আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।
১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব
ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।
৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?
রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
১৮২৬ সালে জন ওয়াকার তাঁর গবেষণাগারে কিছু রাসায়নিক পদার্থ একটি পাত্রে রেখে কাঠের কাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। নাড়ানোর পর তিনি লক্ষ্য করেন যে কাঠির মাথায় সেই রাসায়নিক মিশ্রণটি শক্ত হয়ে লেগে গেছে।
সেই শক্ত অংশটি দূর করার জন্য তিনি যখন কাঠিটিকে ঘরের মেঝেতে জোরে ঘষা দেন, তখন অলৌকিকভাবে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। এই আকস্মিক ঘটনাই মানব ইতিহাসের প্রথম ঘর্ষণ দেশলাই বা ‘ফ্রিকশন ম্যাচ’ আবিষ্কারের সূত্রপাত ঘটায়।
জন ওয়াকারের প্রথম দেশলাইয়ের গঠন ও উপাদান

জন ওয়াকারের তৈরি প্রথম দেশলাই আজকের দেশলাইয়ের মতো এতটা উন্নত ছিল না। শুরুর দিকে এটি তৈরিতে যে মূল উপাদানগুলো ব্যবহার করা হতো তা নিচে দেওয়া হলো:
- রাসায়নিক মিশ্রণ: কাঠির মাথায় অ্যান্টিমনি সালফাইড (Antimony Sulfide), পটাশিয়াম ক্লোরেট (Potassium Chlorate) এবং আঠা বা গাম ব্যবহার করা হতো।
- আগুন জ্বালানোর পদ্ধতি: এই কাঠিগুলোকে খসখসে স্যান্ডপেপার বা শিরীষ কাগজের ভাঁজের ভেতর রেখে জোরে টান দিলে ঘর্ষণের ফলে আগুন জ্বলে উঠত।
- নামকরণ: জন ওয়াকার তাঁর এই অভিনব আবিষ্কারের নাম দিয়েছিলেন “লুসিফার্স” (Lucifers)।
দেশলাই আবিষ্কারের সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন ও বিবর্তন

দেশলাই (Match) আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে বহু বছরের বিজ্ঞান, আকস্মিক পরীক্ষা এবং মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস। নিচে এর সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন ও বিবর্তন দেওয়া হলো:
দেশলাই আবিষ্কারের সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন
| সাল | আবিষ্কারক / ঘটনা | বিবর্তন ও গুরুত্ব |
|---|---|---|
| ৫৭৭ খ্রি. | নর্দান কি (চীন) | প্রথম আদিম দেশলাই: সালফার মাখানো পাইন কাঠের কাঠি, যা স্পর্শ করলেই জ্বলত। |
| ১৬৮০ | রবার্ট বয়েল (আয়ারল্যান্ড) | ফসফরাস ও সালফার: তিনি ফসফরাস ও সালফারের ঘর্ষণে আগুন জ্বালানোর মূল সূত্রটি আবিষ্কার করেন। |
| ১৮০৫ | জঁ শ্যাসেল (ফ্রান্স) | রাসায়নিক দেশলাই: পটাশিয়াম ক্লোরেট, চিনি ও রাবারের মিশ্রণে তৈরি কাঠি সালফিউরিক অ্যাসিডে ডুবিয়ে জ্বালানো হতো। এটি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। |
| ১৮২৬ | জন ওয়াকার (যুক্তরাজ্য) | প্রথম আধুনিক ঘর্ষণ দেশলাই: অসাবধানতাবশত অ্যান্টিমনি সালফাইড এবং পটাশিয়াম ক্লোরেটের মিশ্রণ ঘষে তিনি প্রথম ঘর্ষণ দেশলাই (Friction Match) আবিষ্কার করেন। |
| ১৮৩০ | শার্ল সোরিয়া (ফ্রান্স) | শ্বেত ফসফরাসের ব্যবহার: তিনি সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে তীব্র গন্ধহীন দেশলাই বানান। কিন্তু এটি শ্রমিকদের দেহে ‘ফসিল জ’ (Phossy Jaw) নামক মারাত্মক হাড়ের রোগ তৈরি করত। |
| ১৮৪৪ | গুস্তাফ এরিক পাশ (সুইডেন) | নিরাপদ দেশলাই (Safety Match): কাঠির মাথায় ক্ষতিকর উপাদানের বদলে লাল ফসফরাস ব্যবহার করে নিরাপদ দেশলাইয়ের সূচনা করেন। |
| ১৮৫৫ | জন এডভার্ড লুন্ডস্ট্রম (সুইডেন) | বাণিজ্যিক রূপ: লাল ফসফরাস কাঠির মাথায় না দিয়ে দেশলাই বক্সের পাশে (Striking Surface) ব্যবহারের পেটেন্ট নেন। বর্তমান নিরাপদ দেশলাইয়ের নকশা এটিই। |
দেশলাইয়ের মূল বিবর্তন
- রাসায়নিক থেকে ঘর্ষণ: তরল অ্যাসিডে কাঠি ডুবিয়ে আগুন জ্বালানোর বিপজ্জনক পদ্ধতি থেকে মানুষ ঘর্ষণের মাধ্যমে আগুন জ্বালানোর সহজ উপায়ে স্থানান্তরিত হয়।
- টক্সিক থেকে নিরাপদ: সাদা বা শ্বেত ফসফরাস অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এটি নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরিবর্তে নিরাপদ লাল ফসফরাস ও অ্যান্টিমনি সালফাইডের ব্যবহার শুরু হয়।
- যেকোনো স্থান থেকে নির্দিষ্ট স্থান: শুরুর দিকের ঘর্ষণ দেশলাই যেকোনো খসখসে স্থানে (যেমন জুতো বা দেয়ালে) ঘষলেই জ্বলে উঠত (Strike-anywhere matches)। বিবর্তনের পর তা কেবল দেশলাই বাক্সের নির্দিষ্ট বারুদ-পৃষ্ঠে ঘষলেই জ্বলার নিয়ম তৈরি হয়, যা ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এসইও কনসালটেন্ট হিসেবে সাধারণ জ্ঞানের এই ডাটাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে আমি দেখেছি—গুগল এখন ‘ইনভেনশন বা আবিষ্কার’ সংক্রান্ত কন্টেন্টে টাইমিং এবং বিজ্ঞানীর ব্যাকগ্রাউন্ড খুব নিখুঁতভাবে চেক করে। জন ওয়াকার এই আবিষ্কারের কোনো প্যাটেন্ট (Patent) করেননি, যার ফলে পরবর্তীতে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এটিকে আরও উন্নত করার সুযোগ পান। ১৮৪৪ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী গুস্তাফ এরিক প্যাস আজকের আধুনিক “সেফটি ম্যাচ” আবিষ্কার করেন, যা এখন আমরা ঘরে ঘরে ব্যবহার করি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ব্রিটিশ সরকারের ১৯১২ সালের রাজকীয় ঘোষণার পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন। তৎকালীন সময়ে কোনো ছাত্রী সরাসরি ভর্তি না হলেও পরবর্তীতে প্রথম ছাত্রী হিসেবে লীলা নাগ ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ইতিহাস গড়েন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন: মূল উদ্যোক্তাদের তালিকা
অনেকেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা একক কোনো ব্যক্তি, তবে মূলত এটি ছিল যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। প্রতিষ্ঠার পেছনে ৩ জন মুসলিম নেতার অবদান সবচেয়ে বেশি:
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ: তিনিই প্রথম পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি তোলেন।

- নবাব স্যার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আর্থিক সহায়তা এবং ব্রিটিশদের সাথে লবিংয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক: রাজনৈতিক ও আইনিভাবে ব্রিটিশ সরকারকে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
শুরুর দিকের অনুষদ, বিভাগ ও শিক্ষক সংখ্যা
১৯২১ সালের ১ জুলাই যখন “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাস শুরু হয়, তখন এর অ্যাকাডেমিক কাঠামো ছিল অত্যন্ত গোছানো:
- অনুষদ ও বিভাগ: শুরুতে এর অনুষদ (Faculty) ছিল মাত্র ৩টি—কলা (Arts), বিজ্ঞান (Science) এবং আইন (Law)। আর মোট বিভাগ ছিল ১২টি।
- শিক্ষক ও হল সংখ্যা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (VC) ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ। শুরুর দিকে শিক্ষক ছিলেন ৬০ জন এবং শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হল ছিল মাত্র ৩টি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল)।
প্রথম শিক্ষাবর্ষের (১৯২১) মূল পরিসংখ্যান ম্যাট্রিক্স
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষাবর্ষের (১৯২১ সালের ১ জুলাই) মূল পরিসংখ্যান নিচে ম্যাট্রিক্স বা ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
মূল পরিসংখ্যান ম্যাট্রিক্স (১৯২১)
| সূচক / খাত | বিবরণ ও সংখ্যা |
|---|---|
| মোট অনুষদ (Faculties) | ৩টি (কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) |
| মোট বিভাগ (Departments) | ১২টি |
| মোট ছাত্র সংখ্যা (Students) | ৮৭৭ জন (মতান্তরে ৮৪৭ জন) |
| ছাত্রী সংখ্যা (Female Students) | ১ জন (লীলা নাগ) |
| মোট শিক্ষক সংখ্যা (Teachers) | ৬০ জন |
| আবাসিক হল/ছাত্রাবাস (Halls) | ৩টি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল) |
| প্রথম উপাচার্য (Vice-Chancellor) | স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ (পি. জে. হার্টগ) |
অনুষদ ও বিভাগসমূহের বিস্তারিত বিভাজন
- কলা অনুষদ (৮টি বিভাগ): সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, এবং অর্থনীতি ও রাজনীতি.
- বিজ্ঞান অনুষদ (৩টি বিভাগ): পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, এবং গণিত.
- আইন অনুষদ (১টি বিভাগ): আইন বিভাগ.
এই ক্ষুদ্র অবকাঠামো ও পরিসংখ্যান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অথবা এর প্রথম সমাবর্তন (১৯২৩) সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে নিচে লিখে জানাতে পারেন।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এসইও এক্সপার্ট হিসেবে সাধারণ জ্ঞানের এই ডাটাগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি দেখেছি—বিভিন্ন পরীক্ষায় একক নাম হিসেবে ‘নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’ অপশনে বেশি থাকে। তবে স্যার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর অবদানও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জমিদারির অংশ পর্যন্ত বাজি রেখেছিলেন। তাই কপি-পেস্ট করে পাবলিশ করার আগে অপশনগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার হলেন শাহ্ আব্দুল হামিদ। তিনি ১০ এপ্রিল ১৯৭২ থেকে ১ মে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন গণপরিষদের (যা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ হিসেবে রূপান্তরিত হয়) প্রথম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অনেকেই মোহাম্মদ উল্লাহকে প্রথম স্পিকার মনে করে ভুল করেন। তবে মূলত শাহ্ আব্দুল হামিদের আকস্মিক মৃত্যুর পর মোহাম্মদ উল্লাহ বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে দ্বিতীয় স্পিকার (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম স্পিকার) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
শাহ্ আব্দুল হামিদ বনাম মোহাম্মদ উল্লাহ: দায়িত্বের সময়কাল
শাহ্ আব্দুল হামিদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদের স্পিকার এবং মোহাম্মদউল্লাহ ছিলেন দেশের ৩য় রাষ্ট্রপতি। নিচে তাঁদের দায়িত্বকাল ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
শাহ্ আব্দুল হামিদ
তিনি ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের গণপরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- দায়িত্বের সময়কাল: ১০ এপ্রিল ১৯৭২ – ১ মে ১৯৭২
- অন্যান্য পরিচয়: তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম সংসদের স্পিকার ছিলেন এবং ১৯৭২ সালের ১ মে মৃত্যুবরণ করেন।
মোহাম্মদউল্লাহ
তিনি প্রথমে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং পরে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ পদে আসীন হন।
- স্পিকার হিসেবে দায়িত্বকাল: ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ (শাহ আব্দুল হামিদের মৃত্যুর পর তিনি স্পিকার হন)।
- রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বকাল: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ – ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫
শাহ্ আব্দুল হামিদ সম্পর্কে আরও জানতে এবং মোহাম্মদউল্লাহর বিস্তারিত রাজনৈতিক কর্মজীবন পড়তে উইকিপিডিয়ার তথ্যগুলো দেখতে পারেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার শাহ্ আব্দুল হামিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

শাহ্ আব্দুল হামিদ (১৯০০ – ১ মে ১৯৭২) ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনোত্তর গণপরিষদের (জাতীয় সংসদ) প্রথম স্পিকার. তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, সমাজসেবক, দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন.
নিচে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো:
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
- জন্ম: শাহ্ আব্দুল হামিদ ১৯০০ সালে তৎকালীন রংপুর জেলার গাইবান্ধা মহকুমার গোবিন্দগঞ্জের খালশী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন. তাঁর পিতা ছিলেন হাজী আবদুল গফুর শাহ এবং মাতা রহিমা খাতুন.
- শিক্ষা: তিনি ১৯১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯১৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন. এরপর ১৯২০ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি এবং ১৯২৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এল (আইন) ডিগ্রি লাভ করেন.
- পেশা: ১৯২৮ সালে তিনি গাইবান্ধা মহকুমা আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন.
রাজনৈতিক জীবন
- শুরুর দিক: ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়.
- মুসলিম লীগ: ১৯৩৬ সালে তিনি সর্বভারত মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং গাইবান্ধা মহকুমা শাখার সভাপতি হন. ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ভারতীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন.
- আওয়ামী লীগ: ১৯৫৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন. তিনি ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন.
- ১৯৭০-এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে গোবিন্দগঞ্জ-পলাশবাড়ী আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (MNA) নির্বাচিত হন. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে ও প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন.
প্রথম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে. সেই ঐতিহাসিক অধিবেশনে শাহ্ আব্দুল হামিদ সর্বসম্মতিক্রমে গণপরিষদের প্রথম স্পিকার নির্বাচিত হন. পরের দিন (১১ এপ্রিল) তাঁর সভাপতিত্বেই বাংলাদেশের ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠিত হয়.
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত ছিলেন. ১৯৪৭ সালে গাইবান্ধা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির প্রথম সম্পাদক হন. এছাড়া তিনি গাইবান্ধা টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, গাইবান্ধা নাট্য সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ এবং পাবলিক লাইব্রেরির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন.
জীবনাবসান ও সম্মাননা
স্পিকার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মাথায়, ১৯৭২ সালের ১ মে গাইবান্ধায় এই মহান দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ মৃত্যুবরণ করেন. তাঁর অসামান্য অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে গাইবান্ধার স্থানীয় স্টেডিয়ামটির নাম “শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম” রাখা হয়েছে.

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: এসইও এবং টেকনিক্যাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমি দেখেছি, বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে এই তথ্যটি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়। যেহেতু ১৯৭১ সালের পর প্রথম পরিষদটিকে ‘গণপরিষদ’ বলা হতো, তাই টেকনিক্যাল বিচারে শাহ্ আব্দুল হামিদই প্রথম স্পিকার। আর ১৯৭৩ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত সংসদের স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



