ইতিহাস

নিকোলা টেসলা: 'চাইল্ড অব লাইট'— যাঁর অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) পৃথিবীকে আলোকিত করে রেখেছে
নিকোলা টেসলা

নিউজ ডেস্ক

December 6, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন এবং টমাস আলভা এডিসনের মতো কিংবদন্তিদের ভিড়ে নিকোলা টেসলা প্রায়শই আড়ালে থেকে যান। অথচ মেধা, মনন এবং দূরদর্শী আবিষ্কারের দিক থেকে তিনি ছিলেন অনন্য। তার আবিষ্কার করা অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) পদ্ধতি আজও বিশ্বকে আলোকিত করে রেখেছে।

এই রহস্যময় ও ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী মহান বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি

  • জন্ম: ১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই (৯ জুলাই রাত ১২টার দিকে), সিমিলজান (বর্তমান ক্রোয়েশিয়া) গ্রামে।
  • রহস্যময় শৈশব: তার জন্মের সময় ভয়ঙ্কর খারাপ আবহাওয়ার কারণে মানুষ তাকে “চাইল্ড অব ডার্কনেস” বললেও, তার মা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন— “আমার ছেলে ‘চাইল্ড অব লাইট’। সে বড় হয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করবে।”
  • পারিবারিক ইচ্ছা: টেসলার বাবা ছিলেন একজন ধর্মযাজক, এবং তারও ইচ্ছা ছিল টেসলা বড় হয়ে ধর্মযাজক হবেন।

শিক্ষা ও মেধার বিকাশ

  • প্রাথমিক শিক্ষা: ১৮৬১ সালে প্রাইমারি স্কুলে জার্মান ভাষা, গণিত ও ধর্মতত্ত্ব শেখা শুরু করেন।
  • অসাধারণ মেধা: স্কুলে পড়া অবস্থাতেই তিনি জটিল সব অঙ্কের উত্তর মুখে মুখে বলে দিতে পারতেন। চার বছরের উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স তিনি তিন বছরেই শেষ করেন।
  • পলিটেকনিক যাত্রা: ১৮৭৫ সালে অস্ট্রিয়ার একটি পলিটেকনিকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান এবং প্রথম বর্ষে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন। তিনি ল্যাবরেটরিতে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করে প্রযুক্তিগত বিষয়ে তার মতভেদকে সঠিক প্রমাণ করেন। জুয়ায় আসক্তির কারণে এক বছর ড্রপ দিলেও পরে একাডেমিক লেখাপড়া ছেড়ে দেন।

কর্মজীবন ও এডিসনের সাথে সংঘাত

  • টেলিগ্রাম কোম্পানি (১৮৮১): হাঙ্গেরিতে একটি টেলিগ্রাম কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন এবং সেখানে টেলিফোনের এমপ্লিফায়ারের উন্নতি সাধন করেন।
  • এডিসন কোম্পানিতে যোগদান (১৮৮৪): এক বন্ধুর চিঠি নিয়ে তিনি টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে দেখা করতে আমেরিকায় যান। চিঠিতে লেখা ছিল: “আমি পৃথিবীতে দুজন মহাজ্ঞানী মানুষকে চিনি, যার একজন তুমি, আর অপর জন যে তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।”
  • বিশ্বাসঘাতকতা: এডিসনের ডিসি জেনারেটর পুনরায় ডিজাইন করার কাজ পেলে তিনি ৫০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন। টেসলা কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করলেও এডিসন তার প্রতিশ্রুতি রাখেননি এবং রসিকতা করে বলেছিলেন, “আরে তুমি দেখি রসিকতাও বোঝো না!” টেসলা তখন পদত্যাগ করেন।

এসি বনাম ডিসি যুদ্ধ (The War of Currents)

এডিসনের কোম্পানি ছাড়ার পর টেসলা স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেন এবং অবশেষে অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) নিয়ে কাজ শুরু করেন, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে থাকে।

বৈশিষ্ট্যঅল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) – টেসলাডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) – এডিসন
বিদ্যুৎ পরিবহনএকটি পাওয়ার স্টেশন দিয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া যায়।প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষেত্রফলের মধ্যেই কেবল কাজ করতে পারত।
ঐতিহাসিক জয়১৮৯৩ সালে শিকাগোর ওয়ার্ল্ড কলম্বিয়ান প্রতিযোগিতায় এসি মোটর জয়ী হয়।জনপ্রিয়তা হারায়।
এডিশনের বিরোধিতাএডিসন এসি-কে “ডেথ কারেন্ট” নাম দিয়ে জীবিত প্রাণী এনে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে এর বিপদজনকতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।

বিস্ফোরক আবিষ্কারসমূহ

টেসলার উদ্ভাবন এবং তত্ত্বগুলি আধুনিক বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে গেছে:

  • এক্স-রে (১৮৯৪): টেসলা অদৃশ্য তরঙ্গ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, যদিও তিনি পেটেন্ট নেননি। পরে উইলিয়াম রন্টজেন এর নাম দেন এক্স-রে।
  • রেডিও আবিষ্কার: যদিও মার্কনি রেডিও আবিষ্কারের কৃতিত্ব পান, তবে ধারণা করা হয় মার্কনি মূলত টেসলার কন্টেন্টগুলো নিয়েই কাজ করেছিলেন।
  • রাডার (১৯১৭): রবার্ট ওয়াটসন ১৯৩৫ সালে রাডার আবিষ্কার করলেও, ১৯১৭ সালেই এর থিউরি দিয়ে যান টেসলা।
  • তারহীন প্রযুক্তি: আজকের তারহীন প্রযুক্তিও (Wireless Technology) তারই আবিষ্কার।
  • প্রথম রোবট ও মিসাইল: ১৮৯৮ সালে তিনি একটি রিমোট চালিত নৌকা আবিষ্কার করেছিলেন, যা ছিল পৃথিবীর প্রথম রিমোট, প্রথম রোবট এবং প্রথম গাইডেড মিসাইল
  • বিবেকানন্দের প্রভাব: বলা হয়ে থাকে, তার অসাধারণ আবিষ্কারের পিছনে স্বামী বিবেকানন্দের বেদান্ত, আকাশ এবং জিরো পয়েন্ট ফিল্ড নিয়ে লেখা চিঠি ও বক্তৃতা তাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল।
  • উলম্বগামী প্লেন: ১৯২৮ সালে তিনি একটি প্লেন বানান, যা উলম্ব বরাবর উড়তে পারত (তাঁর সর্বশেষ পেটেন্ট)।

জীবনাবসান ও কিংবদন্তি

  • জীবনের শেষ ইচ্ছা: টেসলার জীবনের সর্বশেষ ইচ্ছা ছিল একটি টাওয়ার বানানো, যা থেকে মানুষ বিনামূল্যে ওয়্যারলেস এনার্জি পাবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা লাভ না দেখায় প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।
  • মৃত্যু: টেসলা ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি দরিদ্র অবস্থায় মারা যান। শেষ জীবনে তিনি দুধ আর বিস্কুট খেয়ে দিন পার করতেন।
  • অতুলনীয় মেধা: তাঁর ছিল ফটোগ্রাফিক মেমোরি। তিনি পুরো বই মুখস্থ বলতে পারতেন এবং মনের মধ্যে হাজার হাজার ডিজাইন করতে পারতেন। তিনি দু ঘণ্টার বেশি ঘুমাতেন না, যাকে তিনি রিচারজিং বলতেন।
  • সম্মান: তার সম্মানে, ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স ইন্টেন্সিটির এসআই একক রাখা হয় “টেসলা”

জুলাই মাসের ১০ তারিখ নিকোলা টেসলা দিবস পালন করা হয়। হয়তো বা ভুল সময়েই জন্মেছিলেন তিনি, তাই জীবদ্দশায় তাকে প্রায়শই ‘পাগল বিজ্ঞানী’ বলে ডাকা হতো। আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে নিকোলা টেসলার অবদান চিরস্মরণীয়।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিএনপির সংকট

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন


২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষায় এক আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। মানুষ এখন আর শুধু ‘বাপ-মায়ের পরিচয়’ দিয়ে নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান কেন বড় সংকটের মুখে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। চলুন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কিছু প্রশ্নবিদ্ধ দিক।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্ব

আধুনিক বিশ্বে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতার যে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য তথ্যমতে, তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এমন কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড নেই। অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গত ১৭ বছরে তাঁকে কোনো সেমিনার বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় দেখা যায়নি, যা একজন বৈশ্বিক নেতার জন্য অপরিহার্য ছিল।

২. লন্ডনের ১৭ বছর: নীরবতা না ইমেজ সংকট?

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। প্রবাসী ছাত্র বা বুদ্ধিজীবীদের মাঝে তিনি নিজের কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি করতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে, একজন নেতা হয়েও কেন তিনি আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হলেন?

৩. জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা

লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে কী ব্যবসা বা চাকরি করেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে নেই। একজন পাবলিক লিডারের আয়ের উৎস স্বচ্ছ না থাকাটা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

৪. ৯০-এর আন্দোলন ও রাজনৈতিক অনুপস্থিতি

১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়ছিলেন, তখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক তারেক রহমান ছিলেন পর্দার আড়ালে। তাঁর জীবনে রাজপথের লড়াইয়ের চেয়ে ‘ক্ষমতায় বসে রাজনীতি’ করার ইতিহাসই বেশি স্পষ্ট, যা ২০০১ সালের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে প্রমাণিত হয়েছে।

৫. নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বনাম উত্তরাধিকার

জুলাই বিপ্লবের পর আজকের তরুণ সমাজ মেধা এবং কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেখতে চায়। ডাকসু বা জাকসু নির্বাচনের সাম্প্রতিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মানুষ এখন আর বংশপরম্পরার রাজনীতিতে আস্থা রাখছে না। তারেক রহমানের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের ইমেজও তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


গুগল অ্যানালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (Sources):

১. উইকিপিডিয়া ও বায়োগ্রাফি রেকর্ড: তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রারম্ভিক রাজনৈতিক জীবন। ২. আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর্কাইভ (বিবিসি, আল-জাজিরা): গত ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্যের রেকর্ড। ৩. নির্বাচন কমিশন ও হলফনামা রেকর্ড (২০০১, ২০০৮): তৎকালীন সময়ে বিএনপি নেতৃত্বের সম্পদ ও আয়ের বিবরণের তুলনা। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ সোশ্যাল অ্যানালিটিকস: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জেনারেশন জেড (Gen-Z) এর রাজনৈতিক পছন্দ ও নেতৃত্বের প্যারামিটার বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মেজর হাফিজ

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি একাধারে রণাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীর, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঠিক তেমনই এক জীবন্ত রূপকথা।

তারেক রহমানের এই একটি মনোনয়ন বাংলাদেশের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন মেজর হাফিজকে বলা হয় ‘অলরাউন্ডার অফ দ্য সেঞ্চুরি’? চলুন জেনে নিই তাঁর জীবনের ৫টি রোমাঞ্চকর তথ্য।

১. বঞ্চিত এক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’?

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, মেজর হাফিজ ছিলেন যশোর সেনানিবাসের সেই অকুতোভয় বাঙালি অফিসার, যিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল আর সাহসিকতা দেখে সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তিনি সর্বোচ্চ খেতাব পাননি, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ হয়েই আছেন।

২. পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি অধিনায়ক ও ‘দ্রুততম মানব’

আপনি কি জানেন, ফুটবল মাঠেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা?

  • তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইতিহাসের একমাত্র বাঙালি।
  • ষাটের দশকে ট্র্যাকে তিনি ছিলেন দেশের ‘দ্রুততম মানব’ (Fastest Man)।
  • অ্যাথলেটিক্স, হকি আর ফুটবল—তিন জায়গাতেই তাঁর সমান শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই আছে।

৩. যখন তিনি ম্যারাডোনার ‘বিচারক’ হলেন!

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব। ১৯৯৪ সালে যখন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়ান, তখন ফিফা যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মেজর হাফিজ। ফিফাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী।

৪. ৭ বারের এমপি ও বর্তমান স্পিকার

রাজনীতির মাঠেও তিনি ক্লীন ইমেজের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজনীতিতে এসে ভোলার লালমোহন-তজুমদ্দিন আসন থেকে টানা ৭ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসানো সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।

৫. আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি?

সামরিক ডিসিপ্লিন, ফুটবল মাঠের গতি আর রাজনীতির প্রজ্ঞা—এই তিনের সংমিশ্রণ মেজর হাফিজকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম আসার সম্ভাবনা প্রবল।


গুগল এনালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র (Sources):

  • বিএফএফ ও ফিফা আর্কাইভ: ম্যারাডোনা ডোপ টেস্ট ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (১৯৯৪) মেম্বার লিস্ট।
  • মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্তদের অফিশিয়াল গেজেট।
  • সংসদ সচিবালয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন ও নির্বাচনী ইতিহাস।
  • বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিকস ২০২৬: বর্তমান সরকারের সংস্কার ও সংসদীয় নেতৃত্ব বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শেখ হাসিনার ‘বিজেপি

নিউজ ডেস্ক

March 13, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।

১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব

ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।

৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?

রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!


বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।

২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ