খেলাধুলা
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লুইজ দিয়াজের গোল, আলমাদার জবাব: কলম্বিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল আর্জেন্টিনা
বুয়েনস আয়ার্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। লুইজ দিয়াজের অসাধারণ একক প্রচেষ্টা আর থিয়াগো আলমাদার সমতায় ফেরানো গোলে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের নিষ্পত্তি হলো পয়েন্ট ভাগাভাগিতে।
⚽ ম্যাচের ফলাফল:
| দল | গোল |
|---|---|
| আর্জেন্টিনা | ১ (আলমাদা – ৮১’) |
| কলম্বিয়া | ১ (লুইজ দিয়াজ – ২৪’) |
📝 প্রথমার্ধ: দিয়াজের জাদুকরী গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে আধিপত্য দেখালেও, আক্রমণে ছন্দে ছিল কলম্বিয়া।
২৪তম মিনিটে দুর্দান্ত একক চেষ্টায় আর্জেন্টিনার তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন লুইজ দিয়াজ।
এরপর আর্জেন্টিনা মেসি, আলভারেজ ও অন্যান্যদের মাধ্যমে আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।
🔁 দ্বিতীয়ার্ধ: উত্তেজনা, লাল কার্ড ও সমতা
- দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি বাড়ালেও, কেভিন মিয়ার ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর।
- ৬৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক অসাধারণভাবে সেভ করেন তিনি।
- ৭০তম মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজ পা তুলে বল নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের মাথায় আঘাত করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
মেসি মাঠ ছাড়েন ৭৮ মিনিটে, আর তাঁর বিদায়ের তিন মিনিট পরেই গোল পায় আর্জেন্টিনা।
- ৮১ মিনিটে থিয়াগো আলমাদা দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান।
- শেষ মুহূর্তে দুই দলই জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে, তবে ফলাফল বদলায়নি।
📊 পয়েন্ট টেবিল (CONMEBOL বিশ্বকাপ বাছাই)
| দল | ম্যাচ | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| আর্জেন্টিনা | ১৬ | ৩৫ | 🥇 ১ম |
| কলম্বিয়া | ১৬ | ২২ | ৬ষ্ঠ |
🧠 ট্যাকটিক্যাল হাইলাইটস:
- আর্জেন্টিনা বল দখলে আধিপত্য রাখলেও ফিনিশিং ব্যর্থতা ও রক্ষণে ভুল খরচ করেছে পয়েন্ট
- কলম্বিয়ার কাউন্টার অ্যাটাক এবং গোলরক্ষক মিয়ারের দৃঢ়তা ম্যাচে পার্থক্য গড়েছে
- লাল কার্ডের পর মেসিকে উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে
- প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
- আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পাল্স বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষণ: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে একটি প্রশ্ন চিরকালই অমীমাংসিত—যুক্তরাষ্ট্র কেন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এতটা মরিয়া? এটি কি কেবলই একটি আদর্শিক লড়াই, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গাণিতিক বা দার্শনিক সমীকরণ?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘পারপেচুয়াল পিস’ (Perpetual Peace)-এ বর্ণিত ‘ডেমোক্রেটিক পিস থিওরি’ বা ‘গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্বে’। বিল ক্লিনটন থেকে শুরু করে জো বাইডেন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রভাবশালী প্রেসিডেন্টই এই তত্ত্বের ওপর গভীর আস্থা পোষণ করেছেন।
কেন গণতান্ত্রিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে না?

ডেমোক্রেটিক পিস থিওরির মূল কথা হলো—বিশ্বে যত বেশি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র থাকবে, বিশ্ব তত বেশি শান্তিপূর্ণ হবে। কেন? এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে:
১. জনমতের শক্তিশালী দেয়াল (Institutional Constraints)

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার উৎস জনগণ। যেহেতু যুদ্ধের ফলে জানমালের ক্ষতি সাধারণ মানুষেরই হয়, তাই তারা সরকারকে যুদ্ধে জড়াতে বাধা দেয়। সরকারকে টিকে থাকতে হয় জনগণের ভোটে, তাই তারা জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধের মতো ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। স্বৈরতন্ত্রে জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করা হয় না বলে সেখানে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ।
২. উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও অর্থনৈতিক ব্যয় (Economic Stability)

গণতান্ত্রিক সরকারকে নির্বাচনে জেতার জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। যুদ্ধের পেছনে অর্থ ব্যয় করলে এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, যা সরকারের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেয়। ফলে সরকার তার জনসমর্থন হারানোর ভয়ে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে চলায় মনোযোগী থাকে।
৩. অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা (Economic Interdependence)

বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিটি দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যখন অন্য রাষ্ট্রের সাথে মুক্ত বাজার ও বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে, তখন যুদ্ধ মানেই নিজের বাজারের মৃত্যু। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘকাল শান্তি বজায় থাকার প্রধান কারণ হলো তাদের এই গভীর অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক বন্ধন।
তত্ত্বের আধুনিক পরিমণ্ডল ও সমালোচনা
আপনার এই বিশ্লেষণের সাথে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যোগ করা যেতে পারে যা বিষয়টিকে আরও সমৃদ্ধ করবে:
- স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস (Transparency): গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ হয়। ফলে অন্য দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি বা শান্তিচুক্তি সহজে বিশ্বাস করতে পারে। অগণতান্ত্রিক দেশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া গোপন থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবসময় ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ (Security Dilemma) কাজ করে।
- কাঠামোগত ভারসাম্য (Check and Balance): গণতন্ত্রে বিচার বিভাগ, সংসদ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম থাকে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শাসককে একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধা দেয়।
- সমালোচনা: অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় ‘গণতন্ত্র’ প্রচারের আড়ালে নিজেদের প্রভাব বলয় (Sphere of Influence) বিস্তার করতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কৌশলগত স্বার্থে তারা অগণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বা একনায়কতান্ত্রিক দেশের সাথেও ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক রাখে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ:
যুক্তরাষ্ট্রের এই গণতন্ত্র প্রচারের নেশা কেবল আদর্শিক নয়, বরং এটি অত্যন্ত সুকৌশলী এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা। ইমানুয়েল কান্টের সেই চিরায়ত শান্তি তত্ত্ব আজও বিশ্ব রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। আধুনিক বিশ্ব রাজনীতিতে এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বন্যা পৃথিবীর অন্যতম সাধারণ কিন্তু ভয়াবহ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যখন কোনো এলাকায় অতিরিক্ত পানি জমে শুষ্ক ভূমি প্লাবিত হয়, তখনই তাকে বন্যা বলা হয়। নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের পানি স্বাভাবিক সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া অথবা অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পারার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আজকের প্রতিবেদনে আমরা বন্যার কারণ, এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব এবং প্রতিকারের উপায় নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করবো।
১. বন্যা হওয়ার প্রধান কারণসমূহ

বন্যা কোনো একক কারণে হয় না; এর পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় কারণই দায়ী।
ক) প্রাকৃতিক কারণ:
- অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত: স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টি হলে মাটি তা শোষণ করতে পারে না এবং জলাশয়গুলো উপচে পড়ে।
- নদীগর্ভ ভরাট হওয়া: পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়।
- বরফ গলা পানি: গ্রীষ্মকালে হিমালয়ের মতো উঁচু পর্বতের বরফ গলা পানি যখন সমতলে নেমে আসে, তখন বড় নদীগুলোতে বন্যা দেখা দেয়।
- ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সমুদ্রের লোনা পানি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
খ) মানবসৃষ্ট কারণ:

- অপরিকল্পিত নগরায়ন: খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ পায় না, ফলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
- বনভূমি উজাড়: গাছপালা বৃষ্টির পানি শোষণে সাহায্য করে। বন কেটে ফেলার ফলে পানি সরাসরি ঢল হিসেবে নেমে আসে এবং মাটি ক্ষয় করে নদী ভরাট করে ফেলে।
- ভুল নদী ব্যবস্থাপনা: নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে অপরিকল্পিত বাঁধ বা রাস্তা নির্মাণ করলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
২. বন্যার ইতিবাচক দিক বা উপকারিতা

বন্যা কেবল ক্ষতিই করে না, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে:
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: বন্যার সাথে আসা পলি মাটি কৃষিজমিতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তী মৌসুমে ফলন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূরণ: বন্যার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় তা চুইয়ে মাটির নিচে যায়, যা আমাদের পানযোগ্য পানির (Groundwater) স্তর উপরে তুলে আনে।
- মৎস্য সম্পদের বিকাশ: বন্যার ফলে নদ-নদীর মাছ বিল ও প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়, যা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক।
- বর্জ্য নিষ্কাশন: বন্যার প্রবল স্রোত নদীর তলদেশে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে সাগরে নিয়ে যায়, ফলে নদী পরিষ্কার হয়।
৩. বন্যার নেতিবাচক দিক বা অপকারিতা

বন্যার ধ্বংসাত্মক রূপটি আমাদের সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ:
- জানমালের ক্ষতি: ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো ধসে পড়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয় এবং অনেক সময় প্রাণহানি ঘটে।
- কৃষি বিপর্যয়: চলন্ত ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয় এবং দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
- বিশুদ্ধ পানির অভাব: বন্যার পানি সুপেয় পানির উৎস (যেমন টিউবওয়েল) দূষিত করে ফেলে, ফলে তীব্র সংকট দেখা দেয়।
- রোগব্যাধি: বন্যা পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা এবং বিভিন্ন চর্মরোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও আমাদের করণীয়
বন্যা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়:
- নিয়মিত নদী খনন (Dredging): নদীর তলদেশ গভীর রাখতে নিয়মিত খনন কাজ চালানো।
- বনায়ন কর্মসূচি: নদীর দুই তীরে ও পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর গাছ লাগানো।
- সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা: শহর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের আধুনিক ও বড় ড্রেনেজ সিস্টেম নিশ্চিত করা।
- সতর্কীকরণ ব্যবস্থা: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত বন্যার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া।
উপসংহার
বন্যা প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়ম। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যয়ে রূপান্তর করছে। নদীকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনাই পারে বন্যার ধ্বংসলীলা থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণে: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলকে “মানবতার অভিশাপ” ও “অশুভ শক্তি” বলে মন্তব্য করে চরম বিপাকে পড়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ইসরায়েলের কড়া হুঁশিয়ারি এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। এই ঘটনাটি বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ হওয়ার উচ্চাভিলাষী স্বপ্নকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

১. পোস্ট অপসারণ: ভয় নাকি কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা?
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, পাকিস্তান কি ইসরায়েলকে ভয় পেয়ে এই কাজ করল? এর উত্তরটি কেবল ‘ভয়’ শব্দে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সুক্ষ্ম কূটনৈতিক মারপ্যাঁচ।
- মধ্যস্থতাকারীর ভাবমূর্তি রক্ষা: পাকিস্তান বর্তমানে ২০২৬ সালের ‘আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা’র আয়োজক দেশ। একটি পক্ষকে এভাবে আক্রমণ করলে তাদের ‘নিরপেক্ষতা’ নষ্ট হয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অগ্রহণযোগ্য হতে পারত।
- আন্তর্জাতিক চাপ: ইসরায়েলের কঠোর প্রতিবাদ সরাসরি পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে আমেরিকার সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এড়াতে পাকিস্তান এই বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সরে আসা প্রয়োজন মনে করেছে।
২. পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘রক্তাক্ত’ ইতিহাস ও মুসলিম নিধন

পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রায়ই নিজেদের ‘মুসলিম উম্মাহর রক্ষক’ হিসেবে দাবি করলেও, ইতিহাসের পাতা ভিন্ন কথা বলে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছে মুসলিমরাই।
- ১৯৭১-এর বাংলাদেশে গণহত্যা: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ৩ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে, যাদের সিংহভাগই ছিল বাঙালি মুসলিম। ২ লক্ষাধিক নারী লাঞ্ছিত হন এবং বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এটি ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায়।
- বালুচিস্তানে দমন-পীড়ন: ২০০০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বালুচিস্তানে হাজার হাজার মুসলিম বালুচ নাগরিক নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে।

- লাল মসজিদ অভিযান (২০০৭): ইসলামের নাম জপলেও খোদ নিজ দেশের রাজধানীতে লাল মসজিদে সামরিক অভিযানে প্রায় ২ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে অনেক ছাত্র ও সাধারণ নাগরিক ছিল।

- সোয়াত উপত্যকা ও করাচি অপারেশন: জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। করাচি অপারেশনে ৫ হাজারেরও বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

৩. কেন এই ‘ইউ-টার্ন’?
খাজা আসিফের পোস্ট অপসারণ কেবল ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এটি পাকিস্তান সরকারের রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ।
১. ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া: ইসরায়েল সরাসরি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তান কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
২. ট্রাম্প প্রশাসনের তুষ্টি: বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সাথে পাকিস্তানের যে বিশেষ সুসম্পর্ক (বিশেষ করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মাধ্যমে) গড়ে উঠেছে, তা যেন নষ্ট না হয়, সেদিকেই নজর ছিল ইসলামাবাদের।
৩. ভাবমূর্তি সংকট: নিজেদের ‘পিসমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সময় এ ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার তাদের আন্তর্জাতিক লবিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা সরকার যখন ফিলিস্তিন বা মুসলিম ইস্যু নিয়ে সরব হয়, তখন তাদের নিজেদের ইতিহাস সামনে আসা স্বাভাবিক। ১৯৭১-এর গণহত্যা থেকে শুরু করে বালুচিস্তান—তাদের হাতে মুসলিম রক্ত ঝরার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। খাজা আসিফের পোস্ট অপসারণ প্রমাণ করে যে, নীতি বা আদর্শের চেয়ে পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে ‘কূটনৈতিক টিকে থাকা’ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এক নজরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযান ও মুসলিম হতাহত:
| অভিযানের নাম | সময়কাল | হতাহত/ক্ষয়ক্ষতি (আনুমানিক) |
| বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ | ১৯৭১ | ৩ লক্ষ – ৩০ লক্ষ নিহত (বাঙালি মুসলিম)। |
| বালুচিস্তান সংঘাত | ২০০০ – বর্তমান | ৫,০০০ – ১০,০০০+ নিখোঁজ বা নিহত (বালুচ মুসলিম)। |
| লাল মসজিদ অভিযান | ২০০৭ | ২০০+ নিহত (ধর্মীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক)। |
| সোয়াত উপত্যকা অভিযান | ২০০৯ | ২ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত ও হাজারো হতাহত। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



