আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: মানচিত্রের দিকে তাকালে যে দেশটির বিশালতা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়, সেটি হলো রাশিয়া। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের একক বৃহত্তম দেশ। ১৯০০ সালের জমানো সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি—রাশিয়া সব সময় তার ভৌগোলিক আয়তন এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

রাশিয়ার আয়তন ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি

রাশিয়ার মোট আয়তন প্রায় ১৭,০৭৫,৪০০ বর্গকিলোমিটার (৬,৫৯২,৮০০ বর্গমাইল)। এই বিশাল ভূখণ্ড পৃথিবীর মোট আবাসযোগ্য জমির প্রায় এক-অষ্টমাংশ। দেশটি এতটাই বড় যে এর এক প্রান্তে যখন দিন, অন্য প্রান্তে তখন রাত। রাশিয়ার সীমান্ত এশিয়া এবং ইউরোপ—উভয় মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত, যা একে একটি ইউরেশীয় শক্তিতে পরিণত করেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬
রাশিয়ার বর্তমান আয়তন ও শক্তির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক শতাব্দীর ইতিহাস:
- ১৯০০-১৯১৭ (জার আমল): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে রাশিয়া ছিল একটি বিশাল সাম্রাজ্য। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বীজ রোপিত হয়।
- ১৯২২-১৯৯১ (সোভিয়েত ইউনিয়ন): এ সময় রাশিয়া ছিল ১৫টি প্রজাতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র। তখন এর আয়তন বর্তমানের চেয়েও অনেক বেশি ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমান রাশিয়া ফেডারেশন গঠিত হয়।
- ২০২৪-২০২৬ (বর্তমান প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের সংঘাত এবং ২০২৬ সালের ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণে রাশিয়ার আয়তন এবং এর প্রাকৃতিক সম্পদ (গ্যাস, তেল ও খনিজ) বিশ্ব অর্থনীতিতে তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করছে।
জনসংখ্যা ও জনপদ
২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী রাশিয়ার জনসংখ্যা ছিল ১৪৩ মিলিয়ন, যা আয়তনের তুলনায় বেশ কম। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে রাশিয়া জনমিতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশ্বের নবম জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার বিশাল সাইবেরিয়া অঞ্চল এখনো অনেকটা জনবিরল, যা দেশটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও খনিজ উত্তোলনের জন্য একটি বিশাল ক্ষেত্র।
বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার শক্তি কেবল তার সামরিক বাহিনীতে নয়, বরং তার বিশাল ‘স্পেস’ বা আয়তনে। ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যেকোনো বড় যুদ্ধে রাশিয়ার আয়তনই ছিল তার প্রধান ঢাল। নেপোলিয়ন থেকে হিটলার—সবাই রাশিয়ার এই বিশাল ভূখণ্ডের কাছে পরাজিত হয়েছে। ২০২৬ সালের আধুনিক যুদ্ধেও রাশিয়ার এই ভৌগোলিক বিশালতা তাকে বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় ধরে রেখেছে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, গুগল নিউজ আর্কাইভ এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
শারদীয় পূর্ণিমার রাতে গ্রাম-বাংলার মেঠোপথ ধরে হাঁটার সময় কিংবা নিস্তব্ধ বন-ঝোপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই ভেসে আসে এক গা-ছমছম করা অদ্ভুত ডাক—“ট্রাউউ… ট্রাউউ…” কিংবা টেবিল টেনিস বল ড্রপ খাওয়ার মতো “চাক-চাক-চাক” যান্ত্রিক আওয়াজ! রহস্যময় এই ডাকটি যে পাখির, তার নাম রাতচরা (English: Indian Nightjar, Scientific Name: Caprimulgus asiaticus)।
আগেকার দিনে গ্রামীণ সমাজে এদেরকে ‘দিনকানা পাখি’ বা ‘াতস পাখি’ হিসেবে অভিহিত করে নানা রূপকথা ও কাল্পনিক গল্প তৈরি করা হতো। তবে পক্ষীবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই রাতচরা হলো বাংলাদেশের পাখির জগতের সবচেয়ে বড় ছদ্মবেশী (Master of Camouflage)।
রাতচরা পাখিকে কেন ‘ছদ্মবেশী পাখি’ বলা হয়?

রাতচরা মূলত একটি নিশাচর পাখি। দিনের বেলা সূর্য উঠলে এরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ঘুমিয়ে পড়ে। আর দিনের বেলা আত্মরক্ষা ও শত্রুর চোখ ফাঁকি দিতে এরা প্রাকৃতিক ছদ্মবেশের এক চমৎকার কৌশল অবলম্বন করে:
১. প্রাকৃতিক রঙের নিখুঁত ছদ্মবেশ (Camouflage)
দেশি রাতচড়ার ডানা ও পিঠের পালক ধূসর, ছাই ও মেটে-বাদামী রঙের ছোপ ছোপ নকশায় তৈরি। এই রঙের কারণে এরা যখন ঝরা আম বা বাঁশপাতার স্তূপ, মেঠো পথ অথবা শুকনো মাটির ওপর শুয়ে থাকে, তখন চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও এদের আলাদা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
২. ডালে শুয়ে থাকার অনন্য শারীরিক কৌশল
অধিকাংশ পাখি গাছের ডালের ওপর আড়াআড়ি (Perpendicular) হয়ে বসে। কিন্তু রাতচরা পাখি গাছের নিচু ডালে দৈর্ঘ্য বরাবর লম্বালম্বিভাবে (Parallel) বুক ঠেকিয়ে শুয়ে পড়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছের কোনো ভাঙা শুকনো ছাল বা ডালেরই অংশ।
৩. চোখ বন্ধ রেখে চারপাশ দেখার অদৃশ্য ক্ষমতা
দিনের আলোতে নিথর হয়ে মাটিতে বা ডালে শুয়ে থাকার সময় এরা চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর অভিনয় করে। কিন্তু এদের চোখের পাতা অত্যন্ত পাতলা হওয়ার কারণে, চোখ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পাতলা পাতার আড়াল থেকে শত্রুর গতিবিধি সব দেখতে পায়।
দেশি রাতচড়ার গঠন ও স্বভাব
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| আকার ও দৈর্ঘ্য | সাধারণত ২৩ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার। |
| বিশেষ চেনার উপায় | ঘাড়ের চারপাশে সোনালী-বাদামী কলার বা গলাবন্ধ, ঠোঁটের পাশে গোঁফের মতো সাদা দাগ। ওড়ার সময় ডানার ডগায় সাদা ছোপ দেখা যায়। |
| খাদ্যাভ্যাস | এরা সম্পূর্ণ পতঙ্গভুক। মশা, উইপোকা, মথ, গুবরে পোকা এবং উড়ন্ত ছোট কীট আকাশে উড়ে ছোঁ মেরে ধরে খায়। এদের ঠোঁট ছোট হলেও মুখের হাঁ অনেক বড়। |
| বাসা না বানানোর স্বভাব | এরা কোনো বাসা তৈরি করে না। সরাসরি শুকনো পাতা বা খোলা মাটিতে ২টি গোলাপি-মেটে ছোপযুক্ত ডিম পাড়ে। |
২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে রাতচরা পাখির বর্তমান অবস্থা ও হুমকি

আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা IUCN-এর বিশ্বব্যাপী রেড লিস্টে রাতচরা পাখিকে ‘ন্যূনতম উদ্বেগজনক’ (Least Concern) হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হলেও, বাংলাদেশে রাতচরা পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।
প্রজাতিটি হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণসমূহ:
- নিরাপদ মাটির অভাব ও আবাসস্থল ধ্বংস: নগরায়ণ, বন উজাড় এবং ঝোপঝাড় ও বাঁশবাগান কেটে পরিষ্কার করার ফলে এরা প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হারাচ্ছে।
- ডিম ও ছানা নষ্ট হওয়া: এরা মাটিতে ডিম পাড়ে বলে গ্রাম্য কুকুর, বনবিড়াল, বেজি বা মানুষের দুর্ঘটনাবশত পায়ের তলায় পড়ে এদের ডিম ও ছানা নষ্ট হয়ে যায়।
- কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার: জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে করার কারণে পরিবেশ থেকে উড়ন্ত পোকা-মাকড় কমে যাচ্ছে, ফলে এরা তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে।
- সড়ক দুর্ঘটনা: রাতের বেলা রাস্তায় পোকা শিকার করতে এসে অথবা গাড়ির হেডলাইটের তীব্র আলোতে সাময়িক অন্ধ হয়ে রাতের যানবাহনের নিচে পড়ে অনেক রাতচরা মারা যায়।
উপসংহার
প্রকৃতিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও মশা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাতচরা পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। লোকালয়ের কুসংস্কার দূর করে এই নিরীহ, ছদ্মবেশী পাখিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ও ঝোপঝাড় রক্ষা করা এখন সময়ের বড় দাবি।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ এভিয়েশন ও প্রতিরক্ষা সামরিক বিশ্লেষণ
উপস্থাপনায়: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আকাশজয়ের গল্প মানবসভ্যতার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়গুলোর একটি। কাঠের ফ্রেমের প্রাথমিক বিমান থেকে শুরু করে আজকের হাইপারসনিক ইঞ্জিন এবং চতুর্থ/পঁচিশ প্রজন্মের আধুনিক ফাইটার জেট—এভিয়েশন প্রযুক্তির এই দ্রুত বিবর্তন বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

নিচে বিমানের আবিষ্কার, জেট ইঞ্জিনের বৈজ্ঞানিক রূপরেখা, বিভিন্ন ইঞ্জিনের প্রকারভেদ এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (BAF) বিদ্যমান সক্ষমতা ও প্রযুক্তির একটি বিস্তারিত তথ্যকোষ তুলে ধরা হলো।
১. বিমানের আবিষ্কার ও সূচনালগ্ন

বিশ্বের প্রথম সফল মোটরচালিত ও নিয়ন্ত্রিত বিমান আবিষ্কার করেন আমেরিকান দুই ভাই—উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইট (Wright Brothers)।
- ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর।
- স্থান: কিটি হক, উত্তর ক্যারোলাইনা, যুক্তরাষ্ট্র (Kitty Hawk, North Carolina)।
- প্রথম উড্ডয়ন: তাদের নির্মিত ঐতিহাসিক বিমান ‘রাইট ফ্লাইয়ার’ (Wright Flyer) মাত্র ১২ সেকেন্ডে ১২০ ফুট পথ পাড়ি দিয়েছিল। বিমানের প্রথম পাইলট ছিলেন অরভিল রাইট।
২. জেট ইঞ্জিনের আবিষ্কার ও জেট এজের (Jet Age) সূচনা
প্রপেলার ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিমানের গতি দ্বিগুণ করতে আগমন ঘটে জেট ইঞ্জিনের।
- উদ্ভাবক: ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার ফ্রাঙ্ক হুইটল (Sir Frank Whittle) ১৯৩০ সালে প্রথম জেট ইঞ্জিনের পেটেন্ট করেন। অন্যদিকে, জার্মানির বিজ্ঞানী হ্যান্স ভন ওহাইন (Hans von Ohain) স্বাধীনভাবে আরেকটি সফল ডিজাইন তৈরি করেন।
- প্রথম জেট বিমান: হ্যান্স ভন ওহাইনের ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে ১৯৩৯ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্বের প্রথম জেট চালিত বিমান ‘হেইঙ্কেল হি ১৭৮’ (Heinkel He 178) সফলভাবে আকাশে ওড়ে।
- সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োগ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৪৪) জার্মানির Messerschmitt Me 262 প্রথম ফাইটার জেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু হয় যাত্রীবাহী বিমানে জেট ইঞ্জিনের ব্যবহার, যা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে বিপ্লব ঘটায়।
৩. জেট ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে?

জেট ইঞ্জিন মূলত স্যার আইজ্যাক নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র—“প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে” (Action and Reaction)—এই নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ জেট ইঞ্জিনের ৪টি প্রধান ধাপ │
├──────────────┬──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ধাপ │ কার্যপদ্ধতি │
├──────────────┼──────────────────────────────────────────────────────────┤
│ ১. Intake │ সামনের পাখা দিয়ে প্রচুর বাতাস ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। │
│ ২. Compression│ কম্প্রেসর ব্লেড দিয়ে বাতাসকে তীব্র সংকুচিত করা হয়। │
│ ৩. Combustion│ সংকুচিত বাতাসে জ্বালানি মিশিয়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।│
│ ৪. Exhaust │ পেছনের নজেল দিয়ে তীব্র গতিতে উত্তপ্ত গ্যাস বের হয়ে ধাক্কা তৈরি করে।│
└──────────────┴──────────────────────────────────────────────────────────┘
৪. বিভিন্ন প্রকার জেট ইঞ্জিন ও সেগুলোর ব্যবহার

গঠন ও কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে জেট ইঞ্জিনকে প্রধানত ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়:
| ইঞ্জিনের ধরন | প্রধান বৈশিষ্ট্য | ব্যবহার |
| টার্বোজেট (Turbojet) | প্রাথমিক ও সাধারণ ক্রুড প্রযুক্তি, বেশি শব্দ ও জ্বালানি খরচ। | পুরোনো ফাইটার জেট ও রকেট। |
| টার্বোফ্যান (Turbofan) | সামনে বড় ফ্যান থাকে, বাইপাস এয়ার প্রডিউস করে। কম শব্দ ও অত্যন্ত সাশ্রয়ী। | আধুনিক কমার্শিয়াল বোয়িং/এয়ারবাস ও modern ফাইটার। |
| টার্বোপ্রপ (Turboprop) | জেট শক্তির ৯০% দিয়ে বাইরের প্রপেলার বা পাখা ঘোরানো হয়। | কম দূরত্বের আঞ্চলিক যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান। |
| টার্বোশ্যাফট (Turboshaft) | শক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনাল শ্যাফটের সাহায্যে রোটর ব্লেড ঘোরানো হয়। | প্রধানত হেলিকপ্টার এবং কিছু যুদ্ধজাহাজ/ট্যাংক। |
| র্যামজেট (Ramjet) | কোনো চলন্ত পার্টস নেই; উচ্চগতিতে বাতাস ভেতরে এসে সংকুচিত হয়। | মিসাইল ও সুপারসনিক ড্রোন। |
| স্ক্যামজেট (Scramjet) | শব্দের চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি গতিতে সুপারসনিক কমবাশ্চন ঘটায়। | হাইপারসনিক মিসাইল ও আধুনিক মহাকাশযান। |
৫. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে (BAF) ব্যবহৃত বিমান ও ইঞ্জিন প্রযুক্তি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তাদের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা, পরিবহন এবং অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করতে ৪ ধরণের আধুনিক ইঞ্জিন ব্যবহার করে থাকে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফ্লিট ও ইঞ্জিন │
├──────────────────┬─────────────────────────────┬────────────────────────┤
│ ইঞ্জিনের ধরন │ বিমানের নাম │ উৎস দেশ │
├──────────────────┼─────────────────────────────┼────────────────────────┤
│ ১. টার্বোজেট │ চেংডু এফ-৭ (Chengdu F-7) │ চীন │
│ ২. টার্বোফ্যান │ মিগ-২৯ (MiG-29B/UB) │ রাশিয়া │
│ │ ইয়াক-১ ৩০ (Yak-130) │ রাশিয়া │
│ │ কে-৮ডব্লিউ (K-8W Trainer) │ চীন / পাকিস্তান │
│ ৩. টার্বোপ্রপ │ সি-১৩০জে (C-130J Hercules) │ আমেরিকা │
│ │ অ্যান্টনভ অ্যান-৩২ (An-32) │ রাশিয়া │
│ ৪. টার্বোশ্যাফট │ এমআই-১৭/১৭১ (MiG Mi-171SH) │ রাশিয়া │
│ │ বেল-২১২ (Bell 212) │ আমেরিকা │
│ │ এডব্লিউ-১৩৯ (AW139) │ ইতালি │
└──────────────────┴─────────────────────────────┴────────────────────────┘
বিশেষ সংযোজন: প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিজস্ব ইউনিটে UAV বা ড্রোন অ্যাসেম্বলি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।
৬. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও ফোর্সেস গোল (Forces Goal)
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আকাশ সুরক্ষার মূল চালিকাশক্তি হলো এর মাল্টিরোল ফাইটার ও ইন্টারসেপ্টর ফ্লিট:
- মিগ-২৯বিএম (MiG-29BM): এটি রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের অত্যন্ত চটপটে একটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট। বর্তমানে বেলারুশের আধুনিকীকরণের পর এর সার্ভিস লাইফ ও রাডার ক্যাাপাবিলিটি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- এফ-৭ বিজিআই (F-7BGI): এটি চীনে নির্মিত একটি অল-ওয়েদারInterceptor ফাইটার। এর আধুনিক এভিওনিক্স, গ্লাস ককপিট এবং গাইডেড ওয়েপন ক্যাাপাবিলিটি পয়েন্ট ডিফেন্সের জন্য বেশ উপযোগী।
- ভবিষ্যৎ আধুনিকীকরণ: বিমানবাহিনী আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের (4.5 Generation) ফাইটার জেট যুক্ত করার প্রক্রিয়া বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে চীনের Chengdu J-10CE এবং ইউরোপের Eurofighter Typhoon ক্রয়ের আলোচনা ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া অগ্রগতির তালিকায় রয়েছে।
৭. বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান মিসাইল ও মারণাস্ত্র
আকাশপথে শত্রু ধ্বংস এবং বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে BAF-এর যুদ্ধবিমানগুলোতে বেশ কিছু লেটেস্ট মিসাইল ও বোমা যুক্ত রয়েছে:
ক) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (Air-to-Air Missiles)
- R-77 (RVV-AE): বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) রাডার-গাইডেড মিসাইল, যা ৮০-১০০ কিমি দূরের শত্রুর বিমান ধ্বংস করতে পারে (মিগ-২৯বিএম)।
- R-73E: বিশ্বখ্যাত শর্ট-রেঞ্জ হিট-সিকিং (Heat-seeking) মিসাইল, যা মুখোমুখি ডগফাইটে শত্রুর ইঞ্জিনের উত্তাপ ট্র্যাক করে আঘাত হানে।
- PL-5E II / PL-9C: চীনের তৈরি আধুনিক ইনফ্রারেড গাইডেড শর্ট-রেঞ্জ মিসাইল (এফ-৭বিজিআই)।
খ) আকাশ থেকে ভূমিতে ও সমুদ্রে আক্রমণের অস্ত্র (Air-to-Surface)
- Kh-31A: রাশিয়ার তৈরি মারাত্মক দ্রুতগতির সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল। সমুদ্রসীমার প্রতিরক্ষায় এটি মিগ-২৯ এর একটি অন্যতম গেম-চেঞ্জার অস্ত্র।
- KAB-500KR: লেজার ও টিভি-গাইডেড স্মার্ট পিন-পয়েন্ট প্রিসিশন বোমা।
- LS-6 (500lb): জিপিএস এবং স্যাটেলাইট গাইডেড গ্লাইড বোমা, যা দূর থেকেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম (এফ-৭বিজিআই)।
সারসংক্ষেপ
রাইট ব্রাদার্সের মাত্র ১২ সেকেন্ডের ঐতিহাসিক যাত্রা থেকে শুরু করে আজকের সুপারসনিক ও হাইপারসনিক যুগ—এভিয়েশন সায়েন্স আধুনিক প্রতিরক্ষার মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও তাদের আধুনিক ফ্লিট, ৪.৫ জেনারেশনের ফাইটার জেট সংযোগ এবং স্যাটেলাইট গাইডেড অস্ত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আধুনিক ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক ভূগোল ও ভূ-রাজনীতি ডেস্ক: পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ এশিয়া। আয়তন, জনসংখ্যা, প্রাচীন সভ্যতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক আধিপত্য—সব দিক থেকেই এশিয়া বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র। সাধারণ জ্ঞান অনুরাগী, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে এশিয়া মহাদেশের ৪৯টি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানীগুলোর প্রশাসনিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হলো।
এশিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা. Source: PeterHermesFurian / Getty Images
১. দক্ষিণ এশিয়া (South Asia)
১. বাংলাদেশ — রাজধানী: ঢাকা
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রায় চারশত বছর পূর্বে ১৬০৮ সালে মোগল সুবাদার ইসলাম খান প্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। মোগল আমল থেকে আজ অব্দি এটি তৈরি পোশাক শিল্প, বাণিজ্য এবং সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
২. ভারত — রাজধানী: নতুন দিল্লি
১৯১১ সালে ব্রিটিশ আমলে কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে নতুন দিল্লির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি ভারতের বিচারবিভাগ, শাসনবিভাগ এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু। ঐতিহাসিক প্রাচীন দিল্লি এবং আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর নতুন দিল্লি মিলে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোপলিটন এলাকা।
৩. পাকিস্তান — রাজধানী: ইসলামাবাদ
১৯৬০-এর দশকে একটি সুপরিকল্পিত শহর হিসেবে ইসলামাবাদকে পাকিস্তানের নতুন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হয়; এর পূর্বে করাচি ও রাওয়ালপিন্ডি সাময়িক রাজধানী ছিল। মারগাল্লা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শহরটি পাকিস্তানের সামরিক ও প্রশাসনিক হেডকোয়ার্টার।
৪. আফগানিস্তান — রাজধানী: কাবুল
হিন্দুখুশ পর্বতমালার সংকীর্ণ উপত্যকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত কাবুল দেশটির বৃহত্তম শহর। প্রাচীন রেশম পথের ওপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শহরটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বে়ও আফগান রাজনীতি ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র।
৫. নেপাল — রাজধানী: কাঠমান্ডু
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত কাঠমান্ডু নেপালের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাব। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সমৃদ্ধ এই শহরটি কাঠমান্ডু উপত্যকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং বিশ্বজুড়ে এভারেস্টগামী পর্বত আরোহীদের প্রধান প্রবেশদ্বার।
৬. ভুটান — রাজধানী: থিম্পু
হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পর্বতে অবস্থিত থিম্পু বিশ্বের একমাত্র ট্রাফিক লাইট-বিহীন রাজধানী শহর। ঐতিহ্যবাহী ভুটানি স্থাপত্যশৈলী এবং তিব্বতি বৌদ্ধ সংস্কৃতির স্পর্শে লালিত এই শহরটি ভুটানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রধান কার্যালয়।
৭. শ্রীলঙ্কা — রাজধানী: শ্রী জয়বর্ধনেপুরা কোট্টে (প্রশাসনিক) / কলম্বো (বাণিজ্যিক)
কলম্বোর একটি উপশহর কোট্টে শ্রীলঙ্কার মূল প্রশাসনিক ও আইনসভা রাজধানী, যেখানে দেশটির জাতীয় সংসদ অবস্থিত। তবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যাবলীর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে এখনও কলম্বো শহরই কাজ করে।
৮. মালদ্বীপ — রাজধানী: মালে
ভারত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীর বা অ্যাটলে অবস্থিত মালে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ শহর। মালদ্বীপের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সাথে দেশটির আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের প্রবেশদ্বার হিসেবে মালে কাজ করে।
২. পূর্ব এশিয়া (East Asia)
৯. চীন — রাজধানী: বেইজিং
তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসের শহর বেইজিং বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র। মহাপ্রাচীর (Great Wall) ও নিষিদ্ধ নগরী (Forbidden City)-র মতো ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে ঘেরা এই শহরটি চীনের কমিউনিস্ট সরকার ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল হাব।
১০. জাপান — রাজধানী: টোকিও
টোকিও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও অর্থনৈতিকভাবে অন্যতম শীর্ষ শহর। পূর্বের ছোট মাছ ধরার গ্রাম ‘এদো’ ১৮৬৮ সালে জাপানের রাজধানী হিসেবে পুনর্নামকরণ লাভ করে টোকিও নাম ধারণ করে। এটি উচ্চপ্রযুক্তি, ফ্যাশন ও আধুনিক শিল্পের আন্তর্জাতিক হাব।
১১. উত্তর কোরিয়া — রাজধানী: পিয়ংইয়ং
কোরীয় উপদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন শহর পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সামাজিক অবকাঠামো ও সামরিক প্রদর্শনী কেন্দ্র। তায়েদং নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
১২. দক্ষিণ কোরিয়া — রাজধানী: সিউল
হান নদীর তীরে অবস্থিত সিউল দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক বিশ্বমানের শহর, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কে-পপ সংস্কৃতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেছে। ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ এবং আকাশচুম্বী অট্টালিকার অপূর্ব মিশ্রণ এই সিউল।
১৩. মঙ্গোলিয়া — রাজধানী: উলানবাটোর
তুউল নদী উপত্যকায় অবস্থিত উলানবাটোর মঙ্গোলিয়ার বৃহত্তম শহর এবং বিশ্বের সবচেয়ে শীতলতম রাজধানী। যাযাবর মোঙ্গল ঐতিহ্য ও আধুনিক নগরজীবনের এক মেলবন্ধন ঘটেছে এই ঐতিহাসিক শহরে।
১৪. তাইওয়ান — রাজধানী: তাইপে
তাইওয়ানের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত তাইপে বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বৈশ্বিক কেন্দ্র। ‘তাইপে ১০১’ স্কাইস্ক্র্যাপারের জন্য বিখ্যাত এই শহরটি পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব।
৩. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (Southeast Asia)
১৫. ভিয়েতনাম — রাজধানী: হ্যানয়
রেড রিভারের তীরে অবস্থিত হ্যানয় হাজার বছরেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ ইতিহাসের শহর। ফরাসি স্থাপত্যশৈলী, ঐতিহ্যবাহী চীনা প্রভাব এবং আধুনিক ভিয়েতনামী অর্থনীতির মেলবন্ধনে তৈরি এই শহরটি ভিয়েতনামের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান বিন্দু।
১৬. থাইল্যান্ড — রাজধানী: ব্যাংকক
স্থানীয়ভাবে ‘ক্রুং থেক’ নামে পরিচিত ব্যাংকক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য, অর্থনীতি ও পর্যটনকেন্দ্র। চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি বৌদ্ধ মন্দির, আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বর্ণিল নাইটলাইফের জন্য বিখ্যাত।
১৭. মিয়ানমার — রাজধানী: নেপিডো
২০০৫ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার সুপরিকল্পিতভাবে ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে নেপিডো শহরে রাজধানী স্থানান্তর করে। সুবিশাল রাজপথ, সামরিক কমপ্লেক্স এবং প্রশাসনিক ভবনে ঘেরা এই শহরটি অত্যন্ত সুসংগঠিত।
১৮. ইন্দোনেশিয়া — রাজধানী: নুসানতারা (নতুন পরিকল্পিত) / জাকার্তা (সাবেক)
দীর্ঘদিন ধরে জাভা দ্বীপের জাকার্তা ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলেও ভূ-প্রাকৃতিক ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ঘনবসতির কারণে দেশটির সরকার বোর্নিও দ্বীপে ‘নুসানতারা’ নামে একটি আধুনিক সুপরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব রাজধানী গড়ে তোলার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
১৯. মালয়েশিয়া — রাজধানী: কুয়ালালামপুর (প্রশাসনিক সেন্টার: পুত্রজায়া)
পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের শহর কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ার রাজকীয়, বাণিজ্যিক ও আর্থিক রাজধানী। তবে শহরটির ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে নব্বইয়ের দশকে নিকটবর্তী পুত্রজায়াতে সরকারের প্রশাসনিক ভবন ও দপ্তরগুলো স্থানান্তরিত করা হয়।
২০. সিঙ্গাপুর — রাজধানী: সিঙ্গাপুর সিটি
দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের মূল রাজধানী এর একমাত্র প্রধান শহর সিঙ্গাপুর সিটি। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর, প্রধান আর্থিক লেনদেন কেন্দ্র এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রার সূচকের শহর হিসেবে এটি স্বীকৃত।
২১. ফিলিপাইন — রাজধানী: ম্যানিলা
ম্যানিলা উপসাগরের তীরে অবস্থিত ম্যানিলা ফিলিপাইনের রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র। ফরাসি ও স্পেনীয় উপনিবেশিক স্থাপত্য ঐতিহ্যের মিশ্রণে গড়ে ওঠা এই শহরটি অন্যতম ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক বন্দর।
২২. কম্বোডিয়া — রাজধানী: নমপেন
মেকং, বাসাক ও টনলে সাপ নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত নমপেন শহরটি ‘এশিয়ার মুক্তা’ নামে পরিচিত ছিল। খমের স্থাপত্যশৈলী ও ফরাসি উপনিবেশের সুবাতাস লেগে থাকা এই শহরটি কম্বোডিয়ার রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাণকেন্দ্র।
২৩. লাওস — রাজধানী: ভিয়েনতিয়েন
মেকং নদীর তীরে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত ভিয়েনতিয়েন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে শান্ত পরিবেশের একটি রাজধানী। ফরাসি উপনিবেশের প্রভাব ও বৌদ্ধ ধর্মীয় মনুমেন্ট দিয়ে সাজানো এই শহরটি দেশটির প্রশাসন পরিচালনা করে।
২৪. ব্রুনাই — রাজধানী: বন্দর সেড়ি বেগাওয়ান
ব্রুনাই নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি খনিজ তেল ও গ্যাসে সমৃদ্ধ সম্পদশালী রাষ্ট্র ব্রুনাইয়ের সুলতানের রাজকীয় কেন্দ্র। বর্ণিল মসজিদ ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ সংবলিত এই শহরটি শান্ত জীবনযাত্রার জন্য খ্যাত।
২৫. পূর্ব তিমুর — রাজধানী: দিলি
তিমুর সাগরের উপকূলে स्थित দিলি ২০০২ সালে স্বাধীন হওয়া নতুন রাষ্ট্র পূর্ব তিমুরের প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। পর্তুগিজ উপনিবেশিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে এই উপকূলীয় শহরে।
৪. পশ্চিম এশিয়া / মধ্যপ্রাচ্য (West Asia / Middle East)
২৬. সৌদি আরব — রাজধানী: রিয়াদ
আরব উপদ্বীপের মালভূমি মরুভূমিতে অবস্থিত রিয়াদ আজ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও অবকাঠামোগত শহর। সৌদি আরবের রাজনৈতিক কার্যালয়, রাজপ্রাসাদ এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক কর্পোরেশনের মূল কেন্দ্র এই শহর।
২৭. সংযুক্ত আরব আমিরাত — রাজধানী: আবুধাবি
পারস্য উপসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত আবুধাবি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, ব্যবসা এবং জ্বালানি তেলের ব্যবসার মূল কেন্দ্র। দুবাই পর্যটনের জন্য খ্যাত হলেও আমিরাতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আবুধাবি থেকেই গৃহীত হয়।
২৮. কাতার — রাজধানী: দোহা
পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত দোহা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল আধুনিক শহর। প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবসায় সমৃদ্ধ কাতার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (যেমন ২০২২ বিশ্বকাপ) এবং চ্যানেল আল জাজিরার হেডকোয়ার্টার হিসেবে দোহাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২৯. কুয়েত — রাজধানী: কুয়েত সিটি
পারস্য উপসাগরের শীর্ষ শহর কুয়েত সিটি দেশটির খনিজ তেলনির্ভর অর্থনৈতিক ক্ষমতার প্রধান কার্যালয়। এখানকার কুয়েত টাওয়ার্স এবং বিশাল ব্যাংক অবকাঠামো দেশটির বাণিজ্যিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।
৩০. বাহরাইন — রাজধানী: মানামা
পারস্য উপসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের মানামা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র। ইসলামপূর্ব আমল থেকেই কৌশলগত সমুদ্রপথের অংশ হিসেবে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
৩১. ওমান — রাজধানী: মাস্কাট
ওমান উপসাগর এবং পাথুরে আল হাজার পর্বতমালার মাঝে অবস্থিত মাস্কাট এক ঐতিহাসিক বন্দর নগরী। অন্যান্য আরব শহরের মতো অতিরিক্ত উঁচুদালান না বানিয়ে ঐতিহ্যবাহী আরব স্থাপত্যকলাকে ধরে রেখে শহরটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
৩২. ইয়েমেন — রাজধানী: সানা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত সানা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ধারাবাহিক জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলীর মাল্টি-স্টোরি কাদামাটির ভবনগুলোর জন্য শহরটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষিত।
৩৩. ইরান — রাজধানী: তেহরান
আলবোর্জ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত তেহরান ইরানের অর্থনৈতিক, শিল্প ও রাজনৈতিক হাব। পারস্য ঐতিহ্যের শহর এটি, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি এবং শতবর্ষী সংস্কৃতির এক অনন্য সহাবস্থান দেখা যায়।
৩৪. ইরাক — রাজধানী: বাগদাদ
টাইগ্রিস নদীর তীরে অবস্থিত বাগদাদ ইসলামিক স্বর্ণযুগ (Islamic Golden Age)-এর সময় বিশ্বের সবচেয়ে প্রধান জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পার করে শহরটি বর্তমানে তার প্রাচীন ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
৩৫. সিরিয়া — রাজধানী: দামেস্ক
বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্ন জনবসতিপূর্ণ শহর দামেস্ক। প্রাচ্যের প্রাচীন রেশম পথ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ঐতিহাসিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে রয়েছে।
৩৬. লেবানন — রাজধানী: বৈরুত
ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত বৈরুত দীর্ঘদিন ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্যারিস’ নামে খ্যাত ছিল। ফরাসি সাংস্কৃতিক প্রভাব, ব্যাংকিং খাত এবং ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের জন্য শহরটির বৈশ্বিক খ্যাতি রয়েছে।
৩৭. জর্ডান — রাজধানী: আম্মান
সাতটি পাহাড়ের ওপর মূল ভিত্তি গড়ে ওঠা আম্মান বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শহর। এটি জর্ডানের রাজনৈতিক হাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র।
৩৮. ইসরায়েল — রাজধানী: জেরুজালেম
জেরুজালেম বিশ্বের তিনটি প্রধান একেশ্বরবাদী ধর্ম—ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের পবিত্রতম স্থান। তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এটি দেশটির প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
৩৯. তুরস্ক — রাজধানী: আঙ্কারা
১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ঐতিহ্যবাহী ইস্তাম্বুল থেকে রাজধানী সরিয়ে মধ্য এনাতোলিয়ার আঙ্কারায় রূপান্তর করেন। আঙ্কারা তুরস্কের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ও সামরিক সিদ্ধান্তের প্রাণকেন্দ্র।
৪০. সাইপ্রাস — রাজধানী: নিকোশিয়া
নিকোশিয়া বিশ্বের একমাত্র বিভক্ত রাজধানী, যা গ্রিক সাইপ্রাস ও তুর্কি সাইপ্রাস—দুই অংশের মাঝে গ্রিন লাইন দিয়ে বিভক্ত। এটি ইউরেশিয়ান দ্বীপটির রাজনীতি ও শিক্ষার কেন্দ্র।
৪১. আর্মেনিয়া — রাজধানী: ইয়েরেভান
হাজার হাজার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ইয়েরেভানকে ‘পিঙ্ক সিটি’ বলা হয়, কারণ এখানকার বেশিরভাগ ভবনের নির্মাণকাজে গোলাপী রঙের আগ্নেয়গিরির পাথর ব্যবহৃত হয়েছে। আরারাত পর্বতের ছায়াতলে এটি আর্মেনিয়ার প্রাণকেন্দ্র।
৪২. আজারবাইজান — রাজধানী: বাকু
কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে অবস্থিত বাকু ‘বাতাসের শহর’ নামে পরিচিত। তেল সমৃদ্ধ অর্থনীতি, ‘ফ্লেম টাওয়ার্স’ এবং প্রাচীন সুরক্ষিত আইচেরি শেহেরের (Inner City) জন্য এটি ককশাস অঞ্চলের প্রধান আন্তর্জাতিক কেন্দ্র।
৪৩. জর্জিয়া — রাজধানী: তিবিলিসি
কুরা (এমটকভারি) নদীর উপত্যকায় অবস্থিত তিবিলিসি ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থলে তৈরি এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শহর। সালফার বাথ, পাথুরে দুর্গ এবং ইউরেশীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে এই ভূখণ্ডে।
৫. মধ্য এশিয়া (Central Asia)
৪৪. কাজাখস্তান — রাজধানী: আস্তানা
ইশিম নদীর তীরে অবস্থিত আস্তানা (যা পূর্বে নুর-সুলতান নামেও পরিচিত ছিল) আধুনিক ফিউচারিস্টিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশাল প্রান্তরে অবস্থিত এই শহরটি সেন্ট্রাল এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র।
৪৫. উজবেকিস্তান — রাজধানী: তাসখন্দ
ভূমিকম্প ও সোভিয়েত পুনর্নির্মাণের পর তৈরি তাসখন্দ মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল শহর। রেশম পথের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সুসংগঠিত মেট্রো ব্যবস্থার জন্য এটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৪৬. তাজিকিস্তান — রাজধানী: দুশানবে
তাজিক ভাষার ‘দুশানবে’ শব্দের অর্থ সোমবার। প্রাচীনকালে সোমবারে বসা বড় বাজারের নাম থেকে শহরটির নামকরণ হয়। পামির পর্বতমালার কোলঘেঁষে থাকা এই শহরটি দেশটির প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্র।
৪৭. কিরগিজস্তান — রাজধানী: বিশকেক
তিয়েন শান পর্বতমালার ঠিক উত্তর দিকে চুই উপত্যকায় অবস্থিত বিশকেক সোভিয়েত ধাঁচের চওড়া রাস্তা, সুবিশাল পার্ক এবং পর্বত বেষ্টিত এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর।
৪৮. তুর্কমেনিস্তান — রাজধানী: আশগাবাত
কোপেত দাগ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত আশগাবাত সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি ভবনের ঘনত্বের জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ এই দেশের রাজধানী শহরটি অত্যাধুনিক ও সংরক্ষিত।
৬. উত্তর এশিয়া (North Asia)
৪৯. রাশিয়া — রাজধানী: মস্কো
ইউরেশীয় পরাশক্তি রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ইউরো-এশিয়ান রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রেমলিন, রেড স্কয়ার এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন সমৃদ্ধ এই শহরটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী সেতু হিসেবে কাজ করে



