অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র
আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:
- সোনালী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- রূপালী ব্যাংক
- পুবালী ব্যাংক
- উত্তরা ব্যাংক
ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব
ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ কলাম: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: মত-দ্বিমত / রাজনীতি
উৎস: পালসবাংলাদেশ (রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ)
রাজনীতির মঞ্চটা বড়ই বিচিত্র। এখানে আদর্শ, বক্তব্য আর পোশাক—সবই যেন কখনো কখনো “সিজনাল অফার” হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ভোটের সময় এলে রাজপথের নেতাদের যে নাটকীয় রূপান্তর দেখা যায়, তা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
১. জীবনধারা বনাম রাজনৈতিক প্যাকেজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের একটি ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের নেতা-কর্মীদের টুপি, পাঞ্জাবি আর দাড়ির যে ‘প্যাকেজ’, সেটা নির্বাচনের আগে বা পরে সবসময়ই অভিন্ন থাকে। এটাকে তারা তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখে। ফলে সেখানে কোনো ‘অফ সিজন’ নেই।
২. বিএনপির ‘কাস্টমাইজড সার্ভিস’

কিন্তু মজার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিকে নিয়ে। তাদের রাজনীতি অনেকটা “কাস্টমাইজড সার্ভিস”-এর মতো, যেখানে ভোটারের চাহিদা অনুযায়ী প্যাকেজ বানানো হয়।
- গ্রামে গেলে: ধর্মীয় আবহ ও মাটির মানুষ সাজার জন্য টুপি-পাঞ্জাবি রেডি।
- শহরে গেলে: আধুনিক ও প্রগতিশীল ভাব দেখাতে স্যুট-বুটও রেডি।
- মঞ্চে গেলে: ভোটারদের ধর্মীয় আবেগ উসকে দিতে দুই-চারটা যুৎসই শব্দও তাদের ডিকশনারিতে স্টকে থাকে।
৩. ‘হেদায়েতের মৌসুম’ ও পরবর্তী প্রস্থান

নির্বাচনের সময় দেখা যায়, অনেক নেতাই হঠাৎ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি হয়ে যান। টুপি-পাঞ্জাবি পরে তাঁদের এমনভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়, যেন রাজনৈতিক প্রচার নয়—বরং কোনো “হেদায়েতের মৌসুম” চলছে।
কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, ভোট শেষ আর ফলাফল হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই সেই আমূল পরিবর্তন উধাও হয়ে যায়। ধীরে ধীরে টুপিগুলো আলমারির অন্ধকারে চলে যায়, ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবিগুলো ভাঁজ হয়ে আলনার কোণে জায়গা পায়। আর সেই ‘নামাজ’? সেটি হয়তো “পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি” পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়!
৪. জনগণ এখন আর ‘সরল’ নয়

জনগণ এখন আগের মতো সরল নয়। তারা মুচকি হেসে বলে— “এটা তো নতুন কিছু না, এটা তো ‘ইলেকশন এডিশন ইসলাম’—সিজন শেষ, অফারও শেষ!” রাজনীতিতে আদর্শ যদি স্থায়ী না হয়, তবে তা খুব সহজেই “প্রয়োজনমাফিক সাজপোশাক”-এ পরিণত হয়। কে আসল আর কে মৌসুমি—তা সাধারণ মানুষ এখন খুব ভালোভাবেই বোঝে।
বিডিএস পলিটিক্যাল ইনসাইট (Editorial Insight)
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নতুন কিছু নয়, তবে যখন কোনো দলের আদর্শিক অবস্থান কেবলই পোশাকের ওপর নির্ভর করে, তখন তা জনগণের কাছে ‘ভণ্ডামি’ হিসেবেই প্রতিভাত হয়। আগামী নির্বাচনে এই তথাকথিত ‘টুপি পড়ার’ কৌশল ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। কারণ মানুষের চেতনা এখন কেবল পোশাকে নয়, বরং কাজের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: রাজনৈতিক নেতাদের এই ‘মৌসুমি ধর্মপ্রীতি’ কি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে? আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে?
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: আন্তর্জাতিক / বিশেষ প্রতিবেদন
উৎস: (উইকিলিকস ও জিও-পলিটিক্যাল আর্কাইভ অবলম্বনে)
ইতিহাস বিজয়ীরা লেখে, কিন্তু সত্য লুকিয়ে থাকে ফাঁস হওয়া নথিতে। ২০১১ সালের ২রা এপ্রিল হিলারি ক্লিনটনের উপদেষ্টা সিডনি ব্লুমেনথালের সেই ই-মেইলটি আজ যেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘ক্রাইম ডকুমেন্ট’। সেখানে পরিষ্কার লেখা ছিল—লিবিয়া আক্রমণের মূল কারণ লিবিয়ার গণতন্ত্র বা বাকস্বাধীনতা ছিল না, বরং ছিল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ভল্টে থাকা ১৪৩ টন সোনা।
১. ‘গোল্ড দিনার’ ও ডলারের একাধিপত্যে আঘাত

গাদ্দাফি স্বপ্ন দেখতেন ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আফ্রিকা’র। তিনি চেয়েছিলেন আফ্রিকান দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রা ‘গোল্ড দিনার’ চালু করতে, যাতে তেল-গ্যাস কেনাবেচায় মার্কিন ডলারের মুখাপেক্ষী হতে না হয়। এটি ছিল নব্য উপনিবেশবাদের মূলে কুঠারাঘাত। আজও আফ্রিকার ১৪টি দেশের জিডিপির সিংহভাগ অর্থ ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়—গাদ্দাফি এই ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক দাসত্বের শিকল ভাঙতে চেয়েছিলেন বলেই তিনি পশ্চিমাদের এক নম্বর টার্গেটে পরিণত হন।
২. বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য: যখন পানি ছিল ফ্রি!

গাদ্দাফির সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রজেক্ট ছিল ‘গ্রেট ম্যান-মেড রিভার’ (GMR)। সাহারা মরুভূমির নিচ থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন ৬৫ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি সরবরাহ করতেন। লিবিয়ার নাগরিকদের পানির জন্য কোনো বিল দিতে হতো না। পশ্চিমা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর ‘পানির ব্যবসা’র জন্য এটি ছিল এক বিরাট হুমকি।
৩. লিবিয়ার সেই সমৃদ্ধি বনাম বর্তমান ধ্বংসস্তূপ

- নবদম্পতিকে অনুদান: ঘর গোছানোর জন্য দেওয়া হতো ৫০ হাজার ডলার।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: লিবিয়ার শিক্ষার হার ছিল আফ্রিকার সর্বোচ্চ এবং চিকিৎসা ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি।
- ডিজিটাল মুক্তি: ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ‘র্যাসকম’ (RASCOM) স্যাটেলাইট বানিয়ে পুরো আফ্রিকাকে ইউরোপের স্যাটেলাইট ভাড়ার বোঝা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন গাদ্দাফি।
৪. সাদ্দাম থেকে বাশার আল-আসাদ: একই গল্পের পুনরাবৃত্তি

সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করা হলো ‘গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের’ মিথ্যা অজুহাতে, যা পরে মার্কিন সিনেট রিপোর্টেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের চেষ্টা করা হলো কারণ তিনি কাতার থেকে ইউরোপ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন বসাতে ‘না’ বলেছিলেন। ২০২৬-এর এই সময়ে এসে যখন আমরা খামেনিকে হত্যার খবর শুনি, তখন সেই একই পুরনো ‘পরমাণু বোমা’র ধুয়া তোলা হয়। আসলে সত্য হলো সম্পদ দখল আর ডলারের সাম্রাজ্য রক্ষা করা।
পাশ্চাত্যের প্রক্সি ওয়ার ও টার্গেট লিস্ট (এক নজরে)
| নেতা / দেশ | অজুহাত (ফ্রন্ট পেজ) | আসল কারণ (লুকানো সত্য) |
| সাদ্দাম হোসেন (ইরাক) | গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র (WMD)। | তেলের নিয়ন্ত্রণ ও ডলার বর্জন। |
| মুয়াম্মার গাদ্দাফি (লিবিয়া) | মানবাধিকার লঙ্ঘন। | ১৪৩ টন সোনা ও ‘গোল্ড দিনার’। |
| বাশার আল-আসাদ (সিরিয়া) | শিয়া-সুন্নি সংঘাত। | কাতার-ইউরোপ গ্যাস পাইপলাইন। |
| ইরান (বর্তমান) | পারমাণবিক বোমা। | আঞ্চলিক আধিপত্য ও খনিজ সম্পদ। |
বিডিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যানালাইসিস (Editorial Insight)
ধর্ম, মানবাধিকার বা পরমাণু বোমা—এগুলো স্রেফ ফ্রন্ট পেজ স্টোরি। ভেতরের আসল সত্য হলো পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ আর ডলারের একাধিপত্য। আজ আমরা যখন সাম্প্রদায়িক ফতোয়া বা ছোটখাটো ধর্মীয় ইস্যুতে বিভেদ তৈরি করছি, ঠিক সেই সুযোগেই বড় বড় শক্তিগুলো লাশের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি আসলেই বড় সত্যগুলো দেখতে পাচ্ছি, নাকি ‘ফতোয়া’র বেড়াজালে আসল অপরাধীদের আড়াল করে দিচ্ছি?
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: লিবিয়া বা ইরাকের বর্তমান অবস্থা দেখে কি আপনার মনে হয় তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ সেখানে শান্তি এনেছে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: রাজনীতি / বিশেষ এনালাইসিস
উৎস: পালসবাংলাদেশ (রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এনালাইসিস)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম একটি যন্ত্রণাদায়ক শব্দ। কিন্তু বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের ৯ বছরের নিখোঁজ সংবাদ এবং পরবর্তীতে তাঁর ফিরে আসার প্রেক্ষাপট সাধারণ মানুষের মনে এক অদ্ভুত রহস্যের জন্ম দিয়েছে। যখন গুম হওয়া অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর রাজপথে আহাজারি করছেন, তখন সালাউদ্দিন আহমেদের পরিবারের ‘নির্ভার’ আচরণ এবং আন্দোলনের সময় তাঁদের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
১. প্রতিক্রিয়াহীন দীর্ঘ ৯ বছর: স্বাভাবিক না কি অস্বাভাবিক?

সাধারণত কারো প্রিয়জন গুম থাকলে সেই পরিবারের পাগলপ্রায় হওয়ার কথা। কিন্তু সালাউদ্দিন আহমেদের পরিবারের ক্ষেত্রে তেমন কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর ব্যানারে যখন শত শত মানুষ অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিলেন, তখন সালাউদ্দিন সাহেবের উচ্চশিক্ষিত পরিবারের নীরবতা ছিল চোখে পড়ার মতো। লন্ডনে পড়াশোনা করা তাঁর সন্তান অনলাইনে বাবার পক্ষে বিশ্বব্যাপী কোনো জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখেননি, যা অনেককেই বিস্মিত করেছে।
২. জুলাই আন্দোলনে অনুপস্থিতি

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যখন দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিচ্ছিল, তখন অনেক বড় নেতার সন্তানদেরই ফ্রন্টলাইনে দেখা যায়নি। সালাউদ্দিন আহমেদের পরিবারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। একজন গুম হওয়া ব্যক্তির সন্তান হিসেবে তাঁর এই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকার কথা থাকলেও, ফেসবুকে একটি সংহতিমূলক পোস্টের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
৩. পুনর্মিলন না কি দীর্ঘ সফর শেষে ফেরা?

৯ বছর পর একজন বাবা যখন দেশে ফেরেন, তখন সেই মুহূর্তটি হওয়ার কথা ছিল আবেগঘন ও কান্নায় সিক্ত। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সালাউদ্দিন আহমেদ যেন কোনো দীর্ঘ ‘বিদেশ সফর’ শেষে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ফিরলেন। অন্য যেকোনো মানুষ হলে দেশের মাটিতে সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন, কিন্তু তাঁর অভিব্যক্তিতে ছিল এক ধরনের নির্ভার প্রশান্তি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সেই ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের উচ্ছ্বাস বা কান্নার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
৪. এটি কি জাতির সাথে বড় কোনো প্রতারণা?

রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন—সালাউদ্দিন আহমেদের এই দীর্ঘ ৯ বছরের অন্তর্ধান কি সত্যিই গুম ছিল, নাকি পর্দার আড়ালে কোনো বড় রাজনৈতিক সমঝোতা? যদি এটি গুম হয়ে থাকে, তবে পরিবারের এই ‘অস্বাভাবিক স্বাভাবিকতা’ কিসের ইঙ্গিত দেয়? শিক্ষিত এবং সচেতন হয়েও বাবার মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো বড় মুভমেন্ট না করা কি কোনো গোপন চুক্তির অংশ ছিল?
গুম হওয়া পরিবারের প্রতিক্রিয়ার তুলনা (একটি পর্যবেক্ষণ)
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ গুম হওয়া পরিবার | সালাউদ্দিন আহমেদের পরিবার |
| আবেগ প্রকাশ | দীর্ঘস্থায়ী আহাজারি ও রাজপথে লড়াই। | অধিকাংশ সময় নীরব ও নির্ভার। |
| আন্দোলনে ভূমিকা | প্রতিটি সুযোগে সরব উপস্থিতি। | জুলাই আন্দোলনে বা অনলাইন এক্টিভিটিতে অনুপস্থিতি। |
| ফিরে আসার প্রতিক্রিয়া | আবেগপ্রবণ ও অনিয়ন্ত্রিত আনন্দ/কান্না। | অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রিত আচরণ। |
| পেশাগত অবস্থান | প্রায়ই বিপর্যস্ত। | লন্ডনে গ্র্যাজুয়েশন ও উচ্চতর ক্যারিয়ার গঠন। |
বিডিএস পলিটিক্যাল ইনসাইট (Editorial Insight)
রাজনীতিতে অনেক সময় যা দেখা যায়, তার চেয়ে বেশি লুকিয়ে থাকে পর্দার আড়ালে। সালাউদ্দিন আহমেদের ঘটনাটি বাংলাদেশের গুমের ইতিহাসের অন্যান্য ট্র্যাজিক ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি আলাদা। পরিবারের এই সংযত আচরণ হয়তো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে, অথবা এটি হতে পারে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার ফল। তবে সত্য যাই হোক, সাধারণ মানুষের মনে যে অবিশ্বাসের দানা বেঁধেছে, তা দূর করার দায়িত্ব খোদ সালাউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর পরিবারের।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: সালাউদ্দিন আহমেদের ফিরে আসার দৃশ্য দেখে কি আপনার মনে হয়েছে তিনি সত্যিই ৯ বছর অন্ধকার ঘরে বন্দি ছিলেন? আপনার বিশ্লেষণ কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



