ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন এবং টমাস আলভা এডিসনের মতো কিংবদন্তিদের ভিড়ে নিকোলা টেসলা প্রায়শই আড়ালে থেকে যান। অথচ মেধা, মনন এবং দূরদর্শী আবিষ্কারের দিক থেকে তিনি ছিলেন অনন্য। তার আবিষ্কার করা অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) পদ্ধতি আজও বিশ্বকে আলোকিত করে রেখেছে।
এই রহস্যময় ও ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী মহান বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
- জন্ম: ১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই (৯ জুলাই রাত ১২টার দিকে), সিমিলজান (বর্তমান ক্রোয়েশিয়া) গ্রামে।
- রহস্যময় শৈশব: তার জন্মের সময় ভয়ঙ্কর খারাপ আবহাওয়ার কারণে মানুষ তাকে “চাইল্ড অব ডার্কনেস” বললেও, তার মা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন— “আমার ছেলে ‘চাইল্ড অব লাইট’। সে বড় হয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করবে।”
- পারিবারিক ইচ্ছা: টেসলার বাবা ছিলেন একজন ধর্মযাজক, এবং তারও ইচ্ছা ছিল টেসলা বড় হয়ে ধর্মযাজক হবেন।
শিক্ষা ও মেধার বিকাশ
- প্রাথমিক শিক্ষা: ১৮৬১ সালে প্রাইমারি স্কুলে জার্মান ভাষা, গণিত ও ধর্মতত্ত্ব শেখা শুরু করেন।
- অসাধারণ মেধা: স্কুলে পড়া অবস্থাতেই তিনি জটিল সব অঙ্কের উত্তর মুখে মুখে বলে দিতে পারতেন। চার বছরের উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স তিনি তিন বছরেই শেষ করেন।
- পলিটেকনিক যাত্রা: ১৮৭৫ সালে অস্ট্রিয়ার একটি পলিটেকনিকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান এবং প্রথম বর্ষে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন। তিনি ল্যাবরেটরিতে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করে প্রযুক্তিগত বিষয়ে তার মতভেদকে সঠিক প্রমাণ করেন। জুয়ায় আসক্তির কারণে এক বছর ড্রপ দিলেও পরে একাডেমিক লেখাপড়া ছেড়ে দেন।
কর্মজীবন ও এডিসনের সাথে সংঘাত
- টেলিগ্রাম কোম্পানি (১৮৮১): হাঙ্গেরিতে একটি টেলিগ্রাম কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন এবং সেখানে টেলিফোনের এমপ্লিফায়ারের উন্নতি সাধন করেন।
- এডিসন কোম্পানিতে যোগদান (১৮৮৪): এক বন্ধুর চিঠি নিয়ে তিনি টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে দেখা করতে আমেরিকায় যান। চিঠিতে লেখা ছিল: “আমি পৃথিবীতে দুজন মহাজ্ঞানী মানুষকে চিনি, যার একজন তুমি, আর অপর জন যে তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।”
- বিশ্বাসঘাতকতা: এডিসনের ডিসি জেনারেটর পুনরায় ডিজাইন করার কাজ পেলে তিনি ৫০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন। টেসলা কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করলেও এডিসন তার প্রতিশ্রুতি রাখেননি এবং রসিকতা করে বলেছিলেন, “আরে তুমি দেখি রসিকতাও বোঝো না!” টেসলা তখন পদত্যাগ করেন।
এসি বনাম ডিসি যুদ্ধ (The War of Currents)
এডিসনের কোম্পানি ছাড়ার পর টেসলা স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেন এবং অবশেষে অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) নিয়ে কাজ শুরু করেন, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) – টেসলা | ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) – এডিসন |
| বিদ্যুৎ পরিবহন | একটি পাওয়ার স্টেশন দিয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া যায়। | প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষেত্রফলের মধ্যেই কেবল কাজ করতে পারত। |
| ঐতিহাসিক জয় | ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ওয়ার্ল্ড কলম্বিয়ান প্রতিযোগিতায় এসি মোটর জয়ী হয়। | জনপ্রিয়তা হারায়। |
| এডিশনের বিরোধিতা | এডিসন এসি-কে “ডেথ কারেন্ট” নাম দিয়ে জীবিত প্রাণী এনে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে এর বিপদজনকতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। |
বিস্ফোরক আবিষ্কারসমূহ
টেসলার উদ্ভাবন এবং তত্ত্বগুলি আধুনিক বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে গেছে:
- এক্স-রে (১৮৯৪): টেসলা অদৃশ্য তরঙ্গ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, যদিও তিনি পেটেন্ট নেননি। পরে উইলিয়াম রন্টজেন এর নাম দেন এক্স-রে।
- রেডিও আবিষ্কার: যদিও মার্কনি রেডিও আবিষ্কারের কৃতিত্ব পান, তবে ধারণা করা হয় মার্কনি মূলত টেসলার কন্টেন্টগুলো নিয়েই কাজ করেছিলেন।
- রাডার (১৯১৭): রবার্ট ওয়াটসন ১৯৩৫ সালে রাডার আবিষ্কার করলেও, ১৯১৭ সালেই এর থিউরি দিয়ে যান টেসলা।
- তারহীন প্রযুক্তি: আজকের তারহীন প্রযুক্তিও (Wireless Technology) তারই আবিষ্কার।
- প্রথম রোবট ও মিসাইল: ১৮৯৮ সালে তিনি একটি রিমোট চালিত নৌকা আবিষ্কার করেছিলেন, যা ছিল পৃথিবীর প্রথম রিমোট, প্রথম রোবট এবং প্রথম গাইডেড মিসাইল।
- বিবেকানন্দের প্রভাব: বলা হয়ে থাকে, তার অসাধারণ আবিষ্কারের পিছনে স্বামী বিবেকানন্দের বেদান্ত, আকাশ এবং জিরো পয়েন্ট ফিল্ড নিয়ে লেখা চিঠি ও বক্তৃতা তাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল।
- উলম্বগামী প্লেন: ১৯২৮ সালে তিনি একটি প্লেন বানান, যা উলম্ব বরাবর উড়তে পারত (তাঁর সর্বশেষ পেটেন্ট)।
জীবনাবসান ও কিংবদন্তি
- জীবনের শেষ ইচ্ছা: টেসলার জীবনের সর্বশেষ ইচ্ছা ছিল একটি টাওয়ার বানানো, যা থেকে মানুষ বিনামূল্যে ওয়্যারলেস এনার্জি পাবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা লাভ না দেখায় প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।
- মৃত্যু: টেসলা ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি দরিদ্র অবস্থায় মারা যান। শেষ জীবনে তিনি দুধ আর বিস্কুট খেয়ে দিন পার করতেন।
- অতুলনীয় মেধা: তাঁর ছিল ফটোগ্রাফিক মেমোরি। তিনি পুরো বই মুখস্থ বলতে পারতেন এবং মনের মধ্যে হাজার হাজার ডিজাইন করতে পারতেন। তিনি দু ঘণ্টার বেশি ঘুমাতেন না, যাকে তিনি রিচারজিং বলতেন।
- সম্মান: তার সম্মানে, ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স ইন্টেন্সিটির এসআই একক রাখা হয় “টেসলা”।
জুলাই মাসের ১০ তারিখ নিকোলা টেসলা দিবস পালন করা হয়। হয়তো বা ভুল সময়েই জন্মেছিলেন তিনি, তাই জীবদ্দশায় তাকে প্রায়শই ‘পাগল বিজ্ঞানী’ বলে ডাকা হতো। আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে নিকোলা টেসলার অবদান চিরস্মরণীয়।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
টেক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ প্রকাশিত: 7 জুন ২০২৬
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ওয়েব ডেভেলপমেন্টের দুনিয়া অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। ২০২৬ সালে এসে শুধু বেসিক HTML, CSS বা সাধারণ কোনো ফ্রেমওয়ার্ক জানা একজন প্রফেশনাল ডেভলপারের জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এর উত্থান এবং ক্লাউড-নেটিভ আর্কিটেকচারের কারণে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজের পরিধি ও পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
আপনি যদি এই বছর নিজেকে একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তবে ফ্রন্টএন্ড, ব্যাকএন্ড এবং ফুলস্ট্যাকের আধুনিক ইকোসিস্টেমটি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. ফ্রন্টএন্ড ডেভেলপমেন্ট: আধুনিক যুগের চাহিদা

ব্যবহারকারী স্ক্রিনে যা দেখেন এবং যার সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করেন, সেটিই ফ্রন্টএন্ড। তবে বর্তমান সময়ে ফ্রন্টএন্ড কেবল ডিজাইন ও অ্যানিমেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন অনেক বেশি পারফরম্যান্স ও অপ্টিমাইজেশন কেন্দ্রিক।
ক. কোর ল্যাংগুয়েজ এবং টাইপ-সেফটি (Must-Learn)
- HTML5 & CSS3: লেআউট তৈরির জন্য এখন CSS Grid এবং Flexbox এর পাশাপাশি আধুনিক কন্টেইনার কুয়েরি (Container Queries) জানা আবশ্যক।
- JavaScript (ES6+) ও TypeScript: বর্তমান সময়ে বড় প্রজেক্টগুলোতে কাঁচা জাভাস্ক্রিপ্টের চেয়ে TypeScript-এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এটি কোড লেখার সময়ই ত্রুটি (Errors) ধরে ফেলে, ফলে কোড হয় নিরাপদ ও বাগ-মুক্ত।
খ. আধুনিক সিএসএস আর্কিটেকচার
- Tailwind CSS: ২০২৬ সালের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এটিই শীর্ষ পছন্দ। কম কোড লিখে সুপার-ফাস্ট ওয়েবসাইট তৈরিতে এর জুড়ি নেই।
- Shadcn UI / Radix Primitives: বর্তমানে ডেভেলপাররা একদম স্ক্র্যাচ থেকে বাটন বা ড্রপডাউন ডিজাইন না করে হেডলেস ইউআই (Headless UI) কম্পোনেন্ট ব্যবহার করছেন, যা টেলউইন্ডের সাথে চমৎকারভাবে কাস্টমাইজ করা যায়।
গ. ফ্রন্টএন্ড মেটা-ফ্রেমওয়ার্কের আধিপত্য (Next-Gen)
বর্তমানে কেবল ক্লায়েন্ট-সাইড রেন্ডারিং (CSR) বা সাধারণ React/Vue দিয়ে প্রফেশনাল অ্যাপ বানানো হয় না। এসইও (SEO), গতি এবং সুরক্ষার জন্য মেটা-ফ্রেমওয়ার্ক জানা বাধ্যতামূলক:
- Next.js (React এর ওপর ভিত্তি করে): এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রেমওয়ার্ক। এর Server Components এবং Streaming ফিচারের কারণে ওয়েবসাইট চোখের পলকে লোড হয়।
- Nuxt.js (Vue এর ওপর ভিত্তি করে): ভিউ ইকোসিস্টেমের জন্য এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও গোছানো মেটা-ফ্রেমওয়ার্ক।
- Remix / SvelteKit: পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক প্রজেক্টগুলোর জন্য এগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
২. ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট ও ক্লাউড ইকোসিস্টেম

ওয়েবসাইটের ভেতরের লজিক, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ইউজার অথেন্টিকেশন এবং সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করে ব্যাকএন্ড। ২০২৬ সালে ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্টের ধারাটি ডেটা প্রসেসিং এবং ক্লাউড স্টোরেজের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।
ক. আধুনিক ব্যাকএন্ড রানটাইম ও ল্যাংগুয়েজ
- Node.js ও Bun/Deno: জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যাকএন্ডের জন্য Node.js এখনো কিং। তবে অত্যন্ত দ্রুতগতির রানটাইম হিসেবে Bun এখন অনেক প্রজেক্টে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- Python (Django & FastAPI): ডাটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং বা এআই-রীতি সংবলিত ওয়েবসাইটের জন্য Python এবং এর লাইটওয়েট ফ্রেমওয়ার্ক FastAPI অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- Go (Golang) / Rust: উচ্চ পারফরম্যান্স, মাইক্রোসার্ভিসেস আর্কিটেকচার এবং বড় এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমের ব্যাকএন্ডে এই ল্যাংগুয়েজগুলো এখন শীর্ষস্থানে রয়েছে।
খ. ডাটাবেজ (Database Architecture)
আধুনিক ওয়েব অ্যাপে সাধারণত দুই ধরণের ডাটাবেজ বেশি ব্যবহৃত হয়:
- Relational (SQL): জটিল ডাটা রিলেশন এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের সুরক্ষায় PostgreSQL এবং MySQL প্রথম পছন্দ।
- Non-Relational (NoSQL): দ্রুত স্কেলিং ও নমনীয় ডেটা স্ট্রাকচারের জন্য MongoDB এবং রিয়েল-টাইম ক্যাশিংয়ের জন্য Redis ব্যবহৃত হয়।
ভেক্টর ডাটাবেজ (Vector Databases): ২০২৬ সালের নতুন ট্রেন্ড অনুযায়ী, ওয়েবসাইটে এআই সার্চ বা রেকমেন্ডেশন সিস্টেম যুক্ত করতে Pinecone বা Chroma-র মতো ভেক্টর ডাটাবেজের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
৩. ফুলস্ট্যাক কম্বিনেশন এবং “সার্ভারলেস” ট্রেন্ড

বর্তমানে ফুলস্ট্যাক ডেভেলপমেন্টের জন্য দুটি প্রধান ধারা চালু রয়েছে:
১. ঐতিহ্যবাহী আর্কিটেকচার (MERN, Laravel)
- MERN Stack: সম্পূর্ণ জাভাস্ক্রিপ্টভিত্তিক ইকোসিস্টেম হওয়ায় স্টার্টআপ ও মডার্ন প্রোডাক্ট তৈরিতে এর কোনো বিকল্প নেই।
- PHP Laravel: ফ্রিল্যান্সিং ও লোকাল মার্কেটপ্লেসের জন্য এখনো অপরাজেয়। বিশেষ করে ই-কমার্স, সিএমএস (CMS) বা পোর্টেবল ওয়েবসাইটের জন্য লারাভেলের চাহিদা তুঙ্গে।
২. আধুনিক সার্ভারলেস ও এজ আর্কিটেকচার (Serverless / Edge)
আজকাল অনেক ডেভেলপার ব্যাকএন্ডের জন্য আলাদা বড় সার্ভার ম্যানেজ না করে BaaS (Backend-as-a-Service) ব্যবহার করছেন। এর ফলে খুব দ্রুত ফুলস্ট্যাক অ্যাপ তৈরি করা যায়।
- Supabase / Firebase: এগুলো ওপেন-সোর্স ব্যাকএন্ড প্ল্যাটফর্ম, যা এক ক্লিকেই ডাটাবেজ, অথেন্টিকেশন এবং ফাইল স্টোরেজের সুবিধা দেয়।
- Prisma / Drizzle ORM: ডাটাবেজের সাথে সহজে কানেক্ট হয়ে টাইপ-সেফ কোড লেখার জন্য এই আধুনিক ORM টুলগুলো এখন স্ট্যান্ডার্ড।
৪. প্রফেশনাল ডেভেলপারদের প্রয়োজনীয় টুলস ও AI সহায়ক

বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজের গতি বাড়াতে এবং টিমের সাথে কোড শেয়ার করতে নিচের টুলসগুলোর দক্ষতা অপরিহার্য:
- সংস্করণ নিয়ন্ত্রণ (Version Control): Git এবং GitHub/GitLab। কোড ব্যাকআপ ও টিম কোলাবোরেশনের জন্য এটি জানা বাধ্যতামূলক।
- ডেভঅপ্স ও ডেপ্লয়মেন্ট (DevOps): তৈরি করা ওয়েবসাইট লাইভ করার জন্য Vercel, Netlify, Render অথবা বড় প্রজেক্টের জন্য AWS (Amazon Web Services) ও Docker এর বেসিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
- AI কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: ২০২৬ সালে একজন ভালো ডেভেলপারের অন্যতম গুণ হলো AI টুলস ব্যবহার করে দ্রুত কোড করা। GitHub Copilot, Cursor Editor, বা ChatGPT/Gemini ব্যবহার করে বাগ ফিক্সিং এবং বয়লারপ্লেট কোড লেখার দক্ষতা আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
২০২৬ সালের সম্পূর্ণ লার্নিং রোডম্যাপ ও সময়রেখা

আপনি যদি একদম শূন্য থেকে শুরু করতে চান, তবে নিচের এই ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
[ধাপ ১: ফ্রন্টএন্ড বেসিক] ──> [ধাপ ২: আধুনিক সিএসএস ও জেএস] ──> [ধাপ ৩: ফ্রন্টএন্ড ফ্রেমওয়ার্ক] ──> [ধাপ ৪: ব্যাকএন্ড ও ডাটাবেজ]
(HTML, CSS, Git) (Tailwind & TypeScript) (React.js / Next.js) (Node.js & PostgreSQL)
(৩-৪ সপ্তাহ) (৩-৪ সপ্তাহ) (৬-৮ সপ্তাহ) (৬-৮ সপ্তাহ)
আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী স্ট্যাক নির্বাচন:
- যদি লক্ষ্য হয় গ্লোবাল রিমোট জব বা রিয়্যাক্ট ইকোসিস্টেম: শিখুন — TypeScript ──> React ──> Next.js ──> Node.js ──> PostgreSQL।
- যদি লক্ষ্য হয় লোকাল জব বা ফ্রিল্যান্সিং (Upwork/Fiverr): শিখুন — JavaScript ──> Tailwind ──> PHP ──> Laravel / WordPress।
প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় ওয়েব ডেভেলপমেন্টের নিত্যনতুন ফ্রেমওয়ার্ক, টেক ট্রেন্ড এবং গ্লোবাল আইটি মার্কেটের সব গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন পালস বাংলাদেশ |ওয়েবসাইটে।
তথ্যসূত্র: এই সম্পূর্ণ এবং বর্ধিত গাইডলাইনটি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ডেভেলপার সার্ভে (Stack Overflow Survey), আধুনিক ওয়েব স্ট্যান্ডার্ড এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর আইটি ও প্রযুক্তি ডেস্কের বিশেষ পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
রাজনৈতিক ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশিত: 7 জুন ২০২৬
ফাঁসির আদেশ বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর বিচারকদের কলমের নিব ভেঙে ফেলার পেছনে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও প্রতীকী প্রথা। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া এই প্রথার পেছনে মূলত চারটি গভীর মানসিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে:
১. দণ্ডটি যেন আর পরিবর্তন করা না যায় (প্রতীকী অর্থ)

একটি আইনি রায় বা আদেশ যখন বিচারক একবার লিখে স্বাক্ষর করে দেন, তখন আইনগতভাবে বিচারক নিজেই সেই রায় আর সংশোধন বা বাতিল করতে পারেন না। কলমের নিবটি ভেঙে ফেলার অর্থ হলো—যে রায় একবার দেওয়া হয়ে গেছে, তা চিরতরে চূড়ান্ত এবং ওই কলম দিয়ে সেই রায় আর কোনোভাবেই বদলানো সম্ভব নয়।
২. অনুশোচনা ও মানসিক দায়মুক্তি
ইসলামী আইন বা সাধারণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, জীবন দেওয়ার মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। একজন মানুষ হয়ে অন্য একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং মানসিক চাপেরই কাজ। বিচারকরা এই নিব ভেঙে মূলত বোঝাতে চান যে, তারা আইনের শাসন বজায় রাখতে বাধ্য হয়ে এই আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে চাননি। এটি এক ধরণের মানসিক দায়মুক্তির প্রতীক।
৩. কলমটিকে ‘অপবিত্রতা’ থেকে রক্ষা করা
যে কলমটি একজনের জীবন কেড়ে নেওয়ার বা ফাঁসির আদেশের মতো একটি চরম নির্মম কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা যেন পরবর্তীতে অন্য কোনো সাধারণ বা শুভ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেই ধারণা থেকে নিবটি নষ্ট করে দেওয়া হয়।
৪. ‘অপরাধের’ প্রতীকী সমাপ্তি
যেহেতু ফাঁসির আদেশ পাওয়া ব্যক্তিটি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বা ক্ষতিকর কোনো অপরাধ করেছে, তাই বিচারক নিবটি ভেঙে ফেলার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই বার্তা দেন যে—অপরাধীর অপরাধের অধ্যায়ের সাথে সাথে এই কলমের আয়ুও এখানেই শেষ হলো।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং কিছু ঐতিহাসিক দিক নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)-এর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো আসামির ফাঁসির রায় এক দিনের সিদ্ধান্তেই কার্যকর হয় না। এটি একটি দীর্ঘ এবং অত্যন্ত সতর্ক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়
- ডেথ রেফারেন্স (Death Reference): জেলা ও দায়রা জজ আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে আইন অনুযায়ী তা সরাসরি কার্যকর করা যায় না ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের এই রায় অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট বিভাগে) পাঠাতে হয়, যাকে ‘ডেথ রেফারেন্স’ বলা হয়
- আপিল বিভাগ ও রিভিউ: হাইকোর্ট বিভাগ যদি নিম্ন আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখে, তবে আসামির সুযোগ থাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার [lawyersnjurists.com, researchgate.net]। আপিল বিভাগেও রায় বহাল থাকলে আসামি শেষ আইনি লড়াই হিসেবে ‘রিভিউ’ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা: সব আইনি প্রক্রিয়া (আপিল ও রিভিউ) খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আসামির শেষ আশ্রয় থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মার্সি পিটিশন’ বা প্রাণভিক্ষার আবেদন করা [old.seu.edu.bd]。 রাষ্ট্রপতি এই আবেদন নাকচ করে দিলে রায় কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয় [ntvbd.com]।
- কারাগারের শেষ ধাপ: রাষ্ট্রপতির চিঠি কারাগারে পৌঁছানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ আসামির পরিবারকে শেষবার দেখা করার সুযোগ দেয় [ntvbd.com]। রায় কার্যকরের আগে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী তওবা বা শেষ প্রার্থনা করানো হয় [ntvbd.com]। আইনের নিয়ম অনুযায়ী (CrPC Section 368), আসামিকে “ঘাড়ের সাহায্যে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত” (Hanged by the neck until he be dead) ফাঁসি দেওয়া হয় [en.wikipedia.org]।
২. উপমহাদেশের বিচার ব্যবস্থার কিছু ঐতিহাসিক রায় ও মাইলফলক

ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা উত্তর সময় পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিচার ব্যবস্থায় কিছু ঐতিহাসিক মামলা সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে:
- ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি (১৯০৮): ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সর্বকনিষ্ঠ বাঙালি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বিহারের মুজাফফরপুরে অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রফুল্ল চাকীর সাথে মিলে তিনি বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন। অল্পের জন্য কিংসফোর্ড বেঁচে গেলেও দুই ব্রিটিশ নারী নিহত হন। মাত্র ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন বয়সে ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে আত্মদান করেন তিনি।

মুজাফফরপুর ষড়যন্ত্র মামলা ও ফাঁসি
- ঘটনা: ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিহারের মুজাফফরপুরে রাতের অন্ধকারে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডের গাড়িতে বোমা ছোড়া হয়। কিন্তু সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড না থাকায় মিসেস কেনেডি ও তাঁর কন্যা নিহত হন।
- গ্রেপ্তার: ঘটনার পর প্রফুল্ল চাকী গ্রেপ্তারের আগে আত্মহত্যা করেন এবং ক্ষুদিরাম গ্রেপ্তার হন। বিচারে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। [
- ফাঁসি: ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ভোর ৪টায় মুজাফফরপুর জেলে ক্ষুদিরামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। [
- সাহসিকতা: মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হলে তিনি নির্ভীকভাবে বলেছিলেন, “আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।”
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড মামলা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। ১৯৭৫ সালে জারি করা ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশের কারণে সুদীর্ঘ সময় এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ ছিল।

আইনি প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের পথ উন্মুক্তকরণ
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ খুনিদের আইনি সুরক্ষা দিতে এই অধ্যাদেশ জারি করেন।
- অধ্যাদেশ বাতিল: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচারের পথ উন্মুক্ত করে。
- অভিযোগপত্র: ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের সিআইডি (CID) ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে।
বিচার প্রক্রিয়ার সময়রেখা ও রায়
- নিম্ন আদালতের রায়: ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল মামলার রায়ে ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেন।
- হাইকোর্টের রায়: ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের খালাস দেন।
- আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়: ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আসামিদের আপিল খারিজ করে চূড়ান্তভাবে ১২ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে
সাজা কার্যকরের সর্বশেষ অবস্থা
মামলায় চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, ১ জন বিদেশে পলাতক অবস্থায় মারা গেছেন এবং বাকি ৫ জন এখনও বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে আছেন।
| সাজা ও বর্তমান স্থিতি | আসামিদের নাম | বিবরণ ও কার্যকরের সময় |
|---|---|---|
| ফাঁসি কার্যকর (প্রথম পর্যায়) | ১. সৈয়দ ফারুক রহমান ২. সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ৩. বজলুল হুদা ৪. এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ৫. মহিউদ্দিন আহমেদ | ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একযোগে এই ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। |
| ফাঁসি কার্যকর (দ্বিতীয় পর্যায়) | ৬. আবদুল মাজেদ | দীর্ঘকাল ভারতে পালিয়ে থাকার পর ২০২০ সালের এপ্রিলে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন এবং ১২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়। |
| পলাতক অবস্থায় মৃত্যু | ७. আবদুল আজিজ পাশা | ২০০১ সালের ২ জুন জিম্বাবুয়েতে পলাতক থাকা অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে মারা যান। |
| এখনও পলাতক আসামি | ৮. খন্দকার আবদুর রশিদ ৯. শরিফুল হক ডালিম ১০. এ এম রাশেদ চৌধুরী (যুক্তরাষ্ট্র) ১১. এস এইচ বি এম নূর চৌধুরী (কানাডা) ১২. মোসলেম উদ্দিন | ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি থাকা সত্ত্বেও এই ৫ খুনিকে এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। |
এই বিচার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়।
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল):
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ আদালত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের আমলে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে এই আদালত পরিচালিত হয়ে আসছে।

ট্রাইব্যুনাল গঠনের ইতিহাস ও বিবর্তন
- ১১৯৩ সালের আইন: ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মূল আইনটি পাস করা হয়।
- ২০১০ সালের পুনর্গঠন: মুক্তিযুদ্ধের ৩৯ বছর পর ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়।
- ২০২৪ সালের রূপান্তর: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। [
আইনি সংস্কার ও সাম্প্রতিক সংশোধনীসমূহ
বিচারের পরিধি বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আইনে ধারাবাহিক কিছু ঐতিহাসিক সংশোধন আনা হয়েছে:
- রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধকরণ: ২০২৫ সালের মে মাসে আইনে বড় সংশোধনী এনে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী করে তাদের নিবন্ধন বাতিল বা নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়।
- জনপ্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জারি করা তৃতীয় সংশোধনী অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Charge) দাখিল হলে তিনি আর জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এবং সরকারি পদে বসতে পারবেন না।
- গুমের (Enforced Disappearance) বিচার: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস করে গুমের ঘটনাকে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এক্তিয়ারভুক্ত করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ার মাইলফলক রায়সমূহ
১. ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার
২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের মোট ৫৭টি মামলার রায় দেয়। এর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ৬ জন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়:
- জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাসেম আলী।
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
২. ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ট্রাইব্যুনালে জুলাই বিপ্লবের গণহত্যা ও নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় দেয়।
ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিচারিক কাঠামো
| পদের নাম | বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব |
|---|---|
| চীফ প্রসিকিউটর | অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম |
| তদন্ত সংস্থা | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থা |
| বিচারিক বেঞ্চ | ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ট্রাইব্যুনাল-২ (সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত) |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইতিহাস, রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ের এমন চমৎকার ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ নিয়মিত পড়তে ভিজিট করুন পালস বাংলাদেশ | Pulse Bangladesh।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের জুন মাস ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা আইয়ুব-মোনায়েম খানের শোষণের শৃঙ্খল ভাঙতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ দাবির সপক্ষে এই দিনগুলোতে পূর্ব পাকিস্তান, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছিল এক অগ্নিগর্ভ রণক্ষেত্রে।
৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬: লাহোরে বাঙালির ‘ম্যাগনা কার্টা’ ঘোষণা

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলগুলোর এক কনভেনশনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও মুক্তির সনদ হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকায় বাঙালিদের মধ্যে যে চরম ক্ষোভের জন্ম নেয়, এটি ছিল তারই রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ।
সাবজেক্ট কমিটির সভায় এই দাবি অগ্রাহ্য হলে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বয়কট করেন এবং পরবর্তীতে ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তানি শাসকদের দীর্ঘদিনের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এটি ছিল অধিকার আদায়ের এক যুগান্তকারী দলিল, যা ইতিহাসে বাঙালির ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা মুক্তির মহাসনদ নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি কী ছিল?
- ১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে।
- ২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কেবল দুটি বিষয়—’প্রতিরক্ষা’ ও ‘পররাষ্ট্র বিষয়’। অন্যান্য সব বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- ৩. মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা: দুই অঞ্চলের জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকবে, অথবা এক মুদ্রা থাকলে পূর্ব পাকিস্তানের পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- ৪. राजस्व, কর ও শুল্ক বিষয়ক ক্ষমতা: কর ও শুল্ক ধার্য করার চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হবে।
- ৫. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং বিদেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তির অধিকার পাবে।
- ৬. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী (প্যারা-মিলিটারি) বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের লাগাতার আন্দোলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৬৬ সালের জুনের শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে লাগাতার মিছিল ও সমাবেশ করা হতে থাকে। তৎকালীন ছাত্রনেতাদের আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসেন।
“ছয় দফা মানতে হবে”, “বাঙালির মুক্তি চাই”—এমন সব বজ্রকঠিন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কলাভবন, মধুর ক্যান্টিন এবং কার্জন হল প্রাঙ্গণ। ছাত্রদের এই লাগাতার আন্দোলনই মূলত ৭ জুনের ঐতিহাসিক হরতাল সফল করার মূল ভিত্তি প্রস্তুত করেছিল।
৭ই জুন: ঢাকার রাজপথে নারীদের অভূতপূর্ব মিছিল ও প্রতিরোধ

১৯৬৬ সালের ৭ই জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবির সমর্থনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আহূত সর্বাত্মক হরতালে ঢাকার রাজপথে নারীদের অভূতপূর্ব মিছিল, পিকেটিং ও সাহসী প্রতিরোধ প্রথমবার প্রত্যক্ষ করে পুরো বিশ্ব। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের রক্তচক্ষু ও কারফিউ উপেক্ষা করে হাজার হাজার সাধারণ ও শ্রমজীবী নারী সেদিন অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন।
নারীদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রধান দিকগুলো:
- রাজপথে অভাবনীয় পিকেটিং: তেজগাঁও, সদরঘাট ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ গৃহিণী এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা দলে দলে রাজপথে নেমে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের ছাত্রীরা লাঠি হাতে মিছিল নিয়ে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো কাঁপিয়ে তোলেন।
- তেজগাঁওয়ে নারী শ্রমিকদের বীরত্ব: ৭ই জুনের হরতালের অন্যতম মূল কেন্দ্র ছিল ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকা। পুলিশ যখন আন্দোলনকারীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ ও গুলি শুরু করে, তখন এখানকার বিভিন্ন চটকল ও সুতাকলের হাজার হাজার নারী শ্রমিক ঝাঁটা, লাঠি ও ইট-পাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন।
- রেনেসাঁর অন্তরালে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তখন কারাবন্দি। এই চরম সংকটে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ অন্য নেতাদের পরিবারের নারীরা গোপনে সাধারণ নারী সমাজকে সংগঠিত করতে এবং হরতাল সফল করার বার্তা পৌঁছে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
এই ৭ই জুনের সফল গণজাগরণই প্রমাণ করেছিল ৬ দফা শুধু শিক্ষিত মধ্যবিত্তের আন্দোলন নয়, এটি বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ নারী সমাজেরও বাঁচার দাবি।
আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবক জিয়াউল হকের ৯২তম জন্মদিন

ঐতিহাসিক এই উত্তাল দিনগুলোর স্মরণের মাঝেই আজ ৬ জুন, বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছিলেন এক অনন্য আলোকবর্তিকা। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সমাজসেবক এবং “বেচি দই, কিনি বই” খ্যাত মো: জিয়াউল হকের ৯২তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৩৪ সালের ৬ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার চামা মুশরিভুজা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবনসংগ্রাম ও অনন্য আদর্শ:
- “বেচি দই, কিনি বই”: অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া জিয়াউল হক টাকার অভাবে পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে মাথায় ফেরি করে দই বিক্রি শুরু করলেও, অন্য কোনো শিশু যেন টাকার অভাবে ঝরে না পড়ে, সেই চিন্তা থেকে তিনি দই বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে বই কেনা শুরু করেন। বিগত ছয় দশক ধরে তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই, খাতা ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করছেন।
- পারিবারিক লাইব্রেরি: শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন প্রায় ১৫,০০০ বইয়ের একটি বিশাল লাইব্রেরি, যা এলাকার সর্বস্তরের পাঠক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ২০০৬ সালে তিনি দেশব্যাপী বিখ্যাত “সাদা মনের মানুষ” উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তীতে সমাজসেবায় অবিনাশী ও নিঃস্বার্থ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২৪ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ civilian সম্মাননা একুশে পদক প্রদান করে।
বাঙালির গৌরবময় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, মহান মনীষীদের জীবনী এবং জাতীয় রাজনীতির সব বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন পালস বাংলাদেশ | Pulse Bangladesh।ওয়েবসাইটে।
তথ্যসূত্র: এই বিশেষ ঐতিহাসিক ও জাতীয় প্রতিবেদনটি ১৯৬৬ সালের স্বাধিকার আন্দোলনের নথিপত্র, জাতীয় আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক ডেস্কের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।



