ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আপনি শুনে হয়তো অবাক হবেন, পৃথিবীর একমাত্র দ্বীপ যেখানে এখনো বহির্বিশ্বের মানুষের আগমন ঘটেনি সেটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত যার নাম সেন্টিনেল আইল্যান্ড। আর আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, সবাই সে দ্বীপের কথা জানার পরেও সেখানে যাওয়ার সাহস পায় না। কেন?
আসুন জেনে নেয়া যাক।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঠিক সামান্য দূরে, বঙ্গোপসাগরের গভীর নীল জলের মধ্য দিয়ে একটি ছোট দ্বীপপুঞ্জ যা ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি অংশ, এই দ্বীপপুঞ্জের ৫৭২ দ্বীপ ই ভারতের দখলে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সেন্টিনেল আইল্যান্ড।
অনেকে এই দ্বীপটিতে গিয়ে আর ফেরত আসেননি। কথিত আছে, ঐ দ্বীপে নরমাংসভোজীরা বসবাস করে। তাই কোনো বহিরাগতরা সেখানে গেলেই তাদেরকে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হতে হয়।
দক্ষিণ আন্দামান দ্বীপের ওয়ানদুর শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে উত্তর সেন্টিনেল। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। অনুমান করা হয়, বিশ্বের শেষ উপজাতি ‘সেন্টিনেলিজ’-দের বাস এখানে।ধারণা করা হয়, ঐ দ্বীপের বাসিন্দারা আধুনিক সভ্যতার থেকে ৬০,০০০ বছর পিছিয়ে আছে। তারা এখনো প্রস্তর যুগে (Stone Age) বাস করছে।
এই উপজাতি গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ঠিক কেমন, সেই বিষয়ে খুব কম ধারণাই রয়েছে বাইরের মানুষের। যার প্রধান কারণ —ঐ দ্বীপের দুর্গম প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং উপজাতিদের হিংস্র আচরণ। বছরের পর বছর নজর রেখে তাঁদের সম্পর্কে খুব সামান্যই ধারণা করতে পেরেছেন নৃতত্ত্ববিদরা।
জানা গেছে, নিজেদের ঘেরাটোপের বাইরের জগতটা যেমন তাদের কাছে অজানা, তেমনি নিজেদের পরিসীমার বাইরে নাক গলাতেও তারা বিশেষ পছন্দ করে না।
এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সেন্টিনেলীদের জনসংখ্যার কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। ধারণা অনুযায়ী, এদের জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৩৯ থেকে ২৫০-এর মধ্যে, এবং সর্বোচ্চ ৫০০ পর্যন্ত। ২০০১ সালে পরিচালিত ভারতের জনপরিসংখ্যানে ৩৯ জন পৃথক ব্যক্তির উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়, যাদের মাঝে ২১ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই জরিপটি অনেক দূর থেকে পরিচালনা করা হয়েছিলো ।
২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সংঘটিত ভূকম্পন ও সংশ্লিষ্ট সুনামির ফলে সেন্টিনেলীদের জনসংখ্যা ওপর সৃষ্ট কোনো প্রভাবের কথা জানা যায় না। শুধু এতটুকু নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা এই দুর্যোগের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হয়েছে।
প্রাচীন এই উপজাতিদের পেশা শিকার। সভ্য মানুষের সংসর্গ এদের একেবারেই পছন্দ নয়। প্রায় ৬০ হাজার বছর ধরে সেন্টিনেলিজরা এই দ্বীপের বাসিন্দা। এরা আগুনের ব্যবহার জানে না। শেখেনি চাষাবাদও।
এরা একে অপরের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলে, তা তাদের সবচেয়ে কাছের উপজাতির পক্ষেও বোঝা অসম্ভব। মনে করা হয়, এই আদিম মানুষরা আফ্রিকা থেকে এসেছিলেন এই দ্বীপে।
আদিম এই উপজাতির সঙ্গে সভ্য মানুষের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৮৮০ সালে। ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এম ভি পোর্টম্যানের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।
উপজাতিদের এক প্রৌঢ় দম্পতি এবং চার শিশুকে তুলে নিয়ে আসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। তাদের নতুন পোশাক ও খাবার দেওয়া হয়। কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আধুনিক সমাজে মানাতে না পেরে রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাদের।
এই ঘটনার পর সভ্য মানুষদের প্রতি সেন্টিনেলিজদের আক্রোশ কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যায়। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন চিত্রগ্রাহক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিলেন সেন্টিনেল দ্বীপে। উপজাতিদের বিষ তীরের ঘায়ে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হন।
নৃতাত্ত্বিক ও ভারতের ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক টি এন পণ্ডিতের নেতৃত্বে সেন্টিনেলদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে তাঁদেরকে উপহার হিসেবে সমুদ্র সৈকতে খাবার ছড়িয়ে (যেমন: নারকেল) বন্ধুত্ব স্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
এসব প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেন্টিনেলদের মধ্যে তৈরি বহিরাগতদের সম্পর্কে সৃষ্ট হিংস্র মনোভাব দূর করার চেষ্টা করা হয়। বেশ কিছু সময়ের জন্য ধারণা করা হয়েছিলো, অভিযানগুলো ফলপ্রসু হচ্ছে।
কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে বহিরাগতদের সাথে দক্ষিণ ও মধ্য আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত গারোয়া জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত একইরকম অভিযানে সৃষ্ট বেশ কিছু ধারাবাহিক আক্রমণে কিছু মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়াও নতুন রোগের বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় অভিযানগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৪ সালে সুনামির পর হেলিকপ্টারে নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ডে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল ভারত সরকার। সে ত্রাণ নেওয়ার বদলে তারা পাল্টা আক্রমণ চালায়। ২০০৬ সালে সেন্টিনেল তীরন্দাজরা তাঁদের দ্বীপে অনুপ্রবেশকারী দুই জন জেলেকে তীর মেরে হত্যা করে।
পরবর্তীতে সেন্টিনেল তীরন্দাজরা মরদেহ উদ্ধারে আসা হেলিকপ্টারটিকেও তীর মেরে হটিয়ে দেয়। তার পর থেকেই ওই দ্বীপের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভারত সরকার। দ্বীপের চারপাশে তিন নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সীমানা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়।
সম্প্রতি মার্কিন পর্যটক জন এলেন চাও নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপে গিয়েছিলেন। সেখানে দ্বীপটির আদিবাসীদের হাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড পুনরায় আলোচনায় এসেছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬: দ্রুত নগরায়ণ ও যানজটমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশ্বজুড়ে ‘মেট্রো রেল’ বা ‘র্যাপিড ট্রানজিট’ ($Rapid\ Transit$) এখন শহরগুলোর লাইফলাইন। পৃথিবীর বুকে এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মাটির নিচে ও ওপর দিয়ে জালের মতো ছড়িয়ে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক গ্লোবাল ডেটা এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘতম মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের দেশভিত্তিক শীর্ষ ১০টি তালিকা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. চীন (China) — প্রায় ১০,০০০+ কিলোমিটার (বিশ্বের একক বৃহত্তম)
মেট্রো রেলের অবকাঠামো ও দৈর্ঘ্য—উভয় দিক থেকেই চীন পৃথিবীর অন্য সব দেশকে বহুদূরে ফেলে একচ্ছত্র রাজত্ব করছে। চীনের বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু এবং শেনঝেনের মতো মেগাসিটিগুলোর মেট্রো নেটওয়ার্ক একেকটি দেশের মোট রেললাইনের চেয়েও বড়। সাংহাই এবং বেইজিং মেট্রো বিশ্বের একক শহর হিসেবেও দীর্ঘতম।
২. যুক্তরাষ্ট্র (USA) — প্রায় ১,৩০০–১,৪০০ কিলোমিটার
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সাবওয়ে বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো সিস্টেম মিলিয়ে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে ($New\ York\ City\ Subway$), শিকাগো ‘এল’ এবং ওয়াশিংটন মেট্রো এর মূল চালিকাশক্তি। নিউইয়র্ক সাবওয়েতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (৪২৭টি) স্টেশন রয়েছে।
৩. ভারত (India) — প্রায় ১,০০০+ কিলোমিটার (বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম)
যোগাযোগ খাতে অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়ে ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের অধিকারী। দিল্লির ‘দিল্লি মেট্রো’ ($Delhi\ Metro$), নম্মা মেট্রো (বেঙ্গালুরু) এবং মুম্বাই ও কলকাতার মেট্রো সম্প্রসারণের ফলে ভারতের মোট ট্রানজিট দৈর্ঘ্য ১,০০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির আরও বেশ কয়েকটি শহরে নতুন মেট্রো লাইন চালু হচ্ছে।
৪. জাপান (Japan) — প্রায় ৮০০–৮৫০ কিলোমিটার
টোকিও সাবওয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং সময়ানুবর্তী মেট্রো সিস্টেম। জাপানের মূল মেট্রো এবং বিভিন্ন প্রাইভেট ও শহুরে কমিউটার রেল নেটওয়ার্ক মিলিয়ে এর পরিধি প্রায় ৮৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি, যা প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক।
বিশ্বের শীর্ষ ৫ মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের গ্লোবাল ডাটা ম্যাট্রিক্স
বিশ্বের শীর্ষ ৫টি মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের মূল গ্লোবাল ডাটা ম্যাট্রিক্স নিচে দেওয়া হলো। নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্যের দিক থেকে চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
| র্যাংক | দেশ | শহরের নাম | আনুমানিক মোট দৈর্ঘ্য | স্টেশন সংখ্যা | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | চীন | বেইজিং, সাংহাই ও অন্যান্য | ৯,৫০০ কিমি-এর বেশি | ২০০০+ (দেশজুড়ে) | বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল নেটওয়ার্ক |
| ২ | যুক্তরাষ্ট্র | নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ইত্যাদি | ১,৩০০ – ১,৪০০ কিমি | ৪২৪+ (শুধু নিউ ইয়র্কে) | নিউ ইয়র্ক সাবওয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সিস্টেম |
| ৩ | ভারত | দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা ইত্যাদি | ১,৩০০ কিমি | ৯০০+ (সারাদেশে) | এশিয়ায় অন্যতম দ্রুত প্রসারমান মেট্রো পরিকাঠামো |
| ৪ | জাপান | টোকিও, ওসাকা | ৯০০ কিলোমিটার | ৪০০+ (শুধু টোকিওতে) | প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও সময়ের নিরিখে নিখুঁত |
| ৫ | দক্ষিণ কোরিয়া | সিউল ও অন্যান্য | ৭০০ – ৮০০ কিমি | ৫০০+ (সিউল অঞ্চলে) | বিশ্বের অন্যতম উন্নত অটোমেটেড ও দীর্ঘ পথগামী মেট্রো |
মেট্রো রেল সিস্টেমের ইতিহাস ও বিস্তারিত তালিকা সম্পর্কে জানতে উইকিপিডিয়া ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া বিশ্বের শীর্ষ মেট্রো রেল ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশ্বের শীর্ষ ৫ মেট্রো রেল ব্যবস্থা নিবন্ধটি পড়তে পারেন।
৫. দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) — প্রায় ৭০০–৮০০ কিলোমিটার
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ‘সিউল ক্যাপিটাল এরিয়া র্যাপিড ট্রানজিট’ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম একক রুট। সিউল এবং এর আশেপাশের উপশহর বা স্যাটেলাইট টাউনগুলো মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিস্তৃত।
৬. যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (UK & Europe)
যদিও ইউরোপের দেশগুলো ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে আলাদা, তবে যুক্তরাজ্য (লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড বা ‘টিউব’), ফ্রান্স (প্যারিস মেট্রো), জার্মানি (বার্লিন ইউ-বাহন) এবং স্পেনের (মাদ্রিদ মেট্রো) মতো দেশগুলোর সম্মিলিত শহুরে র্যাপিড-রেল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তবে একক দেশ হিসেবে এগুলো শীর্ষ ৫ দেশের চেয়ে দৈর্ঘ্যে কিছুটা কম।
৭. রাশিয়া (Russia) — (শহুরে কমিউটার ও মেট্রো মিক্সড)
রাশিয়ার মস্কো মেট্রো ($Moscow\ Metro$) তার চমৎকার ভূগর্ভস্থ স্থাপত্য ও কার্যকারিতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত। শহরভিত্তিক নিখাদ ‘মেট্রো’ হিসেবে দৈর্ঘ্য কিছুটা সীমিত হলেও, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের বিস্তৃত কমিউটার রেল ও আরবান ট্রানজিট মিলিয়ে দেশ হিসেবে রাশিয়ার অবস্থান বেশ ওপরের দিকে।
মেট্রো রেলের মজার তথ্য (Fun Fact):
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ভূগর্ভস্থ মেট্রো রেল হলো যুক্তরাজ্যের লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড (London Underground), যা ১৮৬৩ সালে চালু হয়েছিল। আর আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক ১০ হাজার কিলোমিটারে নিয়ে গেছে চীন।
৮. মধ্যপ্রাচ্য ও উদীয়মান এশীয় দেশসমূহ (সৌদি আরব, কাতার ও সিঙ্গাপুর)
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিশেষ করে রিয়াদ মেট্রো (সৌদি আরব) এবং দুবাই মেট্রোর (ইউএই) মতো মেগা প্রজেক্টের কারণে এই অঞ্চলের নেটওয়ার্ক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর ($MRT$) সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন মেট্রো প্রযুক্তিতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
৯. একক মেগাসিটি ভিত্তিক বড় মেট্রো নেটওয়ার্কের দেশ
কিছু দেশ রয়েছে যাদের সামগ্রিক জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক খুব বড় নয়, কিন্তু তাদের কেবল একটি বা দুটি প্রধান মেগাসিটির মেট্রো পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছে। যেমন—ইরানের ‘তেহরান মেট্রো’ কিংবা মিসরের ‘কায়রো মেট্রো’ (যা আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম ও অন্যতম বড় মেট্রো সিস্টেম)।
১০. নতুন ও উন্নয়নশীল মেট্রো দেশসমূহ (বাংলাদেশসহ অন্যান্য)
এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো। বাংলাদেশে সদ্য চালু হওয়া ঢাকা মেট্রো রেল ($MRT\ Line-6$) এবং এর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ($MRT\ Line-1, 5$) দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন যুগে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও এগুলো এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই নেটওয়ার্কগুলো বিশাল রূপ ধারণ করবে।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
বিশ্বের দীর্ঘতম মেট্রো রেল, ভারতের মেট্রো রেলের দৈর্ঘ্য ২০২৬, চীনের বেইজিং ও সাংহাই মেট্রো, নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে স্টেশন, ঢাকা মেট্রোরেল এমআরটি লাইন এবং বৈশ্বিক সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের এমন নিখুঁত, তথ্যবহুল ও সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দলের হয়ে ভোটের প্রচারে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন—গত কয়েক ঘণ্টা ধরে এই নির্মম খবরটি বিশ্বজুড়ে সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে ভাবছি, যে জাপানকে সারা বিশ্ব চেনে এক পরম শান্তিময়, সুশৃঙ্খল ও অহিংসার প্রতীক হিসেবে, সেই বুকে এমন একটি পৈশাচিক ঘটনা ঘটতে পারে, তা হয়তো খোদ জাপানিরাও কোনোদিন কল্পনা করেনি।
শিনজো আবে ছিলেন আধুনিক জাপানের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী। তিনি শুধু জাপানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী (Abenomics) করেননি, বরং জাপানকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাস্থ্যগত কারণে ক্ষমতা ছাড়ার পরও তিনি রাজনীতিতে সমান সক্রিয় ছিলেন। তবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাঁর এই চলে যাওয়া কেবল একজন বৈশ্বিক নেতার বিদায় নয়, এটি আমাদের এক অকৃত্রিম ও দুর্দিনের পরম বন্ধুকে হারানোর গভীর শোক।
১. পদ্মা সেতু বিতর্ক ও মেট্রোরেলে শিনজো আবের ঐতিহাসিক সংহতি

বাংলাদেশের প্রতিটি বড় মেগা প্রকল্পের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে শিনজো আবে সরকারের অবদান। যখন বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক নাট্যমঞ্চ তৈরি করে আমাদের অহংকার ২০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিল এবং ম্যানিলা কনফারেন্সে অন্য সব দাতা সংস্থাকে আকারে-ইঙ্গিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রজেক্ট থেকেও সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাল—তখন অন্যেরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও জাপান সরে যায়নি।
উল্টো শিনজো আবের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্তেই জাইকা (JICA) বাংলাদেশের ইতিহাসে একক বৃহত্তম অর্থায়নে ২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল (MRT Line-6) প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসে। এটি ছিল পদ্মা সেতুর চেয়েও ২ হাজার কোটি টাকা বেশি।
২. হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডি ও জাপানি সততার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে ন্যাক্কারজনক জঙ্গি হামলায় ৭ জন জাপানি নাগরিক নিহত হন, যাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন মেট্রোরেল প্রকল্পের শীর্ষ পরামর্শক ও প্রকৌশলী। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলের প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রতি ঐতিহাসিক সমর্থন থেকে এক চুলও নড়েননি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
হামলার প্রভাব পড়েছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু প্রজেক্টেও। নিরাপত্তার কারণে জাপানি ৩টি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬ মাস কাজ বন্ধ রেখেছিল এবং পরে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কিন্তু জাপানিদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও সততা এতই প্রবাদপ্রতিম যে, তারা বর্ধিত ৬ মাস তো দূরে থাক, মূল চুক্তির মেয়াদেরও ১ মাস আগেই কাজ শেষ করে রেকর্ড গড়ে। শুধু তাই নয়, তিন সেতুর মোট বাজেট থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সততার সাথে বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দেয়, যা বর্তমান বৈশ্বিক কর্পোরেট সংস্কৃতিতে এক বিরলতম নজির।
৩. টোকিও থেকে হিরোশিমা: জাপানি আতিথেয়তার কিছু মধুর স্মৃতি

জাপানের সাথে আমার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু মধুর স্মৃতি আজ বারবার মনের কোণে ভেসে উঠছে। এক যুগ আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ১৫ দিনের এক সফর আমাকে সম্পূর্ণ এক নতুন জাপানের সন্ধান দিয়েছিল:
- নাম না জানা সেই জাপানি নারী: একবার টোকিও স্টেশনের কাছে হাতে ম্যাপ নিয়ে শ্রীলঙ্কার এক সাংবাদিক বন্ধুর সাথে একটা ঠিকানা খুঁজছিলাম। ভাষা জটিলতায় কাউকে বোঝাতে পারছিলাম না। হঠাৎ এক মধ্যবয়সী জাপানি নারী এসে আমাদের গন্তব্য জেনে নিজে হেঁটে পথ দেখিয়ে দিলেন। এরপর নিজের জরুরি কাজের কথা বলে প্রায় দৌড়ে চলে গেলেন।
- বুলেট ট্রেনে পাসপোর্ট ফিরে পাওয়া: দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে হিরোশিমা যাওয়ার পথে আমাদের দলের এক সহকর্মী তাঁর পাসপোর্ট ভুল করে সিটেই ফেলে এসেছিলেন। আমাদের গাইড হাসিমুখে বললেন, “চিন্তা করো না।” সত্যিই, ট্রেন থেকে নামার ঠিক আধঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় পাসপোর্ট আমাদের হাতে চলে আসে।
- হাসিমুখের সমাজ: ফরেন প্রেস সেন্টারের দারোয়ান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর ওয়েটার—সবার মুখে রোজ সকালে মাথা নুইয়ে এক চিলতে অমায়িক হাসি। মনে প্রশ্ন জাগত, মানুষ এত ভালো হয় কী করে?
কেন জাপানিরা এত অনন্য? শৈশবের সামাজিক শিক্ষা ম্যাট্রিক্স

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে জাপান যে আজ বিশ্বের অন্যতম মানবিক রাষ্ট্র, তার মূল ভিত্তি তৈরি হয় তাদের কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইমারি স্কুল লেভেল থেকে।
সারসংক্ষেপ: বিদায় বন্ধু, বিদায় আবে
যে দেশ শিশুদের মনে শৈশব থেকে শান্তি, শৃঙ্খলা আর ভালোবাসার বীজ বুনে দেয়, সেই শান্তিকামী জাপানের মাটিতে শিনজো আবের মতো একজন মহানায়কের বুলেটের আঘাতে প্রস্থান অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। বাংলাদেশ তার অবকাঠামো, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ দাতা দেশকে এই বিপদের দিনে গভীর সমবেদনা জানায়। জাপান নিশ্চয়ই এই রাজনৈতিক সংকট ও শোক কাটিয়ে আবার শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক, জাইকা মেগা প্রজেক্ট, মেট্রোরেলের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক মানবিক অনুভূতির এমন গভীর ও এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ভারতীয় রাজনীতিতে রাহুল গান্ধী সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সমালোচিত এবং ট্রোলের শিকার হওয়া এক ব্যক্তিত্ব। নেহেরু-গান্ধী পরিবারের বংশধর হওয়ায় তাঁর ওপর প্রত্যাশার যে পাহাড়সম চাপ ছিল, অনেক বিশ্লেষকের মতেই তিনি তা সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন। সমালোচকদের বড় একটি অংশের দাবি, রাহুল গান্ধীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা পরিবারের আবদারে জোর করে রাজনীতিতে আনা হয়েছে, যার ফলে নরেন্দ্র মোদীর মতো ঝানু ও ধূর্ত রাজনীতিকের সামনে তিনি বারবার রাজনৈতিকভাবে খেই হারিয়েছেন।
তবে বিগত ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে কেবল ‘বোকা’ বা ‘ব্যর্থ’ তকমা দিয়ে আটকে রাখা যাবে না। এর পেছনে রয়েছে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা, সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং একই সাথে এক ধরণের একগুঁয়ে লড়াইয়ের ইতিহাস।
১. ‘পাপু’ ইমেজ ও নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক বাঘের মুখোমুখি

আপনার বিশ্লেষণে মোদীকে যেভাবে ‘বাঘের’ সাথে তুলনা করা হয়েছে, তা ভারতীয় রাজনীতির রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির বিপুল জনপ্রিয়তার সামনে রাহুল গান্ধী কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিলেন।
বিজেপির সুনিপুণ আইটি সেল ও প্রচারমাধ্যম রাহুল গান্ধীর কিছু অসতর্ক বক্তব্যকে পুঁজি করে তাঁকে জনগণের সামনে ‘পাপু’ বা একজন অপেশাদার, বোকা রাজনীতিবিদের রূপ দিতে সফল হয়েছিল। যেখানে মোদীর বাগ্মিতা এবং চাতুর্য আমজনতাকে সহজেই আকৃষ্ট করেছে, সেখানে রাহুলের সোজা-সাপ্টা বা কখনো কখনো বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা তাঁকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।২. ১৬ বছরের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও সভাপতির পদত্যাগ

জওহরলাল নেহেরু বা ইন্দিরা গান্ধীর মতো দূরদর্শী নেতৃত্ব যেখানে কংগ্রেসকে ভারতের শেষ কথা বানিয়েছিল, রাহুল গান্ধীর আমলে সেই কংগ্রেস একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে। সমালোচকদের মতে এর প্রধান ২টি কারণ:
- বাস্তবতা ও আধুনিক রাজনীতির মেলবন্ধনের অভাব: ৭০ বছর আগের গৌরবময় ইতিহাস দিয়ে যে বর্তমান যুগের সোশ্যাল মিডিয়া-চালিত উগ্র জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে হারানো যায় না, তা বুঝতে রাহুল ও সোনিয়া গান্ধী অনেক দেরি করে ফেলেছিলেন।
- নেতৃত্বের পলায়নপর মানসিকতা: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লজ্জাজনক হারের পর রাহুল গান্ধী জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার বদলে তাঁর এই ইস্তফা দেওয়াকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ‘সং’ সেজে পালিয়ে যাওয়ার শামিল বলে মনে করেন।
এক নজরে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গ্রাফ

রাহুল গান্ধী ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা । ২০০৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে তাঁর ক্যারিয়ারের গ্রাফ বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত ও ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। নিচে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো এক নজরে দেওয়া হলো:
- ২০০৪: ভারতের আমেথি লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন।
- ২০০৭: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পান এবং যুব কংগ্রেস ও এনএসইউআই (NSUI)-এর দায়িত্ব নেন।
- ২০১৩: কংগ্রেস দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত হন।
- ২০১৪: তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনে কংগ্রেস ব্যাপক ভরাডুবির সম্মুখীন হয় এবং এনডিএ জোট ক্ষমতায় আসে।
- ২০১৭: ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- ২০১৯: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির দায়ভার নিয়ে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- ২০২২–২০২৩: জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত প্রায় ৪০০০ কিমি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ [০.৫.৩] সম্পন্ন করেন।
- ২০২৩: মানহানির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় লোকসভার সদস্যপদ হারান [۰.৫.২, ০.৫.১১]। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সাজার ওপর স্থগিতাদেশ দিলে সাংসদ পদ ফিরে পান [০.৫.২, ০.৫.১১]।
- ২০২৪: ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা [০.৫.৩] পরিচালনার পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং তিনি ভারতের লোকসভার ১২তম বিরোধী দলনেতা [০.৫.৪] নির্বাচিত হন। [
রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে Britannica এবং Oneindia Bengali দেখতে পারেন।
৩. ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’: রাহুল গান্ধীর নতুন রূপ ও ঘুরে দাঁড়ানো

এত তীব্র যন্ত্রণা, অপমান এবং একের পর এক নির্বাচনী পরাজয় সত্ত্বেও একটি মানুষ যেভাবে নিজেকে সামলে রাজনীতিতে টিকে আছেন, তা আসলেই অবাক করার মতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে তাঁর হাজার কিলোমিটারের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ পদযাত্রার পর রাহুল গান্ধীর ইমেজ অনেকটাই বদলেছে।
তিনি এখন আর সেই কাঁচা ‘রাহুল বাবা’ নন, বরং মাটিতে নেমে মানুষের দুঃখ-কষ্ট শোনা একজন পরিপক্ব বিরোধী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তিনি ক্ষমতার লোভী নন, বরং আদর্শের লড়াই লড়ছেন।
তথ্যসূত্র ও নির্ভরযোগ্য সোর্স:
১. ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) লোকসভা নির্বাচন ফলাফল ও ডেটা আর্কাইভ (২০১৪-২০২৪)।
২. প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক রামচন্দ্র গুহ এবং রাজদীপ সারদেশাইয়ের সমসাময়িক কলাম ও রাজনৈতিক পর্যালোচনা।
৩. অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (AICC) এবং বিজেপির অফিশিয়াল পলিটিক্যাল ক্যাম্পেইন ইশতেহার।
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
রাহুল গান্ধীর জীবনী, ভারতীয় লোকসভা নির্বাচন, নরেন্দ্র মোদীর রাজনীতি, কংগ্রেসের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক উপমহাদ্বীপীয় ভূ-রাজনীতির নিখুঁত ও এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট পড়তে নিয়মিত চোখ রাখুন পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



