জাতীয়

বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনীসমূহ: গঠন ও কর্মপরিধির বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনীসমূহ

নিউজ ডেস্ক

March 8, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আধাসামরিক বাহিনী (Paramilitary Forces) মূলত সামরিক কাঠামোর আদলে গঠিত একটি বিশেষায়িত বাহিনী, যারা শান্তি ও যুদ্ধ উভয় সময়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনটি প্রধান আধাসামরিক বাহিনী কার্যকর রয়েছে।

প্রধান তিনটি আধাসামরিক বাহিনী:

১. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)

দেশের সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি প্রধান শক্তি। পিলখানা বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) থেকে পুনর্গঠিত এই বাহিনীটি বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক বেশি আধুনিক। সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও চোরাচালান দমনে বিজিবির ভূমিকা অপরিহার্য।

২. বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীটি মূলত সমুদ্র উপকূল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত। সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানবপাচার দমন এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার অভিযানে কোস্ট গার্ড একটি নির্ভরযোগ্য নাম। এটি মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হলেও এর কার্যক্রমে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা বিদ্যমান।

৩. বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার ও ভিডিপি)

দেশের সর্ববৃহৎ এই বাহিনীটি তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কাজ করে। প্রায় ৬১ লক্ষ সদস্যের এই বাহিনী গ্রামীণ ও শহর এলাকায় জননিরাপত্তা, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং সরকারি স্থাপনার পাহারায় অসামান্য অবদান রেখে আসছে। এটি তিন স্তরে—ব্যাটালিয়ন, সাধারণ আনসার ও ভিডিপি—বিভক্ত হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে পার্থক্য

আপনার বিশ্লেষণে ঠিকই উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-কে অনেকের কাছে আধাসামরিক বাহিনী মনে হলেও এরা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

  • র‍্যাব (RAB): এটি একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্স যেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত। এর কাঠামো আধাসামরিক ধাঁচের হলেও এটি পুলিশের একটি অংশ হিসেবেই আইনগতভাবে কাজ করে।
  • পুলিশের বিশেষায়িত শাখা: আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) বা সোয়াট (SWAT)-এর মতো শাখাগুলো প্রশিক্ষণে আধাসামরিক মানের হলেও তারা মূলত পুলিশি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্যই গঠিত।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে আধাসামরিক বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন এবং আনসার বাহিনীর দক্ষতাকে তৃণমূল উন্নয়নে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। তবে প্রতিটি বাহিনীকে অবশ্যই মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।


তথ্যসূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বার্ষিক প্রতিবেদন ও পালস বাংলাদেশ সিকিউরিটি ডেটাব্যাংক।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও গভীর রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা

নিউজ ডেস্ক

June 14, 2026

শেয়ার করুন

ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়কাল এক গভীর ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বনির্বাসিত প্রবাস জীবন শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তীতে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দায়িত্ব গ্রহণ ও নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া সমসাময়িক রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন, প্রবাস জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ, রাষ্ট্র সংস্কারের দর্শন এবং ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. পারিবারিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক উত্থান

তারেক রহমান বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বংশের উত্তরসূরি। তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা) এবং মাতা বেগম খালেদা জিয়া (বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী)।

  • রাজনীতিতে আগমন: ১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির গাবতলী থানা কমিটির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
  • নেতৃত্বের পরিবর্তন: দীর্ঘ দিন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, দলীয় ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে যুক্ত হন।

২. দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম (২০০৮–২০২৫)

২০০৭ সালের ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সপরিবারে স্বনির্বাসিত জীবন কাটান।

ক. হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড

যুক্তরাজ্যের সরকারি কোম্পানি নিবন্ধন সংস্থা ‘কোম্পানিজ হাউস’ (Companies House)-এর অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমান একটি পেশাদার কনসালটেন্সি ফার্মের সাথে যুক্ত ছিলেন।

  • কোম্পানির বিবরণ: ২০১৫ সালের ১ জুলাই লন্ডনে White and Blue Consultants Limited” (হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড) নামক একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধিত হয়। এটি মূলত পিআর (পাবলিক রিলেশনস) এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি (পরামর্শক) প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো।
  • ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ (White and Blue Consultants Limited) এর বন্ধ হওয়ার চূড়ান্ত নোটিশ এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিবরণী সংক্রান্ত আইনি তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

    ১. কোম্পানির বন্ধ হওয়ার চূড়ান্ত নোটিশ (Dissolution Notice)
    ইউকে কোম্পানি হাউজের রেকর্ড অনুযায়ী, কোম্পানিটি স্বেচ্ছায় বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় বন্ধ করার চূড়ান্ত গেজেট নোটিশটি প্রকাশ করা হয় এবং ২৩ মার্চ ২০২১ তারিখে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত (Dissolved) বলে ঘোষিত হয়।
    নথির ধরন: Final Gazette dissolution notice (Gazette [LGA])
    অনলাইন কপি: আপনি সরাসরি ইউকে সরকারের অফিশিয়াল Companies House Filing History-তে গিয়ে ২০২১ সালের মার্চ মাসের নথিতে এই নোটিশটির পিডিএফ (PDF) সংস্করণ দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন।

    ২. শেয়ারহোল্ডারদের বিবরণী (Statement of Capital & Shareholders)
    কোম্পানিটি নিবন্ধনের সময় (১ জুলাই ২০১৫) জমাকৃত IN01 (Incorporation) ফর্ম অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের মূল বিবরণী নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:

    শেয়ারের বিবরণ
    তথ্য (Details
    মোট শেয়ার ক্যাপিটাল
    ১০০ জিবিপি (100 GBP)
    মোট শেয়ার সংখ্যা
    ১০০টি সাধারণ শেয়ার (Ordinary Shares)
    মূল শেয়ারহোল্ডার
    তারেক রহমান (Mr. Tarique Rahman)
    শেয়ারের মালিকানা
    ১০০% শেয়ারের মালিক এবং তিনিই একমাত্র পরিচালক (Director) ছিলেন।
    গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক (PSC)
    তিনি এই কোম্পানির “Person with Significant Control” (PSC) বা প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

খ. দূরশিক্ষণ নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা

লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে ভিডিও কনফারেন্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখেন। একই সাথে যুক্তরাজ্যের সরকার পরিচালন ব্যবস্থা (Westminster System) এবং দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে প্রভাব ফেলে।

৩. বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির তৈরি হয়। আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বাধা দূর হওয়ার পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে আসেন। ঢাকায় তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথ জুড়ে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দর্শন:

তারেক রহমান ও তাঁর দল দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বিশদ রূপরেখা প্রণয়ন করে, যা “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” (এবং পরবর্তীতে জুলাই চার্টারের সাথে সমন্বয়কৃত) নামে পরিচিত। এর প্রধান দিকগুলো হলো:

  1. রেনবো নেশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ): রাজনৈতিক বিভেদের অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মীয় ও জাতিগত ঐক্যের সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠন।
  2. ক্ষমতার ভারসাম্য: একজন ব্যক্তি যাতে একনায়ক হয়ে উঠতে না পারেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী না থাকার নিয়ম চালু করা।
  3. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: দেশের প্রবীণ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ (Upper House) গঠন করা।
  4. প্রতিষ্ঠান ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা, সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবিত করা এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধকারী কালো আইনসমূহ বাতিল করা।

৪. ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক রূপরেখা

২০২৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ও সমমনা দলগুলোর সমন্বয়ে একটি জনমুখী প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

ক. আলোচিত মন্ত্রিসভা ও তরুণ নেতৃত্ব

দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে একটি দক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা আলোচনা করা হয়, যেখানে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তরুণ নেতাদের সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি গতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।

খ. ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক নীতিমালা

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি “জনমুখী বাজেট ও অ্যাকশন প্ল্যান” এর ওপর জোর দেওয়া হয়:

                     ┌─────────────────────────────────┐
                     │ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থনৈতিক লক্ষ্য │
                     └────────────────┬────────────────┘
                                      │
             ┌────────────────────────┼────────────────────────┐
             ▼                        ▼                        ▼
┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐
│   মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ   ││   সামাজিক নিরাপত্তা     ││  দীর্ঘমেয়াদী গ্রামীণ   │
│ চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ   ││ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ││     অর্থনৈতিক উন্নয়ন     │
│ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ││ ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র ││ নদী ড্রেজিং, বৃক্ষরোপণ │
│ ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস    ││ কৃষকদের ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি ││  ও নতুন কর্মসংস্থান    │
└────────────────────────┘└────────────────────────┘└────────────────────────┘
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক হ্রাস: বাজারের দ্রব্যমূল্য নাগালের মধ্যে রাখতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ এবং সাধারণ মশলার ওপর থেকে ট্যাক্স বা শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়।
  • সামাজিক নিরাপত্তা ও কার্ড প্রথা: প্রান্তিক এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য “ফ্যামিলি কার্ড” এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য “ফার্মার কার্ড” চালুর পরিকল্পনা। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে বকেয়া কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
  • পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামো: প্রথম ১৮০ দিন, প্রথম অর্থবছর এবং পরবর্তী ৫ বছরের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা (Action Plan)। এর অধীনে নদী খনন (ড্রেজিং) এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জলবায়ু সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ।

৫. ব্যক্তিগত জীবন

তারেক রহমান ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশের সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জোবায়দা রহমান-কে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান পেশায় একজন ব্যারিস্টার, যিনি যুক্তরাজ্য থেকে তাঁর আইনি শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রসমূহ (Sources)

১. ইউকে কোম্পানিজ হাউস রেকর্ডস (UK Companies House Official Records): ‘White and Blue Consultants Limited’ (Company Number: 09664972)-এর নিবন্ধন, শেয়ারহোল্ডিং এবং ডিরেক্টরশিপ সংক্রান্ত অফিশিয়াল নথিপত্র।

২. বিএনপির অফিশিয়াল রূপরেখা (Political Manifestos): “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” এবং জুলাই বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পলিসি গাইডলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক রাষ্ট্র সংস্কারের নিখুঁত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক

নিউজ ডেস্ক

June 12, 2026

শেয়ার করুন

অর্থনীতি ও জাতীয় নীতি বিশ্লেষণ | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬

জাতীয় বাজেট কেবল কিছু শুষ্ক সংখ্যার হিসাব কিংবা আয়-ব্যয়ের খতিয়ান নয়, এটি একটি দেশের রাজনৈতিক দর্শন, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক পরিস্থিতির এক একটি জীবন্ত দলিল। বাংলাদেশের বাজেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছর একটি অত্যন্ত অনন্য, জটিল এবং ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক (আজিজুর রহমান মল্লিক) কর্তৃক উপস্থাপিত এই বাজেটটি যেমন ছিল আকারের দিক থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের একটি সাহসী পদক্ষেপ, তেমনি এর ভেতরের অর্থনৈতিক কৌশল এবং উপস্থাপনা শৈলীও ছিল রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য নজির।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন প্রথম দশকের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন বাজেটের দর্শন এবং মেকানিজম ছিল এক রকম। আর আজ ২০২৬ সালের জুন মাসে দাঁড়িয়ে যখন দেশের নতুন অর্থবছর (২০২৬-২৭)-এর প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসেছে এক মহাকাব্যিক পরিবর্তন। ড. এ. আর. মল্লিকের সেই ১,৫৪৯.৪৮ কোটি টাকার বাজেট এবং ২০২৬ সালের জুনে ঘোষিত বর্তমান সরকারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার (৯.৩৮ ট্রিলিয়ন) মেগা বাজেটের মধ্যে একটি নিবিড় তুলনামূলক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. এক নজরে দুই বাজেটের মূল উপাত্ত ও সংখ্যাতাত্ত্বিক তুলনা

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের বাজেট কেবল আকারেই বাড়েনি, বরং এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও অর্থনীতির ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। নিচে একটি তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:

অর্থনৈতিক নির্দেশক (Indicators)১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেট২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটপরিবর্তনের ধরন ও রূপান্তর
বাজেটের মোট আকার১,৫৪৯.৪৮ কোটি টাকা৯,৩৮,০০০ কোটি টাকা (৯.৩৮ ট্রিলিয়ন)প্রায় ৬০৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উন্নয়ন বাজেট (ADP)প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা২,৩০,০০০ কোটি টাকার বেশি (চলতি মেয়াদে)ভৌত এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশাল বরাদ্দ বৃদ্ধি।
রাজস্ব/অনুন্নয়ন ব্যয়প্রায় ৫৯৯.২৪ কোটি টাকা৬,০৮,০০০ কোটি টাকা (অনূমিত)রাষ্ট্রীয় পরিচালনা ও সেবার পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি।
বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমসংসদে সরাসরি সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় পঠিত।মাল্টিমিডিয়া ও আধুনিক ডাটা অ্যানালিটিক্সসহ চলিত ভাষায়।আভিজাত্য বনাম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
মূল অর্থনৈতিক দর্শনযুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও সমাজতান্ত্রিক ত্রাণ-ভিত্তিক।মুক্তবাজার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমি লক্ষ্য।বেঁচে থাকার লড়াই থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন।

২. গভীর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ (Macroeconomic Analysis)

ক. স্বনির্ভরতা বনাম বৈদেশিক নির্ভরতার চিত্র বদল:

  • ১৯৭৫-৭৬ এর চিত্র: তৎকালীন সময়ে ড. এ. আর. মল্লিকের উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগই (প্রায় ৭৫% থেকে ৮০%) আসত বৈদেশিক সাহায্য, অনুদান এবং বিদেশী ঋণের মাধ্যমে। বাংলাদেশ তখন সম্পূর্ণ “সাহায্য-নির্ভর” (Aid-dependent) একটি দেশ ছিল। নিজস্ব সম্পদ সীমিত থাকায় বৈশ্বিক দাতাগোষ্ঠীর সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করত।
  • ২০২৬ এর চিত্র: বর্তমানের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, বাজেটের সিংহভাগ অর্থই এখন দেশের নিজস্ব কর (NBR Tax) এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে। বৈদেশিক ঋণ এখন বাজেটের ঘাটতি পূরণের একটি সহায়ক মাধ্যম মাত্র (ঘাটতি প্রাক্কলন ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা), যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে কতটা স্বাবলম্বী।

খ. ব্যয়ের অগ্রাধিকার পরিবর্তন (Sectoral Shifts):

  • ১৯৭৫-৭৬ এর অগ্রাধিকার: সেই সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের খাদ্য ঘাটতি দূর করা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই বাজেটে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে। এর পাশাপাশি ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা (রেলওয়ে ও ব্রিজ) মেরামতের জন্য বড় অংকের বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
  • ২০২৬ এর অগ্রাধিকার: ২০২৬ সালের বাজেটে শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়নি। এখনকার বড় বরাদ্দ যায় মেগা অবকাঠামো (পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি সেক্টর) এবং সামাজিক security বা নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ এখন উন্নত ও স্মার্ট অবকাঠামো বিনির্মাণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

গ. জীবনযাত্রার মান ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:

১৯৭৫ সালের ১,৫৪৯ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল পার্থক্যের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হলো দেশের জিডিপি (GDP)-র আকার বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)। ১৯৭৫ সালে যে পণ্যটির দাম ছিল ১ টাকা, মুদ্রাস্ফীতির কারণে আজ তার মূল্য বহু গুণ বেড়েছে। তবে একই সাথে মানুষের মাথাপিছু আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই রাষ্ট্র আজ এত বড় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সাহস দেখাতে পারছে।

৩. বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম: সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় বাজেট বক্তৃতা

বাংলাদেশের বাজেট বক্তৃতার ইতিহাসে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেটটি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে এর ভাষারীতি ও উপস্থাপন শৈলীর কারণে।

  • ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পুরো বাজেট বক্তৃতাটি সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় পেশ করেছিলেন।
  • ভাষাগত গাম্ভীর্য: সাধারণত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিবরণী চলিত ভাষায় পেশ করা হলেও, ড. মল্লিক বাংলা ভাষার তৎকালীন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাকরণগত আভিজাত্য বজায় রেখে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ সাধু ভাষায় এই বাজেট উপস্থাপন করেন, যা দেশের সংসদীয় ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি স্থায়ী ব্যতিক্রমী রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়।

৪. political বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও এই বাজেটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের এই বাজেটটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম এবং স্পর্শকাতর পটপরিবর্তনের সাক্ষী।

  • বাজেট পেশের সময়কাল: ড. এ. আর. মল্লিক এই বাজেটটি পেশ করেছিলেন ১৯৭৫ সালের জুন মাসে। এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) সরকারের সময়কার শেষ বাজেট।
  • বাস্তবায়নের সময়কাল: বাজেটটি পাস হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায়, অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। ফলে, ড. মল্লিকের পেশ করা এই বাজেটটি প্রণয়ন হয়েছিল এক রাজনৈতিক দর্শনে, কিন্তু এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটেছিল ১৫ আগস্ট পরবর্তী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। এই কারণেও এই বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘উত্তাল মেয়াদের বাজেট’ বলা হয়।

৫. রাজনৈতিক দর্শন ও শাসন ব্যবস্থার রূপান্তর

  • ১৯৭৫-৭৬ এর প্রেক্ষাপট: সেটি ছিল যুদ্ধোত্তর রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং পরবর্তীতে এক উত্তাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের বছর। রাষ্ট্র তখন সমাজতান্ত্রিক ধারার অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সচল ছিল।
  • ২০২৬ এর প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের নতুন সরকার ও বাজেট সম্পূর্ণ মুক্তবাজার অর্থনীতি (Free-market economy) এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। এখনকার মূল দর্শন হলো “অর্থনৈতিক লোকসানি রাষ্ট্র” থেকে বের হয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা।

পরিচিতি: অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক

ড. আজিজুর রহমান মল্লিক (ড. এ. আর. মল্লিক) ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ এবং কুশলী টেকনোক্র্যাট।

  • তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (Founder Vice-Chancellor) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসে (বিশেষ করে ভারতে) ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে এবং তহবিল সংগ্রহে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
  • দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি প্রথমে共和国 বা প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ আমলা (যুগ্ম-সচিব ও রাষ্ট্রদূত) এবং পরবর্তীতে টেকনোক্র্যাট কোটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন

১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের ১,৫৪৯ কোটি টাকার বাজেটটি যদি বাংলাদেশের শৈশবকালীন “হামাগুড়ি” দেওয়ার গল্প হয়, তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটটি হলো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের “সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দৌড়ানোর” প্রত্যয়। ভাষার আভিজাত্য থেকে শুরু করে ডলারের অঙ্কে রূপান্তর—সব মিলিয়ে এই দুই বাজেটের ব্যবধান আসলে একটি তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী ও উদীয়মান অর্থনৈতিক সিংহ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের ৫০ বছরের জীবন্ত ইতিহাস। ড. এ. আর. মল্লিকের সেই সাধু ভাষার বাজেট বক্তৃতা এবং এর পেছনের রাজনৈতিক ওঠানামা প্রমাণ করে যে, আমাদের জাতীয় বাজেট কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইতিহাসের এক একটি বাঁক বদলের গল্প।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আর্কাইভ: স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ থেকে শুরু করে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট ও অর্থমন্ত্রীদের বক্তৃতা সংকলন এবং বার্ষিক প্রতিবেদন।

২. জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পরিকল্পনা কমিশন রেকর্ডস: ঐতিহাসিক সংসদীয় কার্যবিবরণী, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ১৯৭৫ সালের অর্থ বিলের নথিপত্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঐতিহাসিক ডাটাবেজ।

দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, জাতীয় বাজেট এবং সমসাাময়িক ভূ-রাজনীতির এমন সব গভীর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

বেগম খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক

June 12, 2026

শেয়ার করুন

রাজনীতি ও জাতীয় কূটনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন যেমন গৌরবময় ও অর্জনে ভরা, তেমনি তা তীব্র সমালোচনা, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক রসালাপে ভরপুর। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথের আপসহীন নেতৃত্ব থেকে শুরু করে গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক অনন্য ইতিহাস রয়েছে তাঁর।

১২ জুন ২০২৬ তারিখে এসে যখন তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায়কে মূল্যায়ন করা হয়, তখন তাঁর নেওয়া দেশের কাঠামোগত ইতিবাচক নীতিগুলোর পাশাপাশি তাঁর আমলের তীব্র রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও অন্দরমহলের নানা বিতর্কিত অধ্যায়ও সমানভাবে সামনে চলে আসে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্রথম অংশ: রাষ্ট্র গঠনে অবদানের খতিয়ান (ইতিবাচক দিকসমূহ)

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক অবদান রয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন সূচকে বড় ভূমিকা রেখেছে:

১. নারী শিক্ষার বিপ্লব ও উপবৃত্তি প্রবর্তন:

নব্বইয়ের দশকে গ্রামীণ নারীদের স্কুলমুখী করতে এবং বাল্যবিয়ে রোধে তাঁর সরকার দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং বিশেষ উপবৃত্তি (Stipend) চালু করে। এই একটিমাত্র পলিসি বাংলাদেশের নারী শিক্ষার হারে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল।

২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যমুনা সেতু:

উত্তরবঙ্গের সাথে সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়া ‘যমুনা বহুমুখী সেতু’ (বঙ্গবন্ধু সেতু)-র সিংহভাগ অর্থায়ন ও নির্মাণ কাজ তাঁর সরকারের (১৯৯১-৯৬) আমলেই বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

৩. মুক্তবাজার অর্থনীতি ও মিডিয়ার আধুনিকায়ন:

তাঁর আমলেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং তথ্য-প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সূচনা ঘটে। বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও এবং মোবাইল ফোন কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল।

৪. কৃষি খাতের সংস্কার ও সামাজিক বনায়ন:

কৃষকদের জন্য সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, সেচ কাজে শুল্ক ছাড় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ‘সামাজিক বনায়ন’ কর্মসূচিকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিল তাঁর সরকার।

দ্বিতীয় অংশ: ক্ষমতার অন্দরমহলের ব্যর্থতা, সমালোচনা ও রসালাপ

ইতিহাসের পাতায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান যেমন সত্য, ঠিক তেমনি তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কার কিছু সিদ্ধান্ত, বক্তব্য এবং ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ তীব্র সমালোচনা ও রসালো ট্রোলের খোরাক জুগিয়েছে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে এবং রাজনৈতিক রসালাপে তাঁর জীবনের সেই অধ্যায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সংসদীয় বক্তব্য ও ২১ আগস্টের ‘ভ্যানিটি ব্যাগ’ তত্ত্ব:

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সমালোচনা ছিল সংসদে দাঁড়িয়ে বা জনসভায় দেওয়া কিছু বক্তব্য, যা গোয়েন্দা তথ্যের চেয়ে লোককাহিনির মতো শোনাত। বিশেষ করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পর সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে—”শেখ হাসিনা নিজেই তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ট্রাকে করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।” একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন অবাস্তব ও কৌতুকপূর্ণ বক্তব্য তৎকালীন সময়ে দেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে তীব্র প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল এবং আজও তা ট্রোলের প্রধান উৎস।

২. সংসদ আর সংসারের ‘তালগোল’:

নব্বইয়ের দশকে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ গৃহবধূ থেকে হুট করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি দেশের শাসনভার আর পারিবারিক অনুভূতির মধ্যে ‘তালগোল’ পাকিয়ে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের মেয়াদে তাঁর দুই সন্তানের, বিশেষ করে তারেক রহমানের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক সমান্তরাল প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও সমালোচনার কারণ হিসেবে দেখা হয়।

৩. “ঈদের পর আন্দোলন” এবং ঐতিহাসিক ডেডলাইন:

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার “ইনশাল্লাহ, ঈদের পর কঠোর আন্দোলন শুরু হবে”—এই বক্তব্যটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায় একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর রোজা এবং কোরবানি ঈদের পর আন্দোলনের এই ধারাবাহিক ‘ডেডলাইন’ বা আলটিমেটাম সাধারণ মানুষ এবং ট্রোল পেজগুলোর কাছে এক পরম জনপ্রিয় ও মজাদার রসালাপে রূপ নিয়েছে।

৪. অনমনীয় জেদ ও ‘ননদ-ভাবি’র চিরস্থায়ী যুদ্ধ:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার সম্পর্ককে আমজনতা প্রায়শই বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন ‘ননদ-ভাবি’র ঝগড়ার সাথে তুলনা করে রসাস্বাদন করে থাকে। তবে এই অনমনীয় জেদ কখনো কখনো সব ধরনের রাজনৈতিক সৌজন্যতাকে ধূলিসাৎ করেছে। ২০১৫ সালে বেগম জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সমবেদনা জানাতে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে যান, তখন ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়। রাজনীতিতে এই “আপসহীন” জেদ সাধারণ মানুষের কাছে চরম রাজনৈতিক অনাচারের এক অনন্য নজির হিসেবে সমালোচিত।

৫. জামায়াত প্রীতি ও ‘মৌলবাদ’ দূরীকরণের তত্ত্ব:

২০০১ সালের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠন এবং তাদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া খালেদা জিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক সমালোচনা। ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলা হয়ে থাকে যে, জামায়াতের নেতাদের সাথে এমন সখ্যতার মাধ্যমে তিনি হয়তো তাদের ‘উদারপন্থী’ বানাতে চেয়েছিলেন এবং বাঙালি নারীকে নিকাবের বাইরে এনে এক অদ্ভুত ‘নারীবাদ’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন! কিন্তু বাস্তবে এই জোট দেশে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটিয়েছিল বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজপথের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর অবদান যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই, তেমনি ক্ষমতার মসনদে বসে অন্দরমহলের দুর্নীতি ও কৌতুকপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য তাঁর ভাবমূর্তিকে বহুলাংশে ম্লান করেছে। ভালো আর মন্দের এই দোলাচলেই নির্মিত হয়েছে তাঁর বর্ণাঢ্য এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক জীবন।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. বাংলাদেশ পলিটিক্যাল হিস্ট্রি ও পলিসি রিভিউ: ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারি উন্নয়ন গ্যাজেট ও জাতীয় সংসদ কার্যবিবরণী আর্কাইভ।

২. আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীক্ষা: দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা।

দেশের রাজনীতি, ইতিহাস এবং সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির এমন সব তথ্যবহুল ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ