গল্প

জহির রায়হানের 'হাজার বছর ধরে': গ্রামীণ ঐতিহ্যের শেকড় থেকে রূপালী পর্দার মহাকাব্য
জহির রায়হান

নিউজ ডেস্ক

January 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সৃষ্টি থাকে যা কালজয়ী। ১৯০০ সালের সেই আদিম বাংলার গ্রামীণ সমাজ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আধুনিক ডিজিটাল যুগ—সবখানেই জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি এক জীবন্ত দলিল হিসেবে স্বীকৃত। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি হাজার বছরের বাংলার কুসংস্কার, প্রেম, বিরহ এবং যন্ত্রণার এক মহাকাব্যিক চিত্রায়ন।

উপন্যাস থেকে পাঠ্যবই: একটি প্রজন্মের স্মৃতি

একসময় নবম-দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ‘হাজার বছর ধরে’। গ্রামীণ জনপদের অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম যেভাবে এই উপন্যাসে উঠে এসেছে, তা পাঠকদের কল্পনার জগতে নিয়ে যেত। এই গল্পের মূল আকর্ষণ ছিল টুনি, মন্তু এবং মকবুল বুড়ার ত্রিমুখী টানাপোড়েন, যা মূলত বাঙালি গ্রামীণ সমাজের হাজার বছরের শোষণ ও প্রথার প্রতিচ্ছবি।

বড় পর্দায় হাজার বছর ধরে: সুচন্দার সাহসী উদ্যোগ

২০০৩ সালের শেষের দিকে চিত্রনায়িকা সুচন্দা এই ধ্রুপদী উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার দুঃসাহসিক স্বপ্ন দেখেন এবং শুটিং শুরু করেন। ২০০৫ সালের ৩ই জুলাই রাতে এনটিভির জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। সেই সময় পাইরেসির আতঙ্কে অনেক বড় ছবি সিনেমা হলের বদলে সরাসরি টেলিভিশনে মুক্তি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অল্প কিছু সিনেমা হলেও এটি প্রদর্শিত হয় এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করে।

কাস্টিং ও পারফরম্যান্স: রিয়াজ ও শশীর অবিস্মরণীয় রসায়ন

এই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সার্থকতা ছিল এর শিল্পী নির্বাচন।

  • মন্তু (রিয়াজ): মন্তু চরিত্রে অভিনেতা রিয়াজের অভিনয় ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। বইয়ের পাতার সেই মন্তু যেন রিয়াজের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
  • টুনি (শশী): উপন্যাসে টুনির বয়স ১২-১৩ বছর বলা হলেও, পর্দায় চিত্রনায়িকা শশী যখন এই চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন তিনি ছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্রী। তবে তার কিশোরী সুলভ সারল্য এবং দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
  • মকবুল বুড়া: এটি ছিল সেই প্রাচীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও আধিপত্যবাদী সমাজের প্রতীক, যা আজও বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিন্ন রূপে দৃশ্যমান।

১৯০০ থেকে ২০২৬: বাঙালি জীবন ও সংস্কারের বিবর্তন

১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে জহির রায়হান যে সমাজকে তুলে ধরেছেন, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পরও সেই সমাজের কিছু অন্ধকার দিক আজও আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব যেমন নতুন ভোরের কথা বলে, তেমনি ‘হাজার বছর ধরে’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের শেকড়ের কথা। ২০২৬ সালের দিকে যখন আমরা একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছি, তখন এই ধরণের সাহিত্য ও চলচ্চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—উন্নয়ন কেবল দালানকোঠায় নয়, বরং মনের অন্ধকার দূর করার মধ্যেও নিহিত।

সামষ্টিক মূল্যায়ন

জহির রায়হানের সৃষ্টি চিরকালই শোষিতের কথা বলেছে। ‘হাজার বছর ধরে’ যেমন গ্রামের নিরক্ষর ও কুসংস্কারে বন্দি মানুষের গল্প বলে, তেমনি তার রাজনৈতিক সিনেমাগুলোও বাঙালির অধিকারের কথা বলে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই সিনেমাটি কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং বাঙালির যাপিত জীবনের এক ঐতিহাসিক রেফারেন্স।


সূত্র: ১. গুগল নিউজ ও চলচ্চিত্র আর্কাইভ। ২. এনটিভি জন্মজয়ন্তী বিশেষ প্রতিবেদন (২০০৫)। ৩. জহির রায়হান রচনাসমগ্র এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বাংলাদেশে নদীর প্রকৃত সংখ্যা কত

নিউজ ডেস্ক

April 20, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬

“তেরোশত নদী শুধায় আমাকে…”—পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের কবিতার এই পঙক্তিটি আমাদের শৈশব থেকেই পরিচিত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা কত? প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর নিয়ে খোদ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যেই রয়েছে বিশাল মতভেদ। কোনো সংস্থা বলছে ২৩০, কেউ বলছে ৪০৫, আবার কেউ বলছে সংখ্যাটি ৭০০-এর অধিক। কেন এই বিতর্ক? কেন আজ পর্যন্ত আমরা একটি সঠিক পরিসংখ্যান হাতে পেলাম না?

১. বিভিন্ন সংস্থার পরস্পরবিরোধী পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে নদী নিয়ে কোনো সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ গবেষণা না হওয়ায় বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো): ২০০৫ সালে পাউবো তাদের এক প্রকাশনায় নদীর সংখ্যা বলেছিল ৩১০টি। মাত্র ছয় বছর পর ২০১১ সালে পুনরায় গবেষণার পর তারা জানায় এই সংখ্যা ৪০৫টি
  • বাংলাপিডিয়া ও শিশু বিশ্বকোষ: সরকারি অনলাইন তথ্যকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ এবং শিশু একাডেমি প্রকাশিত ‘শিশু বিশ্বকোষে’ নদীর সংখ্যা বলা হয়েছে ৭০০-এর অধিক
  • জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন: সম্প্রতি নদী রক্ষা কমিশনও নদীর একটি বিশাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে, যেখানে সংখ্যাটি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

২. ২৩০ টি নদীর বহুল প্রচলিত তথ্যের উৎস কী?

সাধারণ মানুষের মাঝে ২৩০টি নদীর তথ্যটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। মূলত স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যপুস্তকগুলোতে এই সংখ্যাটি ব্যবহৃত হতো। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ডিজিটাল ম্যাপিং বলছে, এই সংখ্যাটি বর্তমানে অনেক বেশি।

৩. বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিকদের দৃষ্টিতে নদীর সংখ্যা

গবেষকদের লেখনীতেও নদীর সংখ্যার ভিন্নতা ফুটে উঠেছে:

  • অশোক বিশ্বাস তাঁর ‘নদীকোষ’ গ্রন্থে বলেছেন ৭০০+ নদী।
  • মোকারম হোসেন ও মোঃ ইনামুল হক তাঁদের পৃথক গ্রন্থে নদীর সংখ্যা উল্লেখ করেছেন ১০০০-এরও বেশি
  • মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন বাংলাদেশে ১০০০-এর অধিক নদী বিদ্যমান।

৪. আঞ্চলিক ভিত্তিতে নদীর বিন্যাস (পাউবো ২০১১ অনুযায়ী)

পাউবো-র ৪০৫টি নদীর হিসাব অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:

  • উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল: ১১৫টি
  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: ১০২টি
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল: ৮৭টি
  • উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চল: ৬১টি
  • দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: ২৪টি
  • পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চল: ১৬টি

৫. আন্তঃসীমান্তীয় নদী: ৫৭ নাকি আরও বেশি?

ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা সাধারণভাবে ৫৭টি হিসেবে স্বীকৃত (যার মধ্যে ৫৪টি ভারত থেকে এবং ৩টি মিয়ানমার থেকে আসা)। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ছোট-বড় অনেক ছড়া ও পাহাড়ি ঢল হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight):

নদীর সংখ্যা নিয়ে এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো ‘নদী’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অভাব। অনেক খাল বা মরা নদীকে কেউ নদী বলছেন, আবার কেউ বলছেন না। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ দখলের কারণে অনেক নদী ম্যাপ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, আবার পলি জমে নতুন নতুন শাখা নদী তৈরি হচ্ছে। একটি সঠিক নদী-শুমারি বা ন্যাশনাল রিভার এটলাস (National River Atlas) প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ কী

নিউজ ডেস্ক

April 12, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

সূত্র: তালহা ও নিহাত

বাবর থেকে শুরু করে বাহাদুর শাহ জাফর—৩১৭ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ১৭ জন মুঘল সম্রাট ভারতবর্ষ শাসন করেছেন। প্রথম ছয়জন সম্রাটের (বাবর থেকে আওরঙ্গজেব) রাজত্বকাল ছিল মুঘলদের সোনালী সময়। কিন্তু ১৭০৭ সালে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর মাত্র ৫০ বছরের মধ্যেই এই বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। কেন এমন হলো? ঐতিহাসিক বিপনচন্দ্রের মতে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এক ক্রমিক অবক্ষয়।

১. বিশালতার বোঝা ও দুর্বল যোগাযোগ

মুঘল সাম্রাজ্য কাবুল থেকে বেঙ্গল এবং কাশ্মীর থেকে মহীশূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এত বড় সাম্রাজ্য দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সেই যুগে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে আওরঙ্গজেবের পরবর্তী সম্রাটরা অযোগ্য হওয়ায় দূরবর্তী প্রদেশগুলোতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়।

২. উত্তরাধিকার আইনের অনুপস্থিতি

মুঘলদের মধ্যে সিংহাসন পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ছিল না। সম্রাটের মৃত্যুর পর ভাইয়ে-ভাইয়ে যুদ্ধ ছিল নিয়মিত ঘটনা। শাহজাহান ও আওরঙ্গজেবের পুত্রদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা রাজকীয় মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সংহতি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।

৩. বিলাসিতা ও নৈতিক অধঃপতন

আওরঙ্গজেব-পরবর্তী সম্রাটরা শাসনকার্যের চেয়ে বিলাসিতা, মদ্যপান ও আমোদ-প্রমোদে বেশি মত্ত ছিলেন। তাদের এই ‘রঙ্গিলা’ স্বভাবের কারণে রাজদরবার ষড়যন্ত্রের আখড়ায় পরিণত হয়। উচ্চপদস্থ আমির-ওমরাহরাও দায়িত্ব পালনের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলাদলিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

৪. আওরঙ্গজেবের বিতর্কিত নীতি

অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, আওরঙ্গজেবের কঠোর ধর্মীয় নীতি, রাজপুত নীতি এবং দাক্ষিণাত্য অভিযান মুঘলদের পতনের পথ সুনিশ্চিত করেছিল। রাজপুতদের মতো বিশ্বস্ত মিত্রদের শত্রুতে পরিণত করা এবং দাক্ষিণাত্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মুঘল রাজকোষ ও সামরিক শক্তি নিঃশেষ করে দিয়েছিল।


মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণসমূহ একনজরে:

কারণপ্রভাব
অর্থনৈতিক সংকটশাহজাহানের আড়ম্বর আর আওরঙ্গজেবের যুদ্ধ রাজকোষ শূন্য করে দেয়।
সামরিক দুর্বলতানৌবাহিনীর অভাব এবং সেকেলে রণকৌশল বিদেশি শক্তির সামনে টিকতে পারেনি।
বৈদেশিক আক্রমণনাদির শাহ (১৭৩৯) ও আহম্মদ শাহ আবদালির আক্রমণ ভিত ভেঙে দেয়।
ইংরেজদের উত্থানচূড়ান্ত আঘাত আসে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে।

৫. অর্থনৈতিক ও কৃষক বিদ্রোহ

জায়গিরদারি প্রথা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং কৃষকদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝা মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। শিখ, জাঠ ও মারাঠাদের উত্থান মুঘলদের একচ্ছত্র আধিপত্য শেষ করে দেয়।

উপসংহার: ইতিহাসের শিক্ষা

একটি সাম্রাজ্য কেবল তলোয়ারের জোরে টিকে থাকে না, বরং সুযোগ্য নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সংহতিই এর প্রধান খুঁটি। মুঘলরা যখন তাদের এই মৌলিক গুণগুলো হারিয়ে ফেলেছিল, তখনই এই বিশাল মহীরুহ ভেঙে পড়েছিল। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ইংরেজরা শেষ প্রদীপের শিখাটুকুও নিভিয়ে দেয়।

আপনার মন্তব্য: মুঘল সম্রাটদের মধ্যে আপনার প্রিয় ব্যক্তিত্ব কে এবং কেন? কমেন্টে আমাদের জানান।

প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল:শিক্ষা কাকে বলে? মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশ ও আধুনিক সংজ্ঞা জানুন।

নেগেটিভ মানুষ

নিউজ ডেস্ক

April 12, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

জানেন কি, নেগেটিভ মানুষ আপনাকে কখনো সরাসরি ধ্বংস করবে না? তারা অনেকটা ‘উইপোকার’ মতো; বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার ভেতরকার আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন আর সাহসকে খেয়ে ফেলে। আজ আমরা আলোচনা করব কেন আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখা আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।

১. নেতিবাচক কথার মারণাস্ত্র

যখন কেউ আপনাকে বলে— “তুই পারবি না” বা “এটা তোর জন্য না”, তখন প্রথমবার হয়তো আপনি পাত্তা দেন না। কিন্তু বার বার একই কথা শুনতে শুনতে আপনার অবচেতন মনে নিজের প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। এই সন্দেহটাই আপনার সাফল্যের পথে সবচাইতে বড় বাধা।

২. এনার্জি ভ্যাম্পায়ার

কিছু মানুষ আছে যারা আপনার পজিটিভ এনার্জি শুষে নেয়। আপনি হয়তো খুব উৎসাহ নিয়ে নতুন কোনো আইডিয়া শেয়ার করলেন, আর তারা নিমিষেই একগুচ্ছ ‘কিন্তু’ আর ‘যদি’ দিয়ে আপনার উৎসাহটা নষ্ট করে দিল। এর ফলে:

  • আপনার কাজের উদ্যম বা এনার্জি কমে যায়।
  • বড় স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে ফেলেন।
  • চেষ্টা করার আগেই পরাজয় মেনে নেন।

৩. আপনি কি তাদের মতোই হয়ে যাচ্ছেন?

মনোবিজ্ঞানে একটি কথা আছে— “You are the average of the five people you spend the most time with.” অর্থাৎ, আপনি যাদের সাথে সবচাইতে বেশি সময় কাটান, আপনি ঠিক তাদের মতোই হয়ে ওঠেন। নেগেটিভ মানুষের ভিড়ে থাকলে একসময় আপনি নিজেও অজান্তে নেতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করবেন।


কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন? (Protect Your Mindset)

নেগেটিভ মানুষের লক্ষণআপনার করণীয়
সব কাজে খুঁত ধরাতাদের থেকে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গোপন রাখুন।
অতীতের ব্যর্থতা মনে করানোনিজের বর্তমান অর্জনগুলো ডায়েরিতে লিখুন।
রিস্ক নিতে বাধা দেওয়াযারা সফল হয়েছে তাদের জীবনী পড়ুন।
পরচর্চা ও অভিযোগ করাআড্ডা থেকে কৌশলে নিজেকে সরিয়ে নিন।

উপসংহার: নিজের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে

সবাইকে সাথে নিয়ে চলা উদারতার লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে নয়। মনে রাখবেন, আপনার চারপাশ যেমন, আপনার ভবিষ্যৎ ঠিক তেমনই হবে। তাই আজই আপনার সার্কেলটি চেক করুন। যাদের কথা আপনাকে ছোট করে রাখে, তাদের থেকে ভদ্রভাবে দূরত্ব বজায় রাখুন।

আপনার Mindset আপনার সবচাইতে বড় সম্পদ। একে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার নিজের।

আপনার মন্তব্য: আপনার আশেপাশে এমন কেউ কি আছে যে সারাক্ষণ আপনার মনোবল ভেঙে দেয়? আপনি কিভাবে তাদের হ্যান্ডেল করেন? কমেন্টে আমাদের জানান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ