ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
এ ধরণের কয়েকটি প্রশ্ন পেয়েছি। সে সব উত্তর থেকে একটা কিছুটা কাটছাঁট করে পেস্ট করে দেয়া হলো।
মিশরীয় সভ্যতা
সময়কাল ৩১৫০-৩০ খ্রিস্টপূর্ব
নীল নদের তীরে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা উন্নত কালচার, পরাক্রমশালী ফারাও, পিরামিড, স্ফিংস, মমি, হিয়েরোগ্লাইফিক লিপি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছে।
নীল নদে জনপদের উন্মেষ ঘটে ব্রোঞ্জ যুগে। বিভিন্ন যুগ পেরিয়ে খ্রিস্টপূর্ব ৩১৫০ সালে প্রথম ফারাও মিশরকে একীভূত করে নয়া মিশরীয় সভ্যতার সূচনা করেন।
মিশরীয় রাজাদের উপাধি ছিল ফারাও। ফারাও রামেসিস এতটাই দাপুটে ছিলেন যে তার আমলে সমসাময়িক অন্য একটি সভ্যতা নুবিয়ান তার সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। ফারাও সচরাচর ফেরাউন নামে পরিচিত।
ফারাও রামেসিসের মমি
ইহুদি খ্রিস্টান এবং মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থে ফেরাউন রামেসিস-২ এর সাথে ইহুদিদের পয়গম্বর মুসা (আ:) বিবাদ-বিসংবাদের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এ জন্য সাধারণ মানুষ ফেরাউন নামটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে থাকে।
রাজা রামেসিস-২ প্রতিকৃতি
মিশরের রাজারা দাবি করতেন তারা সূর্য দেবতা আমনের বংশধর। সূর্য দেবতার বংশধর হিসাবে মিশরীয় রাজারা মনে করতেন তারা অমর অজেয়। এ ধারণার বশবর্তী হয়ে মৃত্যুর পর মমি করে তাঁদের ধন-রত্ন, পাইক বরকন্দাজসহ সমাধিস্থ করা হত। সমাধির উপরে নির্মাণ হতো হতো বিশাল আকৃতির সব পিরামিড। পিরামিডের বিস্ময়কর নির্মাণশৈলীর রহস্য এখনো কেউ উদঘাটন করতে পারেনি।
প্রধান দেবতা আমন ছাড়াও মিশরীয়দের অন্য একজন শক্তিশালী দেবতা ছিলেন ওসাইরিস। তাঁর দায়িত্ব ছিল ন্যাচারাল রিসোর্স, কৃষি কর্ম ও নীল নদ।
ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ বহু দেবতার বদলে এক দেবতা অর্থাৎ সূর্যদেবতার পূজা করার প্রচলন করেন। তিনি সূর্য দেবতার নাম বদলে ‘আতেন’ রাখেন এবং তার সাথে মিলিয়ে নিজের নাম দেন ‘আখেনাতেন’। সে হিসাবে তাঁকে একেশ্বরবাদী বলা যায় বৈকি।
রানী ক্লিওপেট্রা
মূর্তি নির্মাণে সে যুগে মিশরীয়দের জুড়ি ছিল না। রানী নেফারতিতির চুনাপাথরের মূর্তি দেখলে এখনো তাকে জীবন্ত মনে হয়। মিশরীয় সভ্যতার শেষ পর্বে টলেমি রাজবংশের রানী ক্লিওপেট্রোর সৌন্দর্য যুগে যুগে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছে।
রানী নেফারতিতি
তাদের নির্মিত সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত সুউচ্চ স্তম্ভ (obelisk) বিস্ময় উদ্রেক করে। মিশর বিজয়ের পর রোমানরা অন্তত আটটি স্তম্ভ রোমে নিয়ে যায়। রোম ভ্রমণের সময় এ ধরণে কয়েকটি স্তম্ভ দেখার সুযোগ হয়েছিল।
রোম শহরে পুনঃস্থাপিত মিশরীয় স্তম্ভ (obelisk)
লেখাপড়ার দুনিয়ায় প্রাচীন যুগে মিশরীয়রা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছে। তাদের চিত্রলিপির নাম ‘হায়ারোগ্লিফিক’, তা লেখার জন্য ব্যবহার করত নীল নদীর তীরে গজিয়ে ওঠা নলখাগড়া দিয়ে তৈরি প্যাপিরাস কাগজ।
হায়ারোগ্লিফিক লিপি
জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত শাস্ত্রেও মিশরীয়রা তাদের অবিস্মরনীয় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পিরামিডের মতো নিখুঁত ত্রিকোণ স্থাপনা তাদের উন্নত জ্যামিতিক জ্ঞানের পরিচয় বহন করে প্রাচীন যুগ থেকে আকাশপানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।
মিশরের পিরামিড
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
সময় কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০-৫০০
অবস্থান: আধুনিক ইরাক সিরিয়া এবং তুরস্ক
দজলা ফোরাত যা ইউরোপিয়ানদের কাছে টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদী নামে পরিচিত, তার মধ্যবর্তী আধুনিক ইরাক এবং প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অনেকগুলো সভ্যতার জন্ম ভূমি। এক কথায় বলা যায় সভ্যতার প্রাচীনতম সূতিকাগার।
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার সঠিক সূচনা কাল অতীতের গর্ভে লুকিয়ে আছে তবে তার আগে অন্য কোন সভ্যতার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সত্যিকার অর্থে সভ্য সমাজ বলতে যা বোঝায় এখানেই তার উন্মেষ ঘটে, প্রথম সভ্য মানুষের কলকাকলিতে মুখরিত হয়।
মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ৭৫০ সাল পর্যন্ত মেসোপটেমিয়া সভ্যতার সময়কাল বিবেচনা করা হয়। পরিপূর্ণ সভ্যতা বিকাশের আগে খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০ সাল অর্থাৎ আজ থেকে ১০ হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে কৃষি ও কৃষি কাজে খাদ্যের জন্য পোষ মানিয়ে পশু পালনের চিন্তা মানুষের মাথায় আসে।
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার আগে মানুষ শিল্পকলা জানত না তা নয়, তবে তা ছিল লোকজ কালচারের অঙ্গ হিসেবে। মেসোপটেমিয়ায় প্রথম বারের মতো লোকজ কালচারকে সভ্যতার আবরণে মুড়ে পরিশীলিত করে ধাপে ধাপে প্রগতির পথে এগিয়ে নেয়া হয়।
মেসোপটেমিয়ায় সর্বপ্রথম যে সভ্যতার সূচনা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে, এখন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে। তাদের উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে নয়া লিখন পদ্ধতির ‘কিউনিফর্ম’ (Cuneiform), লেখা হতো কাদামাটির নরম শ্লেটে।
কিউনিফর্ম লিপি
সুমেরীয়দেরও দেবতার অভাব ছিল না। মিশরীয়দের মত তাদেরও প্রধান দেবতা ছিল সূর্য দেবতা। নাম ‘শামাশ’।
সুমেরীয় সভ্যতা; প্রাচীন ব্যাবিলন
সুমেরীয় সভ্যতা
মেসোপটেমিয় অঞ্চলের পরবর্তী বিখ্যাত সভ্যতার পত্তন হয় ২০৫০ খ্রিস্টপূর্বে। অ্যামোরাইট নামে সিরিয়ার মরুভূমি থেকে আসা একদল মানুষ এ সভ্যতা গড়ে তোলে। প্রাচীন পৃথিবীতে হাম্মুরাবি ছিলেন এ সভ্যতার প্রাণ পুরুষ। তাঁকে প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম আইন প্রণেতা হিসাবে গণ্য করা হয়। ভাষা ছিল কিউনিফর্ম। ব্যাবিলনের রয়েছে ‘গিলগামেশের মহাকাব্য’।
রাজা হামুরাবির প্রস্তর মূর্তি
আসিরিয় সভ্যতা
মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে টাইগ্রিস নদীর তীর ঘেঁষে ‘আশুর’ শহর ঘিরে গড়ে ওঠে আসিরিয় সভ্যতা। তাদের সভ্যতাল শুরুতে বিকাশ ঘটে কৃষিকাজ কেন্দ্র করে। শক্তি সঞ্চয় হলে সব যুগেই অন্য জনপদের দিকে নজর পড়ে। আসিরিয়রাও আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে এ কালের উপনিবেশবাদীদের মত লুটপাট করে নিজেদের জনপদ সম্পদশালী করে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়।
ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অস্ত্রশস্ত্র সেনাবাহিনী দরকার হয়। সে যুগে তারা তখনকার দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলা। কামান বন্দুক আণবিক বোমা বানানোর টেকনোলজি তাদের জানা ছিল না। তাই লোহার অস্ত্রপাতি তৈরি করে এখনকার ভাষায় গোলন্দাজ বাহিনী বা armoured corps গঠন করে। এখনকার ট্যাংকের প্রাচীন ভার্সনও তারা তৈরি করে, নাম যুদ্ধ রথ।
আসিরিয়রা যে লেখাপড়া পিছিয়ে ছিল না তারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। শেষ সম্রাট ‘আশুরবানিপাল’ কর্তৃক নির্মিত কিউনিফর্ম পদ্ধতিতে লেখা ২২০০টি কাদামাটির শ্লেট সম্বলিত লাইব্রেরি পাওয়া গেছে।
সব সভ্যতার পতন হয়। আসিরিয় সভ্যতা টিকে ছিল ৩০০ বছর, পতন হয় ৬১২ খ্রিস্টপূর্বে।
আসিরিয় সভ্যতা; ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাবিলন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ক্যালডীয় সভ্যতা। একে নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতাও বলা হয়। এ সভ্যতার স্বর্ণযুগে ক্ষমতার দেদীপ্যমান ছিলেন নেবুচাদনেজার। খ্রিস্টান, ইহুদি এবং মুসলমানদের ধর্ম পুস্তকে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তার সাম্রারাজ্যের অন্তর্গত জেরুজালেমে ইহুদিদের চিরাচরিত বেয়াড়াপনা এবং বিদ্রোহ করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাসভূমি জেরুজালেম ধ্বংস করে সবাইকে বন্দী করে ব্যাবিলনে নিয়ে আসেন। ইতিহাসে এর নাম Babylonian Captivity অর্থাৎ ব্যাবিলনে বন্দিদশা।
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান
প্রাচীন সপ্তাশ্চার্য ভিতর একটা নাম ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। এর নির্মাতা ছিলেন নেবুচাদনেজার। এমন একটা উদ্যান গড়ার জন্য তার রানীর শখ মেটাতে তিনি শহরের চারি দিকের দেয়ালের উপরে এ উদ্যানটি নির্মাণ করেন।
সম্রাট নেবুচাদনেজার।
শুধু ঝুলন্ত উদ্যান নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তাদের অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছে। দিনপঞ্জি রচনায় তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ক্যালডীয়রা সপ্তাহকে সাত দিনে এবং দিনকে ১২ জোড় ঘণ্টায় ভাগ করে। তারা আকাশে ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জ চিহ্নিত করে ১২টি রাশি চক্রের সৃষ্টি করেন। সে ধারণা সম্বল করে রাশিচক্র নিয়ে ব্যবসা করে এখনো অনেকে আয় রোজগারের ব্যবস্থা করে চলেছে। বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও তাতে বিশ্বাস করার লোকেরও অভাব নাই।
পূর্বসূরীদের মতো ক্যালডীয়দেরও দেবতার অভাব ছিল না। প্রধান দেবতা ছিল ‘মারডক’।
মেসোপটিয়া সভ্যতার সব থেকে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার। এ জন্য এখনো একটা কথা চালু আছে, You don’t have to reinvent the wheel. কারণ, মেসোপোটেমিয়ারা ছয় হাজার বছর আগে তা আবিষ্কার করেছে।
ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে পারস্যের পদানত হয়ে বেবিলন সভ্যতার পতন হয়।
সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা
সময় কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০-১৯০০
অবস্থান: সিন্ধু নদীর অববাহিকায়
আধুনিক উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান এবং উত্তর ভারত।
সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা প্রাচীন পৃথিবীর সব চেয়ে তিনটি পুরনো সভ্যতার একটি। সে তিনটার মধ্যে সাড়ে বারো লক্ষ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা ছিল সর্ববৃহৎ। পরবর্তীতে এ অঞ্চলে আরো অনেকগুলো সভ্যতা গড়ে ওঠে। আর্যরা মধ্য এশিয়া থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে এক নতুন সভ্যতা সাথে করে এনে যুগ যুগ ধরে উপমহাদেশে জনজীবনে যুগান্তকারী প্রভাব রেখেছে। আর্য সভ্যতাও এ অঞ্চলের গান্ধারা এলাকা থেকে শুরু হয়।
সিন্ধু নদীর অববাহিকায় সভ্যতা মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পা সভ্যতা নামে অভিহিত করা হয়।
সিন্ধু অববাহিকা সভ্যতার স্বর্ণ যুগ ছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত। সিন্ধু সভ্যতার রাজধানী নতুন এবং পরিশীলিত টেকনোলজি এবং উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এ অঞ্চলের সর্বপ্রথম শহর।
খনন করে যে সব দ্রব্যাদি খুঁজে পাওয়া গেছে তাতে প্রমাণ হয় তারা দৈর্ঘ্য, ঘনত্ব এবং সময় পরিমাপের জন্য কলাকৌশল ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করেছিল। চিত্র শিল্প, মৃৎশিল্প এবং আসবাবপত্র তৈরিতেও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিল।
মহেঞ্জোদারো
কোন এক রহস্যজনক কারণে এদুটো সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও সিন্ধু সভ্যতায় নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত যে আধুনিক নগর গড়ে উঠেছিল তা এ যুগের অনেক নগরীকেও হার মানায়।
ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের সড়ক ছিল, পানি সরবরাহের জন্য কূপসহ নানা ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ড্রেন , স্নানাগার , রাস্তায় ড্রেন ও সড়ক বাতি, নগরীতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল। মহেঞ্জোদারোর মেয়র সাহেবের নাম জানা যায় নাই তবে আধুনিক যুগের স্ট্যান্ডার্ডেও চার-পাঁচ হাজার বছর আগে তিনি যে এ যুগের অনেকের চেয়ে দক্ষ প্রশাসক ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই।
পারস্য সভ্যতা
সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০-৩৩১
অবস্থান: পশ্চিমে মিশর, উত্তরে তুরস্ক, মেসোপটেমিয়া থেকে সিন্ধু নদ
এক সময় সভ্যতার ধারক পারস্য সাম্রাজ্য ছিল দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্য।মাত্র দুই শত বছরে ২০ লক্ষ বর্গ মাইল ভূখণ্ডে পারস্য সাম্রাজ্য দক্ষিন মিশর থেকে, গ্রিসের একাংশ, পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশের একাংশ পর্যন্ত বিস্তার করেন। বিজ্ঞ সম্রাট এবং সামরিক শক্তি ছিল তাদের সাফল্যের মূলমন্ত্র।
সুবিশাল সাম্রাজ্য গড়ার পূর্বে পারস্যে কয়েক জন নেতা কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন খন্ডে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। কিন্তু সাইরাস, যাকে পরে সাইরাস দি গ্রেট নামে অভিহিত করা হয়, পারস্যকে একীভূত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। শুরুতেই তিনি ব্যবিলন দখল করেন। তিনি এত দ্রুত গতিতে সাম্রাজ্যঃ সম্প্রসারণ করে চলেছিলেন যে ৫৩৩ খ্রিষ্টপূর্বে সুদূর ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেন।
সাইরাসের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরিরাও দ্বিগুন উৎসাহে সাম্রাজ্য সম্প্রসারনের জন্য দিকে দিকে অভিযান চালান। সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছে তারা সমগ্র মধ্য এশিয়া এবং মিশর সাম্রাজ্যের আওতাভুক্ত করে ফেলে।
তাদের বিজয় রথ থেমে যায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০ সালে। মেসিডোনিয়ার কিংবদন্তির সমর নায়ক আলেকজান্ডার দি গ্রেট তাদের পদানত করে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটান।
পারস্যের সম্রাট সাইরাস-২ দি গ্রেট: আচেমিও সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা
পারস্য রাজারা আধুনিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, ডাক ব্যবস্থা প্রচলন করেছিল।
পারস্য রাজাদের শাসন ব্যবস্থা অবকাঠামো নির্মাণের টেকনোলজি ইত্যাদি বিষয়ে পরবর্তী অনেক সাম্রাজ্য এমনকি মোগল সাম্রাজ্যও অনুকরণ করেছিল। দিল্লির পাঠান সম্রাট শেরশাহ পারসিক সম্রাটদের রীতিনীতি অবলম্বন করে রাজ্য পরিচালনা করেন। পারস্য রাজাদের অনুকরনে তিনি তৈরি করেন গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড, প্রচলন করেন ঘোড়ার ডাকের ব্যবস্থা।
বিখ্যাত পারস্য সম্রাট দারিয়ুসকে Darius the Great নামে অভিহিত করা হয়। তার সম্রাজ্য ইউরোপের দানিয়ুব নদীর তীর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার পাঞ্জাব নাগাদ বিস্তৃত ছিল।
আনাতোলিয়া সভ্যতা
প্রাচীনকাল থেকেই তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলটি ছিল সভ্যতার সূতিকাগার–নানা জাতির মিলন কেন্দ্র। এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন শক্তির মধ্যে বেজে উঠেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি।
আনাতোলিয়ায় সভ্যতার বিকাশ ঘটতে থাকে নয়া নিওলিথিক যুগে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নিওলিথিক যুগ শুরু হয় প্রায বার হাজার বছর আগে। নয়া প্রস্তর যুগে মানুষ শিকার ছেড়ে পশুপালন ও চাষবাসের দিকে মনোযোগ দেয়। ৫০-৬০ পরিবার-পরিজনের সদস্যদের নিয়ে এক একটা ইউনিটে বাস করত।
নয়া প্রস্তর যুগের শেষ দিকে আনাতোলিয়া অঞ্চলের শাসন কেন্দ্র কাটালহয়ুকের লোক সংখ্যা ছিল ছয় হাজার। বর্তমান প্রেক্ষিতে সংখ্যাটি এমন কিছু বড় নয়, তবে প্রাগৈতিহাসিক যুগে তা’ ছিল পৃথিবীর সব চেয়ে জনবহুল শহর।
আনাতোলিয়া–হিট্টাইট সভ্যতা
আনাতোলিয়া সভ্যতা ক্রমবিকাশের ধারাবাহিকতায় চার হাজার বছর আগে কৃষ্ণ সাগরের ওপার থেকে প্রাচীন যুগের অন্যতম সভ্য হিট্টাইট জাতি আনাতোলিয়া হাজির হয়। তারা নিজস্ব কালচারের সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কালচারের মেলবন্ধন এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে উন্নত এক সভ্যতা গড়ে তোলে।
হিট্টাইটরা লোহা উৎপাদন এবং তা থেকে আসবাবপত্র ও অস্ত্রপাতি তৈরিতে দক্ষ ছিল। তাদের তৈরি তীরের ফলা, কুঠার, বর্শাসহ নানা ধরনের দ্রব্যাদির সন্ধান পাওয়া গেছে।
হিট্টাইটরা আনাতোলিয়া এসে থেমে যায়নি। সিরিয়া পর্যন্ত তাদের প্রভাববলয় বিস্তার করলে মুখোমুখি হয় সে যুগের অন্যতম বড় শক্তি মিশরের সাথে। তখন দ্বিতীয় রামেসিস ছিলেন মিশরের ফারাও যাকে আমরা জানি ফেরাউন নামে।
খ্রিস্টপূর্ব ১২৮৬ সালে হিট্টাইট ও মিশরীয়রা শক্তি পরীক্ষায় লেগে গেল। সে যুদ্ধের রণকৌশল ও অন্যান্য ঘটনার বিবরণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। দুই বছর যুদ্ধের পরও জয় পরাজয়ের মীমাংসা না হাওয়ায় তারা শান্তি চুক্তি করে। এটা ছিল ইতিহাসের প্রথম লিখিত শান্তি চুক্তি।
আনাতোলিয়ায– ফিজিয়ান সভ্যতা
কোন শক্তি চিরকাল স্থায়ী হয় না। ইউরোপের উন্নত ফিজিয়ান জাতি হিট্টাইটদের পরাভূত করে আনাতোলিয়ায় একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র রাজ্য গঠন করে। কিংবদন্তির মাইডাস যার হাতের ছোয়ায় সব কিছুই স্বর্ণে পরিণত হয়ে যেত, তিনি ছিলেন এই ফিজিয়ান রাজবংশে একজন রাজা।
রাজা মাইডাসের কোন একটা কর্মে মুগ্ধ হয়ে সুরা বা মদের দেবতা তার একটা ইচ্ছা পূরণে সম্মত হন। রাজা চাইলেন, আমি যাতে হাত দিব তাই যেন স্বর্ণের পরিনিত হয়। দেবতা বললেন, ব্যাটা তোমার কপালে দুঃখ আছে, তুমি অন্য কিছু চাও। মাইডাস গোঁ ধরলেন, না, আমার সোনাই চাই। তথাস্তু, ইচ্ছা পূরণ করে দেবতা অলিম্পিক পর্বতে তাঁর বাসস্থানে ফিরে গেলেন।
রাজা মাইডস
দেবতার সাথে দীর্ঘ সময় বাহাস করে তাঁর ক্ষুধা পেয়ে গিয়েছিল। খেতে বসে এক টুকরা মাংসে হাত নিলে তা সঙ্গে সঙ্গে সোনায় পরিণত হয়। যাতেই হাত লাগে সোনা হয়ে যায়। ক্ষুধার যন্ত্রণায় তার প্রাণ ওষ্ঠাগত। মাইডাসের বোধোদয় হলো, এ ইচ্ছেটা না করাই ভালো ছিল। তাঁর করুণ অবস্থা দেখে মাইডাসের অতি আদরের কন্যা তাঁর গলা জড়িয়ে ধরলো। ব্যস, সাথে সাথে সোনার মূর্তিতে পরিণত হয়ে গেল (উপরের ছবিতে দেখুন)। রাজা নদীর কাছে গিয়ে কান্না শুরু করে দিলেন। নদীর বালি স্বর্ণ কণায় পরিণত হয়ে গেল। তাঁর চোখের জলে ইচ্ছেটা ধুয়ে মুছে আবার স্বাভাবিক মানুষে পরিণত হলেন।
ফিজিয়ান রাজ্যকে ঘিরে আরো অনেক কিংবদন্তি আছে। তার একটি গর্ডিয়ান নট। বাংলায় বলা যায় গর্ডিয়ান গিট্টু। বড্ড জটিল গিট্টু। ফিজিয়ান রাজা রাজ্যের প্রবেশ দ্বারে একটা বিমে এ গিট লাগিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যিনি তা খুলতে পারবেন তিনি ভবিষ্যতে এশিয়া শাসন করবেন। কিংবদন্তি আছে, মহাবীর আলেকজান্ডার সে গর্ডিয়ান নট তরবারির একটা আঘাতে দ্বিখন্ডিত করে এশিয়ায় প্রবেশ করেন।
আনাতোলিয়া –লিডিয়া সভ্যতা
রাজা আসে রাজা যায়। খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সালে আনাতোলিয়ার পশ্চিমে লিডিয়ায় এক উন্নত সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। লিডিয়ার রাজা ক্রয়েসাস সে যুগের অন্যতম সুন্দর রাজধানী গড়ে তোলেন। এর পর পারস্য সাম্রাজ্যের শক্তিশালী সম্রাট সাইরাস খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৬ সালে রাজ্যটি দখল করেন।
ক্ষমতার পালাবদলের নিয়মে আলেকজান্ডার পার্শিয়ানদের হটিয়ে আনাতোলিয়া কেড়ে নেন। এর পর দৃশ্যপটে উদয় হয় রোমানদের।
আলেকজান্ডার দি গ্রেট
রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার বিনা যুদ্ধে আনাতোলিয়া দখল করে যে উক্তি করেছিলেন তা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে—veni vidi vici, আসলাম দেখলাম জয় করলাম।
প্রাচীন চীন সভ্যতা
সময় কাল: খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০-১০৪৬
অবস্থান: ইয়েলো নদী এবং ইয়াংসি অঞ্চল
চীন সভ্যতা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রধান বহুমুখী সভ্যতা। চীন দেশে যে সমস্ত বংশ প্রথম থেকে শেষ নাগাদ রাজত্ব করেছে তা হিসাবে আনলে চীন সভ্যতার ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিশাল।
চীন সভ্যতার গোড়াপত্তন হয় ইয়েলো নদীর অঞ্চলে। খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ সালের কাছাকাছি সময় কিংবদন্তির সম্রাট তার শাসন শুরু করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে অনেক বংশ চিন ভূখণ্ডে শাসন করেন।
খ্রিস্টপূর্ব ২০৭০ সালে Xia dynasty সর্বপ্রথম সমগ্র চীন ভূখন্ড শাসন করতেন। তারপর এক এক বংশ বিভিন্ন সময় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। পরিশেষে ১৯১২ সালে Xinhai বিদ্রোহের ফলে Qing dynasty পতন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তত দিনে চীন সভ্যতা দুনিয়াকে অনেক কিছু প্রয়োজনীয় আবিষ্কার এবং পণ্য উপহার দিয়েছে। এর মধ্যে বারুদ কাগজ মুদ্রণ শিল্প, কম্পাস, কামান এবং অন্যান্য অনেক ব্যবহারিক এবং তাত্ত্বিক জ্ঞান ও চিন্তাধারা।
চীনারা বিশ্বাস করতো তাদের সমৃদ্ধির পেছনে ড্রাগনের ভূমিকা রয়েছে। চীনের বিভিন্ন শাসনামলের মধ্যে রয়েছে হুয়াংতি রাজা, শাং রাজা, চৌ রাজাদের শাসন। চৈনিক সভ্যতার প্রত্যেকের কিছু কিছু আলাদা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল। চীনের প্রাচীন দার্শনিক ছিলেন লাও জু। তার চিন্তাকে নাম দেয়া হয় তাওবাদ। চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন কনফুসিয়াস। কনফুসিয়াসের প্রধান অনুসারী মেনসিয়াসও বিখ্যাত।
চীনাদের মধ্যে পূর্বপুরুষ পূজার রীতি চালু ছিল। চীনা বিশ্বাস মতে, পূর্বপুরুষদের আত্মার প্রভাব পড়ে বংশধরদের উপর। তাই পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির জন্য তারা খাবার উৎসর্গ করতেন।
শুনতে অবাক লাগতে পারে, বিশ্বকোষ প্রণয়নের সূত্রপাত ঘটে সতের’শ বছর আগে সভ্যতার অন্যতম সূতিকাগার চীন দেশে। তৃতীয় শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী নাগাদ চীনের পন্ডিত বর্গ ও আমলারা মিলে ৬০০ চাইনিজ স্টাইলে বিশ্বকোষ প্রণয়ন করেন। তার প্রায় দু’শটি এখনো টিকে আছে এবং প্রায় ২০ টি ঐতিহাসিকরা ব্যবহার করে থাকেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজবংশের নির্দেশে চীনারা বিশ্বকোষ প্রণয়ন করতে থাকে। কিং (Qing) রাজবংশের সময় প্রণীত বিশ্বকোষে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তুলনায় তিন চার গুণ বেশি তথ্য সন্নিবেশ করা রয়েছে। চীনের বিশ্বকোষ শুধু তথ্য ভান্ডার নয় বরং অভিধানও বট
গ্রিক সভ্যতা
সময় কাল; খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০–৪৭৯
অবস্থান: ইটালি, সিসিলি, উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিমে সুদূর ফ্রান্স পর্যন্ত
প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা সবচেয়ে পুরনো না হলেও দুনিয়ার বুকে অন্যতম যুগান্তকারী সভ্যতা।
গ্রীক সভ্যতার স্থায়ীকাল এত দীর্ঘ যে ঐতিহাসিকরা তা তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেছে: সনাতন ক্লাসিকাল এবং হেলেনিক যুগ। এত দীর্ঘ সময় যে সমস্ত গ্রিক পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন তাঁরা দুনিয়ায় চিন্তাধারার ক্ষেত্রে মানুষকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। তাদের কথা এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
পৃথিবীর মানুষকে তারা যে সব উপহার দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অলিম্পিকস এবং গণতন্ত্র ও সিনেট সম্পর্কে ধারনা। জ্যামিতি, জীববিদ্যা, পদার্থবিদ্যার ভিত্তি রচনা করেছেন। পিথাগরাস, আর্কিমিডিস সক্রেটিস ইউক্লিড প্লেটো অ্যারিস্টোটল আলেকজান্ডার দি গ্রেট, তাদের আবিষ্কার, থিওরি, মতবাদ এবং শৌর্যবীর্য পরবর্তী সভ্যতাকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছিল।
গ্রীক সভ্যতার আমলে এথেন্সে তৈরি হয়েছিল আধুনিক গণতন্ত্রের কাঠামো। সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছিল তার নাগরিকদের। গ্রিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসক পেরিক্লিস এথেন্সের ক্ষমতায় বসেন ৪৬০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। এই যুগকে এথেন্সের স্বর্ণযুগ বলা হয়। কিন্তু এক সময় স্পার্টার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পেলোপনেসীয় ও এথেন্সের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ডেলিয়ান লীগের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায় এবং এথেন্সের পতন হয়। এরপর এথেন্স স্পার্টার অধীনে চলে যায়।
ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন। নগর রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে ঝগড়া ফ্যাসাদ হতো না তা নয়। তবে বহিঃশত্রুর আক্রমণ করলে তারা যৌথভাবে তা মোকাবেলা করতে। বারবার পারস্য সাম্রাজ্যের আক্রমণ ঠেকাতে তারা যূথবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে। একবার ম্যারাথন অঞ্চলে শক্তির মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধে গ্রীকরা জয়লাভ করলে একজন গ্রিক সেনা ৪৩ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে দ্রুত এথেন্সে সংবাদ বয়ে আনে, কিন্তু পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার স্মরণে এখনো অলিম্পিক গেমসের ম্যারাথন দৌড়ের একটা আইটেম রাখা হয়েছে।
দর্শন ইতিহাস জ্যোতির্বিজ্ঞান চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে গ্রিক সভ্যতা মূল্যবান অবদান রেখেছে। মানুষ ও পৃথিবীর উৎস সম্পর্কে ‘সফিস্ট’ (Sophist) নামের এক শ্রেণীর যুক্তিবাদী দার্শনিকের উদ্ভব হয়। বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক পেরিক্লিস এই সফিস্টদের দ্বারাই অনুপ্রাণিত ছিলেন।
দার্শনিক সক্রেটিস
বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের চিন্তা-ধারা ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু গ্রিসের রাজন্যবর্গ যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাকে ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বে হেমলক বিষ খাইয়ে হত্যা করে। তার ছাত্র দার্শনিক প্লেটো ‘রিপাবলিক’ বইটিতে আদর্শ রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করেন, কিন্তু কোথাও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি সক্রেটিসের দর্শন সম্পর্কে ‘ডায়ালগস অব সক্রেটিস’ নামের আরেকটি গ্রন্থ লিখে রেখেছেন। নাট্যকার এসকাইলাস লেখেন ‘প্রমিথিউস বাউণ্ড’ এবং ‘আগামেমনন’ নামের দুটি নাটক। একশোটিরও বেশি নাটক লেখেন সফোক্লিস। হেরোডেটাসকে বলা হয় ইতিহাসের জনক। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ছিলেন ‘হিপোক্রেটাস’। সূর্যের আলোর প্রতিফলন আমাদের পৃথিবীতে আসে অথচ তিনিই প্রথম উপস্থাপন করেন। এরিস্টটল, পিথাগোরাস এবং টলেমির মতো এক ঝাঁক রত্ন গ্রিক সভ্যতাকে মহিমান্বিত করেছিলেন।
হেলেনিস্টিক সভ্যতা
গ্রিসের উত্তরে মেসিডন অঞ্চলে গড়ে ওঠে নতুন সভ্যতা যা হেলেনিস্টিক সভ্যতা নামে পরিচিত। রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ ৩৫৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই ভূখণ্ডের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পারস্যের বিরুদ্ধে গ্রিক শক্তিগুলোকে একত্র করে তিনি হেলেনিক লিগ তৈরি করেন। গুপ্তঘাতকের হাতে ফিলিপ মারা যাওয়ার পর তার ছেলে বীর আলেকজান্ডার পারস্য দখল করেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে ৩২৩ খ্রিস্টাপূর্বাব্দে ব্যাবিলনে মারা যান আলেকজান্ডার। ইতিহাসে তিনি ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট’ নামে পরিচিত। তার মৃত্যুর পর সেনাপতিরা নিজেদের মধ্যে বিশাল সাম্রাজ্য ভাগ করে নেন। হেলেনিস্টিক সভ্যতায়ও প্রচুর জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা হতো।
রোমান সভ্যতা
সময় কাল খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ থেকে ৪৬৫ খ্রিস্টাব্দ
রোমান সাম্রাজ্য খ্রিস্ট জন্মের প্রায় ৬০০ বছর আগে দৃশ্যপটে উদয় হয়। রোম নগরীর স্থাপনের ব্যাপারে একটা বহুল প্রচলিত কিংবদন্তি রয়েছে। ল্যাটিনদের রাজা রোমিউলাস রোম নগরীর পত্তন করেন।
ক্ষমতার মধ্য গগনে রোম সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোসহ বিশাল ভূখণ্ড বিস্তার লাভ করেছিল।
প্রাচীন রোমে রাজারা শাসন করতেন কিন্তু তাদের মাত্র ৭ জন ক্ষমতায় থাকতে পারেন। জনগণ তাদের নিজেদের শহর শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। পরে একটা কাউন্সিল গঠন করে যার নাম সিনেট। রোমের শাসনভার সিনেটের উপর ছেড়ে দেয়া হয়। এভাবে প্রতিষ্ঠা হয় রোমান রিপাবলিক। রোমের বিখ্যাত শাসনকর্তাদের মধ্যে জুলিয়াস সিজার, ট্রাজন অগাস্টাস উল্লেখযোগ্য নাম।
প্রাচীন পৃথিবীতে রোমান সাম্রাজ্য পৃথিবীর শাসন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক কাঠামো মুদ্রা প্রচলন আইন প্রণয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। এখনো বিভিন্ন দেশের রোমান আইনের আদলে অন্যান্য আইন তৈরি করা হয়েছে।
আইনের শাসন তৈরি করলেও রোমানদের দাস ব্যবস্থা নিষ্ঠুরতার একটা বড় উদাহরন হিসেবে রয়ে গেছে। তারা মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। নেহায়েৎ আমোদ-প্রমোদের জন্য তারা গ্লাডিয়েটরদের মধ্যে অস্ত্র যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে সম্রাট সহ দর্শকদের বিনোদনের ব্যবস্থা করতেন। শয্যাশায়ী পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিহত করার জন্য সম্রাটের সিগন্যাল পেলেই তার বুকে বসিয়ে দিত তরবারি।
১১০ খ্রিস্টপূর্বৈ পর থেকে রোম জড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী অন্তর্দ্বন্দ্বে। বিখ্যাত জুলিয়াস সিজারকে তার এক ঘনিষ্ঠজন বুকে ছুরি বসিয়ে হত্যা করে। ঘনিষ্ঠজনের বিশ্বাসঘাতকতায় অবাক হয়ে জুলিয়াস সিজার যে উক্তি করেছিলেন তা ইতিহাসের পাতায় স্থান নিয়েছে–ব্রুটাস তুমিও !!
জুলিয়াস সিজার
সিজারের মৃত্যুর পর রোমে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এসময় উত্থান ঘটে অক্টাভিয়ান সিজার, মার্ক অ্যান্টনি ও লেপিডাসের। পরবর্তীতে অক্টাভিয়ান সিজার লেপিডাসকে পরাজিত করেন
মায়া সভ্যতা
সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ
অবস্থান: বর্তমান মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভেদর, বেলিজ
প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মধ্য আমেরিকায় বিশাল এলাকা জুড়ে প্রাচীন পৃথিবীর অবিশ্বাস্য রকমের সমৃদ্ধ মায়া সভ্যতা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। পুরাতত্ত্ববিদেরা হিসেব করে বলেছেন সভ্যতার যখন রমরমা অবস্থা তখন জনসংখ্যা পৌঁছে যায় এক কোটিতে।
সেন্ট্রাল আমেরিকায় মায়া সভ্যতার অবস্থান
মায়াদের প্রাচীন শহর ইউকাতান থেকে বাঙ্গালীদের অতি পরিচিত মায়া শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে। ইউকাতান ছিল মায়া সাম্রাজ্যের শেষ রাজধানী খ্রিষ্টপূর্ব (২০০০-২৫০ খ্রিষ্টাব্দ)। এ সভ্যতা টিকেছিল প্রায় ২৫০০ বছর। প্রায় ১৫০০ বছর পূর্বে বর্তমান ইংল্যান্ডের দ্বিগুণ জায়গা জুড়ে মায়া
মায়া সভ্যতার সুদীর্ঘ সাড়ে চার হাজার বছর স্থায়ী কালকে তিনটি যুগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। (১) প্রি-ক্লাসিক যুগ (২) ক্লাসিক যুগ, ও (৩) পোস্ট ক্লাসিক যুগ।
বয়স বিবেচনায় মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু অববাহিকা এবং মিসরের সভ্যতার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও মায়ারা সভ্যতার পথে যাতায়াত শুরু করার প্রায় এক হাজার বছর পরে চীন সে পথে গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে শুরু করেছে, পরাক্রমশালী পারস্য ও রোমানদের সভ্যতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেতে আরও দুই হাজার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। শিল্প বিপ্লবের আগে ইউরোপকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো বহু যুগ। যখন গ্রিক ও রোমান সভ্যতার বাইরে ইউরোপের জনপদ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন মায়ারা তখন সভ্যতার প্রদীপ জ্বালিয়ে চারিদিকে উদ্ভাসিত করে ফেলেছিল।
যখন গুটিকয়েক প্রাচীন সভ্যতার বাইরে মানুষ জানত না কীভাবে আবাস গড়তে হয়, সে সময়ে মায়ানরা গড়ে তুলেছিল উঁচু উঁচু স্থাপনা, সমৃদ্ধ করেছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগত, উদ্ভাবন করেছিল এমন অনেক কিছু, যা ঐ সময়ের তো বটেই, এ মানুষকেও বিস্ময়ে অভিভূত করে।
দুনিয়ার রীতি–সাম্রাজ্য ও সভ্যতা ধীর লয়ে শুরু হয়, এক সময় সমৃদ্ধির মধ্য গগনে পৌঁছে যায়, তারপর শুরু হয় পতন।
মায়া উন্নতির মধ্যগগনে পৌঁছে সভ্যতার দীপ্তি ক্ষীণ হতে হতে এক সময় বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। পুরাতত্ত্ববিদেরা ঊনবিংশ শতাব্দীতে মায়াদের রেখে যাওয়া স্থাপনা, পুঁথি পত্র ও অন্যান্য আলামত বিচার-বিশ্লেষণ করে তাদের অবিশ্বাস্য সমৃদ্ধির কথা শুনিয়ে দুনিয়ার মানুষকে চমকে দেন।
পোশাক-আশাক
তখনকার লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা পশুর চামড়া ও পশম দিয়ে তৈরি কাপড়চোপড় পরতো। গ্রীষ্মকালে পুরুষেরা উদোম গায়ে থাকলেও শীতকালে নারী পুরুষ নির্বিশেষে কম্বল দিয়ে তৈরি পোশাক পরতো। মেয়েদের মত ছেলেরা লম্বা চুল রাখতো। বিবাহিত মেয়েরা শরীরে উল্কি লাগিয়ে নো ভ্যাকান্সি নোটিশ টানিয়ে দিত। ভুট্টা দিয়ে তৈরি খাদ্য তাদের প্রধানত প্রোটিনের যোগান দিত।
জ্যোতির্বিদ্যা
তাদের চিন্তা ভাবনা শুধু মাটির দুনিয়ায় আবদ্ধ ছিল না আকাশের গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য কিভাবে উৎপত্তি হয়েছে ও তাদের গতিবিধি সম্পর্কে নানা তথ্য রেখে গেছে। মঙ্গল ও বৃহস্পতি তাদের গবেষণার বাইরে ছিল না।
মায়াদের তৈরি জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত জটিল চিত্র
মায়া ক্যালেন্ডার
মায়ানরা সময় গণনার ক্ষেত্রে অদ্ভুত বিচক্ষণতার পরিচয় রেখে গেছে। তাদের হিসাব মতে এক বছর সমান ৩৬৫.২৪২০ দিন। বহু শতাব্দী পরে অনেক হিসাব-নিকাশ, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আধুনিক যুগে বের করেছে এক বছরের সমান ৩৬৫.২৪২৫। প্রকৃত সময়ের এত কাছাকাছি কি করে তারা পৌঁছেছিল তা ভাবলে অবাক লাগে।
বিশটা প্রতীক এবং দশটি সংখ্যা বিশিষ্ট মায়াদের তৈরি ক্যালেন্ডার
চান্দ্রমাস চন্দ্র ও চান্দ্র বছরের ব্যাপ্তিও তারা নিখুঁত ভাবে নির্ণয় করেছিল। অথচ বেশি দিনের কথা নয় ষষ্ঠদশ শতাব্দীতেও সূর্যের চারপাশে পৃথিবী চক্কর দেয় বলে যে মতবাদ প্রকাশ করার জন্য গ্যালিলিওকে ভ্যাটিকানের ধর্ম পণ্ডিতেরা ফাঁসিতে চড়ানোর মতলব করেছিল।
লিখন পদ্ধতি
ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী থেকেই মায়ানরা ভিন্ন স্টাইলে হায়ারোগ্লিফিক পদ্ধতিতে ছবি এঁকে ক্যালেন্ডার তৈরি করত। সমস্ত আমেরিকান সভ্যতার তুলনায় মায়ারা লেখার জন্য সবচেয়ে উন্নত রূপ আবিষ্কার করেছিল, যা গ্লাইফস নামে পরিচিত। গ্লাইফস হচ্ছে ছবি বা চিহ্নের মাধ্যমে কোনো বর্ণ বা সাউন্ডকে বর্ণনা করা।
লেখার জন্য মায়ানরা প্রায় ৭০০টিরও অধিক গ্লাইফস ব্যবহার করত। আশ্চর্যজনকভাবে মায়ানদের ব্যবহৃত গ্লাইফসের প্রায় ৮০ শতাংশ বর্তমান সময়ে এসেও পাঠোদ্ধার করা গেছে। মায়ারা তাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন ছিল। তাই তারা তাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের বিবরণ পিলার, দেয়াল এবং পাথরে লিখে রাখত। শুধু তা-ই নয়, তারা বইও লিখত। বইয়ের বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই থাকত ঈশ্বর, প্রাত্যহিক জীবনযাপন এবং রাজাদের নানা কথা।
লেখার জন্য গ্লাইফাস
ওষুধ
রোগ ব্যাধির কারণ এবং ধর্ম ও বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তা উপশমের উপায় বের করেছিল। কেটে ছিঁড়ে গেলে সেলাই করা শিখেছিল, হাড় ভেঙে গেলে প্লাস্টার, দাঁতের ফাঁকে ফিলিং করার টেকনিক রপ্ত করেছিল। দেড় হাজারেরও বেশি গাছপালা থেকে ওষুধ তৈরি করতো।
ধর্ম ও বিজ্ঞান ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি
শিল্পকর্ম
মায়াদের শিল্পকলা ছিল যুগের তুলনায় অনেক অগ্রসর। কাঠের শিল্পকর্ম, কাচের শিল্প, মৃণ্ময় পাত্র, পাথরের শিল্পকর্ম, দেয়াল লিখন আজও মানুষের মনে বিস্ময় উদ্রেক করে।
কি সুন্দর শিল্পকলা
প্রাচীন যুগে এত সুন্দর শিল্প ভাবতেই অবাক লাগে
মুখোশ
মায়ানরা বিশ্বাস করত পাতাল থেকে দৈত্য এসে তাদেরকে মেরে ফেলতে পারে। এসব দৈত্যদের ভয় দেখাতে মায়ানরা বিভিন্ন মুখোশ পরত। তাদের মুখোশগুলো ছিলো মূলত দৈত্যদের ভয়ের প্রতীক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পাতাল থেকে নয় আটলান্টিকের ওপার থেকে স্প্যানিশ দর্সুরা এসে তাদের শেষ চিহ্নটুকু ধূলায় মিশিয়ে দেয়।
ভয়ঙ্কর মুখোশ
পিরামিড
অন্যান্য সমসাময়িক সভ্যতার তুলনায় মায়ারা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক উন্নত ছিল। মায়া এবং আজটেকরা অনেকগুলো পিরামিড তৈরি করেছিল যার কয়েকটি মিশরীয় পিরামিডের চেয়ে বড়।
মায়াদের তৈরি বিশালাকৃতির পিরামিড
মায়া সভ্যতা কি করে হঠাৎ পতন শুরু হলো এবং তারা কোথায় বা হারিয়ে গেল ইতিহাসের এক রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে। তাদের বংশধররা এখনো সেন্ট্রাল আমেরিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইনকা সভ্যতা
সময় ১৪৩৭-১৫৩২
বর্তমান পেরু ইকুয়েডর এবং চিলি অঞ্চলে ইনকা সভ্যতা কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের পূর্বে সবচেয়ে বড় সভ্যতা। বর্তমান পেরুতে ছিল তাদের প্রধান শাসনকেন্দ্র এবং দুর্গ।
ইনকারা অত্যন্ত উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলে। মিশরের ন্যায় মৃতদেহ মমি করার কলা কৌশল আয়ত্ত্ব করেছিল। মিশরীয়দের মত এদের প্রধান দেবতাও ছিল সূর্য দেবতা। তাদের দেবতার নামটা কিছু ভিন্ন: ইন্তি। তারা রাজাকে মনে করতেন সাপা ইনকা অর্থাৎ সূর্যের পুত্র।
ইনকাদের সূর্য দেবতা
ইনকা রাজ্যের প্রথম সম্রাট Pachacuti একটা গ্রামকে সমৃদ্ধশালী নগরে পরিণত করেন। তিনি ট্রাডিশন অনুযায়ী পূর্বপুরুষের পূজা করতেন। তার মৃত্যুর পর শাসনভার পুত্রকে দেওয়া হতো কিন্তু সম্পত্তি আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হতো। ফলে তাদের মধ্যে রেষারেষি কম হতো, রাজার উপর শ্রদ্ধাবোধ থাকতো। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মিশরীয়দের মত রাজাকে মমি বানিয়ে রাখত।
তাদের নির্মাণশৈলী ছিল অত্যন্ত উচ্চ স্তরের। তাদের স্থাপিত মাচুপিচু এবং রাজধানী শহর Cusco এখনো বিষ্ময় উদ্রেক করে।
ইনকাদের তৈরি মাচুপিচু শহর
মিশরীয়দের মত ইন করাও প্রেমের তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিল।
ইনকাদের তৈরি পিরামিড
আজটেক সভ্যতা
সময় কাল ১৩৪৫-১৫২১
কলম্বাস হানা দেওয়ার আগে মধ্য আমেরিকার বিখ্যাত মায়া সভ্যতার পতন হলে প্রায় ১০০ বছর পরে দৃশ্যপটে আসে আজটেক সভ্যতা। যে সময় আজটেক সভ্যতার উদ্ভব হয় তখন দক্ষিণ আমেরিকায় ইনকা সভ্যতা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বর্তমান মেক্সিকোর তিনটি শক্তিশালী গোষ্ঠী তিনটা নগরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল। ১৩২৫ সালের কাছাকাছি তারা ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে একটা শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলে।
তাদের সামরিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল Tenochtitlan শহরে। সেখান থেকে তারা নতুন অঞ্চল দখল করতে থাকে। তবে, রাজা অধিকৃত অঞ্চলের শাসনভার ক্ষমতা গ্রহণ করতেন না। স্থানীয়দের উপর শাসনভার ছেড়ে দিতেন। বিনিময়ে তাদের মোটা অংকের কর প্রদান করতে হত।
ষোড়শ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে ত্রি-শক্তি সম্মিলিত আজটেক সভ্যতা যখন উন্নতির মধ্যগগনে তখন কুখ্যাত হারনান কর্টৈজ স্পেন থেকে তার লুটেরা বাহিনী নিয়ে হাজির হয়। চূড়ান্ত যুদ্ধ আজটেকরা পরাজিত হলে সে সভ্যতার উপর যবনিকা নেমে আসে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant & Political Analyst)
বিভাগ (Category): রাজনীতি, জাতীয়
প্রকাশের তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ সংক্রান্ত দলিল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (NCC) প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সরকারি বিবৃতি এবং প্রথম আলো, সমকাল, বিডিনিউজ২৪ বাংলার প্রতিবেদন।
ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোয় যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসল ছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশন ও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত এই সনদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক জাতীয় গণভোটে প্রায় ৬৮.২৬ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পায়। কিন্তু স্বাক্ষরের এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে গভীর মেরুকরণ—যা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর একটি।
জুলাই সনদে কী আছে?

সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। সনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন, যেখানে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে গঠিত হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও মেয়াদে স্পষ্ট সীমারেখা টানা হয়েছে—একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না, এবং প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন না। জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার প্রস্তাবও সনদের একটি মূল স্তম্ভ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের বাজেট ও অনাস্থা প্রস্তাব ব্যতীত অন্যান্য বিলে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সনদে গুরুত্ব পেয়েছে।

সনদে কী নেই বা অস্পষ্ট রয়ে গেছে?
ব্যাপক পরিসরের এই সংস্কার প্রস্তাবনার পরও সনদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, সংবিধানের মৌলিক চারটি মূলনীতি পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারী অধিকার, গণমাধ্যম, শ্রম অধিকার ও স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুনির্দিষ্ট সুপারিশগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (NCC) এই সনদে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি—এগুলোকে দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংসদে নারীর আসন সংখ্যা বাড়ানোর সাধারণ প্রতিশ্রুতি থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি। আর সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার অনুপস্থিতি—গণভোটে জয়লাভের পর ঠিক কবে নাগাদ এই সংস্কারগুলো আইনি রূপ পাবে, তার কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা রাজনৈতিক সংকটের কারণে কার্যত থমকে গেছে।
দুই পক্ষের অবস্থান: কোথায় মূল বিরোধ?
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন স্পষ্টভাবে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর অবস্থান হলো, জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে, তবে তা দেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক ও সংসদীয় কাঠামোর মধ্য দিয়েই করতে হবে। তাদের যুক্তি, রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সংসদকে বাইপাস করে পৃথক কোনো ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে; বরং সংবিধান সংশোধনের কাজ নির্বাচিত সংসদের স্বাভাবিক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাভুটির মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। বিএনপি নিজেকে সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা সনদের মূল চেতনার বিরোধী নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রেখে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতিতেই এটি বাস্তবায়ন করতে চায়।
অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের দাবি হলো, গণভোটের রায় অনুযায়ী সনদকে হুবহু এবং দ্রুততার সাথে কার্যকর করতে হবে। তাদের মতে, যেহেতু দেশের প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ গণভোটে সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাই কোনো নির্বাচিত সংসদ বা রাজনৈতিক দলের এই গণরায়কে বিলম্বিত করার বা একে সাধারণ সংশোধনী প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করার নৈতিক অধিকার নেই। তারা অভিযোগ করছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ক্ষমতার রাজনীতির কারণে সংস্কার প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে এক ধরনের আপসের শামিল। এই পক্ষের যুক্তি হলো, পুরনো সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সংশোধনী আনলে ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পুনর্বাসনের ঝুঁকি থেকে যায়—তাই সনদে প্রস্তাবিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর মাধ্যমেই নতুন আইনি রূপরেখা প্রণয়ন করা উচিত।
বর্তমান পরিস্থিতি: অনিশ্চয়তা অব্যাহত
২০২৬ সালের অক্টোবরে এসেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো সমাধান আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের খবর উঠে এসেছে, এবং স্বচ্ছতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-ও সংস্কার বাস্তবায়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গণভোটের ফলাফলের সাথে বাস্তবায়নের সময়রেখার সম্পর্ক নিয়েও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, একটি সংস্কার সনদে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যতটা কঠিন, তার চেয়েও বেশি জটিল হতে পারে সেই ঐকমত্যকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া।
বিশ্লেষণ: গণভোট বনাম সাংবিধানিক প্রক্রিয়া—একটি চিরন্তন দ্বন্দ্ব
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে এই বিতর্ক আসলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি চিরন্তন প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে এসেছে—প্রত্যক্ষ গণরায় (গণভোট) এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বমূলক প্রক্রিয়া (সংসদ)-এর মধ্যে কোনটির অগ্রাধিকার থাকা উচিত। বিএনপির অবস্থান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার যুক্তিতে দাঁড়িয়ে, যেখানে জামায়াত-এনসিপি জোটের অবস্থান সরাসরি জনরায়ের অগ্রাধিকারের যুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত। উভয় অবস্থানেরই নিজস্ব গণতান্ত্রিক যুক্তি রয়েছে, এবং এই দ্বন্দ্বের সমাধান কীভাবে হয়, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামোর চরিত্র।
উপসংহার
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্বীকৃত, যা গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থনও অর্জন করেছে। তবে এই বিপুল জনসমর্থন সত্ত্বেও বাস্তবায়নের পথ মসৃণ হয়নি—বরং তা পরিণত হয়েছে দেশের বর্তমান রাজনীতির অন্যতম বড় মেরুকরণের ক্ষেত্রে। আগামী দিনগুলোতে এই বিতর্কের সমাধান কীভাবে হয়, তা শুধু সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎই নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ:বিডিএস বুল্বুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় ও তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
স্থান: ঢাকা
। তবে কষ্টার্জিত এই অর্থ দেশে পাঠানোর আগে কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এক্সচেঞ্জ রেট, পাঠানোর ফি এবং সরকারি প্রণোদনার সঠিক হিসাব মিলিয়ে টাকা পাঠানোর সেরা মাধ্যমগুলোর বিস্তারিত গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. সরকারি প্রণোদনার সুনির্দিষ্ট হিসাব
বৈধ উপায়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে:
- সাধারণ নগদ প্রণোদনা: বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী, বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের ওপর পূর্বের ন্যায় ২.৫% সরকারি নগদ প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে আড়াই টাকা সরকার অতিরিক্ত প্রদান করে।
- প্রবাসী কার্ডের অতিরিক্ত সুবিধা: বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ডিজিটাল প্রবাসী কার্ডের আওতায় থাকা কর্মীরা রেমিট্যান্স প্রেরণে ৩% পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা উপভোগ করতে পারছেন।
- ভ্যাট সংক্রান্ত বিভ্রান্তি: প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫% বা ১৫% ভ্যাট কাটার তথ্যটি সম্পূর্ণ একটি গুজব এবং ভিত্তিহীন। প্রবাসীদের কাছ থেকে দেশে টাকা আসার পর কোনো বাড়তি কর কেটে নেওয়া হয় না।
২. টাকা পাঠানোর ৩টি প্রধান মাধ্যম: ফি ও সুবিধা
বাংলাদেশে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর মাধ্যমগুলোকে প্রধানত তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়:
ক. ডিজিটাল মানি ট্রান্সফার অ্যাপস (Wise, Taptap Send, Remitly ইত্যাদি)
সহজ ইন্টারফেস ও দ্রুত লেনদেনের কারণে বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রবাসীদের কাছে এগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- ফি ও খরচ: সাধারণত ১% থেকে ১.৫% পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ কাটে। তবে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক অ্যাপে বড় অঙ্কের লেনদেনে কোনো ফি নেওয়া হয় না বা ফি অত্যন্ত নগণ্য থাকে।
- এক্সচেঞ্জ রেট: এই অ্যাপগুলো মিড-মার্কেট রেটের খুব কাছাকাছি এক্সচেঞ্জ রেট প্রদান করে, যা প্রবাসীদের জন্য বেশ লাভজনক।
- টাকা পৌঁছানোর সময়: ইনস্ট্যান্ট বা সর্বোচ্চ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে টাকা চলে যায়।
খ. মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস (bKash, Nagad)

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা পরিবারের কাছে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অর্গানাইজেশন (MTO) ও বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউজের পার্টনারশিপের মাধ্যমে সরাসরি প্রবাসী অ্যাপ থেকে দেশে এমএফএস ওয়ালেটে টাকা পাঠানো যায়।
- ফি ও খরচ: কাতার, ইতালি, ওমান ও যুক্তরাজ্যের মতো কিছু দেশ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক কারণে পাঠানোর খরচ গড়ে ১.২০% থেকে ১.৪৫% পর্যন্ত উন্নীত হলেও সৌদি আরব, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে পাঠানোর খরচ তুলনামূলক কম।
- সুবিধা: সরাসরি মোবাইল নম্বরে টাকা চলে আসায় ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা থাকে না। এছাড়া মূল টাকার সাথে সরকারি ২.৫% প্রণোদনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয়ে যায়।
- ক্যাশ আউট সুবিধা: রেমিট্যান্সের টাকা তোলার ক্ষেত্রে পার্টনার ব্যাংকগুলোর এটিএম (ATM) বুথ থেকে প্রতি হাজারে মাত্র ৭ টাকা খরচে ক্যাশ আউট করার বিশেষ সুযোগ পাওয়া যায়।
গ. প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেল (অনলাইন রেমিট্যান্স অ্যাকাউন্ট ও সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার)

বড় অঙ্কের অর্থ কিংবা স্থায়ী সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং চ্যানেল সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম। বর্তমানে এনআরবি (NRB) অ্যাকাউন্ট বা বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশ থেকেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
- ফি ও খরচ: সরাসরি ব্যাংক টু ব্যাংক ট্রান্সফারে একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট ফি (যেমন: ১০ থেকে ২০ ডলার/ইউরো/রিয়াল) কাটা হতে পারে। তবে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর বিশেষ অফারে অনেক সময় জিরো ফি সুবিধা পাওয়া যায়।
- এক্সচেঞ্জ রেট: বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঘোষিত অফিশিয়াল রেট অনুযায়ী হিসাব করা হয়।
- টাকা পৌঁছানোর সময়: সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা পাঠালে তাৎক্ষণিক ক্রেডিট হয়, তবে অন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে BEFTN বা ক্লিয়ারিং সিস্টেমের কারণে ১ থেকে ২ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে।
৩. সেরা মাধ্যম নির্বাচনের তুলনামূলক ছক
| ফিচারের ধরণ | ডিজিটাল অ্যাপস (Wise / Taptap) | মোবাইল ব্যাংকিং (bKash / Nagad) | প্রথাগত কমার্শিয়াল ব্যাংক |
|---|---|---|---|
| অর্থ স্থানান্তরের সময় | দ্রুত (কয়েক মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা) | তাৎক্ষণিক (২৪/৭ ইনস্ট্যান্ট) | ১ থেকে ২ কার্যদিবস (অন্য ব্যাংক হলে) |
| এক্সচেঞ্জ রেট সুবিধা | চমৎকার ও প্রতিযোগিতামূলক | ভালো (মার্কেট রেট অনুযায়ী) | ব্যাংক ও দিনভেদে কিছুটা কম-বেশি হয় |
| লুকানো চার্জ বা ফি | অত্যন্ত কম | কম থেকে মাঝারি | বড় অঙ্কে সাশ্রয়ী, ছোট অঙ্কে ফ্ল্যাট ফি |
| কাদের জন্য উপযুক্ত | যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করে সেরা এক্সচেঞ্জ রেট চান। | গ্রামে থাকা পরিবারের জরুরি খরচের জন্য ছোট অঙ্কের অর্থ পাঠাতে। | জায়গা-জমি কেনা, ফিক্সড ডিপোজিট বা বড় অঙ্কের পারিবারিক সঞ্চয়ের জন্য। |
প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য ৩টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- এক্সেঞ্জ রেট ও ফি-র সমন্বয় দেখুন: অনেক সময় কোনো মাধ্যম ফি জিরো দেখালেও এক্সচেঞ্জ রেট কিছুটা কমিয়ে দেয়। তাই টাকা পাঠানোর সময় ফাইনাল পে-আউট অ্যামাউন্ট (সব ফি কাটার পর দেশে প্রাপক মোট কত টাকা পাবেন) তুলনা করে নিন।
- ছুটির দিন হিসাব করুন: ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) এবং আপনার অবস্থানরত দেশের ছুটির দিনটি হিসাব করে টাকা পাঠান, যেন জরুরি সময়ে অর্থ আটকে না থাকে।
- এনআরবি বন্ড ও সঞ্চয়পত্র: আপনি যদি ব্যাংকিং চ্যানেলে বড় অঙ্কের টাকা পাঠান, তবে সেই অর্থ দিয়ে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড বা ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন, যা সাধারণ ব্যাংকিংয়ের চেয়ে বেশি মুনাফা নিশ্চিত করে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ: BDS Bulbul Ahmed
নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় ও তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
স্থান: ঢাকা
২০২৭ সালের সম্ভাব্য সরকারি ছুটির তালিকায় দীর্ঘ ছুটির চমৎকার কিছু সুযোগ রয়েছে, যা আগেভাগে ভ্রমণ ও ঈদযাত্রার পরিকল্পনা করার জন্য দারুণ কার্যকরী। ২০২৭ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা দুটোই সপ্তাহের মাঝামাঝি বা সাপ্তাহিক ছুটির কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় একটু কৌশল খাটালে লম্বা ছুটির মেলবন্ধন তৈরি করা সম্ভব।
২০২৭ সালের সম্ভাব্য প্রধান সরকারি ছুটির তালিকা
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ধর্মীয় ছুটিগুলো ছাড়া ২০২৭ সালের সম্ভাব্য প্রধান ছুটির দিনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| তারিখ | দিবস | বার |
|---|---|---|
| ২৪ জানুয়ারি | শবে বরাত * | রবিবার |
| ২১ ফেব্রুয়ারি | শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | রবিবার |
| ০৬ মার্চ | শবে কদর * | শনিবার |
| ০৯ – ১১ মার্চ | ঈদুল ফিতর * | মঙ্গলবার – বৃহস্পতিবার |
| ২৬ মার্চ | স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস | শুক্রবার |
| ১৪ এপ্রিল | বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) | বুধবার |
| ০১ মে | মে দিবস | শনিবার |
| ১৬ – ১৮ মে | ঈদুল আজহা * | রবিবার – মঙ্গলবার |
| ২০ মে | বুদ্ধ পূর্ণিমা | বৃহস্পতিবার |
| ১৫ জুন | আশুরা * | মঙ্গলবার |
| ০৫ আগস্ট | জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি দিবস | বৃহস্পতিবার |
| ১৫ আগস্ট | ঈদে মিলাদুন্নবী * | রবিবার |
| ২৪ আগস্ট | শুভ জন্মাষ্টমী | মঙ্গলবার |
| ১০ অক্টোবর | বিজয়া দশমী (দুর্গাপূজা) | রবিবার |
| ১৬ ডিসেম্বর | বিজয় দিবস | বৃহস্পতিবার |
| ২৫ ডিসেম্বর | যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন) | শনিবার |
* তারকা চিহ্নিত ছুটিগুলো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং ১ দিন আগে-পরে হতে পারে।
ভ্রমণ ও ছুটির আগাম পরিকল্পনা (Holiday Hacking)
২০২৭ সালের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সামান্য কিছু নৈমিত্তিক ছুটি (CL) যোগ করে আপনি দীর্ঘ ট্যুর প্ল্যান করতে পারেন:
- মার্চের ঈদুল ফিতর মেগা ছুটি: ৯, ১০ ও ১১ মার্চ (মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি) ঈদের সম্ভাব্য ছুটি। এর আগের শুক্র ও শনিবার (৫-৬ মার্চ) এবং পরের শুক্র-শনিবার (১২-১৩ মার্চ) হিসাব করলে মাঝে শুধু ৮ মার্চ (সোমবার) এক দিন ছুটি নিলেই টানা ৯ দিনের বিশাল ছুটি পাওয়া সম্ভব।
- মে মাসের ঈদুল আজহা ও বুদ্ধ পূর্ণিমা: ১৬ থেকে ১৮ মে (রবি থেকে মঙ্গল) ঈদের ছুটি। ঠিক তার পরদিন ১৯ মে (বুধবার) কর্মদিবস এবং ২০ মে (বৃহস্পতিবার) বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি। এখানে ১৯ মে মাত্র ১ দিন ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে শুক্র-শনিবারসহ টানা ৯ দিনের ছুটি মিলবে।
- আগস্টের উইকেন্ড প্লাস: ৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে অনায়াসেই ৩ দিনের একটি শর্ট ট্যুর প্ল্যান করা যায়।
সুশৃঙ্খল ঈদযাত্রার গাইড ও ভ্রমণ নির্দেশিকা

ঈদের সময় ঢাকা ও প্রধান শহরগুলো থেকে বাড়ি ফেরার যাত্রা নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করতে নিচের গাইডলাইনটি অনুসরণ করুন:
- ১. টিকিট কাটার টাইমলাইন ঠিক করুন: বাংলাদেশ রেলওয়ে ও দূরপাল্লার বাসগুলোর অনলাইন টিকিট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে উন্মুক্ত করা হয়। মোবাইল অ্যাপ ও ব্যাংকিং গেটওয়েগুলো আগে থেকেই সচল ও রিচার্জ করে রাখুন।
- ২. অফ-পিক ডে এবং অল্টারনেটিভ রুট নির্বাচন: ঈদের ঠিক আগের ২ দিন (যেমন: ঈদুল ফিতরের জন্য ৭ ও ৮ মার্চ) মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। সম্ভব হলে সরকারি ছুটি শুরুর ১ বা ২ দিন আগে পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিন। ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য গাবতলী বা সায়েদাবাদের প্রধান পয়েন্ট এড়িয়ে বাইপাস বা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের পরিকল্পনা করুন।
- ৩. স্মার্ট ট্র্যাকিং ও হাইওয়ে রেডি: ভ্রমণের দিন গুগুল ম্যাপস কিংবা হাইওয়ে পুলিশের লাইভ ট্রাফিক আপডেট চেক করে রওয়ানা হোন। নিজের গাড়িতে ভ্রমণ করলে ব্রেক, ইঞ্জিন অয়েল এবং টায়ারের প্রেশার অন্তত ৩ দিন আগে পরীক্ষা করান।
- ৪. অগ্রিম হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং: আপনি যদি ঈদের ছুটিতে দেশের ভেতরে (যেমন: কক্সবাজার, সিলেট বা সাজেক) কিংবা দেশের বাইরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে অন্তত ২ থেকে ৩ মাস আগে হোটেল ও যাতায়াত বুকিং সম্পন্ন করুন। ঈদের সময় স্পটগুলোতে অন-অ্যারাইভাল রুম পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
২০২৭ সালে দীর্ঘ ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই পর্যটন গন্তব্য—সিলেট ও কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজানোর একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো। পাহাড়, নদী, চা-বাগান আর ঝরনার মায়াবী রূপ দেখতে চাইলে আপনার জন্য উপযুক্ত সিলেট। আর যদি মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বালুকাময় সমুদ্রসৈকত আর সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নিতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হবে কক্সবাজার।
সিলেটের জন্য ছুটির দিন ও ভ্রমণ পরিকল্পনা (৩-৪ দিনের রুট)
মার্চ বা মে মাসের টানা ছুটির যেকোনো একটি অংশকে বেছে নিয়ে আপনি মেঘ-পাহাড়ের দেশ সিলেটে কাটাতে পারেন।
- ভ্রমণের সেরা সময়: ২০২৭ সালের মার্চ মাসের ঈদুল ফিতরের মেগা ছুটি (টানা ৯ দিন) অথবা মে মাসের ঈদুল আজহার লম্বা ছুটি সিলেটে ঘোরার জন্য চমৎকার সময়। বর্ষার ঠিক আগে বা পরে সিলেটের নদী ও ঝরনাগুলো পূর্ণ যৌবনা থাকে।
- প্রধান আকর্ষণসমূহ: শহরের ভেতরেই রয়েছে উপমহাদেশের প্রাচীনতম কমার্শিয়াল চা-বাগান Malnicherra Tea Estate। এছাড়াও শহরের বাইরে সাদা পাথর (ভোলাগঞ্জ), বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জাফলং এবং পিয়াইন নদী সিলেটের মূল আকর্ষণ।
- সিলেটের ৩ দিনের সংক্ষিপ্ত রুট ম্যাপ:
- ১ম দিন: সকালে সিলেট শহরে পৌঁছে হোটেল বা রিসোর্টে ফ্রেশ হয়ে নিন। বিকেলে শহরের একদম কাছে অবস্থিত Malnicherra Tea Estate-এর চা-বাগানের মনোরম সবুজ প্রকৃতিতে সময় কাটান। সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক Ali Amjad’s Clock টাওয়ার ও কীন ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন।
- ২য় দিন: সকাল সকাল রওয়ানা দিন ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের উদ্দেশ্যে। ধলাই নদীর স্বচ্ছ নীল জল আর ওপারে ভারতের পাহাড়ের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। বিকেলে ফেরার পথে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে নৌকায় চড়ে বাংলার আমাজন ঘুরে আসুন।
- ৩য় দিন: জাফলং জিরো পয়েন্ট এবং ডাউকি নদীর ঝুলন্ত সেতু (দূর থেকে) দেখতে যান। ফেরার পথে লালাখাল রুট অথবা পিয়াইন নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করুন।
কক্সবাজারের জন্য ছুটির দিন ও ভ্রমণ পরিকল্পনা (৪-৫ দিনের রুট)
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বরাবরই যেকোনো ছুটির জন্য প্রথম পছন্দ। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের আবহাওয়া এখানে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।

- ভ্রমণের সেরা সময়: ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির উইকেন্ড অথবা মার্চের ঈদুল ফিতরের ছুটি। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারে ৩ মাসব্যাপী ট্যুরিজম কার্নিভাল চলার কারণে এই সময়ে কক্সবাজারের আবহাওয়া ও পরিবেশ থাকবে দারুণ উৎসবমুখর।
- প্রধান আকর্ষণসমূহ: সেন্ট্রাল বিচ হিসেবে পরিচিত প্রাণবন্ত Laboni Point Sea Beach, ওয়াটার স্পোর্টস ও স্ট্রিট ফুডের জন্য বিখ্যাত Sugondha Sea Beach, এবং মেরিন ড্রাইভের পাশে পাহাড় ও সাগরের মেলবন্ধন ঘেরা Himchari National Park।
- কক্সবাজারের ৪ দিনের সংক্ষিপ্ত রুট ম্যাপ:
- ১ম দিন: কক্সবাজারে পৌঁছে কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্টের যেকোনো হোটেলে চেক-ইন করুন। বিকেলে Sugondha Sea Beach-এ হেঁটে সূর্যাস্ত দেখুন এবং সন্ধ্যার পর বিচ মার্কেটে তাজা সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই বা বারবিকিউর স্বাদ নিন।
- ২য় দিন: খোলা চাঁদের গাড়ি (চান্দের গাড়ি) ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভ ধরে যাত্রা করুন। পথে Himchari National Park-এর পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সাগরের প্যানোরামিক ভিউ দেখুন। এরপর আরও সামনে এগিয়ে ইনানী বিচের পাথুরে সৈকতে কোরাল ও ক্লিয়ার ওয়াটার উপভোগ করুন।
- ৩য় দিন: অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী হলে দরিয়ানগর ন্যাচার পার্কের পাহাড়ি গুহা ও ট্রেইল ট্র্যাকিং করতে পারেন অথবা সরাসরি টেকনাফ হয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের (যদি যাতায়াত ও অবস্থান উন্মুক্ত থাকে) উদ্দেশ্যে এক দিনের ডে-ক্রুজ ট্রিপ দিতে পারেন।
- ৪র্থ দিন: সকালে Laboni Point Sea Beach-এ স্পিডবোট রাইড বা বিচ বাইকিং করতে পারেন। দুপুরের পর ঝিনুক মার্কেট ও বার্মিজ মার্কেট থেকে আচার, শুঁটকি ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের কেনাকাটা শেষ করে রাতের বাসে বা ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
ছুটি হ্যাকিং: দুই অঞ্চলের ট্রাভেল কম্প্যারিজল

ভ্রমণের বাজেট, উদ্দেশ্য এবং সঙ্গীদের ওপর ভিত্তি করে সঠিক জায়গাটি বেছে নিতে এই তুলনামূলক ছকটি দেখতে পারেন:
| বৈশিষ্ট্য | সিলেট ভ্রমণ | কক্সবাজার ভ্রমণ |
|---|---|---|
| মূল আকর্ষণ | চা-বাগান, স্বচ্ছ নদী, ঝরনা, সবুজ পাহাড় ও সোয়াম্প ফরেস্ট। | দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, মেরিন ড্রাইভ ও ওয়াটার স্পোর্টস। |
| যাতায়াত সুবিধা | ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন (উপবন, পারাবত) ও বিমান সুবিধা রয়েছে। | ঢাকা থেকে সরাসরি বাস, বিমান এবং আধুনিক ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেন। |
| বাজেট ও খরচ | কক্সবাজারের তুলনায় খাবার ও হোটেলের খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী। | পিক সিজনে (শীতকাল ও ঈদে) হোটেল ও খাবারের খরচ বেশ চড়া থাকে। |
| যাদের জন্য সেরা | যারা অ্যাডভেঞ্চার, ট্র্যাকিং ও নিরিবিলি প্রকৃতি পছন্দ করেন। | পরিবার, শিশু কিংবা বন্ধুদের নিয়ে রিলাক্স ও লাইভ নাইটলাইফ উপভোগের জন্য সেরা। |
ঈদযাত্রার বিশেষ টিপস: যেহেতু ২০২৭ সালের ছুটির দিনগুলোতে দেশের এই দুটি পয়েন্টেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকবে, তাই ট্রেনের টিকিট ওপেন হওয়ার দিনই (যাত্রার ১০ দিন আগে) টিকিট কনফার্ম করুন। বিশেষ করে কক্সবাজারের প্রধান হোটেল জোন কিংবা সিলেটের লালাখাল/শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টগুলো ভ্রমণের অন্তত ২ মাস আগে বুকিং করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



