ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী এবং কেন এটি আপনার ব্যবসার জন্য অপরিহার্য?
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

নিউজ ডেস্ক

February 25, 2026

শেয়ার করুন


লিখেছেন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বর্তমান যুগে একটি ব্যবসার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে তার অনলাইন উপস্থিতির ওপর। আর এই অনলাইন উপস্থিতির সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো সোশ্যাল মিডিয়া। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হন বা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM) কী?

সহজ কথায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিঙ্কডইন, টুইটার বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে কোনো পণ্য বা সেবার প্রচার করাকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলা হয়। এটি কেবল কিছু ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন এবং ব্র্যান্ডের প্রতি তাদের আস্থা তৈরি করার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।


কেন আপনার ব্যবসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্রয়োজন?

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের এক নতুন জোয়ার এসেছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে প্রথাগত বিজ্ঞাপনের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বেশি কার্যকর। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি: মানুষ যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ডকে বারবার দেখে, তখন তাদের মনে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা ও বিশ্বাস তৈরি হয়।
  • সরাসরি যোগাযোগ: কাস্টমাররা সরাসরি আপনার পোস্টে কমেন্ট বা মেসেজ করে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারে, যা কাস্টমার রিলেশনশিপ বাড়াতে সাহায্য করে।
  • টার্গেটেড কাস্টমার: আপনি চাইলে ঠিক সেই ব্যক্তিদের কাছেই বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে পারেন, যারা আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহী (যেমন: বয়স, এলাকা বা পছন্দ অনুযায়ী)।
  • সাশ্রয়ী বিজ্ঞাপন: রেডিও বা টিভির বিজ্ঞাপনের তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কম খরচে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

সফল সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করার ৫টি কার্যকরী ধাপ

একজন অভিজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট হিসেবে আমি এবং আমার টিম BDS Bulbul Ahmed নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে ক্লায়েন্টদের প্রজেক্ট সফল করি:

  1. সঠিক প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন: আপনার ব্যবসা যদি B2B হয় তবে লিঙ্কডইন সেরা, আর যদি ফ্যাশন বা খাবারের হয় তবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বেশি কার্যকর।
  2. আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি: শুধু বিজ্ঞাপন নয়, মানুষের উপকারে আসে এমন শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কন্টেন্ট শেয়ার করুন।
  3. নিয়মিত পোস্ট করা (Consistency): সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা মানেই হলো মানুষের চোখের সামনে থাকা। তাই নিয়মিত পোস্ট করা অত্যন্ত জরুরি।
  4. পেইড অ্যাড ক্যাম্পেইন: দ্রুত ফলাফল পেতে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাডস চালানো যেতে পারে। এটি আপনার সেলস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
  5. রেজাল্ট ট্র্যাকিং: আপনার কোন পোস্টটি মানুষ বেশি পছন্দ করছে তা ডাটা এনালাইসিসের মাধ্যমে যাচাই করে পরবর্তী পরিকল্পনা করা।

উপসংহার: আপনার ডিজিটাল গ্রোথ পার্টনার হিসেবে আমরা

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কেবল একটি ট্রেন্ড নয়, এটি বর্তমান সময়ে টিকে থাকার হাতিয়ার। সঠিক এসইও (SEO) এবং ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় সফল হওয়া কঠিন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

On-page and technical SEO

নিউজ ডেস্ক

February 19, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ১৯০০ সালের শিল্প বিপ্লবের সময় ব্যবসার প্রসারে যেমন ছাপাখানা আর পোস্টার ছিল প্রধান হাতিয়ার, ২০২৬ সালের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ইন্টারনেটের যুগে সেই জায়গা দখল করেছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও (SEO)। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘স্মার্ট ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং এখন প্রতিটি ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু গুগল বা বিং-এর মতো সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটকে সবার উপরে রাখবেন কীভাবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে অন-পেজ এবং টেকনিক্যাল এসইও-এর সঠিক ভারসাম্যের মধ্যে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: তথ্যের বিবর্তন ও আধুনিক এসইও

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০ সালে মানুষ তথ্য খুঁজত লাইব্রেরি কিংবা সংবাদপত্রের পাতায়। ১৯৪৭-এর দেশভাগ কিংবা ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তথ্যের প্রচার ছিল মূলত এনালগ নির্ভর। কিন্তু ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী এই ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতিতে পা রেখেছে। বর্তমানে একটি ওয়েবসাইট মানে কেবল কিছু তথ্য নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক দোকানঘর। আর এই দোকানে কাস্টমার বা ভিজিটর আনার প্রধান কৌশলই হলো এসইও। গুগল এনালাইসিস এবং বর্তমান ট্রেন্ড বলছে, ২০২৬ সালে কেবল কনটেন্ট দিয়ে র‍্যাঙ্ক করা সম্ভব নয়, যদি না সাইটের কারিগরি ভিত্তি মজবুত থাকে।

অন-পেজ এসইও (On-Page SEO): ওয়েবসাইটের ভেতরের সৌন্দর্য

অন-পেজ এসইও হলো ওয়েবসাইটের ভেতরের কনটেন্ট ও উপাদানগুলো অপটিমাইজ করা। এটি মূলত ইউজার এবং সার্চ ইঞ্জিনকে বোঝায় যে আপনার পেজটি কী বিষয় নিয়ে।

  • Title Tag ও Meta Description: সঠিক শিরোনাম ও আকর্ষণীয় বর্ণনা যা দেখে ইউজার ক্লিক করবে।
  • Focus Keyword: মানুষ যা লিখে সার্চ করে, সেই শব্দগুলো কনটেন্টে সঠিকভাবে ব্যবহার।
  • Heading (H1-H3): তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী প্যারাগ্রাফ সাজানো।
  • Internal Linking: সাইটের এক পেজের সাথে অন্য পেজের সংযোগ স্থাপন।

উদাহরণ: আপনি যদি “Health Care Tips” নিয়ে আর্টিকেল লেখেন, তবে সেই কিওয়ার্ড শিরোনাম ও কনটেন্টে ব্যবহার করাই হলো অন-পেজ এসইও।

টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO): ওয়েবসাইটের মজবুত ভিত্তি

টেকনিক্যাল এসইও হলো ওয়েবসাইটের কারিগরি দিক উন্নত করা। ইঞ্জিন ঠিক না থাকলে যেমন দামি গাড়ি চলে না, তেমনি টেকনিক্যাল ভিত্তি দুর্বল হলে ভালো কনটেন্ট থাকলেও গুগল র‍্যাঙ্ক দেয় না।

  • Website Speed: সাইটটি কত দ্রুত লোড হচ্ছে। গুগল এনালাইসিস অনুযায়ী, ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে ৪০% ইউজার সাইট ছেড়ে চলে যায়।
  • Mobile-Friendly: স্মার্টফোনে সাইটটি সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছে কি না।
  • XML Sitemap ও Robots.txt: সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার সাইট খুঁজে পেতে ও ইনডেক্স করতে সাহায্য করা।
  • SSL (HTTPS): ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা ও সাইটের বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করা।

পার্থক্য এক নজরে: অন-পেজ বনাম টেকনিক্যাল এসইও

বিষয়অন-পেজ এসইও (On-Page SEO)টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO)
কাজের ধরনকনটেন্ট ও পেজের উপাদান অপটিমাইজেশনওয়েবসাইটের কারিগরি ও ব্যাক-এন্ড সেটআপ
মূল ফোকাসইউজার এবং কিওয়ার্ডের প্রাসঙ্গিকতাসার্চ ইঞ্জিনের ক্রলিং ও ইনডেক্সিং সক্ষমতা
প্রাথমিক কাজTitle, Meta, Quality Content, HeadingsSpeed, Mobile-Friendly, SSL, Sitemap

২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে এসইও-এর গুরুত্ব

২০২৬ সালের বর্তমান সরকার যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে, তাই প্রতিটি ব্যবসার জন্য একটি এসইও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯০০ সালের ব্যবসায়ীরা যেমন মুখে মুখে প্রচারের ওপর নির্ভর করতেন, আজকের উদ্যোক্তাদের সফল হতে হলে অন-পেজ এবং টেকনিক্যাল এসইও—উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ হতে হবে। গুগলের সাম্প্রতিক অ্যালগরিদম আপডেট অনুযায়ী, টেকনিক্যাল এসইও-তে ত্রুটি থাকলে অন-পেজ এসইও কোনো কাজে আসে না।


সূত্র:

১. গুগল সার্চ সেন্ট্রাল (Google Search Central) – এসইও স্টার্টার গাইড ২০২৬।

২. বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি রিসার্চ উইং এবং গুগল এনালাইসিস রিপোর্ট।

৩. মোজ (Moz) এবং সেমরাশ (SEMrush) টেকনিক্যাল অডিট গাইডলাইন।

৪. ১৯০০-২০২৬: বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রচারণার ঐতিহাসিক বিবর্তন দলিল।

বিশ্লেষণ: ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো—অন-পেজ এসইও আপনার সাইটকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, আর টেকনিক্যাল এসইও সেই প্রাসঙ্গিকতাকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। ১৯০০ সালের এনালগ মার্কেটিং থেকে ২০২৬ সালের এআই-চালিত ডিজিটাল মার্কেটিং-এ টিকে থাকতে হলে এই দুটির সমন্বয়ই আপনাকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যাবে।

ভিডিও

নিউজ ডেস্ক

February 18, 2026

শেয়ার করুন


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইউটিউবে সফল হতে হলে দামী ক্যামেরা, স্টুডিও বা নিজের চেহারা দেখানোর দিন এখন ফুরিয়ে এসেছে। স্মার্ট প্রযুক্তির এই যুগে হাজার হাজার মানুষ নিজের ভিডিও না বানিয়েই ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা আয় করছেন। কীভাবে ক্যামেরার সামনে না দাঁড়িয়েও আপনি একটি সফল ইউটিউব ক্যারিয়ার গড়তে পারেন, আজকের প্রতিবেদনে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


১. ফ্রি স্টক ভিডিও ব্যবহার করে আয় (Faceless Channels)

ভিডিও শুট না করে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ফ্রি স্টক ফুটেজ। ইন্টারনেটে এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও ক্লিপ বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়।

  • উৎস: Pexels, Pixabay এবং Mixkit থেকে কপিরাইট ফ্রি ভিডিও এবং ইউটিউব অডিও লাইব্রেরি থেকে মিউজিক ব্যবহার করে চমৎকার ভিডিও তৈরি করা সম্ভব।
  • নিশ (Topic): প্রকৃতির দৃশ্য, বৃষ্টির শব্দ, মহাকাশ বা মোটিভেশনাল কোটসের ভিডিও এডিটিং করে আপলোড করতে পারেন। এতে প্রচুর গ্লোবাল ভিউ পাওয়া যায়।

২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

ইউটিউবকে আপনি একটি ডিজিটাল দোকান হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। অন্যের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশন আয় করাই হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

  • কৌশল: এমাজন (Amazon) বা দারাজ (Darাজ) এর মতো সাইটের পণ্যের রিভিউ ভিডিও বানান। এজন্য আপনাকে পণ্য কিনতে হবে না, ইন্টারনেটে থাকা ওই পণ্যের ফুটেজ ব্যবহার করে নিজের ভয়েসওভার বা টেক্সট দিয়ে ভিডিও তৈরি করুন।
  • আয়: ভিডিওর ডেসক্রিপশনে আপনার ইউনিক অ্যাফিলিয়েট লিংক দিন। সেই লিংক থেকে কেউ পণ্য কিনলে আপনি সরাসরি কমিশন পাবেন।

৩. ইউটিউব চ্যানেল ‘ফ্লিপিং’ (Channel Flipping)

ডোমেইন বা ফ্ল্যাট বিক্রির মতো ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে বিক্রি করা এখন একটি স্মার্ট ব্যবসা।

  • পদ্ধতি: স্টক ভিডিও দিয়ে একটি চ্যানেল মনিটাইজেশন পর্যন্ত নিয়ে যান। সাবস্ক্রাইবার ১০ হাজারের উপরে হলে সেটি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করে দিতে পারেন।
  • মার্কেটপ্লেস: Fameswap বা PlayerUp-এর মতো সাইটে একটি ভালো চ্যানেল কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে।

৪. স্পন্সরশিপের মাধ্যমে ইনকাম

আপনার চ্যানেলে যখন নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের (যেমন- টেকনোলজি বা গেমিং) নিয়মিত দর্শক তৈরি হবে, তখন বিভিন্ন কোম্পানি তাদের সেবা প্রচারের জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এক্ষেত্রেও আপনাকে ভিডিও বানাতে হবে না, কেবল ভিডিওর শুরুতে বা শেষে একটি প্রমোশনাল স্লাইড বা ক্লিপ যোগ করলেই বড় অংকের ফি পাওয়া সম্ভব।

৫. ইউটিউব কমেন্ট বক্স প্রমোশন

এটি একটি কৌশলগত পদ্ধতি। জনপ্রিয় চ্যানেলের ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে গিয়ে মানসম্মত তথ্য দিয়ে নিজের অ্যাফিলিয়েট বা প্রমোশনাল লিংক শেয়ার করা। তবে এটি যেন ‘স্প্যামিং’ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সঠিক উপায়ে লিংক প্রমোশন করে অনেক মার্কেটার মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করছেন।


পালসবাংলাদেশ-এর বিশেষ টিপস:

  • ধৈর্য ধরুন: রাতারাতি সাফল্য আসবে না। অন্তত ৩-৬ মাস নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে।
  • এডিটিং স্কিল: ভিডিও শুট না করলেও এডিটিং যেন আকর্ষণীয় হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
  • কপিরাইট সচেতনতা: সবসময় রয়্যালটি ফ্রি বা কপিরাইট মুক্ত এলিমেন্ট ব্যবহার করুন।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

এসইও (SEO) কি ও কেন

নিউজ ডেস্ক

February 17, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল বিশ্বে কেবল একটি ওয়েবসাইট থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সেটি মানুষের কাছে পৌঁছানোই আসল চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ জয়ের একমাত্র হাতিয়ার হলো SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। সহজ কথায়, এটি এমন এক জাদুকরী কৌশল যা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল বা বিং-এর মতো সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় নিয়ে আসে।

এসইও (SEO) কেন অপরিহার্য?

১৯০০-এর দশকে মানুষ তথ্য খুঁজত লাইব্রেরি বা পত্রিকায়, কিন্তু ২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুগে মানুষ যেকোনো তথ্যের জন্য সবার আগে সার্চ ইঞ্জিনে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, ৯৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সার্চ রেজাল্টের প্রথম তিনটির বেশি লিংক দেখেন না। তাই আপনার সাইট যদি র‍্যাঙ্কে না থাকে, তবে আপনি বিপুল সংখ্যক সম্ভাব্য গ্রাহক বা পাঠক হারাচ্ছেন।

এর প্রধান গুরুত্বগুলো হলো:

  • অর্গানিক ট্রাফিক: কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শক পাওয়া যায়।
  • ব্র্যান্ডিং: গুগলের প্রথম পাতায় থাকা মানেই পাঠকের কাছে আপনার সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যাওয়া।
  • বিনিয়োগের সেরা মাধ্যম: দীর্ঘমেয়াদে এটি পেইড মার্কেটিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

এসইও-এর মূল স্তম্ভসমূহ (২০২৬ সংস্করণ)

একজন পাবলিশার হিসেবে আপনাকে মূলত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে:

১. অন-পেজ এসইও (On-Page SEO): এটি আপনার কন্টেন্টের ভেতরের কাজ। সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন, আকর্ষণীয় মেটা টাইটেল ও ডিসক্রিপশন এবং মানসম্মত কন্টেন্ট এর অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালে গুগল এখন কনটেন্টের গভীরতা এবং সত্যতা (E-E-A-T) বেশি যাচাই করে।

২. অফ-পেজ এসইও (Off-Page SEO): আপনার সাইটের বাইরে অন্যান্য নামী সাইট থেকে ব্যাকলিংক আনা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে অথরিটি বাড়ানোই এর কাজ। এটি আপনার সাইটের ‘ডিজিটাল ভোট’ হিসেবে কাজ করে।

৩. টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO): আপনার সাইট কত দ্রুত লোড হচ্ছে (Page Speed), মোবাইল ভার্সনে এটি কতটা সাবলীল এবং সাইটম্যাপ ঠিক আছে কি না—এসব প্রযুক্তিগত বিষয় নিশ্চিত করা।

২০২৬ সালে এসইও-এর নতুন ট্রেন্ড

বর্তমান সময়ে এআই (AI) চালিত সার্চ রেজাল্টের যুগ। এখন কেবল কীওয়ার্ড দিলেই র‍্যাঙ্ক হয় না, বরং ব্যবহারকারীর প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি সরাসরি দিতে পারলে তবেই গুগল আপনার সাইটকে প্রাধান্য দেয়। এছাড়াও ভয়েস সার্চ এবং স্থানীয় এসইও (Local SEO) এখন বেশ জনপ্রিয়।

উপসংহার

১৯০০ সাল থেকে মানুষের তথ্য অনুসন্ধানের যে ধারা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এসইও-এর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা বা লেখক হন, তবে এসইও ছাড়া ডিজিটাল দুনিয়ায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।


সূত্র: গুগল সার্চ সেন্ট্রাল, মোজ (Moz), এবং ২০২৬ ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেন্ড রিপোর্ট।

বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (বিডিএস)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ