আন্তর্জাতিক

"ইসকন: ইতিহাস, উদ্দেশ্য ও সাম্প্রতিক সময়ের কার্যক্রম - ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান এবং এর প্রভাব"
ইসকন

নিউজ ডেস্ক

November 13, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদনকারীর নাম:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রারম্ভিকা

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন), যেটি সাধারণত “হরে কৃষ্ণ” নামে পরিচিত, একটি বৈশ্বিক ধর্মীয় সংগঠন, যা ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি শ্রী কৃষ্ণের উপাসনায় নিবেদিত একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন, যা তাদের অনুগামীদের জন্য একান্তভাবে শ্রী কৃষ্ণের মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে কাজ করে। তবে ইসকন-এর মূল লক্ষ্যের সীমানা কেবল ধর্মীয় উপদেশ দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে একেবারে মৌলবাদী ধারণা এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহ যা সময়ের সাথে সাথে বিপুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা ইসকন এর ইতিহাস, প্রতিষ্ঠার কারণ, উদ্দেশ্য এবং আধুনিক সমাজে তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।

ইসকনের জন্ম ও ইতিহাস

ইসকন বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আচার্য প্রভুপাদ, যিনি শ্রী কৃষ্ণের দর্শনকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে ইসকন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্য ছিল ইসকনের। তবে ইসকনের জন্মের সাথে সাথে এর কার্যক্রমও বেশ বিতর্কিত হয়ে ওঠে, বিশেষ করে তার সদস্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ধর্মীয় ধর্মান্তরিত করার প্রক্রিয়ার কারণে।

ইসকন প্রতিষ্ঠার পর দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলে বিস্তার লাভ করতে থাকে। এর সদস্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা এবং ধর্মান্তরের কৌশল গুলো অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কের জন্ম দেয়। ইসকনের সদস্যদের মধ্যে যারা এক সময় ধর্ম পরিবর্তন করেন, তারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করে ইসকনের শ্রী কৃষ্ণের ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যান।

ইসকনের মূল লক্ষ্য

ইসকনের প্রধান লক্ষ্য ছিল শ্রী কৃষ্ণের মহিমা প্রচার করা এবং তার প্রেমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। তবে এর সাথে সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্মের উপাসনা সিস্টেমের গঠনের মাধ্যমে এক নতুন সমাজ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা। ইসকন সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে শ্রী কৃষ্ণই সৃষ্টিকর্তা, এবং তার চর্চা ও ভক্তি মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবী শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কিন্তু ইসকন এর কার্যক্রম কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটানোর জন্যও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মুসলিম, খ্রিস্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা, যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি করেছিল।

ধর্মান্তরের কার্যক্রম ও বিতর্ক

ইসকন তাদের মূল বিশ্বাসের অংশ হিসেবে মানুষের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছে, যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাদের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্মান্তরিত কার্যক্রম পরিচালনা করতো, বিশেষ করে উপমহাদেশের দেশগুলোতে যেখানে হিন্দু ধর্মের চর্চা প্রচলিত। কিছু সময়, বিশেষ করে বাংলাদেশে, তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং স্থানীয় জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করতো, তাদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য। এসব কার্যক্রমে অনেক সময় জনগণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল।

ইসকনের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রভাব

ইসকনের কার্যক্রম শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, এটি রাজনৈতিক সম্পর্কও গড়ে তুলেছে বিভিন্ন দেশ এবং সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মের সাথে। বিশেষ করে ইসকন ভারতের সাথেও সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং এই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটায়। ইসকন মূলত ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ পরিচালনায় চলা একটি সংগঠন হিসেবে পরিচিত, যা তাদের কর্মকাণ্ডকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

এছাড়াও, ইসকন দ্বারা প্রচলিত উগ্র হিন্দু মৌলবাদী ধারণা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং এর প্রভাব বর্তমানে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইসকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইসকন-কে একাধিক বার উগ্র হিন্দু মৌলবাদী এবং জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের ধর্মান্তরিত কার্যক্রম এবং উগ্র প্রচারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা দেশীয় শান্তি ও ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলে। ইসকন-এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো তাদের সদস্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস চাপিয়ে দেয়া। ইসকনের কার্যক্রমে অনেকে বিশ্বাস করেন যে, এটি মূলত রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম, যা অন্য ধর্মাবলম্বীদেরকে শোষণ করে তাদের নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করে।

ইসকন-এর বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে, ইসকন একটি বৈশ্বিক ধর্মীয় গোষ্ঠী হলেও, এটি অনেক দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা এখনো তাদের ধর্মীয় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে তার কার্যক্রম বিস্তার করছে। ইসকনের জনপ্রিয়তা কিছু দেশে বাড়লেও, তাদের কার্যক্রম অনেকের কাছে অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে, বিশেষ করে তারা যেভাবে ধর্মান্তরের কাজ চালিয়েছে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তা অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করেন।

উপসংহার

ইসকন একটি বৈশ্বিক ধর্মীয় সংগঠন হলেও, এর কার্যক্রম এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এর প্রতিষ্ঠা এবং তার পরবর্তী কার্যক্রমগুলি হিন্দু ধর্মের প্রচার এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য হলেও, তারা অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছে, যা অনেকেই গ্রহণ করেনি। এভাবে, ইসকন সমগ্র বিশ্বের মধ্যে একটি বিতর্কিত এবং উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।


সূত্র

১. “ISKCON History and Controversies.” Encyclopedia Britannica
২. “International Society for Krishna Consciousness.” Wikipedia
৩. “Hindu Fundamentalism and ISKCON.” The Daily Star

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইতিহাস
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (১৫শ খণ্ড), লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসির ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’, এবং সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংবাদপত্র আর্কাইভস 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, অস্থির এবং নাটকীয় পালাবদলের সময়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন গতিপথে চালিত করে। এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিবসের নেপথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি: ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর জেরে ৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং ঢাকা ওয়ান বেঙ্গলের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে একটি পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। 

খালেদ মোশাররফের এই অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর পদ থেকে পদচ্যুত করা হয় এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে তাঁকে সম্পূর্ণ গৃহবন্দি (House Arrest) করে রাখা হয়। খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৬ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। 

২. নেপথ্যের অনুঘটক: জাসদ ও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবের ডাক
মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের এই পাল্টা অভ্যুত্থানকে সেনাবাহিনীর সাধারণ জওয়ান বা সিপাহিদের একটি বড় অংশ ভারতের মদদপুষ্ট এবং মোশতাক চক্রের আরেকটি অংশের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে চশমায় দেখছিল। এই সুযোগে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী দল ‘জাসদ’ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)-এর সামরিক শাখা ‘গণবাহিনী’ এবং এর অন্যতম প্রধান নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহের সেনানিবাসের সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে এক গোপন প্রচারণা চালান। 

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ সিপাহিদের বৈষম্য দূরীকরণ, ১২ দফা দাবি আদায় এবং ‘শ্রেণিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ল্যান্স নায়েক ও সুবেদারদের সংগঠিত করে। ৭ নভেম্বর ভোররাতে এক গণ-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা, কারণ জিয়াউর রহমান সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। 

৩. ৭ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত এবং সিপাহি-জনতার জাগরণ
৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হয়ে ৭ নভেম্বর ভোররাতে (আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে) ঢাকা সেনানিবাসে সিপাহিদের বিদ্রোহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেটে পড়ে। ট্যাংকের গর্জন এবং শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সিপাহিরা ব্যারাকে ব্যারাকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। 

  • জিয়াউর রহমানের মুক্তি: সিপাহিদের একটি দল দ্রুত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসভবনে যায় এবং পাহারারত সেন্ট্রিদের নিরস্ত্র করে তাঁকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান সিপাহিদের শান্ত থাকার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। 
  • খালেদ মোশাররফের পতন ও মৃত্যু: সিপাহিদের এই ভয়াবহ বিদ্রোহের মুখে টিকতে না পেরে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার (যাঁরা সবাই বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) শেরেবাংলা নগরের ১০ বেঙ্গলের সদর দপ্তরে আশ্রয় নেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর সকালেই উত্তেজিত ও বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে এই তিন লিজেন্ডারি সামরিক কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। 
  • রাজপথে জনতার ঢল: সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেনানিবাসের সিপাহিরা ট্রাকে করে, ট্যাংকের ওপর চড়ে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। তাদের মুখে স্লোগান ছিল—‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ’। রাজপথের সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৈনিকদের সাথে যোগ দেয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। সিপাহি ও জনতার এই অভূতপূর্ব সংহতির কারণেই দিনটিকে ইতিহাসে ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে অবিহিত করা হয়। 

৪. রাজনৈতিক তাৎপর্য ও পরবর্তী ফলাফল
৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দেয়: 

  • জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আগমন: এই বিপ্লবের পর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল থাকলেও, জিয়াউর রহমান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Chief Deputy Martial Law Administrator) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। 
  • কর্নেল তাহেরের সাথে দূরত্ব: সিপাহিদের ১২ দফা দাবি এবং জাসদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ধারার সাথে জিয়ার শাসনতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী চিন্তাভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তীতে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 


ইতিহাসের পাতা সবসময় একমুখী নয়। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন একটি পক্ষ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও শ্রদ্ধার সাথে উদ্‌যাপন করে, ঠিক তেমনই আরেকটি পক্ষ এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে, কারণ এই দিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও জওয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গুগলের ২০২৬ সালের নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক কনটেন্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়া এই দিবসের সকল পক্ষের বাস্তব প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আধুনিক ও জটিল সমাজে মানসিক শান্তি ও সঠিক পথের সন্ধানে নবী-রাসূলদের আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। জেনে নিন নবী রাসূলদের জীবনী থেকে শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ। 

বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। 

১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)। 

আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি। 

২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া। 

৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে। 


নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নামাজের সঠিক সময়সূচি

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, কালের কণ্ঠ ইসলামিক ডেস্ক, Salat Times (salat.habibur.com), এবং Muslim Bangla (muslimbangla.com)। 

আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুমাদাল উলা ১৪৪৮ হিজরি)। ইসলামে প্রতিদিন সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। স্থানভেদে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সময়ের কিছুটা তারতম্য বা পার্থক্য হয়ে থাকে। পাঠকদের সুবিধার্থে আজকের জুমার নামাজসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক ও নিখুঁত সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি (Dhaka Division)
আজ ঢাকা ও এর আসেপাশের এলাকায় প্রতিটি ওয়াক্তের শুরুর সময় নিচে দেওয়া হলো:

  • ফজর: ০৪:৫০ AM 
  • সূর্যোদয়: ০৬:০৮ AM 
  • জুহর (জুমা): ১১:৪৩ AM (আজ জুমার ওয়াক্ত শুরু দুপুর ১১:৪৩ মিনিটে) 
  • আসর: ০৩:৪০ PM 
  • মাগরিব (সূর্যাস্ত): ০৫:১৭ PM 
  • এশা: ০৬:৩৪ PM 

২. অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সময় (যোগ-বিয়োগের নিয়ম)
ঢাকার সময়ের সাথে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অন্যান্য বিভাগের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে হিসাব করে আজকের বিভাগীয় শহরগুলোর নামাজের সময় নিচে দেওয়া হলো:

  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৬ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৪৪ AM, মাগরিব- ০৫:১১ PM)। 
  • সিলেট বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৬ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৪৪ AM, মাগরিব- ০৫:১১ PM)। 
  • খুলনা বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ২-৩ মিনিট পরে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৫৩ AM, মাগরিব- ০৫:২০ PM)। 
  • রাজশাহী বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৬-৭ মিনিট পরে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৫৭ AM, মাগরিব- ০৫:২৪ PM)। 
  • রংপুর বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৫-৬ মিনিট পরে নামাজ শুরু হবে। 
  • বরিশাল বিভাগ: ঢাকার সময়ের প্রায় কাছাকাছি সময়েই নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। 

৩. ময়মনসিংহ বিভাগের নামাজের সঠিক সময়সূচি (Mymensingh Division)
আজ ময়মনসিংহ ও এর আশেপাশের অঞ্চলের (যেমন- ধোবাউড়া) জন্য নামাজের সঠিক সময়সূচি নিচে আলাদাভাবে দেওয়া হলো:

  • ফজর: ০৪:৫১ AM 
  • সূর্যোদয়: ০৬:০৮ AM 
  • জুহর (জুমা): ১১:৪৩ AM 
  • আসর: ০৩:৩৯ PM 
  • মাগরিব: ০৫:১৬ PM 
  • এশা: ০৬:৩৩ PM 

৪. নামাজের নিষিদ্ধ সময়সমূহ
ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী সূর্য উদয়, অস্ত এবং ঠিক মধ্যগগনে থাকার সময় নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। আজ ৬ নভেম্বরের নিষিদ্ধ সময়গুলো হলো: 

  • সকাল (সূর্যোদয়ের সময়): ০৬:০৮ AM থেকে পরবর্তী ১৫ মিনিট পর্যন্ত। 
  • দুপুর (ঠিক মাথার ওপর সূর্য): ১১:৩৮ AM থেকে ১১:৪২ AM পর্যন্ত। 
  • বিকেল (সূর্যাস্তের সময়): ০৫:০২ PM থেকে ০৫:১৭ PM পর্যন্ত (এই সময়ে মাগরিবের ফরজ নামাজ ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ পড়া যাবে না)। 
  • আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন নামাজের সময় ১-২ মিনিট পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে। তাই আপনার স্থানীয় মসজিদের আজানের সময়কে অগ্রাধিকার দিন এবং জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করুন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ