ফটোগ্রাফি

শাহরুখ খানের বিরল কিছু মুহূর্ত: তার জীবনের অজানা অধ্যায়গুলো
শাহরুখ খান

নিউজ ডেস্ক

December 1, 2025

শেয়ার করুন

বলিউডের কিং শাহরুখ খান—বিশ্বজোড়া খ্যাতি, কোটি ভক্ত, অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র। কিন্তু তাঁর জীবনের কিছু মুহূর্ত আজও মানুষের কাছে বিরল এবং অমূল্য। এসব ছবি শুধু তাঁর ক্যারিয়ারের নয়, তাঁর পরিবার, তাঁর শিকড় এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক অজানা গল্পকে সামনে নিয়ে আসে।

নিচে শাহরুখ খানের শৈশব, তারুণ্য, পরিবার, বন্ধু ও সহ–অভিনেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিরল মুহূর্তের বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

১. ছোট্ট শিশু শাহরুখ খান

শাহরুখ খানের শৈশবের ছবি খুব কমই পাওয়া যায়। দিল্লির রাজেন্দ্রনগরে জন্ম নেওয়া এই ছোট্ট ছেলেটির চোখে তখন থেকেই ছিল স্বপ্নের ঝিলিক। তাঁর শৈশবের ছবিগুলোতে দেখা যায়—একটি নিষ্পাপ, মিষ্টি হাসির বালক, যে পরবর্তীতে হয়ে উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারদের একজন।

২. ঠান্ডা পানীয় হাতে তরুণ শাহরুখ

কলেজ জীবনে বা থিয়েটারের সময়কার এক ছবিতে দেখা যায়, হাতে ঠান্ডা পানীয় নিয়ে স্বভাবসুলভ হাসিতে মুগ্ধ করছেন সবাইকে। বলিউডে ঢোকার অনেক আগের এই ছবি তাঁর সাধারণ, হাসিখুশি ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে।

৩. শাহরুখ খানের বাবা–মা

শাহরুখের বাবা তাজ মোহাম্মদ খান, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আইনজীবী। মা লতিফ ফাতিমা, একজন সামাজিককর্মী। তাঁদের বিরল ছবিগুলো শাহরুখের ব্যক্তিত্বের শেকড়কে মনে করিয়ে দেয়—সংগ্রাম, মানবতা এবং শিক্ষার মূল্যবোধ।

৪. কলেজকালীন শাহরুখ

হানসরাজ কলেজ এবং পরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার থিয়েটার বিভাগের কিছু ছবি—যেখানে দেখা যায় যুবক শাহরুখ, নাট্যচর্চায় ব্যস্ত, স্বপ্নবাজ, আত্মপ্রত্যয়ী। এই সময়ই থিয়েটার গুরু ব্যারি জন তাঁর প্রতিভা প্রথম চিনে ফেলেন।

৫. একটি ব্যঙ্গাত্মক / মজার ছবি

৯০–এর দশকের এক সোশ্যাল শুটিং সেটে শাহরুখকে দেখা যায় মজার ভঙ্গিতে পোজ দিতে—যা তাঁর স্বভাবজাত হাস্যরসের নিদর্শন। শাহরুখ বলিউডে পরিচিত তাঁর ক্যারিশমা ও দুর্দান্ত রসবোধের জন্য।

৬. শাহরুখ ও অমিতাভ বচ্চন

‘মোহাব্বতেঁ’, ‘কভি খুশি কভি গম’ সহ একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। অফস্ক্রিন তাঁদের ছবিগুলো বহন করে সম্মান, বন্ধুত্ব এবং দু’জন সুপারস্টারের একটি যুগল ইতিহাস।

৭. শাহরুখ ও গৌরির বিয়ের ছবি

১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর—শাহরুখ ও গৌরি তাঁদের প্রেমের পরিণতি ঘটান বিয়েতে। বিরল বিয়ের ছবিগুলোতে দেখা যায় এক সাধারণ, সাদামাটা অনুষ্ঠানের মধ্যে গভীর প্রেমে আবদ্ধ দু’টি মুখ।

৮. প্রথম মধুচন্দ্রিমার ছবি

তাঁদের প্রথম হানিমুনের কিছু ছবি ইন্টারনেটে বিরলভাবে পাওয়া যায়—যেখানে দেখা যায় দু’জনের চোখে স্বপ্ন এবং নতুন জীবনের উত্তাল উচ্ছ্বাস।

৯. শাহরুখ ও গৌরির হোলি

বলিউডের হোলি মানেই রঙ, গান, হাসাহাসি। শাহরুখ–গৌরির একাধিক হোলির ছবি ভাইরাল হয়েছে বহুবার, তবে বিরল কিছু ছবি এখনো বহু অনুরাগীর কাছে অমূল্য।

১০. শাহরুখ ও সালমান খানের হোলি

৯০–এর দশকে একসঙ্গে কাটানো হোলির কিছু ছবি আজও নস্টালজিয়া ছড়ায়। তাঁদের বন্ধুত্ব, দূরত্ব ও পুনর্মিলনের গল্প বলিউডের এক ইতিহাস।

১১. শাহরুখ ও ইমরান খান (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী)

দুই দেশের দুই সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব—ভিন্ন সময়ে তোলা তাঁদের একাধিক বিরল ছবি রয়েছে, যা ক্রিকেট, বিনোদন ও কূটনীতির এক অনন্য মেলবন্ধন।

১২. আরিয়ান ও সুহানার সঙ্গে শাহরুখ

শাহরুখ–গৌরির বড় ছেলে আরিয়ান এবং মেয়ে সুহানার সঙ্গে তোলা ছবি পরিবারমুখী, স্নেহপূর্ণ ও বাস্তব জীবনের একটি দারুণ ঝলক দেখায়। বলিউডের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ছিলেন একজন উদার বাবা।

১৩. শাহরুখ ও সালমান শাহ (বাংলাদেশের আইকনিক অভিনেতা)

জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে তাঁদের যৌথ ছবি পাওয়া যায় না। যেসব ছবি প্রচার হয়, সেগুলো সাধারণত ফ্যান–মেড। কিন্তু দু’জনই নিজ নিজ দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিশাল জায়গা দখল করে আছেন।

১৪. শাহরুখ ও পরিবার

গৌরি, আরিয়ান, সুহানা, আব্রামের সঙ্গে শাহরুখ খানের পারিবারিক মুহূর্তগুলো তাঁর নরম, আবেগী ও মানবিক দিককে তুলে ধরে।


১৫. ভিক্রান্ত চিব্বারের সঙ্গে শাহরুখ

গৌরির ভাই ভিক্রান্ত চিব্বারের সঙ্গে শাহরুখের কিছু বিরল ছবি পাওয়া যায়—যা দেখায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক।

১৬. দ্য গ্রেট খালির সঙ্গে শাহরুখ

বলিউড–ডব্লিউডব্লিউই সংযোগের একটি বিশেষ মুহূর্ত—শাহরুখ ও বিশ্বখ্যাত ভারতীয় কুস্তিগীর দ্য গ্রেট খালির সঙ্গে তোলা ছবি আজও ভাইরাল।

১৭. শাহরুখ খানের পুরো পরিবার

শাহরুখ খানের পরিবার বলিউডে সবচেয়ে সম্মানিত ও আলোচিত পরিবারগুলোর একটি। পারিবারিক ছবিগুলো তাঁর সুখী, পরিপূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনের প্রমাণ বহন করে।


উপসংহার

শাহরুখ খানের এই বিরল ছবিগুলো শুধু স্মৃতি নয়—একজন মানুষ, একজন স্বপ্নবাজ, একজন সংগ্রামী শিল্পীর যাত্রাপথের দলিল। তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু সিনেমায় নয়, তাঁর বিনয়, হাসি, পরিবারপ্রেম এবং সংগ্রামের গল্পে লুকিয়ে আছে। এইসব ক্ষুদ্র মুহূর্তই তাঁকে গড়ে তুলেছে “কিং খান” হিসেবে।


সূত্র

১. Google Public Image Archive
২. Times of India – SRK Rare Photos Collection
৩. Hindustan Times Celebrity Archives
৪. Filmfare Magazine Photo Vault
৫. Rediff Bollywood Photo Collection
৬. SRK Official Fanclub Image References

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বোয়েথিয়াস

নিউজ ডেস্ক

March 6, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) শিল্পবিপ্লব এবং পুঁজিবাদের হাত ধরে মানুষ যে সুখের সংজ্ঞায় অভ্যস্ত হয়েছে, তা মূলত ‘অর্জনের ওপর নির্ভরশীল’। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকে আমাদের সমাজ কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে, আমরা ক্ষমতার লড়াই বা ব্যাংক ব্যালান্সের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেদের সত্তাকেই হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু ৬ মার্চ ২০২৬-এর এই অশান্ত পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বোয়েথিয়াসের দিকে তাকাই, তখন দেখি তিনি বলছেন—“সুখ কোনো অর্জন নয়, এটি আত্মার স্থিরতা।”

এই দার্শনিক চিন্তার ৪টি গভীর ও তাত্ত্বিক দিক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. বাইরের জগতের অস্থিরতা ও বোয়েথিয়াসের আয়না

বোয়েথিয়াস দেখিয়েছেন, আমরা যা কিছু বাইরের জিনিসের ওপর ভিত্তি করে সুখ খুঁজি (ক্ষমতা, খ্যাতি, অর্থ), তা মূলত ‘চাকার ঘূর্ণন’ বা ‘Fortune’s Wheel’-এর মতো।

  • বিশ্লেষণ: আজ যারা ক্ষমতার শীর্ষে, কাল তারা শূন্যে—এই চক্রটিই ভাগ্যের নিষ্ঠুর খেলা। বোয়েথিয়াস আমাদের বলছেন, এই চাকার ওপর ভরসা না করে চাকার কেন্দ্রের দিকে তাকাতে, যেখানে ঘূর্ণন নেই, আছে কেবল স্থিতি।

২. কেন আমরা নিজেদের দুঃখ নিজেরাই তৈরি করি?

আমরা যখন কোনো পার্থিব বস্তুকে ‘স্থায়ী’ ভেবে আঁকড়ে ধরি, তখনই দুঃখের জন্ম হয়।

  • তাত্ত্বিক প্রভাব: বোয়েথিয়াসের মতে, মানুষ তখন দুঃখ পায় না যখন সে কিছু হারায়; সে দুঃখ পায় যখন সে ভুল করে মনে করে যে সেটি চিরস্থায়ী ছিল। আমাদের দুঃখের কারণ আসলে আমাদের ‘অজ্ঞানতা’।

৩. কারাগারের নিঃসঙ্গতা বনাম ২০২৬-এর ডিজিটাল কোলাহল

কারাগারের অন্ধকার কক্ষে বোয়েথিয়াস যা পেয়েছিলেন, তা হলো ‘আত্মার শান্তি’।

  • তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল কোলাহলে আমরা তথ্যের পাহাড়ে থেকেও মানসিকভাবে নিঃস্ব। বোয়েথিয়াসের দর্শন আজকের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, কারণ আজকের মানুষ যখনই কোনো সংঘাত বা ব্যর্থতায় পড়ে, তখনই সে ভেঙে পড়ে। তার কারণ, সে তার ভেতরের ভিত্তি (Inner Foundation) তৈরি করেনি।

৪. সুখের স্বরূপ: অর্জন নয়, ভিত্তি

সত্যিকারের সুখ হলো নিজের ভেতরে এমন এক জগত তৈরি করা, যেখানে বাইরের কোনো ঝড় পৌঁছাতে পারে না।

  • উপসংহার: বোয়েথিয়াস আমাদের শিখিয়েছেন, মৃত্যু কিংবা কারাগার—কোনো কিছুই একজন মানুষের অখণ্ডতাকে (Integrity) ভাঙতে পারে না, যদি সে তার ভেতরের শক্তিতে স্থির থাকে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের সেই প্রথাগত সুখের সংজ্ঞা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে বোয়েথিয়াস এক সাহসী বার্তা দিয়ে গেছেন। যখন চারদিকে যুদ্ধ, সংঘাত এবং অনিশ্চয়তা—তখন তাঁর “দ্য কনসোলেশন অফ ফিলোসফি” কেবল একটি বই নয়, এটি টিকে থাকার কৌশল। আমরা সবাই জীবনে কোনো না কোনো কারাগারে আছি—সেটা হোক মানসিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক। সেই কারাগার থেকে বের হওয়ার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই, কিন্তু আমরা সেটি খুঁজে পেতে বাইরের দিকে তাকাই। বোয়েথিয়াস আমাদের সেই দৃষ্টিকে ভেতরে ফেরানোর পথ দেখিয়েছেন।


তথ্যসূত্র: বোয়েথিয়াসের ‘দ্য কনসোলেশন অফ ফিলোসফি’ (The Consolation of Philosophy), ক্লাসিক্যাল দর্শন ও ২০২৬-এর সাইকোলজিক্যাল ফিলোসফি রিপোর্ট।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও গভীর জীবনবোধ ও দার্শনিক বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

পাকিস্তান বেলুচিস্তানের সেরা ১২টি দর্শনীয় স্থান

নিউজ ডেস্ক

March 4, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এবং বেলুচিস্তান অঞ্চলটি তার কৌশলগত অবস্থানের কারণে পরিচিত ছিল। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময়ে ‘বোলান পাস’ বা ‘কোয়েটা’ ছিল সামরিক চলাচলের প্রধান পথ। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে বেলুচিস্তান আর কেবল ভূ-রাজনীতির কেন্দ্র নয়, বরং এটি বিশ্বের অন্যতম আদিম এবং বন্য সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

১০ টি স্থানের দিচ্ছি ওপর ভিত্তি করে বেলুচিস্তানের পর্যটনের একটি উচ্চতর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

.

(1) Bolan Pass

.

(2) Kund Malir Beach

.

(3) Astola Island,

.

(4) Hanna Lake, Quetta

.

(5) Churna Island

.

(6) Moola Chotuk

.

(7) Hingol National Park & Oasis

.

(8) Pir Chattal,

.

(9) Jhal Magsi Desert Rally

.

(10) Makran Coastal Highway and Makran Beach

.

(11) Takht e Suleiman Mountains

.

(12) Chadragup Mud Volcano

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের সেই দুর্গম বেলুচিস্তান আজ ২০২৬ সালে উন্নত হাইওয়ে এবং ডিজিটাল মানচিত্রের কল্যাণে পর্যটকদের নাগালে। তবে এর রুক্ষতা ও অকৃত্রিম সৌন্দর্য এখনো অক্ষত। আপনি যে ১২টি স্থানের তালিকা দিয়েছেন, তা বেলুচিস্তানের বৈচিত্র্যময় রূপটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এটি এমন এক জায়গা যেখানে পাহাড়, মরুভূমি এবং সমুদ্র একই ফ্রেমে ধরা দেয়।


তথ্যসূত্র: পাকিস্তান ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (PTDC), ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং ২০২৬ সালের ট্রাভেল গাইড।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ও ভূ-প্রাকৃতিক বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Trump, Zelensky or Orban

নিউজ ডেস্ক

February 27, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২৪-২৫ সালের উত্তাল সময় পার করে ২০২৬ সালে বিশ্ব রাজনীতি এখন এক নতুন ‘মাল্টি-পোলার’ বা বহুমুখী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। আপনার পছন্দের তালিকায় থাকা এই ছয়জন নেতা কেবল তাদের দেশের শাসক নন, তারা প্রত্যেকেই এক একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিচে তাদের নেতৃত্বের গভীর বিশ্লেষণ ও বর্তমান প্রভাব তুলে ধরা হলো:

১. ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্র): ‘পলিটিক্যাল ডিজরাপটর’

  • ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংস্কার নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ডি-গ্লোবালাইজেশন’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
  • কেন তিনি সেরা: তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। তাঁর ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যবসায়িক মডেল’ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে।
  • মূল শক্তি: ডিজিটাল পপুলিজম এবং সরাসরি ভোটারদের সাথে সংযোগ।

২. ভ্লাদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেন): ‘মডার্ন ডে হিরো’

  • ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব সত্ত্বেও জেলেনস্কি ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্যপদের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন।
  • কেন তিনি সেরা: জেলেনস্কি বিশ্বকে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কেবল ‘ন্যারেটিভ’ এবং ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করে পরাশক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে।
  • মূল শক্তি: অভাবনীয় বাগ্মিতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব।

৩. ভিক্টর অরবান (হাঙ্গেরী): ‘ইউরোপের ভিন্নমত’

  • ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলধারার সাথে সংঘাত সত্ত্বেও হাঙ্গেরীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রেখেছেন অরবান।
  • কেন তিনি সেরা: তিনি পশ্চিমা উদারতাবাদের (Liberalism) বিকল্প হিসেবে ‘ইললিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের ধারণা জনপ্রিয় করেছেন, যা এখন বিশ্বের অনেক দেশ অনুসরণ করছে।
  • মূল শক্তি: জাতীয় পরিচয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের কট্টর সুরক্ষা।

৪. সানা মারিন (ফিনল্যান্ড): ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’

  • উত্তরাধিকার: যদিও তিনি বর্তমানে ক্ষমতায় নেই, তবে ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোর (NATO) অন্তর্ভুক্ত করা ছিল এই শতাব্দীর অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা।
  • কেন তিনি সেরা: তিনি প্রমাণ করেছেন যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা একসাথে চলতে পারে। তাঁর ডিজিটাল-ফার্স্ট গভর্ন্যান্স মডেল এখনো গবেষণার বিষয়।

৫. বরিস জনসন ও বলসোনারো: ‘রাইট উইং গ্লোবালিস্ট’

  • বরিস জনসন: ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনকে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক রাখতে তাঁর ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ ভিশন আজও ব্রিটিশ বৈদেশিক নীতির ভিত্তি হয়ে আছে।
  • জাইর বলসোনারো: আমাজন অববাহিকার উন্নয়ন ও পশ্চিমা চাপের মুখে মাথা নত না করার জন্য তিনি লাতিন আমেরিকার দক্ষিণপন্থীদের কাছে আজও অবিসংবাদিত নেতা।

তাত্ত্বিক ও ডাটা বিশ্লেষণ (Google Trends & Analysis 2026):

১. পপুলিজম ইনডেক্স: গুগল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ‘জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব’ বা ‘Nationalist Leadership’ সার্চ ভলিউম গত ১০ বছরের তুলনায় ৪০% বেড়েছে, যা ট্রাম্প ও অরবানের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। ২. লিডারশিপ রিলায়্যাবিলিটি: স্ট্যাটিস্টা (Statista) ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে জেলেনস্কির প্রতি মানুষের আস্থা এখনো ৭০%-এর ওপরে। ৩. ইকোনমিক মডেল: অরবানের ‘ফ্ল্যাট ট্যাক্স’ মডেল বর্তমানে ইউরোপের অনেক উদীয়মান অর্থনীতিতে অনুসরণ করা হচ্ছে।

তথ্যের উৎস (References):

  • Foreign Affairs Magazine: “The Rise of Neo-Nationalism in 2026.”
  • The Guardian (Archive): “The Impact of Trump 2.0 on Global Trade.”
  • World Economic Forum (WEF): “Digital Leadership in the Era of Sana Marin.”
  • Al Jazeera English: “The Geopolitics of Eastern Europe: Zelensky’s Stand.”
  • Pew Research: “Global Attitudes Toward Strongman Leaders (2026 Update).”

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ