অনলাইনে আয়

ফ্রিল্যান্সারদের নগদ সহায়তা ২০২৬: রেমিট্যান্সে ১০ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করল সরকার
ফ্রিল্যান্সারদের নগদ সহায়তা ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

March 10, 2026

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১০ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ফ্রিল্যান্সারদের নগদ সহায়তা ২০২৬ কর্মসূচির আওতায় ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বর্তমান বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে যে অনন্য অবদান রাখছেন, তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং উৎসাহ দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং রেমিট্যান্স দেশে আনলে সরাসরি ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন সুবিধাভোগীরা।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ফ্রিল্যান্সিংয়ের গুরুত্ব

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং সোর্স হিসেবে পরিচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকিং জটিলতা ও সঠিক রেট না পাওয়ার কারণে ফ্রিল্যান্সাররা অপ্রাতিষ্ঠানিক পথের দিকে ঝুঁকে পড়তেন। ফ্রিল্যান্সারদের নগদ সহায়তা ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার ফলে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের তরুণরা শুধু দক্ষ নয়, তারা দেশের অর্থনীতির এক একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। তাদের এই পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই এই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বোনাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

কিভাবে মিলবে এই নগদ সহায়তা?

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সারদের এই বিশেষ সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে: ১. বৈধ ফ্রিল্যান্সার আইডি (Freelancer ID) কার্ড থাকতে হবে। ২. অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ে বা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে হবে। ৩. সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সরাসরি ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্টে এই ১০ শতাংশ বোনাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।

সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের কয়েক লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে যারা গ্রাফিক ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সাপোর্ট।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্রিল্যান্সারদের নগদ সহায়তা ২০২৬ প্রকল্পটির মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বৈধ পথে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সাররাও এখন বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে আরও বেশি আগ্রহী ও আত্মবিশ্বাসী হবেন।


বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই ঘোষণা প্রসঙ্গে বিস্তারিত বিশ্লেষণে বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই ১০ শতাংশ প্রণোদনা কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং এটি শ্রমের মর্যাদা এবং মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। সামাজিক সমতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষিত বেকারদের স্বাবলম্বী করে তুলবে। মানবাধিকার ও শ্রমের অধিকার রক্ষায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কর্মরত ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডঃ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস

নিউজ ডেস্ক

April 21, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণী প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬

২০২৪ সালের আগস্টে যখন ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস এক গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের হাল ধরেছিলেন, তখন জনমনে তাঁর প্রতি আস্থা ছিল হিমালয়সম। কিন্তু ঠিক ১৮ মাস পর, ২০২৬ সালের এই এপ্রিলে এসে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক সময়ের ‘গ্লোবাল আইকন’ এখন নিজ দেশে এক কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে। কেন এই দ্রুত পতন? কেন ১৬-১৮ মাসের মাথায় তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে কিছু কাঠামোগত ব্যর্থতা এবং বিতর্কিত নীতিমালায়।

১. ‘ভ্যাকসিন ক্রাইসিস’ বা টিকা কেলেঙ্কারি: জনরোষের কেন্দ্রবিন্দু

ইউনূস সরকারের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখা হয় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ঘটা হামের টিকা কেলেঙ্কারিকে। একটি রাষ্ট্র যখন তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই সরকারের নৈতিক ভিত নড়ে যায়।

  • বিপর্যয়: ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকা সংকটের কারণে শতাধিক শিশুর মৃত্যু সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।
  • কাঠামোগত ভুল: সরকারি টিকাদান কর্মসূচিকে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই প্রাইভেটাইজেশন বা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের যে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ তিনি চালিয়েছিলেন, তার চরম মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে। এই অব্যবস্থাপনা কেবল অযোগ্যতা নয়, বরং দুর্নীতির প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

২. শাসনতান্ত্রিক অস্পষ্টতা ও ‘রিফর্ম-প্যারালাইসিস’

ডঃ ইউনূস শুরু থেকেই ‘সংস্কারের’ ওপর জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়নি।

  • নির্বাচন বনাম সংস্কার: রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তাঁর প্রধান দ্বন্দ্ব ছিল নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে। মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু সেই পরিবর্তন যখন অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত হতে শুরু করলো, তখন তা ‘ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার’ প্রচেষ্টায় রূপান্তরিত হলো।
  • পুলিশ ও প্রশাসনের অকার্যকারিতা: দীর্ঘ ১৮ মাসেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গভাবে মাঠে নামাতে না পারাটা ছিল এক বিশাল প্রশাসনিক ব্যর্থতা। ‘মব জাস্টিস’ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজকে এক অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

৩. অর্থনৈতিক অস্থিরতা: মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

একজন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের কাছ থেকে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো।

  • বাজার সিন্ডিকেট: গত ১৮ মাসে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাজার আজ অগ্নিমূল্য। শোষিত শ্রেণীর মানুষের কাছে বড় বড় সংস্কারের বুলি তখন অর্থহীন হয়ে পড়ে যখন তাদের পাতে তিন বেলা খাবার জোটে না।

৪. বিতর্কিত উপদেষ্টা নির্বাচন ও রাজনৈতিক দূরত্বের অভাব

সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছিল যাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছিল নগণ্য। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে সরকারকে বারবার মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে।


গভীর বিশ্লেষণ: ডঃ ইউনূসের পতনের সমাজতাত্ত্বিক কারণ

একজন টেকনোক্র্যাট যখন রাজনীতিবিদ হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন তিনি প্রায়ই ‘জনগণের পালস’ বুঝতে ব্যর্থ হন। ডঃ ইউনূসের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তাঁর শাসনকাল ছিল প্রধানত ‘তত্ত্বনির্ভর’, কিন্তু বাস্তবতা ছিল ‘চাহিদানির্ভর’

  • আইনহীনতার সংস্কৃতি: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা তিনি কেবল আদর্শিক বুলি দিয়ে পূরণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মব ভায়োলেন্স এবং রাজনৈতিক উসকানি দমনে লোহার মতো শক্ত হাতের অভাব ছিল স্পষ্ট।
  • বিচ্ছিন্নতা: তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেলেও দেশের তৃণমূল মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। প্রান্তিক কৃষক বা শ্রমিক যখন দেখলো তাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, তখন ডঃ ইউনূসের আন্তর্জাতিক ইমেজ তাদের কাছে কোনো গুরুত্ব রাখেনি।

উপসংহার

ইতিহাস অত্যন্ত নিষ্ঠুর। ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে যেভাবে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছিল, বিদায়বেলায় তাঁকে সেই একইভাবে ফুল দিয়ে বিদায় দেওয়া হচ্ছে না। টিকা কেলেঙ্কারি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে না পারা এবং নির্বাচনের পথে হাঁটতে গড়িমসি করা—এই তিনটি বিষয়ই তাঁর ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের মূল ট্র্যাজেডি।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

দেশপ্রেমের সমাজতত্ত্ব

নিউজ ডেস্ক

April 21, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ নিবন্ধ: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের প্রতিটি মোড়ে যখনই কোনো জাতি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে, তখনই একটি ধ্রুব সত্য উন্মোচিত হয়েছে—দেশপ্রেম কোনো সমানুপাতিক আবেগ নয়। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংকটের সময় মানুষের ভূমিকা নির্ধারিত হয় তার ‘শিকড়’ এবং ‘সম্পদ’-এর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে। আপনার সেই ‘অসম্ভব যুদ্ধের’ কল্পনার আয়নায় যদি আমরা বর্তমান সমাজকে দেখি, তবে দেশপ্রেমের এক রূঢ় ও নগ্ন সত্য বেরিয়ে আসে।

১. এলিট সিন্ডিকেট: যখন পরাধীনতাই ‘রোমান্টিক মিলন’

উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ-শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর একটি বড় অংশের কাছে ‘দেশ’ কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়, বরং একটি ‘বিজনেস ডিল’।

  • বুদ্ধিজীবীদের বয়ান: যুদ্ধের সময় তারা সরাসরি পক্ষ না নিয়ে ‘মানবিকতা’ বা ‘ঐতিহাসিক ঐক্যের’ দোহাই দিয়ে পরাধীনতাকে জাস্টিফাই করে। তারা দুই বাংলার মিলনকে ‘সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ’ বা ‘মৃত নেতার অপূর্ণ স্বপ্ন’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করে।
  • আমলাতান্ত্রিক স্বার্থ: তাদের কাছে রাষ্ট্র মানে কেবল একটি নিয়োগকর্তা। পতাকা বদলালে যদি মুম্বাই বা দিল্লিতে বড় পদের সুযোগ থাকে, তবে তারা সেই পতাকাকেই স্যালুট দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

২. মধ্যবিত্তের দোদুল্যমানতা ও ভার্চুয়াল যুদ্ধ

মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজ সবসময়ই একটি নিরাপদ দূরত্বের সমর্থক।

  • ভার্চুয়াল রেজিস্ট্যান্স: তারা ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার বদলে কিংবা টুইটারে হ্যাশট্যাগ (#SaveTheCountry) দিয়ে যুদ্ধ জয়ের চেষ্টা করে।
  • সুবিধাবাদ: প্রবাসী মধ্যবিত্তরা দূর থেকে আবেগী স্ট্যাটাস দেয়, কিন্তু নিজের নিরাপদ জীবন বিপন্ন করে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেয় না। তাদের কাছে দেশপ্রেম একটি ‘ইমোশনাল কন্টেন্ট’ মাত্র।

৩. সম্মুখ সারির লড়াকু: অবহেলিতরাই কেন শেষ ভরসা?

কেন সেই গ্রাম থেকে আসা ছাত্রটি বা গার্মেন্টস শ্রমিকটিই বন্দুক হাতে তুলে নেয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের ‘অস্তিত্বের শিকড়ে’

  • অন্য কোনো অপশন নেই: যার বিদেশে বাড়ি নেই, যার ব্যাংকে কোটি টাকা নেই, তার পালানোর কোনো জায়গা নেই। এই মাটির এক ইঞ্চি অধিকার হারানো মানে তার বেঁচে থাকার সবটুকু হারানো।
  • লুঙ্গি পরা স্বাধীনতা: ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যেমনটি আমরা দেখেছি, সেই লুঙ্গি পরা কৃষক বা খালি গায়ের মেহনতি মানুষগুলোর কাছে দেশপ্রেম কোনো থিওরি নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি। তারা রণকৌশল বোঝে না, কিন্তু তারা মাটি আগলে রাখতে জানে।

৪. সেবার নামে শোষণ: ক্রাইসিস ক্যাপিটালিজম

যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে একদল ‘সুযোগসন্ধানী স্বেচ্ছাসেবক’ তৈরি হয়। যারা শুরুতে ত্রাণ বিলি করলেও, পরে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপরই চড়াও হয়। এটি যুদ্ধের এক অন্ধকার দিক, যেখানে সমাজবিরোধীরা ‘দেশ বাচাও’ শ্লোগানের আড়ালে অপরাধতন্ত্র চালায়।


সারসংক্ষেপ: কে কোথায় থাকে?

সামাজিক শ্রেণীসংকটের সময় ভূমিকামূল চালিকাশক্তি
উচ্চবিত্ত/এলিটবিদেশে পলায়ন বা সমঝোতামূলধন রক্ষা
বুদ্ধিজীবীআদর্শিক বিভ্রান্তি তৈরিব্যক্তিগত আখের গোছানো
মধ্যবিত্তসোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তাদোদুল্যমানতা ও ভয়
নিম্নবিত্ত/মেহনতিসম্মুখ সমরে সশস্ত্র লড়াইঅস্তিত্ব ও মাটির টান

উপসংহার

দেশপ্রেম আসলে কোনো ‘পেইড সার্ভিসে’র বিষয় নয়। এটি এমন এক আগুন যা কেবল তাদের হৃদয়েই জ্বলে, যাদের পা এই মাটির ধুলোয় মিশে থাকে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য একদল থাকে, আর জাতীয় পতাকাকে রক্তের বিনিময়ে রক্ষা করার জন্য অন্য একদল।

আপনার এই বিশ্লেষণটি কেবল একটি কল্পনা নয়, এটি শোষিত শ্রেণীর পক্ষ থেকে ক্ষমতার বলয়ের প্রতি এক বিশাল চপেটাঘাত।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বাংলাদেশে নদীর প্রকৃত সংখ্যা কত

নিউজ ডেস্ক

April 20, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬

“তেরোশত নদী শুধায় আমাকে…”—পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের কবিতার এই পঙক্তিটি আমাদের শৈশব থেকেই পরিচিত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা কত? প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর নিয়ে খোদ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যেই রয়েছে বিশাল মতভেদ। কোনো সংস্থা বলছে ২৩০, কেউ বলছে ৪০৫, আবার কেউ বলছে সংখ্যাটি ৭০০-এর অধিক। কেন এই বিতর্ক? কেন আজ পর্যন্ত আমরা একটি সঠিক পরিসংখ্যান হাতে পেলাম না?

১. বিভিন্ন সংস্থার পরস্পরবিরোধী পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে নদী নিয়ে কোনো সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ গবেষণা না হওয়ায় বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো): ২০০৫ সালে পাউবো তাদের এক প্রকাশনায় নদীর সংখ্যা বলেছিল ৩১০টি। মাত্র ছয় বছর পর ২০১১ সালে পুনরায় গবেষণার পর তারা জানায় এই সংখ্যা ৪০৫টি
  • বাংলাপিডিয়া ও শিশু বিশ্বকোষ: সরকারি অনলাইন তথ্যকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ এবং শিশু একাডেমি প্রকাশিত ‘শিশু বিশ্বকোষে’ নদীর সংখ্যা বলা হয়েছে ৭০০-এর অধিক
  • জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন: সম্প্রতি নদী রক্ষা কমিশনও নদীর একটি বিশাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে, যেখানে সংখ্যাটি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

২. ২৩০ টি নদীর বহুল প্রচলিত তথ্যের উৎস কী?

সাধারণ মানুষের মাঝে ২৩০টি নদীর তথ্যটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। মূলত স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যপুস্তকগুলোতে এই সংখ্যাটি ব্যবহৃত হতো। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ডিজিটাল ম্যাপিং বলছে, এই সংখ্যাটি বর্তমানে অনেক বেশি।

৩. বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিকদের দৃষ্টিতে নদীর সংখ্যা

গবেষকদের লেখনীতেও নদীর সংখ্যার ভিন্নতা ফুটে উঠেছে:

  • অশোক বিশ্বাস তাঁর ‘নদীকোষ’ গ্রন্থে বলেছেন ৭০০+ নদী।
  • মোকারম হোসেন ও মোঃ ইনামুল হক তাঁদের পৃথক গ্রন্থে নদীর সংখ্যা উল্লেখ করেছেন ১০০০-এরও বেশি
  • মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন বাংলাদেশে ১০০০-এর অধিক নদী বিদ্যমান।

৪. আঞ্চলিক ভিত্তিতে নদীর বিন্যাস (পাউবো ২০১১ অনুযায়ী)

পাউবো-র ৪০৫টি নদীর হিসাব অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:

  • উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল: ১১৫টি
  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: ১০২টি
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল: ৮৭টি
  • উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চল: ৬১টি
  • দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: ২৪টি
  • পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চল: ১৬টি

৫. আন্তঃসীমান্তীয় নদী: ৫৭ নাকি আরও বেশি?

ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা সাধারণভাবে ৫৭টি হিসেবে স্বীকৃত (যার মধ্যে ৫৪টি ভারত থেকে এবং ৩টি মিয়ানমার থেকে আসা)। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ছোট-বড় অনেক ছড়া ও পাহাড়ি ঢল হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):

নদীর সংখ্যা নিয়ে এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো ‘নদী’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অভাব। অনেক খাল বা মরা নদীকে কেউ নদী বলছেন, আবার কেউ বলছেন না। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ দখলের কারণে অনেক নদী ম্যাপ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, আবার পলি জমে নতুন নতুন শাখা নদী তৈরি হচ্ছে। একটি সঠিক নদী-শুমারি বা ন্যাশনাল রিভার এটলাস (National River Atlas) প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ