অর্থনীতি

আমেরিকান ডলারের নোটের নেপথ্যে: কাদের ছবি এবং কেন? এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
ডলার

নিউজ ডেস্ক

February 19, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রার নাম আমেরিকান ডলার। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, এই ডলারের নোটগুলোতে কেন নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ছবি থাকে? ১৯০০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তার মূলে রয়েছে আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের আদর্শ। বর্তমান বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা হচ্ছে, তখন মার্কিন ডলারের এই ব্যক্তিত্বদের ইতিহাস আমাদের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

১ ডলার: জর্জ ওয়াশিংটন (প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি)

মার্কিন ১ ডলারের নোটে রয়েছে আমেরিকার প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটনের ছবি। ১৭৮৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি আমেরিকান গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ডলারের নোটে তাঁর ছবির উপস্থিতি মূলত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং সম্মানের প্রতীক।

২ ডলার: টমাস জেফারসন (স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচয়িতা)

২ ডলারের নোটে আমেরিকার ৩য় রাষ্ট্রপতি টমাস জেফারসনের ছবি রয়েছে। ১৮৬৯ সাল থেকে তাঁর এই ছবিটি ২ ডলারের নোটে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি ছিলেন আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল রচয়িতা।

৫ ডলার: আব্রাহাম লিংকন (ঐক্যের প্রতীক)

মার্কিন ৫ ডলারের নোটে রয়েছে ১৬তম রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের ছবি। ১৮৬০-এর দশকে যখন আমেরিকা গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত, তখন তিনি নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সাংবিধানিক সংকটে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছিলেন।

১০ ডলার: আলেকজান্ডার হ্যামিলটন (অর্থনীতির কারিগর)

১০ ডলারের নোটে আছেন আলেকজান্ডার হ্যামিলটন। তিনি কোনো রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, বরং ছিলেন আমেরিকার প্রথম ট্রেজারি সেক্রেটারি। আমেরিকার আধুনিক ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মূল কারিগর তিনি।

২০ ডলার: অ্যান্ড্রু জ্যাকসন (সপ্তম রাষ্ট্রপতি)

২০ ডলারের নোটে সপ্তম রাষ্ট্রপতি অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ছবি শোভা পায়। তিনি আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

৫০ ডলার: উলিসিস এস গ্র্যান্ট (১৮তম রাষ্ট্রপতি)

৫০ ডলারের নোটে আমেরিকার ১৮তম রাষ্ট্রপতি উলিসিস এস গ্র্যান্টের ছবি আছে। তিনি আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় ইউনিয়ন সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১০০ ডলার: বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন (বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রনায়ক)

সবচেয়ে বড় ১০০ ডলারের নোটে রয়েছে বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের ছবি। ১৯১৪ সাল থেকে তাঁর এই ছবি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি একাধারে বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক এবং আমেরিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা ছিলেন।


এক নজরে আমেরিকান ডলারের পোর্ট্রেট তালিকা

নোটের মানছবিতে থাকা ব্যক্তিপরিচয়
১ ডলারজর্জ ওয়াশিংটন১ম রাষ্ট্রপতি ও প্রতিষ্ঠাতা পিতা
২ ডলারটমাস জেফারসন৩য় রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার রূপকার
৫ ডলারআব্রাহাম লিংকন১৬তম রাষ্ট্রপতি ও দাসপ্রথা বিলুপ্তকারী
১০ ডলারআলেকজান্ডার হ্যামিলটনপ্রথম ট্রেজারি সেক্রেটারি
২০ ডলারঅ্যান্ড্রু জ্যাকসনসপ্তম রাষ্ট্রপতি
৫০ ডলারউলিসিস এস গ্র্যান্ট১৮তম রাষ্ট্রপতি ও ইউনিয়ন সেনাপতি
১০০ ডলারবেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রনায়ক

সূত্র:

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আর্কাইভ।

২. আমেরিকান কারেন্সি ও হিস্টরিক্যাল পোর্ট্রেট গাইডলাইন।

৩. বিডিএস ডিজিটাল এজেন্সি রিসার্চ উইং এবং ঐতিহাসিক তথ্যভাণ্ডার।

৪. সমসাময়িক মুদ্রাবাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ২০২৬।


বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের স্বর্ণমান (Gold Standard) থেকে ২০২৬ সালের ডিজিটাল কারেন্সির যুগেও ডলারের নোটে এই ব্যক্তিদের ছবি অপরিবর্তিত রয়েছে। এর কারণ হলো—একটি রাষ্ট্র কেবল অর্থ দিয়ে চলে না, চলে তার আদর্শ ও ইতিহাস দিয়ে। বাংলাদেশের ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে আমাদেরও উচিত জাতীয় বীরদের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ মিশন - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।

এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ বাংলাদেশ - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬: ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহ শুরু, কাটবে সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ নিশ্চিত করতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার থেকে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল আমদানি ও সরবরাহ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১.৮ লাখ টন ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ডিপোগুলোতে পৌঁছাবে। এতে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে।

জ্বালানি সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা

জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ পরিকল্পনার অধীনে সরকার অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে আসা এই ডিজেল উচ্চমানের এবং পরিবেশবান্ধব।

বর্তমানে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে তেলবাহী ট্যাংকার আসতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আসা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাইপলাইনের সুফল সরাসরি পাবেন দেশের কৃষক ও পরিবহন মালিকরা। নৌপথ বা রেলপথে তেল পরিবহনে যে সিস্টেম লস এবং অতিরিক্ত খরচ হতো, পাইপলাইনে তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিজেলের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারে আরও সমন্বয় করা সম্ভব হতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই জ্বালানি নীতি নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কেবল অর্থনীতির চাকা সচল রাখে না, এটি নাগরিকের মানবাধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করে। সামাজিক সমতা বজায় রাখতে হলে জ্বালানির ন্যায্য মূল্য এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই পাইপলাইন প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ঝুঁকি হ্রাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

স্বর্ণের দাম ২০২৬ বাংলাদেশ - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দাম ২০২৬: বাংলাদেশে প্রতি ভরিতে কমলো ৫০০০ টাকা, স্বস্তি ক্রেতাদের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ায় স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর ইতিহাসে আজ সবথেকে বড় পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS) আজ সকালে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৫,০০০ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই দাম আজ বুধবার বিকেল থেকেই সারাদেশে কার্যকর হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে। এর সুফল সরাসরি পাচ্ছেন বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতারা।

নতুন মূল্য তালিকা ও বাজুসের সিদ্ধান্ত

স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর নতুন সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী: ১. ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১,০৫,০০০ টাকায় (পূর্বের দাম থেকে ৫,০০০ টাকা কম)। ২. ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১,০০,০০০ টাকায়। ৩. ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৮৬,০০০ টাকায়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, “আমরা চাই বাজার স্থিতিশীল থাকুক। ক্রেতারা যাতে ন্যায্য মূল্যে স্বর্ণ অলঙ্কার কিনতে পারেন, সেজন্যই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে দাম কমানো হয়েছে।” বিশেষ করে সামনে বিয়ের মৌসুম হওয়ায় এই দরপতন সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বাজার পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। দেশের বড় বড় জুয়েলারি শোরুমগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, দাম কমার ঘোষণার পর থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বাজার দর পরিবর্তন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “স্বর্ণের দাম ২০২৬ এর এই পতন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় সুযোগ। স্বর্ণ কেবল বিলাসিতার বস্তু নয়, এটি একটি আপদকালীন সম্পদ। বাজার নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টের আয়ের সঠিক বিনিয়োগ করতে পারে। এটি সামাজিক সমতা ও মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ