আন্তর্জাতিক

বিশ্বে প্রথমবার! রোগীর চোখের গর্ত দিয়ে অপসারণ করা হলো স্পাইনাল টিউমার: ইতিহাস তৈরি করেছে ইউএমডি মেডিক্যাল সেন্টার
স্পাইনাল টিউমার

নিউজ ডেস্ক

November 19, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদনকারীর নাম : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশ্ব চিকিৎসায় এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে—চিকিৎসকদের একটি দল প্রথমবারের মতো রোগীর চোখের গর্ত (Eye socket) দিয়ে মেরুদণ্ডের টিউমার অপসারণ করেছেন, যা মানব ইতিহাসে কখনো হয়নি। এই বিশ্ব-প্রথম সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে University of Maryland Medical Center (UMMC) এর নিউরোসার্জনদের মাধ্যমে।

১৯ বছর বয়সী কারলা ফ্লোরেস নামে এক তরুণীর ঘাড়ের মেরুদণ্ডে chordoma tumor ধরা পড়ে, যা তার স্পাইনাল কর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এই ধরনের অগ্রাসী টিউমার অপসারণের জন্য প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে ছিল ব্যাপক ঝুঁকি। ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে নার্ভ এবং রক্তনালির ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল, যার কারণে UMMC এর বিশেষজ্ঞ সার্জনরা একটি নতুন এবং নিরাপদ পদ্ধতি বেছে নেন—‘ট্রান্সঅর্বিটাল’ (transorbital) পদ্ধতি, যা চোখের গর্তের ভিতর দিয়ে সরাসরি মেরুদণ্ডের টিউমার অপসারণ করতে সক্ষম।

🔬 সার্জারির পদ্ধতি কী ছিল?

নিউরোসার্জন ডা. মোহাম্মদ এ. এম. লাবিব এবং তার মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম এই অভিনব পদ্ধতিতে সফল হন।
• তারা ক্যাডাভার (মৃতদেহ) ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এই পদ্ধতি উন্নয়ন করেন।
• এটি আগে শুধুমাত্র মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণে ব্যবহৃত হতো, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি মেরুদণ্ডে প্রয়োগ করা হয়।

ফলাফল:

• কোনো বাহ্যিক কাটাছেঁড়া বা শরীরের অংশ কাটা হয়নি।
• গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ বা রক্তনালির ক্ষতি হয়নি।
• পুরো টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
• পরে, প্রোটন রেডিয়েশনস্পাইনাল ফিউশন সার্জারি দেওয়া হয়।

এটি বিশ্ব চিকিৎসা ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। কারলা ফ্লোরেস বর্তমানে ২০ বছর বয়সী এবং ক্যান্সার-মুক্ত, তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই সার্জারি আধুনিক প্রযুক্তি, অ্যানাটমিক্যাল প্রিসিশন এবং টিমওয়ার্ক এর এক চূড়ান্ত নিদর্শন হয়ে থাকবে।

জীবন বাঁচানো, ইতিহাস তৈরি

কারলা ফ্লোরেসের ক্যান্সার-মুক্ত হয়ে ওঠার কাহিনী প্রমাণ করে যে আধুনিক চিকিৎসা এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি মানুষের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইতিহাস তৈরি করেছে, এবং ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সূত্র:
“In First-of-Its-Kind Surgery, Rare Spinal Tumor Removed Through Patient’s Eye Socket at University of Maryland Medical Center

প্রকাশ: UMMC Media Relations, ৬ মে ২০২৫

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ফারাক্কা বাঁধের ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: পরিবেশ ও প্রকৃতি

প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | বিকেল ০৪:১৬ (বিএসটি)

বিশেষ প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক নদীর বহমান স্রোত কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক সম্পদ নয়—আন্তর্জাতিক নদী আইনে এটি স্বীকৃত নীতি। তবে দীর্ঘ ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের একতরফা ফারাক্কা বাঁধের পরিচালনা বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য নদী মরুময়তা, খরা, লবণাক্ততা এবং আকস্মিক বন্যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলমান ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ফারাক্কা বাঁধের সৃষ্টি, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

১. ফারাক্কা বাঁধ কী এবং কেন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল?

ফারাক্কা বাঁধ হলো গঙ্গা নদীর ওপর ভারত কর্তৃক নির্মিত ২,২৪০ মিটার (প্রায় ২.২৪ কিমি) দীর্ঘ একটি ব্যারেজ। এটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬১ সালে কাজ শুরু হয়ে ১৯৭৫ সালে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।

ভারতের ঘোষিত উদ্দেশ্য:

  • কলকাতা বন্দরের নাব্য রক্ষা: ভারতের প্রধান যুক্তি ছিল গঙ্গার শাখা নদী হুগলী-ভাগীরথীতে পলি জমে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমে যাচ্ছে। গঙ্গা নদী থেকে ফিডার ক্যানেলের (Feeder Canal) মাধ্যমে পানি সরিয়ে হুগলী নদীতে ফেলে পলি পরিষ্কার করা এবং সেখানে সমুদ্রগামী বড় জাহাজ ভেড়ানোর পথ সুগম করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।
  • নগরীর পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ: কলকাতা মহানগরীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ এবং উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগ সহজ করা।

২. ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্ট বহুমুখী ক্ষতি

উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও বাস্তুতন্ত্রে যে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

                                  [ ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব ]
                                                  │
         ┌────────────────────────────────────────┼────────────────────────────────────────┐
         ▼                                        ▼                                        ▼
 [ নদী ও ভৌগোলিক খরা ]                      [ সুন্দরবন ও বাস্তুতন্ত্র ]                [ কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ]
• শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি হ্রাস ও মরুময়তা  • মিষ্টি পানি কমে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ   • ১০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি লবণাক্ত
• বর্ষায় একযোগে গেট খুলে আকস্মিক বন্যা       • সুন্দরী গাছের 'শীর্ষ মরণ' রোগ বৃদ্ধি      • ইলিশ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের বিনাশ

ক) মরুময়তা ও বর্ষায় কৃত্রিম বন্যা

  • শুষ্ক মৌসুমে খরা: জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বাংলাদেশে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে পদ্মা এবং এর শাখা নদীগুলো (গড়াই, মধুমতি, মাথাভাঙা) শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়।
  • বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙন: বর্ষাকালে উজানে পানি অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্য বাঁচাতে ফারাক্কার সবগুলো গেট একসাথে খুলে দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ নদীভাঙন তৈরি করে।

খ) সুন্দরবনের ওপর মারাত্মক আঘাত

  • লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি: গড়াই ও মধুমতি নদীর মাধ্যমে সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবেশ কমে যাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি সুন্দরবনের গভীরে ঢুকে পড়ে।
  • সুন্দরী গাছের ‘শীর্ষ মরণ’ (Top Dying Disease): মাত্রাতিরিক্ত লোনা পানির কারণে বনের প্রধান প্রজাতি সুন্দরী গাছ ওপর থেকে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বনের প্রায় ২৮-৩০% সুন্দরী গাছ এই রোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • বন্যপ্রাণীর পানীয় জলের সংকট: মিষ্টি পানির জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ অন্যান্য প্রাণীর পানের পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

গ) কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি

  • আবাদি জমিতে লোনা পানি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লাখ হেক্টরের বেশি কৃষি জমি লোনা পানির আগ্রাসনে পড়ে অনুর্বর হয়ে পড়েছে।
  • ইলিশের পরিযায়ন পথ অবরুদ্ধ: ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীর গভীর ও মিষ্টি পানির উজান স্রোতে উঠে আসে। ফারাক্কার কারণে পানির গভীরতা কমে মোহনায় চর জাগায় ইলিশের এই ঐতিহ্যবাহী পরিযায়ন পথ ধ্বংস হয়ে গেছে।

৩. ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে ভারত কেন অনমনীয় ও আগ্রাসী অবস্থান নেয়?

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গঙ্গা পানি বণ্টন ও ফারাক্কা ইস্যুতে ভারতের অনমনীয় কৌশলের পেছনে প্রধান ৪টি ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ কাজ করে:

১. ‘আপার রিপারিয়ান’ বা উজানের দেশের সুবিধাজনক অবস্থান

ভৌগোলিক কারণে ভারত গঙ্গার উজান অঞ্চলে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক জলনীতিতে ভারত এই ‘উজান রাষ্ট্রের অবস্থান’-কে একটি কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যাতে ভাটির দেশ বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা যায়।

২. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরোধিতা

ফারাক্কা ইস্যুটি শুধু দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের নিজস্ব রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে যুক্ত:

  • বিহারের আপত্তি: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজানে (বিহারে) গঙ্গা নদীতে অস্বাভাবিক পলি জমছে এবং প্রতি বছর রেকর্ড বন্যা হচ্ছে। তাই বিহার চায় বাঁধটি হয় ভেঙে ফেলা হোক, না হয় পানির পুনর্মূল্যায়ন করা হোক।
  • পশ্চিমবঙ্গের অনমনীয়তা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজেদের কৃষি ও কলকাতা বন্দরের দোহাই দিয়ে গঙ্গার প্রবাহের একটি ফোঁটাও বাংলাদেশকে দিতে সম্মত হতে চায় না।

৩. দ্বিপাক্ষিক বনাম অববাহিকাভিত্তিক (Basin-wide) আলোচনা

গঙ্গার পানির বড় অংশ আসে নেপালের নদীগুলো থেকে। আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞরা বহুপাক্ষিক বা অববাহিকাভিত্তিক (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল) চুক্তির পরামর্শ দিলেও ভারত বিষয়টি শুধুমাত্র ‘দ্বিপাক্ষিক’ আলোচনার মধ্যে আটকে রাখতে চায়, যাতে তারা দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে।

৪. ২০২৬ সালের চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ এড়ানোর চেষ্টা

১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তিতে কোনো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ (শুষ্ক মৌসুমে নদীপ্রবাহ যাই থাক না কেন বাংলাদেশকে আইনগতভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দেওয়ার গ্যারান্টি) ছিল না। ২০২৬ সালের নতুন চুক্তি নবায়নে বাংলাদেশ যাতে এই গ্যারান্টি ক্লজ জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারে, সেজন্য ভারত কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করে।

৪. সংক্ষেপে: বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপট

বিষয়চ্যালেঞ্জ / সমস্যাবাংলাদেশের সম্ভাব্য সমাধান
২০২৬ গঙ্গা চুক্তি নবায়ন১৯৯৬ সালের চুক্তিতে আইনি নিশ্চয়তা না থাকানতুন চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ও রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ডেটা শেয়ারিং যুক্ত করা।
একমুখী পানির নির্ভরতাউজান থেকে পানি না পেলে নদী শুকিয়ে যাওয়ানিজস্ব ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি সঞ্চয় রাখা।
আন্তর্জাতিক আইনি প্রয়োগদ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া১৯৯৭ সালের জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক নদী ব্যবহার কনভেনশন’ অনুযায়ী বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করা।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  1. বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB): গঙ্গা পানিপ্রবাহ ও ফারাক্কা পয়েন্টের ঐতিহাসিক সমীক্ষা ফাইল
  2. আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন (UN 1997 Convention): আঞ্চলিক ও অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবহারের নীতিমালা
  3. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI): উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও কৃষি বিপর্যয় সম্পর্কিত রিপোর্ট
  4. পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় (MOEFCC): সুন্দরবনের সুন্দরী গাছের টপ-ডাইং ও ইকোসিস্টেম ক্ষয়ক্ষতি সমীক্ষা

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বাঙালি বিজ্ঞানী

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রতিবেদক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ

বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানচিত্রে বাঙালি বিজ্ঞানীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বখ্যাত নামগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশে এমন কিছু উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী রয়েছেন, যাদের প্রাকৃতিক দূরদর্শিতা ও ল্যাবরেটরির আবিষ্কার বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে।

বিজ্ঞান চর্চাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এমন ৫ জন কৃতী ব্যক্তিত্বের বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ‘হরি ধান’-এর আসল উদ্ভাবক: কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালী (১৯২২ – ২০১৭)

পূর্বে অনেকের ধারণায় “ড. হরিপদ সরকার” নামে বিভ্রান্তি থাকলেও, অতি ফলনশীল ‘হরি ধান’-এর আসল উদ্ভাবক কোনো ডিগ্রিধারী ডক্টর ছিলেন না। তিনি ছিলেন ঝিনাইদহের সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের এক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন সাধারণ কৃষক।

আবিষ্কারের নেপথ্য ও বৈশিষ্ট্য:

  • প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection): ১৯৯২-১৯৯৬ সালের দিকে বিআর-১১ (BR-11) ধানের জমিতে একটি ব্যতিক্রমী ও শক্তিশালী ধানের গোছা লক্ষ্য করেন তিনি। সেই গোছার বীজ আলাদা করে সংরক্ষণ ও বপন করে তিনি এই নতুন জাতের বিকাশ ঘটান।
  • কম খরচে উচ্চ ফলন: এই ধানে সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগে এবং বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২২ মণ ফলন পাওয়া যায়।
  • জাতীয় স্বীকৃতি: তাঁর এই অবদান এখন ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়।

২. বৈজ্ঞানিক গবেষণার জনক’: ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা (১৯০০ – ১৯৭৭)

জৈব রসায়নবিদ, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (BCSIR) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. কুদরাত-এ-খুদা দেশের স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে শিল্পায়নের পথ দেখিয়েছিলেন।

যুগান্তকারী অবদানসমূহ:

  • পারটেক্স (Partex) ও বিকল্প জ্বালানি: পাটকাঠি থেকে শক্ত বোর্ড (Partex) এবং পাট থেকে বায়ো-ফুয়েল বা বিকল্প পেট্রোল তৈরির সফল সূত্র আবিষ্কার করেন।
  • তেলাকুচা থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ: দেশীয় ঔষধি গাছ ‘তেলাকুচা’ থেকে ১২টি আলাদা রাসায়নিক যৌগ পৃথক করেন।
  • কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭৪): স্বাধীন বাংলাদেশের ১ম শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ১ম থেকে ৮ ১ম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ঐতিহাসিক সুপারিশ করেন।

৩. ‘পাটের জাদুকর’: ড. মোবারক আহমদ খান (জন্ম: ১৯৫৮)

বিজেএমসি (BJMC)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমদ খান পাট ও পলিমার কেমিস্ট্রির ওপর গবেষণা করে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ সমাধানের পথ দেখিয়েছেন।

                  [ ড. মোবারক আহমদ খানের প্রধান উদ্ভাবন ]
                                     │
     ┌───────────────────────────────┼───────────────────────────────┐
     ▼                               ▼                               ▼
 [ সোনালী ব্যাগ ]               [ জুটিন (Jutin) ]            [ পাটের হেলমেট ও টাইলস ]
• পলিথিনের পচনশীল বিকল্প        • পারটেক্সের মতোই মজবুত        • মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য
• মাটিতে ৩-৪ মাসে মিশে যায়      হালকা ও মরিচারোধী টিন          হালকা ও বুলেটপ্রুফ কভার

৪. ‘সনো ফিল্টার’ ও আর্সেনিক মুক্তি: ড. আবুল হুসাম

কুষ্টিয়ার সন্তান অধ্যাপক ড. আবুল হুসাম ভূগর্ভস্থ পানির বিষাক্ত আর্সেনিক দূর করার জন্য ‘সনো ফিল্টার’ (SONO Filter) উদ্ভাবন করেন।

  • বৈশ্বিক প্রভাব: অত্যন্ত কম খরচে তৈরি এই ফিল্টারটি লাখ লাখ মানুষকে আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানি থেকে রক্ষা করেছে।
  • আন্তর্জাতিক সম্মাননা: এই উদ্ভাবনের জন্য ২০০৭ সালে জাতীয় প্রকৌশল একাডেমি তাঁকে বিশ্বখ্যাত ‘গ্রেঞ্জার চ্যালেঞ্জ প্রাইজ’ ($1 Million) প্রদান করে।

৫. পেঁপে ও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন: ড. মাকসুদুল আলম (১৯৫৪ – ২০১৪)

ফরিদপুরের সন্তান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অণুজীব বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জীবনরহস্য উন্মোচনে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

  • ঐতিহাসিক সাফল্য: তিনি পরপর পেঁপে, রাবার এবং বাংলাদেশের প্রাণ ‘তোষা ও সাদা পাট’-এর জেনোম সিকোয়েন্স (Genome Sequence) সফলভাবে আবিষ্কার করেন।
  • কৃষি খাতে প্রভাব: এর ফলে রোগপ্রতিরোধী এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার মতো পাটের নতুন জাত উদ্ভাবনের পথ উন্মুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  1. বিসিএসআইআর অফিশিয়াল পেপার্স: ড. কুদরাত-এ-খুদার পেটেন্ট ও গবেষণা আর্কাইভ
  2. কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS): কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালীর উদ্ভাবন ও হরি ধানের ব্যাকগ্রাউন্ড
  3. ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং (USA): ড. আবুল হুসামের সনো ফিল্টার ও গ্রেঞ্জার প্রাইজ রিকগনিশন
  4. বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (BJMC): ড. মোবারক আহমদ খানের সোনালী ব্যাগ প্রজেক্ট ফাইল

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Google Gemini

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ |

বিশেষ প্রযুক্তি প্রতিনিধি প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর মতো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে বিশ্বব্যাপী এআই আধিপত্যের দৌড়ে টিকে থাকতে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (Alphabet Inc.) তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক রদবদল সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বীয় গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে এআই মডেলের বাণিজ্যিকীকরণ, জেমিনির বিকাশ এবং দ্রুত প্রোডাক্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

একদিকে ডিপমাইন্ডের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও তিন দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শীর্ষ চার বিজ্ঞানীদের গুগল ত্যাগ, অন্যদিকে গুগলের ফ্ল্যাগশিপ এআই অ্যাপ ‘জেমিনি’ (Gemini)-এর ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মাসিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিশ্বে এক বিশাল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

১. শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন: বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে ক্ষমতা স্থানান্তর

অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই গত ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এক ঘোষণায় ডিপমাইন্ড এবং জেমিনি ডেভেলপমেন্টের নতুন নেতৃত্ব কাঠামো প্রকাশ করেন:

  • ডেমিস হাসাবিস (Demis Hassabis): নোবেলজয়ী এই খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও পদ এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে ডিপমাইন্ডের চেয়ারপারসন এবং অ্যালফাবেটের ‘চিফ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি মূলত দীর্ঘমেয়াদি ফ্রন্টিয়ার এআই এবং এজিআই (AGI) স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করবেন।
  • কোরাই কাভুকচুওগ্লু (Koray Kavukcuoglu): ডিপমাইন্ডের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং বাণিজ্যিকীকরণে সফল কাভুকচুওগ্লুকে ডিপমাইন্ডের নতুন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (SVP) করা হয়েছে। জেমিনি মডেল ডেভেলপমেন্ট ও এআই অ্যাপের সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা এখন তাঁর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
  • সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিনের উপস্থিতি: গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন সক্রিয়ভাবে ডেভেলপমেন্ট টিমের পাশে বসে সরাসরি নজরদারি বাড়িয়েছেন এবং জেমিনি মডেলের দ্রুত আপডেটে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২. জেফ ডিনের গুগল ত্যাগ এবং নতুন স্টার্টআপ ‘ডিসকভারি লুপ’

গুগলের প্রায় ২৭ বছরের পুরনো মূল প্রযুক্তি কাঠামোর প্রধান স্থপতি ও চিফ সায়েন্টিস্ট জেফ ডিন (Jeff Dean)-এর আকস্মিক বিদায় পুরো টেক বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ডিনের সাথে একযোগে গুগল ছেড়েছেন সিনিয়র ফেলো সঞ্জয় ঘেমাওয়াত, ভিপি ওরিওল ভিনিয়ালস এবং কোয়াক লে।

                    [ চার শীর্ষ বিজ্ঞানীদের গুগল ত্যাগ ] 
                                     │
                                     ▼
                [ নতুন স্টার্টআপ: 'Discovery Loop' (PBC) ]
                                     │
           ┌─────────────────────────┴─────────────────────────┐
           ▼                                                   ▼
[ উদ্দেশ্য: বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে এআই-এর প্রয়োগ ]     [ অ্যালফাবেট: প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী ও ক্লাউড পার্টনার ]

কেন এই বিদায়?

গুগল যখন চ্যাটবটের বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাজস্ব বাড়ানোর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছিল, তখন এই বিজ্ঞানীরা এআই-এর মাধ্যমে মেডিসিন, সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার কাজে পূর্ণ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তারা সবাই মিলে গঠন করেছেন পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন ‘ডিসকভারি লুপ’ (Discovery Loop)

তবে এই বিচ্ছেদ কোনো দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। অ্যালফাবেট নিজেই এই নতুন স্টার্টআপের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে এবং গুগল ক্লাউড কম্পিউটিং সাপোর্ট দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করেছে।

৩. বিশ্বরেকর্ড: জেমিনির ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) সক্রিয় ব্যবহারকারী

অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত রদবদলের মধ্যেই ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুন্দর পিচাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, গুগল জেমিনি অ্যাপ ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর (MAU) বিশ্বরেকর্ড অতিক্রম করেছে। এটি গুগলের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া এবং জিমেইল, ইউটিউব বা অ্যানড্রয়েডের পর ১৪তম বিলিয়ন-ইউজার প্রোডাক্ট।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের এক নজরে:

  • আইওএস (iOS) ব্যাকবোন: অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের বাইরে কেবল অ্যাপল (iOS) ডিভাইসেই জেমিনির ব্যবহারকারী ১০ কোটির বেশি।
  • গুগল সার্চ ও এআই ওভারভিউ: গুগলের ‘AI Overviews’ ফিচারের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিশ্বের প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে জেমিনির এআই সুবিধা পাচ্ছেন।
  • বাণিজ্যিক সফলতা: বিশ্বের ২,৮০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে জেমিনি এন্টারপ্রাইজের ৮০ লাখের বেশি পেইড সিট বিক্রি হয়েছে।

৪. ব্যবহারকারীরা যেভাবে জেমিনি ব্যবহার করছেন

গুগল কিওয়ার্ড ব্লগে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে:

  1. ভয়েস কমান্ডের প্রাধান্য: প্রায় ৬৩% ব্যবহারকারী এখন সরাসরি টাইপ না করে জেমিনি লাইভের মাধ্যমে কথা বলে কাজ সারছেন।
  2. ইমেজ জেনারেশন: জেমিনি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বে প্রতিদিন ১৫ কোটিরও বেশি ছবি তৈরি হচ্ছে।
  3. লাইভ ক্যামেরা সমাধান: প্রতি ৫টি ইন্টারঅ্যাকশনের ১টিতে ব্যবহারকারীরা সরাসরি মোবাইল ক্যামেরা বা স্ক্রিন শেয়ার করে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজছেন।

সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও সাইটেশন তালিকা:

  • **** অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ ও ডিপমাইন্ড লিডারশিপ স্টেটমেন্ট (প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬)
  • **** দ্য ভার্জ ও টেকক্রাঞ্চ রিপোর্ট: জেফ ডিন ও সিনিয়র ফেলোদের নতুন এআই ইনিশিয়েটিভ ‘ডিসকভারি লুপ’ (প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬)
  • **** গুগল কিওয়ার্ড ব্লগ ও সিইও সুন্দর পিচাইয়ের বিবৃতি: জেমিনি অ্যাপ ১ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মাইলফলক (প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ