ইতিহাস

বিশ্বের কিছু দুর্লভ ছবি: মানবসভ্যতার অদেখা ইতিহাসের জানালা
বিশ্বের কিছু দুর্লভ ঐতিহাসিক ছবি

নিউজ ডেস্ক

December 1, 2025

শেয়ার করুন

পৃথিবীর ইতিহাস শুধু শব্দের বয়ান নয়—ইতিহাসের গভীরতম সত্যকে তুলে ধরে কিছু সাদা–কালো, বিবর্ণ, ধূলোমলিন ছবি। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই দুর্লভ ছবিগুলো আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় একেকটি যুগে, যেখানে রাষ্ট্র, রাজনীতি, যুদ্ধ, কবিতা, বিজ্ঞান এবং মানব সভ্যতার প্রতিটি গৌরবময় ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত বন্দি হয়ে আছে সময়ের মধ‍্যে।

নিচে তুলে ধরা হলো বিশ্বের কিছু অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক মূল্যবান ছবি, যা শুধু ছবি নয়—সভ্যতার দলিল।

১. ব্রিটিশ পুলিশের হাতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শেষ গ্রেফতার (১৯৪০)

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজির গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং শেষ গ্রেফতারের ছবি ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
১৯৪০ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে কলকাতার এলগিন রোডের বাসা থেকে আটক করে। এই ছবিটি অত্যন্ত বিরল কারণ এই ঘটনার পরপরই নেতাজির রাজনৈতিক পথ নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা, গৃহবন্দি অবস্থা থেকে নাটকীয় পলায়ন এবং পরবর্তীতে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের সূচনা—সবকিছুর সূচনা এই ঐতিহাসিক গ্রেফতারের পর।

এই ছবিটি আজ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান প্রমাণ।

২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আলবার্ট আইনস্টাইনের মহাশিল্প–মহাবিজ্ঞানের সাক্ষাৎ (১৯২৬)

বিশ্ব সাহিত্য ও বিশ্ববিজ্ঞানের দুই মহাতারকার এই সাক্ষাৎ সভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
আইনস্টাইনের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ ১৯২৬ সালে তাঁর বাড়িতে যান, এবং দু’জনের মধ্যে হয় অসাধারণ দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা—
মানব সত্তা, ঈশ্বর, সত্য, সৌন্দর্য, সময়—সব কিছু নিয়ে।

তাঁদের ছবিগুলো শুধু একটি সাক্ষাৎকারের দলিল নয়, বরং প্রমাণ—
বিজ্ঞান ও সাহিত্য দুই স্রোত মিলেই মানুষের সভ্যতা।

৩. ১৯৩০ সালে ভগত সিং, সুখদেব ও রাজগুরুর মৃত্যুদণ্ডের সরকারি পোস্টার

ভারতের তিন বিপ্লবী—ভগত সিং, সুখদেব, রাজগুরু—যাদের নাম আজও সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে যে পোস্টার প্রকাশ করে, তা ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

এই পোস্টার দেখলে বোঝা যায় স্বাধীনতার জন্য তরুণ বিপ্লবীরা কত কঠিন মূল্য দিয়েছেন।
এটি আজও ফরেনসিক আর্কাইভে সংরক্ষিত এবং ইতিহাস গবেষণায় চরম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪. বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ছবি (১৯৪২)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল সময়। জার্মানিতে গিয়ে নেতাজির নাজি শাসকের সঙ্গে বৈঠকের বিরল ছবি আজও অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই নেতাজির পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট হয়:

  • ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহ
  • INA বা আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের ভিত্তি তৈরি
  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয়দের নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী তৈরির পরিকল্পনা

হিটলার–নেতাজির একই ফ্রেমে থাকা এই ছবিটি বিশ্বের বিরলতম রাজনৈতিক দলিলগুলোর একটি।

৫. ড. জন মুরের তোলা তাজমহলের প্রথম দিকের ছবি (১৮৫০-এর দশক)

তাজমহলের আজকের ঝকমকে সাদা রূপ দেখলেও ১৮৫০–এর দশকের তোলা ছবিগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা দেখায়। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ড. জন মুরে প্রথমবারের মতো তাজমহলকে ছবিতে বন্দি করেছিলেন।

ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়—

  • পরিবেশ অনেকটাই নির্জন
  • তাজমহলের চারপাশে আধুনিক বাগান তৈরির কাজ তখনো হয়নি
  • নির্মাণসামগ্রীর ক্ষয়চিহ্নও দেখা যায়

এসব ছবিই তাজমহলের প্রথম ভিজ্যুয়াল নথি।

৬. নির্মীয়মাণ হাওড়া ব্রিজ—১৯৩০-এর দশক

আজকের হাওড়া ব্রিজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময়।
কিন্তু ১৯৩০–এর দশকে যখন এটি তৈরি হচ্ছিল, তখন ভারত ব্রিটিশদের অধীনে আর্থ–রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চলছিল।

নির্মাণাধীন হাওড়া ব্রিজের ছবি—

  • বিশাল স্টিল প্লেটে ভরপুর গঙ্গার তীর
  • শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম
  • অপরূপ কাঠামোগত ডিজাইন

এই ছবিগুলো কলকাতার ইতিহাসকে নতুন প্রাণ দেয়।

৭. শান্তিনিকেতনে তিন কিংবদন্তি—মরিস গুইয়ার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন

একই ছবি তিনটি মহামানবকে এক ফ্রেমে ধরে—

  • বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • শিক্ষাবিদ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন
  • ফরাসি শিল্প–তত্ত্ববিদ মরিস গুইয়ার

শান্তিনিকেতন সে সময় বিশ্বশিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
এই ছবি শিক্ষাঙ্গন ও শিল্পচর্চার বিশ্বায়নের এক ঐতিহাসিক প্রমাণ।

৮. ভারতের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন—৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬

এই ছবি ভারতের সংবিধান যাত্রার সূচনা।
স্বাধীনতা লাভের আগেই গণপরিষদ প্রথম বৈঠক করে, যেখানে ছিলেন:

  • ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
  • জওহরলাল নেহরু
  • বি.আর. আম্বেদকর
  • মৌলানা আজাদ
  • সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন

এই ছবি শুধু একটি সভার নয়—একটি নতুন রাষ্ট্র জন্ম নেওয়ার মুহূর্তের দলিল।

৯. দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের প্রথমদিকের ইঞ্জিন (১৮৮০-এর দশক)

বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করা দার্জিলিং “টয় ট্রেন” ১৮৮০-এর দশকে প্রথম চালু হয়।
এই পুরোনো ছবিতে দেখা যায়—

  • ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারদের ধাতব নকশা
  • পাহাড় কেটে তৈরি রেললাইন
  • হিমালয় পাদদেশে রেল পরিবহনের সূচনা

এটি ভারতের রেলওয়ে ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ।

উপসংহার

এই ছবিগুলো সময়কে থামিয়ে রেখেছে।
নেতাজির সংগ্রাম, রবীন্দ্রনাথ–আইনস্টাইনের সাক্ষাৎ, ভগত সিংয়ের রায়, তাজমহলের প্রথম নথি, হাওড়া ব্রিজের নির্মাণ, দার্জিলিং রেলের জন্ম—সব মিলিয়ে এগুলো মানব সভ্যতার একেকটি মূল্যবান মানচিত্র।

ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় নয়—ছবির অমর স্মৃতিতেও বেঁচে থাকে।
এইসব দুর্লভ ছবি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—

সময়ের ওপারে আছে এক বিস্ময়কর পৃথিবী, যা আজও আমাদের ভিতরে অনুরণন তোলে।


সূত্রসমূহ

১. Netaji Research Bureau Archives
২. British India Police Records
৩. The Nobel Prize Foundation Archives
৪. The Einstein Archives, Jerusalem
৫. National Archives of India
৬. German Federal Archives (Bundesarchiv)
৭. British Library Photo Collection
৮. Calcutta Municipal & TOI Historical Archives
৯. Visva-Bharati University Digital Collection
১০. Indian Railways Heritage Directorate

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শীতে

নিউজ ডেস্ক

November 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: লাইফ স্টাইল (ভ্রমণ)
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (Bangladesh Parjatan Corporation), ট্রাভেল গ্রুপস রিভিউ এবং লোকাল ব্যাকপ্যাকার্স কমিউনিটি ডাটাবেস 

শীতের মিষ্টি রোদ আর হালকা ঠান্ডা আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য বছরের সবচেয়ে সেরা সময়। এই সময়ে অনেকেই দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততা ও একঘেয়েমি কাটাতে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা করেন। তবে ভ্রমণ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বড় অঙ্কের বাজেট। কিন্তু আমাদের সুন্দর বাংলাদেশে এমন কিছু চমৎকার জায়গা রয়েছে যেখানে খুব কম খরচেই শীতের সৌন্দর্য সম্পূর্ণ উপভোগ করা সম্ভব। গুগলের ২০২৬ সালের বাজেট ট্রাভেল নির্দেশিকা এবং বর্তমান যাতায়াত খরচের ওপর ভিত্তি করে শীতে বাংলাদেশে ঘোরার মতো ৫টি সেরা ও কম খরচের জায়গা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: 

১. শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) – চায়ের দেশে কুয়াশা মোড়ানো সকাল
শীতকালে শ্রীমঙ্গলের রূপ অনন্য হয়ে ওঠে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ চা বাগান, লেবু বাগান এবং আনারস বাগানের ওপর যখন সকালের ঘন কুয়াশা চাদর বিছিয়ে দেয়, সেই দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। 

  • মূল আকর্ষণ: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল (শীতের যাযাবর পাখি দেখার সেরা জায়গা), মাধবপুর লেক এবং নীলকণ্ঠ টি কেবিনের ৭ রঙের চা। 
  • কম খরচে ঘোরার উপায়: ঢাকা বা যেকোনো প্রান্ত থেকে লোকাল বা আন্তঃনগর ট্রেনে সরাসরি শ্রীমঙ্গল চলে যান। ট্রেনের টিকিট কাটলে যাতায়াত খরচ অনেক কমে যায়। শ্রীমঙ্গল শহরে সাধারণ কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অনেক বাজেট হোটেল বা ডরমিটরি রয়েছে যেখানে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে রাত্রিযাপন করা সম্ভব। বাগানের আশপাশে ঘুরে বেড়ানোর জন্য লোকাল অটো রিকশা বা সিএনজি শেয়ার করে নিলে খরচ একদম নামমাত্র হবে। 

২. টাঙ্গুয়ার হাওর (সুনামগঞ্জ) – হাউসবোটে শীতের স্নিগ্ধতা


বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর সাগরের মতো রূপ নিলেও, শীতে এর জল কমতে শুরু করে এবং চারপাশ শান্ত স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। এই সময়ে সাইবেরিয়া থেকে আসা হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে পুরো হাওর। কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির নিচে জলজ উদ্ভিদ দেখার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা মেলে এই শীতে। 

  • মূল আকর্ষণ: অতিথি পাখি, টেকেরঘাট শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক), বারিক্কা টিলা এবং জাদুকাটা নদী। 
  • কম খরচে ঘোরার উপায়: ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের নন-এসি বাস ভাড়া সাধারণ সাশ্রয়ী। সুনামগঞ্জ সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে ট্রলার বা লোকাল লাইফ বোট শেয়ার করে টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলাদ্রি লেক ঘুরে আসা যায়। কয়েকজন বন্ধু মিলে গ্রুপ করে গেলে বড় হাউসবোটের বদলে মাঝারি সাইজের সাধারণ নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করলে জনপ্রতি খরচ ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে থাকা-খাওয়াসহ সম্পূর্ণ ট্যুর শেষ করা সম্ভব। 

৩. কক্সবাজার (মেরিন ড্রাইভ ও ইনানী) – সাশ্রয়ী উপায়ে সমুদ্র বিলাস
শীতকালে কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকলেও একটু বুদ্ধি খাটালে খুব কম খরচে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত উপভোগ করা সম্ভব। শীতের শান্ত সমুদ্র এবং কুয়াশাচ্ছন্ন মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। 

  • মূল আকর্ষণ: সুগন্ধা ও লাবণী বিচ, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী পাথুরে সৈকত এবং পাটুয়ারটেক। 
  • কম খরচে ঘোরার উপায়: মূল সিজন হওয়ায় প্রধান বিচ সংলগ্ন হোটেলের ভাড়া বেশি থাকে। তবে সুগন্ধা বা কলাতলী মোড়ের মেইন রোড থেকে একটু ভেতরের দিকের গলির হোটেলগুলোতে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে রুম পাওয়া যায়। কলাতলী থেকে ইনানী বা হিমছড়ি যাওয়ার জন্য জিপ বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ না করে লোকাল ইজি বাইক (টমটম) বা শেয়ার্ড সিএনজি ব্যবহার করলে যাতায়াত খরচ এক-চতুর্থাংশে নেমে আসবে। এছাড়া খাওয়ার জন্য বড় রেস্টুরেন্ট পরিহার করে লোকাল ‘ভাতের হোটেল’গুলো বেছে নিলে খরচ অনেক বাঁচবে। 

৪. বিরিশিরি (নেত্রকোনা) – চীনামাটির পাহাড় ও সোমেশ্বরী নদী
শীতকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরির সৌন্দর্য দেখার মতো হয়। বর্ষার কাদা-মাটি পেরিয়ে শীতে সোমেশ্বরী নদীর পানি একদম শান্ত ও স্বচ্ছ কাঁচের মতো হয়ে যায়। আর চীনামাটির পাহাড়ের হ্রদের হালকা নীল ও সবুজ জল আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। 

  • মূল আকর্ষণ: সাদা ও গোলাপী চীনামাটির পাহাড়, নীল জলের হ্রদ, সোমেশ্বরী নদী এবং কালচারাল একাডেমি। 
  • কম খরচে ঘোরার উপায়: ঢাকা থেকে সরাসরি দুর্গাপুরের বাস রয়েছে। এছাড়া ট্রেনে করে জারিয়া ঝাঁঝাইল স্টেশনে নেমে সেখান থেকে লোকাল সিএনজি বা অটোতে খুব সহজে ও কম খরচে বিরিশিরি পৌঁছানো যায়। বিরিশিরি বাজারে এবং জিরো পয়েন্টের আসেপাশে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে সাধারণ লজিং বা বোর্ডিং পাওয়া যায়। পাহাড় ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখার জন্য লোকাল রিকশা বা মোটর সাইকেল শেয়ারিং সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম। 

৫. সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) – পাহাড় ট্র্যাকিং ও শীতের কুয়াশা


যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন এবং কম খরচে পাহাড়ের চূড়ায় শীতের কুয়াশা ছুঁতে চান, তাঁদের জন্য সীতাকুণ্ড সেরা চয়েস। শীতের সকালে পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটা এবং চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া থেকে কুয়াশায় ঢাকা বঙ্গোপসাগর দেখার অনুভূতি অতুলনীয়। 

  • মূল আকর্ষণ: চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির, গুলিয়াখালী বিচ (সবুজ ঘাসের সৈকত), এবং মহামায়া লেক (কায়াকিং করার সুবিধা)। 
  • কম খরচে ঘোরার উপায়: ঢাকা বা অন্য শহর থেকে মেইল ট্রেন বা লোকাল বাসে সরাসরি সীতাকুণ্ড বাজারে নেমে যাওয়া যায়। সীতাকুণ্ড বাজারে বেশ কিছু সস্তা ও ভালো মানের লোকাল হোটেল রয়েছে যেখানে ১,০০০ টাকার নিচে ডাবল বেডের রুম পাওয়া যায়। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার জন্য কোনো গাইডের প্রয়োজন হয় না, ফলে বাড়তি কোনো খরচ নেই। মহামায়া লেক বা গুলিয়াখালী বিচে যাওয়ার জন্য লোকাল লেগুনা বা অটো ব্যবহার করলে যাতায়াত খরচ অনেক কম পড়বে। 


শীতের সিজনে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার আগে ট্রেনের বা বাসের টিকিট অন্তত এক সপ্তাহ আগে কেটে রাখুন। গ্রুপ বা বন্ধুদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে ভ্রমণ করলে (Group Tour) থাকা, খাওয়া ও গাড়ি ভাড়ার খরচ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। এছাড়া প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 7, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইতিহাস
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (১৫শ খণ্ড), লে. কর্নেল (অব.) এম এ হামিদ পিএসসির ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’, এবং সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংবাদপত্র আর্কাইভস 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, অস্থির এবং নাটকীয় পালাবদলের সময়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন গতিপথে চালিত করে। এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দিবসের নেপথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি: ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর জেরে ৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং ঢাকা ওয়ান বেঙ্গলের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে একটি পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। 

খালেদ মোশাররফের এই অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তাঁর পদ থেকে পদচ্যুত করা হয় এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে তাঁকে সম্পূর্ণ গৃহবন্দি (House Arrest) করে রাখা হয়। খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৬ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। 

২. নেপথ্যের অনুঘটক: জাসদ ও কর্নেল তাহেরের বিপ্লবের ডাক
মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের এই পাল্টা অভ্যুত্থানকে সেনাবাহিনীর সাধারণ জওয়ান বা সিপাহিদের একটি বড় অংশ ভারতের মদদপুষ্ট এবং মোশতাক চক্রের আরেকটি অংশের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে চশমায় দেখছিল। এই সুযোগে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী দল ‘জাসদ’ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)-এর সামরিক শাখা ‘গণবাহিনী’ এবং এর অন্যতম প্রধান নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহের সেনানিবাসের সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে এক গোপন প্রচারণা চালান। 

কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ সিপাহিদের বৈষম্য দূরীকরণ, ১২ দফা দাবি আদায় এবং ‘শ্রেণিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ল্যান্স নায়েক ও সুবেদারদের সংগঠিত করে। ৭ নভেম্বর ভোররাতে এক গণ-অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা, কারণ জিয়াউর রহমান সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। 

৩. ৭ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাত এবং সিপাহি-জনতার জাগরণ
৬ নভেম্বর মধ্যরাত পার হয়ে ৭ নভেম্বর ভোররাতে (আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে) ঢাকা সেনানিবাসে সিপাহিদের বিদ্রোহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেটে পড়ে। ট্যাংকের গর্জন এবং শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সিপাহিরা ব্যারাকে ব্যারাকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। 

  • জিয়াউর রহমানের মুক্তি: সিপাহিদের একটি দল দ্রুত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসভবনে যায় এবং পাহারারত সেন্ট্রিদের নিরস্ত্র করে তাঁকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান সিপাহিদের শান্ত থাকার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। 
  • খালেদ মোশাররফের পতন ও মৃত্যু: সিপাহিদের এই ভয়াবহ বিদ্রোহের মুখে টিকতে না পেরে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার (যাঁরা সবাই বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) শেরেবাংলা নগরের ১০ বেঙ্গলের সদর দপ্তরে আশ্রয় নেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর সকালেই উত্তেজিত ও বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে এই তিন লিজেন্ডারি সামরিক কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। 
  • রাজপথে জনতার ঢল: সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেনানিবাসের সিপাহিরা ট্রাকে করে, ট্যাংকের ওপর চড়ে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। তাদের মুখে স্লোগান ছিল—‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’, ‘জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ’। রাজপথের সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৈনিকদের সাথে যোগ দেয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। সিপাহি ও জনতার এই অভূতপূর্ব সংহতির কারণেই দিনটিকে ইতিহাসে ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে অবিহিত করা হয়। 

৪. রাজনৈতিক তাৎপর্য ও পরবর্তী ফলাফল
৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দেয়: 

  • জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আগমন: এই বিপ্লবের পর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল থাকলেও, জিয়াউর রহমান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (Chief Deputy Martial Law Administrator) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। 
  • কর্নেল তাহেরের সাথে দূরত্ব: সিপাহিদের ১২ দফা দাবি এবং জাসদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ধারার সাথে জিয়ার শাসনতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী চিন্তাভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তীতে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 


ইতিহাসের পাতা সবসময় একমুখী নয়। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন একটি পক্ষ ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বা ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও শ্রদ্ধার সাথে উদ্‌যাপন করে, ঠিক তেমনই আরেকটি পক্ষ এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে, কারণ এই দিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও জওয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গুগলের ২০২৬ সালের নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক কনটেন্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়া এই দিবসের সকল পক্ষের বাস্তব প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আধুনিক ও জটিল সমাজে মানসিক শান্তি ও সঠিক পথের সন্ধানে নবী-রাসূলদের আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। জেনে নিন নবী রাসূলদের জীবনী থেকে শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ। 

বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। 

১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)। 

আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি। 

২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া। 

৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে। 


নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ