অর্থনীতি

কেন প্রয়োজন টাকা? বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে তৈরি করে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রতীক!
টাকা

নিউজ ডেস্ক

November 27, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

টাকা, আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ। এটি শুধু একটি বিনিময় মাধ্যম নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রতীক। স্বাধীনতার পর দ্রুত সময়ে নিজস্ব মুদ্রা প্রচলনের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই টাকা। কিন্তু কেন এই টাকার প্রয়োজন হলো, কীভাবে এর জন্ম হলো, আর কেনই বা এর নকশা এমন—এই সবকিছু নিয়েই রয়েছে কৌতূহল।

টাকার প্রয়োজনীয়তা এবং নির্মাণ ধারণা

অর্থনীতিতে টাকা বা মুদ্রার প্রয়োজনীয়তা মৌলিক। মূলত তিনটি কারণে টাকার প্রয়োজন:

১. বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange): এটি টাকার সবচেয়ে প্রধান কাজ। পণ্য বা সেবা বিনিময়ের জন্য যদি টাকা না থাকত, তবে ‘বার্টার সিস্টেম’ বা পণ্যের বিনিময়ে পণ্য পদ্ধতি চালু থাকত, যা খুবই জটিল ও অকার্যকর।

২. হিসাবের একক (Unit of Account): টাকার মাধ্যমেই সব পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করা হয়। একটি কলম, একটি গাড়ি বা এক ঘণ্টার কাজের মূল্য কত হবে, তা টাকা দিয়েই নির্ধারণ করা হয়।

৩. মূল্য সঞ্চয়ের ভান্ডার (Store of Value): মানুষ এখনকার আয় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য জমিয়ে রাখতে পারে। টাকা সেই সঞ্চয়কে সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।

টাকা বানানোর কনসেপ্ট (Printing and Minting)

বাংলাদেশে টাকা তৈরির দায়িত্ব দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে:

  • বাংলাদেশ ব্যাংক (Bank Notes): $5$ টাকা থেকে শুরু করে সকল উচ্চ মূল্যের কাগজি নোট (যেমন $10$, $20$, $50$, $100$, $500$, $1000$ টাকা) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা হয়। এই নোটগুলোতে গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে এবং এর দায়ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
  • অর্থ মন্ত্রণালয় (Coins and Smaller Notes): $1$ টাকা ও $2$ টাকার নোট এবং সকল ধাতব মুদ্রা (কয়েন) অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যু করা হয়। এই নোটগুলোতে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে এবং এর দায়ভার সরকারের।

মুদ্রা ছাপানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও গোপনীয়, কারণ এর সাথে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জড়িত। বিশেষায়িত উচ্চ নিরাপত্তা কাগজে, জটিল জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও মাইক্রোপ্রিন্টিং ব্যবহার করে টাকা ছাপানো হয়, যেন জাল করা সম্ভব না হয়।

টাকার নকশা ও এর পেছনের প্রতীকী অর্থ

বাংলাদেশের টাকা বা নোটের নকশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সার্বভৌমত্বকে তুলে ধরে।

মূল্যমানপ্রধান নকশার প্রতীকপ্রতীকী অর্থ
সাধারণতজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিবাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা।
সাধারণতজাতীয় স্মৃতিসৌধ (সাভার)মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান ও স্বাধীনতা।
জাতীয় প্রতীকশাপলা ফুল (পানির ওপর ভাসমান)বাংলাদেশের জাতীয় ফুল ও অর্থনীতির প্রতীক।
নোটের উল্টো পিঠেঐতিহাসিক স্থাপনা (যেমন লালবাগ কেল্লা), প্রাকৃতিক দৃশ্য বা গ্রামীণ জীবনের ছবি।দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ।

নকশার নকশাকার (ডিজাইন)

বাংলাদেশের টাকায় নির্দিষ্ট কোনো একজন ব্যক্তির নকশা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়নি। স্বাধীনতার পর প্রথম দিকে ভারতীয় নকশাবিদদের সহায়তায় নকশা করা হলেও, পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষায়িত ডিজাইন টিম এই নকশার কাজ করে থাকে। নকশা চূড়ান্তভাবে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা অনুমোদিত হয়। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করাই এই নকশার প্রধান লক্ষ্য থাকে।

বাংলাদেশে প্রথম টাকা প্রচলন (ঐতিহাসিক পটভূমি)

বাংলাদেশের ইতিহাসে টাকা প্রচলনের ঘটনা ছিল অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ঘোষণা।

  • মুক্তিযুদ্ধ ও প্রথম পদক্ষেপ (১৯৭১): মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল পাকিস্তানি রুপি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ভারত সরকার পাকিস্তানি রুপির ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করে। স্বাধীনতার পর, নতুন সরকারের প্রধান কাজ ছিল নিজস্ব মুদ্রা চালু করা।
  • জরুরি ব্যবস্থা: প্রাথমিক পর্যায়ে, বাজারে প্রচলিত পাকিস্তানি $1$, $5$, ও $10$ টাকার নোটে ‘জয় বাংলা’ সিল মেরে সেগুলোকে দেশের বৈধ মুদ্রা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
  • প্রথম আনুষ্ঠানিক টাকা (১৯৭২): বাংলাদেশ ব্যাংক গঠনের পর, ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথম বারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব কাগজি নোট (১ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা এবং ১০০ টাকা) বাজারে ছাড়া হয়। এই মুদ্রার নাম হয় ‘টাকা’ (৳)।
  • প্রথম ধাতব মুদ্রা: একই সময়ে প্রথম $1$ পয়সা, $5$ পয়সা, $10$ পয়সা, $25$ পয়সা এবং $50$ পয়সার কয়েনও ইস্যু করা হয়।

টাকার এই যাত্রা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করেছে এবং দেশের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।


সূত্র

১. বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মুদ্রানীতি ও প্রকাশনাসমূহ।

২. অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

৩. ড. আতিউর রহমান রচিত বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ফেসবুক থেকে টাকা আয়

নিউজ ডেস্ক

June 15, 2026

শেয়ার করুন

সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি ফ্রিল্যান্সিং ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

আইটি কনসালট্যান্ট:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬

বর্তমান সময়ে ফেসবুক কেবল আড্ডা দেওয়া বা স্ক্রোল করে সময় নষ্ট করার জায়গা নয়, বরং এটি পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি মুক্ত আয়ের প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস। সঠিক কৌশল জানা থাকলে আপনার হাতের স্মার্টফোন এবং একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করে প্রতি মাসে সম্মানজনক অংকের টাকা আয় করা সম্ভব।

ফেসবুককে ক্যারিয়ার ও ব্যবসার কাজে লাগিয়ে লাভজনক করার প্রধান ও কার্যকরী উপায়গুলোর বিস্তারিত রোডম্যাপ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন (In-Stream Ads) ও ভিডিও কন্টেন্ট

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশনের (In-Stream Ads) মাধ্যমে ভিডিও কন্টেন্ট থেকে আয় করার জন্য আপনাকে ফেসবুকের নির্ধারিত কিছু শর্ত এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিচে এর একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়া হলো:

১. ইন-স্ট্রিম অ্যাডস (In-Stream Ads) পাওয়ার মূল শর্তাবলি

আপনার পেজে ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন চালু করতে হলে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে:

  • ৫,০০০ ফলোয়ার: আপনার ফেসবুক পেজে ন্যূনতম ৫,০০০ অর্গানিক ফলোয়ার থাকতে হবে।
  • ৬০,০০০ মিনিট ওয়াচ টাইম: গত ৬০ দিনের মধ্যে পেজের সব ভিডিও মিলিয়ে মোট ৬০,০০০ মিনিট ভিউ বা ওয়াচ টাইম পূর্ণ হতে হবে (এর মধ্যে লাইভ ভিডিও এবং আপলোড করা বড় ভিডিওর ওয়াচ টাইম গণ্য হবে, তবে রিলস বা বুস্ট করা ভিডিওর ভিউ এখানে যুক্ত হবে না)।
  • ৫টি লাইভ বা একটিভ ভিডিও: পেজে অন্তত ৫টি একটিভ ভিডিও (নরমাল ভিডিও বা লাইভ) থাকতে হবে।
  • বয়স ও লোকেশন: আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে এবং পেজটি মনিটাইজেশন এলিজিবল দেশে (যেমন: বাংলাদেশ) থাকতে হবে।

২. ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য ভিডিও তৈরির সময় নিচের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:

  • ১০০% অরিজিনাল কন্টেন্ট: ভিডিওর অডিও এবং ভিডিও সম্পূর্ণ আপনার নিজের তৈরি হতে হবে। অন্য কারও ভিডিও কেটে বা জোড়াতালি দিয়ে আপলোড করলে “Limited Originality of Content” ভায়োলেশন আসবে।
  • কপিরাইট ফ্রি মিউজিক: ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো জনপ্রিয় বা কপিরাইটযুক্ত গান ব্যবহার করা যাবে না। মিউজিক ব্যবহারের জন্য ফেসবুকের নিজস্ব Facebook Sound Collection ব্যবহার করতে হবে।
  • ভিডিওর দৈর্ঘ্য: ইন-স্ট্রিম অ্যাড সাধারণত ১ মিনিট বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে ভালো কাজ করে। তবে ৩ মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

৩. মনিটাইজেশন বাতিলের প্রধান কারণসমূহ (যা করা যাবে না)

অনেক সময় শর্ত পূরণ হলেও পেজে পলিসি ইস্যু চলে আসে। এগুলো এড়িয়ে চলুন:

  • নিজের ভিডিও নিজে দেখা: নিজের পেজের ভিডিও নিজের প্রোফাইল বা আইডি থেকে বারবার দেখা বা শেয়ার করা যাবে না। এটিকে ফেসবুক “Artificial Distribution” বা ইনভ্যালিড ক্লিক হিসেবে গণ্য করে।
  • অন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়াটারমার্ক: টিকটক, ইউটিউব বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের ওয়াটারমার্ক বা লোগো থাকা ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করা যাবে না।
  • স্ট্যাটিক বা স্থির ভিডিও: একটি মাত্র ছবি দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বা ভয়েস দিয়ে ভিডিও বানালে (Static Video) মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে না। ভিডিওতে অবশ্যই মোশন বা নড়াচড়া থাকতে হবে।

৪. কীভাবে শুরু করবেন এবং আবেদন করবেন?

১. মেটা বিজনেস সুইট: প্রথমে আপনার ব্রাউজার থেকে Meta Business Suite-এ লগইন করুন।
২. মনিটাইজেশন ট্যাব: বাম পাশের মেনু থেকে ‘Monetization’ অপশনে যান।
৩. স্ট্যাটাস চেক: সেখানে ‘In-Stream Ads for On-Demand’ এর পাশে আপনার পেজের ক্রাইটেরিয়া কতটুকু পূরণ হয়েছে তা দেখতে পাবেন।
৪. সেটআপ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: শর্ত পূরণ হলে ‘Set Up’ বাটন আসবে। সেখানে আপনার সঠিক টিন (TIN) সার্টিফিকেট এবং বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (Swift Code সহ) যুক্ত করে সাবমিট করতে হবে।


২. এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আপনি অন্য কোনো কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের পণ্য/সেবা নিজের মাধ্যমে বিক্রি করে নির্দিষ্ট হারে কমিশন আয় করতে পারেন। অনলাইনে ঘরে বসে কোনো নিজস্ব পণ্য ছাড়া বা ইনভেন্টরি তৈরি না করেই আয় করার এটি অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে, কীভাবে শুরু করবেন এবং সফল হওয়ার উপায়গুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:


১. এফিলিয়েট মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে?

পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত ৪টি ধাপে সম্পন্ন হয়:

  • জয়েনিং: আপনি কোনো কোম্পানির এফিলিয়েট প্রোগ্রামে বিনামূল্যে যুক্ত হবেন।
  • ইউনিক লিংক: কোম্পানি আপনাকে প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি বিশেষ ট্র্যাকিং লিংক (Affiliate Link) দেবে।
  • প্রচার: আপনি সেই লিংকটি আপনার ওয়েবসাইট, ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন।
  • কমিশন লাভ: কোনো ক্রেতা আপনার ওই লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি কিনলে কোম্পানি আপনাকে বিক্রির একটি নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন দেবে।

২. বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় কিছু এফিলিয়েট প্রোগ্রাম

আপনি আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স বা ক্রেতা অনুযায়ী নিচের প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হতে পারেন:

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম:

  • Amazon Associates: বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক। এখানে যেকোনো ধরণের ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট প্রমোট করা যায়।
  • ClickBank / CJ Affiliate / ShareASale: এগুলো মূলত ডিজিটাল প্রোডাক্ট (সফটওয়্যার, কোর্স, ই-বুক) এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের পণ্যের জন্য বিখ্যাত।

বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্ম:

  • Daraz Affiliate Program: দেশের অভ্যন্তরে ফিজিক্যাল প্রোডাক্টের জন্য সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম।
  • BDShop / Star Tech / Rokomari: গ্যাজেট, ইলেকট্রনিক্স এবং বইয়ের জন্য এই দেশীয় সাইটগুলোর এফিলিয়েট প্রোগ্রাম রয়েছে।

৩. কীভাবে শুরু করবেন? (ধাপ ৫টি)

সফলভাবে শুরু করার জন্য নিচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন:

  • একটি নিশ (Niche) নির্বাচন করুন: যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিন (যেমন: টেক গ্যাজেট, রূপচর্চা, ফিটনেস বা রান্না)। সব ধরনের প্রোডাক্ট একসাথে প্রমোট করলে সফলতা পাওয়া কঠিন।
  • প্ল্যাটফর্ম তৈরি করুন: আপনার নিশ অনুযায়ী একটি ব্লগ ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ/গ্রুপ তৈরি করুন।
  • কন্টেন্ট তৈরি করুন: পণ্যের রিভিউ, তুলনা (Comparison) বা “সেরা ৫টি গ্যাজেট” এই জাতীয় তথ্যবহুল কন্টেন্ট বা ভিডিও তৈরি করুন।
  • ট্রাফিক জেনারেট করুন: এসইও (SEO) বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনার কন্টেন্টে ভিজিটর নিয়ে আসুন।
  • লিংক যুক্ত করুন: কন্টেন্টের ভেতরে কৌশলে আপনার এফিলিয়েট লিংকটি বসিয়ে দিন।

৪. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রধান সুবিধাসমূহ

  • কোনো পুঁজি লাগে না: পণ্য কেনা, স্টক করা বা ডেলিভারি দেওয়ার কোনো ঝামেলা ও খরচ আপনার নেই।
  • প্যাসিভ ইনকাম: একবার একটি ভালো রিভিউ কন্টেন্ট বা ভিডিও র‍্যাংক করে গেলে, আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও সেখান থেকে বছরের পর বছর সেল এবং কমিশন আসতে পারে।
  • যেকোনো জায়গা থেকে কাজ: ইন্টারনেট সংযোগ ও একটি ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন থাকলেই এই কাজ করা সম্ভব।

৩. ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে পণ্য বিক্রয় (F-Commerce)

এফ-কমার্স (F-Commerce) বা ফেসবুক কমার্স হলো ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপকে ব্যবহার করে সরাসরি পণ্য বা সেবা বিক্রির একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা পদ্ধতি। বাংলাদেশে ই-কমার্সের বিশাল একটি অংশ এখন ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার মূল কৌশলগুলো নিচে দেওয়া হলো:


১. ফেসবুক পেজ সেটআপ ও প্রফেশনাল লুক

একটি পেজ খোলার পর ক্রেতার আস্থা অর্জনের জন্য এটিকে পেশাদারভাবে সাজাতে হবে:

  • লোগো ও ব্যানার: ব্র্যান্ডের নাম অনুযায়ী একটি পরিষ্কার লোগো এবং আপনার পণ্যের হাইলাইটসহ আকর্ষণীয় ব্যানার ডিজাইন করুন।
  • অ্যাবাউট সেকশন: পেজে আপনার ব্যবসার বিবরণ, সঠিক ঠিকানা এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর অবশ্যই যুক্ত করুন।
  • অটোমেটেড মেসেজ: ফেসবুকের ‘Automated Responses’ চালু রাখুন, যাতে ক্রেতা মেসেজ দেওয়া মাত্রই একটি স্বাগত বার্তা বা প্রাথমিক তথ্য (যেমন: ডেলিভারি চার্জ, অর্ডার করার নিয়ম) পেয়ে যান।

২. ফেসবুক গ্রুপের সঠিক ব্যবহার (কমিউনিটি বিল্ডিং)

শুধু পেজ দিয়ে বিক্রির চেয়ে গ্রুপ ব্যবহার করলে ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক অনেক মজবুত হয়:

  • কমিউনিটি তৈরি: পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী একটি গ্রুপ খুলুন (যেমন: শাড়ির ব্যবসা হলে ‘শাড়ি লাভার্স বিডি’)। সেখানে শুধু বিক্রির পোস্ট না দিয়ে কাপড়ের যত্ন, ট্রেন্ড ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করুন।
  • গ্রাহকের রিভিউ (UGC): সফল অর্ডারের পর ক্রেতাদের অনুরোধ করুন গ্রুপে পণ্যের ছবিসহ রিভিউ দিতে। অন্য নতুন ক্রেতারা এই রিভিউ দেখে পণ্য কিনতে উৎসাহিত হবেন।
  • লাইভ সেশন: গ্রুপে নিয়মিত লাইভ এসে সরাসরি পণ্যের মান ও ডিটেইলস দেখান। লাইভে ক্রেতাদের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিলে বিক্রি অনেক বাড়ে।

৩. ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে কন্টেন্ট মার্কেটিং

ফেসবুকে এখন ছবির চেয়ে ভিডিওর রিচ বা ভিউ অনেক বেশি পাওয়া যায়:

  • প্রোডাক্ট ডেমো ভিডিও: পণ্যটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় বা এটি দেখতে কেমন, তা নিয়ে ছোট ছোট ১-৩ মিনিটের ভিডিও বা রিলস (Reels) তৈরি করুন।
  • প্যাকিং ভিডিও: অর্ডার করা পণ্যগুলো আপনি কীভাবে যত্ন সহকারে প্যাক করছেন, তার বিহাইন্ড-দ্য-সিন (Behind the scenes) ভিডিও শেয়ার করুন। এটি ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
  • হাই-কোয়ালিটি ছবি: দিনের আলোতে পণ্যের আসল ছবি তুলুন। অতিরিক্ত এডিট করা বা ইন্টারনেট থেকে নামানো ছবি ব্যবহার করলে ক্রেতারা প্রতারিত বোধ করতে পারেন।

৪. বুস্টিং এবং অর্গানিক সেলস

ফেসবুকে দ্রুত কাস্টমার পাওয়ার জন্য পেইড মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয়:

  • টার্গেটেড অ্যাডস: ফেসবুক মেটা অ্যাডস ম্যানেজার (Meta Ads Manager) ব্যবহার করে আপনার পণ্যের সঠিক ক্রেতাদের (বয়স, এলাকা ও আগ্রহ অনুযায়ী) টার্গেট করে বুস্ট করুন।
  • মেসেজ ক্যাম্পেইন: এফ-কমার্সের জন্য ‘Messages’ অবজেক্টিভ রেখে বিজ্ঞাপন চালানো সবচেয়ে কার্যকর, কারণ বাঙালি ক্রেতারা ইনবক্সে কথা বলে কিনতে পছন্দ করেন।

৫. ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) ও লজিস্টিকস

বাংলাদেশে এফ-কমার্সের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হলো ডেলিভারি সিস্টেম:

  • ক্যাশ অন ডেলিভারি: ঢাকার ভেতরে এবং বাইরে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ (পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধ) সুবিধা রাখুন। শুরুতে ক্রেতারা অগ্রিম টাকা দিতে দ্বিধাবোধ করেন।
  • ডেলিভারি পার্টনার: বিশ্বস্ত কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের (যেমন: পাথাও, রেডেক্স, পেপারফ্লাই বা স্টিডফাস্ট) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলুন, যারা দ্রুত পণ্য পৌঁছাবে এবং আপনার টাকা ব্যাংকে বা বিকাশে পাঠিয়ে দেবে। [1]

৪. থার্ড-পার্টি লিংক শেয়ারিং ও ইউআরএল শর্টনারের মাধ্যমে আয়

আপনার ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে যদি প্রচুর একটিভ মেম্বার বা ট্রাফিক থাকে, তবে বিভিন্ন লিংক শেয়ার করার মাধ্যমেও আয় করা যায়।

ক. ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল (Instant Articles)

এটি ফেসবুকের একটি মোবাইল পাবলিশিং টুল। আপনার যদি একটি নিউজ সাইট বা ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে, তবে সেটির আর্টিকেল ফেসবুকের মাধ্যমে খুব দ্রুত লোড করানো যায়। এই আর্টিকেলের ভেতরে ফেসবুক নিজস্ব বিজ্ঞাপন দেখায় এবং তার বিনিময়ে ওয়েবসাইট মালিককে টাকা দেয়। (প্রতি ১,০০০ ভিজিটরে সাধারণত ১ থেকে ২ ডলার বা তার বেশি আয় হতে পারে)।

খ. ইউআরএল শর্টনার (Link Shortening)

যেকোনো বড় বা আকর্ষণীয় লিংক (যেমন: কোনো প্রয়োজনীয় ফাইল, সফটওয়্যার বা ব্রেকিং নিউজ) শর্টনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছোট করে ফেসবুকে শেয়ার করলে প্রতি ১,০০০ ক্লিকে সাধারণত ১ ডলার বা তার বেশি আয় হয়।

  • পপুলার লিংক শর্টনার ওয়েবসাইট: Linkvertise, Adshrink, Shrinkme, Shrinkearn, Clk.sh, Ouo.io, Adfly।
  • অন্যান্য পপ-আপ ও রেফারেল: বিভিন্ন সাইটের পপ-আপ অ্যাড থেকে প্রতি ১,০০০ ক্লিকে প্রায় ১.৫ ডলার এবং রেফারেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বন্ধুদের জয়েন করিয়ে তাদের আয়ের ১০% লাইফটাইম কমিশন পাওয়া সম্ভব।

৫. ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং, পেজ প্রমোশন ও পেজ সেলস

আপনার পেজে যখন লাখের ওপর রিয়েল বা একটিভ ফলোয়ার থাকবে, তখন আপনার পেজটি নিজেই একটি সম্পত্তিতে পরিণত হবে।

                  ┌────────────────────────────────────────┐
                  │     পেজ ট্রাফিক থেকে আয়ের ৩টি উপায়      │
                  └───────────────────┬────────────────────┘
                                      │
             ┌────────────────────────┼────────────────────────┐
             ▼                        ▼                        ▼
┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐
│     স্পন্সরড পোস্ট     ││  লাইক ও শেয়ার সার্ভিস  ││    পেজ কেনা-বেচা       │
│ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য ││ অন্য ছোট পেজ বা লিংকে  ││ ১ লক্ষ ফলোয়ারের একটি   │
│ রিভিউ বা প্রমোশন করা   ││  লাইক বাড়িয়ে দিয়ে আয়   ││  পেজ ভালো দামে বিক্রি  │
└────────────────────────┘└────────────────────────┘└────────────────────────┘
  • লাইক ও শেয়ার সার্ভিস: বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটার বা নতুন পেজ মালিকরা তাদের রিচ বাড়ানোর জন্য আপনার পেজে পোস্ট শেয়ার করতে বলবে। সাধারণত ১,০০০ লাইক বা রিচ এনে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কেটাররা ভালো অংকের টাকা চার্জ করে থাকেন, যা বড় পেজ মালিকদের জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের কাজ।
  • ফেসবুক পেজ বিক্রি: অনেকেরই অনেকগুলো পেজ বড় করার দক্ষতা থাকে। তারা এক বা একাধিক পেজে ১ লক্ষ বা তার বেশি লাইক এনে সেই পেজগুলো বিভিন্ন ই-কমার্স বা বিজনেস কোম্পানির কাছে ভালো দামে বিক্রি করে দেন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত টিপস

ফেসবুক থেকে সফলভাবে আয় করতে হলে প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ধৈর্য এবং নিয়মিত কন্টেন্ট দেওয়া। প্রতিদিন স্ক্রোল করে ৩ ঘণ্টা সময় নষ্ট না করে, আজই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর (যেমন: রান্না, গ্যাজেট রিভিউ, ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন বা ট্রাভেল) ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ তৈরি করুন এবং প্রফেশনাল নিয়মে কাজ শুরু করুন।

নির্ভরযোগ্য আইটি ও ডিজিটাল মার্কেটিং রিসোর্স (Sources)

১. মেটা ফর ক্রিয়েটরস গাইডলাইনস (Meta for Creators Official): ইন-স্ট্রিম অ্যাডস, রিলস বোনাস এবং ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন পলিসি সংক্রান্ত অফিশিয়াল আপডেট।

২. অ্যাডসেন্স ও ব্লগিং নেটওয়ার্ক ফোরাম (Digital Marketing Reputed Hubs): ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এবং ইউআরএল শর্টনারের রেট ও ইসিপিএম (eCPM) ট্র্যাকিং গাইড।

ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাডভান্সড এসইও এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বিজনেস গ্রোথ সংক্রান্ত যেকোনো প্রফেশনাল পরামর্শের জন্য ভিজিট করতে পারেন আমার ওয়েবসাইট: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে ফ্রিতে আয়

নিউজ ডেস্ক

June 13, 2026

শেয়ার করুন

বিজনেস ও ক্যারিয়ার ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬

ডিজিটাল যুগে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার না থাকলেও শুধুমাত্র একটি ভালো স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে ঘরে বসেই চমৎকার ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। তবে শুরুতেই একটি বাস্তব সত্য মনে রাখা জরুরি—অনলাইনে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার কোনো শর্টকাট বা জাদু নেই। সহজ কাজগুলোতে প্রতিযোগিতা বেশি এবং আয় কিছুটা কম, অন্যদিকে দক্ষতার কাজগুলোতে আয় ও ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব অনেক বেশি।

কোনো প্রকার ইনভেস্টমেন্ট বা টাকা খরচ না করে সম্পূর্ণ ফ্রিতে মোবাইল ফোন দিয়ে আয় করার প্রধান উপায়গুলো এবং দুটি ট্রেন্ডিং কাজের ধাপে ধাপে গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:

১. মোবাইল দিয়ে আয় করার প্রধান ও কার্যকরী মাধ্যমসমূহ

ক. কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও সোশ্যাল মিডিয়া (Content Creation):

মোবাইল দিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:

কনটেন্ট ক্রিয়েশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য দামি ক্যামেরা বা স্টুডিওর প্রয়োজন নেই। আপনার হাতের মোবাইলটিই যথেষ্ট।

  • নিশ (Category) নির্বাচন: প্রথমে ঠিক করুন আপনি কোন বিষয়ে ভিডিও বানাবেন। যেমন: রান্না (Cooking), গ্যাজেট রিভিউ (Tech), ভ্রমণ (Vlogging), লাইফস্টাইল বা শিক্ষামূলক (Educational) তথ্য।
  • ভিডিও তৈরি ও এডিটিং:
    • আলোর জন্য দিনের বেলা জানালার পাশে বসে ভিডিও শুট করতে পারেন।
    • পরিষ্কার সাউন্ডের জন্য একটি কমদামী বয়া (Boya BY-M1) মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারেন।
    • মোবাইলের CapCut বা InShot অ্যাপ দিয়ে ভিডিওর অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং টেক্সট যুক্ত করুন।
  • ভিডিওর ফরম্যাট: শুরুতেই বড় ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব শর্টস (YouTube Shorts), ফেসবুক রিলস (Facebook Reels) এবং টিকটক (TikTok)-এর জন্য ১ মিনিটের খাড়া (Vertical 9:16) ভিডিও বানান। এগুলো খুব দ্রুত নতুন মানুষের কাছে পৌঁছায়।

২. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় (Social Media Monetization)

আপনার তৈরি করা কনটেন্ট বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে যেভাবে আয় করবেন:

  • ফেসবুক পেজ ও রিলস: ফেসবুকে একটি প্রফেশনাল পেজ খুলুন। আপনার রিলস ভিডিওতে ভালো ভিউ হলে ফেসবুক আপনাকে ‘Ads on Reels’ বা ‘In-stream Ads’-এর মাধ্যমে মনিটাইজেশন দেবে, যার পর ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় হবে।
  • ইউটিউব চ্যানেল: একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিয়মিত শর্টস এবং বড় ভিডিও আপলোড করুন। ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং নির্দিষ্ট ওয়াচ টাইম বা শর্টস ভিউ পূর্ণ হলে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম থেকে প্রতি মাসে ডলার আয় করা সম্ভব।
  • স্পন্সরশিপ (Sponsorship): আপনার পেজ বা চ্যানেলে যখন ভালো পরিমাণের ফলোয়ার তৈরি হবে, তখন বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা দোকান তাঁদের প্রোডাক্টের প্রচারের জন্য আপনাকে টাকা দেবে।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং

আপনার নিজের পেজ ছাড়াও, আপনি অন্য কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Facebook, Instagram) পরিচালনা করে মোবাইল দিয়েই আয় করতে পারেন।

  • কাজগুলো কী কী?: পেজের ইনবক্সে কাস্টমারের মেসেজের উত্তর দেওয়া, নিয়মিত পোস্ট বা রিলস আপলোড করা এবং কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়া।
  • কাজ পাওয়ার উপায়: ফেসবুকের বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং গ্রুপে অথবা দেশীয় ছোট-বড় ই-কমার্স পেজে মেসেজ করে আপনি তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিতে পারেন।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনের প্রধান শর্ত হলো ধৈর্য এবং নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা। সপ্তাহে অন্তত ৩-৪টি ভিডিও নিয়মিত আপলোড করলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

গ. স্টক ফটোগ্রাফি (ছবি বিক্রি):

আপনার মোবাইলের ক্যামেরা যদি ভালো হয় এবং আপনার যদি ফটোগ্রাফির হাত থাকে, তবে দৈনন্দিন জীবন, প্রকৃতি বা উৎসবের ছবি তুলে Shutterstock, Adobe Stock বা Getty Images-এ আপলোড করে রাখতে পারেন। প্রতিবার আপনার ছবি ডাউনলোড হলে আপনি নির্দিষ্ট ডলার (রয়্যালটি) পাবেন।

২. মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং শেখা ও আয়ের গাইডলাইন

মোবাইল দিয়ে প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিটিং শেখা এবং তা থেকে আয় করার একটি সম্পূর্ণ রোডম্যাপ নিচে দেওয়া হলো:

১. ভিডিও এডিটিং শেখার সহজ ধাপ

মোবাইলে ভিডিও এডিটিং শেখার জন্য ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের কোনো প্রয়োজন নেই। শুরু করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • সেরা অ্যাপ ইনস্টল করুন: গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে CapCut অথবা KineMaster অ্যাপটি নামিয়ে নিন। নতুনদের জন্য CapCut সবচেয়ে সহজ এবং শক্তিশালী।
  • বেসিক টুলস শিখুন: ইউটিউবে গিয়ে “CapCut Mobile Video Editing Tutorial Bangla” লিখে সার্চ করুন। প্রথমে নিচের বেসিক কাজগুলো আয়ত্ত করুন:
    • ট্রিমিং ও স্প্লিটিং: ভিডিওর অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে বাদ দেওয়া।
    • অডিও ও ভয়েসওভার: ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করা এবং নিজের গলা রেকর্ড করা।
    • টেক্সট ও সাবটাইটেল: ভিডিওর নিচে আকর্ষণীয় বাংলা বা ইংরেজি ফন্ট ব্যবহার করে ক্যাপশন লেখা।
    • ট্রানজিশন ও কাট: এক ক্লিপ থেকে অন্য ক্লিপে যাওয়ার সময় সুন্দর ইফেক্ট ব্যবহার করা।
  • কপিরাইট-ফ্রি রিসোর্স ব্যবহার: ভিডিওতে কখনো অন্যের মিউজিক বা ফুটেজ সরাসরি ব্যবহার করবেন না। ফ্রি মিউজিকের জন্য YouTube Audio Library এবং ফ্রি ভিডিওর জন্য Pexels বা Pixabay ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

২. মোবাইল ভিডিও এডিটিং দিয়ে আয় করার উপায়

ভিডিও এডিটিং শেখার পর আপনি প্রধানত ৩টি উপায়ে মোবাইল দিয়ে আয় করতে পারবেন:

  • ফেসবুক রিলস ও ইউটিউব শর্টস (নিজস্ব কনটেন্ট): বর্তমানে ছোট ১ মিনিটের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। আপনার যেকোনো পছন্দের বিষয়ে (যেমন: রান্না, ভ্রমণ, গ্যাজেট রিভিউ বা মোটিভেশনাল ভয়েসওভার) প্রতিদিন ১টি করে রিলস বা শর্টস ভিডিও এডিট করে আপলোড করুন। পেজ বা চ্যানেল মনিটাইজ হলে ভিউ অনুযায়ী প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় হবে।
  • দেশীয় ক্লায়েন্টদের কাজ করা: বাংলাদেশের অনেক ছোট-বড় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফেসবুক পেজ অনার এবং অনলাইন ব্যবসায়ী আছেন যারা প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করেন কিন্তু এডিট করার সময় পান না। আপনি তাঁদের সাথে যোগাযোগ করে প্রতি ভিডিওর বিনিময়ে (যেমন: ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা) কাজ করতে পারেন।
  • ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম: ফ্রিল্যান্সিং সাইট যেমন Fiverr বা Upwork-এ “Mobile Video Editor” বা “TikTok/Reels Editor” লিখে সার্চ করলে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। বিদেশি ক্লায়েন্টরা ছোট ভিডিওর জন্য ভালো ডলার পে করে থাকে, যা মোবাইল দিয়েই করা সম্ভব।

৩. কাজ শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ

আজই শুরু করতে চাইলে প্রথমে নিজের মোবাইল দিয়ে যেকোনো ১ মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড করুন। তারপর CapCut অ্যাপে গিয়ে সেটিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও টেক্সট বসিয়ে এডিট করার চেষ্টা করুন। এভাবে ৫-১০টি ডেমো ভিডিও বানিয়ে নিজের কাছে জমা রাখুন (যা ক্লায়েন্টকে স্যাম্পল হিসেবে দেখাতে পারবেন)।

৩. মোবাইল দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায়

মোবাইল দিয়ে ১ টাকাও ইনভেস্ট না করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার সম্পূর্ণ প্রাকটিক্যাল গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:

১. নিশ (Category) এবং প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন

শুরুতেই সব ধরণের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ না করে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা নিশ বেছে নিন (যেমন: গ্যাজেট, রূপচর্চার পণ্য, বই বা রান্নাঘরের জিনিসপত্র)। এরপর আপনার মোবাইল দিয়ে একটি ফেসবুক পেজ, গ্রুপ অথবা একটি টিকটক/ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন যেখানে আপনি এই পণ্যের প্রচার করবেন।

২. ফ্রি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া

বাংলাদেশে মোবাইল দিয়ে কাজ করার জন্য সবচেয়ে সেরা দুটি প্ল্যাটফর্ম হলো:

  • দারাজ অ্যাফিলিয়েট (Daraz Affiliate Program): বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স। এদের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে ফ্রিতে সাইন-আপ করা যায়।
  • বিডিশপ অ্যাফিলিয়েট (BDShop Affiliate): গ্যাজেট এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য এটি দারুণ।

আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করতে চাইলে আপনি Amazon Associates-এ যুক্ত হতে পারেন। যুক্ত হওয়ার পর আপনি যেকোনো প্রোডাক্টের একটি নির্দিষ্ট “অ্যাফিলিয়েট লিংক” তৈরি করার অ্যাক্সেস পাবেন।

৩. কনটেন্ট তৈরি ও লিংক শেয়ার (মোবাইল ট্রিকস)

সরাসরি লিংক শেয়ার করলে কেউ পণ্য কিনবে না। আপনাকে মানুষের কাছে পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে:

  • ভিডিওর মাধ্যমে: ইউটিউব বা ফেসবুক থেকে কোনো ট্রেন্ডিং গ্যাজেটের ভিডিও ক্লিপ ডাউনলোড করুন। এরপর CapCut অ্যাপ দিয়ে সেটি এডিট করে ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের ভয়েস ওভার দিন (যেমন: “৫টি গ্যাজেট যা আপনার প্রতিদিনের জীবন সহজ করে দেবে”)। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে বা ডেসক্রিপশনে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকটি দিয়ে দিন। [
  • সমস্যার সমাধান দিয়ে: ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে পোস্ট লিখতে পারেন—“অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন? এই ৫টি তেল ব্যবহার করে দেখতে পারেন।” নিচে তেলের রিভিউ দিয়ে দারাজের লিংক যুক্ত করে দিন।

৪. ট্রাফিক বা কাস্টমার পাওয়ার সহজ উপায়

  • বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে মানুষ যখন কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ বা সন্ধান চায়, সেখানে সুন্দর করে মন্তব্য করে আপনার লিংকটি সাজেস্ট করুন।
  • ফেসবুক রিলস এবং টিকটকে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করুন, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো ফ্রিতে হাজার হাজার মানুষের কাছে ভিডিও পৌঁছে দেয়।

৫. কমিশন ও টাকা উত্তোলন

আপনার শেয়ার করা লিংকে ক্লিক করে আগামী ৭ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কেউ যদি ওই ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো কিছু কেনে, তবে আপনি মূল দামের ৩% থেকে ১০% পর্যন্ত কমিশন পাবেন। মাস শেষে এই জমানো টাকা সরাসরি আপনার বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বিকাশের মাধ্যমে তুলে নিতে পারবেন।

বিশেষ সতর্কতা: অনলাইন স্ক্যাম ও প্রতারণা থেকে বাঁচুন

অনলাইনে মোবাইল দিয়ে আয় করার খোঁজে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। স্ক্যামাররা মানুষের সহজ উপার্জনের ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। অনলাইন স্ক্যাম ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে নিচের বিষয়গুলো সবসময় মাথায় রাখবেন:

১. যেসব কাজ দেখলেই সতর্ক হবেন (রেড ফ্ল্যাগ)

  • রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাকাউন্ট খোলার ফি: কোনো প্রকৃত চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য শুরুতেই টাকা দিতে হয় না। যদি কোনো সাইট বলে, “অ্যাক্টিভেশন ফি” বা “সিকিউরিটি ডিপোজিট” হিসেবে ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিন—তবে সেটি ১০০% ভুয়া।
  • টাস্ক কমপ্লিট বা অ্যাড দেখা (MLM স্ক্যাম): “প্রতিদিন ১০টি ভিডিও বা বিজ্ঞাপন দেখলে ২০০ টাকা পাবেন” কিংবা “৩ জন বন্ধুকে রেফার করলে বোনাস পাবেন”—এই ধরনের সাইটগুলো (যেমন: রিং আইডি, এমটিএফই, বা বিভিন্ন পিটিসি সাইট) মূলত পঞ্জি স্কিম বা এমএলএম। এরা শুরুতে কিছু টাকা দিলেও হঠাৎ করে সবার আসল টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
  • বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ লাভ: “বিকাশে ৫০০০ টাকা ইনভেস্ট করুন, মাস শেষে ১০,০০০ টাকা পাবেন”—এমন লোভনীয় অফার সম্পূর্ণ প্রতারণা।

২. প্রতারণার নতুন কিছু কৌশল (২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট)

  • টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ টাস্ক স্ক্যাম: হ্যাকাররা মেসেজ দিয়ে বলে, “ইউটিউব ভিডিও লাইক করলে বা গুগলে রিভিউ দিলে প্রতিটির জন্য ৫০ টাকা পাবেন।” শুরুতে তারা কিছু টাকা দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে, এরপর বড় টাকা ইনভেস্ট করতে বলে এবং পরে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়।
  • ভুয়া ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ ও সাইট: হুবহু আসল ট্রেডিং সাইটের মতো দেখতে ভুয়া অ্যাপ বা ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষকে টাকা ডিপোজিট করতে বাধ্য করা হয়।
  • বিদেশে পার্ট-টাইম জবের অফার: নামী-দামী কোম্পানির (যেমন: অ্যামাজন বা দারাজ) নাম ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগপত্র বা মেসেজ পাঠানো হয়।

৩. নিরাপদ থাকার উপায়

  • কোম্পানির সত্যতা যাচাই: কোনো অ্যাপ বা সাইটে কাজ করার আগে গুগলে বা ইউটিউবে গিয়ে “Company Name + Scam” বা “Company Name + Review” লিখে সার্চ করে অন্য মানুষের অভিজ্ঞতা দেখে নিন।
  • ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ব্যাংকের তথ্য বা ওটিপি (OTP) পাসওয়ার্ড কখনো কোনো অপরিচিত অ্যাপ বা লিংকে দেবেন না। [
  • অযৌক্তিক লোভ পরিহার: মনে রাখবেন, যেখানেই পরিশ্রম ছাড়া বা দক্ষতা ছাড়া “সহজে এবং দ্রুত” অনেক টাকা আয়ের সুযোগ দেখাবে, সেখানেই প্রতারণার ফাঁদ রয়েছে।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পরামর্শ

শুরুতেই সব কাজে একসাথে হাত না দিয়ে যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিন। আপনার যদি সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলা বা লেখার অভ্যাস থাকে, তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর আপনার যদি টেকনিক্যাল কাজে এবং সৃজনশীলতায় আগ্রহ থাকে, তবে ভিডিও এডিটিং বেছে নেওয়াটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত চর্চা ও ধৈর্যই আপনাকে এই সেক্টরে সফল করে তুলবে।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. দারাজ ও বিডিশপ অ্যাফিলিয়েট পলিসি: বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (e-CAB) এবং দেশীয় অ্যাফিলিয়েট প্ল্যাটফর্মগুলোর অফিসিয়াল গাইডলাইন ও পেমেন্ট মেকানিজম।

২. গুগল প্লে স্টোর ও ক্রিয়েটর ইকোনমি রিপোর্ট: মোবাইল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ্লিকেশন ও গ্লোবাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের পরিসংখ্যান।

অনলাইন ক্যারিয়ার, ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন এবং সঠিক টেকনোলজি টিপস ও তথ্যমূলক বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক

নিউজ ডেস্ক

June 12, 2026

শেয়ার করুন

অর্থনীতি ও জাতীয় নীতি বিশ্লেষণ | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬

জাতীয় বাজেট কেবল কিছু শুষ্ক সংখ্যার হিসাব কিংবা আয়-ব্যয়ের খতিয়ান নয়, এটি একটি দেশের রাজনৈতিক দর্শন, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক পরিস্থিতির এক একটি জীবন্ত দলিল। বাংলাদেশের বাজেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছর একটি অত্যন্ত অনন্য, জটিল এবং ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক (আজিজুর রহমান মল্লিক) কর্তৃক উপস্থাপিত এই বাজেটটি যেমন ছিল আকারের দিক থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের একটি সাহসী পদক্ষেপ, তেমনি এর ভেতরের অর্থনৈতিক কৌশল এবং উপস্থাপনা শৈলীও ছিল রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য নজির।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন প্রথম দশকের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন বাজেটের দর্শন এবং মেকানিজম ছিল এক রকম। আর আজ ২০২৬ সালের জুন মাসে দাঁড়িয়ে যখন দেশের নতুন অর্থবছর (২০২৬-২৭)-এর প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসেছে এক মহাকাব্যিক পরিবর্তন। ড. এ. আর. মল্লিকের সেই ১,৫৪৯.৪৮ কোটি টাকার বাজেট এবং ২০২৬ সালের জুনে ঘোষিত বর্তমান সরকারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার (৯.৩৮ ট্রিলিয়ন) মেগা বাজেটের মধ্যে একটি নিবিড় তুলনামূলক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. এক নজরে দুই বাজেটের মূল উপাত্ত ও সংখ্যাতাত্ত্বিক তুলনা

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের বাজেট কেবল আকারেই বাড়েনি, বরং এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও অর্থনীতির ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। নিচে একটি তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:

অর্থনৈতিক নির্দেশক (Indicators)১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেট২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটপরিবর্তনের ধরন ও রূপান্তর
বাজেটের মোট আকার১,৫৪৯.৪৮ কোটি টাকা৯,৩৮,০০০ কোটি টাকা (৯.৩৮ ট্রিলিয়ন)প্রায় ৬০৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উন্নয়ন বাজেট (ADP)প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা২,৩০,০০০ কোটি টাকার বেশি (চলতি মেয়াদে)ভৌত এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশাল বরাদ্দ বৃদ্ধি।
রাজস্ব/অনুন্নয়ন ব্যয়প্রায় ৫৯৯.২৪ কোটি টাকা৬,০৮,০০০ কোটি টাকা (অনূমিত)রাষ্ট্রীয় পরিচালনা ও সেবার পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি।
বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমসংসদে সরাসরি সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় পঠিত।মাল্টিমিডিয়া ও আধুনিক ডাটা অ্যানালিটিক্সসহ চলিত ভাষায়।আভিজাত্য বনাম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
মূল অর্থনৈতিক দর্শনযুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও সমাজতান্ত্রিক ত্রাণ-ভিত্তিক।মুক্তবাজার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমি লক্ষ্য।বেঁচে থাকার লড়াই থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন।

২. গভীর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ (Macroeconomic Analysis)

ক. স্বনির্ভরতা বনাম বৈদেশিক নির্ভরতার চিত্র বদল:

  • ১৯৭৫-৭৬ এর চিত্র: তৎকালীন সময়ে ড. এ. আর. মল্লিকের উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগই (প্রায় ৭৫% থেকে ৮০%) আসত বৈদেশিক সাহায্য, অনুদান এবং বিদেশী ঋণের মাধ্যমে। বাংলাদেশ তখন সম্পূর্ণ “সাহায্য-নির্ভর” (Aid-dependent) একটি দেশ ছিল। নিজস্ব সম্পদ সীমিত থাকায় বৈশ্বিক দাতাগোষ্ঠীর সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করত।
  • ২০২৬ এর চিত্র: বর্তমানের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, বাজেটের সিংহভাগ অর্থই এখন দেশের নিজস্ব কর (NBR Tax) এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে। বৈদেশিক ঋণ এখন বাজেটের ঘাটতি পূরণের একটি সহায়ক মাধ্যম মাত্র (ঘাটতি প্রাক্কলন ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা), যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে কতটা স্বাবলম্বী।

খ. ব্যয়ের অগ্রাধিকার পরিবর্তন (Sectoral Shifts):

  • ১৯৭৫-৭৬ এর অগ্রাধিকার: সেই সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের খাদ্য ঘাটতি দূর করা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই বাজেটে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে। এর পাশাপাশি ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা (রেলওয়ে ও ব্রিজ) মেরামতের জন্য বড় অংকের বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
  • ২০২৬ এর অগ্রাধিকার: ২০২৬ সালের বাজেটে শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়নি। এখনকার বড় বরাদ্দ যায় মেগা অবকাঠামো (পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি সেক্টর) এবং সামাজিক security বা নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ এখন উন্নত ও স্মার্ট অবকাঠামো বিনির্মাণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

গ. জীবনযাত্রার মান ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:

১৯৭৫ সালের ১,৫৪৯ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল পার্থক্যের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হলো দেশের জিডিপি (GDP)-র আকার বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)। ১৯৭৫ সালে যে পণ্যটির দাম ছিল ১ টাকা, মুদ্রাস্ফীতির কারণে আজ তার মূল্য বহু গুণ বেড়েছে। তবে একই সাথে মানুষের মাথাপিছু আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই রাষ্ট্র আজ এত বড় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সাহস দেখাতে পারছে।

৩. বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম: সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় বাজেট বক্তৃতা

বাংলাদেশের বাজেট বক্তৃতার ইতিহাসে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেটটি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে এর ভাষারীতি ও উপস্থাপন শৈলীর কারণে।

  • ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পুরো বাজেট বক্তৃতাটি সম্পূর্ণ সাধু ভাষায় পেশ করেছিলেন।
  • ভাষাগত গাম্ভীর্য: সাধারণত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিবরণী চলিত ভাষায় পেশ করা হলেও, ড. মল্লিক বাংলা ভাষার তৎকালীন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাকরণগত আভিজাত্য বজায় রেখে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ সাধু ভাষায় এই বাজেট উপস্থাপন করেন, যা দেশের সংসদীয় ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি স্থায়ী ব্যতিক্রমী রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়।

৪. political বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও এই বাজেটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের এই বাজেটটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম এবং স্পর্শকাতর পটপরিবর্তনের সাক্ষী।

  • বাজেট পেশের সময়কাল: ড. এ. আর. মল্লিক এই বাজেটটি পেশ করেছিলেন ১৯৭৫ সালের জুন মাসে। এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) সরকারের সময়কার শেষ বাজেট।
  • বাস্তবায়নের সময়কাল: বাজেটটি পাস হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায়, অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। ফলে, ড. মল্লিকের পেশ করা এই বাজেটটি প্রণয়ন হয়েছিল এক রাজনৈতিক দর্শনে, কিন্তু এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটেছিল ১৫ আগস্ট পরবর্তী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। এই কারণেও এই বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘উত্তাল মেয়াদের বাজেট’ বলা হয়।

৫. রাজনৈতিক দর্শন ও শাসন ব্যবস্থার রূপান্তর

  • ১৯৭৫-৭৬ এর প্রেক্ষাপট: সেটি ছিল যুদ্ধোত্তর রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং পরবর্তীতে এক উত্তাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের বছর। রাষ্ট্র তখন সমাজতান্ত্রিক ধারার অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সচল ছিল।
  • ২০২৬ এর প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালের নতুন সরকার ও বাজেট সম্পূর্ণ মুক্তবাজার অর্থনীতি (Free-market economy) এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। এখনকার মূল দর্শন হলো “অর্থনৈতিক লোকসানি রাষ্ট্র” থেকে বের হয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা।

পরিচিতি: অর্থমন্ত্রী ড. এ. আর. মল্লিক

ড. আজিজুর রহমান মল্লিক (ড. এ. আর. মল্লিক) ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ এবং কুশলী টেকনোক্র্যাট।

  • তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (Founder Vice-Chancellor) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসে (বিশেষ করে ভারতে) ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে এবং তহবিল সংগ্রহে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
  • দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি প্রথমে共和国 বা প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ আমলা (যুগ্ম-সচিব ও রাষ্ট্রদূত) এবং পরবর্তীতে টেকনোক্র্যাট কোটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন

১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের ১,৫৪৯ কোটি টাকার বাজেটটি যদি বাংলাদেশের শৈশবকালীন “হামাগুড়ি” দেওয়ার গল্প হয়, তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটটি হলো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের “সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দৌড়ানোর” প্রত্যয়। ভাষার আভিজাত্য থেকে শুরু করে ডলারের অঙ্কে রূপান্তর—সব মিলিয়ে এই দুই বাজেটের ব্যবধান আসলে একটি তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী ও উদীয়মান অর্থনৈতিক সিংহ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের ৫০ বছরের জীবন্ত ইতিহাস। ড. এ. আর. মল্লিকের সেই সাধু ভাষার বাজেট বক্তৃতা এবং এর পেছনের রাজনৈতিক ওঠানামা প্রমাণ করে যে, আমাদের জাতীয় বাজেট কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইতিহাসের এক একটি বাঁক বদলের গল্প।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আর্কাইভ: স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ থেকে শুরু করে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট ও অর্থমন্ত্রীদের বক্তৃতা সংকলন এবং বার্ষিক প্রতিবেদন।

২. জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পরিকল্পনা কমিশন রেকর্ডস: ঐতিহাসিক সংসদীয় কার্যবিবরণী, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ১৯৭৫ সালের অর্থ বিলের নথিপত্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঐতিহাসিক ডাটাবেজ।

দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, জাতীয় বাজেট এবং সমসাাময়িক ভূ-রাজনীতির এমন সব গভীর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ