অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬
“তেরোশত নদী শুধায় আমাকে…”—পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের কবিতার এই পঙক্তিটি আমাদের শৈশব থেকেই পরিচিত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা কত? প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর নিয়ে খোদ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যেই রয়েছে বিশাল মতভেদ। কোনো সংস্থা বলছে ২৩০, কেউ বলছে ৪০৫, আবার কেউ বলছে সংখ্যাটি ৭০০-এর অধিক। কেন এই বিতর্ক? কেন আজ পর্যন্ত আমরা একটি সঠিক পরিসংখ্যান হাতে পেলাম না?
১. বিভিন্ন সংস্থার পরস্পরবিরোধী পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে নদী নিয়ে কোনো সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ গবেষণা না হওয়ায় বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো): ২০০৫ সালে পাউবো তাদের এক প্রকাশনায় নদীর সংখ্যা বলেছিল ৩১০টি। মাত্র ছয় বছর পর ২০১১ সালে পুনরায় গবেষণার পর তারা জানায় এই সংখ্যা ৪০৫টি।
- বাংলাপিডিয়া ও শিশু বিশ্বকোষ: সরকারি অনলাইন তথ্যকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ এবং শিশু একাডেমি প্রকাশিত ‘শিশু বিশ্বকোষে’ নদীর সংখ্যা বলা হয়েছে ৭০০-এর অধিক।
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন: সম্প্রতি নদী রক্ষা কমিশনও নদীর একটি বিশাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে, যেখানে সংখ্যাটি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
২. ২৩০ টি নদীর বহুল প্রচলিত তথ্যের উৎস কী?

সাধারণ মানুষের মাঝে ২৩০টি নদীর তথ্যটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। মূলত স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যপুস্তকগুলোতে এই সংখ্যাটি ব্যবহৃত হতো। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ডিজিটাল ম্যাপিং বলছে, এই সংখ্যাটি বর্তমানে অনেক বেশি।
৩. বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিকদের দৃষ্টিতে নদীর সংখ্যা

গবেষকদের লেখনীতেও নদীর সংখ্যার ভিন্নতা ফুটে উঠেছে:
- অশোক বিশ্বাস তাঁর ‘নদীকোষ’ গ্রন্থে বলেছেন ৭০০+ নদী।
- মোকারম হোসেন ও মোঃ ইনামুল হক তাঁদের পৃথক গ্রন্থে নদীর সংখ্যা উল্লেখ করেছেন ১০০০-এরও বেশি।
- মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন বাংলাদেশে ১০০০-এর অধিক নদী বিদ্যমান।
৪. আঞ্চলিক ভিত্তিতে নদীর বিন্যাস (পাউবো ২০১১ অনুযায়ী)
পাউবো-র ৪০৫টি নদীর হিসাব অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
- উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল: ১১৫টি
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: ১০২টি
- উত্তর-পূর্বাঞ্চল: ৮৭টি
- উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চল: ৬১টি
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: ২৪টি
- পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চল: ১৬টি
৫. আন্তঃসীমান্তীয় নদী: ৫৭ নাকি আরও বেশি?

ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা সাধারণভাবে ৫৭টি হিসেবে স্বীকৃত (যার মধ্যে ৫৪টি ভারত থেকে এবং ৩টি মিয়ানমার থেকে আসা)। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ছোট-বড় অনেক ছড়া ও পাহাড়ি ঢল হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):
নদীর সংখ্যা নিয়ে এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো ‘নদী’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অভাব। অনেক খাল বা মরা নদীকে কেউ নদী বলছেন, আবার কেউ বলছেন না। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ দখলের কারণে অনেক নদী ম্যাপ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, আবার পলি জমে নতুন নতুন শাখা নদী তৈরি হচ্ছে। একটি সঠিক নদী-শুমারি বা ন্যাশনাল রিভার এটলাস (National River Atlas) প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা: বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কেবল তার অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের জন্যই নয়, বরং তার ভৌগোলিক অবস্থানের পেছনে থাকা সুদীর্ঘ ইতিহাসের জন্যও আলোচিত। বুয়েট ক্যাম্পাসের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির সাথে যুক্ত, যা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে আইনি ও সাংস্কৃতিক আলোচনা বিদ্যমান。
ঐতিহাসিক পটভূমি: বিশাল দেবোত্তর সম্পত্তি

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকার অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা。 আদি যুগে এই মন্দিরের সীমানা এবং দেবোত্তর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশাল。 ব্রিটিশ আমল এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে পর্যন্ত মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও ধর্মীয় কাজের জন্য মাইলের পর মাইল বিস্তৃত খোলা জমি, বাগান এবং পুকুর উৎসর্গ করা হয়েছিল。
বুয়েট ক্যাম্পাসের সম্প্রসারণ ও জমি অধিগ্রহণ

১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার জনস্বার্থে এবং শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে。 এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিগ্রহণ করা হয়। বুয়েট ক্যাম্পাসের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম দিকের এলাকা এবং তৎসংলগ্ন আবাসিক হলগুলোর জমি একসময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মালিকানাধীন ছিল。
ক্ষতিপূরণ ও আইনি বিতর্ক
জমির ক্ষতিপূরণ বা বাজারমূল্য পরিশোধের বিষয়টি আজও একটি অমীমাংসিত ঐতিহাসিক অধ্যায়。
- সরকারি নথিপত্র: তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ আইন (Land Acquisition Act)-এর অধীনে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে জমিটি নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়মানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ করা হয়。
- অস্পষ্টতা: ঐতিহাসিকদের মতে, তৎকালীন সময়ে মন্দিরের সেবায়েতরা সেই ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছিলেন কি না বা সেই মূল্যটি তৎকালীন বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে。
- ধর্মীয় আইনি অবস্থান: হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী, দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর করা ধর্মীয় আইনের পরিপন্থী এবং এই জমিগুলো যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বা নামমাত্র মূল্যে নেওয়া হয়েছিল。
বর্তমান বাস্তবতা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া
ঢাকেশ্বরী মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে。 ১. জমি পুনরুদ্ধার: ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দফায় দফায় প্রায় ১.৫ বিঘা জমি সরকার মন্দির কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে。 ২. অ্যাকাডেমিক অবকাঠামো: বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যাওয়া মূল ক্যাম্পাস এলাকার জমিগুলো আর ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ সেখানে এখন স্থায়ী অ্যাকাডেমিক অবকাঠামো বিদ্যমান。 ৩. বিকল্প সুবিধা: সরকার বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের উন্নয়নে অনুদান এবং বিকল্প সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে。
তথ্যসূত্র: ১. ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ঢাকেশ্বরী মন্দির সংরক্ষণ রিপোর্ট ২. ভূমি অধিগ্রহণ আইন ও দেবোত্তর সম্পত্তি বিষয়ক নথিপত্র ৩. বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঐতিহাসিক স্মারকলিপি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণী প্রতিবেদন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা/ওয়াশিংটন/বেইজিং: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় সময় হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরি ও ইরানি মিসাইলের মুখোমুখি অবস্থান, অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনের পক্ষ থেকে মার্কিন স্যাংশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ প্রদান—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই প্রতিবেদনে আমরা এই সংকটের প্রতিটি চরিত্র, তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং আগামীর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করব।
১. হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব অর্থনীতির ‘কণ্ঠনালি’

হরমুজ প্রণালি কেবল একটি জলপথ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন করা হয়।
- ইতিহাস: ঐতিহাসিকভাবে এই প্রণালিটি পারস্য সাম্রাজ্যের অধীনে থাকলেও আধুনিক যুগে এটি ইরান ও ওমানের জলসীমানায় বিভক্ত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান এই প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে আসছে।
- বর্তমান সংকট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ইরান ঘোষণা করেছে যে, ৮০ নটিকেলের ভেতর যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে তারা টার্গেট করবে।
২. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বমঞ্চে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।
- ইতিহাস: আবাসন ব্যবসায়ী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও পরবর্তী সময়ে বর্তমান মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্পের রাজনীতি বরাবরই কঠোর অবস্থান ও অর্থনৈতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল।
- প্রজেক্ট ফ্রিডম: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই প্রকল্পে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’ হবে।
- আর্থিক সমীকরণ: ট্রাম্প এই যুদ্ধ কন্টিনিউ করতে দুবাইয়ের কাছে ৬০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৩. ইরান ও তার অনড় অবস্থান: ইসমাইল বাকেই ও বর্তমান নেতৃত্ব

ইরান এবার কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক কূটনীতিতে বিশ্বাসী।
- ইসমাইল বাকেই: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই সোমবার (৪ মে, যা আগে থেকে নির্ধারিত প্রেক্ষাপটে আলোচিত) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালির একমাত্র রক্ষক।
- ইতিহাস: ১৯৫৩ সালে সিআইএ সমর্থিত ক্যু এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে সংহত করেছে।
- ১৪ দফার প্রস্তাব: ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ১৪ দফার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পরমাণু কর্মসূচি এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
৪. চীনের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ: জি জিনপিং ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থান ওয়াশিংটনের ‘একক পরাশক্তি’ ইমেজে বড় আঘাত হেনেছে।
- ইতিহাস: মাও জে দং-এর বিপ্লব থেকে শুরু করে আজকের জি জিনপিং-এর ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI), চীন সর্বদা তাদের প্রভাব বলয় বিস্তারে কাজ করেছে।
- স্যাংশনের অবমাননা: গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমেরিকা ইরানের তেল বহনকারী চীনা জাহাজ এবং Hengli Petrochemical (Dalian) সহ চীনা রিফাইনারিগুলোর ওপর বড় ধরনের স্যাংশন আরোপ করে।
- অ্যান্টি-ফরেন স্যাংশন ল: বেইজিং প্রথমবারের মতো তাদের ‘ব্লকিং রুলস’ ব্যবহার করে আমেরিকার স্যাংশনকে আইনিভাবে তোয়াক্কা না করার নির্দেশ দিয়েছে। আল-জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, চীন তাদের কোম্পানিগুলোকে স্বাভাবিক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
৫. ডলারের পতন ও পেট্রো-ইউয়ানের উত্থান

বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ঘটছে মুদ্রাবাজারে।
- পেট্রো-ইউয়ান: চীন ও ইরান তাদের তেলের লেনদেনে মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহার শুরু করেছে।
- ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: এটি সরাসরি ডলারের আধিপত্যে চাপ সৃষ্টি করছে। ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি একটি ঐতিহাসিক মোড়, যা ভবিষ্যতে অনেক দেশকে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস যোগাবে।
৬. আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও ইরাক
সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোস্যাল মিডিয়ায় জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। পাকিস্তান এখানে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে এবং ইরানের আটক করা শিপ ‘Toska’ ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রেখেছে।
৭. ভারতের তামিলনাড়ু নির্বাচন ও থালাপতি বিজয়
একই সময়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন এসেছে ভারতের তামিলনাড়ুতে।
- থালাপতি বিজয় (টিভিকে): অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় ১০৭টি আসনে জয়ী হয়ে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
- ইতিহাস: তামিলনাড়ুর রাজনীতি বরাবরই সিনেমার তারকাদের দ্বারা প্রভাবিত (যেমন এমজিআর, জয়ললিতা)। বিজয় সেই ধারার নতুন এবং সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরাধিকারী।
উপসংহার: আমরা কি এক নতুন মাল্টি-পোলার বিশ্বের দিকে যাচ্ছি?
২০২৬ সালের এই সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়। এটি প্রমাণ করছে যে আমেরিকা আর বিশ্বের একমাত্র একক সুপার পাওয়ার নয়। চীনের আইনি অবস্থান, ইরানের সামরিক প্রতিরোধ এবং পেট্রো-ইউয়ানের ব্যবহার বিশ্বব্যবস্থাকে ‘ইউনি-পোলার’ থেকে ‘মাল্টি-পোলার’ ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
পত্রিকা ও টকশো রেফারেন্স:
- আল জাজিরা আন্তর্জাতিক সংস্করণ – ২৭ এপ্রিল ২০২৬।
- ব্লুমবার্গ গ্লোবাল ইকোনমি এনালাইসিস – ২৮ এপ্রিল ২০২৬।
- নিউজ টকশো ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’: ফক্স নিউজ – ২৯ এপ্রিল ২০২৬।
- ইউএস হোম ট্রেজারি বিজ্ঞপ্তি – ২৪ এপ্রিল ২০২৬।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদন | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ অনুসন্ধানী ডেস্ক

ঢাকা: দীর্ঘ ৫৪ বছরের স্বাধীন পথচলায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুদ্ধিজীবী মহল, বিভিন্ন টকশো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসছে— বাংলাদেশের প্রকৃত অবকাঠামোগত ভিত্তি কি পাকিস্তান আমলেই স্থাপিত হয়েছিল? ব্রিটিশদের ২০০ বছরের অবজ্ঞা এবং পরবর্তী ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলের উন্নয়নের পরিসংখ্যান বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এক নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদরা যখন বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের গোড়াপত্তন নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন উঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। সেই আলোচনার সূত্র ধরে এবং ঐতিহাসিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
১. ব্রিটিশ আমলের অবজ্ঞা ও কলকাতার ‘দাদা-বাবু’ সংস্কৃতি

১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭—এই ১৯০ বছরে ব্রিটিশরা পূর্ব বাংলাকে কেবল কাঁচামাল সংগ্রহের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে। কলকাতার প্রভাবশালী ‘দাদা-বাবু’ বা এলিট শ্রেণি কখনোই চায়নি ঢাকা বা পূর্ব বাংলা উন্নত হোক।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২১): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের শান্ত করতে ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ এটি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
- ইতিহাস ও বিরোধিতা: এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী মহল। তাদের যুক্তি ছিল, পূর্ব বাংলার কৃষিনির্ভর মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নেই। কলকাতার তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখার্জি পর্যন্ত এর বিপক্ষে ছিলেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯২১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল ব্রিটিশ আমলের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পাকিস্তান আমলের ২৪ বছর: উচ্চশিক্ষার মহাবিপ্লব

ইতিহাস আমাদের শেখায় পাকিস্তান ২৪ বছর শোষণ করেছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের আধুনিক উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল খাতের মেরুদণ্ড এই ২৪ বছরেই তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ইতিহাস:
পাকিস্তান আমলে মোট ৫টি বড় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়:
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩): উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণের দাবি মেটাতে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ড. ইতরাত হোসেন জুবেরী ছিলেন এর প্রথম উপাচার্য।
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬): প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর কার্যক্রম শুরু করে।
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০): দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি ঢাকার অদূরে সাভারে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮): মূলত ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ কলেজকে ১৯৬৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়, যা আজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১): ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা:
বর্তমানে বাংলাদেশে ৫টি প্রধান সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যার ৪টিই (৮০%) পাকিস্তান আমলের অবদান।
- বুয়েট (BUET – ১৯৬২): ১৮৭৬ সালের সার্ভে স্কুল থেকে ১৯৬২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
- রুয়েট (১৯৬৪), চুয়েট (১৯৬৮), কুয়েট (১৯৬৯): এই আঞ্চলিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে নির্মিত হয়। পরবর্তী ৫০ বছরে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ১টি নতুন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।
৩. চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য খাতের গোড়াপত্তন
ব্রিটিশদের ২০০ বছরে মাত্র ১টি মেডিকেল (ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ১৯৪৬) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিপরীতে পাকিস্তান আমলে ৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়।
নাম ও ইতিহাস:
- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭): বন্দর নগরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কাম কলেজ।
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮): উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্র।
- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২): ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রতিষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান।
- সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২): তৎকালে সিলেট মেডিকেল কলেজ নামে পরিচিত ছিল।
- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩): মিডফোর্ড হাসপাতালের ওপর ভিত্তি করে এটি গড়ে ওঠে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক IPGMR – ১৯৬৬): স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণার জন্য এটি পাকিস্তান আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮): দক্ষিণবঙ্গের মানুষের আস্থার প্রতীক।
- রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০): পাকিস্তান আমলের শেষ বড় উপহার।
৪. বিশেষায়িত ও কারিগরি শিক্ষা
পাকিস্তান আমলে কারিগরি শিক্ষায় যে জোয়ার এসেছিল, তা স্বাধীনতার পরের ৫০ বছরে অনেকটা ম্লান।
- পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে ১৭টি পলিটেকনিক করেছিল। বাংলাদেশ ৫০ বছরে করেছে ৩২টি।
- ক্যাডেট কলেজ: ফৌজদারহাট (১৯৫৮), মির্জাপুর (১৯৬৩), ঝিনাইদহ (১৯৬৩) এবং রাজশাহী (১৯৬৫)—এই ৪টি ঐতিহাসিক ক্যাডেট কলেজ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়।
- বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (১৯৬২): নৌ-অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ার তৈরির জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বুটেক্স – ১৯৫০): এটি ‘ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
৫. শিল্পায়ন ও ভারী অবকাঠামো
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির প্রধান শক্তিগুলো পাকিস্তান আমলের পরিকল্পনার ফসল।
- শিল্পনগরী: তেজগাঁও, হাজারীবাগ এবং খালিশপুর শিল্প এলাকা পাকিস্তান আমলে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়।
- আদমজী জুট মিল (১৯৫১): নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল।
- চন্দ্রঘোনা পেপার মিল (১৯৫৩): এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কল।
- ইস্টার্ন রিফাইনারি (১৯৬৮): দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার যা আজও সচল।
- জাতীয় স্থাপনা: সংসদ ভবন, সচিবালয়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (বর্তমান শাহজালাল) এবং বাইতুল মোকাররম মসজিদ—প্রতিটিই পাকিস্তান আমলের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা।
৬. পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ: বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা
১৯৭১-এর যুদ্ধের পর পাকিস্তান ‘ঘাস খেয়ে হলেও’ পারমাণবিক বোমা তৈরির শপথ নিয়েছিল। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে।
- পারমাণবিক অস্ত্র: ১৭০টি ওয়ারহেড এবং শাহীন-৩ (২৭৫০ কিমি পাল্লার) মিসাইল নিয়ে পাকিস্তান এখন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
- বিমান বাহিনী: জেএফ-১৭ থান্ডার এবং জে-১০সি নিয়ে তারা বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী বাহিনী। সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত।
- কূটনীতি: বর্তমানে পাকিস্তান ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘বিগ প্লেয়ার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিপরীতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নিয়ে যতটা মাতামাতি করেছে, অবকাঠামোগত স্বনির্ভরতা ও আধুনিকায়নে কি ততটা এগোতে পেরেছে? আজ সংসদে আধুনিকতা বড় নাকি চেতনা বড়—তা নিয়ে শত শত অধিবেশন পার হয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার ও পর্যালোচনা
ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়। ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শোষণ এবং ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলের বৈষম্যের গল্প যেমন সত্য, তেমনি এই অঞ্চলের আধুনিক অবকাঠামোর গোড়াপত্তন যে পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল—তাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ব্রিটিশ আমলে যেখানে মাত্র ১২% শিক্ষিত ছিল, পাকিস্তান আমলে তা দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে।
আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের মূল্যায়ন করা উচিত, আমরা কি কেবল আগের আমলের করা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেই দায়িত্ব শেষ করছি, নাকি নতুন প্রজন্মের জন্য প্রকৃত আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পারছি?
তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা: ১. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ঐতিহাসিক ডাটা। ২. ড. এম.এ. রহিম, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭৫৭-১৯৭১)। ৩. আল-জাজিরা ও এনডিটিভি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা রিপোর্ট ২০২৬। ৪. বিগত ২৬-২৮ এপ্রিল ২০২৬-এর টেলিভিশন টকশো ‘ইতিহাসের সত্য’।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



