আন্তর্জাতিক

ইলা মজুমদারের জীবনযাত্রা ও শিক্ষার পথ
ইলা মজুমদার

নিউজ ডেস্ক

November 15, 2025

শেয়ার করুন

ইলা মজুমদারের জীবন এক অনুপ্রেরণার গল্প, যা নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা ও বাধা অতিক্রম করে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর প্রমাণ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে একটি বিরল উদাহরণ। তার সংগ্রামী জীবনের কাহিনী জানালে আমরা দেখতে পাই, তিনি কীভাবে দেশের সামাজিক রীতি-নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন এবং সেই পথে সফলতা অর্জন করেছেন

ইলা মজুমদারের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর গ্রামে। তার পিতা যতীন্দ্র কুমার মজুমদার ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা ছিলেন গৃহবধূ। ছোটবেলা থেকেই তার পরিবার তাকে একটি মুক্ত পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ দেয়। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি সাইকেল চালানো শিখেছিলেন এবং ১৬ বছর বয়সে জিপ চালাতে সক্ষম হন।

১৯৪৫ সালে ইলার পরিবার কলকাতায় চলে আসে, যেখানে তিনি নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতের ভগতি এবং বিভাজন শুরু হলে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন, যেখানে তখনকার দিনে পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ১৯৪৭ সালে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি মহিলাদের জন্য উন্মুক্ত হয়, এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। সেসময়, তিনি কলেজে একমাত্র মহিলা শিক্ষার্থী ছিলেন।

বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার

১৯৫১ সালে ইলা মজুমদার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন এবং বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইতিহাসে স্থান পান। কলেজে তিনি একমাত্র ছাত্রী ছিলেন, যেখানে সবাই পুরুষ শিক্ষার্থী ছিল। প্রথমদিকে মেশিনারিজ এবং ভারী যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করার জন্য অনেক বাধা পেরোতে হয়েছিল তাকে। তবে ধীরে ধীরে কলেজের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং তিনি তাদের সাহায্যে একে একে চ্যালেঞ্জগুলো জয় করেন।

চাকরি জীবনে প্রথম পদক্ষেপ

স্নাতক হওয়ার পর, ইলা মজুমদার গ্লাসগোতে ট্রেনিং নিতে যান। সেখানে ট্রেনিং শেষ করে তিনি ভারতে ফিরে এসে দেরাদুনের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা যিনি ভারী যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানায় কাজ করেছেন। চাকরি করার পর, তিনি দিল্লি পলিটেকনিক কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে, তিনি কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ জুট টেকনোলজিতে লেকচারার এবং প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করেন।

ঢাকায় মহিলা পলিটেকনিক কলেজ প্রতিষ্ঠা

১৯৮৫ সালে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তাকে ঢাকা শহরে একটি মহিলা পলিটেকনিক কলেজ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে ছাড়তে রাজি ছিল না, তবে মাতৃভূমির প্রতি তার টান তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রাণিত করে। ঢাকায় এসে তিনি সফলভাবে মহিলা পলিটেকনিক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।


একটি বিরল ছবি: শক্তি, সাহস এবং সংগ্রামের মূর্তি

ইলা মজুমদারের জীবন একটি বিরল ছবি, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সংগ্রাম এবং অদম্য মনোবলের প্রতীক। শুরুর দিনগুলিতে যেখানে নারীদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রবেশ ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ, সেখানে তিনি নিজের প্রয়াসে প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেন। তার জীবনটি আজকের নারীদের জন্য একটি উদাহরণ, যেখানে তারা সকল বাধা অতিক্রম করে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।

ইলা মজুমদারের মত নারীরা শুধুমাত্র যে নিজস্ব পেশাগত জীবনে সফল হয়েছেন তাই নয়, বরং তারা সমাজের কাঠামো এবং সংস্কৃতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার জীবন কেবল একজন নারীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজের উন্নয়নে এক শক্তিশালী প্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র:

  1. ইলা মজুমদার – উইকিপিডিয়া
  2. ইলা মজুমদার – বাংলা পিডিয়া

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

একটি রেসপন্স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

May 30, 2026

শেয়ার করুন

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে সুপার কম্পিউটারের শীর্ষস্থান খুব বেশিদিন এক দেশের বা এক মেশিনের দখলে থাকে না। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তৈরি ‘সামিট’ (Summit) কিংবা পরবর্তী সময়ে ‘ফ্রন্টিয়ার’ (Frontier) বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটার হিসেবে রাজত্ব করলেও, ২০২৬ সালের বর্তমান অফিশিয়াল গ্লোবাল র‍্যাংকিং (TOP500 List) অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে এখন নতুন শীর্ষ শাসকের আগমন ঘটেছে.

বর্তমানে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বুকে চালু থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারের বিস্তারিত এবং হালনাগাদ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর সুপার কম্পিউটার: এল ক্যাপিটান (El Capitan)

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার হিসেবে অফিশিয়ালি শীর্ষস্থান দখল করে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘El Capitan’. ক্যালিফোর্নিয়ার ‘লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি’ (LLNL)-তে এটি স্থাপন করা হয়েছে.

  • অবিশ্বাস্য গতি (Processing Power): এল ক্যাপিটান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ‘এক্সাস্কেল’ (Exascale) সুপার কম্পিউটার, যার লিনপ্যাক (HPL) স্কোর রেকর্ড ১.৮০৯ এক্সাফ্লপ্স (1.809 ExaFLOPS). এর মানে হলো এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ লক্ষ ট্রিলিয়ন (১৮০ কোটির বেশি বিলিয়ন) গণনা বা হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম!
  • প্রযুক্তি ও হার্ডওয়্যার: এই দানবীয় কম্পিউটারটি তৈরি করেছে হিউলেট প্যাকার্ড এন্টারপ্রাইজ (HPE). এতে ব্যবহার করা হয়েছে এএমডি (AMD) কোম্পানির ৪র্থ প্রজন্মের ২৪ কোরের এপিক (EPYC) প্রসেসর এবং এএমডি ইন্সটিংক্ট MI300A (AMD Instinct MI300A) অ্যাক্সিলারেটর চিপ। এতে মোট কোরের সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি!
  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পারমাণবিক মজুদের সিমুলেশন ব্যবস্থাপনা, জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং অ্যাডভান্সড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মডেল ট্রেনিংয়ের কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে.

২. সামিট (Summit) এখন কোথায়?

আপনার তথ্যে থাকা আইবিএম (IBM) ও এনভিডিয়া (NVIDIA)-র যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি Summit সুপার কম্পিউটারটি ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্বের এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছিল। এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ লাখ ট্রিলিয়ন (বা ২০০ পেটাফ্লপ্স) হিসাব করতে পারে। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান প্রযুক্তি বাজারে নতুন নতুন হাইপার-আর্কিটেকচারের আগমনের ফলে এটি শীর্ষ ১০-এর একদম শেষ প্রান্তের দিকে নেমে গেছে.

৩. এক নজরে ২০২৬ সালের শীর্ষ ৫ সুপার কম্পিউটার ম্যাট্রিক্স

গ্লোবাল সুপারকম্পিউটিং ইন্ডেক্সের (TOP500) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৫টি কম্পিউটারের তুলনামূলক চিত্র:

২০২৬ সালের বর্তমান আন্তর্জাতিক TOP500 র্যাংকিং অনুসারে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি সুপার কম্পিউটারের ম্যাট্রিক্স (তুলনামূলক ছক) নিচে দেওয়া হলো:

শীর্ষ ৫ সুপার কম্পিউটার ম্যাট্রিক্স (২০২৬)

র্যাংক সুপার কম্পিউটারের নামপ্রস্তুতকারক ও প্রসেসরগতি (Rmax Performance)অবস্থান ও দেশমূল ব্যবহার
El CapitanHPE, AMD 4th Gen EPYC & Instinct MI300A১.৭৪২ এক্সাফ্লপস (Exaflops)লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, যুক্তরাষ্ট্রপরমাণু নিরাপত্তা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা
FrontierHPE, AMD Optimized 3rd Gen EPYC১.৩৫৩ এক্সাফ্লপসওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, যুক্তরাষ্ট্রবৈজ্ঞানিক গবেষণা ও এআই সিমুলেশন
AuroraIntel, Intel Xeon Max & Data Center GPU১.MDE এক্সাফ্লপস (১,MDE পেটাফ্লপস)আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, যুক্তরাষ্ট্রজলবায়ু পরিবর্তন ও ক্যানসার গবেষণা
EagleMicrosoft, Intel Xeon & NVIDIA H100৫৬১.২ পেটাফ্লপস (PFlops)ক্লাউড আর্কিটেকচার (Microsoft Azure), যুক্তরাষ্ট্রএআই মডেল ট্রেনিং ও কমার্শিয়াল ক্লাউড
HPC6HPE, AMD EPYC & NVIDIA H100৪৭৬.১ পেটাফ্লপসএনি (Eni S.p.A.), ইতালিএনার্জি ট্রানজিশন ও শিল্প গবেষণা

গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত হাইলাইটস:

শীর্ষ প্রসেসর: বর্তমান তালিকার শীর্ষ কম্পিউটারগুলোতে AMD এবং NVIDIA চিপসেটের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে.
এক্সাস্কেল কম্পিউটিং: শীর্ষ ৩টি সুপার কম্পিউটারই বর্তমানে এক্সাস্কেল (Exascale) সীমানা পার করেছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ১ কুইন্টিলিয়নেরও (১-এর পর ১৮টি শূন্য) বেশি গণনা করতে পারে.

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ (BDS Bulbul Ahmed): একজন ডিজিটাল টেকনোলজি ও এসইও অ্যানালিস্ট হিসেবে আমি মনে করি, সুপার কম্পিউটিংয়ের এই বৈশ্বিক রেসটি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বা ল্যাবরেটরির গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), গুগলের জেমিনি (Gemini) কিংবা মেটার মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এবং জটিল ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম ট্রেন করার জন্য এই হর্সপাওয়ারের প্রয়োজন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তালিকায় মাইক্রোসফটের ক্লাউড-বেইজড সুপার কম্পিউটার ‘Eagle’ বা জার্মানির ‘JUPITER’ এর মতো মেশিনের উত্থান এটিই প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি এখন পুরোপুরি এআই-ইকোসিস্টেমের দিকে ধাবিত হচ্ছে.

অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed

ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও কনসালটেন্সি এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন:

পালসবাংলাদেশ

ভ্লাদিমির পুতিন

নিউজ ডেস্ক

May 30, 2026

শেয়ার করুন

১৯৫৮ সালের একটি সাধারণ সাদামাটা দিন। কোলে এক ছোট্ট শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা। তখন কে জানত, এই অতি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুটাই একদিন বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শাসক হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি কাঁপাবে?

হ্যাঁ, এই শিশুটিই হলেন বর্তমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জন্ম ও শৈশবের দিনগুলো


১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) এক দরিদ্র শ্রমিক পরিবারে জন্ম নেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার মা মারিয়া ইভানোভনা পুতিনা (অনেকের কাছে ল্যুডমিলা নামে পরিচিত) এবং বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিডোভিচ পুতিন—উভয়ই ছিলেন সাধারণ কারখানার কর্মী। লেনিনগ্রাদের একটি সাধারণ ‘কমিউনাল অ্যাপার্টমেন্টে’ (যৌথ আবাসন) চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কাটে পুতিনের শৈশব। অভাবের সেই দিনগুলোতে টিকে থাকার লড়াইটাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তোলে।

আইন পড়াশোনা ও গোয়েন্দা সংস্থায় প্রবেশ


শৈশব থেকেই পুতিনের লক্ষ্য ছিল দৃঢ়। তিনি লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৫ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনা শেষ করেই তিনি যোগ দেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কুখ্যাত ও শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেজিবি’ (KGB)-তে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব জার্মানিতে কেজিবির একজন দক্ষ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘনিয়ে এলে তিনি লিয়েট্যানেন্ট কর্নেল পদমর্যাদা নিয়ে কেজিবি ছাড়েন।

রাজনীতিতে প্রবেশ ও ক্রেমলিনের পথে যাত্রা


১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পুতিন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের তৎকালীন মেয়র অ্যানাতোলি সোবচাকের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের সততা ও দক্ষতার কারণে দ্রুতই তিনি সবার নজর কাড়েন। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন এবং প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালের আগস্টে ইয়েলৎসিন তাকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।

ক্রেমলিনের শীর্ষ ক্ষমতা দখল
১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন আচমকা পদত্যাগ করলে পুতিন রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ২০০০ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ চালিকাশক্তি


ক্ষমতায় আসার পর পুতিন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এবং ভেঙে পড়া রাশিয়াকে শক্ত হাতে পুনর্গঠন করেন। চচনিয়া যুদ্ধ জয়, অলিগার্কদের (প্রভাবশালী ব্যবসায়ী) নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে তিনি বিশ্বমঞ্চে দেশটির হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনেন। প্রায় আড়াই দশক ধরে কখনো প্রেসিডেন্ট, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাশিয়ার ক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে পুতিনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

লেনিনগ্রাদের সেই অভাবী ঘরের ছোট্ট শিশুটি আজ শুধু রাশিয়ার ভাগ্যবিধাতাই নন, বরং আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা

নিউজ ডেস্ক

May 28, 2026

শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জের রণাঙ্গনে নিজের হাতে ৫ কুখ্যাত রাজাকারকে নিধন করে ইতিহাস গড়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল এ দেশের কোটি সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ত্যাগ, মরণপণ লড়াই এবং রণকৌশলের এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্য। প্রথাগত ইতিহাসের বই বা দলিলের বাইরে এমন অসংখ্য বীরত্বগাঁথা ও গোপন কৌশল লুকিয়ে রয়েছে, যা আজও অনেকের কাছে অজানা।

বিশেষ এই প্রতিবেদনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের সংগ্রামী জীবন ও শেষ বিদায়ের মূল বিষয়গুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪টি রোমাঞ্চকর এবং অপ্রকাশিত সত্য অধ্যায় তুলে ধরা হলো।

১. বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের সংগ্রামী জীবন ও অবিশ্বাস্য বীরত্বগাঁথা

পারিবারিক জীবন ও পরিচয়

  • জন্ম ও আদি নিবাস: বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম কিশোরগঞ্জের হাওর-অধ্যুষিত নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সোনাফর মিয়া এবং মায়ের নাম দুঃখী বিবি।
  • নিঃসঙ্গ শেষ জীবন: তিনি নিঃসন্তান ছিলেন এবং যুদ্ধের আগেই তাঁর স্বামী কিতাব আলী মারা যান। জীবনের শেষ সময়ে তিনি বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাইপাড়া গ্রামে তাঁর ভাগ্নি ফাইরুন্নেছা আক্তারের আশ্রয়ে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন।

একাত্তরের সেই অবিশ্বাস্য বীরত্বগাঁথা

  • প্রতিশধের আগুন: মুক্তিযুদ্ধে তাঁর আপন ভাগ্নে মতিউর রহমান সম্মুখসমরে শহীদ হলে সখিনা বেগম পাকিস্তানি ও রাজাকারদের ওপর চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্মুখযুদ্ধে ভাগ্নের শাহাদাত বরণের পর তাঁর রক্তমাখা জামা দেখে সখিনা বেগম যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তাঁর ঐতিহাসিক লড়াই মূলত সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরের এক জীবন্ত প্রতীক।
  • তথ্য সরবরাহ ও বন্দীদশা: তিনি নিকলীর গুরুই এলাকায় ‘বসু বাহিনীর’ ক্যাম্পে রাঁধুনির কাজ করার পাশাপাশি ছদ্মবেশে রাজাকারদের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের দিতেন। তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী হন, তবে নিজের অসীম বুদ্ধিমত্তায় ক্যাম্প থেকে একটি ধারালো দা (রামদা) সহ পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
  • ৫ রাজাকার নিধন: পালিয়ে আসার সময় ক্যাম্প থেকে নিয়ে আসা সেই ধারালো দা-টি দিয়ে তিনি একক প্রচেষ্টায় নিকলী এলাকার চিহ্নিত ৫ জন কুখ্যাত ও নৃশংস রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যা করে ভাগ্নে হত্যার প্রতিশোধ নেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ‘দা’

  • স্মৃতির সংরক্ষণ: সখিনা বেগমের অসীম সাহসিকতার অন্যতম সাক্ষী তাঁর সেই ধারালো দা-টি। যুদ্ধের পর তাঁর এই অনন্য বীরত্বকে স্বীকৃতি দিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর গল্প পৌঁছে দিতে দা-টি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংগ্রহ করা হয়।
  • প্রদর্শন ও নামফলক: ঢাকার শের-ই-বাংলা নগর থেকে মিরপুরের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত জাতীয় ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’-এ এই ঐতিহাসিক স্মারকটি সগৌরবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জাদুঘরের গ্যালারিতে সখিনা বেগমের ছবি এবং সংক্ষিপ্ত বীরত্বগাঁথার বিবরণ সম্বলিত একটি নামফলকসহ এটি প্রদর্শনীর জন্য রাখা আছে।

রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও শেষ বিদায়

  • দাফনে রাষ্ট্রীয় স্মারক: ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে ৯২ বছর বয়সে এই বীর নারী বিদায় নেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর বীরত্বের এক রাষ্ট্রীয় স্মারক দলিল।
  • গুরুই শাহী মাজার কবরস্থান: নিকলী উপজেলার গুরুই শাহী মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে অবস্থিত তাঁর সমাধিটি স্থানীয় মানুষের কাছে এক ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণার স্থান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

২. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪টি রোমাঞ্চকর এবং অপ্রকাশিত সত্য অধ্যায়

১. ‘অপারেশন জ্যাকপট’ এবং গানপাউডারের গোপন কৌশল

  • অপ্রকাশিত ঘটনা: ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত ‘অপারেশন জ্যাকপট’ মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরকে একযোগে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তবে এর পেছনের মূল মনস্তাত্ত্বিক সংকেতটি ছিল অত্যন্ত চমৎকার।
  • গোপন সংকেত: ভারতের আকাশবাণী (অল ইন্ডিয়া রেডিও) থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে পঙ্কজ মল্লিকের গাওয়া “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান…” গানটি বাজিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এবং ভূপেন হাজারিকার “আজ গড়বো নতুন এক দেশ…” গানটি বাজিয়ে মংলা বন্দরে আক্রমণ করার চূড়ান্ত সংকেত দেওয়া হয়েছিল, যা পাকিস্তানি গোয়েন্দারা কল্পনাও করতে পারেনি।

২. সুইসাইড স্কোয়াড: কিশোর ‘বিচ্ছু বাহিনী’

  • অপ্রকাশিত ঘটনা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে বিক্রমপুর ও ঢাকায় ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল এক বিশেষ guerrilla দল, যা ‘বিচ্ছু বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল।
  • সাহসী কৌশল: এই কিশোরদের পাকিস্তানি সেনারা সহজে সন্দেহ করত না। তারা পকেটে গ্রেনেড লুকিয়ে বা বইয়ের ব্যাগে অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানি বাঙ্কার ও ক্যাম্পের একেবারে কাছে চলে যেত এবং গ্রেনেড চার্জ করে নিখোঁজ হয়ে যেত। অনেক কিশোর ধরা পড়ার পর অমানুষিক নির্যাতনের মুখেও কোনো তথ্য ফাঁস করেনি।

৩. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘শব্দসৈনিক’ ও ছদ্মনাম

  • অপ্রকাশিত ঘটনা: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি একাত্তরে অবরুদ্ধ কোটি বাঙালিকে মানসিকভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
  • পেছনের গল্প: এটি যিনি লিখতেন ও পড়তেন, তিনি হলেন এম আর আখতার মুকুল। পাকিস্তানি জান্তাদের হাত থেকে বাঁচতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক শিল্পী ও নাট্যকার ছদ্মনামে গান গাইতেন ও সংবাদ পড়তেন। যুদ্ধ চলাকালীন এই শব্দসৈনিকদের মাথার ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার হুলিয়া ও মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

৪. সীমান্ত পারাপারের অবিকল্প ‘পাঙ্কাহাট’ বা সুড়ঙ্গ পথ

  • অপ্রকাশিত ঘটনা: সিলেট ও কুষ্টিয়া সীমান্তে স্থানীয় সাধারণ গ্রামবাসীরা কুয়া ও মাটির নিচ দিয়ে বাঁশ এবং কাঠের অস্থায়ী সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন।
  • কৌশলের ব্যবহার: এই সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহার করে দিনের আলোতে পাকিস্তানি সেনাদের চোখের সামনে দিয়ে শত শত আহত মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হতো এবং ওপার থেকে অস্ত্র আনা হতো। এই গোপন গিরিপথগুলোর হদিস পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্তও পায়নি।

সংক্ষেপে একাত্তরের অপ্রকাশিত ইতিহাসের মূল উপাদানসমূহ

একাত্তরের রণাঙ্গন: বীরত্ব, কৌশল ও ঐতিহাসিক স্মারকের চূড়ান্ত ম্যাট্রিক্স

ঐতিহাসিক অধ্যায় (Historical Chapter)মূল কৌশল ও ঐতিহাসিক স্মারক (Key Strategy/Relic)মূল প্রভাব ও তাৎপর্য (Impact & Significance)
১. বীরত্বগাথা: সখিনা বেগমধারালো দা (বর্তমানে মিরপুর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত) [১, ২]।একক প্রচেষ্টায় ৫ কুখ্যাত রাজাকার নিধন এবং গ্রামীণ নারী প্রতিরোধের প্রতীক [১, ৩]।
২. অপারেশন জ্যাকপটআকাশবাণী রেডিওর গানকে গোপন যুদ্ধ সংকেত হিসেবে ব্যবহার।একযোগে পাকিস্তানি নৌ-ঘাঁটি ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের শক্তি প্রদর্শন।
৩. বিচ্ছু বাহিনীকিশোরদের ছদ্মবেশে বাঙ্কার ও ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা।শত্রুসেনাদের মাঝে মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক তৈরি এবং নিখুঁত গেরিলা গোয়েন্দাগিরি।
৪. শব্দসৈনিকদের লড়াইছদ্মনামে ‘চরমপত্র’ পাঠ ও অবরুদ্ধ জাতিকে উদ্বুদ্ধ করা।অবরুদ্ধ কোটি বাঙালির মনোবল টিকিয়ে রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের অনুপ্রেরণা।
৫. পাঙ্কাহাট (গোপন সুড়ঙ্গ)সিলেট ও কুষ্টিয়া সীমান্তে মাটির নিচ দিয়ে অস্ত্র ও আহত পারাপার।পাকিস্তানি বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন লজিস্টিকস ও চিকিৎসা সেবা সচল রাখা।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন সচেতন নাগরিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের মতো প্রান্তিক ও অকুতোভয় নারীদের ইতিহাস আমাদের জাতীয় দলিলে আরও বেশি গুরুত্বের সাথে স্থান পাওয়া উচিত। ৯২ বছর বয়সে চলে যাওয়া এই বীর নারীর ৫ জন সশস্ত্র বা চিহ্নিত রাজাকারকে একা একটি দা দিয়ে নিধন করার ঘটনাটি যেকোনো দেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় রূপকথা। একই সাথে বিচ্ছু বাহিনীর আত্মত্যাগ কিংবা রেডিওর গানের মাধ্যমে যুদ্ধের সংকেত পাঠানোর মতো মনস্তাত্ত্বিক রণকৌশলগুলো প্রমাণ করে যে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধটি কেবল পেশাদার সেনাবাহিনীর লড়াই ছিল না—এটি ছিল একটি আপামর জনযুদ্ধ। তরুণ প্রজন্মের উচিত ফেসবুকের সস্তা বিনোদনে ডুবে না থেকে ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকর ও সত্য অধ্যায়গুলো থেকে দেশপ্রেমের প্রকৃত শিক্ষা নেওয়া।

১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ