তথ্য: সি-মি-উই ৬ ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যান্ডউইথ সংযোজন এবং বেসরকারী খাতের বিপিসিএস কনসোর্টিয়াম ও নোকিয়ার (Nokia) মধ্যে অবকাঠামোগত চুক্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
- বাংলাদেশে ৫জি স্পেকট্রাম ও কভারেজ রিপোর্ট:
- উৎস: BTRC Annual/Periodic Reports এবং মোবাইল অপারেটর (গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক)-এর অফিসিয়াল নেটওয়ার্ক আপডেট।
- তথ্য: দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহর ও নির্দিষ্ট হটস্পটে ৫জি কভারেজ প্রদান এবং বিটিআরসি কর্তৃক হ্যান্ডসেট উৎপাদন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান (যেখানে দেশের মোট চাহিদার অধিকাংশ এখনো ৪জি ও ফিচার ফোন নির্ভর)।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদন — সনাতন ধর্মে ‘ॐ’ (ওঁ বা ওম) কেবল একটি পবিত্র প্রতীক বা মন্ত্র নয়; এটি মহাবিশ্বের আদি স্পন্দন বা পরম ধ্বনি। যেকোনো বৈদিক মন্ত্র, নিত্য পূজা কিংবা শুভ কাজের সূচনায় এই আদি ধ্বনির উচ্চারণ অপরিহার্য। তবে কেবল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নয়, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের (Neuroscience) গবেষণাতেও এই ধ্বনির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। নিচে ওঁ শব্দের গূঢ় তাৎপর্য, সঠিক উচ্চারণ পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং অনিদ্রা দূর করার কার্যকরী স্লিপ থেরাপি গাইড তুলে ধরা হলো।
১. ‘ॐ’ শব্দের অর্থ ও মহাজাগতিক তাৎপর্য

‘ॐ’ শব্দটি মূলত তিনটি মৌলিক ধ্বনির সমাহারে গঠিত: অ (A), উ (U), এবং ম (M)। এই তিনটি অক্ষর দার্শনিক ও মহাজাগতিক উভয় দৃষ্টি থেকেই গভীর অর্থ বহন করে:
- সৃষ্টিচক্র ও পরম ঈশ্বর:
- অ (A): সৃষ্টির সূচনা বা ব্রহ্মার প্রতীক (জাগ্রত অবস্থা / Conscious State)।
- উ (U): সৃষ্টির স্থিতি বা বিষ্ণুর প্রতীক (স্বপ্নাবস্থা / Dreaming State)।
- ম (M): সৃষ্টির লয় বা শিবের প্রতীক (সুষুপ্তি বা গভীর নিদ্রার অবস্থা / Deep Sleep State)।
- চতুর্থ অবস্থা (তুৰীয় বা Turiya): ‘অ-উ-ম’ উচ্চারণের শেষভাগে যে নীরবতা (Silence) তৈরি হয়, তা হলো তুৰীয় বা মোক্ষ অবস্থা—যেখানে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়।
- আদি অনুনাদ: পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরো মহাবিশ্ব এক অখণ্ড কম্পনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ‘ওম’ হলো সেই আদি স্পন্দন, যা মানবদেহের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে মহাজাগতিক তরঙ্গের সাথে যুক্ত করে।
২. ‘ॐ’ শব্দ কীভাবে সঠিক নিয়মে উচ্চারণ করতে হয়?
ওঁ উচ্চারণ কেবল মুখে শব্দ করা নয়; এটি উদর, বক্ষ ও মস্তিষ্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়া।
উচ্চারণের সঠিক ধাপসমূহ (অনুপাত ২:২:১)
[ গভীর শ্বাস গ্রহণ ] ──► [ 'অ' (পেটে কম্পন) ] ──► [ 'উ' (বুকে কম্পন) ] ──► [ 'ম' (মস্তিষ্কে গুঞ্জন) ] ──► [ নীরবতা / তুৰীয় ]
- প্রস্তুতি ও আসন: মেরুদণ্ড সোজা রেখে কোনো শান্ত স্থানে পদ্মাসন, সুখাসন বা আরামদায়ক আসনে বসুন। চোখ বন্ধ করে শরীর শিথিল করুন।
- দীর্ঘ শ্বাস: নাক দিয়ে ফুসফুস ভরে একটি গভীর ও দীর্ঘ শ্বাস নিন।
- ‘অ’ (A) ধ্বনি: মুখ পুরো হা করে শরীরের গভীর থেকে অর্থাৎ নাভিমূল (উদরে) বল প্রয়োগ করে ‘আ’ বা ‘অ’ ধ্বনি শুরু করুন। এতে তলপেটে কম্পন সৃষ্টি হবে।
- ‘উ’ (U) ধ্বনি: এরপর মুখ আংশিক বন্ধ করে ঠোঁট গোল করে ‘উ’ ধ্বনি নির্গত করুন। এতে কম্পনটি বক্ষস্থল ও কণ্ঠনালীতে স্থানান্তরিত হবে।
- ‘ম’ (M) ধ্বনি: সর্বশেষে ঠোঁট দুটি পুরোপুরি বন্ধ করে নাক দিয়ে ‘ম্ঁঁ…’ করে ভ্রমরের মতো অনুনাসিক গুঞ্জন তৈরি করুন। এই সময় কম্পনটি মাথার খুলি ও মস্তিষ্কে অনুভূত হবে।
- নীরবতা পর্যবেক্ষণ: জপ শেষ হওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড সম্পূর্ণ নীরব থাকুন এবং দেহের ভেতরের অনুনাদ ও প্রশান্তি অনুভব করুন।
৩. ‘ॐ’ উচ্চারণের আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (Scientific Insights)

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং fMRI গবেষণায় দেখা গেছে, ওম ধ্বনি উচ্চারণের সময় উৎপন্ন কম্পন মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের তরঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে:
[ 'ম্ঁঁ...' অনুনাসিক গুঞ্জন ও কম্পন ]
│
┌───────────────────────┼───────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ভেগাস নার্ভ উদ্দীপনা ] [ লিম্বিক সিস্টেম শান্ত ] [ আলফা ও থিটা তরঙ্গ ]
│ │ │
▼ ▼ ▼
(হার্ট রেট ও স্ট্রেস হ্রাস) (ভয় ও উদ্বেগ লাঘব) (গভীর প্রশান্তি ও মনোযোগ)
১. ভেগাস নার্ভের উদ্দীপনা (Vagus Nerve Stimulation)
‘ম্ঁঁ…’ গুঞ্জনের সময় কণ্ঠনালী, ল্যারিঙ্কস এবং মাথার খুলিতে তীব্র কম্পন তৈরি হয়, যা সরাসরি শরীরের সবচেয়ে দীর্ঘ স্নায়ু ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে। এর ফলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা রক্তচাপ ও স্ট্রেস হরমোন (Cortisol) কমিয়ে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করে।
২. লিম্বিক সিস্টেমের শান্ত অবস্থা (Limbic System Deactivation)
ভারতের National Institute of Mental Health and Neurosciences (NIMHANS)-এর fMRI গবেষণায় দেখা গেছে, ওম উচ্চারণের সময় মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের (বিশেষ করে অ্যামিগডালা) সক্রিয়তা কমে যায়। অ্যামিগডালা ভয়, রাগ ও নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে; ফলে এটি শান্ত হলে মানুষ মানসিক চাপমুক্ত হয়।
৩. ব্রেইন ওয়েভ কোহেরেন্স (Brainwave Coherence)
নিয়মিত ১০-১৫ মিনিট ওম জপ করলে মস্তিষ্কে Alpha (গভীর শিথিলতা) এবং Theta (সৃজনশীলতা ও ধ্যানস্থ অবস্থা) তরঙ্গের মাত্রা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ক্লান্তি ও বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী Beta তরঙ্গকে কমিয়ে আনে।
৪. সাইমেটিক্স ও নাইট্রিক অক্সাইড বৃদ্ধি
পদার্থবিজ্ঞানের ‘Cymatics’ তত্ত্ব অনুযায়ী, ওম ধ্বনি ৪৩২ হার্টজ (432 Hz) ফ্রিকোয়েন্সির কাছাকাছি তরঙ্গ তৈরি করে। ৭০০% পানি দ্বারা গঠিত মানবদেহের কোষে এই তরঙ্গ সুশৃঙ্খল প্যাটার্ন তৈরি করে। এছাড়া নাক বন্ধ করে দীর্ঘ গুঞ্জনের ফলে সাইনাসে প্রাকৃতিকভাবে ১৫ গুণ বেশি নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) উৎপন্ন হয়, যা অনাক্রম্যতা ও রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
৪. অনিদ্রা (Insomnia) দূর করতে ‘ওম স্লিপ থেরাপি’
ঘুমের সমস্যা বা দুশ্চিন্তাজনিত অনিদ্রা কাটাতে Sound Healing Therapy-র অংশ হিসেবে নিচে বর্ণিত ‘OM Sleep Therapy’ অত্যন্ত কার্যকরী।
স্লিপ থেরাপির ধাপভিত্তিক নিয়মাবলী
| সময় ও ধাপ | করণীয় পদ্ধতি | বৈজ্ঞানিক ও থেরাপিউটিক প্রতিক্রিয়া |
| ১. পরিবেশ প্রস্তুত | ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় পিঠ সোজা করে বসুন বা সরাসরি শুয়ে পড়ুন। | শরীরকে ঘুমানোর উপযুক্ত সংকেত দেয়। |
| ২. ছন্দময় শ্বাস (4-6 Ratio) | ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন এবং ৬ সেকেন্ড ধরে ধীর গতিতে ছাড়ুন (৫ বার)। | হার্ট রেট কমায় এবং মস্তিষ্ককে নিরাপদ অনুভব করায়। |
| ৩. গুঞ্জন প্রাধান্য (১:১:২) | সংক্ষিপ্ত ‘আ-ও’ বলে দীর্ঘ সময় ধরে ঠোঁট বন্ধ রেখে ‘ম্ঁঁঁ…’ অনুনাসিক ধ্বনি দিন। | ভেগাস নার্ভ ম্যাসাজ হয় এবং মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) নিঃসৃত হয়। |
| ৪. জপ সংখ্যা | শোবার আগে অন্তত ১১ থেকে ২১ বার এই পদ্ধতি রিপিট করুন। | ব্রেইন ওয়েভ আলফা ও থিটা লেভেলে নেমে আসে। |
| ৫. নিস্তব্ধতা | জপ শেষে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থেকে ভেতরের নিস্তব্ধতা অনুভব করুন। | অতিচিন্তা (Overthinking) বন্ধ করে দ্রুত ঘুমে আচ্ছন্ন করে। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিদ্ধান্ত
‘ॐ’ কেবল একটি সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; এটি ধ্বনিবিজ্ঞান, শারীরবিদ্যা এবং মানসিক ভারসাম্যের এক অপূর্ব বৈজ্ঞানিক সমন্বয়। দৈনন্দিন ক্লান্তি কাটাতে কিংবা মনের গভীর প্রশান্তি অর্জনে প্রতিদিন কিছু সময় সঠিক নিয়মে ওম উচ্চারণ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
১. বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা গবেষণা (Medical & Neuroscience Sources)
- fMRI ও লিম্বিক সিস্টেম নিষ্ক্রিয়তা:
- গবেষণা: “Neurohemodynamic correlates of ‘OM’ chanting: A functional magnetic resonance imaging study” (NIMHANS, India).
- প্রকাশনা: International Journal of Yoga (IJOY) / PubMed.
- ফলাফল: fMRI স্ক্যানে দেখা গেছে ‘ওম’ জপ করার সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) সহ লিম্বিক সিস্টেমের রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যা স্ট্রেস ও ডিপ্রেশন কমাতে থেরাপিউটিক ভূমিকা রাখে।
- ভেগাস নার্ভ স্টিমুলেশন ও হার্ট রেট:
- গবেষণা: “Effects of OM chanting on autonomic nervous system and brain wave activity”.
- প্রকাশনা: Indian Journal of Physiology and Pharmacology.
- ফলাফল: গুঞ্জনের সময় (Chanting) উৎপন্ন কম্পন ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে কর্টিসল (Cortisol) হরমোন কমায়।
- নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) বৃদ্ধি:
- গবেষণা: “Nasal Nitric Oxide is Increased by Humming” (Karolinska Institute, Sweden).
- প্রকাশনা: American Journal of Respiratory and Critical Care Medicine.
- ফলাফল: মুখ বন্ধ করে গুঞ্জন বা অনুনাসিক শব্দ (Humming/‘ম’ ধ্বনি) করলে সাইনাসে সাধারণ শ্বাসের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়, যা রক্তচাপ কমায় ও রক্তনালী শিথিল করে।
২. সনাতন আধ্যাত্মিক ও বৈদিক শাস্ত্রীয় সূত্র (Vedic & Philosophical Sources)
- মাণ্ডূক্য উপনিষদ (Mandukya Upanishad):
- উপনিষদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী—“ওমিত্যেতদক্ষরমীদং সর্বম্”। অর্থাৎ, ‘ওম’ হলো সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক। এতে ‘অ’, ‘উ’, ‘ম’ এবং চতুর্থ মাত্রা ‘তুৰীয়’ (নীরবতা)-র বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে।
- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (Shrimad Bhagavad Gita):
- অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৩: “ওমিত্যেকাক্ষরং ব্রহ্ম ব্যাহরন্মামনুস্মরন্…” (পরম ব্রহ্মের একাক্ষর প্রতীক হলো ‘ওম’)।
- পাতঞ্জল যোগসূত্র (Patanjali Yoga Sutras):
- সূত্র ১.২৭: “তস্য বাচকঃ প্রণবঃ” (ঈশ্বর বা পরমেশ্বরের বাচক বা প্রকাশক ধ্বনি হলো প্রণব বা ‘ওম’)।
৩. পদার্থবিজ্ঞান ও সাইমেটিক্স (Physics & Cymatics)
- সাইমেটিক্স (Cymatics Study – Ernst Chladni & Hans Jenny):
- শব্দ তরঙ্গ যখন তরল বা বালুর ওপর আপতিত হয়, তখন তা জ্যামিতিক প্যাটার্ন তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওম ধ্বনির ৪৩২ হার্টজ (432 Hz) ফ্রিকোয়েন্সি প্রাকৃতিক সুরেলা অনুনাদ (Harmonic Resonance) সৃষ্টি করে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।
ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা
| র্যাঙ্ক | নাম | দেশ | মোট সম্পদ (USD) | আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি) |
| ১ | ইলোন মাস্ক (Elon Musk) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$৮৩৯ বিলিয়ন | টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X |
| ২ | ল্যারি পেজ (Larry Page) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২৫৭ বিলিয়ন | গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet) |
| ৩ | সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২৩৭ বিলিয়ন | গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet) |
| ৪ | জেফ বেজোস (Jeff Bezos) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২২৪ বিলিয়ন | আমাজন (Amazon) |
| ৫ | মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$২২২ বিলিয়ন | মেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook) |
| ৬ | ল্যারি এলিসন (Larry Ellison) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৯০ বিলিয়ন | ওরাকল (Oracle) |
| ৭ | বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault) | ফ্রান্স | ~$১৭১ বিলিয়ন | এলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর) |
| ৮ | জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৫৪ বিলিয়ন | এনভিডিয়া (Nvidia) |
| ৯ | ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett) | যুক্তরাষ্ট্র | ~$১৪৯ বিলিয়ন | বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway) |
| ১০ | আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega) | স্পেন | ~$১৪৮ বিলিয়ন | ইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara) |
শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়
১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

- মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
- বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।
২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
- বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
- বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
- বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

- মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
- বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
- বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।
৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
- বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।
৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
- বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
- বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।
১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

- মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
- বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।
২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ
- টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
- ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
- জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



