ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার কেবল একটি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যবিদ্যার এক অনন্য মহাকাব্য। পাল রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব অষ্টম শতকের শেষে এটি নির্মাণ করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দিলেও, এর মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে এমন কিছু রহস্য যা সাধারণ ইতিহাসের বইয়ে সচরাচর মেলে না।
স্থাপত্যের বিস্ময়: প্যাগানের ‘পূর্বপুরুষ’
পাহাড়পুর বিহারের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ক্রুশাকার (Cruciform) নকশা। মজার বিষয় হলো, এই স্থাপত্যশৈলী পরবর্তীকালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মিয়ানমারের বিখ্যাত প্যাগান (Bagan) শহরের ‘আনন্দ মন্দির’ এবং ইন্দোনেশিয়ার জাভার ‘প্রাম্বানান’ মন্দিরের স্থাপত্যিক পূর্বপুরুষ বলা হয় এই সোমপুর মহাবিহারকে। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক মনে করেন, তৎকালীন বাংলা ছিল স্থাপত্যবিদ্যার ‘এক্সপোর্ট হাব’, যেখান থেকে এই বিশেষ জ্যামিতিক নকশা বিদেশে রপ্তানি করা হতো।
মহাজাগতিক মানচিত্র বা ‘মন্ডল’ (Mandala)
উইকিপিডিয়ায় এর কক্ষের সংখ্যার উল্লেখ থাকলেও, এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে তথ্য কম। তিব্বতীয় সূত্র এবং গবেষকদের মতে, এই বিহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল একটি ‘মন্ডল’ (Mandala) বা মহাজাগতিক মানচিত্রের ওপর ভিত্তি করে। এর ১৭৭টি কক্ষ কেবল ভিক্ষুদের আবাসস্থল ছিল না, বরং বৌদ্ধ দর্শনের বিভিন্ন স্তর ও মহাজাগতিক শক্তির প্রতীকী উপস্থাপন ছিল। কেন্দ্রীয় মন্দিরের তলদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত শূন্যগর্ভ প্রকোষ্ঠটি মন্দিরের সুউচ্চ দেয়ালকে ভারসাম্য প্রদানের পাশাপাশি একটি আধ্যাত্মিক স্তম্ভ হিসেবেও কাজ করত।
অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসের রহস্যময় ইতিহাস
সোমপুর বিহারের পতন নিয়ে সাধারণ ধারণা হলো মুসলিম শাসন বা সেন রাজাদের অনীহা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া প্রচুর ছাই এবং পোড়া কয়লা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক কাশিনাথ দীক্ষিতের মতে, একাদশ শতাব্দীতে ‘বঙ্গাল সৈন্য’ বা স্থানীয় কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী এখানে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছিল। এটি কোনো ধীর পতন ছিল না, বরং একটি পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ ছিল যা এই প্রাচীন জ্ঞানপীঠকে স্তব্ধ করে দেয়।
পোড়ামাটির ফলক: তৎকালীন বাঙালির জীবনচিত্র
পাহাড়পুরের দেয়ালে থাকা ২,০০০-এর বেশি পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা কেবল ধর্মীয় নয়, বরং অষ্টম থেকে দশম শতকের বাঙালির ‘ফেসবুক’ হিসেবে কাজ করত। সেখানে বৌদ্ধ দেব-দেবীর চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। কোনো ফলকে আদিবাসী শবরী নারীর শিকারের দৃশ্য, কোনোটিতে মাছ বিক্রেতা, আবার কোনোটিতে গ্রামীণ জীবনের কৌতুকপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি চিত্রিত হয়েছে। এটি তৎকালীন সমাজের এক জীবন্ত নথিপত্র।
উন্নত হাইড্রো-ইঞ্জিনিয়ারিং
পাহাড়পুরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আজও আধুনিক স্থপতিদের অবাক করে। কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রতিটি ধাপের সংযোগস্থলে পাথর নির্মিত ‘সিংহমুখ’ (Gargoyle) নালা রয়েছে। বর্ষাকালে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি যাতে ইমারতের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য অষ্টম শতাব্দীতেই এই সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিশ্লেষণ: পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি গোটা বিশ্বের গৌরব। ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে এখানে খননকাজ চললেও এখনও এর অনেক অংশ মাটির নিচে রয়েছে। অতীশ দীপঙ্করের মতো মহান পণ্ডিত যেখানে জ্ঞানচর্চা করেছেন, সেই সোমপুর বিহারকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হলে এটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক গন্তব্য হতে পারে।
সূত্র: ১. কাশিনাথ দীক্ষিতের ‘Memoirs of the Archaeological Survey of India’। ২. তিব্বতীয় ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘পাগ সাম জোন ঝাং’ (Pagsam Jon Zang)। ৩. বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আর্কাইভ। ৪. ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন রিপোর্ট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ঐতিহ্যবাহী স্থান ও স্থাপনা
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রেলওয়ে স্টেশন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এগুলো কোনো দেশের ইতিহাস, প্রকৌশলগত দক্ষতা এবং স্থাপত্যশৈলীর জীবন্ত দলিল। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিনটি বিখ্যাত স্টেশন—ঢাকা কমলাপুর, মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (CSMT) এবং করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন—নিজ নিজ দেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের অনন্য উদাহরণ। আজ আমরা এই তিনটি স্টেশনের নির্মাণশৈলী ও নান্দনিকতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করব।
১. ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন (বাংলাদেশ): আধুনিকতাবাদের অনন্য নিদর্শন
১৯৬৮ সালে নির্মিত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনটি বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যের প্রতীক। ড্যানিশ স্থপতি বব বুই (Bob Bouwman)-এর নকশায় তৈরি এই স্টেশনটি মূলত ‘আধুনিকতাবাদী’ (Modernist) স্থাপত্যধারার অনুসারী।
- স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এর ছাদের ওপর বিশাল বিশাল ‘শেল’ (Shell) আকৃতির কাঠামোটি প্রকৌশলবিদ্যার এক বিস্ময়। এটি কোনো প্রথাগত স্থাপত্য নয়, বরং জ্যামিতিক সরলতা এবং কাঠামোগত শক্তির মেলবন্ধন।
- মূল্যায়ন: যারা আধুনিকতা ও জ্যামিতিক নান্দনিকতা পছন্দ করেন, তাদের কাছে কমলাপুর স্টেশনটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
২. ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (ভারত): গথিক স্থাপত্যের রাজকীয় প্রাসাদ
মুম্বাইয়ের এই স্টেশনটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। এটি ১৮৮৮ সালে নির্মিত হয়েছিল, যা মূলত ‘ভিক্টোরিয়ান গথিক রিভাইভাল’ (Victorian Gothic Revival) এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় স্থাপত্যের সংমিশ্রণ।
- স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এর পাথরের কারুকার্য, সুউচ্চ গম্বুজ এবং সূক্ষ্ম ভাস্কর্য একে একটি রাজকীয় প্রাসাদের রূপ দিয়েছে। এটি কেবল একটি স্টেশন নয়, বরং একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম।
- মূল্যায়ন: যারা ইতিহাসের আভিজাত্য এবং বিস্তারিত কারুকার্য পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটিই উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য।
৩. করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন (পাকিস্তান): ঔপনিবেশিক আভিজাত্যের স্মারক
করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার নিদর্শন। এই স্টেশনটি তার মার্জিত কাঠামো এবং ভারসাম্যপূর্ণ নকশার জন্য পরিচিত।
- স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এর বিশাল তোরণ, আভিজাত্যপূর্ণ দেয়াল এবং ঔপনিবেশিক ধারার কাঠামোগত বিন্যাস একে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ রূপ দিয়েছে। স্টেশনটি খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও এর মধ্যে রয়েছে এক ধরণের রাজকীয় আভিজাত্য।
- মূল্যায়ন: যারা ব্রিটিশ আমলের পরিপাটি এবং ঐতিহাসিক গাম্ভীর্য পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই স্টেশনটি নান্দনিক।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও উপসংহার: কোনটি সেরা?
স্থাপত্যশৈলীর বিচারে তিনটি স্টেশনই নিজ নিজ জায়গায় শ্রেষ্ঠ:
- কারুকার্যের সূক্ষ্মতায়: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এর রাজকীয় সৌন্দর্য বিশ্বমানের।
- প্রকৌশলগত বিস্ময়ে: ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ‘শেল রুফ’ বা ছাদের কাঠামোটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অনন্য, যা আধুনিক স্থাপত্যের সাহস প্রকাশ করে।
- মার্জিত ঐতিহ্যে: করাচি ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিফলন।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্যের সূক্ষ্মতার বিচারে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস বিশ্বমানের এবং অপরাজেয়। কিন্তু নির্মাণশৈলীর ভিন্নতা এবং সাহসিকতার বিচারে কমলাপুর স্টেশন আমাদের গর্বের জায়গা। আর ঐতিহাসিক গাম্ভীর্যের বিচারে করাচি ক্যান্টনমেন্ট অনন্য।
তথ্যসূত্র:
- ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রেকর্ড (CSMT, Mumbai)।
- বাংলাদেশ স্থাপত্য অধিদপ্তর ও রেলওয়ে আর্কাইভ।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য বিষয়ক ঐতিহাসিক গবেষণা নিবন্ধ।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
স্থাপত্য, ইতিহাস ও দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে এমন আরও বিশ্লেষণধর্মী কন্টেন্ট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সূত্র: জটাংক)
“তিনি এমন একজন হবেন, যাকে আমেরিকা ঘৃণা করবে।” — দুই দিন আগে ইরানের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার করা এই মন্তব্যটি আজ এক অমোঘ সত্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে মোজতবা খামেনিকে। পশ্চিমা বিশ্বের অস্বস্তি আর ইসরায়েলের সরাসরি হুমকির তোয়াক্কা না করে ইরানের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াইকে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
কেন মোজতবা খামেনিকে নিয়ে এত ভয়?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোজতবা খামেনিকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও ইরান কেন এই পথেই হাঁটল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের চারটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর:
- বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC): যাদের সাথে মোজতবার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
- বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক: যা নেপথ্যে থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সিদ্ধহস্ত।
- ধর্মীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: বিশেষ করে ‘কুম’-এর প্রভাবশালী আলেমদের সমর্থন।
- বাসিজ মিলিশিয়া: যারা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক লড়াইয়ের অগ্রসেনানী।
ছায়া থেকে আলোর পথে: মোজতবার শক্তির উৎস
মোজতবা খামেনির শক্তি কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকৃত শক্তি ছড়িয়ে আছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এ:
- লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি এবং সিরিয়ার মিত্র শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভালো করেই জানে, মোজতবা খামেনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার চেয়ে পর্দার আড়াল থেকে এই বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ইরানের জনগণের মনস্তত্ত্ব ও চ্যালেঞ্জ
মোজতবা খামেনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা। ইরানের সমাজ বর্তমানে তিনটি ধারায় বিভক্ত:
- বিপ্লবী সমর্থক: যারা এই নেতৃত্বকে আদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।
- বাস্তববাদী গোষ্ঠী: যাদের কাছে নেতার চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- সংস্কারপন্থী: যারা এই উত্তরাধিকার কেন্দ্রিক নেতৃত্বকে সহজে মেনে নিতে নাও পারে।
আগামীর লড়াই: প্রক্সি বনাম সরাসরি যুদ্ধ
ইরানের ইতিহাস বলছে, তারা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ‘প্রক্সি কৌশল’ বেশি পছন্দ করে। অর্থাৎ আগুনের শিখা জ্বলবে চারদিকে, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থাকবে ছায়ার আড়ালে। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অবস্থান তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের দুর্বলতা।
উপসংহার: বাস্তবতা হলো, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি হারাতে পারবে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রও সহজে ইরানকে ভাঙতে পারবে না। মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব কি ইরানকে আরও কঠোর পথে নিয়ে যাবে, নাকি তিনি নতুন কোনো কৌশল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার খেলাকেই বদলে দেবেন? এর উত্তর হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকায়িত।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র
আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:
- সোনালী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- রূপালী ব্যাংক
- পুবালী ব্যাংক
- উত্তরা ব্যাংক
ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব
ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



