নির্বাচনী খবর

২০২৬-এর নতুন বাংলাদেশ: তারেক রহমান সরকারের ৪৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ও দপ্তর বণ্টন
মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা

নিউজ ডেস্ক

February 19, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র পর এই প্রথম একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংস্কারমুখী মন্ত্রিসভা পেল দেশ।

১৯০০ থেকে ২০২৬: একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের প্রথম দিকে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান লড়াই ছিল স্বাধিকারের। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও গত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থাকে অনেকেই ‘পারিবারিক ও দলীয়করণ’-এর চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের জয়লাভ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথের পরেই নজিরবিহীন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা ১৯০০ সালের সেই নির্ভীক বিপ্লবীদের আদর্শের প্রতিফলন।


নতুন মন্ত্রিসভা ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ তালিকা (এক্সেল ফরম্যাট)

নিচে নতুন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা এক্সেল শিটের আদলে প্রদান করা হলো:

ক্রমনামপদমর্যাদাদপ্তর/মন্ত্রণালয়
তারেক রহমানপ্রধানমন্ত্রীমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরমন্ত্রীস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীমন্ত্রীঅর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
সালাহউদ্দিন আহমদমন্ত্রীস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুমন্ত্রীবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)মন্ত্রীমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনমন্ত্রীমহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
ডা. খলিলুর রহমানমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট)পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আবদুল আউয়াল মিন্টুমন্ত্রীপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
১০কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদমন্ত্রীধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১১মিজানুর রহমান মিনুমন্ত্রীভূমি মন্ত্রণালয়
১২নিতাই রায় চৌধুরীমন্ত্রীসংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৩খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরমন্ত্রীবাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
১৪আরিফুল হক চৌধুরীমন্ত্রীশ্রম, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়
১৫জহির উদ্দিন স্বপনমন্ত্রীতথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৬মোহাম্মদ আমিন উর রশিদমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট)কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
১৭আফরোজা খানম রিতামন্ত্রীবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
১৮মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিমন্ত্রীপানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
১৯আসাদুল হাবিব দুলুমন্ত্রীদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
২০মো. আসাদুজ্জামানমন্ত্রীআইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২১জাকারিয়া তাহেরমন্ত্রীগৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২২দীপেন দেওয়ানমন্ত্রীপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২৩আ ন ম এহসানুল হক মিলনমন্ত্রীশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৪সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলমন্ত্রীস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
২৫ফকির মাহবুব আনামমন্ত্রীডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়
২৬শেখ রবিউল আলমমন্ত্রীসড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন
২৭এম রশিদুজজামান মিল্লাতপ্রতিমন্ত্রীবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
২৮অনিন্দ্য ইসলাম অমিতপ্রতিমন্ত্রীবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
২৯মো. শরীফুল আলমপ্রতিমন্ত্রীবাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
৩০শামা ওবায়েদ ইসলামপ্রতিমন্ত্রীপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৩১সুলতান সালাউদ্দিন টুকুপ্রতিমন্ত্রীকৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
৩২ব্যারিস্টার কায়সার কামালপ্রতিমন্ত্রীভূমি মন্ত্রণালয়
৩৩ফরহাদ হোসেন আজাদপ্রতিমন্ত্রীপানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
৩৪মো. আমিনুল হকপ্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট)যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
৩৫মো. নুরুল হক নুরপ্রতিমন্ত্রীশ্রম, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়
৩৬ইয়াসের খান চৌধুরীপ্রতিমন্ত্রীতথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
৩৭এম ইকবাল হোসেইনপ্রতিমন্ত্রীদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
৩৮এম এ মুহিতপ্রতিমন্ত্রীস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
৩৯আহম্মাদ সোহেল মঞ্জুরপ্রতিমন্ত্রীগৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
৪০ববি হাজ্জাজপ্রতিমন্ত্রীশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
৪১আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামপ্রতিমন্ত্রীসংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৪২মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনপ্রতিমন্ত্রীপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৪৩মো. রাজিব আহসানপ্রতিমন্ত্রীসড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন
৪৪হাবিবুর রশিদপ্রতিমন্ত্রীসড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন
৪৫মো. আব্দুল বারীপ্রতিমন্ত্রীজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
৪৬মীর শাহ আলমপ্রতিমন্ত্রীস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
৪৭মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিপ্রতিমন্ত্রীঅর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
৪৮ইশরাক হোসেনপ্রতিমন্ত্রীমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৪৯ফারজানা শারমীনপ্রতিমন্ত্রীমহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
৫০শেখ ফরিদুল ইসলামপ্রতিমন্ত্রীপরিবেশ, বন, ধর্ম এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক

সূত্র: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division) প্রজ্ঞাপন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশ গেজেট ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবর্তন দলিল। ৪. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও গুডল এনালাইসিস।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে ডা. খলিলুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিক এবং ভিপি নুর ও জোনায়েদ সাকির মতো নতুন ধারার রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, সরকার সব মতাদর্শকে সাথে নিয়ে চলতে চায়। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী বাঙালির স্বপ্ন আজ ২০২৬ সালে এসে আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের পথে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিএনপির সংকট

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন


২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষায় এক আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। মানুষ এখন আর শুধু ‘বাপ-মায়ের পরিচয়’ দিয়ে নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান কেন বড় সংকটের মুখে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। চলুন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কিছু প্রশ্নবিদ্ধ দিক।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্ব

আধুনিক বিশ্বে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতার যে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য তথ্যমতে, তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এমন কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড নেই। অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গত ১৭ বছরে তাঁকে কোনো সেমিনার বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় দেখা যায়নি, যা একজন বৈশ্বিক নেতার জন্য অপরিহার্য ছিল।

২. লন্ডনের ১৭ বছর: নীরবতা না ইমেজ সংকট?

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। প্রবাসী ছাত্র বা বুদ্ধিজীবীদের মাঝে তিনি নিজের কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি করতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে, একজন নেতা হয়েও কেন তিনি আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হলেন?

৩. জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা

লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে কী ব্যবসা বা চাকরি করেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে নেই। একজন পাবলিক লিডারের আয়ের উৎস স্বচ্ছ না থাকাটা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

৪. ৯০-এর আন্দোলন ও রাজনৈতিক অনুপস্থিতি

১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়ছিলেন, তখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক তারেক রহমান ছিলেন পর্দার আড়ালে। তাঁর জীবনে রাজপথের লড়াইয়ের চেয়ে ‘ক্ষমতায় বসে রাজনীতি’ করার ইতিহাসই বেশি স্পষ্ট, যা ২০০১ সালের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে প্রমাণিত হয়েছে।

৫. নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বনাম উত্তরাধিকার

জুলাই বিপ্লবের পর আজকের তরুণ সমাজ মেধা এবং কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেখতে চায়। ডাকসু বা জাকসু নির্বাচনের সাম্প্রতিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মানুষ এখন আর বংশপরম্পরার রাজনীতিতে আস্থা রাখছে না। তারেক রহমানের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের ইমেজও তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


গুগল অ্যানালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (Sources):

১. উইকিপিডিয়া ও বায়োগ্রাফি রেকর্ড: তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রারম্ভিক রাজনৈতিক জীবন। ২. আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর্কাইভ (বিবিসি, আল-জাজিরা): গত ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্যের রেকর্ড। ৩. নির্বাচন কমিশন ও হলফনামা রেকর্ড (২০০১, ২০০৮): তৎকালীন সময়ে বিএনপি নেতৃত্বের সম্পদ ও আয়ের বিবরণের তুলনা। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ সোশ্যাল অ্যানালিটিকস: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জেনারেশন জেড (Gen-Z) এর রাজনৈতিক পছন্দ ও নেতৃত্বের প্যারামিটার বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মেজর হাফিজ

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি একাধারে রণাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীর, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঠিক তেমনই এক জীবন্ত রূপকথা।

তারেক রহমানের এই একটি মনোনয়ন বাংলাদেশের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন মেজর হাফিজকে বলা হয় ‘অলরাউন্ডার অফ দ্য সেঞ্চুরি’? চলুন জেনে নিই তাঁর জীবনের ৫টি রোমাঞ্চকর তথ্য।

১. বঞ্চিত এক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’?

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, মেজর হাফিজ ছিলেন যশোর সেনানিবাসের সেই অকুতোভয় বাঙালি অফিসার, যিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল আর সাহসিকতা দেখে সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তিনি সর্বোচ্চ খেতাব পাননি, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ হয়েই আছেন।

২. পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি অধিনায়ক ও ‘দ্রুততম মানব’

আপনি কি জানেন, ফুটবল মাঠেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা?

  • তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইতিহাসের একমাত্র বাঙালি।
  • ষাটের দশকে ট্র্যাকে তিনি ছিলেন দেশের ‘দ্রুততম মানব’ (Fastest Man)।
  • অ্যাথলেটিক্স, হকি আর ফুটবল—তিন জায়গাতেই তাঁর সমান শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই আছে।

৩. যখন তিনি ম্যারাডোনার ‘বিচারক’ হলেন!

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব। ১৯৯৪ সালে যখন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়ান, তখন ফিফা যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মেজর হাফিজ। ফিফাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী।

৪. ৭ বারের এমপি ও বর্তমান স্পিকার

রাজনীতির মাঠেও তিনি ক্লীন ইমেজের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজনীতিতে এসে ভোলার লালমোহন-তজুমদ্দিন আসন থেকে টানা ৭ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসানো সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।

৫. আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি?

সামরিক ডিসিপ্লিন, ফুটবল মাঠের গতি আর রাজনীতির প্রজ্ঞা—এই তিনের সংমিশ্রণ মেজর হাফিজকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম আসার সম্ভাবনা প্রবল।


গুগল এনালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র (Sources):

  • বিএফএফ ও ফিফা আর্কাইভ: ম্যারাডোনা ডোপ টেস্ট ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (১৯৯৪) মেম্বার লিস্ট।
  • মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্তদের অফিশিয়াল গেজেট।
  • সংসদ সচিবালয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন ও নির্বাচনী ইতিহাস।
  • বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিকস ২০২৬: বর্তমান সরকারের সংস্কার ও সংসদীয় নেতৃত্ব বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শেখ হাসিনার ‘বিজেপি

নিউজ ডেস্ক

March 13, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।

১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব

ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।

৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?

রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!


বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।

২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ