ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কল্পনা করুন, আপনি একটি ডিজিটাল সাগরে ভাসছেন। চারদিকে তথ্যের ঝকঝকে ঢেউ, বিনোদনের রঙিন মাছ। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন, ভাসতে ভাসতে আপনি কখন তীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন? সমুদ্রটা যখন আপনাকে গিলে খেতে শুরু করে, তখন সেটা আর আনন্দ থাকে না—সেটা হয়ে দাঁড়ায় আসক্তি।
১৯০০ থেকে ২০২৬: মনোযোগের বিবর্তন

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০-এর দশকে) মানুষের বিনোদনের মাধ্যম ছিল বই, রেডিও কিংবা সামনাসামনি আড্ডা। তখন ‘মনোযোগ’ ছিল দীর্ঘস্থায়ী। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব এবং ২০২৬ সালের এই দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে আমাদের মনোযোগের সময়সীমা (Attention Span) গোল্ডফিশের চেয়েও কমে গেছে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি আপনার অজান্তেই আপনার সৃজনশীলতা এবং মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে।
কেন একে আমরা ‘ডিজিটাল ড্রাগ’ বলছি?

১. ডোপামিন লুপ এবং মনোযোগের অভাব:
আপনি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ‘লাইক’ পান বা শর্ট ভিডিও স্ক্রল করেন, আপনার মস্তিষ্কে ডোপামিন ($C_8H_{11}NO_2$) নামক নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হয়। এটি আপনাকে ক্ষণিকের আনন্দ দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারে আপনার মস্তিষ্ক এই সস্তা আনন্দের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। ফলে গভীর কোনো কাজ (Deep Work) বা জটিল পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
২. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Social Isolation):
আমাদের হাতে এখন হাজার হাজার ‘অনলাইন বন্ধু’ আছে, কিন্তু বাস্তব জীবনে কথা বলার মতো মানুষের অভাব। ১৯০০ সালের সেই উঠানের আড্ডা আজ স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বন্দি। অতিরিক্ত ইন্টারনেটের কারণে আমরা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর চেয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করি, যা দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা বা একাকীত্বের জন্ম দেয়।
৩. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি:
অনিদ্রা (Insomnia), চোখের সমস্যা, ঘাড়ের ব্যথা এবং সারাক্ষণ নিজেকে অন্যের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের সাথে তুলনা করার ফলে তৈরি হওয়া ‘ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স’—এগুলো সবই অতিরিক্ত ইন্টারনেটের উপহার।
২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে উত্তরণের পথ
গুগল এনালিসিস এবং বর্তমান বিশ্বের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে সুস্থ থাকতে হলে আমাদের ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ অপরিহার্য।
- দিনে অন্তত ২ ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকুন।
- নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
- বাস্তব পৃথিবীর সাথে সংযোগ বাড়ান।
পরিশেষে: ইন্টারনেট একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, কিন্তু একে আপনার মালিক হতে দেবেন না। ডিজিটাল শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসুন, জীবনটা স্ক্রিনের বাইরে আরও অনেক বেশি রঙিন।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গেমিং ও ইন্টারনেট আসক্তি রিপোর্ট ২০২৬, ব্লুমবার্গ হেলথ এবং নিউরোসায়েন্স জার্নাল।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এক নতুন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন—বাংলাদেশের রাজনীতি এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ ভূখণ্ড। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশ এখন আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার সমান্তরালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল ব্যয়, ইউরেনিয়ামের জটিল বিজ্ঞান এবং নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার জোয়ার।

ইউরেনিয়ামের রহস্য: রূপপুর কি হিরোশিমা হবে?
প্রকৃতিতে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় এক অদ্ভুত অনুপাতে। আকরিক থেকে পাওয়া ১০০ ভাগ ইউরেনিয়ামের মধ্যে মাত্র $0.7\%$ হলো $U-235$, যা শক্তির মূল উৎস। বাকি $99.3\%$ হলো $U-238$, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর নয়। যখন এই $U-235$ এর ঘনত্ব ৩ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তখন একে বলা হয় Low Enriched Uranium (LEU)। রূপপুরের রিঅ্যাক্টরে এই $LEU$ ব্যবহার করে বোরন ‘কন্ট্রোল রড’-এর সাহায্যে এক নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এটি অনেকটা চুলার আঁচ নিয়ন্ত্রণের মতো; রড নামালে বিক্রিয়া কমে, তুললে বাড়ে।
বিপরীতে, ১৯৪৫ সালের হিরোশিমায় ব্যবহৃত ‘লিটল বয়’ বোমাটিতে ছিল $93\%$ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না বলেই এক সেকেন্ডের কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ে সূর্যের কেন্দ্রের সমান তাপ উৎপন্ন হয়ে ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। পদার্থবিজ্ঞানের গাণিতিক নিয়মে রূপপুরের জ্বালানি দিয়ে বোমা বানানো অসম্ভব, তবে রিঅ্যাক্টরে উৎপন্ন হওয়া Plutonium নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজরদারি সবসময়ই থাকে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: প্রান্তিক মানুষের জন্য সুরক্ষা কবচ
বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এরই মধ্যে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে উন্নয়নের সম-অংশীদার।” এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সকল অফিস ও শিল্প কারখানায় ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
স্মার্ট কৃষিতে ড্রোন ও এআই বিপ্লব
একই দিনে সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, সরকার ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ চালুর মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই খাতে রূপান্তর করছে। কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন এবং ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির শ্বেতপত্র
উন্নয়নের এই আবহের মাঝেই রূপপুর প্রকল্পের বিশাল ব্যয় (১২ বিলিয়ন ডলার) এক বড় দুশ্চিন্তার নাম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের নির্মাণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই ‘মেগা বোঝা’ এখন বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
রাজনীতিতে নৈতিকতার বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, নাহিদ ইসলাম নিজে সরাসরি দুর্নীতি না করলেও স্বজনপ্রীতি ও উপদেষ্টা পদে থেকে রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠনের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে, রোমানিয়া সরকার অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি।
সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (২৯ এপ্রিল অধিবেশন), মার্কিন দূতাবাস ঢাকা, বাংলাদেশ দূতাবাস (রোমানিয়া) এবং ঐতিহাসিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির অধিকারের লড়াই ২০২৬ সালে এসে পারমাণবিক শক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মুখোমুখি। একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর আধুনিক পরিকল্পনা যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি রূপপুর প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি এবং নীতিনির্ধারকদের নৈতিক পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলাদেশকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হবে আগামীর স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]
বিভাগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / ইতিহাস
উৎস: (প্রথম আলো ও ঐতিহাসিক আর্কাইভের সহায়তায়)
১৮৯৩ সালের শিকাগো ওয়ার্ল্ড ফেয়ার। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ এক মায়াবী আলোয় ঝলমল করছে। মানুষ বিস্ময়ে দেখছে ‘পরিবর্তী বিদ্যুৎ’ বা এসি কারেন্টের জাদু। যার হাত ধরে এই আলোকসজ্জা, তিনি ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় এবং প্রতিভাবান বিজ্ঞানী— নিকোলা টেসলা। এডিসনের সমবিদ্যুৎ (DC) যখন জঞ্জাল আর সীমাবদ্ধতায় আটকে ছিল, তখন টেসলা পৃথিবীকে দেখালেন চিকন তারে মাইলকে মাইল বিদ্যুৎ পাঠানোর স্বপ্ন।
১. মেধাবী ছাত্র থেকে ‘ডিগ্রিহীন’ প্রকৌশলী

১৮৫৬ সালে বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার এক গ্রামে জন্ম নেওয়া টেসলা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য। গণিতের জটিল ইন্টিগ্র্যাল ক্যালকুলাস তিনি মুখে মুখেই সমাধান করে ফেলতেন। হাইস্কুলের চার বছরের কোর্স শেষ করেছিলেন মাত্র তিন বছরে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় টেসলা দাবি করেন, কমিউটেটর ছাড়াই ডায়নামো তৈরি সম্ভব। তাঁর এই অদম্য জেদ আর অধ্যাপকদের সাথে মতভেদের কারণে শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি ছাড়াই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়।
২. এডিসনের সাথে সংঘাত ও ‘আমেরিকান কৌতুক’

১৮৮৪ সালে টেসলা যখন নিউইয়র্কে টমাস আলভা এডিসনের কোম্পানিতে যোগ দেন, তখন সূচিত হয় বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দ্বৈরথ। এডিসনের ডিসি জেনারেটরের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ সফলভাবে শেষ করার পর টেসলাকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫০ হাজার ডলার দিতে অস্বীকার করেন এডিসন। এডিসন রসিকতা করে বলেন, “তুমি আমেরিকান কৌতুক বোঝোনি।” এই অভিমানে টেসলা পদত্যাগ করেন এবং শুরু হয় ‘কারেন্ট ওয়ার’ বা বিদ্যুতের যুদ্ধ।
৩. বিনা তারে বিদ্যুৎ ও টেসলা কয়েল

টেসলার সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল তারবিহীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন। ১৮৯৩ সালের প্রদর্শনীতে তিনি দেখান, কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই একটি বাতি জ্বালানো সম্ভব। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়্যারলেস সিস্টেম’, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী বিনা তারে বিদ্যুৎ ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। যদিও অর্থের অভাবে তাঁর ‘ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার’ প্রকল্প সফল হয়নি, তবে আজকের রেডিও এবং ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ভিত্তি সেই টেসলা কয়েল।
৪. ৩০০ পেটেন্টের অধিকারী এক নিঃস্ব জাদুকর

রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে আমরা মার্কনিকে চিনলেও, মার্কনি টেসলার ১৭টি পেটেন্ট ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৪৩ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট টেসলাকেই রেডিওর প্রকৃত উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এক্স-রে থেকে শুরু করে রিমোট কন্ট্রোল নৌকা, এমনকি আজকের হেলিকপ্টারের আদি ধারণা—সবই ছিল টেসলার মস্তিষ্কের অবদান। অথচ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন দারুণ অর্থকষ্টে। শেষ জীবনে নিউইয়র্কার হোটেলের একটি কক্ষে পায়রাদের সাথে সময় কাটিয়ে ১৯৪৩ সালে তিনি মারা যান।
৫. টেসলার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞানীরা ১৯৬০ সালে চৌম্বক ক্ষেত্রের এককের নাম দিয়েছেন ‘টেসলা’। আজ যখন আমরা বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা শুনি, সেই বিখ্যাত ‘Tesla’ কোম্পানির নামটিও এই মহান বিজ্ঞানীর প্রতি সম্মান জানিয়ে রাখা। আজকের স্মার্ট দুনিয়া যে বেতার তরঙ্গে চলে, তার প্রতিটি স্পন্দনে মিশে আছে নিকোলা টেসলার নাম।
এক নজরে নিকোলা টেসলা
| বিষয় | তথ্য |
| জন্ম | ১০ জুলাই ১৮৫৬, ক্রোয়েশিয়া। |
| আবিষ্কার | এসি বিদ্যুৎ, ইন্ডাকশন মোটর, টেসলা কয়েল, রেডিওর মূল নকশা। |
| পেটেন্ট সংখ্যা | প্রায় ৩০০টি। |
| সম্মাননা | চৌম্বক ক্ষেত্রের একক ‘টেসলা’ (T)। |
| মৃত্যু | ৭ জানুয়ারি ১৯৪৩, নিউ ইয়র্ক। |
বি.ডি.এস ডিজিটাল এডিটোরিয়াল ইনসাইট: নিকোলা টেসলার জীবন আমাদের শেখায় যে, উদ্ভাবন কেবল ব্যবসার জন্য নয়, বরং মানবজাতির কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। টেসলা হয়তো ব্যবসা বোঝেননি, কিন্তু তিনি ভবিষ্যৎ বুঝেছিলেন। তাঁর সেই ভবিষ্যৎ আজ আমাদের বর্তমান।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিজ্ঞান ও ইতিহাস ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: বিজ্ঞান / পৃথিবী ও মহাকাশ
সোনা—যুগ যুগ ধরে আভিজাত্য এবং শক্তির প্রতীক। কিন্তু আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে আমরা যে সোনা খনি থেকে তুলে আনি, তা আসলে এই পৃথিবীতে তৈরি হয়নি? এমনকি আমাদের সূর্যও সোনা তৈরি করার মতো শক্তিশালী নয়। সোনার প্রতিটি কণা আসলে মহাকাশ থেকে আসা এক ‘উপহার’।

১. মহাজাগতিক কারখানায় সোনা উৎপাদন (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা)

বিজ্ঞানীদের মতে, সোনা তৈরি হয় মহাকাশে এক প্রলয়ংকরী ঘটনার মাধ্যমে। আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে যখন দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের (Neutron Stars) মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছিল, তখন সেখানে যে চরম তাপমাত্রা ও চাপের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকেই সোনার পরমাণু গঠিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে পৃথিবীর সৃষ্টির সময় মহাকাশ থেকে উল্কাপাতের মাধ্যমে এই সোনা পৃথিবীর গভীরে জমা হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে এই সোনা মাটির ওপরের স্তরে বা নদীর তলদেশে চলে আসে।
২. ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ড রাশ: ইতিহাস বদলে দেওয়া এক আবিষ্কার

সোনার মহাজাগতিক ইতিহাসের পর এবার আসা যাক মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত সোনা আবিষ্কারের গল্পে। ১৮৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার কলোমায় ঘটেছিল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা।
- আবিষ্কারক: জেমস ডব্লিউ মার্শাল।
- ঘটনা: মার্শাল তখন জন সাটারের হয়ে আমেরিকান নদীর তীরে একটি করাতকল (Sutter’s Mill) তৈরির তদারকি করছিলেন। হঠাৎ নদীর তলদেশে তিনি চকচকে কিছু দেখতে পান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি ছিল বিশুদ্ধ সোনা।
- ফলাফল: এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভিড় জমায়, যা ইতিহাসে ‘ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ড রাশ’ (১৮৪৮–১৮৫৫) নামে পরিচিত।
৩. সোনা কেন এত দামি?

সোনা লোহা বা তামা মতো পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় না বলেই এটি অত্যন্ত দুর্লভ। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত উত্তোলিত সমস্ত সোনাকে যদি এক করা হয়, তবে তা মাত্র ২০ থেকে ২১ মিটারের একটি ঘনক (Cube) তৈরি করবে। অর্থাৎ এটি সত্যিই সীমিত।
সোনা সংক্রান্ত কিছু অবাক করা তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| পারমাণবিক সংখ্যা | ৭৯ (Au) |
| উৎস | নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষ ও সুপারনোভা বিস্ফোরণ। |
| প্রথম বড় আবিষ্কার | ১৮৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সাটার মিলে। |
| ব্যবহার | গয়না, ইলেকট্রনিক্স এবং মহাকাশযানের যন্ত্রপাতিতে। |
উপসংহার
জেমস মার্শাল যখন ১৮৪৮ সালে নদীর ধারে সেই প্রথম সোনার টুকরোটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন, তিনি হয়তো জানতেন না যে তিনি আসলে মহাকাশের একটি অংশকে ছুঁয়ে দেখছেন। সোনার এই মহাজাগতিক যাত্রা আজও আমাদের অবাক করে।
বিডিএস ফ্যাক্ট: আপনি বর্তমানে যে সোনার আংটি বা গয়নাটি পরে আছেন, তার পরমাণুগুলো কয়েক কোটি বছর আগে মহাকাশের কোনো এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে তৈরি হয়েছিল!
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



