উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১) অফিসিয়াল উচ্চতা—এখনও কত?
এভারেস্টের আধিকারিক উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৭ ফুট)—এটা ২০২০ সালে নেপাল ও চীনের যৌথ পরিমাপে নির্ধারিত এবং আজও সেটাই অফিশিয়াল
হাইলাইট রি-লিংক: অফিসিয়াল উচ্চতা (২০২০ যৌথ ঘোষণা)
২) “হঠাৎ ১৫–৫০ মিটার বেড়ে গেছে”—আসলে কী বোঝায়?
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এভারেস্ট স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৫–৫০ মিটার বেশি উঁচু দেখাচ্ছে। কারণ, পাদদেশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অরুণ নদীর গভীর ক্ষয় (গিরিখাত কেটে নেওয়া) আশপাশের ভূত্বকের ওজন কমাচ্ছে। ফলে আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠ সামান্য ওপরে “ভেসে” উঠছে।
- গবেষকেরা জিপিএস মাপজোখে দেখেছেন—এই উত্থান বছরে মিলিমিটার স্তরে (≈০.১৬–০.৫৩ মিমি/বছর), কিন্তু বহু হাজার বছরে এর সমষ্টি ১৫–৫০ মিটারের “বোনাস উচ্চতা” তৈরি করে।
হাইলাইট রি-লিংক: Nature Geoscience–এ মূল প্রবন্ধ – Nature
হাইলাইট রি-লিংক: Nature-এর ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন – Nature
হাইলাইট রি-লিংক: UCL News (সরল ব্যাখ্যা) – University College London
৩) “রিভার ক্যাপচার” আর ৮৯,০০০ বছরের গল্প
প্রায় ৮৯ হাজার বছর আগে হিমালয়ে নদীপথ বদলের (river capture) ঘটনায় অরুণ নদী ভয়াবহ ক্ষয় শুরু করে। এত বেশি শিলা–মাটি সরিয়ে নেয় যে, আশপাশের ভূত্বক ওজন হারিয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়—এটাই আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড। ফলে এভারেস্ট কেবল টেকটোনিক ধাক্কাতেই নয়, নদী-ক্ষয়ের কারণেও একটু বেশি উঁচু থাকে/হয়।
হাইলাইট রি-লিংক: “A river is pushing up Everest’s peak” (সায়েন্সডেইলি) – ScienceDaily
হাইলাইট রি-লিংক: ABC Science (বার্ষিক ~২ মিমি বৃদ্ধি) – ABC
৪) শুধু এভারেস্ট নয়—লোৎসে, মাকালুও “বাড়ছে”
গবেষণা বলছে, এভারেস্টের পাশের লোৎসে (বিশ্বে ৪-তম) ও মাকালু (৫-তম) শৃঙ্গেও একই প্রক্রিয়া কাজ করছে; অরুণের সবচেয়ে কাছে হওয়ায় মাকালুতে প্রভাব সামান্য বেশি।
হাইলাইট রি-লিংক: UCL News—পাশের শৃঙ্গগুলোর ওপর প্রভাব – University College London
৫) তাহলে “উচ্চতা” কোনটা ধরা হবে?
- অফিশিয়াল/মানচিত্রে ব্যবহৃত উচ্চতা: ৮,৮৪৮.৮৬ মি. (২০২০) – এটিই রেকর্ড/পরীক্ষায় স্ট্যান্ডার্ড।
- নতুন গবেষণার বক্তব্য: ভূ-প্রক্রিয়ার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫–৫০ মিটার অতিরিক্ত উঁচু দেখায়; এতে অফিসিয়াল সংখ্যা নিজে থেকে বদলায় না—আবার পরিমাপ হলে তবেই হালনাগাদ হবে।
৬) ১০টি দ্রুত তথ্য (কুইক ফ্যাক্টস)
- অফিশিয়াল উচ্চতা: ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার।
- উঁচু হওয়ার গতি: ≈০.১৬–০.৫৩ মিমি/বছর (নদী-ক্ষয়ের অবদান)।
- মোট “বোনাস” উচ্চতা: ≈১৫–৫০ মিটার (দীর্ঘ সময়ে)।
- কারণ: অরুণ নদীর গভীর গিরিখাত–ক্ষয় ⇒ আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড।
- সাদৃশ্য উপমা: জাহাজ থেকে মাল নামালে জাহাজ একটু ওপরে ভাসে—ভূত্বকও তেমন।
- ২০১৫ ভূমিকম্প–পরবর্তী পরিমাপ: নেপাল–চীনের নতুন পরিমাপ (২০২০) অফিশিয়াল করেছে।
- পাশের শৃঙ্গগুলোর ওপর প্রভাব: লোৎসে, মাকালু—একই প্রবণতা।
- GPS–ভিত্তিক প্রমাণ: ধীর, ধারাবাহিক উত্থান জিপিএসে ধরা পড়ে।
- টেকটোনিক + ক্ষয়—দুটি ইঞ্জিন: ভারতীয়–ইউরেশীয় প্লেটের ধাক্কা চলমান, নদী ক্ষয়ে রিবাউন্ড অতিরিক্ত “বুস্ট” দেয়।
- নতুন পরিমাপ হলে বদলাবে?—হ্যাঁ; অফিসিয়াল উচ্চতা নতুন সার্ভে ছাড়া বদলায় না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- পাঠ্যপুস্তকের সংখ্যা বনাম বাস্তব ভূবিজ্ঞান: বইয়ে অফিসিয়াল সংখ্যা থাকবে; কিন্তু ভূপ্রক্রিয়া (টেকটোনিক ধাক্কা + নদী-ক্ষয়) গতিশীল—উচ্চতা ধীরে বদলাতে পারে।
- ঝুঁকি ও পরিকল্পনা: হিমালয়ের ধস, হিমস্রোত, নদী-ক্ষয়–সংক্রান্ত মডেলিং, সড়ক–সেতু–পর্যটন পরিকল্পনায় এই জ্ঞান জরুরি।
সূত্র (রেফারেন্স)
- Nature Geoscience (মূল গবেষণা): “Recent uplift of Chomolungma (Everest) enhanced by river drainage reorganization” – Nature
- Nature (সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা/Explainer): “Why Mount Everest is the world’s tallest mountain” – Nature
- UCL News: “A river is pushing up Mount Everest’s peak” – University College London
- ScienceDaily/Phys.org (সরল সারাংশ): – ScienceDaily+1
- Official height (Guardian / Al Jazeera): ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (Nepal-China, 2020) – The Guardian+1
- ABC Science: বার্ষিক প্রায় ২ মিমি উত্থান—GPS প্রমাণ – ABC
এক লাইনে মনে রাখুন
এভারেস্টের অফিসিয়াল উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার; তবে অরুণ নদীর ক্ষয়ে সৃষ্ট আইসোস্ট্যাটিক রিবাউন্ড এভারেস্ট (লোৎসে, মাকালুসহ)–কে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫–৫০ মিটার “বেশি উঁচু” করে তুলছে—এটা অফিসিয়াল সংখ্যা বদল নয়, বরং ভূবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
১৯০১ সালে সর্বপ্রথম আলফ্রেড নোবেলের উইলের ওপর ভিত্তি করে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। মানবজাতির কল্যাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচটি ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথমবার এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ও বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সুইডিশ বিজ্ঞানী এবং ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে তাঁর একটি উইলে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি তাঁর মোট সম্পত্তির একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৯৪%) এই পুরস্কার তহবিলের জন্য রেখে যান। উদ্দেশ্য ছিল—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য এবং শান্তিতে যারা মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বর ১৯০১ তারিখে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১৯০১ সালের প্রথম নোবেল বিজয়ীদের তালিকা
- পদার্থবিজ্ঞান: উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন (জার্মানি)

উইলহেল্ম কনরাড রন্টজেন (Wilhelm Conrad Röntgen) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী। ১৮৯৫ সালে তাঁর যুগান্তকারী এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর এই আবিষ্কার এবং জীবন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কারের ঘটনা
- সাল: ১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর।
- ঘটনা: জার্মানির ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ল্যাবরেটরিতে একটি ক্যাথোড রশ্মি টিউব (Cathode-ray tube) নিয়ে পরীক্ষা করার সময় তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করেন, কালো কাগজে ঢাকা টিউবটির পাশে থাকা একটি ফ্লুরোসেন্ট পর্দা জ্বলজ্বল করছে।
- নামকরণ: তিনি বুঝতে পারেন টিউব থেকে এক ধরণের অজানা অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে, যা কাগজ ভেদ করে চলে যাচ্ছে। এই রশ্মির প্রকৃতি তখন অজানা থাকায় গণিতের অজানা রাশির প্রতীক হিসেবে তিনি এর নাম দেন ‘X-ray’ বা এক্স-রশ্মি (অনেক দেশে একে ‘রন্টজেন রশ্মি’ও বলা হয়)।
২. প্রথম মানব এক্স-রে
রন্টজেন তাঁর এই আবিষ্কারের পর প্রথম মানবদেহের এক্স-রে ছবি তোলেন। সেটি ছিল তাঁর স্ত্রী আনা বার্থা রন্টজেন-এর হাতের ছবি। ছবিতে তাঁর স্ত্রীর হাতের হাড় এবং আঙুলে পরা বিয়ের আংটিটি স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল। এই ছবি দেখে তাঁর স্ত্রী অবাক হয়ে বলেছিলেন, “আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে ফেলেছি!”
৩. নিঃস্বার্থ বিজ্ঞানী
রন্টজেন তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কোনো প্যাটেন্ট (Patent) বা স্বত্ব নেননি। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর এই আবিষ্কার যেন মানবজাতির কল্যাণে বিনামূল্যে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং শিল্পকারখানায় এর ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তাঁর এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত অর্থও তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজের জন্য দান করে দিয়েছিলেন।
- রসায়ন: ইয়াকুবুস হেনরিকুস ভান্ট হফ (নেদারল্যান্ডস)

ইয়াকুবুস হেনরিকুস ভান্ট হফ (Jacobus Henricus van ‘t Hoff) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ডাচ রসায়নবিদ এবং আধুনিক ভৌত রসায়নের (Physical Chemistry) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯০১ সালে তরল পদার্থের রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং অসমোটিক চাপ সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর প্রধান অবদান এবং বিজ্ঞান জগতে তাঁর প্রভাবের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. নোবেল পাওয়ার মূল কারণ (রাসায়নিক গতিবিদ্যা ও অসমোটিক চাপ)
- রাসায়নিক গতিবিদ্যা (Chemical Dynamics): ভান্ট হফ দেখান কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বা বেগ নির্ধারিত হয় এবং কীভাবে তাপমাত্রা ও চাপ এই গতিকে প্রভাবিত করে। তাঁর তৈরি করা সমীকরণগুলো বিক্রিয়ার হার বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে।
- অসমোটিক চাপ (Osmotic Pressure): তিনি প্রমাণ করেন যে, কোনো তরল দ্রবণে দ্রবীভূত কণাগুলো (যেমন পানিতে চিনি) ঠিক গ্যাসের কণার মতোই আচরণ করে। তিনি গ্যাসের আদর্শ সমীকরণকে (\(PV=nRT\)) দ্রবণের ক্ষেত্রেও সফলভাবে প্রয়োগ করেন, যা রসায়নে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।
২. স্টেরিওকেমিস্ট্রি বা ত্রিমাত্রিক রসায়নের জনক
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অনেক আগেই, ১৮৭৪ সালে তিনি রসায়নে এক বিপ্লবী তত্ত্ব দেন। তিনি প্রথম প্রস্তাব করেন যে, কার্বন পরমাণুর চারটি যোজ্যতা বা বন্ড ত্রিমাত্রিক মহাকাশে একটি চতুস্তলক (Tetrahedron) আকৃতিতে বিন্যস্ত থাকে।
- গুরুত্ব: তাঁর এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই রসায়নের একটি সম্পূর্ণ নতুন শাখা ‘স্টেরিওকেমিস্ট্রি’ (Stereochemistry) গড়ে ওঠে। এটি ছাড়া আজকের আধুনিক ওষুধ বা মেডিসিন তৈরি করা অসম্ভব হতো।
৩. ভ্যান্ট হফ ফ্যাক্টর (\(i\))
রসায়নে তাঁর নামানুসারে ‘ভ্যান্ট হফ ফ্যাক্টর’ (van ‘t Hoff factor) ব্যবহার করা হয়। কোনো দ্রাবকে (যেমন পানিতে) কোনো লবণ বা যৌগ যোগ করলে তা কতটুকু ভেঙে যায় বা যুক্ত হয়, তা পরিমাপ করার জন্য এই ফ্যাক্টরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান: এমিল ফন বেহরিং (জার্মানি)

এমিল ফন বেহরিং (Emil von Behring) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও ব্যাকটেরিয়াবিদ। ১৯০১ সালে ডিপথেরিয়া রোগের প্রতিষেধক হিসেবে সিরাম থেরাপি (Serum Therapy) আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তৎকালীন সময়ে শিশুদের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক এক ব্যাধি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করায় তাঁকে “শিশুদের রক্ষাকর্তা” (Savior of Children) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর প্রধান অবদান এবং জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ডিপথেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সিরাম থেরাপি
- পটভূমি: উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ‘ডিপথেরিয়া’ (Diphtheria) ছিল শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার শিশু শ্বাসকষ্টে মারা যেত।
- আবিষ্কার: এমিল ফন বেহরিং এবং তাঁর সহকর্মীরা (যার মধ্যে জাপানি বিজ্ঞানী কিতাসাতো শিবাসাবুরো অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) আবিষ্কার করেন যে, ডিপথেরিয়া আক্রান্ত পশুর (যেমন ঘোড়া) রক্তে এক ধরণের প্রতিরক্ষামূলক উপাদান তৈরি হয়। তিনি এই উপাদানটির নাম দেন ‘অ্যান্টিটক্সিন’ (Antitoxin)।
- প্রয়োগ: এই অ্যান্টিটক্সিন সমৃদ্ধ সিরাম যখন আক্রান্ত কোনো শিশুর শরীরে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হতো, তখন তা ডিপথেরিয়ার মারাত্মক বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দিত। ১৮৯২ সালে প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এই সিরামের উৎপাদন শুরু হয় এবং এটি রাতারাতি ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনে।
২. নোবেল পুরস্কার অর্জন (১৯০১)
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলেই ১৯০১ সালে প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেলটি তাঁর হাতে ওঠে। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, “শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সিরাম থেরাপি নিয়ে তাঁর কাজ চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে, যার মাধ্যমে রোগ ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পেয়েছে মানবজাতি।”
৩. ধনুষ্টংকার বা টিটেনাসের প্রতিষেধক
ডিপথেরিয়ার পাশাপাশি এমিল ফন বেহরিং ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস (Tetanus) রোগের অ্যান্টিটক্সিন তৈরিতেও সফল হয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের টিটেনাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে তাঁর তৈরি এই প্রতিষেধক লাখ লাখ প্রাণ রক্ষা করেছিল।
- সাহিত্য: সুলি প্রুদোম (ফ্রান্স)

সুলি প্রুদোম (Sully Prudhomme) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফরাসি কবি এবং প্রাবন্ধিক। ১৯০১ সালে তাঁর কাব্যিক রচনার বিশেষ গুণ, উচ্চ আদর্শ এবং হৃদয়ের গভীর অনুভূতির অনন্য প্রকাশের জন্য তাঁকে ইতিহাসের সর্বপ্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
তাঁর জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং নোবেল জয়ের পটভূমি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার মূল কারণ
নোবেল কমিটি ১৯০১ সালে সুলি প্রুদোমকে পুরস্কৃত করার সময় তাঁর লেখার তিনটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছিল:
- উচ্চ আদর্শবাদ (High Idealism): তাঁর কবিতা কেবল বিনোদনের জন্য ছিল না, বরং এতে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ এবং আদর্শের প্রতিফলন ঘটত।
- শৈল্পিক নিখুঁততা (Artistic Perfection): তাঁর শব্দ চয়ন এবং কবিতার ছন্দ ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত ও নিখুঁত।
- হৃদয় ও বুদ্ধির সমন্বয়: তিনি তাঁর কবিতায় একদিকে যেমন গভীর মানবিক অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন, অন্যদিকে দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
২. পারনাসিয়ান আন্দোলন (Parnassian Movement)
সুলি প্রুদোম ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘পারনাসিয়ান’ সাহিত্য আন্দোলনের একজন প্রধান কবি ছিলেন। এই আন্দোলনের মূল মন্ত্র ছিল “শিল্পের জন্য শিল্প” (Art for art’s sake)। রোমান্টিক যুগের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার বিপরীতে গিয়ে তাঁরা কবিতায় নিখুঁত গঠন, সংযম এবং ধ্রুপদী সৌন্দর্যের ওপর জোর দিতেন।
৩. বিখ্যাত কবিতা ও সৃষ্টিকর্ম
- ‘লা ভাস’ (La Vase Brisé – ভাঙা ফুলদানি): এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রোমান্টিক কবিতা। একটি ভাঙা ফুলদানির উপমার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ের ভেতরের গোপন কষ্ট এবং ভাঙনের গল্প অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- দার্শনিক কাব্য: পরবর্তী জীবনে তিনি বিজ্ঞান এবং দর্শনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তাঁর ‘লা জাস্টিস’ (La Justice – ন্যায়বিচার) এবং ‘লে হ্যুরো’ (Les Bonheurs – সুখ) কাব্যগ্রন্থে মানুষের অস্তিত্ব ও মহাবিশ্ব নিয়ে গভীর দার্শনিক চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে।
৪. ঐতিহাসিক বিতর্ক
১৯০১ সালে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুলি প্রুদোমকে মনোনীত করা হলে সাহিত্য বিশ্বে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমসাময়িক অনেক লেখক এবং সমালোচক মনে করেছিলেন যে, রাশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় (যিনি ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ ও ‘আনা কারেনিনা’ লিখেছেন) এই পুরস্কারের জন্য বেশি যোগ্য ছিলেন। এমনকি সুইডেনের ৪২ জন বিশিষ্ট লেখক সুলি প্রুদোম নোবেল পাওয়ার পর টলস্টয়ের কাছে একটি দুঃখপ্রকাশ পত্রও পাঠিয়েছিলেন। তবে প্রুদোম তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থের একটি বড় অংশ তরুণ ফরাসি কবিদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনে দান করে উদারতার পরিচয় দেন।
- শান্তি: জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (সুইজারল্যান্ড) এবং ফ্রেদেরিক প্যাসি (ফ্রান্স)
জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো এবং ফ্রেদেরিক প্যাসি ১৯০১ সালে যৌথভাবে ইতিহাসের প্রথম নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন。 মানবজাতির কল্যাণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিকতা বজায় রাখার জন্য এই দুই ব্যক্তিত্বের অবদান ছিল অতুলনীয়।
তাঁদের ব্যক্তিগত অবদান এবং নোবেল জয়ের ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো:
১. জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (Jean Henri Dunant) – সুইজারল্যান্ড
জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো (যাঁকে হেনরি ডুনান্ট নামেও ডাকা হয়) ছিলেন একজন সুইস ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তাঁকে মূলত রেড ক্রস-এর জনক বলা হয়।
- সলফেরিনোর যুদ্ধ (১৮৫৯): ব্যবসায়িক কাজে ইতালি যাওয়ার পথে দ্যুনো ‘সলফেরিনোর যুদ্ধ’ প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে প্রায় ৪০,০০০ সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছিল। এই ভয়াবহতা দেখে তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আহত সৈনিকদের জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সেবা করার উদ্যোগ নেন।
- রেড ক্রস প্রতিষ্ঠা (১৮৬৩): এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘এ মেমোরি অব সলফেরিনো’ নামে একটি বই লেখেন। এর ওপর ভিত্তি করেই ১৮৬৩ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি’ (ICRC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জেনেভা কনভেনশন (১৮৬৪): যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের অধিকার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর প্রচেষ্টায় প্রথম ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
২. ফ্রেদেরিক প্যাসি (Frédéric Passy) – ফ্রান্স
ফ্রেদেরিক প্যাসি ছিলেন একজন ফরাসি অর্থনীতিবিদ এবং শান্তিকামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা।
- লিগ অব পিস প্রতিষ্ঠা: তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৮৬৭ সালে ফ্রান্সে ‘লিগ অব পিস’ (Ligue internationale et permanente de la paix) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU): ১৮৮৯ সালে তিনি ব্রিটিশ শান্তিকামী র্যান্ডাল ক্রেমারের সাথে যৌথভাবে ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন’ (IPU) গঠন করেন। এটি ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রথম বড় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা আন্তর্জাতিক বিরোধগুলো যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে কাজ করত।
কেন তাঁরা যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছিলেন?
নোবেল কমিটি ১৯০১ সালে প্রথম শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সময় দুই ধরণের অবদানকে সমান গুরুত্ব দিয়েছিল:
- জ্যাঁ অঁরি দ্যুনো: যুদ্ধের ময়দানে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং মানবিক নিয়ম নীতি তৈরির জন্য।
- ফ্রেদেরিক প্যাসি: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- অর্থনীতিতে নোবেল: ১৯০১ সালে অর্থনীতিতে কোনো নোবেল পুরস্কার ছিল না। ১৯৬৮ সালে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব সুইডেন এই বিভাগটি চালু করে এবং ১৯৬৯ সালে প্রথম অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া হয়।
- পুরস্কারের স্থান: শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের ওসলো থেকে এবং বাকি পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় সুইডেনের স্টকহোম থেকে।
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৩) — সাহিত্যে নোবেল
- ইতিহাস গড়া অর্জন: তিনি কেবল প্রথম বাঙালিই নন, বরং সমগ্র এশিয়ার মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
- মূল অবদান: তাঁর অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings)-এর ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। নোবেল কমিটি তাঁর লেখাকে “অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাজা এবং সুন্দর কবিতা” হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
- আরেকটি অনন্য কীর্তি: তিনি বিশ্বের একমাত্র কবি, যাঁর লেখা গান দুটি ভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়—বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ভারতের ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’।
২. অমর্ত্য সেন (১৯৯৮) — অর্থনীতিতে নোবেল
- নতুন ধারার অর্থনীতি: তিনি প্রচলিত অর্থনীতির বাইরে গিয়ে ‘কল্যাণ অর্থনীতি’ (Welfare Economics) এবং দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- মূল দর্শন: তিনি দেখিয়েছিলেন যে, দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের অভাবে হয় না, বরং খাদ্য বণ্টনের অসমতা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাবের কারণে ঘটে। তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৩. ড. মুহাম্মদ ইউনূস (২০০৬) — শান্তিতে নোবেল
- দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- মূল অবদান: ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ম বদলে দিয়ে জামানত ছাড়াই দরিদ্র মানুষকে, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনের এক নতুন মডেল তৈরি করেন। (বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন)।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ ইন-ডেপ্থ ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট | পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রতিবেদক ও কন্টেন্ট অ্যানালিস্ট: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
ঢাকা
দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দাবিদার বাংলাদেশে বর্তমানে চারিদিকে জিপিএ-৫ আর ‘গোল্ডেন প্লাস’-এর উল্লাস। অথচ এই কৃত্রিম মেধার জোয়ারের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে দেশীয় সক্ষমতার চরম ট্র্যাজেডি। চীনের প্রকৌশলীরা পদ্মা সেতুর জটিল নির্মাণকাজ শেষ করে দিয়ে যান, জাপানের প্রকৌশলীরা উপহার দেন আধুনিক মেট্রোরেল, রাশিয়ার মেধা ও প্রযুক্তিতে মাথা তুলে দাঁড়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আর দক্ষিণ কোরিয়ার টেকনিশিয়ানরা পার্বতীপুরের খনি থেকে কয়লা তুলে আনে।

অন্যদিকে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট থেকে কোটি কোটি টাকার পাবলিক মানিতে ডিগ্রি নেওয়া প্রকৌশলীরা ল্যাব বা ফিল্ড ছেড়ে লাইব্রেরিতে বসে মুখস্থ করছেন—‘পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত?’, ‘মেট্রোরেলের পিলারের সংখ্যা কত?’, কিংবা ‘রূপপুর পাওয়ার হাউজের চুল্লির উচ্চতা কত?’—উদ্দেশ্য, বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার চেয়ারে বসা!

একদিকে মেগা প্রজেক্টে বিলিয়ন ডলারের বিদেশি নির্ভরতা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় খরচে তৈরি প্রকৌশলীদের আমলা হওয়ার এই দৌড়—আমাদের জাতীয় উন্নয়নকে ঠেলে দিচ্ছে এক নজিরবিহীন কাঠামোগত বিপর্যয়ের মুখে।
১. বিসিএসে প্রকৌশলীদের ঢল: পরিসংখ্যান কী বলে?

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)-এর সাম্প্রতিক ব্যাচগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশেষায়িত শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্যাডারে (প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র) যোগ দেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে:
- ৪০তম বিসিএস: সাধারণ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে শুধু প্রশাসন ক্যাডারেই বুয়েটের ৫০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৭৩ জন প্রকৌশলী স্থান করে নেন।
- ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএস: ৪১তম বিসিএসে ১৯৫ জন এবং ৪৩তম বিসিএসে ১৮৩ জন প্রকৌশলী তাঁদের মূল পেশা ছেড়ে সাধারণ ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন।
- ৩০% কোটা দখল: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩৫তম থেকে ৪০তম বিসিএস (৩৯তম বিশেষ বিসিএস বাদে) পর্যন্ত শীর্ষ তিনটি সাধারণ ক্যাডারে মোট ১,৯৮০ জন কর্মকর্তার মধ্যে প্রায় ৩৮৭ জনই ছিলেন প্রকৌশলী ও চিকিৎসক।
গাণিতিক ও যৌক্তিক দক্ষতায় এগিয়ে থাকার কারণে তারা সাধারণ ক্যাডারের মেধা তালিকায় শীর্ষস্থানগুলো দখল করে নিচ্ছেন। কিন্তু একজন সিভিল, কেমিক্যাল বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার যখন মাঠ প্রশাসনের এসিল্যান্ড বা ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক ফাইল সামলান, তখন তাঁর দীর্ঘ ৪-৫ বছরের অর্জিত বিশেষায়িত জ্ঞান রাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ কাজে আসে না।
[আমাদের জাতীয় মেধার রূপান্তর চিত্র]
উচ্চতর কারিগরি ডিগ্রি (বুয়েট/চুয়েট/কুয়েট)
↓
গবেষণা ও উপযুক্ত কাজের পরিবেশের অভাব
↓
সাধারণ জ্ঞানের মুখস্থনির্ভর বিসিএস প্রস্তুতি
↓
প্রশাসনিক ক্যাডারে যোগদান ➔ (বিশেষায়িত মেধার চূড়ান্ত অপচয়)
২. পরনির্ভরশীলতার খতিয়ান: ৯১,৭৪৪ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান
দেশীয় শীর্ষ প্রকৌশলীরা টেকনিক্যাল ফিল্ড ছেড়ে প্রশাসনিক ক্যাডারে চলে যাওয়ায় মেগা প্রজেক্টগুলোর মূল কারিগরি সিদ্ধান্তের জন্য সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি পরামর্শক ও ঠিকাদারদের ওপর।

정 সরকারের অর্থনৈতিক টাস্কফোর্স এবং শ্বেতপত্র কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষ দেশীয় প্রকৌশলীর অভাব এবং বিদেশি কনসালট্যান্টদের ওপর অতি-নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের প্রধান মেগা প্রকল্পগুলোতে প্রায় ৭.৫২ বিলিয়ন ডলার (বা ৯১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা) অতিরিক্ত আর্থিক লোকসান ও অপচয় হয়েছে!
| প্রজেক্টের খাত / সূচক | প্রাথমিক প্রাক্কলিত বাজেট | সংশোধিত চূড়ান্ত বাজেট | অতিরিক্ত অপচয় ও ক্ষতি |
| ৮টি প্রধান মেগা প্রকল্প (পদ্মা রেল সংযোগ, রূপপুর, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল ইত্যাদি) | $১১.২০ বিলিয়ন \vert{} $১৮.৬৪ বিলিয়ন | $৭.৫২ বিলিয়ন (৬৮% বৃদ্ধি) | |
| প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল | নির্দিষ্ট সময় | গড়ে ৫ বছর অতিরিক্ত | বিপুল কনসালট্যান্সি ফি ও ডেডলাইন মিস |
| বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত | – | – | ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকিতে বার্ষিক $৫ বিলিয়ন অপচয় |
উন্নত দেশগুলোতে মেগা প্রজেক্টের সাথে দেশীয় নলেজ ট্র্যান্সফার (Knowledge Transfer) বাধ্যতামূলক করা হলেও, আমাদের দেশে তদারকির জন্য দক্ষ দেশীয় রিভিউ প্রকৌশলীর অভাবে বৈদেশিক ফান্ডের একটি বিশাল অংশ ‘কনসালট্যান্সি ফি’ হিসেবেই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
৩. কেন এই ‘দলবদল’? গভীরে লুকানো ৪টি মূল কারণ
১. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সামাজিক মোহ: সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কারিগরি বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের চেয়ে সাধারণ প্রশাসনিক ক্যাডারে দ্রুত পদোন্নতি, গাড়ি-বাড়ি সুবিধা, নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা এবং সামাজিক মর্যাদা অনেক বেশি।
২. বেসরকারি খাতের সীমাবদ্ধতা: দেশে ভারী শিল্প ও গবেষণাভিত্তিক বেসরকারি খাত সেভাবে বিকশিত হয়নি। ফলে অনেক মেধা পর্যাপ্ত বেতন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির অভাবে হতাশ হয়ে পড়েন।
৩. কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। এমনকি প্রকৌশল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদগুলোতেও (যেমন সচিব) প্রকৌশলীদের বদলে প্রশাসনিক ক্যাডারের আধিপত্য দেখা যায়।
৪. জিপিএ-৫-এর সনদসর্বস্ব শিক্ষা: প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ‘জিপিএ-৫’ পাওয়ার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব ও স্কিলভিত্তিক নলেজ তৈরির বদলে মুখস্থভিত্তিক পরীক্ষা জয়ের মানসিকতা তৈরি করছে।
উত্তরণের পথ: কী করা প্রয়োজন?
- টেকনিক্যাল ক্যাডারের মর্যাদা বৃদ্ধি: প্রশাসনিক ক্যাডারের সমকক্ষ বেতন, পদোন্নতি ও নীতি-নির্ধারণী ক্ষমতা টেকনিক্যাল ক্যাডারদের প্রদান করতে হবে।
- বাধ্যতামূলক নলেজ ট্র্যান্সফার: প্রতিটি মেগা প্রজেক্টে বিদেশি কনসালট্যান্টদের পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলীদের কোর ডিজাইনিং টিমে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
- শিক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কার: জিপিএ-৫ নির্ভর পরীক্ষা বাদ দিয়ে ল্যাব-ভিত্তিক, কোডিং, রোবোটিক্স এবং প্র্যাকটিক্যাল প্রবলেম সলভিং নির্ভর কারিগরি শিক্ষা জোরদার করতে হবে।
প্রতিবেদকের মতামত: জিপিএ-৫-এর বন্যায় ভাসলেও রাষ্ট্র যদি তার নিজস্ব প্রকৌশলীকে দিয়ে একটি সেতুর ডিজাইন বা পাওয়ার প্ল্যান্টের তদারকি করাতে না পারে, তবে সেই মেধা দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। সিভিল সার্ভিসের মোহ ছেড়ে প্রকৌশলীদের নিজস্ব প্রযুক্তির উদ্ভাবক বানাতে না পারলে, প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ ও মাশুল গুনেই যেতে হবে।
বিসিএসে প্রকৌশলীদের তথ্য ও পরিসংখ্যানের উৎস
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC): ৩৮তম, ৪০তম, ৪১তম এবং ৪৩তম বিসিএস-এর চূড়ান্ত ফলাফল ও ক্যাডার বণ্টন সংক্রান্ত অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ ও বার্ষিক প্রতিবেদন।
- দৈনিক প্রথম আলো (ইন-ডেপ্থ রিপোর্ট): “সাধারণ ক্যাডারে প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের আধিপত্য” এবং “বিসিএসে পেশাগত মেধার স্থানান্তর” বিষয়ক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (২০২১-২০২৪)।
- দ্য ডেইলি স্টার (The Daily Star): “Why engineers are opting for civil services in Bangladesh” সংক্রান্ত ফিচার ও বিপিএসসির ডেটা অ্যানালিসিস।
মেগা প্রজেক্টের অপচয় ও আর্থিক লোকসানের উৎস (৭.৫২ বিলিয়ন ডলার)
- শ্বেতপত্র প্রকাশনা কমিটি (White Paper on Bangladesh Economy): ২০২৪-২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন ‘অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন। (যেখানে মেগা প্রজেক্টের বাজেট বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও প্রাক্কলন ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়)।
- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD): সিপিডি কর্তৃক আয়োজিত “বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট ও অবকাঠামোগত অর্থায়ন” শীর্ষক পলিসি ব্রিফিং ও গবেষণা পত্র।
- পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED): বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বার্ষিক অডিট ও সময়/ব্যয় বৃদ্ধির (Cost and Time Overrun) সরকারি পর্যালোচনা রিপোর্ট।
৩বিদেশে প্রকৌশলীদের সুযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার তথ্য
- ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF): Future of Jobs Report (কারিগরি ও স্কিলভিত্তিক শিক্ষার বৈশ্বিক প্রয়োজনীয়তা)।
- ইউনেস্কো (UNESCO Global Education Monitoring Report): দক্ষিণ এশিয়ায় জিপিএ/সনদভিত্তিক পরীক্ষা বনাম প্র্যাকটিক্যাল টেকনিক্যাল স্কিলের ব্যবধান বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা।
শিক্ষা, অর্থনীতি, জাতীয় অবকাঠামো ও ক্যারিয়ার বিষয়ক গভীরে যাওয়া ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টেক ব্লগ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের জন্য প্রফেশনাল ও শতভাগ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট সেবার জন্য সরাসরি ভিজিট করুন bdsbulbulahmed.com-এ (সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট হিসেবে ৬ বছরের অভিজ্ঞতা ও ২৫০+ প্রজেক্টের লাইভ প্রমাণ দেখুন আমার গুগল ড্রাইভ পোর্টফোলিও লিংক-এ)।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬
আমাদের চারপাশের পৃথিবী এবং এর বাইরের মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত এমন সব অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। সাধারণ চোখে প্রকৃতিকে যেমনটা মনে হয়, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ততটাই নিখুঁত বিজ্ঞান ও রোমাঞ্চ।
নিচে পৃথিবী, মহাকাশ এবং জীবজগতের এমন ৮টি আকর্ষণীয় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে নতুন করে ভাবাবে:
১. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বার বিদ্যুৎ চমকানো

আমরা সাধারণত ঝড়-বৃষ্টির সময় দু-একবার বিদ্যুৎ চমকাতে বা মেঘ ডাকতে দেখি। কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্য হলো—এই পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮.৬ মিলিয়ন (৮৬ লক্ষ) বার বজ্রপাত বা বিদ্যুৎ চমকায়! এর সহজ সমীকরণ হলো, প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় ১০০ বারেরও বেশি বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
২. পানিতে ভাসমান অলৌকিক পাথর: পিউমিস

পাথর মানেই তা ভারী হবে এবং পানিতে ডুবে যাবে—এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু পিউমিস (Pumice) হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যতিক্রমী পাথর যা পানিতে অনায়েসে ভেসে থাকে। মূলত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত লাভা দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ার সময় এর ভেতরে প্রচুর বাতাস বা গ্যাস আটকে যায়। ফলে পাথরটির ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হয় এবং এর ঘনত্ব পানির চেয়ে কম হওয়ায় এটি পানিতে ভাসতে পারে।
৩. উটের চোখের সুরক্ষায় ‘তিনটি পাতা’ বা পলক

মরুভূমির তীব্র ঝড় এবং উড়ো ধুলাবালি থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি হলো উট। তীব্র ধূলিঝড়ের মধ্যেও যেন উট অনায়াসে চলাচল করতে পারে, সেজন্য উটের চোখে সাধারণ মানুষের মতো দুটি নয়, বরং তিনটি চোখের পাতা (Eyelids) থাকে। এর মধ্যে একটি পাতা এতটাই পাতলা যে, সেটি বন্ধ রাখলেও উট তার চারপাশ স্পষ্ট দেখতে পায়।
৪. রেজর ব্লেড গলিয়ে দেওয়ার মতো পাকস্থলীর অ্যাসিড

মানুষের পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক বা হজম করার জন্য যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) থাকে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। রসায়নের স্কেলে এর পিএইচ (pH) মাত্রা সাধারণত ১ থেকে ২ এর মধ্যে হয়ে থাকে। জীববিজ্ঞানীদের মতে, এই অ্যাসিডের তীব্রতা এতটাই বেশি যে এটি একটি আস্ত স্টিলের রেজর ব্লেডকেও পুরোপুরি গলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে!
৫. মহাকাশে পানি ফোটানোর অদ্ভুত দৃশ্য

সাধারণত পৃথিবীতে যখন আমরা পানি ফুটাই, তখন বাষ্পীভূত হয়ে পানির ফোঁটাগুলো ছোট ছোট বুদবুদ আকারে অনবরত উপরে উঠে আসে। কিন্তু শূন্য মহাকর্ষ বা গ্র্যাভিটিহীন মহাকাশে কেউ পানি ফোটাতে গেলে এমনটা একদমই হবে না। সেখানে উত্তপ্ত পানি ছোট ছোট বুদবুদ হওয়ার পরিবর্তে সবগুলো মিলে একটি মাত্র দানবাকৃতির বা বিশাল ফোঁটায় রূপান্তরিত হবে।
৬. রাতের ঘুম এবং স্বপ্নের গোলকধাঁধা

এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন যিনি রাতে ঘুমানোর পর মাত্র একটি স্বপ্ন দেখেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ প্রতি রাতে ঘুমের মধ্যে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি স্বপ্ন দেখেন। এমনকি কারো কারো ক্ষেত্রে স্বপ্নের এই সংখ্যাটি এক ডজনও (১২টি) ছাড়িয়ে যায়! তবে ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষ তার দেখা স্বপ্নের প্রায় ৯০ শতাংশই ভুলে যায়।
৭. বরফের ক্রিস্টাল বের হওয়া আগ্নেয়গিরি: মাউন্ট ইরেবাস

আগ্নেয়গিরি বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ফুটন্ত লাল লাভা। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম সচল ও রহস্যময় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ইরেবাস (Mount Erebus)। এই আগ্নেয়গিরিটি অনন্য কারণ এর লাভা হ্রদের উত্তপ্ত গ্যাসের সাথে তীব্র শীতের সংস্পর্শে আসার ফলে এটি থেকে লাভার পাশাপাশি অনবরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফের ক্রিস্টাল বা খণ্ড নির্গত হয়।
৮. ৫ লক্ষ ভূমিকম্পের বার্ষিক পরিসংখ্যান

আমাদের এই শান্ত পৃথিবীর মাটির নিচে টেকটোনিক প্লেটগুলো প্রতিনিয়ত নড়াচড়া করছে। যার ফলে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৫,০০,০০০ (৫ লক্ষ) বার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। তবে আশার কথা হলো, এর মধ্যে আমরা সাধারণ মানুষ মাত্র ১,০০,০০০ (১ লক্ষ) টি টের পেয়ে থাকি এবং এর মধ্যে গড়ে মাত্র ১০০টি ভূমিকম্প পৃথিবীর বুকে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির এই রহস্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নিখিল বিশ্ব কতটা নিখুঁত নিয়মে আবর্তিত হচ্ছে। আপনি যত বেশি জানবেন, প্রকৃতির প্রতি আপনার বিস্ময় ততটাই বেড়ে যাবে।
বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের রহস্য, সমসাময়িক প্রযুক্তি এবং শিক্ষণীয় তথ্যের নিখুঁত ও নিরপেক্ষ আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।
আপনার জন্য একটি ফলো-আপ প্রশ্ন: এই ৮টি রোমাঞ্চকর তথ্যের মধ্যে কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি অবিশ্বাস্য বা আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!



