ইসলাম ও জীবন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও গবেষক)
যুগ যুগ ধরে হজরত আদম (আ.)-এর জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন এটি ছিল কেবল একটি ভুলের শাস্তি। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর পেছনে ছিল মহান আল্লাহর এক অনন্য মহিমা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

১. নিষিদ্ধ গাছ না কি জান্নাতের ‘এক্সিট ডোর’ (Exit Door)?
আমরা অনেকেই সেই গাছটিকে কেবল একটি ‘নিষিদ্ধ বস্তু’ হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবিকভাবে বিষয়টি হলো—সেই ফলটি ছিল জান্নাত থেকে বের হওয়ার একটি উপায় বা মাধ্যম। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ওটা ছিল জান্নাতের ‘Logout’ বা ‘Exit’ অপশন।
আল্লাহ আদম (আ.)-কে পৃথিবীতে পাঠানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই করেছিলেন (সুরা বাকারা: ৩০)। কিন্তু আল্লাহ ‘রহমানুর রাহিম’ বা পরম দয়ালু বলেই তিনি নিজ হাতে আদমকে জান্নাত থেকে বের করে দেননি। বরং একটি ব্যবস্থা রেখেছিলেন যাতে আদম (আ.) নিজ ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হন।
২. কেন আল্লাহ নিষেধ করেছিলেন?

আল্লাহ আদম (আ.)-কে ভালোবেসেই সাবধান করেছিলেন। আমরা যেমন আমাদের সন্তানদের বিপদের পথে যেতে নিষেধ করি, আল্লাহও তেমনি আদমকে সাবধান করেছিলেন। বিষয়টি এমন নয় যে ফলটি বিষাক্ত ছিল, বরং ফলটি খাওয়ার অর্থই ছিল জান্নাতের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে পৃথিবীর কঠিন পরীক্ষার রাজ্যে পা রাখা। আল্লাহ চেয়েছিলেন আদম যেন সাবধান থাকে, কারণ পৃথিবীর জীবন ছিল অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
৩. আদম (আ.)-এর সারল্য ও ইবলিসের প্রবঞ্চনা
আদম (আ.) ছিলেন প্রথম সৃষ্টি। তিনি আমাদের মতো পৃথিবীর জটিলতা বা ধূর্ততা দেখেননি। তাঁর মন ছিল নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ ও সরল। ইবলিস যখন মিথ্যে কসম খেয়ে তাঁকে প্রলুব্ধ করল, তখন সেই সরলতার কারণেই তিনি এর পেছনের রহস্য ধরতে পারেননি। তিনি ফলটি খেয়েছিলেন অবাধ্যতার জন্য নয়, বরং শয়তানের প্রবঞ্চনায় পড়ে ‘চিরকাল জান্নাতে থাকার’ আকাঙ্ক্ষায়।
৪. আল্লাহর পরিকল্পনা বনাম মানুষের পরীক্ষা
আল্লাহ জানতেন আদম (আ.) সেই ফলটি খাবেন। তবে এটি ছিল এক মহান মহড়া।
- ভুল ও তওবা: আল্লাহ মানুষকে শিখিয়েছেন যে ভুল করলে কীভাবে তওবা করে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে হয়।
- পৃথিবীর অভিজ্ঞতা: সরাসরি পৃথিবীতে না পাঠিয়ে জান্নাতে কিছুকাল রাখার উদ্দেশ্য ছিল আদম ও তাঁর সন্তানদের এটা বোঝানো যে—“তোমাদের আসল ঠিকানা জান্নাত, পৃথিবী কেবল একটি পরীক্ষার কেন্দ্র।”
আরও পড়ুন:২০২৬ সালে বিশ্বের সামরিক ক্ষমতার মহড়া: অস্ত্রের সংখ্যা না কি প্রযুক্তির জয়?
উপসংহার: ফেরার পথ খোলা আছে
আদম (আ.) নিজের ইচ্ছায় (শয়তানের ধোঁকায় পড়ে হলেও) জান্নাতের ‘এক্সিট’ বাটনটি প্রেস করেছিলেন। আর আল্লাহ তাঁর দয়ায় আমাদের জন্য ‘রি-এন্ট্রি’ (Re-entry) বা পুনরায় প্রবেশের পথ খোলা রেখেছেন ‘ঈমান’ ও ‘নেক আমল’-এর মাধ্যমে। তাই এই ঘটনাটি কোনো বিয়োগান্তক গল্প নয়, বরং জান্নাতে ফিরে যাওয়ার এক দীর্ঘ অভিযানের শুরু।
তথ্যসূত্র ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (References):
- আল-কুরআন: সুরা বাকারা (আয়াত ৩০-৩৮), সুরা আরাফ (আয়াত ১৯-২৭)।
- তাফসীরে ইবনে কাসীর ও মাআরেফুল কুরআন: আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও পৃথিবীতে আগমনের প্রেক্ষাপট।
- বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু ও যৌক্তিক দর্শনের মেলবন্ধন।
সাংবাদিকেরনাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ।
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
- আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি।
২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন।

- আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া।
৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল।
- আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে।
নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, কালের কণ্ঠ ইসলামিক ডেস্ক, Salat Times (salat.habibur.com), এবং Muslim Bangla (muslimbangla.com)।
আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুমাদাল উলা ১৪৪৮ হিজরি)। ইসলামে প্রতিদিন সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। স্থানভেদে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সময়ের কিছুটা তারতম্য বা পার্থক্য হয়ে থাকে। পাঠকদের সুবিধার্থে আজকের জুমার নামাজসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক ও নিখুঁত সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি (Dhaka Division)
আজ ঢাকা ও এর আসেপাশের এলাকায় প্রতিটি ওয়াক্তের শুরুর সময় নিচে দেওয়া হলো:
- ফজর: ০৪:৫০ AM
- সূর্যোদয়: ০৬:০৮ AM
- জুহর (জুমা): ১১:৪৩ AM (আজ জুমার ওয়াক্ত শুরু দুপুর ১১:৪৩ মিনিটে)
- আসর: ০৩:৪০ PM
- মাগরিব (সূর্যাস্ত): ০৫:১৭ PM
- এশা: ০৬:৩৪ PM
২. অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সময় (যোগ-বিয়োগের নিয়ম)
ঢাকার সময়ের সাথে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অন্যান্য বিভাগের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে হিসাব করে আজকের বিভাগীয় শহরগুলোর নামাজের সময় নিচে দেওয়া হলো:

- চট্টগ্রাম বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৬ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৪৪ AM, মাগরিব- ০৫:১১ PM)।
- সিলেট বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৬ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৪৪ AM, মাগরিব- ০৫:১১ PM)।
- খুলনা বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ২-৩ মিনিট পরে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৫৩ AM, মাগরিব- ০৫:২০ PM)।
- রাজশাহী বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৬-৭ মিনিট পরে নামাজ শুরু হবে। (ফজর- ০৪:৫৭ AM, মাগরিব- ০৫:২৪ PM)।
- রংপুর বিভাগ: ঢাকার সময় থেকে প্রায় ৫-৬ মিনিট পরে নামাজ শুরু হবে।
- বরিশাল বিভাগ: ঢাকার সময়ের প্রায় কাছাকাছি সময়েই নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
৩. ময়মনসিংহ বিভাগের নামাজের সঠিক সময়সূচি (Mymensingh Division)
আজ ময়মনসিংহ ও এর আশেপাশের অঞ্চলের (যেমন- ধোবাউড়া) জন্য নামাজের সঠিক সময়সূচি নিচে আলাদাভাবে দেওয়া হলো:
- ফজর: ০৪:৫১ AM
- সূর্যোদয়: ০৬:০৮ AM
- জুহর (জুমা): ১১:৪৩ AM
- আসর: ০৩:৩৯ PM
- মাগরিব: ০৫:১৬ PM
- এশা: ০৬:৩৩ PM
৪. নামাজের নিষিদ্ধ সময়সমূহ
ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী সূর্য উদয়, অস্ত এবং ঠিক মধ্যগগনে থাকার সময় নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। আজ ৬ নভেম্বরের নিষিদ্ধ সময়গুলো হলো:
- সকাল (সূর্যোদয়ের সময়): ০৬:০৮ AM থেকে পরবর্তী ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
- দুপুর (ঠিক মাথার ওপর সূর্য): ১১:৩৮ AM থেকে ১১:৪২ AM পর্যন্ত।
- বিকেল (সূর্যাস্তের সময়): ০৫:০২ PM থেকে ০৫:১৭ PM পর্যন্ত (এই সময়ে মাগরিবের ফরজ নামাজ ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ পড়া যাবে না)।
- আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন নামাজের সময় ১-২ মিনিট পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে। তাই আপনার স্থানীয় মসজিদের আজানের সময়কে অগ্রাধিকার দিন এবং জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): ইসলাম ও জীবন → ধর্মীয় অনুষ্ঠান
প্রকাশের তারিখ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): ইত্তেফাক, যুগান্তর, ঢাকা পোস্ট, খবরসংযোগ, দেশ রূপান্তর, আইটিভিবিডি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের প্রকাশিত সূচি সংক্রান্ত প্রতিবেদন
ঢাকা: ১৪৪৮ হিজরির রমজান আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি, কিন্তু রোজা কবে, ঈদ কবে, এসব নিয়ে সার্চ আগেভাগেই শুরু হয়েছে। এই পোস্টে এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত বা সম্ভাব্য, আলাদা করে দেখানো হলো।

রোজা ও ঈদ কবে হতে পারে
- মধ্যপ্রাচ্যে রোজা: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবে শাবান ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান শুরুর কথা ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি, শনিবার শাবানের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা হবে।
- বাংলাদেশে রোজা: সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ শুরু হয়, সে হিসাবে ৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে প্রথম তারাবিহ।
- বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর: ৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হলে ২৯তম রোজা পড়ে ৯ মার্চ। সেদিন সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ ১০ মার্চ (বুধবার), না গেলে রোজা ৩০ হয়ে ঈদ ১১ মার্চ (বৃহস্পতিবার)।
কেন তারিখ এক দিন এদিক-ওদিক হতে পারে
চূড়ান্ত তারিখ ঠিক করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব সেখানে সহায়ক মাত্র। গত বছরের উদাহরণ দেখুন: আমিরাত-সৌদিতে ২০ মার্চ ঈদের সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশে ২১ মার্চের সম্ভাবনা বেশি ধরা হয়েছিল, আর দেশের আকাশে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ঈদ হয়েছিল ২১ মার্চ, শনিবার।
প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদও আছে। কিছু ক্যালেন্ডার-সাইট বাংলাদেশেও ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু ধরছে, তবে সেখানেও বলা হয়েছে চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণায় তারিখ এক দিন বদলাতে পারে। আবার একটি প্রতিবেদনে ১০ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে ১১ মার্চ ঈদের কথা বলা হয়েছে, যা রোজা ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হলে মেলে। তাই চূড়ান্ত ঘোষণার আগে কোনো তারিখকেই নিশ্চিত ধরা ঠিক নয়।
সেহরি-ইফতারের সময়: এখন কী জানা আছে

আমি যতটুকু খুঁজেছি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৭ সালের চূড়ান্ত সূচি এখনো পাইনি। তাই নিচের তথ্যগুলো নির্দেশক, অফিসিয়াল সময় নয়:
- গণনাভিত্তিক হিসাব: একটি ক্যালেন্ডার-সাইটে ঢাকায় প্রথম রোজায় সেহরি ৫:১৯ ও ইফতার ৫:৫০ দেখানো হয়েছে। অন্য একটি টেবিলে প্রথম ১০ রোজায় সেহরি ৫:১৮ থেকে ৫:১৩ এবং ইফতার ৫:৫০ থেকে ৫:৫৫ পর্যন্ত গড়াচ্ছে। অর্থাৎ রোজা যত এগোবে, সেহরি একটু আগে আর ইফতার একটু পরে হবে।
- গত বছরের প্রকাশিত সূচি: ২০২৬ সালে প্রথম রোজায় ঢাকায় সেহরি ৫:১২ ও ইফতার ৫:৫৮ ছিল। ২ মার্চ ছিল সেহরি ৫:০৪ ও ইফতার ৬:০৩।
- কেন গণনাভিত্তিক সময়ে ভরসা নয়: একই সময়ের হিসাবেও গণনাভিত্তিক ক্যালেন্ডার ও ফাউন্ডেশনের সূচির মধ্যে ইফতারে প্রায় ২-৩ মিনিটের তফাত দেখা যায়। রোজার সময় এই কয়েক মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।
জেলাভেদে সময়ের ব্যবধান
ঢাকাকে ভিত্তি ধরলে পূর্ব দিকের জেলায় (চট্টগ্রাম, সিলেট) সূর্য আগে অস্ত যায়, তাই সেহরি-ইফতার আগে হয়। পশ্চিম দিকের জেলায় (রাজশাহী, খুলনা, রংপুর) একটু পরে। সাধারণ নিয়মে দ্রাঘিমাংশ ১ ডিগ্রি পূর্বে গেলে সময় প্রায় ৪ মিনিট আগে আসে। একটি গণনাভিত্তিক সাইটে ঢাকার চেয়ে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জে ইফতার ২ মিনিট আগে এবং ফরিদপুরে ২ মিনিট পরে দেখানো হয়েছে। সঠিক সময়ের জন্য ফাউন্ডেশনের জেলাভিত্তিক সূচি এবং স্থানীয় মসজিদের আজান অনুসরণ করুন।
আপডেট নোট
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ হলে এই পেজে ঢাকা ও ৬৪ জেলার সেহরি-ইফতারের সময় যুক্ত করা হবে। রমজান শুরুর আগে ও রোজা চলাকালে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ীও তারিখ হালনাগাদ করা হবে।
উপসংহার
৯ ফেব্রুয়ারি রোজা এবং ১০ বা ১১ মার্চ ঈদ, এই হিসাব এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সম্ভাব্য, কিন্তু চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। সেহরি-ইফতারের নির্ভুল সময় পেতে ফাউন্ডেশনের সূচির জন্য অপেক্ষা করাই ভালো।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



