খেলাধুলা

সেভেন আপ-এর অজানা ইতিহাস কী?
সেভেন আপ-

নিউজ ডেস্ক

December 26, 2025

শেয়ার করুন

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা গত রাতে জার্মানির ফুটবল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে হজম করে বসলো ২ হালি গোল। এরই ফলশ্রুতিতে আজ চারদিকে উঠেছে “সেভেন আপ, সেভেন আপ” রব, যা সর্বশেষ উঠেছিল ২০১৪ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের সময়। সেবার সেমিফাইনালে জার্মানি গুণে গুণে ৭ বার বল ঢুকিয়েছিল ব্রাজিলের জালে।

অপ্রতিরোধ্য জার্মানিকে থামানোর কোনো কৌশলই সেদিন যেন জানা ছিল না ব্রাজিলের; Image source: Goal

গত রাতের বিষয়টি ভুলেই যেতে চাইবে বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব; Image source: ABC News

কিন্তু এই যে সেভেন আপের ব্যাপারে এত কথাবার্তা, আপনি কি জানেন ঠিক কীভাবে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই সেভেন আপের? আসুন, সেভেন আপের অজানা ইতিহাসই আজকের লেখার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া যাক আপনাদের।

চার্লস লীপার গ্রিগ; ১৮৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে জন্ম তার। প্রাপ্তবয়স্ক হলে সেইন্ট লুইসে চলে যান তিনি, কাজ শুরু করেন অ্যাডভারটাইজিং এবং সেলস সেক্টরে। সেসময়ই কোমল পানীয়ের সাথে পরিচয় হয় গ্রিগের।

১৯১৯ সালে ভেস জোন্সের মালিকানাধীন এক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন গ্রিগ। সেখানে থাকাকালেই জোন্সের এক ফার্মের জন্য গ্রিগ উদ্ভাবন করেন অরেঞ্জ ফ্লেভারের এক কোমল পানীয়, নাম হুইসেল; বাজারজাতও করা হয় সেটা। যা-ই হোক, শেষপর্যন্ত ম্যানেজমেন্টের সাথে ঝামেলা হওয়ায় সেখান থেকে চলে আসেন গ্রিগ, রেখে আসেন হুইসেলও।

সেভেন আপের বোতল হাতে গ্রিগ; Image source: Etsy

এরপর তিনি যোগ দেন ওয়ার্নার জেকিনসন কোম্পানিতে। সেখানেও কোমল পানীয়ের ফ্লেভার নিয়ে কাজ করতে থাকেন। এখানে কাজ করার সময়ই গ্রিগের হাত ধরে আসে দ্বিতীয় কোমল পানীয় হাউডি। পরবর্তীতে ওয়ার্নার জেকিনসন ছেড়ে আসার সময় আর আগেরবারের ভুলটা করেননি তিনি, সাথে নিয়ে আসেন হাউডির সকল স্বত্বও।

গ্রিগ বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার মাধ্যমে কোমল পানীয়ের শিল্পে বড় কিছু ঘটানো সম্ভব। তাই তো এবার একজন অর্থ লগ্নিকারী খুঁজে নিলেন তিনি, নাম এডমুন্ড জি. রিজওয়ে। ততদিনে তিনি দুটো অরেঞ্জ ফ্লেভারের কোমল পানীয় নিয়ে আসলেও মার্কেট জায়ান্ট অরেঞ্জ ক্রাশের সামনে ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। তাই এদিকে আর মন না দিয়ে গ্রিগ এরপর মাতলেন লেমন-লাইম সোডা নিয়ে।

১৯২৯ সালের অক্টোবর মাসে অবশেষে সফলতার মুখ দেখলেন গ্রিগ, উদ্ভাবন করলেন এক নতুন কোমল পানীয়ের ফর্মুলার, যার নাম দিলেন ‘বিব-লেবেল লিথিয়েটেড লেমন-লাইম সোডাজ’। অল্প কিছুদিন পরেই এই নাম পাল্টে ওটা হয়ে গেল ‘সেভেন আপ লিথিয়েটেড লেমন সোডা’। অবশেষে ১৯৩৬ সালে এটা হলো কেবলই ‘সেভেন আপ’।

সেভেন আপের একটি পুরাতন বিজ্ঞাপন; Image source: Ryan Khatam/Flickr

সেভেন আপের একেবারে মূল ফর্মুলার একটি উপাদান ছিল লিথিয়াম সাইট্রেট। সেসময় ম্যানিক ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো এই উপাদানটি। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে কোমল পানীয়তে এই উপাদানের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ফলে আলাদা হয়ে যায় সেভেন আপ ও লিথিয়াম সাইট্রেটের চলার পতটি। ক্যালসিয়াম ডাইসোডিয়াম ইডিটিএ এর উপাদানের তালিকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয় ২০০৬ সালে। ওদিকে সোডিয়ামের পরিমাণ কমাতে সোডিয়াম সাইট্রেটের বদলে যোগ করা হয় পটাসিয়াম সাইট্রেট।

এখন প্রশ্ন হলো, সেভেন আপকে কেন এই নাম দেয়া হলো? বিশেষত্ব কী এই নামের? দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, গ্রিগ কোনোদিনই খোলাসা করে বলেননি এই ব্যাপারে। ফলে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তত্ত্ব আছে, কিন্তু সেসবের মাঝে কোনটিকে আপনি বেছে নেবেন তা একান্তই আপনার ব্যাপার!

১) সেভেন আপের মূল ফর্মুলায় ছিল ৭টি উপাদান: চিনি, কার্বোনেটেড ওয়াটার, লেমন ও লাইম অয়েলের নির্যাস, সাইট্রিক এসিড, সোডিয়াম সাইট্রেট, এবং লিথিয়াম সাইট্রেট।

২) ৭-আউন্সের বোতলে করে শুরুতে বিক্রি হতো এই কোমল পানীয়টি।

৩) অত্যধিক নেশার ফলে সৃষ্ট সাত ধরনের হ্যাংওভার কাটাতে সাহায্য করবে সেভেন আপ- এমনটাই একবার দাবি করেছিলেন গ্রিগ। ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট স্নোপসের পক্ষ থেকে এই দাবিটিকে সত্য বলে সাব্যস্ত করা হলেও তারা সেই সাথে জানিয়ে রেখেছে, গ্রিগ কথাটি সিরিয়াসলি বলেননি, কেবল মজা করার জন্যই এটা বলেছিলেন তিনি।

৪) সেভেন আপের মূল ফর্মুলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লিথিয়ামের স্ট্যান্ডার্ড অ্যাটমিক ওয়েইট ৭ এর কাছাকাছি বিধায় এই নামটি বেছে নেন গ্রিগ!

৫) কোমল পানীয়টির পিএইচ লেভেল ৭ এর অধিক বিধায় এর এমন নামকরণ বলেও দাবি করেন কেউ কেউ, যার ফলে এর এমন নামকরণ। তবে যারা এমনটি মনে করেন, তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখা ভাল- এটি সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা, কেননা এর পিএইচ লেভেল ৩.৭৯ এর কাছাকাছি।

৬) একবার একদল গবাদি পশুর গায়ে সনাক্তকরণের জন্য একধরনের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন গ্রিগ, যা ছিল অনেকটাই ‘7up’ কথাটির মতো। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই নামটি নিজের কোমল পানীয়ের জন্য বেছে নেন বলে দাবি করেন কেউ কেউ।

Image source: Wallpaper Tip

এখানে তো ৬টি তত্ত্বের ব্যাপারে আলোচনা করা হলো, ইন্টারনেটে ঘুরলে এমনই আরও বেশ কিছু তত্ত্বই চোখে পড়বে আপনার। ফলে এসবের মাঝে থেকে কোনোটি বেছে নেবেন, নাকি পছন্দের পানীয় হলে এতসব না ভেবে আগের মতোই গিলতে থাকবেন তা নাহয় আপনার উপরই ছেড়ে দেয়া যাক!

১৯৪০ সালে একাত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন গ্রিগ। তিনি চলে গেলেও রয়ে গেছে তার হাত ধরে যাত্রা শুরু করা সেভেন আপ, যা হাল আমলে ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্রাজিল ফুটবল দল আর বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের কল্যাণে; কারও সুখ-স্বপ্নে, কারও বা দুঃস্বপ্নে!

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিসিবিতে তামিমের দখল

নিউজ ডেস্ক

April 9, 2026

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ও পলিটিক্যাল ডেস্ক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

(সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সম্ভবত সবচাইতে নাটকীয় এবং বিতর্কিত অধ্যায়ের সাক্ষী হলো ২০২৬ সাল। জাতীয় ক্রিকেটার থেকে সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মসনদে বসা তামিম ইকবালকে নিয়ে এবার জনমনে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জোয়ার বইছে। বিশেষ করে বিশিষ্ট ক্রীড়া বিশ্লেষক ও কলামিস্ট আতিক ইউ এ খানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল, যেখানে তিনি তামিম ইকবাল ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন।

১. ‘ছ্যাঁচড়ামি’ ও ট্রাম্পের সাথে তুলনা

আতিক খান তার স্ট্যাটাসে তামিম ইকবালকে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়েও ‘নির্লজ্জ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের ব্যর্থতা থাকলেও তামিম ইকবাল ঠিকই বিসিবিতে ‘বিএনপি পারিবারিক বোর্ডের’ দরজা খুলে দিয়েছেন। আতিকের ভাষায়, “মৃত্যুমুখ হতে তামিম ইকবাল ফিরে এসেছিলেন কি এভাবে চেয়ার দখল করার জন্য? মানসম্মান এভাবে জলাঞ্জলি দেওয়া জরুরি ছিল?”

২. বুলবুল বনাম তামিম: মেরুদণ্ড ও সাহসের ব্যবধান

স্ট্যাটাসে দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সততা ও ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আতিক লিখেছেন—বুলবুল বেতন ছাড়াই কাজ করেছেন, উবার বাইকে চড়েছেন এবং ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কটের মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মসম্মান রক্ষা করেছিলেন। বিপরীতে, তামিমের সেই ‘সাহস বা মেরুদণ্ড’ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

৩. বোর্ড দখল ও ‘সিনেমাটিক’ পতন

আতিক ইউ এ খানের বর্ণনায়, ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে তামিম ইকবাল এনএসসিকে (NSC) ব্যবহার করে বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদ ভেঙে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “সব মন্ত্রীদের ছেলে, বউ, ভাতিজারা বিএনপির পারিবারিক বোর্ড দখল করল আর পিছন দিয়ে পালাতে বাধ্য হলেন দেশের সাবেক জাতীয় ক্রিকেটাররা।”

৪. আইসিসি ও জয় শাহ ফ্যাক্টর

বিসিবি দখল নিয়ে আইসিসি বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করবে কি না, এমন আশঙ্কার বিপরীতে আতিক দাবি করেন যে—আইসিসি সভাপতি জয় শাহর গ্রিন সিগন্যাল নিয়েই এই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। বুলবুলের ওপর জয় শাহর ক্ষোভ থাকায় তামিম সব পথ পরিষ্কার করেই মাঠে নেমেছেন।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: আতিক ইউ এ খানের এই আবেগঘন ও যুক্তিনির্ভর স্ট্যাটাসটি ক্রিকেট প্রেমীদের মনের একটি বড় অংশের প্রতিফলন। পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম তামিম ইকবালের এমন ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক’ উত্তরণ তাঁর ক্যারিয়ারের দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মানকে ম্লান করছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। ক্রিকেট যখন রাজনীতির চাদরে ঢাকা পড়ে যায়, তখন খেলার চেয়ে পদ-পদবিই মুখ্য হয়ে ওঠে—যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি অশনি সংকেত।


আতিক ইউ এ খানের স্ট্যাটাসের মূল পয়েন্টসমূহ (এক নজরে)

ইস্যুআতিকের মন্তব্য
তামিমের ভূমিকাক্ষমতার জন্য চরম ‘ছ্যাঁচড়ামি’ ও সম্মান জলাঞ্জলি দেওয়া।
বুলবুলের অবদাননিঃস্বার্থ সেবা, ত্যাগ এবং ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কটের সাহসী সিদ্ধান্ত।
বিসিবি দখলএনএসসি ও ভুয়া তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে বোর্ড ভেঙে দেওয়া।
পরিবারতন্ত্রমন্ত্রীদের স্বজনদের দিয়ে বোর্ড দখল করা।
ইঞ্জিনিয়ারিংনির্বাচন ও সিটি কর্পোরেশনের পর এবার ‘বিসিবি ইঞ্জিনিয়ারিং’।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

কেন বাংলাদেশ শুধু ব্রাজিল

নিউজ ডেস্ক

March 29, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও স্পোর্টস এনালিস্ট)

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশ যেন একখণ্ড লাতিন আমেরিকা হয়ে যায়। আনাচে-কানাচে শুধু নীল-সাদা আর হলুদ-সবুজ পতাকার লড়াই। কিন্তু পৃথিবীতে এত দেশ থাকতে কেন কেবল এই দুটি দেশই বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে নিল? এর পেছনে রয়েছে আশির দশকের এক নস্টালজিক ইতিহাস।

১. ড্রয়িংরুমের বিপ্লব ও যৌথ পরিবারের প্রভাব

আশির দশকে বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামে রঙিন ও সাদাকালো টিভির প্রচলন বাড়তে শুরু করে। তখন আজকের মতো প্রত্যেকের হাতে স্মার্টফোন ছিল না, ছিল না নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির আধিক্য। একটি পাড়ায় বা যৌথ পরিবারে একটি টিভিই ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সেই সময় ফুটবল ছিল বাঙালির প্রধান বিনোদন, আর ড্রয়িংরুমের সেই ছোট্ট পর্দাটিই হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের বৈশ্বিক জানালা।

২. ৮৬’র ম্যারাডোনা ম্যাজিক: আর্জেন্টিনার উত্থান

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘ম্যারাডোনাময়’। সেই সময়কার কিশোর বা তরুণদের কাছে ম্যারাডোনা ছিলেন এক অতিমানবীয় চরিত্র।

  • হ্যান্ড অফ গড: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিতর্কিত গোল।
  • শতাব্দীর সেরা গোল: পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা সেই অবিশ্বাস্য গোল। এই ঘটনাগুলো বাঙালির মনে আর্জেন্টিনাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। মূলত ৮৬’র সেই সোনালী ট্রফি জয়ই বাংলাদেশে বিশাল এক আর্জেন্টাইন ফ্যানবেস তৈরির মূল ভিত্তি।

৩. ৯৪’র রোমারিও এবং ব্রাজিলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

১৯৭০ সালের পর টানা ২৪ বছর ব্রাজিল কোনো শিরোপা পায়নি। যদিও ফুটবলের নান্দনিকতায় ব্রাজিল সব সময়ই সেরাদের তালিকায় ছিল।

  • শিরোপা খরা জয়: ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং দুঙ্গার হাত ধরে ব্রাজিল যখন চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তখন বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার একক আধিপত্যে ভাগ বসায় ব্রাজিল সমর্থকরা।
  • প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু: ম্যারাডোনার বিদায়ে আর্জেন্টিনা যখন কিছুটা ম্লান, তখন ব্রাজিলের এই পুনরুত্থান বাঙালি ফুটবল প্রেমীদের দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়।

আরও পড়ুন:আদম (আ.) কেন সরাসরি পৃথিবীতে আসেননি? নিষিদ্ধ গাছের রহস্য ও জান্নাতের Logout বাটন।

উপসংহার: প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে চলা আবেগ

আশির দশকের সেই টিভি দেখা থেকে শুরু হওয়া আবেগ আজ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বাবার পছন্দ করা দল আজ ছেলে সমর্থন করে, বড় ভাইয়ের দেখাদেখি ছোট ভাই পতাকা ওড়ায়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এই লড়াই আসলে কেবল মাঠের খেলা নয়, এটি বাঙালির শৈশব, নস্টালজিয়া এবং এক নির্মল আনন্দ উৎসবের নাম।


তথ্যসূত্র ও স্পোর্টস এনালাইসিস (References):

  • ফিফা হিস্ট্রি আর্কাইভ: ১৯৮৬ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের বিশেষ মুহূর্তসমূহ।
  • বিটিভি গোল্ডেন জুবিলি মেমোরিজ: বাংলাদেশে টেলিভিশনের বিবর্তন ও ফুটবল সম্প্রচার।
  • বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: বাংলাদেশে ফুটবল ফ্যানবেস এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ।

সাংবাদিকেরনাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Inhumane manual scavenging in Dhaka's sewers

নিউজ ডেস্ক

March 10, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ নর্দমা পরিষ্কারের দৃশ্যটি যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ১.৪ কোটি মানুষের বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত পানির মধ্যে কোনো প্রকার সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ছাড়াই ডুব দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ করার ছবিটি যেন আমাদের নগরায়ণের এক চরম ব্যর্থতার দলিল। অথচ ২১ শতকে এসেও মানুষ কেন নর্দমায় নামতে বাধ্য হচ্ছে, তা আজ এক বড় প্রশ্ন।

১. ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং: এক অমানবিক বাস্তব

ঢাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় একটি অংশ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা হয়। শ্রমিকরা তাদের নাক, মুখ বা চোখ রক্ষা করার সামান্য সরঞ্জাম ছাড়াই বিষাক্ত নর্দমায় নেমে পড়েন।

  • স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়: নর্দমার ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন গ্যাসের মতো মরণঘাতী উপাদানের উপস্থিতিতে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে তারা চর্মরোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং এইচআইভি বা হেপাটাইটিসের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন।
  • মৃত্যুর ঝুঁকি: প্রতি বছরই নর্দমায় কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে বা ধসে পড়া নর্দমার নিচে চাপা পড়ে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

. প্রযুক্তির অভাব নাকি সদিচ্ছার অভাব?

বর্তমান যুগে ভ্যাকুয়াম ট্রাক, জেটিং মেশিন এবং আধুনিক ড্রেনেজ ক্লিনিং রোবটের মতো প্রযুক্তি হাতের কাছে থাকা সত্ত্বেও কেন ম্যানুয়াল পদ্ধতি অব্যাহত?

  • পরিকল্পনার ঘাটতি: ঢাকা শহরের অনেক নর্দমা অত্যন্ত সরু এবং আঁকাবাঁকা, যেখানে বড় যন্ত্র পৌঁছাতে পারে না।
  • নির্ভরযোগ্যতা: যান্ত্রিক পদ্ধতির চেয়ে অনেক সময় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অল্প খরচে দ্রুত কাজ পাওয়া যায় বলে প্রভাবশালী ঠিকাদাররা অমানবিক এই পথই বেছে নেন।
  • সামাজিক প্রান্তিকীকরণ: এই পেশায় যারা যুক্ত, তাদের একটি বড় অংশ সমাজের অবহেলিত গোষ্ঠী থেকে আসা। তাদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে কাজের দ্রুততাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা অগ্রহণযোগ্য।

৩. আন্তর্জাতিক মান ও আইনি কাঠামো

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই একজন কর্মীকে সরাসরি বর্জ্যের সংস্পর্শে আনা যাবে না। বাংলাদেশের শ্রম আইনেও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ অনুপস্থিত।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত বিশ্লেষণ:

ঢাকাকে একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘আধুনিক’ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার এই অন্ধকার দিকটির দ্রুত অবসান প্রয়োজন। আমাদের নগর পরিকল্পনা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ১. অবিলম্বে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং নিষিদ্ধ ঘোষণা ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। ২. প্রত্যেক ওয়ার্ডে ছোট আকারের যান্ত্রিক পরিষ্কারক যন্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মানজনক জীবন যাপন ও আধুনিক সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মানুষগুলো আমাদের শহরের নীরব নায়ক। তাদের জীবনের বিনিময়ে শহর পরিষ্কার রাখার চিন্তাটিই আমাদের নগরায়ণের জন্য কলঙ্ক। সময় এসেছে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের, যেন আর কোনো মানুষ নর্দমার অন্ধকারের মৃত্যুফাঁদে হারিয়ে না যায়।


তথ্যসূত্র:

  • আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) রিপোর্ট – ‘নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ’।
  • বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত) – কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারা।
  • নগর উন্নয়ন ও স্যানিটেশন বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন (২০২৪-২৫)।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার নিয়ে বিস্তারিত আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ  ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ