ইতিহাস

ডেড সি স্ক্রোল: গুহার আঁধারে লুকিয়ে থাকা ৩০০০ বছরের ‘জীবন্ত’ ইতিহাস
ডেড সি স্ক্রোল

নিউজ ডেস্ক

May 2, 2026

শেয়ার করুন

ঐতিহাসিক প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সময়টা তখন ১৯৪৭ এর দিকে। মৃত সাগরের উত্তর-পশ্চিম তীর ঘেঁষে অবস্থিত কুমরান গুহা। এই গুহাতেই পাথর নিক্ষেপ করার খেলায় মত্ত দুই বেদুইন বালক। মেষ চড়ানোর বায়না ধরে প্রায়ই এদিকটায় চলে আসে দুই ভাই মিলে। হঠাৎ বড় একটা পাথর ছোঁড়ার পর অদ্ভুত রকমের শব্দ হলো। প্রথমদিকে তারা মনের ভুল ভেবে উড়িয়ে দিলেও, প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের পর একই রকম শব্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাটির তৈরি কিছু একটা ভেঙে গেছে। দুই বালক খেলা থেমে চুপ করে দাঁড়িয়ে পড়লো।

বাতাসে ভেসে আসা মৃত সাগরের লোনা গন্ধ আর পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া বিকেলের সূর্য চারিদিক করে তুলেছিল রহস্যময়। তখনো সন্ধ্যা হতে অনেক দেরি। তাই এই অদ্ভুত শব্দের উৎস জানার জন্য দুজনে মিলে ঢুকে পড়লো গুহার ভেতর।

সেদিন সেই দুই বালকের সাহসী পদক্ষেপ উন্মোচন করে দিল এক গুপ্ত ইতিহাস। তারা গুহার ভেতর প্রবেশ করে উদ্ধার করলো বড় বড় মাটির পাত্র। পাত্র গুলো উল্টে দিতেই মাটিতে ছড়িয়ে পড়লো অগণিত চামড়ার তৈরি স্ক্রোল। এরকম প্রায় ৭টি বড় পাত্র ভর্তি স্ক্রোল উদ্ধার করলো দুজন মিলে। তখন বাইরের আকাশে সূর্য প্রায় অস্ত যাই-যাই করছে। দুই বালক ছুটে চলে গেল বেদুইন পল্লীর দিকে। চিৎকার করতে লাগলো হাত-পা ছুঁড়ে, “গুপ্তধন! গুপ্তধন!”

বেদুইন সর্দার সব শুনে রাতটা অপেক্ষা করলেন। পরদিন ভোর হতেই দলে দলে কুমরান গুহাতে হানা দিলেন। উদ্ধার করে নিয়ে আসলেন শত শত স্ক্রোল। আশেপাশের সব গুহাতে তল্লাশী চালানো যখন শেষ, তখন বেদুইনদের ঝুলিতে স্ক্রোলের সংখ্যা ৯০০ ছুঁই ছুঁই করছে। জেরুজালেমে তীর্থের উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ জড়ো হতেন। এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে গেলে সবাই বেদুইন পল্লীতে ছুটে আসলেন। এভাবেই মানবসভ্যতার চোখের আড়াল হয়ে থাকা রহস্যময় ডেড সী স্ক্রোল নতুন করে ফিরে আসলো আমাদের মাঝে; সাথে নিয়ে এলো এক অজানা ইতিহাস!

সেই দুই বেদুইন, যারা বাল্যকালে খেলার সময় স্ক্রোলগুলো উদ্ধার করেন।

ডেড সী স্ক্রোল কী?

‘ডেড সী স্ক্রোল’ নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে বিখ্যাত মৃত সাগরের ছবি। নামকরণ থেকে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, স্ক্রোলগুলো সম্ভবত মৃত সাগর থেকে উদ্ধারকৃত অথবা এর সাথে কোন যোগসূত্রতা রয়েছে। কিন্তু এই স্ক্রোলগুলোর নাম প্রথমদিকে ডেড সী স্ক্রোল ছিল না। প্রথমে একে ‘কুমরান গুহার স্ক্রোল’ নামে ডাকা হলেও এর অনুসন্ধানস্থল সকল গুহা মৃত সাগরের তীর ঘেষে অবস্থিত হওয়ায় এর নাম হয়ে যায় ‘ডেড সী স্ক্রোল’।

কুমরান গুহা থেকে অদূরেই অবস্থিত মৃত সাগর দিগন্তের সাথে মিশে আছে।

প্যাপিরাস পাতার তৈরি শক্ত কাগজ এবং বুনো শূকরের চামড়ার উপর গাঢ় কালি দিয়ে লেখা স্ক্রোলগুলো গুহার আঁধার থেকে স্থান পেল প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণাগারে। ততদিনে এতটুকু জানা হয়ে গেছে যে, স্ক্রোলগুলো অতিপ্রাচীন হিব্রু-বাইবেলের পান্ডুলিপি যা হিব্রু, আরমানি আর গ্রিক ভাষায় লেখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বাইবেলের মধ্যে এই স্ক্রোলগুলো প্রাচীনতম।

এখানে জানিয়ে রাখা ভালো, ‘হিব্রু-বাইবেল’ দ্বারা ইহুদি গ্রন্থ তানাখ এর শিপারা এবং খ্রিস্টান ওল্ড টেস্টামেন্টের আনুশাসনিক বাণী সম্বলিত পান্ডুলিপিকে বুঝায়।

তখন এর পাঠোদ্ধারের পাশাপাশি চলছিল নানান জল্পনা-কল্পনা। কে বা কারা এই স্ক্রোলগুলো এই গুহাতে লুকিয়ে রেখেছে? কেন রেখেছে? স্ক্রোলগুলো কি শুধু হিব্রু-বাইবেলেরই অংশ? নাকি রোমাঞ্চকর কিছু লুকিয়ে আছে এর মাঝে?

প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান

প্রথমদিকে বেদুইনরাই ছিলেন একমাত্র অনুসন্ধানকারী। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তারাই সকল স্ক্রোল উদ্ধার করেন। বেদুইনদের কাছে স্ক্রোলগুলো ছিল আয়-উপার্জনের মাধ্যম। তারা শিক্ষিত না হলেও এতটুকু নিশ্চিত ছিলেন যে, এই ধুলিমাখা ছেঁড়া পান্ডুলিপি তাদের কাছে মূল্যহীন হলেও গণ্যমান্য সাহেবরা চড়াদামে কিনে নিবেন। তাদের এই ব্যবসাতে প্রথম হস্তক্ষেপ করে জর্ডানের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ।

তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ল্যাঙ্কেস্টার হার্দিং সকল স্ক্রোল জর্ডান সরকারের অধীনে আনার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। সরকারি অর্থায়নে অনুসন্ধান পুরোদমে চলছিল। কিন্তু বেদুইনরাও থেমে যাননি। তারাও তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক অনুসন্ধান করেন ফরাসী ধর্মযাজক ফাদার রলা দ্য ভুঁ। তিনি সর্বমোট ১১টি গুহা চিহ্নিত করেন এবং এর উৎপত্তিস্থল, মালিকানা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণায় ভূমিকা পালন করেন। ১১টি গুহার মধ্যে ৫টি গুহার বেশিরভাগ স্ক্রোলই তখন বেদুইনদের দখলে ছিল। তারা সেগুলো বিভিন্ন দেশের হিব্রু যাজক এবং ইসরাইলিদের কাছে বিক্রয় করে দেন।

মার স্যামুয়েল এর সেই বিজ্ঞপ্তি।

এর মধ্যে সিরিয়ান বিশপ মার স্যামুয়েল তার ক্রয়কৃত চারটি স্ক্রোল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এই বিজ্ঞপ্তি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রধান ইয়েগাল ইদিনের নজরে আসে। তার পিতা এল সুকেনিক ছিলেন হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক। তিনি ২৫০,০০০ ডলারের বিনিময়ে সেগুলো কিনে নেন। এর পরেই ইসরাইল এবং জর্ডান পৃথক পৃথকভাবে এই স্ক্রোল নিয়ে গবেষণায় নেমে পড়ে।

স্ক্রোল গবেষণায় মগ্ন অধ্যাপক সুকেনিক।

প্রাথমিক প্রশ্নোত্তরের খোঁজে

গবেষকদের প্রথম লক্ষ্য ছিল অতি দ্রুত কিছু প্রাথমিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা। স্বাভাবিকভাবেই তখন সকলের মনে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, কে বা কারা এই স্ক্রোলগুলো এখানে রেখে গেল? কখন লেখা হয়েছিল এই স্ক্রোলগুলো? কী লেখা আছে সেখানে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর বের করার ক্ষেত্রে প্রথম সফলতার মুখ দেখেন ইসরাইলি অধ্যাপক সুকেনিক। তিনি এগুলোর বয়স বের করতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ইহুদিদের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় মন্দির যুগে প্রথম লেখা হয় এই স্ক্রোলগুলো। তবে অন্য বিজ্ঞানীরা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও পরবর্তীতে সুকেনিকের তথ্য সত্য বলে মেনে নেন সবাই। সেই অনুযায়ী সময়টা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী থেকে ১০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। অবাক করা ব্যাপার হলেও সত্য, আধুনিক যুগে কার্বন ডেটিং এর ফলাফলও সুকেনিকের অনুমানকে সমর্থন করে।

কিন্তু কারা এই পাণ্ডুলিপিগুলো সংকলন করেছিলেন, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বিতর্কে লিপ্ত আছেন গবেষকরা। অনেকের মতে, রোমান বাহিনীর হাতে কুমরান এলাকা পতনের পূর্বে এখানে বসবাসরত ইহুদিদের দ্বারা এগুলো সংকলিত। তখন ইহুদিদের চারটি বড় গোত্রের মধ্যে ইসেন সম্প্রদায়ের পণ্ডিতগণ এগুলো সংকলন করেন বলে ধারণা করা হয়। রোমানদের আক্রমণের পর সেগুলো এই গুহার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয় এবং এটাকে ‘মিনি পাঠাগার’ হিসেবে ব্যবহার করেন ইহুদি ধর্মানুসারীরা।

মহামূল্যবান ডেড সী স্ক্রলের একটি পাণ্ডূলিপি।

এছাড়া বাকি গোত্রদেরও বাদ দেয়া হয়নি সম্ভাব্য সংকলকের তালিকা থেকে। আবার অনেকের মতে, এগুলো সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি।

ইসরাইল বিতর্ক এবং স্ক্রোলের পাঠোদ্ধার

বেদুইনদের ব্যবসার সুবাদে ততদিনে স্ক্রোল ছড়িয়ে গেছে বিভিন্ন দেশের গবেষকদের কাছে। যদিও সিংহভাগ স্ক্রোল জর্ডান এবং ইসরাইলের হস্তগত ছিল, কিন্তু বাকিরাও হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন না। বড় বড় গবেষকরা বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার করতে লাগলেন স্ক্রোল ঘেঁটে।

তবে সেগুলো একই তথ্য বিভিন্ন রূপে জানানো ছাড়া তেমন কোন ঝড় তুলতে পারেনি বিশ্ব দরবারে। এক্ষেত্রে ইসরাইলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সবাই।

অপরদিকে ইসরাইলে তখন গবেষকদের মধ্যে প্রশাসনিক কারণে কলহ চলছিল। ড. জন স্ত্রাঙ্গলের নেতৃত্বে হাতেগোণা কয়েকজন গবেষক ছাড়া আর কেউ স্ক্রোল নিয়ে কাজ করার অনুমতি পাননি। এমনকি স্ক্রোল সম্পর্কিত আলোকচিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও ছিল কড়াকড়ি। ১৯৭৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গেজা ভারমেস এটাকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় একাডেমিক কেলেঙ্কারি বলেন।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পাঠোদ্ধার করছেন এক তরুণ গবেষক।

তৎকালীন শীর্ষ গবেষক হার্শেল শ্যাঙ্কস প্রায় তিন দশক ধরে এ নিয়ে আইনী লড়াই করেন। দীর্ঘদিনের লড়াই শেষে ১৯৯১ সালে ইসরাইলের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগীয় প্রধান ইমানুয়েল তভ সর্বপ্রথম স্ক্রোল গবেষণার ফল এবং পাণ্ডুলিপি অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।

এরপর ঝিমিয়ে পড়া গবেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা গেল। কাজে লেগে পড়লেন সবাই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে দ্রুত বেশিরভাগ পাণ্ডুলিপির পাঠ পুনরোদ্ধার সম্ভব হলো। এক এক করে প্রকাশিত হতে থাকলো সকল স্ক্রোলের মার্জিত পাণ্ডুলিপি।

সমস্ত পাণ্ডুলিপিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- বাইবেলিক এবং নন-বাইবেলিক। এর মধ্যে ১০ কপি ঈসায়ী, ৩০ কপি শামের কিতাব এবং ২৫ কপি দ্বিতীয় বিবরণ সম্পর্কিত হিব্রু দলিল রয়েছে। গবেষকদের মতে, স্ক্রোলগুলো মূলত হিব্রু বাইবেলের পান্ডুলিপি হলেও সম্পূর্ণ বাইবেলের The Book of Esther অধ্যায়ের কোনো পান্ডুলিপি এর মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নতুন টেস্টামেন্টের ঈসায়ী থেকে এগুলো ১০০০ বছর পুরাতন। তবে যিশুখ্রিস্টের আগমনবার্তা সম্পর্কিত জশুয়ার ভবিষ্যদ্বাণী হিব্রু শামের কিতাবে রয়েছে, যা এর আগে কোথাও দেখা যায়নি। ওল্ড টেস্টামেন্টের অনেক দূর্লভ ও হারিয়ে যাওয়া তথ্য এই স্ক্রোলের মাধ্যমে জানা সম্ভব হয়েছে। এ থেকে অনেকে ধারণা করেন, খ্রিস্টধর্মের শুরু হয়েছে এই স্ক্রোলগুলোর মাধ্যমে। তবে এই বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিতর্ক চললেও সঠিকভাবে কোন কিছু জানা যায়নি।

আর নন-বাইবেলিক অংশে বিভিন্ন আইন-কানুন, রীতিনীতি, ব্যবসায়িক কাগজপত্র এবং কিছু ব্যক্তিগত পুঁথি রয়েছে। গবেষকদের মতে, কুমরান গুহার বিরানভূমি আগে ঠিক এরকম ছিল না। এখানে বড় সম্প্রদায় বাস করতো। কুমরান নামে গোটা একটা সভ্যতার অস্তিত্বের কথা জানা যায় স্ক্রোল থেকে।

এছাড়া ১৬টি সামরিক চিঠিপত্র পাওয়া যায়, যেগুলো বার কুখবা নামে পরিচিত। ‘বাবাথা’ নামক এক ইহুদির ব্যক্তিগত নথি সম্বলিত কয়েকটি পাণ্ডুলিপিও পাওয়া যায়। নব্যপ্রস্তর যুগের বিভিন্ন হাতিয়ারের অংশবিশেষও উদ্ধার করা হয় বলে জানান গবেষকরা।

প্রায় ৪০% এর মতো স্ক্রোল থেকে পাঠোদ্ধার করা অসম্ভব বলে জানান ইসরাইলি গবেষকগণ। ১৯৯১ সালের নভেম্বর মাসে Biblical Archaeological Society প্রথমবারের মতো পাণ্ডুলিপি বিষয়ক প্রদর্শনীর আয়োজন করে। তবে ১৯৯৪ এর শেষের দিকে ইসরাইলি পুরাতত্ত্ববিদরা পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু গ্রিক পাণ্ডুলিপি কুমরান সম্প্রদায় বহির্ভুত বলে নিশ্চিত হন। তবে সেগুলো ঠিক কোন উদ্দেশ্যে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তার উত্তর এখনো বের করা সম্ভব হয়নি।

সতর্কতার সাথে ভেঙে যাওয়া অংশ জোড়া লাগানো হচ্ছে।

ইসরাইল প্রদত্ত ছবি নিয়ে হান্টিংটন লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ প্রথম কম্পিউটার অ্যানালাইসিস সম্পাদন করেন। এর মাধ্যমে দুর্বোধ্য অনেক পাণ্ডুলিপির নিখোঁজ অংশের সম্ভাব্য পাঠোদ্ধার সম্পন্ন করা হয়।

ডেড সী স্ক্রোলের পাঠোদ্ধারের মাধ্যমে ওল্ড টেস্টামেন্টের অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে, যা র‍্যাবাই তত্ত্ব এবং জুডাতত্ত্বের নতুন দিক উন্মোচন করে। যিশুখ্রিস্টের আগমন এবং প্রাথমিক খ্রিস্টান ধর্মের অনেক অজানা তথ্যও জানা যায়। প্রাচীন ইহুদি ধর্মের সাথে খ্রিস্টানদের ওল্ড টেস্টামেন্ট এর সূক্ষ যোগসূত্রতাও পাওয়া যায় এগুলো থেকে।

রহস্যময় কপার স্ক্রোল এবং গুপ্তধনের সন্ধান

ধর্মীয় স্ক্রোলগুলো ইসরাইলিদের হাতে থাকলেও সবচেয়ে রহস্যময় স্ক্রোল তখন জর্ডানীদের হস্তগত ছিল। অন্যান্য স্ক্রোলের মতো তা প্যাপিরাস পাতা বা চামড়ার উপর লিখিত ছিল না। সেটা লেখা হয়েছিল তামার তৈরি পাতের উপর। যাকে ইতিহাসবিদগণ The Copper Scroll নামে চিনেন

একে পাণ্ডুলিপি বললেও ভুল হবে। কারণ এর মাঝে লেখার সাথে আছে খোদাই করা কয়েকটি মানচিত্র। আসলে এটা ছিল একাধিক গুপ্তধনের নকশা। ১৯৫২ সালে অনুসন্ধান অভিযানের সময় এক জর্ডানী পুরাতত্ত্ববিদ ৩ নং গুহার ভেতর থেকে এটি উদ্ধার করেন।

জাদুঘরে কাঁচের ক্যাবিনেটে রক্ষিত রহস্যময় কপার স্ক্রোল।

জর্ডান সরকার তখন কড়া নিরাপত্তায় স্ক্রোলটিকে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালেগ্রো-এর নিকট প্রেরণ করেন। অ্যালেগ্রো পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে পারেন স্ক্রোলটি একটি গুপ্তধনের মানচিত্র। তিনি তৎক্ষণাৎ স্ক্রোলের রহস্য সমাধানে লেগে যান। পরবর্তীতে জর্ডান সরকারের নির্দেশে ১৯৬০ সালে অ্যালেগ্রোর গবেষণার ফলাফল জার্নাল আকারে প্রকাশ করা হয়।

অ্যালেগ্রোর জার্নালে ঢুঁ মেরে জানা যায় যে, স্ক্রলে মোট ৬৩ টি স্থানের নির্দেশনা রয়েছে। স্ক্রোলের ভাষ্যমতে সেগুলো সোনা আর রুপা বোঝাই করা কুঠুরি, যার সর্বমোট পরিমাণ কয়েক টনের কাছাকাছিও যেতে পারে। স্ক্রোলটি যেন বছরের পর বছর টিকে থাকে সেজন্য এটা তামার পাতের উপর লেখা হয় বলে জানান অ্যালেগ্রো।

স্ক্রোলের নির্দেশনায় স্পষ্টাকারে স্থানগুলোর বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কপার স্ক্রোল থেকে হুবহু অনুবাদ করা আলোচিত একটি লাইন তুলে ধরলাম, “যেখানে লবণের স্তূপ, সেখান থেকে প্রথম সিঁড়ির নিচে চার হাত গভীরে ৪১ টালি রূপা”।

আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কাছে সহজ মনে হলেও গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া এতো সহজ নয়। কারণ, মানচিত্রের এসব নির্দেশনা তখনকার গুহাবাসীদের জন্য লেখা হয়েছিল। কেউ নিজের ঘরের মতো গুহাগুলোকে না চিনলে, তার পক্ষে এই অবস্থানগুলো বের করা প্রায় অসম্ভব। তাই, এখনকার কারো জন্য এত সহজ নয় এর সন্ধান করা। উপরন্তু স্ক্রোল মোতাবেক গুপ্তধনের প্রথম অবস্থানের সাথে বাকিগুলোর যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রথম অবস্থানই বের করা সম্ভব হয়ে উঠেনি

কপার স্ক্রোলের একাংশ।

তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, দুই হাজার বছর আগেই রোমানরা হয়তো সকল গুপ্তধন লুট করে ফেলেছেন। এর পক্ষে প্রমাণও দিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু এই প্রমাণ কি আর অনুসন্ধান থামাতে পারে! এখনো সবধরনের সূত্র নিয়ে পরীক্ষা করে যাচ্ছেন পুরাতত্ত্ববিদরা।

আর এই মহামূল্যবান কপার স্ক্রোল নিয়ে সাহিত্যকরাও মনের মাধুরী মিশিয়ে আপন কল্পনার মাধ্যমে রোমাঞ্চকর অভিযান পরিচালনা করে রচনা করেছেন বেশ কিছু উপন্যাস। এর মধ্যে Nathaniel Norsen Weinreb এর The Copper Scroll এবং Lionel Davidson এর A long way to Shiloh বিখ্যাত।

মালিকানা বিরোধ

প্রথমদিকে ধর্মীয় স্ক্রোল মনে হলেও কপার স্ক্রোলের সন্ধান আরো রোমাঞ্চকর রহস্যের হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাসবিদদের। এরই জের ধরে ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল জর্ডান থেকে প্রায় ১৫০০ এর মতো স্ক্রোল নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। ইসরাইলের রকফেলার জাদুঘরে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয় গবেষণা।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয় যখন ইসরাইল স্ক্রোলগুলোর অনুবাদ প্রকাশ করতে দীর্ঘ ৪০ বছর বিলম্ব করে। এদিকে জর্ডান সরকারও বসে থাকেনি। তারাও বরাবরই জর্ডানকে স্ক্রোলগুলোর বৈধ মালিক হিসেবে দাবি করে আসছে।

কানাডায় ডেড সী স্ক্রোল প্রদর্শনীর একটি কেবিনেট।

বর্তমানে জর্ডানের দখলে রয়েছে কপার স্ক্রোলসহ মাত্র ২৫টি স্ক্রোল! এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিলিস্তিন, কানাডা এবং সিরিয়ার বিভিন্ন গবেষণাগার এবং প্রতিষ্ঠানের নিকট বেশ কয়েকটি স্ক্রোল হস্তগত আছে।

অপরদিকে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ নিরাপত্তা নীতির ২৩৩৪ অনুশাসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Veto প্রদান না করায়, ইসরাইল স্ক্রোলগুলোর অধিকার হারাতে পারেন বলে মনে করেন টাইমস অফ ইসরাইলের বিশেষজ্ঞরা। তবে স্ক্রোলের ব্যাপারে ইসরাইলের মাত্রাতিরিক্ত গোপনীয়তা ব্যাপারটিকে রহস্যময় করে তুলেছে।

২০১০ সালে জর্ডান সরকার কানাডায় ইসরাইল আয়োজিত স্ক্রোল প্রদর্শনী বয়কট করে এবং সেগুলো পুনরায় দখলে নেওয়ার সংকল্প জানায়। বর্তমানে জর্ডান, ইসরাইল , ফিলিস্তিন , কানাডা এবং সিরিয়া স্ক্রোলগুলোর মালিকানার বিষয়ে স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত আছে, যা সমাধা হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখেন না বিশেষজ্ঞরা।

টাইম ম্যাগাজিনের মতে, ডেড সী স্ক্রোল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অনুসন্ধান। রাজনৈতিক বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া খ্যাত ইসরাইলের অতিমাত্রায় গোপনীয়তার কারণে উন্মুক্ত বিশ্ব বঞ্চিত হচ্ছে অজানা সব রোমাঞ্চকর তথ্য থেকে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইল অনুসন্ধানকারী দল ১২ নং গুহার সন্ধান পান বলে দাবি করেন। এর মাধ্যমে গবেষণায় এক নতুন সম্ভাবনার দেখা দেয়। কিন্তু এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি কর্তৃপক্ষ

যতই দিন গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হয়ে পড়ছে রহস্য। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিচরণের যুগে ইসরাইলের এরূপ মনোভাব নিন্দাজনক। তবে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে কোন তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হবে এবং বিশ্বদরবারে উন্মোচিত হবে স্ক্রোলের রহস্য।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স: ১. Dead Sea Scrolls: The Living Manuscripts of the Dead Sea – মূল গবেষণা প্রবন্ধ। ২. Israel Antiquities Authority (IAA) – ডিজিটাল লাইব্রেরি আর্কাইভ। ৩. Biblical Archaeological Society – বিশেষ প্রদর্শনী রিপোর্ট। ৪. ‘ইতিহাসের সন্ধানে’ (টক-শো) – মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্নতাত্ত্বিক রাজনীতি বিষয়ক পর্ব।

সম্পাদনায়: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

তারিক আহমেদ সিদ্দিক

নিউজ ডেস্ক

September 21, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদনের শিরোনাম: ‘আয়নাঘর’, এনটিএমসি ও সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক: আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
  • প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): রাজনীতি, আইন ও মানবাধিকার
  • প্রকাশের তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): ডিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবানবন্দি রেকর্ড, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন ও এনএইচআরসি প্রকাশনা।

‘আয়নাঘর’, এনটিএমসি (NTMC) এবং সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক—এই তিনটি উপাদান বাংলাদেশের বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বলপূর্বক গুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের এক অন্ধকার অধ্যায়ের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই তিন স্তম্ভের পারস্পরিক সংযোগ এবং এর গভীর আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব সর্বসমক্ষে উন্মোচিত হয়।

১. পারস্পরিক সংযোগ: আয়নাঘর, এনটিএমসি ও তারিক সিদ্দিক

বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও গোপন আটক প্রক্রিয়ার একটি ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল:

  • তারিক আহমেদ সিদ্দিক (মাস্টারমাইন্ড): শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং শেখ রেহানার ভাসুর, দৃশ্যত প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। বিভিন্ন তদন্ত ও রিমান্ডে থাকা কর্মকর্তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে গড়ে ওঠা এই গোপন আটক ব্যবস্থা বা ‘আয়নাঘর’ পরিচালনার পেছনে তিনি ছিলেন অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ও নিয়ন্ত্রক।
  • এনটিএমসি (ডিজিটাল ট্র্যাকিং টুল): ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার বা এনটিএমসি-কে (যার সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন) রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতালম্বীদের ওপর ব্যাপক নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হতো। এনটিএমসি-র মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুর ফোন কল রেকর্ড, লোকেশন ও ব্যক্তিগত তথ্য ট্র্যাকিং করা হতো, যা পরবর্তীতে তাদের নিখোঁজ বা গুম করার কাজ সহজ করে দিত।
  • আয়নাঘর (চূড়ান্ত গন্তব্য): এনটিএমসি এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যাদের তুলে নেওয়া হতো, তাদের অনেককেই ডিজিএফআই বা বিশেষ বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এই কুখ্যাত গোপন বন্দিশালায় বছরের পর বছর সম্পূর্ণ যোগাযোগহীনভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো।

২. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিকভাবে এই ত্রয়ী ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহৃত হয়েছিল:

  • ভিন্নমত ও বিরোধী দল দমন: বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, সামরিক বাহিনীর অসন্তুষ্ট কর্মকর্তা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচকদের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিতে এই পরিকাঠামো ব্যবহার করা হয়।
  • কর্তৃত্ববাদী শাসন একীভূতকরণ: গুম ও গুপ্ত আটক কেন্দ্রের অস্তিত্বের ভয়কে চাদর হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে একটি ‘সংস্কৃতি অব ফেয়ার’ বা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, যা টানা ১৫ বছর ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিল: গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজের তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কেবল রাজনৈতিক কারণে নয়, তারিক সিদ্দিক ও তার অনুসারীদের ব্যক্তিগত শত্রুতা ও জমি দখলের মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও মানুষকে তুলে এনে আয়নাঘরে বন্দি রেখে দলিল সই করিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে

৩. আইনি প্রেক্ষাপট ও চলমান বিচার প্রক্রিয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ঘটনাগুলোর বিপরীতে আইনি পদক্ষেপ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে:

  • আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) বিচার: গুম, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তারিক সিদ্দিককে (যিনি বর্তমানে বিদেশে পলাতক বলে ধারণা করা হয়) দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
  • গুম তদন্ত কমিশনের অকাট্য রিপোর্ট: ২০২৬ সালের শুরুতে সরকারের জমা দেওয়া গুম সংক্রান্ত বিশেষ তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলপূর্বক গুমের কাঠামোগত অপরাধের জন্য সরাসরি শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে।
  • সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ব্যাংক হিসাব স্থগিত: মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) তারিক সিদ্দিক ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজীপুর ও ঢাকার প্রায় ১৫ কোটি টাকার জমি ও বহুতল ভবনসহ তার দৃশ্যমান সম্পত্তি ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ জারি করেছে।

উপসংহার:
বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘আয়নাঘর’ ও ‘এনটিএমসি’-র অপব্যবহার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং তারিক আহমেদ সিদ্দিকের মতো শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নির্দেশনায় পরিচালিত এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় অপরাধ। বর্তমানে আইনিভাবে একে “মানবতাবিরোধী অপরাধ” হিসেবে গণ্য করে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

চীন দেশের ১০টি অবিশ্বাস্য

নিউজ ডেস্ক

September 21, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদনের শিরোনাম: চীন দেশের ১০টি অবাক করা ও বিস্ময়কর তথ্য

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)

বিভাগ (Category): বিশ্ব সংস্কৃতি, সাধারণ জ্ঞান ও বৈচিত্র্য

প্রকাশের তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তথ্যসূত্র (Sources): ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO), বিশ্বসংস্কৃতি রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় দেশ চীন। ইতিহাস, ভৌগোলিক ক্ষেত্র ও জনসংখ্যা—সব দিক দিয়েই চীনের অবস্থান বিশ্বমঞ্চে অনন্য। প্রাচ্যের এই বিশাল দেশে এমন বহু ঐতিহ্য ও সামাজিক চর্চা রয়েছে যা বাইরের দেশের মানুষের কাছে যেমন বিস্ময়কর, তেমনই বেশ কৌতুহল উদ্দীপক।

চীন দেশ সম্পর্কে ১০টি অবাক করা ও বিস্ময়কর তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

  • এক টাইম জোন: বিশাল আয়তনের দেশ হওয়া সত্ত্বেও পুরো চীনে মাত্র একটি টাইম জোন (Beijing Time) চালু রয়েছে। এর ফলে দেশের পশ্চিম প্রান্তে সকালের সূর্য উঠতে অনেক সময় সকাল ১০টা বেজে যায়।
  • বর্ণমালা ছাড়াই ভাষা: চীনা ভাষার কোনো বর্ণমালা বা অ্যালফাবেট নেই। এর বদলে হাজার হাজার পিকটোগ্রাফিক ক্যারেক্টার বা চিত্রভিত্তিক বর্ণ ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ ক্যারেক্টার জানতে হয়।
  • গুহায় বসবাস: আধুনিক যুগেও চীনের লক্ষ লক্ষ মানুষ (প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি) ঐতিহ্যগতভাবে পাহাড়ি অঞ্চলের গুহায় বা মাটির নিচে তৈরি বিশেষ ধরনের বাড়িতে বসবাস করেন।
  • বিশ্বের দীর্ঘতম রেল নেটওয়ার্ক: চীনের হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক এতটাই বিশাল যে এর রেলপথ দিয়ে পৃথিবীকে প্রায় চারবার পেঁচিয়ে ফেলা সম্ভব।
  • প্রাচীরের দৈর্ঘ্য: বিখ্যাত গ্রেট ওয়াল অব চায়না-এর মূল দৈর্ঘ্য প্রায় ২১,১৯৬ কিলোমিটার, যা মানবসৃষ্ট প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
  • বর্ষার রঙ সাদা: পশ্চিমা সংস্কৃতির মতো চীনে কালো নয়, বরং সাদা রঙকে শোক, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দুঃখের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
  • টয়লেট পেপারের প্রচলন: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে চীনে প্রথম টয়লেট পেপারের ব্যবহার শুরু হয়, যা সে সময় শুধুমাত্র রাজপরিবারের সম্রাট ও তাদের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।
  • পাহারায় রাজহাঁস: চীনের অনেক পুলিশ স্টেশন ও খামারে কুকুরের পাশাপাশি বা বিকল্প হিসেবে পাহারাদার হিসেবে রাজহাঁস ব্যবহার করা হয়। হাঁসের দৃষ্টিশক্তি ও তীক্ষ্ণ শব্দ করার ক্ষমতা বেশ কার্যকর।
  • চপস্টিকের ব্যবহার: চীনে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ বিলিয়ন বা সাড়ে চার হাজার কোটি চপস্টিক ব্যবহার করা হয়, যার বেশিরভাগই কাঠের তৈরি।
  • প্রাচীন আবিষ্কার: বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল, ঘুড়ি ও কম্পাসের আদি রূপ প্রাচীন চীনেই প্রথম উদ্ভাবিত হয়েছিল।

প্রাচীন ইতিহাস ও রাজবংশ সম্পর্কে আর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে আমাকে বিস্তারিত

চীনের প্রাচীন ইতিহাস ও রাজবংশ এবং আধুনিক যুগে এসে তাদের যে অভাবনীয় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর ঘটেছে, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম এক বিস্ময়। নিচে দুটি বিষয়ই বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্রাচীন ইতিহাস ও রাজবংশ (Ancient History & Dynasties)

চীনের সভ্যতাকে পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং ধারাবাহিক সভ্যতা বলা হয়। প্রায় ৫,০০০ বছর আগে হলুদ নদী (Yellow River) বা হুয়াং হো নদীর অববাহিকায় এই সভ্যতার সূচনা ঘটেছিল। চীনের ইতিহাস মূলত বিভিন্ন শক্তিশালী রাজবংশের উত্থান ও পতনের মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়েছে:

  • শিয়া ও শাং রাজবংশ (Xia & Shang Dynasty): শিয়া রাজবংশকে চীনের প্রথম কিংবদন্তি রাজবংশ ধরা হলেও, শাং রাজবংশ (১৬০০–১০৪৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) থেকে চীনের লিখিত ইতিহাসের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এই যুগেই প্রথম চিনা লিপির আদি রূপ আবিষ্কৃত হয়।
  • ঝৌ রাজবংশ (Zhou Dynasty): এটি চীনের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় (প্রায় ৮০০ বছর) শাসন করা রাজবংশ। এই যুগেই চীনের বিখ্যাত দুই দার্শনিক কনফুসিয়াস এবং লাও জে (তাওবাদের প্রতিষ্ঠাতা) তাদের দর্শন প্রচার করেন, যা চিনা সমাজকে চিরতরে বদলে দেয়।
  • কিন রাজবংশ (Qin Dynasty): মাত্র ১৫ বছর টিকলেও এই রাজবংশের রাজা কিন শি হুয়াং ২২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে টুকরো টুকরো চীনকে একত্রিত করে প্রথম চিনা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নাম থেকেই ‘চায়না’ বা ‘চীন’ নামের উৎপত্তি। তিনি মুদ্রা, ওজন ও পরিমাপের একক এক করেন এবং বহিরাগত আক্রমণ ঠেকাতে গ্রেট ওয়াল বা চীনের প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।
  • হান রাজবংশ (Han Dynasty): (২০৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ – ২২০ খ্রিষ্টাব্দ) একে চীনের ইতিহাসের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়। এই সময়েই এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যের মূল পথ সিল্ক রোড (Silk Road) প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া কাগজ আবিষ্কার এবং সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা পদ্ধতির সূচনা এই বংশেরই অবদান।
  • ট্যাং ও সং রাজবংশ (Tang & Song Dynasty): ট্যাং আমলে কবিতা ও শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটে এবং সং আমলে বারুদ, কম্পাস ও কাঠের ব্লকে মুদ্রণ পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়, যা বিশ্বের ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
  • মিং ও কিং রাজবংশ (Ming & Qing Dynasty): মিং রাজবংশ (১৩৬৮–১৬৪৪) চীনের প্রাচীরের আধুনিক সংস্করণ এবং বেইজিংয়ের বিখ্যাত ‘ফরবিডেন সিটি’ তৈরি করে। আর কিং রাজবংশ (১৬ party–১৯১২) ছিল চীনের শেষ রাজবংশ, যার পতনের মধ্য দিয়ে চীনে ২,০০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ১৯১২ সালে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

আধুনিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি

১৯৪৯ সালে মাও সেতুং-এর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (PRC) গঠিত হওয়ার পর দেশটি সমাজতান্ত্রিক ধারায় চলতে থাকে। তবে ১৯৭৮ সালে লিডার দং শিয়াওপিং-এর “সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ” (Reform and Opening-up) নীতির পর চীনের অর্থনীতিতে এক অলৌকিক পরিবর্তন আসে। [

অর্থনৈতিক রূপান্তর:

  • বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি: গত চার দশকে চীন প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক রেকর্ড। বর্তমানে জিডিপির (GDP) দিক থেকে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র।
  • বিশ্বের কারখানা (The World’s Factory): সস্তা শ্রম, উন্নত অবকাঠামো এবং বিশাল উৎপাদন ক্ষমতার কারণে পৃথিবীর সিংহভাগ ইলেকট্রনিক্স, পোশাক ও ভারী যন্ত্রপাতি চীনেই তৈরি হয়।
  • বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI): প্রাচীন সিল্ক রোডের আদলে চীন বিশ্বের শতাধিক দেশের সাথে সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে。

প্রযুক্তিগত আধিপত্য:

বর্তমান যুগে চীন কেবল পণ্য নকল বা সস্তা উৎপাদনের দেশ নয়, বরং তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে:

  • টেলিকমিউনিকেশন ও ৫জি (5G): অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (ASPI)-এর গবেষণা অনুযায়ী, ৪৪টি জটিল ও উদীয়মান প্রযুক্তির মধ্যে ৩৭টিতেই চীন বিশ্বে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ৫জি ইন্টারনেট অবকাঠামোতে তারা একক আধিপত্য বজায় রেখেছে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতি (AI & Digital Economy): ফেসিয়াল রিকগনিশন, এআই (AI) চালিত অ্যালগরিদম এবং বিগ ডেটা ব্যবহারে চীন অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। হুয়াওয়ে (Huawei), আলিবাবা (Alibaba) এবং টেনসেন্ট (Tencent)-এর মতো টেক জায়ান্টরা এখন সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলোকে টক্কর দিচ্ছে।
  • গ্রিন এনার্জি ও ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV): জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে চীন বিশ্বের বৃহত্তম সৌর প্যানেল, উইন্ড মিল এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদনকারী দেশ। বিওয়াইডি (BYD) এর মতো চিনা কোম্পানি এখন বিশ্ব বাজারে টেসলার অন্যতম বড় প্রতিযোগী।
  • মহাকাশ ও মেগা-ইঞ্জিনিয়ারিং: চীন নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং’ (Tiangong) তৈরি করেছে এবং চাঁদের দুর্গম দূরবর্তী অংশে (Far Side of the Moon) রোভার পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু, বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্ক এবং বিশাল সব ড্যাম (যেমন- থ্রি গর্জেস ড্যাম) তাদের মেগা-ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষমতার প্রমাণ。

বিখ্যাত কনফুসীয় দর্শন বা চীনের প্রাচীর নির্মাণের পেছনের গল্প

কনফুসীয় দর্শন এবং চীনের প্রাচীর—এই দুটিই চীনের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির মূল স্তম্ভ। এর একটি মানুষের মন ও সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, আর অন্যটি বাইরের শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। নিচে এই দুটির পেছনের গল্প বিস্তারিত দেওয়া হলো:

বিখ্যাত কনফুসীয় দর্শনের গল্প (The Story of Confucianism)

খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে (৫৫১–৪৭৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) চীনে যখন ঝৌ রাজবংশ শাসন করছিল, তখন চিনা সমাজ মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই অশান্ত সময়ে আবির্ভূত হন চিনের সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ও শিক্ষক কনফুসিয়াস (চিনা নাম: কোং কিউ)।

দর্শনের পেছনের মূল উদ্দেশ্য:

কনফুসিয়াস কোনো নতুন ধর্ম প্রচার করেননি। তিনি চেয়েছিলেন সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে। তাঁর মতে, সমাজকে যদি সুন্দর করতে হয়, তবে মানুষকে ভেতর থেকে সৎ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

কনফুসীয় দর্শনের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভগুলো:

  • রেন (Ren – মানবতা ও পরোপকার): মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দয়া এবং সহমর্মিতা থাকতে হবে। এটিই চিনা সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।
  • শাও (Xiao – সন্তানসুলভ ভক্তি): পরিবারের বড়দের, বিশেষ করে বাবা-মার প্রতি সন্তানদের পরম শ্রদ্ধা ও বাধ্য থাকা। কনফুসিয়াস মনে করতেন, পরিবারে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তবে রাষ্ট্রেও শান্তি বজায় থাকবে。
  • লি (Li – আচার-অনুষ্ঠান ও সদাচরণ): সমাজে বা রাষ্ট্রে কার কী ভূমিকা (যেমন: শাসকের প্রতি প্রজার, শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের দায়িত্ব) তা যথাযথভাবে পালন করা এবং ভদ্রতা বজায় রাখা।
  • সৎ শাসক: কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন, একজন রাজাকে অবশ্যই নৈতিকভাবে নিখুঁত হতে হবে। রাজা যদি প্রজাদের প্রতি দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ হন, তবে প্রজারাও রাজাকে শ্রদ্ধা করবে এবং রাজ্যে কোনো বিদ্রোহ হবে না।

ঐতিহাসিক মোড়: প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং এই দর্শনকে নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং কনফুসীয় বই পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী হান রাজবংশের আমলে একে চীনের রাষ্ট্রীয় দর্শন হিসেবে গ্রহণ করা হয়। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে চীনের রাজকীয় আমলাতন্ত্র ও সরকারি চাকুরির পরীক্ষা এই কনফুসীয় দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হতো।

চীনের প্রাচীর নির্মাণের পেছনের গল্প (The Story of the Great Wall)

অনেকেই মনে করেন চীনের প্রাচীর একবারে বা একটি নির্দিষ্ট রাজবংশের আমলে তৈরি হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। এটি মূলত ২,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন রাজবংশের টুকরো টুকরো কাজের এক বিশাল সমষ্টি।

নির্মাণের পেছনের আসল কারণ:

চীনের উত্তর সীমান্তে ছিল মঙ্গোলিয়া ও মাঞ্চুরিয়ার বিশাল বিস্তীর্ণ তৃণভূমি (Steppes)। সেখানে বসবাস করত যাযাবর ও দুর্ধর্ষ যুদ্ধবাজ উপজাতিরা (যেমন: শিয়ংনু, মঙ্গোল)। কৃষিপ্রধান এবং উন্নত চিনা সাম্রাজ্যগুলোতে এই যাযাবর ঘোড়সওয়াররা প্রায়ই আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে ধন-সম্পদ, ফসল ও গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যেত। এই যাযাবর দস্যুদের হাত থেকে চিনা সীমান্ত ও প্রাচীন বাণিজ্যের মূল পথ সিল্ক রোড রক্ষা করাই ছিল প্রাচীর নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য।

যেভাবে শুরু ও শেষ হয়েছিল:

  • টুকরো দেয়াল (৭ম খ্রিষ্টপূর্বাব্দ): প্রাচীন চীনের ছোট ছোট রাজ্যগুলো নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিজ নিজ সীমান্তে ছোট ছোট মাটির দেয়াল তৈরি করেছিল।
  • একত্রীকরণ (২২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ): চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং পুরো চীনকে একত্রিত করার পর ভেতরের রাজ্যগুলোর দেয়াল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। তিনি উত্তরের যাযাবরদের ঠেকাতে পূর্বের তৈরি টুকরো দেয়ালগুলোকে একসাথে জুড়ে দিয়ে একটি বিশাল প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরির কাজ শুরু করেন। এটিই ছিল গ্রেট ওয়ালের প্রথম আদি রূপ।
  • আধুনিক রূপ (১৩৬৮–১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ): আজ আমরা পর্যটক হিসেবে পাথরের তৈরি যে সুন্দর ও মজবুত প্রাচীর দেখতে পাই, তা মূলত মিং রাজবংশের আমলে তৈরি। মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের বংশধরদের আক্রমণ ঠেকাতে তারা ইট ও পাথর দিয়ে ওয়াচটাওয়ারসহ এই আধুনিক প্রাচীর নির্মাণ করে।

“বিশ্বের দীর্ঘতম কবরস্থান” এর ট্র্যাজেডি:

প্রাচীর নির্মাণের পেছনের গল্পটি যেমন বীরত্বের, তেমনই চরম নিষ্ঠুরতার। সম্রাট কিন শি হুয়াং এই প্রাচীর তৈরির জন্য দেশের লাখ লাখ সাধারণ কৃষক, অপরাধী এবং বন্দি সেনাদের জোরপূর্বক উত্তর সীমান্তে পাঠাতেন।

পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চল, হাড়কাঁপানো শীত, খাদ্যাভাব এবং প্রচণ্ড শারীরিক খাটাখাটুনির কারণে প্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। লোককথা অনুযায়ী, যেসব শ্রমিক কাজ করতে করতে মারা যেতেন, তাদের মৃতদেহ অন্য কোথাও না নিয়ে প্রাচীরের ভেতরেই মাটি চাপা দেওয়া হতো। এই চরম মানবিক ট্র্যাজেডির কারণে চীনের প্রাচীরকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “বিশ্বের দীর্ঘতম কবরস্থান” (The World’s Longest Cemetery) বলা হয়ে থাকে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

পৈতৃক শিকড়

নিউজ ডেস্ক

September 20, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): ইতিহাস, রাজনীতি ও বায়োগ্রাফি
  • প্রকাশের তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): প্রখ্যাত রাজনৈতিক ইতিহাস নথিপত্র, আর্কাইভাল রেকর্ড ও পারিবারিক ইতিহাস গাইড।

একটি পরিবারের বা ব্যক্তির পৈতৃক শিকড়, জন্মস্থান, কর্মস্থল, স্থায়ী বসবাস এবং মৃত্যুর পর সমাহিত হওয়ার স্থান—এই বিষয়গুলো ইতিহাস ও জীবনযাত্রার ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় নির্দেশ করে। চাকরি, ব্যবসা, রাজনীতি কিংবা দেশভাগের মতো ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনধারা স্থানান্তরিত হওয়া ইতিহাসজুড়ে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের পারিবারিক ইতিহাস এবং তাঁর দাদা-দাদির করাচিতে সমাহিত হওয়ার মূল কারণও এই ঐতিহাসিক ও পেশাগত পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।

    ১. পৈতৃক শিকড় ও পরিবারের ধারাবাহিকতা

    বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক পরিবার মূলত বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

    • পৈতৃক মূল রূপরেখা: জিয়াউর রহমানের নিজের দাদা মৌলভী কামালউদ্দিন মণ্ডল বগুড়ার মহিষাবান এলাকা থেকে বাগবাড়ীতে আগমন করেন এবং মেহেরুন্নিসাকে বিয়ে করেন। তিনি বাগবাড়ী মাইনর স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
    • জিয়াউর রহমানের জন্ম: ১৯৩৬ সালে জিয়াউর রহমান বগুড়ার বাগবাড়ীতেই জন্মগ্রহণ করেন।
    • মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন: জিয়াউর রহমানের বাবা মনসুর রহমান ছিলেন পেশায় একজন রসায়নবিদ এবং তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

    ২. দেশভাগ, চাকরি ও করাচিতে স্থানান্তরের প্রেক্ষাপট

    মনসুর রহমান ব্রিটিশ আমলে কলকাতার একটি সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    • দেশভাগের প্রভাব (১৯৪৭): ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হলে মনসুর রহমান সরকারি চাকরি সূত্রে এবং পরিবারসহ তৎকালীন পাকিস্তানের নতুন রাজধানী করাচিতে স্থানান্তরিত হন।
    • জিয়াউর রহমানের শৈশব ও শিক্ষা: জিয়াউর রহমানও তখন বাবার কর্মস্থল সূত্রে করাচিতে যান এবং সেখানেই তাঁর স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
    • কবরের অবস্থান: ১৯৪৭ সালের পর মনসুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খাতুন (তারেক রহমানের দাদা ও দাদি) করাচীতেই স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁদের দাফন করাচিতে সম্পন্ন হয়।

    ৩. ইতিহাসে পৈতৃক শিকড় ও দাফনের স্থানের বৈচিত্র্যের নজির

    পৈতৃক শিকড় বা জন্মভূমি এক জায়গায়, কিন্তু জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে দাফন বা শেষ শয্যা অন্য দেশে হওয়া ইতিহাসে কোনো বিরল ঘটনা নয়। মানব ইতিহাসের হাজার বছর ধরে যুদ্ধ, রাজনৈতিক নির্বাসন, সাম্রাজ্য বিস্তার, পেশাগত কারণ এবং দেশভাগের মতো ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন বৈচিত্র্য দেখা গেছে।

    ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বপৈতৃক শিকড় / জন্মস্থানশেষ জীবন / সমাহিত হওয়ার স্থান
    কাজী নজরুল ইসলামচুরুলিয়া, বর্ধমান (ভারত)ঢাকা, বাংলাদেশ
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরপূর্ববঙ্গের জমিদারি অঞ্চল (শিলাইদহ/শাহজাদপুর)কলকাতা, ভারত
    শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক-এর পরিবার: শিকড় বাকেরগঞ্জ (বরিশাল), চাচার কবর কলকাতায়বরিশালবাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের পৈতৃক শিকড় বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল (তৎকালীন বাকেরগঞ্জ) অঞ্চলে হলেও তাঁর চাচা ও ওস্তাদ ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দি সুরাওয়ার্দীর মতো পরিবারের অনেক সদস্যের কর্মজীবন ও শেষ শয্যা হয়েছিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার রাজধানী কলকাতায়। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী এবং বড় শহরের কেন্দ্রিকতার কারণে এটি ঘটেছিল।
    মুহাম্মদ আলী জিন্নাহগুজরাট (ভারত)করাচি, পাকিস্তান
    হযরত ইব্রাহিম (আ.)মেসোপটেমিয়া (ইরাক)হেবরন (ফিলিস্তিন/ইসরায়েল)

    ইতিহাসের পাতা থেকে পৈতৃক শিকড় ও দাফনের স্থানের বৈচিত্র্যের আরো ৪ টি উল্লেখযোগ্য নজির নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর: পৈতৃক শিকড় দিল্লি, দাফন ইয়াঙ্গুন (মিয়ানমার)

    মুঘল রাজবংশের পৈতৃক শিকড় ছিল ভারতের দিল্লি এবং আগ্রা কেন্দ্রিক। তবে সিপাহি বিদ্রোহের (১৮৫৭) পর ব্রিটিশরা শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বর্তমান ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমার) নির্বাসিত করে। ১৮৬২ সালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং ব্রিটিশরা অত্যন্ত গোপনে একটি গ্যারিসনের কাছে তাঁকে সমাহিত করে। বর্তমান যুগেও তাঁর মাজার মিয়ানমারে একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান।

    ২. বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন: পৈতৃক শিকড় জার্মানি, শেষকৃত্য নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)

    সর্বকালের অন্যতম সেরা এই বিজ্ঞানীর পৈতৃক শিকড় ও জন্ম ছিল জার্মানিতে। তবে ১৯৩০-এর দশকে নাৎসি বাহিনীর উত্থান এবং ইহুদি নিধনের প্রেক্ষাপটে তিনি জার্মানি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে নিউ জার্সির প্রিন্সটনে তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো জাঁকজমকপূর্ণ কবর না বানিয়ে মৃতদেহ পুড়িয়ে ছাই বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

    ৩. কার্ল মার্ক্স: পৈতৃক শিকড় জার্মানি, দাফন লন্ডন (যুক্তরাজ্য)

    সমাজতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা কার্ল মার্ক্সের পৈতৃক শিকড় ও জন্ম ছিল জার্মানির প্রুশিয়ায়। তাঁর বৈপ্লবিক রাজনৈতিক লেখার কারণে তিনি জার্মানি, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম থেকে বহিষ্কৃত হন। জীবনের শেষ তিন দশক তিনি লন্ডনে কাটান এবং ১৮৮৩ সালে সেখানেই মারা যান। লন্ডনের বিখ্যাত হাইগেট সেমেটারিতে (Highgate Cemetery) তাঁর সমাধি অবস্থিত।

    ৪. মুঘল সম্রাট বাবর: পৈতৃক শিকড় ফারগানা (উজবেকিস্তান), জন্ম ও মৃত্যু ভারত, চূড়ান্ত দাফন কাবুল (আফগানিস্তান)

    মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের পৈতৃক শিকড় ছিল মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তানের ফারগানা উপত্যকায়। তিনি ভারত জয় করে সাম্রাজ্য গড়েন এবং ১৫৩০ সালে ভারতের আগ্রায় মারা যান। প্রথমে তাঁকে আগ্রার আরামবাগে দাফন করা হলেও, তাঁর পূর্ব ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তীতে তাঁর দেহাবশেষ আফগানিস্তানের কাবুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং “বাগ-ই-বাবর” (বাবরের বাগান) নামক স্থানে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করা হয়।


    এই বৈচিত্র্যের মূল কারণগুলো কী কী?

    • ভূ-রাজনৈতিক সীমানা পরিবর্তন: ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ বা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার মতো ঘটনার কারণে বহু মানুষের পৈতৃক ভিটা এক দেশে আর বর্তমান নাগরিকত্ব বা শেষ ঠিকানা অন্য দেশে পরিণত হয়েছে।
    • পেশাগত স্থানান্তর: ব্রিটিশ আমল বা পাকিস্তান আমলে চাকুরিসূত্রে এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে গিয়ে স্থায়ী হয়েছেন এবং সেখানেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
    • রাজনৈতিক নির্বাসন: ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা যুদ্ধের কারণে ইতিহাসের বহু রাজপরিবার বা রাজনৈতিক নেতাকে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে এবং সেখানেই সমাহিত হতে হয়েছে।

    মূল নির্যাস

    পৈতৃক শিকড়, জন্মস্থান, বসবাসের স্থান, কর্মস্থল, মৃত্যুর স্থান এবং সমাহিত হওয়ার স্থান—এই ছয়টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কোনো ব্যক্তির পরিবারের কেউ ভিন্ন দেশে সমাহিত হওয়া মানে এই নয় যে তাঁর ঐতিহাসিক বা পারিবারিক পৈতৃক শিকড় বদলে গেছে। তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও বগুড়া তাঁর বংশানুক্রমিক পৈতৃক মাটি, আর করাচীতে তাঁর দাদা-দাদির সমাহিত হওয়াটা ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং সরকারি চাকরির ঐতিহাসিক স্থানান্তরের একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা।

    আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

    ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ