ইতিহাস

প্রকৃতির অপার বিস্ময়: পৃথিবী ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে ৮টি রোমাঞ্চকর তথ্য
প্রকৃতি ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে ৮টি রোমাঞ্চকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

June 22, 2026

শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬

আমাদের চারপাশের পৃথিবী এবং এর বাইরের মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত এমন সব অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। সাধারণ চোখে প্রকৃতিকে যেমনটা মনে হয়, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ততটাই নিখুঁত বিজ্ঞান ও রোমাঞ্চ।

নিচে পৃথিবী, মহাকাশ এবং জীবজগতের এমন ৮টি আকর্ষণীয় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে নতুন করে ভাবাবে:

১. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বার বিদ্যুৎ চমকানো

আমরা সাধারণত ঝড়-বৃষ্টির সময় দু-একবার বিদ্যুৎ চমকাতে বা মেঘ ডাকতে দেখি। কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্য হলো—এই পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮.৬ মিলিয়ন (৮৬ লক্ষ) বার বজ্রপাত বা বিদ্যুৎ চমকায়! এর সহজ সমীকরণ হলো, প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় ১০০ বারেরও বেশি বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।

২. পানিতে ভাসমান অলৌকিক পাথর: পিউমিস

পাথর মানেই তা ভারী হবে এবং পানিতে ডুবে যাবে—এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু পিউমিস (Pumice) হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যতিক্রমী পাথর যা পানিতে অনায়েসে ভেসে থাকে। মূলত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত লাভা দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ার সময় এর ভেতরে প্রচুর বাতাস বা গ্যাস আটকে যায়। ফলে পাথরটির ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হয় এবং এর ঘনত্ব পানির চেয়ে কম হওয়ায় এটি পানিতে ভাসতে পারে।

৩. উটের চোখের সুরক্ষায় ‘তিনটি পাতা’ বা পলক

মরুভূমির তীব্র ঝড় এবং উড়ো ধুলাবালি থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি হলো উট। তীব্র ধূলিঝড়ের মধ্যেও যেন উট অনায়াসে চলাচল করতে পারে, সেজন্য উটের চোখে সাধারণ মানুষের মতো দুটি নয়, বরং তিনটি চোখের পাতা (Eyelids) থাকে। এর মধ্যে একটি পাতা এতটাই পাতলা যে, সেটি বন্ধ রাখলেও উট তার চারপাশ স্পষ্ট দেখতে পায়।

৪. রেজর ব্লেড গলিয়ে দেওয়ার মতো পাকস্থলীর অ্যাসিড

মানুষের পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক বা হজম করার জন্য যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) থাকে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। রসায়নের স্কেলে এর পিএইচ (pH) মাত্রা সাধারণত ১ থেকে ২ এর মধ্যে হয়ে থাকে। জীববিজ্ঞানীদের মতে, এই অ্যাসিডের তীব্রতা এতটাই বেশি যে এটি একটি আস্ত স্টিলের রেজর ব্লেডকেও পুরোপুরি গলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে!

৫. মহাকাশে পানি ফোটানোর অদ্ভুত দৃশ্য

সাধারণত পৃথিবীতে যখন আমরা পানি ফুটাই, তখন বাষ্পীভূত হয়ে পানির ফোঁটাগুলো ছোট ছোট বুদবুদ আকারে অনবরত উপরে উঠে আসে। কিন্তু শূন্য মহাকর্ষ বা গ্র্যাভিটিহীন মহাকাশে কেউ পানি ফোটাতে গেলে এমনটা একদমই হবে না। সেখানে উত্তপ্ত পানি ছোট ছোট বুদবুদ হওয়ার পরিবর্তে সবগুলো মিলে একটি মাত্র দানবাকৃতির বা বিশাল ফোঁটায় রূপান্তরিত হবে।

৬. রাতের ঘুম এবং স্বপ্নের গোলকধাঁধা

এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন যিনি রাতে ঘুমানোর পর মাত্র একটি স্বপ্ন দেখেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ প্রতি রাতে ঘুমের মধ্যে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি স্বপ্ন দেখেন। এমনকি কারো কারো ক্ষেত্রে স্বপ্নের এই সংখ্যাটি এক ডজনও (১২টি) ছাড়িয়ে যায়! তবে ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষ তার দেখা স্বপ্নের প্রায় ৯০ শতাংশই ভুলে যায়।

৭. বরফের ক্রিস্টাল বের হওয়া আগ্নেয়গিরি: মাউন্ট ইরেবাস

আগ্নেয়গিরি বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ফুটন্ত লাল লাভা। কিন্তু অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম সচল ও রহস্যময় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ইরেবাস (Mount Erebus)। এই আগ্নেয়গিরিটি অনন্য কারণ এর লাভা হ্রদের উত্তপ্ত গ্যাসের সাথে তীব্র শীতের সংস্পর্শে আসার ফলে এটি থেকে লাভার পাশাপাশি অনবরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফের ক্রিস্টাল বা খণ্ড নির্গত হয়।

৮. ৫ লক্ষ ভূমিকম্পের বার্ষিক পরিসংখ্যান

আমাদের এই শান্ত পৃথিবীর মাটির নিচে টেকটোনিক প্লেটগুলো প্রতিনিয়ত নড়াচড়া করছে। যার ফলে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৫,০০,০০০ (৫ লক্ষ) বার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। তবে আশার কথা হলো, এর মধ্যে আমরা সাধারণ মানুষ মাত্র ১,০০,০০০ (১ লক্ষ) টি টের পেয়ে থাকি এবং এর মধ্যে গড়ে মাত্র ১০০টি ভূমিকম্প পৃথিবীর বুকে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির এই রহস্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নিখিল বিশ্ব কতটা নিখুঁত নিয়মে আবর্তিত হচ্ছে। আপনি যত বেশি জানবেন, প্রকৃতির প্রতি আপনার বিস্ময় ততটাই বেড়ে যাবে।

বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের রহস্য, সমসাময়িক প্রযুক্তি এবং শিক্ষণীয় তথ্যের নিখুঁত ও নিরপেক্ষ আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

আপনার জন্য একটি ফলো-আপ প্রশ্ন: এই ৮টি রোমাঞ্চকর তথ্যের মধ্যে কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি অবিশ্বাস্য বা আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শীর্ষ ধনী

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২০ সালের তালিকার পর থেকে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের অভাবনীয় বৃদ্ধির কারণে তালিকায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

ফোর্বস (Forbes)-এর হালনাগাদ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিশ্বের ১০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সংক্ষিপ্ত তালিকা

র‍্যাঙ্কনামদেশমোট সম্পদ (USD)আয়ের মূল উৎস (কোম্পানি)
ইলোন মাস্ক (Elon Musk)যুক্তরাষ্ট্র~$৮৩৯ বিলিয়নটেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X
ল্যারি পেজ (Larry Page)যুক্তরাষ্ট্র~$২৫৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)যুক্তরাষ্ট্র~$২৩৭ বিলিয়নগুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
জেফ বেজোস (Jeff Bezos)যুক্তরাষ্ট্র~$২২৪ বিলিয়নআমাজন (Amazon)
মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)যুক্তরাষ্ট্র~$২২২ বিলিয়নমেটা / ফেসবুক (Meta / Facebook)
ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)যুক্তরাষ্ট্র~$১৯০ বিলিয়নওরাকল (Oracle)
বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault)ফ্রান্স~$১৭১ বিলিয়নএলভিএমএইচ (LVMH – লুই ভিটন, ডিওর)
জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)যুক্তরাষ্ট্র~$১৫৪ বিলিয়নএনভিডিয়া (Nvidia)
ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)যুক্তরাষ্ট্র~$১৪৯ বিলিয়নবার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
১০আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)স্পেন~$১৪৮ বিলিয়নইন্ডিটেক্স গ্রুপ (Inditex / Zara)

শীর্ষ ধনকুবেরদের বিস্তারিত পরিচয়

১. ইলোন মাস্ক (Elon Musk)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: টেপলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), X (সাবেক টুইটার), নিউরালিংক।
  • বিবরণ: প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।

২. ল্যারি পেজ (Larry Page)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্ব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

৩. সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: গুগল / আলফাবেট (Google / Alphabet)
  • বিবরণ: ল্যারি পেজের সাথে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪. জেফ বেজোস (Jeff Bezos)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: আমাজন (Amazon), ব্লু অরিজিন (Blue Origin), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
  • বিবরণ: ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের তুলনায় তার সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

৫. মার্ক জাকারবার্গ (Mark Zuckerberg)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ২২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: মেটা (Meta Platforms – Facebook, Instagram, WhatsApp)
  • বিবরণ: মেটাভার্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (AI) বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে গত কয়েক বছরে তার মোট সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. ল্যারি এলিসন (Larry Ellison)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ওরাকল কর্পোরেশন (Oracle)
  • বিবরণ: সফটওয়্যার ও ডেটাবেজ টেকনোলজি জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা বাড়ায় তার ক্লাউড ব্যবসার শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে।

৭. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (Bernard Arnault & Family)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এলভিএমএইচ (LVMH – Luxury Goods)
  • বিবরণ: ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার অধীনে লুই ভিটন, সেফোরা, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ বিশ্বখ্যাত ৭৫টিরও বেশি লাক্সারি ব্র্যান্ড রয়েছে।

৮. জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: এনভিডিয়া (Nvidia)
  • বিবরণ: এআই (Generative AI) বিপ্লবের প্রধান কারিগর হিসেবে এনভিডিয়ার চিপ তৈরির কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ ও বিশ্ব তালিকার স্থান নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৯. ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)
  • বিবরণ: বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী, যাকে “ওমাহার জাদুকর” বলা হয়।

১০. আমেনসিও ওর্তেগা (Amancio Ortega)

  • মোট সম্পদ: প্রায় ১৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • প্রধান ব্যবসা: ইন্ডিটেক্স (Inditex – জারা ব্র্যান্ডের মালিক)
  • বিবরণ: ফ্যাশন ও খুচরা বিক্রয় খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা।

২০২০ থেকে বর্তমান তালিকার প্রধান পরিবর্তনসমূহ

  1. টেকনোলজি ও AI খাতের আধিপত্য: তালিকার প্রথম ৮ জনের মধ্যেই সিংহভাগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা।
  2. ইলোন মাস্কের রেকর্ড বৃদ্ধি: ২০২০ সালে তালিকায় শীর্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে টেপলা ও স্পেসএক্সের মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি তালিকার শীর্ষে চলে এসেছেন।
  3. জেনসেন হুয়াং-এর উত্থান: এনভিডিয়ার (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর ও এআই চিপের বিপুল চাহিদার কারণে জেনসেন হুয়াং নতুন করে শীর্ষ ১০ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

(নোট: পুঁজিবাজার ও শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে ধনকুবেরদের এই সম্পদ প্রতিদিন পরিবর্তন হতে পারে।)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বেগ শূন্য

নিউজ ডেস্ক

August 8, 2026

শেয়ার করুন

কোনো বস্তুকে যখন খাড়া বা সোজা ওপরের দিকে ছুঁড়ে মারা হয়, তখন তা একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পর মুহূর্তের জন্য থমকে যায় এবং পুনরায় নিচে নামতে শুরু করে। এই দিক পরিবর্তনের ঠিক আগের মুহূর্তে বস্তুটির উল্লম্ব বেগ হয়ে যায় শূন্য ($0$)

গতিবিদ্যা (Kinematics), নিউটনের গতির সূত্র এবং শক্তি সংরক্ষণশীলতা—এই তিন উপায়ে বিষয়টির পিছনের পদার্থবিজ্ঞান সহজে অনুধাবন করা যায়।

১. অভিকর্ষজ ত্বরণ ও গতিপথের পরিবর্তন

পৃথিবী তার কেন্দ্রমুখী আকর্ষণের মাধ্যমে সব বস্তুকে নিচের দিকে টানে, যা অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g \approx 9.8 \text{ m/s}^2$) হিসেবে কাজ করে।

[ ঊর্ধ্বমুখী বেগ (v > 0) ]  ──► মন্দন (-g) ──►  [ সর্বোচ্চ বিন্দু (v = 0) ]  ──► ত্বরণ (+g) ──►  [ নিম্নমুখী বেগ (v < 0) ]
  • ঋণাত্মক ত্বরণ (মন্দন): বস্তুটি যখন ওপরের দিকে ওঠে, তখন গতির দিক থাকে ওপরের দিকে, কিন্তু অভিকর্ষীয় ত্বরণের দিক থাকে নিচের দিকে। এই বিপরীতমুখী ত্বরণের কারণে প্রতি সেকেন্ডে বস্তুটির বেগ $9.8 \text{ m/s}$ হারে কমতে থাকে।
  • দিক পরিবর্তন বিন্দু: বেগের মান কমতে কমতে এক পর্যায়ে শূন্যে পৌঁছায়। ওপরের দিকে যাওয়া (ধনাত্মক বেগ) থেকে নিচে নামার (ঋণাত্মক বেগ) সন্ধিক্ষণে বেগ অবশ্যই $0$ এর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয়।

২. গতিবিদ্যার সমীকরণ ও গাণিতিক প্রমাণ

গতিবিদ্যার তৃতীয় সমীকরণটি লক্ষ্য করি:

$$v^2 = u^2 – 2gh$$

যেখানে:

  • $u$ = প্রাথমিক নিক্ষেপণ বেগ (Initial Velocity)
  • $v$ = শেষ বেগ (Final Velocity)
  • $g$ = অভিকর্ষজ ত্বরণ ($9.8 \text{ m/s}^2$)
  • $h$ = সর্বোচ্চ উচ্চতা (Maximum Height)

বস্তুটি যখন সর্বোচ্চ উচ্চতায় $h_{max} = \frac{u^2}{2g}$ পৌঁছায়, তখন সমীকরণে $h$-এর মান বসিয়ে পাই:

$$v^2 = u^2 – 2g \left( \frac{u^2}{2g} \right)$$

$$v^2 = u^2 – u^2 = 0$$

$$\therefore v = 0$$

৩. সোজা নিক্ষিপ্ত বস্তু বনাম প্রাসের গতি (Projectile Motion)

সোজা ওপরের দিকে মারা বস্তু এবং কোণ করে মারা প্রাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উচ্চতার বেগের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে:

ক) সোজা ওপরের দিকে নিক্ষিপ্ত বস্তু (1D Motion)

  • উল্লম্ব বেগ ($v_y$): সর্বোচ্চ বিন্দুতে $0$ হয়।
  • অনুভূমিক বেগ ($v_x$): অনুভূমিক কোনো উপাদান না থাকায় $0$ হয়।
  • মোট বেগ ($v$): সম্পূর্ণ শূন্য ($v = 0$)।

খ) কোণ করে নিক্ষিপ্ত বস্তু বা প্রাস (2D Projectile Motion)

  • উল্লম্ব বেগ ($v_y$): অভিকর্ষজ বলের কারণে কমতে কমতে সর্বোচ্চ উচ্চতায় $0$ হয়।
  • অনুভূমিক বেগ ($v_x$): বাতাসে বাধা না থাকলে অনুভূমিক দিকে কোনো বল কাজ করে না। তাই অনুভূমিক বেগ $v_x = u \cos\theta$ অপরিবর্তিত থাকে।
  • মোট বেগ ($v$): সর্বোচ্চ বিন্দুতে মোট বেগ কিন্তু শূন্য নয়, বরং তা অনুভূমিক বেগের সমান হয় ($v = u \cos\theta$)।

৪. শক্তি সংরক্ষণশীলতা নীতি (Conservation of Energy)

শক্তির রূপান্তর বিবেচনা করলেও এই নীতিটি সুস্পষ্ট হয়:

  1. ভূমি থেকে নিক্ষেপের মুহূর্তে: বস্তুর মোট যান্ত্রিক শক্তি থাকে সম্পূর্ণ গতিশক্তি ($E_k = \frac{1}{2}mv^2$) এবং বিভবশক্তি থাকে শূন্য ($E_p = 0$)।
  2. উপরে ওঠার সময়: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে এবং তা বিভবশক্তিতে ($E_p = mgh$) রূপান্তরিত হয়।
  3. সর্বোচ্চ উচ্চতায়: সমস্ত গতিশক্তি সম্পূর্ণরূপে বিভবশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় ($E_k \to 0$)। গতিশক্তি শূন্য হওয়ার অর্থই হলো সেই মুহূর্তে বেগ $v = 0$।

সোজা নিক্ষেপ ও প্রাসের গতিবিদ্যার তুলনা

বৈশিষ্ট্যসোজা ওপরের দিকে নিক্ষেপকোণ করে নিক্ষেপ (প্রাস)
সর্বোচ্চ বিন্দুতে উল্লম্ব বেগ ($v_y$)$0$$0$
সর্বোচ্চ বিন্দুতে অনুভূমিক বেগ ($v_x$)$0$$u \cos\theta$ (ধ্রুবক)
সর্বোচ্চ বিন্দুতে মোট বেগ ($v$)$0$$u \cos\theta$
সর্বোচ্চ বিন্দুতে ত্বরণ ($a$)$g$ (নিচের দিকে)$g$ (নিচের দিকে)

সংক্ষেপে

সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বস্তুটির ওপরের দিকে ওঠা থেমে যায়। গতিপথের দিক পরিবর্তনের ঠিক এই মুহূর্তে বস্তুটির উল্লম্ব বেগ শূন্য হয়, যদিও অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) তখনও নিচের দিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্রিয়াশীল থাকে।

সমুদ্র

নিউজ ডেস্ক

August 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পরিবেশ ও মহাসাগর বিজ্ঞান ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১% অংশ জুড়ে বিস্তৃত মহাসাগর আজ মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে ভয়াবহ হুমকির মুখে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ টন প্লাস্টিক আবর্জনা ড্রেন ও নদীর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে জমা হচ্ছে। সমুদ্রের পানির ঘূর্ণায়মান স্রোতে (Ocean Currents) এসব বর্জ্য এক জায়গায় জমা হয়ে তৈরি করছে বিশালাকার ‘আবর্জনা কুণ্ড’ (Garbage Gyres / Plastic Gyres)। এদের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর অংশে গঠিত ‘গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচ’ (Great Pacific Garbage Patch) আয়তনে বাংলাদেশের বা ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের চেয়েও বহুগুণ বড়।

সমুদ্রের বেশিরভাগ প্লাস্টিক নোনা পানির সমান বা তার চেয়ে কম ঘনত্বের হওয়ায় এগুলো পুরোপুরি তলিয়ে না গিয়ে পানির উপরিভাগে বা প্রথম কয়েক মিটার গভীরতায় ঝুলন্ত অবস্থায় ভাসতে থাকে। কিন্তু কীভাবে এই বিশাল সমুদ্র পরিষ্কার করা সম্ভব? সমুদ্র পরিষ্কারের কাজটিকে প্রধানত ৩টি ধাপে ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়: ভাসমান প্লাস্টিক অপসারণ, অদৃশ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক ছেঁকে তোলা এবং নদী ও উপকূলে উৎস মুখ বন্ধ করা

১. উপরিভাগের মেগা-প্লাস্টিক ও ‘আবর্জনা কুণ্ড’ (Garbage Gyres) অপসারণ

মহাসাগরের উপরিভাগে ভেসে থাকা বা অল্প গভীরে ঝুলন্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে বর্তমানে বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজ করছে:

ক) দ্য ওশান ক্লিনআপ (The Ocean Cleanup)

ডাচ উদ্ভাবক বোয়ান স্ল্যাট (Boyan Slat)-এর প্রতিষ্ঠিত এই সিস্টেমটি বর্তমানে মহাসাগরের প্লাস্টিক অপসারণের সবচেয়ে সফল প্রযুক্তি। এতে একটি দীর্ঘ, ভাসমান ইউ-আকৃতির (U-shaped) ব্যারিয়ার ব্যবহার করা হয়। জাহাজের সাহায্যে এটি সমুদ্রের পানিতে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে প্লাস্টিক এক জায়গায় জড়ো করা হয় এবং পরবর্তীতে মূল জাহাজে তুলে রিসাইকেলিংয়ের জন্য তীরে নিয়ে আসা হয়।

খ) জাহাজে অন-বোর্ড প্রক্রিয়াজাতকরণ (On-board Pyrolysis)

গবেষক পল ম্যানিং (Paul Manning)-এর প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী—সংগৃহীত প্লাস্টিক কষ্ট করে ভূ-ভাগে ফিরিয়ে আনার বদলে সংগ্রহকারী যানের (Ship) ভেতরেই বিশেষ পাইরোলাইসিস (Pyrolysis) যন্ত্রপাতি বসানো হয়। এর মাধ্যমে জাহাজেই উচ্চ তাপে প্রক্রিয়াজাত করে প্লাস্টিক থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল (Fuel Oil) আহরণ করা সম্ভব, যা অভিযানের জ্বালানি খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

গ) সি-বিন প্রযুক্তি (Seabin)

সীমিত বা শান্ত পানিতে (যেমন: সমুদ্রের বন্দর, জেটি বা মেরিনা) ব্যবহারের জন্য সি-বিন একটি কার্যকর ভাসমান ডাস্টবিন। এটি ওয়াটার পাম্পের সাহায্যে পানির উপরিভাগের ভাসমান প্লাস্টিক, ছোট বর্জ্য ও তেলের আস্তরণ টানা ২৪ ঘণ্টা নিজের ভেতরে টেনে নিয়ে ফিল্টার করে।

২. অদৃশ্য ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ দূর করার আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি

সমুদ্রের পানিতে থাকা ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastics) দূর করা আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ জাল বা ব্যারিয়ার দিয়ে এগুলো ছেঁকে তোলা অসম্ভব হওয়ায় বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন:

[ সমুদ্রের পানি ও মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা ]
                   │
                   ├───► ১. ন্যানো-প্রযুক্তি ও চুম্বক : Nano-Fe3O4 কণা + চুম্বক ───────► গুচ্ছ তৈরি করে প্লাস্টিক ছাঁকন
                   │
                   ├───► ২. বায়োরেমিডিয়েশন : PETase এনজাইম ও অণুজীব ─────────► প্লাস্টিকের রাসায়নিক শৃঙ্খল অবক্ষয়
                   │
                   ├───► ৩. সফট রোবোটিক্স : AI চালিত রোবোটিক ফিশ ────────────► ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ন্যানো-নেটে শোষণ
                   │
                   ├───► ৪. সাইক্লোন সেপারেটর : জাহাজের ইঞ্জিনে ঘূর্ণন বল ──────────► কেন্দ্রাতিগ শক্তিতে কণা আলাদা করা
                   │
                   └───► ৫. আল্ট্রাসাউন্ড ওয়েভ : উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ ─────► নির্দিষ্ট লাইনে প্লাস্টিক একত্রিত করা

১. ন্যানো-প্রযুক্তি ও চৌম্বকীয় পৃথকীকরণ (Magnetic Separation)

পানিতে বিশেষ আয়রন ন্যানো-পার্টিকেল ($\text{Nano-Fe}_3\text{O}_4$) ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ন্যানো-কণাগুলো মাইক্রোপ্লাস্টিকের গায়ে আটকে গিয়ে সেগুলোকে গুচ্ছে (Aggregates) পরিণত করে। পরবর্তীতে অত্যন্ত শক্তিশালী বাহ্যিক চুম্বক ব্যবহার করে পানি থেকে প্লাস্টিক কণাগুলোকে সহজে ছেঁকে তোলা হয় (ক্যাপ্টোপ্লাস্টিক বা Captoplastic প্রযুক্তি)।

২. বায়োরেমিডিয়েশন ও প্লাস্টিকখেকো অণুজীব (Bioremediation)

Ideonella sakaiensis নামের বিশেষ ব্যাকটেরিয়া এবং ল্যাবরেটরিতে তৈরি উন্নত PETase এনজাইম মাইক্রোপ্লাস্টিকের কার্বন শৃঙ্খল বা পলিমার ভেঙে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন জৈব উপাদানে রূপান্তর করে। এছাড়া Zalerion maritimum নামক সামুদ্রিক ছত্রাকও পানিতে থাকা প্লাস্টিক প্রাকৃতিকভাবে অবক্ষয়ে ভূমিকা রাখে।

৩. বায়ো-ইন্সপায়ার্ড রোবোটিক ফিশ (AI Soft Robotics)

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) ও গবেষকদের তৈরি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) চালিত এই নরম রোবোটিক মাছগুলো সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি না করে পানিতে সাঁতার কাটে। এগুলো সাঁতার কাটার সময় শরীরে থাকা ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ন্যানো-নেট (Electrostatic Nanonets) দিয়ে অদেখা মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শুষে নেয় এবং পরিষ্কার পানি সাগরে মুক্ত করে।

৪. সাইক্লোন ও সেন্ট্রিফিউগাল সেপারেটর (Centrifugal Separation)

বড় জাহাজের ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখার জন্য যে সমুদ্রের পানি টেনে নেওয়া হয়, সেখানে একটি সাইক্লোন সেপারেটর (Cyclone Separator) বসানো হয়। তীব্র ঘূর্ণন গতির (Centrifugal Force) সৃষ্টি করে পানির চেয়ে হালকা প্লাস্টিক কণাগুলোকে একপাশে জমিয়ে ছাঁকনির (Strainer) সাহায্যে আলাদা করা হয়।

৫. আল্ট্রাসাউন্ড বা অতিশব্দ তরঙ্গ (Acoustic Separation)

পানির মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির আল্ট্রাসাউন্ড বা অতিশব্দ তরঙ্গ প্রবাহিত করলে তা মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলোর ওপর ধ্বনিগত চাপ সৃষ্টি করে। এতে কণাগুলো এক সারিতে জমা হয় এবং মূল পানির স্রোত থেকে খুব সহজেই আলাদা স্ট্রিমের মাধ্যমে বের করে নেওয়া যায়।

৩. ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ ও পরীক্ষা (Lab Testing Workflow)

সমুদ্র থেকে পানি বা সামুদ্রিক মাছের নমুনা সংগ্রহ করে পানিতে প্লাস্টিকের ঘনত্ব এবং পরিষ্কার প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য ল্যাবে কয়েকটি ধাপে নিখুঁত পরীক্ষা চালানো হয়:

ল্যাব পরীক্ষার ধাপব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পদ্ধতিপরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য
১. ডাইজেসশন ও সেপারেশন$\text{H}_2\text{O}_2$ (৩০%) ও $\text{NaCl} / \text{ZnCl}_2$ দ্রবণজৈব কাদা বা মাছের অংশ গলে যায়; ঘনত্বের পার্থক্যে প্লাস্টিক উপরে ভেসে ওঠে।
২. রঞ্জক ও কণা গণনানিল রেড (Nile Red) & ফ্লো সাইটোমেট্রিUV আলোতে প্লাস্টিক কণা তারার মতো জ্বলে ওঠে এবং লেজার দিয়ে সংখ্যা গণনা করা হয়।
৩. পলিমার শনাক্তকরণFTIR ও Raman Spectroscopyইনফ্রারেড ও লেজার রশ্মি দিয়ে প্লাস্টিকটি PET, PE নাকি Nylon তা নিশ্চিত হওয়া।
৪. ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপিSEM-EDS (Scanning Electron Microscope)প্লাস্টিকের ৩D ক্ষয়প্রাপ্ত গঠন এবং গায়ে আটকে থাকা ভারী ধাতু (সিসা, পারদ) পরীক্ষা।

৪. নদী ও উপকূলে উৎস বন্ধের কৌশল

বিজ্ঞানীদের মতে, প্লাস্টিক একবার গভীর সমুদ্রের তলানিতে বা সামুদ্রিক প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করলে তা পুরোপুরি অপসারণ করা অসম্ভব। তাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো সমুদ্রে প্লাস্টিকের প্রবেশ ঠেকানো:

  1. ইন্টারসেপ্টর (Interceptors): বিশ্বের প্রধান প্রধান নদীগুলোর মোহনায় সোলার প্যানেল চালিত ‘ইন্টারসেপ্টর’ সাকশন নৌকা বা ব্যারিয়ার বসিয়ে প্লাস্টিক সমুদ্রে যাওয়ার আগেই আটকে ফেলা হয়।
  2. ওয়েস্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট: ডাঙ্গাভাগের বর্জ্য শোধন প্ল্যান্টগুলোতে অ্যাডভান্সড মেমব্রেন ফিল্টার বা আল্ট্রাফিল্ট্রেশন ব্যবহার করা।
  3. প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন: সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় বন ও লতাগুল্ম প্রাকৃতিকভাবে ডাঙ্গার আবর্জনা সাগরে মিশতে বাধা দেয়।
  4. একক ব্যবহার্য প্লাস্টিক বর্জন: সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকের (Single-use plastic) ব্যবহার বন্ধ করা এবং বর্জ্য রিসাইক্লিং ব্যবস্থা উন্নত করা।

তথ্যসূত্র ও গবেষণাপত্র (Scientific References)

  1. The Ocean Cleanup Research: Slat, B. et al. “Feasibility Study of Remediating the Great Pacific Garbage Patch.” theoceancleanup.com
  2. Microplastic Degradation & Bioremediation: Yoshida, S. et al. (2016). “A bacterium that degrades and assimilates poly(ethylene terephthalate).” Science, 351(6278), 1196-1199. science.org
  3. Magnetic Separation of Microplastics: Captoplastic Environmental Nanotechnology Journal. “Magnetic nanoparticles for microplastic extraction from aqueous environments.” captoplastic.com
  4. FTIR & Raman Spectroscopy Testing: Hidalgo-Ruz, V. et al. (2012). “Microplastics in the marine environment: A review of the methods used for identification and quantification.” Environmental Science & Technology, 46(6), 3060-3075. acs.org
  5. আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ