বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
এডওয়ার্ড মাইকেল “বিয়ার” গ্রিল্স একজন ব্রিটিশ অভিযাত্রী, লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি তার ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড, যা যুক্তরাজ্যে বর্ন সার্ভাইবর: বিয়ার গ্রিল্স নামে প্রচলিত, টেলিভিশন ধারাবাহিকের কারণে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক টেলিভিশন ধারাবাহিকের সাথে যুক্ত ছিলেন। ডিসকভারি চ্যানেলের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ Man vs Wild–এর উপস্থাপক বেয়ার গ্রিলসকে (Bear Grylls) চেনে না এমন মানুষ বোধহয় খুব কমই আছেন।
বিয়ার গ্রিলস একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী

এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস। চিনেনা বা নাম শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। দুঃসাহসী ও দুর্ধর্ষ অভিযাত্রী বলতে যার নাম সবার প্রথমে আসে তিনি ডিসকভারি চ্যানেলের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানের বিয়ার গ্রিলস।
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক, দুর্গম জায়গায় কিভাবে টিকে থাকতে হয় বিয়ার গ্রিলস তা দেখিয়ে আসছেন নিজের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে। কখনো পাহাড়, কখনো সমুদ্র, কখনো মহাসাগরের কোন এক অচেনা দ্বীপে, অথবা কখনো কোন বরফাচ্ছন্ন এলাকায় ভয়ংকর পশু থেকে, অথবা বিপদ সংকুল আমাজনের মত জঙ্গল থেকে, খাদ্যাভাবে পড়ে থাকা কোন নির্জন যায়গা থেকে লড়াই করে কি করে লোকালয়ে ফিরে আসতে হয় এসব দুঃসাহসিক অভিযান গুলো দেখান নিজের জীবন বিপন্ন করে। তার এ দুঃসাহসিক অভিযানগুলো তাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার এক অন্য মাত্রায়।
(Source: The Official Bear Grylls Website)
জন্ম ও পরিচয়:
ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতিবিদ স্যার মাইকেল গ্রিলস ও লেডি গ্রিলস এর ঘরে ১৯৭৪ সালের ৭ জুন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন বিয়ার গ্রিলস। তার পূর্ণ নাম এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস। বিয়ার নামটি রাখেন তার বড় বোন লারা ফাউসেট। লারা ফাউসেট পেশায় একজন টেনিস কর্মকর্তা। চার বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ার উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডোনাঘাডি অঞ্চলে অবস্থান করেন। এরপর পরিবারের সাথে কেমব্রিজ অঞ্চলে পাড়ি জমান।
কিশোর বিয়ার গ্রিলসঃ
খুব অল্প বয়সেই বিয়ার তার বাবার কাছ থেকে নৌকা চালানো ও পর্বত আরোহণ শিখেন। বিয়ার গ্রিলসের বাবা মাইকেল গ্রিলস ছিলেন একজন দক্ষ নৌচালক। বিয়ার লুডগ্রুভ স্কুল, ইটন কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে শিক্ষা লাভ করেন। ইটন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কলেজে প্রথম পর্বতারোহণ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন বিয়ার। মাত্র ৮ বছর বয়সে বিয়ার স্কাউটে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি স্কাউটের বিশাল এক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ধর্মের প্রতি বিয়ার অসীম অনুরাগী ছিলেন। ধর্ম বিশ্বাস জীবনের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন। বিয়ার গ্রিলস খৃষ্ট ধর্ম বিশ্বাসী।
Source: Insurance for Car)
সামরিক বাহিনীতে বিয়ার:

সিকিম অঞ্চলে হিমালয়ে হাইকিং করার সময় বিয়ার ভারতীয় সেনাবাহিনী তে যোগদান করার উৎসাহ প্রকাশ করেন। তখন তিনি মাত্র স্কুল জীবন শেষ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তে যোগদান করেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে সফলতার সাথে কাজ করার পর তিনি সেনাবাহিনী থেকে ইউনাইটেড কিংডম স্পেশাল ফোর্স রিজার্ভে কাজ করেন।
প্যারাসুট দুর্ঘটনায় বিয়ার গ্রিলসঃ
স্পেশাল ফোর্সে থাকাকালীন ১৯৯৬ সালে বিয়ার জাম্বিয়ায় প্যারাসুট ট্রেনিং করাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিয়ার নিজেই ভয়াবহ প্যারাসুট দুর্ঘটনায় পতিত হন। দুর্ঘটনা এতই ভয়াবহ ছিল যে, ডাক্তার বলেছে, মেরুদণ্ডের তিনটি হাড় পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে এবং তার পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ফলে বিয়ার কে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনী ফোর্স থেকে অবসর নিতে হয়। বারো মাস বিয়ার সব কিছু থেকে দূরে থাকলেও হাল ছেড়ে দেন নি। পরিশ্রম করে গেছেন। লড়াই করে গেছেন তার ভাঙ্গা মেরুদণ্ডের বিরুদ্ধে। অবশেষে সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেড় বছর পর সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন বিয়ার গ্রিলস। মানব সেবায় অবদান রাখার জন্যে ২০০৪ সালে বিয়ার গ্রিলসকে সম্মানসূচক ল্যাফটেনেন্ট কমান্ডারের পদবী দেয়া হয়
(সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিয়ার গ্রিলস এর মাউন্ট এভারেস্ট জয় Source: Daily Mail)
সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিয়ার গ্রিলস এর মাউন্ট এভারেস্ট জয়:
খুব ছোট বেলায় বাবার কাছে পর্বতারোহণ শিখেন বিয়ার গ্রিলস। আট বছর বয়সে সিকিমে থাকাকালীন একবার তার বাবা তাকে মাউন্ট এভারেস্টের একটা ছবি উপহার দেন। তখন থেকে বিয়ার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেন। প্যারাসুট দুর্ঘটনায় আহত থাকা অবস্থায় বিয়ার মনস্থির করেন এভারেস্ট জয়ের। সুস্থ হয়েই ছুটে যান এভারেস্টের দিকে। ১৯৯৮ সালের ১৬ মে মাত্র ৩ মাস সময় নিয়ে বিয়ার মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন।
(স্ত্রী সারাহ গ্রিলস এর সাথে বেয়ার গ্রিলস; সূত্রঃ gettyimagey)
তৎকালীন ব্রিটিশ থেকে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েন বিয়ার গ্রিলস। যদিও তার রেকর্ড পরবর্তীতে ভেঙ্গে যায়। বিয়ার গ্রিলসের অদম্য ইচ্ছাই তাকে প্যারাসুট দুর্ঘটনার ১৮ মাস পরেই এভারেস্টের উঁচুতে নিয়ে যায়।
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড:
এভারেস্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ডিওডোরান্ট একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করেন। ওই বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে বিয়ার গ্রিলস টেলিভিশন জগতে প্রবেশ করেন। এরপর আরও কিছু বিজ্ঞাপন ও ডকুমেন্টারিতে কাজ করেন বিয়ার গ্রিলস। একজন দক্ষ সামরিক অফিসার ও এভারেস্ট জয়ী হিসেবে বিয়ার গ্রিলস কে যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর অ্যাডভেঞ্চার শো তৈরির আহ্বান জানান। বর্তমান বিয়ার গ্রিলস এর উত্থান, পরিচয়, জনপ্রিয়তা সব কিছুই তার অ্যাডভেঞ্চার শো এর জন্যে।
বর্তমান বিশ্বে দুঃসাহসী অভিযাত্রীর কথা বলতে গেলে বিয়ার গ্রিলস এর নাম সবার প্রথমে আসে। কখনো সুউচ্চ পাহাড়ে অথবা গভীর অরণ্যে অথবা তুষারাবৃত কোন পাহাড়ে, আবার কখনো মহাসাগরের অচেনা কোন দ্বীপে কিভাবে টিকে থাকতে হয়, উদ্ধার পেতে হয় বিয়ার গ্রিলস দেখান ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডে
(বিয়ার গ্রিলস ও নরেন্দ্র মোদি

Source: Google News)
সার্ভাইব করার জন্য বিয়ার কখনো পোকা মাকড় খাচ্ছেন, আবার কখনো মরুভূমির কড়া রোদ থেকে পরিত্রাণের জন্য নিজের প্রস্রাব মাথায় দিচ্ছেন, আবার প্রয়োজনে নিজের প্রস্রাবও খেয়ে নিচ্ছেন। কখনো ভয়ংকর জীব জন্তুর সাথে লড়াই করছেন টিকে থাকার জন্য, আবার কখনো করছেন রেটল স্নেকের মত ভয়াবহ সাপের সাথে টিকে থাকার যুদ্ধ, কখনো ভেলা বানিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন কুমীরে ভরপুর জলাশয় কিংবা নদী, কখনো সেই কুমীরের সাথেও লড়াই করতে হয়েছে তাকে, আবার কখনো নিঃস্ব হয়ে দ্বীপে খাবার খুঁজতে খুঁজতে উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভয়ংকর সাপ ধরেও খেতে হয়েছে তাকে। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কিভাবে জীবন বাঁচিয়ে ফিরে আসতে হয় লোকালয়ে, এমন হাজারো কৌশল দেখান বিয়ার গ্রিলস
(‘ম্যান ভার্সাস ওয়াইল্ড’-এ বিয়ার গ্রিলস ও রজনীকান্তকে। – ফাইল ছবি।)
‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ প্রথমে যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর এ ‘বর্ন সার্ভাইবার’ নামে শুরু হয়। পরে এটি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ নামে প্রচারিত হয়। এছাড়া ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ‘আল্টিমেট সার্ভাইবার’ নামেও প্রচারিত হয়। বিয়ার গ্রিলস এর অনুষ্ঠানগুলো সারা বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তীতে ডিসকভারি চ্যানেল ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ এর স্বত্ব কিনে নিয়ে তাদের চ্যানেলে প্রচার করে। কিন্তু ২০১২ সালে ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে মতের অমিল হওয়ায় ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ তৈরি বন্ধ করে দেন।
বিয়ার গ্রিলস এর অভিযান:
পৃথিবীর দুর্গম সকল যায়গায় বিয়ার গ্রিলস অভিযান করেন। আমাজনের গভীর অরণ্য থেকে শুরু করে আফ্রিকার বালুকাময় নির্জন মরুভূমি, আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝের নির্জন কোন দ্বীপ, এমনকি তুষারাবৃত কোন পাহাড় কিংবা জঙ্গল কোন কিছুই বাদ রাখেননি বিয়ার গ্রিলস তার অভিযানে।
তার এসব দুর্গম অভিযান করতে গিয়ে তাকে অনেক সময় ভয়ংকর সব পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। সাপ, কুমির, ভাল্লুকের সাথে লড়াই ছাড়াও খাবার ও খাবার পানি ছাড়া টিকে থাকার লড়াই কখনো কখনো ভয়ংকর রূপ নিয়েছিলো। তুষারে ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে তুষারের নিচে ঢাকা পড়ার ভয় ছিল, অথবা আমাজনের বিশাল অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। এমন সব ভয় কে জয় করে দুঃসাহসী সব অভিযান সফলভাবে করে এসেছেন বিয়ার গ্রিলস।
এভারেস্ট অভিযান:
বিয়ারকে এক ব্রিটিশ সাংবাদিক সাক্ষাতকারে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সবচেয়ে ভয়ানক অভিযান কোনটি ছিল? বিয়ার নির্দিষ্ট করে না বললেও একটা অভিযানের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন, তার এভারেস্টে চূড়ায় আরোহণের ঘটনা। এভারেস্টে উঠতে গিয়ে একবার তিনি মরণ-ফাঁদে পড়েছিলেন। এভারেস্টের এক গর্তে পা ফসকে পড়ে গিয়েছিলেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে মনোবল নিয়ে চেষ্টার ফলে তার জীবনের প্রথম এত বড় দুঃসাহসিক অভিযান জয় লাভ করে ফিরে এসেছেন।
বিয়ার গ্রিলস ও ওবামাঃ
বিয়ার গ্রিলস পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম যায়গা গুলোতে টিকে থাকার লড়াই দেখিয়ে জনপ্রিয়তার এত শীর্ষে উঠেন যে, একদিন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার সাথে সার্ভাইব করতে আলাস্কার তুষারাবৃত অঞ্চলে একত্রিত হন। সেখানে বিয়ারের সাথে ওবামা পুরো একদিন অতিবাহিত করেন
(বিয়ার গ্রিলস ও ওবামা Source: intérieur de conception de maison)
নিরাপত্তা বলয় থাকলেও তারা দূর থেকে নজর রাখছে প্রেসিডেন্টের উপর। প্রেসিডেন্ট বিয়ার গ্রিলস এর সাথে নির্বিঘ্নে হাঁটছেন, কথা বলছেন আলাস্কার এক নির্জন জায়গায়। বিয়ার থেকে জেনে নিচ্ছেন এমন নির্জন জায়গায় টিকে থাকার কৌশল। বিয়ারের অভিজ্ঞতা, গল্প শুনতে শুনতে তারা আলাস্কার এক হিমবাহ অঞ্চলের পাদদেশে দিয়ে বসেন। সেখানে বিয়ার তার ব্যাগ থেকে একটা মৃত ভাল্লুক খাওয়া স্যামন মাছ বের করেন। ওবামা প্রথমে দেখে চমকে উঠেন। পরে বিয়ারের সাথেই ওই মাছ রান্না করে লাঞ্চ সেরে নেন প্রেসিডেন্ট। আগুন জ্বালানোর কৌশলও শিখে নেন বিয়ারের কাছ থেকে। হিমবাহের গলিত পানি ফুটিয়ে পান করেন দুজনে।
সেখান থেকে তারা হেটে যান এক পাহাড়ের উপরে। সেখানে প্রেসিডেন্টে ও বিয়ার গ্রিলস দুজনেই তাদের মোবাইলে সেলফি তোলেন। পারিবারিক বিষয় ছাড়াও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে কথা বলেন দুজনে। ওবামা বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। বিয়ার গ্রিলস কে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়ে ওবামা সেখানে অভিযান শেষ করেন।
(বই The Kid Who Climbed Everest)
লেখক বিয়ার গ্রিলসঃ
বিয়ার গ্রিলস তার এভারেস্ট অভিযান নিয়ে সর্বপ্রথম বই লিখেন ‘Facing Up’ নামে। তার প্রথম বই যুক্তরাষ্ট্রে ‘The Kid Who Climbed Everest’ নামে প্রকাশিত হয়। এভারেস্ট অভিযান নিয়ে তিনি আবার ‘Facing The Frozen Ocean’ নামে তার দ্বিতীয় বই প্রকাশ করেন। এরপর Born Survivor: Bear Grylls নামে আরেকটি বই প্রকাশ করেন। বিয়ার গ্রিলস সর্বমোট ১৪ টি বই প্রকাশ করেন। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে ২০১২ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনী মূলক বই Mud, Sweat and Tears: The Autobiography. এছাড়াও বিয়ার অভিযানের দিক নির্দেশনামূলক বই রচনা করেন।
বিয়ার গ্রিলস যেমন একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী, তেমনি তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুঃসাহসের সাথে, মনোবল নিয়ে এগিয়ে গেছেন। বিয়ার গ্রিলস একজন সফল মোটিভেশনাল বক্তাও। তার লেখা ও বক্তৃতায় তিনি বর্তমানে সমাজ সেবা মূলক কাজ করছেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই দুঃসাহসী উপস্থাপক সর্ম্পকে কিছু চমকপ্রদ তথ্য-
১. বেয়ার গ্রিলসের আসল নাম কিন্তু বেয়ার নয়। তার আসল না এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস।
২. তার একমাত্র বোন লারা তাকে নামে “বেয়ার” ডাকতে শুরু করেন যখন তার বয়স মাত্র ১ সপ্তাহ।
৩. ১৯৯৮ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন বেয়ার গ্রিলস। সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্ট জয় করার কারণেই তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গিনেস বুকে তার নামও উঠে যায়। অবশ্য তার এই রেকর্ড এই পর্যন্ত ৪ বার ভাঙা হয়েছে।
৪. বেয়ার কারাতে খেলায় ব্ল্যাকবেল্ট প্রাপ্ত।
৫. ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে ৩ বছর কাজ করেছেন তিনি।
৬. এই স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে থেকেই তিনি কীভাবে প্যারাসুট থেকে লাফ দিতে হবে, পানিতে ডাইভ দিতে হবে, জঙ্গলে বেঁচে থাকেতে হবে, খালি হাতে মারামারি করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে ট্রেনিং পান।
৭. এভারেস্ট জয় করার মাত্র ১ বছর আগে বেয়ার প্যারাসুট নিয়ে লাফ দিতে গিয়ে একটি দুর্ঘটনায় পড়েন। এই ঘটনায় তার মেরুদণ্ডের ৩টি হাড় ভেঙে যায়।
৮. বেয়ার গ্রিলস বইও লিখেছেন। “ফেসিং আপ” নামে তার বইটি ব্রিটেনে সেরা ১০ বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকায় বইটি The kid who climbed Mount Everest নামে প্রকাশিত হয়।
৯. বেয়ার মোট ১১টি বই লিখেছেন। এরমধ্যে বাচ্চাদের জন্য ৪টি কল্পকাহিনীর বইও রয়েছে।
১০. তার মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ঘটনা নিয়ে একটি ডিওডোরেন্ট কোম্পানি তাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করলে তিনি সর্বপ্রথম টিভিতে আসেন।
১১. তার প্রথম টিভি শো ছিল চ্যানেল ফোর-এ। নাম ছিল “এসকেপ টু দ্য লিজিয়ন”।
১২. এরপরেই তিনি ডিসকভারি চ্যানেলে “Man vs Wild” নামে একটি টিভি শো করেন যেখানে ১ ঘণ্টার ১২টি পর্ব ছিল।
সূত্র
উইকিপিডিয়া।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষায় এক আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। মানুষ এখন আর শুধু ‘বাপ-মায়ের পরিচয়’ দিয়ে নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান কেন বড় সংকটের মুখে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। চলুন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কিছু প্রশ্নবিদ্ধ দিক।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্ব
আধুনিক বিশ্বে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতার যে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য তথ্যমতে, তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এমন কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড নেই। অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গত ১৭ বছরে তাঁকে কোনো সেমিনার বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় দেখা যায়নি, যা একজন বৈশ্বিক নেতার জন্য অপরিহার্য ছিল।
২. লন্ডনের ১৭ বছর: নীরবতা না ইমেজ সংকট?
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। প্রবাসী ছাত্র বা বুদ্ধিজীবীদের মাঝে তিনি নিজের কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি করতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে, একজন নেতা হয়েও কেন তিনি আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হলেন?
৩. জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা
লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে কী ব্যবসা বা চাকরি করেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে নেই। একজন পাবলিক লিডারের আয়ের উৎস স্বচ্ছ না থাকাটা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
৪. ৯০-এর আন্দোলন ও রাজনৈতিক অনুপস্থিতি
১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়ছিলেন, তখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক তারেক রহমান ছিলেন পর্দার আড়ালে। তাঁর জীবনে রাজপথের লড়াইয়ের চেয়ে ‘ক্ষমতায় বসে রাজনীতি’ করার ইতিহাসই বেশি স্পষ্ট, যা ২০০১ সালের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে প্রমাণিত হয়েছে।
৫. নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বনাম উত্তরাধিকার
জুলাই বিপ্লবের পর আজকের তরুণ সমাজ মেধা এবং কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেখতে চায়। ডাকসু বা জাকসু নির্বাচনের সাম্প্রতিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মানুষ এখন আর বংশপরম্পরার রাজনীতিতে আস্থা রাখছে না। তারেক রহমানের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের ইমেজও তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
গুগল অ্যানালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (Sources):
১. উইকিপিডিয়া ও বায়োগ্রাফি রেকর্ড: তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রারম্ভিক রাজনৈতিক জীবন। ২. আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর্কাইভ (বিবিসি, আল-জাজিরা): গত ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্যের রেকর্ড। ৩. নির্বাচন কমিশন ও হলফনামা রেকর্ড (২০০১, ২০০৮): তৎকালীন সময়ে বিএনপি নেতৃত্বের সম্পদ ও আয়ের বিবরণের তুলনা। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ সোশ্যাল অ্যানালিটিকস: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জেনারেশন জেড (Gen-Z) এর রাজনৈতিক পছন্দ ও নেতৃত্বের প্যারামিটার বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি একাধারে রণাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীর, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঠিক তেমনই এক জীবন্ত রূপকথা।
তারেক রহমানের এই একটি মনোনয়ন বাংলাদেশের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন মেজর হাফিজকে বলা হয় ‘অলরাউন্ডার অফ দ্য সেঞ্চুরি’? চলুন জেনে নিই তাঁর জীবনের ৫টি রোমাঞ্চকর তথ্য।
১. বঞ্চিত এক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, মেজর হাফিজ ছিলেন যশোর সেনানিবাসের সেই অকুতোভয় বাঙালি অফিসার, যিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল আর সাহসিকতা দেখে সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তিনি সর্বোচ্চ খেতাব পাননি, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ হয়েই আছেন।
২. পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি অধিনায়ক ও ‘দ্রুততম মানব’

আপনি কি জানেন, ফুটবল মাঠেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা?
- তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইতিহাসের একমাত্র বাঙালি।
- ষাটের দশকে ট্র্যাকে তিনি ছিলেন দেশের ‘দ্রুততম মানব’ (Fastest Man)।
- অ্যাথলেটিক্স, হকি আর ফুটবল—তিন জায়গাতেই তাঁর সমান শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই আছে।
৩. যখন তিনি ম্যারাডোনার ‘বিচারক’ হলেন!
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব। ১৯৯৪ সালে যখন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়ান, তখন ফিফা যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মেজর হাফিজ। ফিফাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী।
৪. ৭ বারের এমপি ও বর্তমান স্পিকার
রাজনীতির মাঠেও তিনি ক্লীন ইমেজের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজনীতিতে এসে ভোলার লালমোহন-তজুমদ্দিন আসন থেকে টানা ৭ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসানো সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
৫. আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি?
সামরিক ডিসিপ্লিন, ফুটবল মাঠের গতি আর রাজনীতির প্রজ্ঞা—এই তিনের সংমিশ্রণ মেজর হাফিজকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম আসার সম্ভাবনা প্রবল।
গুগল এনালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র (Sources):
- বিএফএফ ও ফিফা আর্কাইভ: ম্যারাডোনা ডোপ টেস্ট ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (১৯৯৪) মেম্বার লিস্ট।
- মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্তদের অফিশিয়াল গেজেট।
- সংসদ সচিবালয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন ও নির্বাচনী ইতিহাস।
- বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিকস ২০২৬: বর্তমান সরকারের সংস্কার ও সংসদীয় নেতৃত্ব বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।
১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব
ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।
৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?
রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।



