অনলাইনে আয়

বাঙালির অর্থ উপার্জনের বিবর্তন এবং আধুনিক 'পাইপলাইন' অর্থনীতির বিশ্লেষণ

নিউজ ডেস্ক

March 20, 2026

শেয়ার করুন


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা, ২০ মার্চ ২০২৬: টাকা উপার্জন করা কোনো জাদুমন্ত্র নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল বিজ্ঞান। ১৯০০ সালের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের ডিজিটাল ‘প্যাসিভ ইনকাম’ পর্যন্ত বাঙালির অর্থ উপার্জনের ধরনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গত এক শতাব্দীতে আমরা বালতি ভরে পানি টানার মতো কায়িক শ্রম থেকে বেরিয়ে এসে ডিজিটাল পাইপলাইন তৈরির যুগে প্রবেশ করেছি।

বর্তমানে যারা সত্যিকারের আর্থিক স্বাধীনতা খুঁজছেন, তাদের জন্য “বিনিয়োগ বাংলা” (Biniyog Bangla) নিয়ে এসেছে অর্থ উপার্জনের এক নতুন আধুনিক দর্শন।

১৯০০-১৯৪৭: সামন্ততান্ত্রিক অর্থনীতি ও শ্রমের আদি রূপ

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি ও জমিদারি প্রথা কেন্দ্রিক। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও সাধারণ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস ছিল কায়িক শ্রম। তখন টাকা আসা মানেই ছিল রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠে কাজ করা। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময়কাল থেকে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটলেও আয়ের উৎস ছিল সীমিত এবং সম্পূর্ণ শ্রমনির্ভর।

১৯৪৮-১৯৭১: শিল্পায়ন এবং চাকুরিজীবী শ্রেণির উত্থান

পাকিস্তান আমলে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির স্বাধিকার চেতনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়। ষাটের দশকে শিল্পকারখানা স্থাপন এবং সরকারি চাকুরির প্রতি ঝোঁক বাড়ে। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বাঙালিরা অর্থনৈতিক শোষণের শিকার ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাঙালি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্ন দেখে।

১৯৯০-২০২৪: গ্লোবালাইজেশন এবং ফ্রিল্যান্সিং বিপ্লব

নব্বইয়ের দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবেশ এবং ২০০০ পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেটের প্রসার বাংলাদেশের অর্থ উপার্জনের ধারণা বদলে দেয়। গত ১৫-২০ বছরে তরুণ প্রজন্ম কেবল চাকুরির পেছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন শুরু করে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও আসিফ মাহমুদদের মতো বর্তমান নেতৃত্বের আধুনিক চিন্তাধারা ২০২৬ সালের তরুণদের আরও বেশি উদ্যোক্তা ও স্মার্ট ইনকাম করতে উৎসাহিত করছে।

২০২৬: স্মার্ট ইনকাম এবং ‘বিনিয়োগ বাংলা’র পাইপলাইন দর্শন

২০২৬ সালের আজকের ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে টাকা আসার আসল রহস্য হলো—’বালতি বয়ে আনা বন্ধ করে পাইপলাইন তৈরি করা’। গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের ফিন্যান্সিয়াল ট্রেন্ডস ডেটা অনুযায়ী, বর্তমানে মানুষ কায়িক শ্রমের চেয়ে ‘ভ্যালু ক্রিয়েশন’ (Value Creation) এবং ‘প্যাসিভ ইনকাম’-এর দিকে বেশি ঝুঁকছে।

টাকা আসার আধুনিক ৩টি ধাপ যা এখন ট্রেন্ডিং: ১. সমস্যার সমাধান (Solve a Problem): আপনি মানুষের যত বড় সমস্যার সমাধান করবেন, আপনার আয়ের সুযোগ তত বাড়বে। মানুষ হাসিমুখে আপনাকে টাকা দেবে। ২. সময়কে ডুপ্লিকেট করা: ব্যক্তিগত উপস্থিতির বাইরেও কাজ করে এমন সিস্টেম (যেমন- ডিজিটাল কোর্স, ইউটিউব চ্যানেল বা অটোমেটেড বিজনেস) তৈরি করা। ৩. বিনিয়োগ (Investment): মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) কারণে টাকা জমিয়ে রাখলে তার মান কমে যায়। তাই টাকাকে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করে ‘প্যাসিভ ইনকাম’ নিশ্চিত করা।

“বিনিয়োগ বাংলা” (Biniyog Bangla) চ্যানেলের মাধ্যমে এই আধুনিক বিনিয়োগ কৌশলগুলো এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে। ২০২৬ সালের এই স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে স্মার্ট ইনভেস্টিংই হচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়ার একমাত্র পথ।


বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গাধার মতো পরিশ্রম করে কেউ কোনোদিন প্রকৃত ধনী হতে পারেনি। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে বুদ্ধি খাটিয়ে সিস্টেম তৈরি করাই হলো আসল সফলতা। ড. আব্দুল মঈন খান বা ব্যারিস্টার কায়সার কামালদের বক্তব্যে উঠে আসা জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত আর্থিক সচেতনতার ওপর।

সূত্র: ইনভেস্টমেন্ট আর্কাইভ বাংলাদেশ, যুগান্তর ইকোনমি পেজ, বিনিয়োগ বাংলা রিসার্চ ডেটা এবং ২০২৬ সালের গুগল ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ইউরেনিয়ামের রহস্য

নিউজ ডেস্ক

April 29, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এক নতুন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন—বাংলাদেশের রাজনীতি এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ ভূখণ্ড। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশ এখন আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার সমান্তরালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল ব্যয়, ইউরেনিয়ামের জটিল বিজ্ঞান এবং নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার জোয়ার।

ইউরেনিয়ামের রহস্য: রূপপুর কি হিরোশিমা হবে?

প্রকৃতিতে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় এক অদ্ভুত অনুপাতে। আকরিক থেকে পাওয়া ১০০ ভাগ ইউরেনিয়ামের মধ্যে মাত্র $0.7\%$ হলো $U-235$, যা শক্তির মূল উৎস। বাকি $99.3\%$ হলো $U-238$, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর নয়। যখন এই $U-235$ এর ঘনত্ব ৩ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তখন একে বলা হয় Low Enriched Uranium (LEU)। রূপপুরের রিঅ্যাক্টরে এই $LEU$ ব্যবহার করে বোরন ‘কন্ট্রোল রড’-এর সাহায্যে এক নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এটি অনেকটা চুলার আঁচ নিয়ন্ত্রণের মতো; রড নামালে বিক্রিয়া কমে, তুললে বাড়ে।

বিপরীতে, ১৯৪৫ সালের হিরোশিমায় ব্যবহৃত ‘লিটল বয়’ বোমাটিতে ছিল $93\%$ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না বলেই এক সেকেন্ডের কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ে সূর্যের কেন্দ্রের সমান তাপ উৎপন্ন হয়ে ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। পদার্থবিজ্ঞানের গাণিতিক নিয়মে রূপপুরের জ্বালানি দিয়ে বোমা বানানো অসম্ভব, তবে রিঅ্যাক্টরে উৎপন্ন হওয়া Plutonium নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজরদারি সবসময়ই থাকে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: প্রান্তিক মানুষের জন্য সুরক্ষা কবচ

বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এরই মধ্যে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে উন্নয়নের সম-অংশীদার।” এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সকল অফিস ও শিল্প কারখানায় ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

স্মার্ট কৃষিতে ড্রোন ও এআই বিপ্লব

একই দিনে সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, সরকার ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ চালুর মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই খাতে রূপান্তর করছে। কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন এবং ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির শ্বেতপত্র

উন্নয়নের এই আবহের মাঝেই রূপপুর প্রকল্পের বিশাল ব্যয় (১২ বিলিয়ন ডলার) এক বড় দুশ্চিন্তার নাম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পের তুলনায় রূপপুরের নির্মাণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই ‘মেগা বোঝা’ এখন বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

রাজনীতিতে নৈতিকতার বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, নাহিদ ইসলাম নিজে সরাসরি দুর্নীতি না করলেও স্বজনপ্রীতি ও উপদেষ্টা পদে থেকে রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠনের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে, রোমানিয়া সরকার অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি।


সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (২৯ এপ্রিল অধিবেশন), মার্কিন দূতাবাস ঢাকা, বাংলাদেশ দূতাবাস (রোমানিয়া) এবং ঐতিহাসিক আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: ১৯০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির অধিকারের লড়াই ২০২৬ সালে এসে পারমাণবিক শক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মুখোমুখি। একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর আধুনিক পরিকল্পনা যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি রূপপুর প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি এবং নীতিনির্ধারকদের নৈতিক পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলাদেশকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হবে আগামীর স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ কেন গরীব

নিউজ ডেস্ক

April 28, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: BDS Bulbul Ahmed

বিভাগ: অর্থনীতি / সমাজ / ফিচার

উৎস: পালসবাংলাদেশ (আর্থ-সামাজিক পর্যালোচনা)

বাংলাদেশ কেন গরীব? এই প্রশ্নটি যতটা সহজ, এর উত্তর ঠিক ততটাই গভীর। দারিদ্র্য কেবল পকেটে টাকা না থাকা নয়; বরং এটি একটি ঐতিহাসিক শৃঙ্খল, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং বারবার আছড়ে পড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ নাম। তবে মুদ্রার অন্য পিঠ বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ কেবল দারিদ্র্যের সংজ্ঞা বদলায়নি, বরং বিশ্বের সামনে উন্নয়নের এক বিস্ময়কর মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১. শূন্য থেকে শুরু করার গল্প

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়, তখন দেশটির কোষাগার ছিল শূন্য। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল রাস্তাঘাট, কারখানা আর অবকাঠামো। একটি দেশ যখন জন্ম নেয় ‘ঘর ভাঙা’ অবস্থায়, তখন তাকে দাঁড়াতে সময় নিতেই হয়। আপনি যেমনটি বললেন, বাংলাদেশ একটু দেরিতে শুরু করেছে, আর এই শুরুটাই ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং।

২. জনঘনত্ব ও সম্পদের অসম বণ্টন

বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা হলো এর আয়তনের তুলনায় বিশাল জনসংখ্যা। সীমিত জায়গায় এত বেশি মানুষের সংস্থান করতে গিয়ে সম্পদের ওপর চাপ পড়ে আকাশছোঁয়া। সুযোগ পেলে ‘শর্টকাট’ খোঁজা বা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি উন্নতির গতিতে কিছুটা ব্রেক ধরলেও, এই জনসংখ্যাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিতে (Human Resource) রূপান্তরিত হচ্ছে।

৩. উন্নয়নের তিনটি শক্তিশালী স্তম্ভ

বাংলাদেশ গরীব তকমা ঝেড়ে ফেলার জন্য তিনটি প্রধান অস্ত্রের ওপর ভর করে দৌড়াচ্ছে:

  • গার্মেন্টস শিল্প: বিশ্বজুড়ে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ এখন একটি আস্থার নাম। লাখ লাখ নারী শ্রমিকের হাতে বোনা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।
  • রেমিট্যান্স: প্রবাসী যোদ্ধারা দিনরাত বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে যে টাকা পাঠাচ্ছেন, তা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে।
  • গ্রামীণ অর্থনীতি: ক্ষুদ্রঋণ আর নারীদের কর্মসংস্থান গ্রামের চিত্র বদলে দিয়েছে। গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার এই গল্পগুলোই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

৪. শর্টকাট বনাম পরিশ্রমের সংস্কৃতি

আমাদের মধ্যে অনেক সময় কাজের চেয়ে কথা বেশি বলার অভ্যাস বা নিয়মের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা থাকলেও, মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। ক্ষেত মজুর থেকে শুরু করে রিকশাচালক—সবার লড়াকু মানসিকতা বাংলাদেশকে বারবার খাদের কিনারা থেকে তুলে এনেছে।


এক নজরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা

পর্যায়অবস্থা
১৯৭১ – ১৯৯০পুনর্গঠন ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।
১৯৯০ – ২০১০গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ভিত তৈরি।
২০১০ – ২০২৬অবকাঠামো উন্নয়ন (মেগা প্রজেক্ট) এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যউন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১।

বিডিএস ডিজিটাল এডিটোরিয়াল ইনসাইট (Editorial Insight)

বাংলাদেশ এখন আর কেবল ‘বটমলেস বাস্কেট’ নয়। দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের বড় বড় অনেক দেশ আজ বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। হ্যাঁ, আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু আমাদের উদ্যম আর জিদ হিমালয় সমান। আপনার ভাষায়— “এই দৌড়টাই আসল গল্প”। বাংলাদেশ দৌড়াচ্ছে এবং ইনশাআল্লাহ, গন্তব্যে পৌঁছাবেই।


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূর করতে আমাদের কোন অভ্যাসটি সবার আগে পরিবর্তন করা উচিত বলে আপনি মনে করেন? কমেন্টে জানান।

নিকোলা টেসলা

নিউজ ডেস্ক

April 28, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]

বিভাগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / ইতিহাস

উৎস: (প্রথম আলো ও ঐতিহাসিক আর্কাইভের সহায়তায়)

১৮৯৩ সালের শিকাগো ওয়ার্ল্ড ফেয়ার। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ এক মায়াবী আলোয় ঝলমল করছে। মানুষ বিস্ময়ে দেখছে ‘পরিবর্তী বিদ্যুৎ’ বা এসি কারেন্টের জাদু। যার হাত ধরে এই আলোকসজ্জা, তিনি ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় এবং প্রতিভাবান বিজ্ঞানী— নিকোলা টেসলা। এডিসনের সমবিদ্যুৎ (DC) যখন জঞ্জাল আর সীমাবদ্ধতায় আটকে ছিল, তখন টেসলা পৃথিবীকে দেখালেন চিকন তারে মাইলকে মাইল বিদ্যুৎ পাঠানোর স্বপ্ন।

১. মেধাবী ছাত্র থেকে ‘ডিগ্রিহীন’ প্রকৌশলী

১৮৫৬ সালে বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার এক গ্রামে জন্ম নেওয়া টেসলা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য। গণিতের জটিল ইন্টিগ্র্যাল ক্যালকুলাস তিনি মুখে মুখেই সমাধান করে ফেলতেন। হাইস্কুলের চার বছরের কোর্স শেষ করেছিলেন মাত্র তিন বছরে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় টেসলা দাবি করেন, কমিউটেটর ছাড়াই ডায়নামো তৈরি সম্ভব। তাঁর এই অদম্য জেদ আর অধ্যাপকদের সাথে মতভেদের কারণে শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি ছাড়াই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়।

২. এডিসনের সাথে সংঘাত ও ‘আমেরিকান কৌতুক’

১৮৮৪ সালে টেসলা যখন নিউইয়র্কে টমাস আলভা এডিসনের কোম্পানিতে যোগ দেন, তখন সূচিত হয় বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দ্বৈরথ। এডিসনের ডিসি জেনারেটরের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ সফলভাবে শেষ করার পর টেসলাকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫০ হাজার ডলার দিতে অস্বীকার করেন এডিসন। এডিসন রসিকতা করে বলেন, “তুমি আমেরিকান কৌতুক বোঝোনি।” এই অভিমানে টেসলা পদত্যাগ করেন এবং শুরু হয় ‘কারেন্ট ওয়ার’ বা বিদ্যুতের যুদ্ধ।

৩. বিনা তারে বিদ্যুৎ ও টেসলা কয়েল

টেসলার সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল তারবিহীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন। ১৮৯৩ সালের প্রদর্শনীতে তিনি দেখান, কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই একটি বাতি জ্বালানো সম্ভব। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়্যারলেস সিস্টেম’, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী বিনা তারে বিদ্যুৎ ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। যদিও অর্থের অভাবে তাঁর ‘ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার’ প্রকল্প সফল হয়নি, তবে আজকের রেডিও এবং ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ভিত্তি সেই টেসলা কয়েল।

৪. ৩০০ পেটেন্টের অধিকারী এক নিঃস্ব জাদুকর

রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে আমরা মার্কনিকে চিনলেও, মার্কনি টেসলার ১৭টি পেটেন্ট ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৪৩ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট টেসলাকেই রেডিওর প্রকৃত উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এক্স-রে থেকে শুরু করে রিমোট কন্ট্রোল নৌকা, এমনকি আজকের হেলিকপ্টারের আদি ধারণা—সবই ছিল টেসলার মস্তিষ্কের অবদান। অথচ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন দারুণ অর্থকষ্টে। শেষ জীবনে নিউইয়র্কার হোটেলের একটি কক্ষে পায়রাদের সাথে সময় কাটিয়ে ১৯৪৩ সালে তিনি মারা যান।

৫. টেসলার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞানীরা ১৯৬০ সালে চৌম্বক ক্ষেত্রের এককের নাম দিয়েছেন ‘টেসলা’। আজ যখন আমরা বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা শুনি, সেই বিখ্যাত ‘Tesla’ কোম্পানির নামটিও এই মহান বিজ্ঞানীর প্রতি সম্মান জানিয়ে রাখা। আজকের স্মার্ট দুনিয়া যে বেতার তরঙ্গে চলে, তার প্রতিটি স্পন্দনে মিশে আছে নিকোলা টেসলার নাম।


এক নজরে নিকোলা টেসলা

বিষয়তথ্য
জন্ম১০ জুলাই ১৮৫৬, ক্রোয়েশিয়া।
আবিষ্কারএসি বিদ্যুৎ, ইন্ডাকশন মোটর, টেসলা কয়েল, রেডিওর মূল নকশা।
পেটেন্ট সংখ্যাপ্রায় ৩০০টি।
সম্মাননাচৌম্বক ক্ষেত্রের একক ‘টেসলা’ (T)।
মৃত্যু৭ জানুয়ারি ১৯৪৩, নিউ ইয়র্ক।

বি.ডি.এস ডিজিটাল এডিটোরিয়াল ইনসাইট: নিকোলা টেসলার জীবন আমাদের শেখায় যে, উদ্ভাবন কেবল ব্যবসার জন্য নয়, বরং মানবজাতির কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। টেসলা হয়তো ব্যবসা বোঝেননি, কিন্তু তিনি ভবিষ্যৎ বুঝেছিলেন। তাঁর সেই ভবিষ্যৎ আজ আমাদের বর্তমান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ